কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

কৃষি কথা

হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে নেটেড মেলন চাষাবাদ প্রযুক্তি

ড. মো. আসাদুজ্জামান

বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এরপরও প্রতি বছর যোগ হচ্ছে নতুন নতুন মুখ। চাহিদা বাড়লেও প্রতি বছর কমছে চাষযোগ্য আবাদি জমি। একজন মানুষের সুষ্ঠু বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজন পরিমিত মাত্রার শাকসবজি ও ফলমূলের। কিন্তু এসব চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি অনেক কম। বিগত এক দশকে সংশ্লিষ্ট সবার চেষ্টা সত্তে¡ও এই ঘাটতি পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায়, গবেষকরা শাকসবজি উৎপাদনের নতুন একটি পদ্ধতি নিয়ে এ দেশে গবেষণা শুরু করেছেন, যা হাইড্রোপনিক্স নামে পরিচিতি।


এই পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনের জন্য মাটির প্রয়োজন হয় না।  হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে মাটি ছাড়া পানি অথবা মাটিবিহীন সাবস্ট্রেটে গাছের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান সরবরাহের মাধমে জন্মানো হয়। এই পদ্ধতিতে গাছ শুধুমাত্র তার শিকড় দিয়ে পুষ্টি সমৃদ্ধ দ্রবণে অথবা বিভিন্ন জৈব, অজৈব পদার্থ যেমন: কোকো-ডাস্ট, কোকো-পিট, পিটমস, পারলাইট, রকউল, গøাসউল ইত্যাদিতে জন্মায়। পৃথিবীতে ফসল জন্মানোর সম্ভবত এটিই সবচেয়ে নিবিড় পদ্ধতি, যেখানে পানি, গাছের পুষ্টি উপাদান ও স্থানের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। দ্রুত বর্ধনশীল ও উচ্চমূল্যের উদ্যানতাত্তি¡ক ফসল যেমন- লেটুস, স্ট্রবেরি, টমেটো ক্যাপসিকাম, মেলন, শশা, বিভিন্ন ধরনের পাতা জাতীয় সবজি ও হার্ব এবং সৌন্দর্য বর্ধনকারী উদ্ভিদ সফলতার সহিত বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন শীত প্রধান দেশ যেমন ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, জাপান, চীন, রাশিয়া এবং কোরিয়াতে এই পদ্ধতিটি ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
নেটেড মেলনের ইংরেজী নাম- ঘবঃঃবফ সবষড়হ, বৈজ্ঞানিক নাম-ঈঁপঁসরং সবষড় ৎবঃরপঁষধঃঁং, ঈঁপঁৎনরঃধপবধব পরিবারের একটি মিষ্টি ভক্ষণীয় অংশযুক্ত ফল। এটি আফ্রিকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার পাহাড়ের উষ্ণ পাদদেশ প্রধানত ইরান ও ভারত থেকে উৎপত্তি হয়েছে। নেটেড মেলন এক ধরনের ফল, ফলের বাইরের অংশ সবুজ বর্ণের এবং পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গায়ে জালের মতো সরু শক্ত রিন্ট বা জাল থাকে এবং ফলের ভিতরের অংশ সবুজ, কমলা অথবা গাড় কমলা রঙের হয়। সুমিষ্ট এই ফলটি স¦াদ বর্ণ ও সুগন্ধ সমৃদ্ধ এবং প্রচুর পরিমাণে মিনারেল ও ভিটামিন থাকায় পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মাটিতে এবং হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে নেটেড মেলনের চাষাবাদ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে।


চাষাবাদ পদ্ধতি : বাংলাদেশে মেলনের বিভিন্ন ধরনের প্রজাতি যেমন মাস্কমেলন, নেটেড মেলন, চিনাল, ক্যান্টালোপ, লামিয়া ইত্যাদি নামে চাষাবাদ হয়ে আসছে। সম্প্রতি বিদেশ হতে নেটেড মেলনের বীজ সংগ্রহ করে সবজি বিভাগ, উদ্যানতত্ত¡ গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুরে নেটেড মেলন চাষাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বল্প পরিসরে হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে নেটেড মেলন চাষাবাদ হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে উৎপাদন খরচ একটু বেশি হলেও নিরাপদ, তাজা ফলমূল ও শাকসবজি পাওয়ার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য উৎপাদন পদ্ধতি।


জাত : জাপানের দুইটি জাত চধহহধ, গরুধনর এবং আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা কয়েকটি জাত হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত জাত ও হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা যায়।


সরবরাহকৃত পুষ্টি উপাদানের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য হাইড্রোপনিক্স দ্রবণের অ¤øমান (ঢ়ঐ) ৬.৫ এ রাখা হয়। মেলনের চারা রোপণ হতে ফলন সংগ্রহ পর্যন্ত প্রায় ৩ মাস সময় লাগে। এ ক্ষেত্রে হাইড্রোপনিক্স সলিউশন প্রতি মাসে এক বার নতুন সলিউশন দিয়ে পরিবর্তন অথবা প্রতি সপ্তাহে ইসি মাত্রা পরীক্ষা করে পুষ্টি উপাদান সঠিক মাত্রা ঠিক রাখা হয় হাইড্রোপনিক্স নিউট্রিয়েন্ট সলিউশন তৈরির উপাদানসমূহ সারণি-১ দ্রষ্টব্য।


বীজ বপন ও নার্সারি : হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে নেটেড মেলন উৎপাদানের জন্য প্রথমত বীজ কোকো-ডাস্টে সেলট্রেতে বপন করা হয়। চারা গজানোর পর একসপ্তাহের মধ্যে পানিতে অথবা সেলট্রেতে পারলাইট সার্বসট্রেটে স্থানান্তরিত করে নার্সারি করতে হয়। এতে গাছের দ্রæত বৃদ্ধি ও উন্নয়ন সাধন হয়। নার্সারি অবস্থায় প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগে চারা উৎপাদনের জন্য। এতে প্রচুর পরিমাণে শিকড় তৈরি হয় যা হাইড্রোপনিক্স গ্রোবেড বা ট্রেতে লাগানোর উপযোগী হয় ।


হাইড্রোপনিক্স গ্রোবেডে/ট্রেতে গাছ রোপণ : নার্সারি থেকে সবল ও সুস্থ চারা হাইড্রোপনিক গ্রোবেডে অথবা কোকো-ডাস্ট সবস্ট্রেটে রোপণ করা হয়। গাছের গোড়ায় পাটের সুতলি দিয়ে বেধে পেঁচিয়ে উপরে টাঙ্গিয়ে চাষ করতে হয়। গ্রোবেডে ৩০ সেমি. দূরে দূরে একটি করে গাছ লাগানো হয় এবং দুই সারির মধ্যে ৫০ সেমি. দূরুত্ব বজায় রাখতে হয়। গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে সুতলির সাথে পেঁচিয়ে উপরের দিকে বেঁধে সোজা রাখতে হয়। গাছের পুষ্টি উপাদান প্রতি সপ্তাহে ইসি মিটার দিয়ে পরীক্ষা করে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ ঠিক রাখা হয়। উচ্চ ফলনের জন্য প্রতি মাসে সম্পূর্ণ নিউট্রিয়েন্ট সলিউশন পরিবর্তন করতে হয়। গ্রোবেডে গাছ লাগানোর ৩০-৩৫ দিন পরে স্ত্রী ফুল আসা শুরু করে। উল্লেখ্য যে, স্ত্রী ফুল আসার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই পুরুষ ফুল আসে। গাছের ১০-১৫ নম্বর গিটের যে স্ত্রী ফুল আসে সেগুলেতে উচ্চমানের ফল পাওয়া যায়। একই গাছের বা অন্য গাছে পুরুষ ফুল নিয়ে পাপড়ি ফেলে দিয়ে স্ত্রী গাছের গর্ভদÐে পরাগরেণু ছিটিয়ে পরাগায়ন করা হয়। পরাগায়নের প্রায় একসপ্তাহ পর যখন ফল পিংপং বলের আকার হয় তখন প্রতি গাছে তিনটি ফল রেখে বাকি ফল কেটে ফেলা হয়। পরবর্তী এক সপ্তাহে নেটেড মেলন ফলের বৃদ্ধি ও উন্নয়ন হয়। তখন সর্বোত্তম ফলটি রেখে বাকি দুটি ফল কেটে ফেলা হয়। ফলের বোঁটায় অতিরিক্ত একটি পাটের সুতলি দিয়ে উপরের দিকে তারে বেঁধে দেওয়া হয়। যাতে বাড়ন্ত ফল ছিড়ে না পরে। ফুল ফোটার আট সপ্তাহ পর ফল সংগ্রহ উপযোগী হয়। মধ্যবর্তী পরিচর্যার মধ্যে গাছে সুতলিতে পেচানো ও টেপনার দিয়ে শক্ত ভাবে আটকানো, অপ্রয়োজনীয় শাখা কেটে ফেলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ফল বৃদ্ধির সময় গাছের নিচের দিকের ৫ টি বয়স্ক পাতা কেটে ফেলা হয়। এতে গাছে উৎপাদিত খাবারের অপচয় কম হয়। এছাড়া  গাছের ২৫ নম্বর গিটের উপরে গাছের আগা কেটে অঙ্গজ বৃদ্ধি রহিত করা হয় এতে উৎপাদিত খাবার ফলে জমা হয় এবং ফলন বৃদ্ধি করে।


রোগ-পোকামাকড় দমন : হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনের জন্য নিয়মিতভাবে পরিদর্শন করতে হবে। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে হাইড্রোপনিক্স ফসল উৎপাদন করা হয় তাই রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হয় না বললেই চলে। তবে কোনো কারণে নেটেড মেলন গাছ রোগ ও পোকামাকড় আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে  সঠিক বালাইনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হয়। অতিরিক্ত আপেক্ষিক আর্দ্রতার কারণে পাউডারি মিলডিউ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে রোগের লক্ষণ দেখা মাত্র উপযুক্ত বালাইনাশক নির্দেশিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। নেট হাউজ বা সেমি গ্রিন হাউজে নেটেড মেলন গাছের বৃদ্ধির শেষের দিকে যখন ফল বর্ধনশীল হয় তখন জাবপোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে কোনো সিস্টেমেটিক কীটনাশক প্রয়োগ করে আক্রমণ দমন করা যায়।


ফল সংগ্রহের সময় : সাধারণত ফুল ফোঁটার আট সপ্তাহ পরে ফল সংগ্রহ উপযোগী হয়। সময় পরিপক্ব ফলের বোঁটা শুকাতে শুরু করে এবং বোঁটায় চিকন ফাটল দেখা যায়। ফল সংগ্রহ করে পরে ঘরের তাপমাত্রায় ঠাÐা জায়গায় রাখতে হবে। নেটেড মেলন একটি ঈষরসধপঃবৎরপ ফল এজন্য পাকতে বা ভক্ষণ উপযোগী হওয়ার জন্য ৪-৭ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। এতে ফলের মধ্যে পাকার জন্য ইথিলিন হরমোন উৎপাদিত হয়ে শ্বসন বেড়ে যায় এবং ফল পাকে।
ফলন : উচ্চ গুণাগুণ সম্পন্ন নেটেড মেলন উৎপাদনের জন্য গাছ প্রতি একটি ফল রাখতে হয়। তবে অধিক মুনাফার জন্য একটি গাছে ২-৩ টি পর্যন্ত ফল রাখা যেতে পারে। উল্লেখ্য যে, গাছপ্রতি ফলের সংখ্যা নেটেড মেলনের জাতের উপরও নির্ভর করে। এক একটি ফলের ওজন সাধারণত ১.৫-২.৫ কেজি পর্যন্ত হয়।


বাংলাদেশে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে ফলস উৎপাদনের প্রধান অন্তরায় হলো বাণিজ্যিক গ্রেডের রাসায়নিক সারের প্রাপ্যতা। অধিকিন্তু হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য নিয়ন্ত্রিত স্ট্রাকচার তৈরি করতে প্রাথমিক খরচ একটু বেশি হয় ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সহজলভ্য নয়। তবে বাংলাদেশে হাইড্রোপনিক্স  পদ্ধতিতে উচ্চ মূল্যের সবজি ফল অমৌসুমে উৎপাদনে করা সম্ভব। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় উৎপাদনের সহজলভ্যতা ও স্বল্প ব্যয়ের হাইড্রোপনিক্স  স্ট্রাকচার তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, দেশের তরুণ ও শিক্ষিত যুবকেরা এই পদ্ধতিতে ওঈঞ ও ওড়ঞ ব্যবহার করে বাণিজ্যিক কৃষিতে অত্যন্ত আগ্রহী বিধায় নেটেড মেলনসহ অন্যান্য উদ্যানতাত্তি¡ক ফসল উৎপাদন লাভজনক হবে। অধিকিন্তু এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফল নিরাপদ ও ভেজাল না হওয়ায় ক্রেতারা অধিক মূল্য দিয়ে কিনতে আগ্রহী হবে। য়

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, সবজি বিভাগ এবং ড. ফেরদৌসী ইসলাম, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, সবজি বিভাগ উদ্যানতত্ত¡ গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, গাজীপুর, মোবাইল নম্বর: ০১৭১৮১৩১৫৪৫, ই-মেইল:  asadcbt@yahoo.com

 

বিস্তারিত
ফল চাষে নিরাপদ বালাই ব্যবস্থাপনা

ড. মোঃ জুলফিকার হায়দার প্রধান
ফল বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যানতাত্তি¡ক ফসল। এদেশে ৭০ প্রজাতির ফল উৎপাদিত হয় যা ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের সর্বোত্তম উৎস এবং এতে ক্যানসার প্রতিরোধী এন্থোসায়ানিন ও লাইকোপেন রয়েছে।একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন ১১৫ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন কিন্তু বাংলাদেশে মাথাপিছু ফল গ্রহণের পরিমাণ মাত্র ৭৮ গ্রাম। ক্ষতিকর পোকা মাকড়ের আক্রমণে মাঠে ফল ফসলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নষ্ট হয়ে যায়। দেশের অধিকাংশ কৃষক এসব ক্ষতিকর পোকা মাকড় দমনে দীর্ঘস্থায়ী বালাইনাশক প্রয়োগ করেন এবং বালাইনাশকের অপেক্ষমাণ সময় শেষ হওয়ারপূর্বেই ফলসংগ্রহ ও বাজার জাত করেন। যেহেতু ফল সরাসরি ভক্ষণ করা হয় এজন্য বালাইনাশক নির্বাচন ও প্রয়োগের সময় সঠিক না হলে এর অবশিষ্টাংশ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এমতাবস্থায় ক্ষতি কর পোকামাকড় হতে ফল ফসল রক্ষার জন্য এদের আক্রমনের ধরন ও পরিবেশবান্ধব সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা অত্যন্ত জরুরি। নি¤েœ ফল ফসলের প্রধান প্রধান পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং এদের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো
আমের হপার পোকা : নিম্ফ ও পূর্ণবয়স্ক পোকা কচিপাতা, মুকুল এবং গাছের কচি অংশ থেকে রস চুষে খায়। কচি পাতায় দাগ পড়ে, মুকুল ঝরে পড়ে এবং কোন ফল হয় না। এরা আঠালো মধু রস নিঃসৃত করে, পরবর্তীতে এতে সুটি মোল্ড ছত্রাক জন্মে কালো বর্ণ ধারণ করে। আক্রান্ত গাছের নিচ দিয়ে হাটলে পোকা লাফিয়ে গায়ে পড়ে।
ব্যবস্থাপনা
বাগান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, গাছ ঘন ভাবে না রাখা। পোকা দমনে ইমিডাক্লোপ্রিড (কনফিডর@০.২ গ্রাম/লিটার) দুইবার স্প্রে করা। প্রথম স্প্রে গাছে মুকুল আসার ১০ দিনের মধ্যে এবং দ্বিতীয় স্প্রে এক মাস পর ফলের আকার মার্বেলের মতো হলে।
কলার পাতা ও ফলের বিটল পোকা : সদ্যজাত লার্ভা মাটির ভেতরে ঢুকে গাছের শিকড় খায়। পরবর্তীতে এরা কচিপাতা চেঁছে খায়। আক্রান্ত পাতায় শুকনা কালো বা কালচে বাদামি দাগ দেখা যায়। মোচা বের হওয়ার পর এরা কচি কলা আক্রমণ করে।  আক্রান্ত কলার গায়ে দাগ দেখা যায়, বাজার মূল্য কমে যায়। মুড়ি ফসল এবং বর্ষা মৌসুমে আক্রমণ বেশি হয়।
ব্যবস্থাপনা
কলার মোচা পলিথিন ব্যাগ দ্বারা  ঢেকে দেয়া। কলার মোচা বের হওয়ার সাথে সাথে ও ছড়িতে কলা বের হওয়ার পূর্বেই ৪২ ইঞ্চি লম্বা ও ৩০ ইঞ্চি প্রস্থের দুমুখ খোলা একটি পলিথিন ব্যাগের এক মুখ মোচার ভেতর ঢুকিয়ে বেঁধে দেয়া ও অন্য মুখ খোলা রাখা। বাতাস চলাচলের জন্য পলিথিন ব্যাগে ২০-৩০টি ছোট ছোট ছিদ্র রাখা।
কুলের ফল ছিদ্রকারী উইভিল পোকাঃ সদ্যজাত লার্ভা কচি ফলের বর্ধনশীল বীজে আক্রমণ করে এবং সম্পূর্ণ বীজ খেয়ে ফেলে, ফলের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। বীজ খাওয়ার পর পূর্ণবয়স্ক পোকা ফলে গোলাকার ছিদ্র করে বের হয়ে আসে। এরা অমৌসুমের ফলেও আক্রমণ করে বংশবিস্তার করে থাকে। গাছে পরাগায়নের পর গাছে ফল ধারন শুরু হলেই এদের আক্রমণ চোখে পড়ে।
ব্যবস্থাপনা
আগাছা পরিষ্কার রাখা, গাছে অসময়ের ফুল ও কুঁড়ি নষ্ট করা, গাছে ও মাটিতে পড়া আক্রান্ত ফল পোকাসহ ধ্বংস করা, পরাগায়নের পর ফলধারণ শুরু হওয়ার সময় প্রতি ১০ লিটার পানিতে ৪ মিলি ট্রেসার অথবা প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১২ মিলি হারে সাকসেস স্প্রে করা।
পেয়ারার মাছি পোকা : স্ত্রী মাছি পোকা ফলের খোসার উপর ডিম পাড়ে। সদ্যজাত লার্ভা ফল ছিদ্র করে ভিতরে প্রবেশ করে শাস খায়। আক্রান্ত পেয়ারা পঁেচ যায়, ঝড়ে পরে এবং ফলের ভেতর পোকার লার্ভা দেখা যায়।
ব্যবস্থাপনা
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ, ফল মার্বেল আকৃতি হওয়ার পর ছিদ্রযুক্ত পলিথিন অথবা বাদামি কাগজের ব্যাগে আবৃতকরন ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার।
লিচুর ফল ছিদ্রকারী পোকা ঃ স্ত্রী পোকা বাড়ন্ত ফলের বোটার কাছে খোসার নিচে ডিম পাড়ে। সদ্যজাত লার্ভা বোটার নিকট দিয়ে ফলের ভেতরে ঢুকে কচি বীজ ছিদ্র করে খায়। ছিদ্রের মুখে করাতের গুঁড়ার মতো মিহি গুঁড়া দেখা যায়। ফল খাওয়ার অনুপযোগী ও ফেটে যায়।
ব্যবস্থাপনা
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ, আক্রান্ত ফল লার্ভাসহ নষ্ট করা, ফলের থোকা মশারীর নেট অথবা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়া।
আমড়ার পাতার বিটল পোকা ঃ লার্ভা ও পূর্ণ বয়স্ক পোকা ব্যাপকভাবে গাছের পাতা ও কচি নরম ডগা খেয়ে ফেলে। অতিরিক্ত আক্রমণে গাছ পাতা শূন্য হয়ে পড়ে, গাছের বৃদ্ধি ও ফলধারন ব্যহত হয়।
ব্যবস্থাপনা
হাত দিয়ে পোকা ধরে মেরে ফেলা, গাছের নিচে পড়ে থাকা পাতা নষ্ঠ করা, প্রাথমিক অবস্থায় লার্ভা গুচ্ছাকারে পাতায় অবস্থান করে এ সময়ে লার্ভাসহ আক্রান্ত পাতা নষ্ট করা।
কাঁঠালের ফল ছিদ্রকারী পোকা ঃ পোকারলার্ভা ফলের ত্বক ছিদ্র করে ভেতরে ঢুকে ফলের শাষ খায়। আক্রান্ত ফল ফেটে বা বেঁকে যায়। আক্রান্ত অংশে বৃষ্টির পানি ঢুকে পচন সৃষ্টি করে।
ব্যবস্থাপনা
অপ্রয়োজনীয় ডাল পালা ছাটাই ,আক্রান্ত পুষ্পমঞ্জুরি ও ফল নষ্ট করা, কচি অবস্থায় কিছু ফল পাতলা করা ও বাড়ন্ত ফল পলিথিন অথবা পেপার ব্যাগ দ্বারা ঢেকে দেয়া।
লেবুর সাইলিড বাগ ঃ পূর্ণবয়স্ক পোকাও নিম্ফ পাতা, মুকুল ও কচিশাখা থেকে রস শোষণ করে। আক্রান্ত পাতা কুঁকড়ে যায় ও ঝরে পড়ে। এরা এক ধরনের সাদা মোমের মত পদার্থ নিঃসরন করে যাতে কালো মোল্ড জন্মে। এরাগাছে গ্রিনিং রোগছড়ায়। বর্ষায় এদের আক্রমণ বেশি হয়।
ব্যবস্থাপনা
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ , আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে নষ্ট করা ও বিভিন্ন উপকারী পোকা যেমন- লেডিবার্ড বিটল এর বংশ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা।
ডালিমের ফল ছিদ্রকারী পোকাঃ স্ত্রী পোকা ফলের গায়ে ডিম পাড়ে। সদ্যজাত লার্ভা ফলে প্রবেশ করে শাস খায়, পিউপায় পরিণত হওয়ার পূর্বে ফল ছিদ্র করে বের হয়ে আসে। আক্রান্ত ফল পচে যায় এবং ঝরে পড়ে। ফল খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়।
ব্যবস্থাপনা
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ এবং ফলের আকার মার্বেলের মতো অবস্থায় পাতলা কাপড় বা কাগজ বা ছিদ্রযুক্ত পলিথিন ব্যাগে আবৃত করা।
পেঁপের ছাতরা পোকা : নিম্ফ এবং পূর্ণবয়স্ক পোকা গাছের বৃদ্ধি প্রাপ্ত অংশ পাতা, ডগা, ফুল এবং ফল থেকে রস চুষে খায়। পাতার আকার ছোট রং নষ্ট হয়। অত্যধিক আক্রমণে পাতা, ফুল কচিফল ঝরে যায়। গাছ দুর্বল ও খর্বাকৃতি হয়, ফল ধারণ ব্যাহত হয় এবং ফলন কমে যায়।
ব্যবস্থাপনা
পোকাসহ আক্রান্ত অংশ নষ্ট করা। আক্রান্ত পূর্ববর্তী ফসলেরঅবশিষ্টাংশ নষ্ট করা, জমি আগাছা মুক্ত রাখা,পিপড়ার আবাস স্থল নষ্ট করাও  লেডিবাড, সিরফিডফ্লাই, গ্রিনলেস উইং প্রভৃতি উপকারী পোকার বংশ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা।
নারিকেলের মাকড় : এরা কচি ফলের খোসার নিচে অবস্থান করে, কচি ডাব থেকে রস চুষে খায়, ফলের গায়ে বাদামি দাগ পড়ে ও ঝড়ে যায়। অতিরিক্ত আক্রমণে নারিকেল ফেটে পানি বের হয়ে যায়। নারিকেল বড় হওয়ার সাথে সাথে শুকনো অংশও বৃদ্ধি পেতে থাকে, ফলের বাজারমূল্য কমে যায়।
ব্যবস্থাপনা
শীতের আগে আক্রান্ত ফুলসহ ৬ মাস বয়স পর্যন্ত সকল ফল কেটে আগুনে ঝলসানো, গাছের মাথায় কাঁদি সংলগ্ন এলাকায় মাকড়নাশক ভার্টিমেক বা ওমাইট ১.৫ গ্রাম/লিটার হারে কঁচি পাতাসহ স্প্রে করা,  প্রথমবার স্প্রে করার পর গাছে ফল আসলে সেই ফলের বয়স ২ মাস হলে দ্বিতীয়বার স্প্রে করা এবং গাছে সংগ্রহের উপযোগী ডাব/নারিকেল থাকলে তা সংগ্রহ করে আগের নিয়মে আবার ¯েপ্র করা। য়
প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কীটতত্ত¡)  বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সেউজগাড়ী, বগুড়া, মোবা: ০১৭১৬০৭১৭৬৪, ই-মেইল :zulfikarhaider@yahoo.com

বিস্তারিত
রংধনু খাবার

ড. সালমা লাইজু
কেন খাবার খাই? সহজ উত্তর বেঁচে থাকার জন্য, ক্ষুধা নিবারণের জন্য, স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য ইত্যাদি ইত্যাদি। খাবার খাওয়া হয় ব্যক্তির সামর্থ্য, খাবারের প্রাপ্যতা, স্বাদ এবং নিজস্ব পছন্দের কথা চিন্তা করে। আধুনিক বিজ্ঞানের প্রমাণিত হয়েছে সুষম রঙিন খাবার মানুষের সুস্থতা এবং মানসিক বিকাশের জন্য খুবই উপকারী। রঙ তৈরি করে ফাইটোক্যামিক্যালস, এগুলো প্রাকৃতিকভাবে জন্মে, যাতে রয়েছে প্রচুর অনুপুষ্টি। সকল ফলেই রয়েছে ভিটামিন, মিনারেলস এবং আঁশ যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ সিস্টেমকে শক্তিশালী করে, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিক্যালের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।
প্রতিদিন শুধুমাত্র একটি রঙের খাবার খাওয়া উচিত নয়। এমনটি করলে দেহে ভিটামিন এবং খণিজ পদার্থের অভাব থেকে যায়। রংধনু খাবার নিয়মিত খেলে স্বাভাবিকভাবে শরীরের অতিরিক্ত মেদ দূর করে এবং শরীরকে সুস্থ রাখে। প্রত্যেক রঙের একটি নিজস্ব ভাষা আছে; যা মানুষের দেহ এবং মনের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণার ফলাফল থেকে বিষয়গুলো জানা গেছে।
বেগুনি : রংধনু রঙের প্রথম রং হচ্ছে বেগুনি। বেগুনি রং আকর্ষণীয় আভিজাতের প্রতীক। ন¤্র প্রকৃতির শিল্পীমনা মানুষের আকৃষ্ট করে। বেগুনি রঙে রয়েছে এন্থোসায়ানিন যা রক্তের কোলেষ্টরলের মাত্রা কমায় এবং রক্ত নালীর নমনীয়তা নিয়ন্ত্রণ করে। এন্থোসায়ানিন পানিতে দ্রবণীয় একটি রক্তাক্ত পদার্থ যা চোখের রক্ত পরিবহন বাড়ায়, নার্ভাস সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। বেগুনি আঙ্গুর, জাম, ডুমুর, বেগুনি বেগুনে এন্থোসায়ানিন রয়েছে।
নীল : নীল রং শান্তির প্রতীক। মনকে প্রশান্তি দেয় ঘুমানোর জন্য সহায়ক, মনকে নিয়ন্ত্রণ করে, উচ্চ রক্তচাপ কমায়। কথায় বলে বেদনার রং নীল। নীল রঙের খাবার শরীরের ব্যাথা বেদনা কমিয়ে থাকে, এমনকি আথ্ররাইটিসের ব্যাথাও কমিয়। জাম, নীল বাধাকপিতে এন্থোসায়ানিন আছে।
আসমানী : আসমানী একটি শক্তিমালী রং যা মনের গভীরে প্রভাব ফেলে। কল্পনা এবং অনুমান শক্তিকে বৃদ্ধি করে, যারা এই রং পছন্দ করে তারা খুব অনুভূতিশীল হয়। নীল, বেগুনী, আসমানী সবগুলি রঙেই এন্থোসায়ানিন ধারণ করে থাকে।
সবুজ : হচ্ছে ঐক্য এবং সমবেদনার রং। এই রং প্রশান্তির আনে এবং সাম্যতা বিধান করে। যারা সবুজ রং পছন্দ করে তারা সহজেই সবাইকে আপন করে। শান্তিপূর্ণ জীবন পছন্দ করে, মনকে শান্ত করে, ওজন কমায়। চাপের মধ্যে থাকলে সবুজ রঙের খাবার বেশী খেতে হবে। সবুজ খাবারে রয়েছে সবুজ রঞ্জক পদার্থ যা ক্লোরোফিল এবং লুটেইন ফাইটোক্যামিক্যালস পাওয়া যায়। এগুলি এন্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টি ইনফ্লেমেটরি গুণসম্পন্ন। সবুজ জুসের ক্লোরোফিল আছে, ক্লোরোফিল হচ্চে প্রোটিন সমৃদ্ধযৌগ যা অভ্যন্তরিন ক্ষত সারায়, পরিষ্কার, এন্টিস্পেটিক, কোষ উদ্দীপক, লাল রক্ত কণিকা তৈরি করে, এটি গাছের জীবন। ক্লোরোফিল সবুজ ফটোসেনথেটিক পিগমেন্ট যা পাতার সূর্যের আলোয় পরিবর্তিত হয়ে রাসায়নিক শক্তিতে পরিবর্তিত হয়। ক্লোরোফিলকে মানুষের লাল রক্ত কণিকার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। ক্লোরোফিল একটি আশ্চর্যজনক পরিষ্কারক, শরীরের জন্য অত্যন্ত ভাল এটি।
লুটেইন চোখের সার্বিক সুরক্ষা যেমন, চোখের মাংসপেশীকে সতেজ রাখে, রেটিনা শক্তিশালী করে। এছাড়া দাঁত এবং হাড়ের সুরক্ষা প্রদান করে। সবুজ চা, বাঁধাকপি, লেটুস, খোসাসহ শসা, ব্রকলী, সবুজ আপেল, শিম, কাঁচা মরিচ, পালং শাক, সবুজ পুঁইশাক, কাঁচা পেঁপে কাঁচকলা ইত্যাদিতে প্রচুর লুটেইন আছে।
হলুদ এবং কমলা : কমলা আনন্দ আর সুখের রং। বিষন্নতা রোধ করে মনের উদ্দীপনা বাড়ায়। কমলা যারা পছন্দ করে তারা আত্মনির্ভরশীল হিসাবে সমাজে পরিচিত, একা পথ চলতে সক্ষম এবং ধৈর্যশীল, মানসিকভাবে অস্থির প্রকৃতির লোকদের এই খাবার খাওয়া উচিত।
হলুদ কমলার কাছাকাছি আরেকটি রং। বলা হয় মানসিক বুদ্ধির রং। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে এই রঙের খাবার খাওয়া উচিত। কাজের ক্ষেত্রে নতুন উদ্যম এবং উদ্দীপনা বাড়াতে চাইলে এই রঙের খাবার বেশী খেতে হবে।
হলুদ আর কমলা ফলমূল সবজিতে রয়েছে বিটা ক্রিপটোয্যন্থনিন, বিটা-ক্যারোটিন, আলফা ক্যারোটিন। হলুদ কমলা ফলমূল, সবজির ক্যারোটিনয়েডস শরীরে পরিবর্তিত হয়ে ভিটামিন এ তৈরি করে, যা দৃষ্টি শক্তি ভাল রাখে, রেটিনাকে শক্তিশালী করে চোখের প্রেসার ঠিক রাখে বরং চিনতে সাহায্য করে, শরীরের চামড়া ভাল রাখে এবং হাড়কে মজবুত করে। মিষ্টি কুমড়া, পাকা পেঁপে, পাকা আম, গাজর, কুসুম ফুল, কাঁচা ভুট্রা, লাল পাকা আঙ্গুর, কমরা লেবু, মাল্টাতে প্রচুর উক্ত উপাদান গুলো রয়েছে।
লাল : লাল উৎসাহ উদ্দীপনার রং। কর্মউদ্যোগ এবং পরিবর্তনের প্রতীক। কোন বিপ্লবী কাজে উদ্দীপনা বাড়াতে লাল রঙের ব্যবহার দেখা যায়। ক্লাসে লাল রং ছাত্রদের উদ্দীপনা বাড়ায়। ক্যারোটিনয়েডস ফ্যামিলি থেকে লাল রঙ্গের রঞ্জক পাওয়া যায়। এতে রয়েছে লাইকোপেন রঞ্জক পদার্থ যা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, হার্টকে সুস্থ রাখে। শরীর থেকে বর্জ্য বের করে দেয় এবং কোলেস্টেরল জমতে বাধা প্রদান করে। টমেটোতে রয়েছে প্রচুর লাইকোপেন, কাচা টমেটোর চেয়ে রান্নাকরা টমেটোতে            ভিটামিনের প্রাপ্যতা বেশি থাকে। টমেটো প্রধান খাবারের সঙ্গে ভিটামিন-সি এবং ফলিয়েট যোগ করলে সেটি ফ্লেভানয়েড এ পরিণত হয় যা শরীরে কোন ক্ষত সারাতে সাহায্য করে অর্থ্যৎ অভ্যন্তরীণ ক্ষত সারিয়ে তোলে, যা ক্যান্সারকে প্রতিহত করে।
লাল আপেল, লাল মরিচ, লাল পেয়াজ, লাল বাধাকপি, লাল পেয়ারা তরমুজ, অতি সস্তা লাল শাক, লাল মিষ্টি আলু, প্রভৃতি খাবারে রয়েছে প্রচুর ক্যারোটিনয়েডস।
সাদা : উপরের সবগুলি রং মিলে তৈরি হয় সাদা রং যা আমরা সব সময় দেখতে পাই। রংধনু তো আলেয়ার মত হঠাৎ কখনও দেখা যায়, দেখা যায় না, সাদা রংও অনেক গুরুত্বপূর্ণ, সাদা শান্তির আর শুভ্রতার প্রতীক, ভদ্রতার প্রতীক। মনে প্রশান্তি আনে, সৌন্দর্য রক্ষায় বিশেষ কার্যকরী।
সাদা রং একাধিক রঞ্জক বহন করে থাকে। এতে রয়েছে এন্থোসায়ানিন, এন্টি-ইনফ্লামেটরি, এন্টি এলাজেনিক এবং ক্যান্সার প্রতিরোধী ক্ষমতা। রসুন রয়েছে প্রচুর পরিমাণে উপরোক্ত গুণগুলো রয়েছে যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে, হার্ট সুস্থ রাখা, সর্দি কাশি নিরাময়, ঠাÐা জ্বর, আভ্যন্তরীন ক্ষত সরাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। কিন্তু রসুন যখন অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করা হয় তখন এর এই গুনাবলী নষ্ট হয়ে যায় আমরা এত রসুন খাওয়ার পরও কিন্তু উপকার কমই পাচ্ছি, মাটির পাত্রে রসুন রান্না করে খেলে এর সমস্ত গুনাগুন অক্ষুন্ন থাকবে। রসুন, পেয়াজ, মাশরুম, ফুলকপি, সাদা মুলা, সাদা বেগুন, সাদা মরিচ প্রভৃতি সাদা রঙের খাবার। য়
জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা, নেত্রকোনা, মোবাইল : ০১৭১৫৭৯০৭৬৭, ই-মেইল : slsnns@yahoo.com

বিস্তারিত
উন্নতজাতের ফলের চারা তৈরি ও ফল গ্রহণ

কৃষিবিদ মো. কবির হোসেন১ কৃষিবিদ সাবিনা ইয়াসমিন২
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ফলের গুরুত্ব ও অবদান অপরিসীম। বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের চাহিদা পূরণ, শারীরিক বৃদ্ধি ও দেহের ক্ষয় রোধ, মেধার বিকাশ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, সর্বোপরি দেশের জনগণের দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান ও আয়বৃদ্ধিসহ নানাবিধ সুবিধা আমরা ফল থেকে পাই। এছাড়া জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন সরবরাহ, পরিবেশ দূষণ কমানো, প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে ফলদ বৃক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই দেশের উন্নয়ন ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফল চাষের বিকল্প নেই। তাই যদি ভাল থাকতে চান তাহলে প্রতিদিন অন্তত একটি বা দুইটি ফল খান। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ফল খাওয়া প্রয়োজন প্রায় ২২০ গ্রাম  তার মধ্যে আমরা পাই ৭৮ গ্রাম /প্রতিদিন/প্রতিজন। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটির ও বেশি লোক বাস করে এবং তাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে  প্রতিবছর ১২১.৫২ লক্ষ মেট্রিকটন ফল উৎপাদন হচ্ছে। যদিও চাহিদার তুলনায় এই ফলন পযাপ্ত নয়। তাই আমাদেরকে পরিকল্পনামাফিক বসতবাড়িতে ও বাণিজ্যিকভাবে ফল চাষ করতে হবে। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের ফল বিভিন্ন সময়ে পাওয়া যায়।  যেমন বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে অধিক পরিমাণে ফল পাওয়া যায়। সেজন্য ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের মাধ্যমে ফল সংরক্ষণ করতে পারলে  এবং বিভিন্ন মৌসুমী ফল রোপণ করলে সারা বছরই  ফলের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে পুষ্টি চাহিদা মেটানো সম্ভব।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি ও বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বর্তমানে দেশ ইতোমধ্যে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। দেশের উন্নয়ন ও পুষ্টি নিরাপত্তায় ফল চাষের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে বলেন আমাদেরকে ফল উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে পুষ্টিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে এবং  করোনার প্রভাব মোকাবেলার জন্য প্রতি ইঞ্চি জমিকে চাষাবাদের মাধমে কাজে লাগানোর জন্য নির্দেশনা দেন। আমাদের দেশীয় ফল বিশেষ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ হওয়ায় এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় দেশীয় ফলমূলের যোগান নিশ্চিত করতে ফলদ বৃক্ষ রোপণের বিকল্প নেই । তাই পরিকল্পিতভাবে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে বছরব্যাপী দেশীয় ফলের চাষ বৃদ্ধি করতে হবে।
ফল উৎপাদনে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা
ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোর উৎপাদন মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। শুধু উৎপাদনই নয়, ফল রপ্তানীতে ও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।  বিগত পাঁচ বছরের ফল উৎপাদনের তথ্য সারণি-১ দ্রষ্টব্য।
ফল উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুণগতমানসম্পন্ন উন্নত জাতের চারা/কলম তৈরি নিশ্চিতকরণ ও পরিচর্যা: ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে এখনো পর্যন্ত কোভিড ১৯ নামক ভাইরাস সমস্ত পৃথিবীর প্রায় সব কটা দেশের মানুষকে আক্রমণ করে  চলেছে । এই আক্রমণে দেশের জনগণ যেমন মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে তেমনি সেই সাথে দেশে  নানা রকম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। পরিমানমতো ও পুষ্টিকর খাবার উৎপাদন ও গ্রহণ এই মূহুর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তাই আমাদের সকলকে বেশি বেশি করে সকল ধরণের ফসল চাষ করা সহ ফলদ বৃক্ষ রোপণ করা অতীব জরুরী। এক্ষেত্রে     মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশকে মূলমন্ত্র ধরে কাজ করে যাচ্ছে করোনাকালীন দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইং এর বিভিন্ন ক্যাটাগরীর মোট ৭৬টি হর্টিকালচার সেন্টারগুলোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। তারা  নিয়মিত চারা/কলম উৎপাদন ও গ্রাহকদের সেবা প্রদান করছেন করোনা যোদ্ধা হিসেবে। বিভিন্ন সবজি ও ফুলের চারা উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যেই সেন্টার গুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেন্টার গুলোতে প্রতিদিন সামজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত উৎপাদিত চারা-কলম বিক্রয় ও ফল উৎপাদনে চাষীদের বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। চলতি বছর (২০১৯-২০) বাংলাদেশে বিভিন্ন ফলের উৎপাদন এলাকা বৃদ্ধিসহ উৎপাদন লক্ষমাত্রা অর্জনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট হর্টিকালচার উইং বিভিন্ন পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই গ্রহণ করেছেন ।  
গুণগতমানসম্পন্ন উন্নত জাতের চারা/কলম রোপণের জন্য নিকটস্থ সরকারি হটিকালচার সেন্টার থেকে চারা/কলম ক্রয় করা যেতে পারে কারণ এখানে স্বল্পমূল্যে ভালো মানের চারা/কলম পাওয়া যাবে।
সূত্র: বার্ষিক প্রতিবেদন, হর্টিকালচার উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
পুরানো ফলন্ত গাছগুলোর সঠিক পরিচর্যা গ্রহণের মাধ্যমে বেশি ফল প্রাপ্তি নিশ্চিত করণের মাধ্যমে এলাকাবাসীর আর্থিক উন্নয়ন ও ফল চাষকে লাভজনক স্তরে নেয়া যেতে পারে। গাছগুলোকে ট্রেনিং-প্রæনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অফলন্ত ডাল অপসারণ করে আলো-বাতাস চলাচল সুবিধা করা, বাগানে গাছের অপ্রয়োজনীয়  ডালপালা ছাঁটাই/অপসারণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা ও বাগানকে আগাছা, লতা-পাতা মুক্ত করা, সার প্রয়োগ, রোগ-পোকা দমন, মালচিং দেয়া, সুবিধা থাকলে সেচ দেয়া ।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফল গ্রহণের নিয়মাবলী : করোনা নামক ভাইরাস এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে বাঁচাতে সবচেয়ে  সহজ উপায় হলো দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। আর এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হলে অবশ্যই প্রতিদিন নিয়মিত ফল-মূল ও শাক-সবজি  গ্রহণ করতে হবে।ফল পুষ্টি উপাদানের এক সমৃদ্ধ ভান্ডার এবং আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, আঁশ এবং প্রচুর  উপকারী হরমোন ও ফাইটোকেমিক্যালস প্রদান করে শরীরকে বিভিন্ন রোগবালাই থেকে সুরক্ষা প্রদান করে, যা সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। ফল ঔষধি গুণাগুণে সমৃদ্ধ বিধায় একে ‘রোগ প্রতিরোধী খাদ্য ও’ বলা হয়। বিভিন্ন ফলে ক্যান্সার প্রতিরোধকারী উপাদান অ্যান্থোসায়ানিন, লাইকোপেন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপস্থিত থাকায় মরণনাশক রোগব্যাধি থেকে রক্ষা।
ফল আমরা কাঁচা বা পাকা অবস্থায় সরাসরি খেয়ে থাকি। ফল রান্না ব্যতীত সরাসরি খাওয়া সম্ভব বিধায় এতে বিদ্যমান সবটুকু পুষ্টি পাওয়া যায়। কিন্তু করোণাকালীন সময়ে কাঁচা খাওয়া যায় এমন খাদ্যদ্রব্য সরাসরি খাওয়ার সময় অবশ্যই সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। রান্না খাবারের মাধ্যমে কোভিড-১৯ সংক্রিমত হবার কোন তথ্য প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন খাবার রান্না হলে এই ভাইরাস মরে যায়। কিন্তু ঝুঁকি আছে কাঁচা শাকসব্জি, ফলমূল নিয়ে। যেহেতু অন্য ক্রেতারা বাজারে যে কোন জিনিস হাত দিয়ে ধরে থাকতে পারে, এমনকী              বিক্রেতারাও সেগুলো ধরছে, তাই এমন কোন নিশ্চয়তা নেই যে সেগুলো পুরো জীবাণুমুক্ত। কাঁচা বাজারের ক্ষেত্রে অধ্যাপক            ব্লমফিল্ডের পরামর্শ হল সবকিছু ভাল করে কলের ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে তারপর সেগুলো তুলে রাখা বা ব্যবহার করা (বিবিসি বাংলা নিউজ)। কাঁচা এবং রান্না করা খাবার সম্পূর্ণ আলাদা রাখার পরামর্শ দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
করোনা ভাইরাস যদিও এখন পর্যন্ত খাবারে থাবা বসায়নি। তবু কিছু সতর্কতা পালন করা জরুরি। তারই টিপস রইল এখানে পাঁচ ধাপে পরিষ্কার করতে হবে: (সূত্র: এনডিটিবি ফুড বাংলা, ভারত)
১. আগে নিজের হাত ধুয়ে নিন
শাকসবজি ধোয়ার আগে অবশ্যই আপনার হাত পরিষ্কার আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। ফল এবং সবজি পরিষ্কারের আগে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ডের জন্য নিজের হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ফল, সবজি ধুতে থাকুন।
২. পানির নীচে রেখে ধুতে হবে
বাজার থেকে কেনা সমস্ত ফল এবং শাকসবজি খোলা কলের নীচে ফেলে ধুয়ে হাত দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন ।  এতে কোনও জীবাণু সংক্রমণের ভয় থাকে না।
৩. সাবান একেবারেই নয়
সাবান বা ডিটারজেন্ট নয়, শুধু পানি দিয়ে বাজার থেকে আনা জিনিসগুলো ধুয়ে নিন। কোথাও, কোনও পচা বা দাগ  ধরা অংশ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সেটি কেটে বাদ দিয়ে দিন।
৪. ব্রাশ বা স্পঞ্জ ব্যবহার চলবে
আলু বা গাজরের মতো সবজি পরিষ্কারের সময় ময়লা পরিষ্কার করতে ব্রাশ বা স্পঞ্জ ব্যবহার করতে পারেন।
৫. বাড়তি যতœ নিয়ে ধোবেন কোনগুলো
আঙুর জাতীয় ফল বা সবজি পরিষ্কারের সময় বাড়তি যতœ নেওয়া জরুরি। তাই এগুলিকে একটি বাস্কেটে রেখে কলের নীচে রাখুন। আবার লেটুস এবং পাতাযুক্ত শাকগুলি এক বাটি ঠান্ডা পানিতে রাখতে হবে।
এভাবে সকলে এগিয়ে আসলেই তবে এই দেশ ফল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ন হবে। আর আমাদের জনগণ পাবে পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং দেশ পাবে সুস্থ্য ও মেধাসম্পন্ন নাগরিক । ফল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজন উপযুক্ত সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থাপনা। এতে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পরিসরে গড়ে উঠবে আরো প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প। ফলে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি হবে আরো মজবুত ও গতিশীল, দেশবাসী পাবে খাদ্যে পুষ্টিমানসম্পন্ন একটি ভবিষ্যৎ। তাই আসুন বেশি করে ফলদ বৃক্ষ রোপণ করি ও রোগ প্রতিরোধ গড়ে তুলি। য়
১পরিচালক, হর্টিকালচার উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকা, মোবাইল: ০১৭১৬৩৮৪৫৩৮, ২উপজেলা কৃষি অফিসার, সংযুক্ত: হর্টিকালচার উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকা, মোবাইল: ০১৬৮৮০৫৪৭৮৬

 

বিস্তারিত
করোনা পরিস্থিতিতে ফলদ বৃক্ষ রোপণ ও নিরাপদ মৌসুমি ফল

 ড. মোঃ আবদুল মুঈদ

একবিংশ শতাব্দীর আজকে এই সময়ে দাঁড়িয়ে গোটা বিশ্ব সম্মুখীন এক ভয়াবহ অদৃশ্য শত্রæ কোভিড-১৯ নামক এক ভাইরাসজনিত রোগ করোনার প্রাদুর্ভাবে। সেই মহামারীর তান্ডব থেকে মুক্তি পায়নি প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। বাংলাদেশে দিনে দিনে মৃত্যুর মিছিল যখন বাড়ছে, ঠিক তখন এই রোগ হতে মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে ঢালরূপে আবির্ভূত হয়েছে বাংলার কৃষি। সেই ঢাল হাতে নিপুণ সৈনিক বাংলার     কৃষক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। আর এই পুরো কর্মযজ্ঞের সফল পরিচালক বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত মন্ত্রণালয় কৃষি মন্ত্রণালয়, যার মূল চালিকা আসনে বসে আছেন এই কৃষি পরিবারেরই একজন খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী   কৃষিবিদ ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক, এমপি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষিবান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ “এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে” কে পালনের জন্য দেশের এই মহামারীতে সম্ভাব্য খাদ্য সংকট মোকাবেলায় মাননীয় কৃষি মন্ত্রীর পদক্ষেপগুলো রীতিমতো বিশ্ব নজির হিসেবে ইতোমধ্যেই সমাদৃত হয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির  সম্মুখীন হচ্ছে খেটে খাওয়া, হতদরিদ্র ও ভাসমান মানুষেরা। এদের কথা মাথায় রেখে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। সারাদেশে নিম্ন আয়ের মানুষদের ১০ টাকা কেজি দরে ৯০ হাজার টন চাল দেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা মোকাবেলায় গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ছয় মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সারাদেশে অতিরিক্ত সাড়ে ৬ কোটি টাকা ও ১৩ হাজার টন চাল বরাদ্দ   দিয়েছে। এসব চাল ও টাকা ত্রাণ হিসেবে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৬৪ জেলায় ১২ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ৪৬ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য সহায়তা দিয়েছে। সরকারি এই সমস্ত কার্যক্রমে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করোনার বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় খাদ্য সংগ্রহের কাল হিসেবে পরিচিত বোরো মৌসুমের প্রায় শতভাগ ধান ইতোমধ্যেই কর্তন সম্পন্ন হয়েছে গোটা দেশজুড়ে। আসন্ন আমনের বীজতলা প্রস্তুতেও রয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এরই মধ্যে “খড়ার উপর মড়ার ঘাঁ” হিসেবে হয়ে গেল কালবৈশাখী ঝড় আম্ফানের তাÐব। এই ঝড়ের তাÐবে বাংলাদেশের প্রধান ফল মৌসুমে যেসব ফল উৎপাদিত হয় যেমন আম, কাঁঠাল, লিচুসহ অন্যান্য ফলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এলাকাভিত্তিক ভিন্ন হলেও গড়ে প্রায় ২০-৩০ শতাংশ আম ও লিচুর ফলন নষ্ট হছে। যেকোন দুর্যোগকালে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম হয়ে বেঁচে থাকাতে প্রয়োজন পুষ্টিকর খাদ্য। যে কোনো খাবার খেয়ে পেট ভরানো যায়, কিন্তু তাতে দেহের চাহিদা মিটিয়ে সুস্থ থাকা যায় না। বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন ঘাটতি পূরণ হলেও পুষ্টি সমস্যা অনেক বড় আকারে বিরাজিত রয়েছে। ফলে এ দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ পুষ্টিহীনতার কারণে নানা ধরনের রোগের শিকার হয়ে অহরহ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। করোনার পরিস্থিতিতে এ সমস্যা মোকাবেলায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন।
২০১৮-১৯ সালের হিসাব মতে বাংলাদেশে মোট ৭ লাখ ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফলের আবাদ হয়েছিল, যার মধ্যে প্রধান ফল হিসেবে আম আবাদের জমি ছিল প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর আর উৎপাদন ছিল ২২ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন, কাঁঠাল আবাদ হয়েছিল ৭১ হাজার ছয়শত হেক্টর জমিতে যার ফলন ছিলো ১৮ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন, আর লিচু ছিলো ৩১ হাজার চারশত এর মতো, যার ফলন ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার মেট্রিক টন। এ বছর ২০১৯-২০ সালে সেই লক্ষমাত্রা বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২২ লক্ষ ৩২ হাজার মে.টন। রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, নাটোর, গাজীপুর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে অধিকাংশ আমের ফলন হয়। লিচুর আবাদ হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন। অধিকাংশ লিচুর ফলন হয় রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবনা, গাজীপুর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলায়। কাঁঠালের আবাদ হয়েছে ৭১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ও সম্ভাব্য উৎপাদন ১৮ লাখ ৮৯ হাজার মেট্রিক টন। টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও রাঙ্গামাটিতে সবচেয়ে বেশি কাঁঠাল উৎপাদন হয়। অন্যদিকে, আনারসের আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে ও সম্ভাব্য উৎপাদন ৪ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন। আনারসের সিংহভাগ উৎপাদন হয় টাঙ্গাইলে। চলতি বছর (২০১৯-২০) বাংলাদেশে বিভিন্ন ফলের উৎপাদন এলাকা বৃদ্ধিসহ উৎপাদন লক্ষমাত্রা অর্জনে           কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট হর্টিকালচার উইং বিভিন্ন পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই গ্রহণ করেছেন।
করোনাকালীন দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইংএর বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ৭৬টি হর্টিকালচার সেন্টারগুলো নিয়মিত গ্রাহকদের সেবা প্রদান করছেন করোনা যোদ্ধা হিসেবে। বার্ষিক কর্ম সম্পাদন ব্যবস্থাপনা বা এপিএর আওতায় সেন্টারগুলোর চারা উৎপাদনের লক্ষমাত্রা গেল বছরের তুলনায় ক্ষেত্র বিশেষে ২-৫ শতাংশ বৃদ্ধিসহ পেঁপে, আম, কুলসহ বিভিন্ন সবজি ও ফুলের চারা উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যেই সেন্টারগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেন্টারগুলোতে প্রতিদিন সামজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত চারা-কলম বিক্রয় ও ফল উৎপাদনে চাষীদের বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।  
সমসাময়িককালে করোনাকালীন মহামারী ও আম্ফান ঝড়ের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পূরণে কৃষি মন্ত্রণালয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে পদক্ষেপটি নিয়েছে সেটি হলো,তার আওতাধীন সকল দপ্তর, অধিদপ্তর, সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শক্রমে দশটি (১০) সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করেছেন। এর মধ্যে  অন্যতম হচ্ছে, মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক  ও অন্যান্য পরিবহনের অবাধে যাতায়াত নির্বিঘœ করা,পরিবহনের সময় যাতে     আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর মাধ্যমে  কোন রূপ হয়রানির শিকার নাহয় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, বিআরটিসির ট্রাক ব্যবহারে উদ্যোগ গ্রহণ, স্থানীয়ভাবে ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়ানো, পার্সেল ট্রেনে মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের আওতা বাড়ানো, হিমায়িত ওয়াগন ব্যবহার করা যায় কিনা তা নির্ধারন, ফিরতি ট্রাকের বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল হ্রাস, ত্রাণ হিসেবে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীতে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফল অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নিকট অনুরোধ জানানো, অনলাইনে এবং ভ্যান যোগে ছোট ছোট পরিসরে কেনাবেচার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ, প্রাণ, একমি, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যারা কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে জুস, ম্যাঙ্গোবার, আচার, চাটনি প্রভৃতি তৈরি করে, তাদেরকে এ বছর বেশি বেশি আম-লিচু কেনার অনুরোধ জানানো ও মৌসুমি ফলে যেন কেমিক্যাল ব্যবহার করা না হয় সেজন্য জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করাসহ আম্ফান ঝড়ে ঝরে পরা আমকে রক্ষা করতে স্টিীপিং পদ্ধতিতে কাঁচা আম সংরক্ষণ বিষয় সচেতনতা বৃদ্ধি ও এ সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ। সুপারিশগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে ইতোমধ্যেই  বাস্তবায়ন বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পত্রজারিসহ আদেশ প্রদান সম্পন্ন করেছেন। আশা করা যায়, ধানের মতো আমাদের আরেক প্রধান কৃষি পণ্য মৌসুমি ফল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণেও              কৃষি মন্ত্রণালয় সফল হবে।
আমাদের দেশের আবহাওয়া, মাটিও জলবায়ু যেমন-ফল আবাদের জন্য খুবই উপযোগী, তেমনি বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩০ রকম ফলের এক বিশাল ভাÐার রয়েছে এই দেশে। এরমধ্যে প্রায় সত্তর রকমের বিভিন্ন প্রচলিত ও অপ্রচলিত ফলের নিয়মিত আবাদ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ফল একটি অর্থকরী ফসল যা শুধু পুষ্টির চাহিদাই মেটায় না। এর পাশাপাশি ফল গাছ কাঠ দেয়, ছায়াদেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। ফল ভেষজ বা ঔষধিগুণ সমৃদ্ধ। নিয়মিত ফল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং সুস্থসবল জীবন লাভ করা যায়। বর্তমানে একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক ফলের ১১৫-১২০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে প্রাপ্যতা হলো মাত্র ৩৫-৪০ গ্রাম। বাংলাদেশে সারা বছরব্যাপী ফলদবৃক্ষ রোপণ করা যায়, তবুও জুন থেকে আগষ্ট মাস হচ্ছে বৃক্ষ রোপণের উপর্যুক্ত সময়। সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখে আম-লিচুসহ মৌসুমি ফল বিপণনে প্রস্তাবিত ১০ সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন যাতে করে আম-লিচুসহ মৌসুমি ফলের সাথে সম্পৃক্ত চাষি, ব্যবসায়ী ও আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট সকলেই উপকৃত হতে পারেন। য়

 

মহাপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ফোন: ৯১৪০৮৫০, ইমেইল-  dg@dae.gov.bd

 

বিস্তারিত
কোভিড-১৯ পরবর্তী খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি ভাবনায় করণীয়

ড. মোঃ মনিরুল ইসলাম
বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। সামগ্রিক অর্থনীতিতে কৃষির উপখাতসমূহ যথা শস্য বা ফসল উপখাত, প্রাণিসম্পদ উপখাত, মৎস্যসম্পদ উপখাত ও বনসম্পদ উপখাত প্রত্যেকটিরই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্ব অপরিসীম। সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ,কৃষি বিজ্ঞানীদের নবপ্রযুক্তি উদ্ভাবন, কৃষকের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম ও বেসরকারি খাতের কৃষিতে বিনিয়োগ সামগ্রিক কৃষির সফলতার অন্যতম কারণ। বাংলাদেশ এখন দানাদার খাদশস্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভবর। তাছাড়া ইতোমধ্যে ধান উৎপাদনে এক ধাপ এগিয়ে বিশ্বে ৩য় উৎপাদনকারী দেশ হিসাবে স্থান করে নিয়েছে। তবে নানা ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খরা-বন্যা, অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি, ঝড়-জলোচ্ছ¡াস কৃষি উৎপাদনে বড় অন্তরায়। উপরন্তু এবছর বিশ্বব্যাপী করোনার আঘাত দেশের কৃষির জন্য অশনীসংকেত হয়ে দাড়িয়েছে। সামনের চ্যালেঞ্জ হলো নির্বিঘœ খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, পণ্যের নায্যমূল্য ও পাশাপাশি সবার জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতকরণ। কোভিড ১৯ বা করোনার কারনে  লকডাউন ঘোষণা করায় খাদ্য উৎপাদনে ব্যাঘাত না ঘটলেও পরিবহণ সমস্যাও ক্রেতার অভাব উৎপাদিত পণ্য বিশেষ করে পোল্ট্রি, দুধ, ফল-শাকসবজি প্রতিটি পণ্য পরিবহণের জটিলতায় বাজারজাতকরণ সমস্যা, ক্রেতাশূন্য বাজারেপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য হ্রাস এর কারণে উৎপাদিত ফসল কৃষকের গলায় ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও সরকারের তাৎক্ষণিক বিভিন্ন পদক্ষেপ বিশেষ করে কৃষি খাতে প্রণোদনা ও সুযোগ্য কৃষি মন্ত্রীর সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যায়ে তদারকি ওসমস্যা চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানেদ্রæত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছে। বোরো ধানের বাম্পার ফলন, সঠিক সময়ে ধান কাটা সম্পন্ন করার ফলে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা অনেকটাই সামাল দেয়া গেছে। কিন্তু তার বিপরীতে হঠাৎ করে ঘূর্ণিঝড় আমফানের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অর্থকরী মৌসুমি ফল আম ও লিচুর ব্যাপক ক্ষতি (ক্ষেত্র বিশেষে ১০-৭০ ভাগ) হয়ে গেল। ফলে, এতে এককভাবে চাষীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা নয়, এধরণের ক্ষয়ক্ষতিরফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির উপর বিরাট চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাই করোনা পরবর্তী সময়ে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সরকারের অগ্রাধিকার এজেন্ডা ও চ্যালেঞ্জ।
জীবন ধারণের জন্য যেমন খাদ্য অত্যাবশ্যক। আবার সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ, পুষ্টিমান সম্পন্ন ও সুষম খাবার গ্রহণ প্রয়োজন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু অনুধাবন করতে পেরেছিলেন পুষ্টিহীন জাতি মেধাশূন্য, আর মেধাশূন্য জাতি যে কোনো দেশের জন্য বিরাট বোঝা। তাই ১৯৭৩ সালে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের পুষ্টিমান উন্নয়নে ইধহমষধফবংয  ঘধঃরড়হধষ ঘঁঃৎরঃরড়হ ঈড়ঁহপরষ (ইঘঘঈ) গঠন করেছিলেন। মাঝপথে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি সরকার গঠন করার পর  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তা আবার পুনরুজ্জীবিত করেন।
আমরা সবাই জানি খাদ্যের প্রয়োজনীতা অনুযায়ী বিভিন্ন খাদ্যকে সাধারণত তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছেঃ ১). শক্তিদায়ক খাবার, যেমন শর্করা বা কর্বোহাইড্রেট; যা আমরা ভাত, গম, ভুট্টা, আলু ইত্যাদি হতে পাই ; ২). শরীর বৃদ্ধিকারক ও ক্ষয়পূরক খাবার, যেমন প্রোটিন বা আমিষ, যা আমরা ছোট মাছ, বড় মাছ, মাংস, দুধ ইত্যাদি হতে পাই ও ৩). রোগ-প্রতিরোধকারী খাবার, যেমন ভিটামিনস ও মিনারেলস, যা আমরা একমাত্র শাকসবজি ও ফলমূল হতে পেয়ে থাকি। সে প্রেক্ষিতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে পুষ্টি ইউনিট, বংালাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল ”ফুড প্লেট’  তৈরী করেছে যা অব্যাহতভাবে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (এফএও) ও ডায়েটারি গাইডলাইনস অব বাংলাদেশের এর সুপারিশ অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ১০০ গ্রাম শাক, ২০০ গ্রাম অন্যান্য সব্জি ও ১০০ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। কর্মক্ষম ও সুস্থভাবে বাঁচার জন্য ফল ও সব্জি প্রাত্যহিক খাবার তালিকায় অপরিহার্য। কেননা ফল ও শাকসবজিতে প্রচুর পরিমানে পানি, অত্যাবশকীয় ভিটামিন, মিনারেল, ডায়েটারী ফাইবার, ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ও কিছুু পরিমান শর্করা বিদ্যমান।
তাছাড়া, প্রতিদিন পরিমানমত শাকসবজি ও ফল খাওয়ার ফলে বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ যেমন: ক্যান্সার, হার্ট ডিজিস্, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব কমায়। শাকসবজি হতে প্রাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেল দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) বৃদ্ধি করে, ফলে পরিমিত পরিমানে নিয়মিত ফর ও শাকসবজি খেলে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের যেমনি বছরে সুস্থ দিনের সংখ্যা বেড়ে যায়, তেমনি বাড়ে বাৎসরিক আয়।
বলা অত্যাবশ্যক যে পটাশিয়াম মানবদেহের রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করে; আঁশ শরীরের কোলেস্টেরলসহ অন্যান্য দূষিত পদার্থ শরীর থেকে বের করে আনতে সহায়তা করে ও রক্তের গøুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলেট শরীরের লোহিত রক্ত কণিকা (হিমোগেøাবিন) তৈরী করে এবং শিশুদের জন্মগত ত্রæটি রোধ করে। ভিটামিন চোখের জ্যোতি ও মসৃন ত্বক এর জন্য অতি প্রয়োজনীয় ও কার্যকর। ভিটামিন-ই বার্ধক্য রোধে, ভিটামিন সি শরীরের রক্তপাত রোধ, স্বাস্থ্যকর দাতের মাড়ি ও শরীরে অয়রণ শোষণে ভ‚মিকা রাখে।
বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ। পাশাপাশি দেশের সার্বিক পুষ্টি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটলেও বিরাট জনগোষ্ঠি এখনও অপুষ্টির শিকার। যা করোনা পরবর্তীতে আরও  ব্যাপকতালাভ করতে পারে। অপুষ্টিজনিত সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো রক্তস্বল্পতা; যা মূলতঃ আয়রণ জনিত ঘাটতিকেই বুঝায়। প্রয়োজনীয় ও পরিমাণমত খাবার, বিশেষ করে আয়রণ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের স্বল্পতায় শিশু, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী ও প্রসুতি মায়েরা বেশি আক্রান্ত।
তাই কভিড পরবর্তী পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কিছু পরিকল্পনার মাধ্যমে এগোতে হবে। ইতোমেেধ্য বিভিন্ন দেশের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে কোভিড প্রতিরোধে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের বেশি তাদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভানা বেশ কম এবং অথবা কেউ আক্রান্ত হলেও তা জটিল আকার ধারণ করেনি বা করেনা। বিগত দশকে মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি, সর্বোপরি পেশাগত কর্মব্যস্ততার ফলে মানুষের খাদ্যাভাসের ব্যাপক পরিবর্তন গঠেছে। অনেকেরই ধারণা দামী খাবার ছাড়া পুষ্টি পাওয়া যায়না, যা সম্পূর্ণ ভুল। আমাদের দেশের কৃষি খুবই বৈচিত্র্যময়। প্রতিটি নানা জাতের প্রচলিত-অপ্রচলিত ফল-সব্জি কোন না কোন ধরণের পুষ্টির আধার। বিশ্বের প্রায় ৮০ ভাগ খাবার এখন প্রক্রিয়াজাত, যা খুব একটা স্বাস্থ্যকর নয়। তবে এটা ঠিক প্রক্রিয়াজাত খাবার স্বাভাবিক কারণেই পুরোপুরি বাদ দেওয়াও অসম্ভব। তবে পরিমিত খাওয়া যেতেই পারে। কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়টি হলো, বর্তমানে প্রায় ৮০-৯০ ভাগ ছেলে-মেয়ে ফল-সবজি খেতে চায়না বা খেতে অনীহা, এমনকি মাছও অনেকেরই অপছন্দ। সারা বিশ্বে ফাস্ট ফুড খাওয়ার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, স্থুলতা, ডায়াবেটিস, হার্ট এটাক, উচ্চ রক্তচাপ এর মতো অসংক্রামক রোগগুলো হু হু করে বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশও এর ব্যাতিক্রম নয়। অপরদিকে অধিকতর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাসের ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ছাড়াও এলার্জির মতো অসুখে ভোগা মানুষের সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। সেজন্য সুষম ও পুষ্টিকর তথা বৈচিত্র্যময় খাবার খাওয়ার কোন বিকল্প নেই।
করোনা পরবর্তী নি¤œআয়ের লোকদের আপদকালীন সময়ে বা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পুষ্টি সুরক্ষায় ও কর্মক্ষম রাখতে দামে সস্তা, সহজলভ্য অথচ পুষ্টিগুনে ভরপুর এধরণের খাবার আমলে বা নির্বাচনে পরামর্শ প্রদান করতে হবে, যা থেকে সর্বোচ্চ পুষ্টি উপাদান পাওয়া যাবে। যেমনঃ-
* মেন্যু-১ পান্তা ভাত, ডাল ভর্তা, ডিম ভর্তা;
* মেনু- ২ পান্তা ভাত, মিষ্টি আলুভর্তা, ডাল ভর্তা (সংগে টুকরো লেবু রাখতে পারলে ভাল, এতে আয়রণ শোষণ ভাল হবে)।
এগুলো সস্তা, সহজলভ্য অথচ পুষ্টি সমৃদ্ধ (প্রয়োজনীয় শর্করা সহ পান্তা ভাত হতে প্রচুর পরিমান আয়রণ, ক্যালসিয়াম,     পটাশিয়াম পাওয়া যাবে এবং পান্তা ভাত হচ্ছে বি ভিটামিনের আধার (ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, বি৯ ও বি১২ উল্লেখযোগ্য)। গবেষণাগারে পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, ১০০ গ্রাম পান্তা ভাতে চালের প্রকারভেদে সাধারন ভাতের চেয়ে সর্বোচ্চ ৫৫.৮৩% আয়রন এবং ৪৯২% ক্যালসিয়াম বেশি পাওয়া যায়। তাছাড়া ভর্তায় ব্যবহৃত তেল, ডিম, পেঁয়াজ হতে প্রয়োজনীয় চর্বি, ফাইবার, ফলেট, জিংক, ভিটামিন-ডি,          ভিটামিন-এ, বি-২ সহ অন্যান্য অণু পুষ্টি কণা মিলবে।ডাল হতে প্রয়োজনীয় প্রোটিনও মিলবে। এমনকি আপদকালীন সময়ে শাকসবজি পাতে যোগ না করতে পারলেও প্রায় বেশিরভাগ প্রয়োজনীয় পরিমান শর্করা, প্রোটিন ও গুরুত্বপূর্ণ অণু পুষ্টি উপাদানসমূহ উল্লেখিত মেন্যু হতে পাওয়া যাবে। তাই দামী খাবার নয় প্রত্যেক শ্রেণীর মানুষের জন্য খাদ্য নির্বাচনে সর্তকতা জরুরী।
অপরদিকে মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী যথার্থই ঘোষণা দিয়েছেন খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে এক ইঞ্চি জমিও পতিত রাখা যাবেনা। ঠিক তেমনিভাবে খাদ্য অপচয় ও পুষ্টি অপচয় রোধ করতে ভোক্তা সাধারণেরও কৌশলী বা সচেতনতা জরুরী। (চলবে)
(পূর্বের সংখ্যার পর)
আমরা যা খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করি যেন সর্বোচ্চ পুষ্টির ব্যবহার হয়, সেজন্য সচেষ্ট হতে হবে। অনেকেরই জানা নেই অনেক ফল- সব্জির খোসাতে বেশি পরিমান পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। সেজন্য যেসব ফল-সব্জি খোসাসহ খাওয়া যায় তা খোসা না ফেলে খেতে হবে। বিভিন্ন ফল-সব্জি যেমন আপেল, কলা, শসা, বেগুন, লাউ, কুমড়া, আলু পুষ্টিতে ভরপুর; তেমনি এসব স্বাস্থ্যকর ফল বা সবজির খোসাও অনেক উপকারী। এখন দেখে নেওয়া যাক উল্লেখযোগ্য ফল-সবজির খোসার পুষ্টি গুনাগুন ঃ
আপেলের খোসার গুনাগুন
আপেলের অভ্যান্তরাংশের চেয়ে আপেলের খোসায় বা ছালে ফাইবারের পরিমান  বেশি। ফাইবার বা আঁশ দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, এতে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে ও ক্যালরিও কম খাওয়া হয়। তাছাড়া ফাইবার হাড়,    যকৃত সুস্থ রাখতে সাহায্য করে (কৃষি বিভাগ, ইউএসএ)। এছাড়া ও আপেলের খোসায় কুয়েরসেটিন নামের একটি এন্টি অক্সিডেন্ট আছে, যা হৃদপিন্ড, ফুসফুস ও মস্তিস্কের জন্য খুবই উপকারী।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে আপেলের খোসায় থাকে প্রচুর পরিমানে পলিফেনল যেমন- পেকটিন। এই পেকটিন হল এক ধরনের ফাইবার যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে পেকটিন রক্তে সুগার আর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে। আপেলের খোসায় ভিটামিন এ, সি এবং কে রয়েছে। তাছাড়া পটাশিয়াম, ফসফরাস ও ক্যালসিয়ামের মতো অপরিহার্য খনিজও রয়েছে, যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী।
শসার খোসা
শসার খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার,             অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান, পটাসিয়াম আর ভিটামিন-কে। তাই শসার খোসা ফেলে না দিয়ে খোসাসহ খাওয়া বেশি উপকারী।
লাউ বা কুমড়ার খোসা  
লাউয়ের খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক, যা ত্বককে সতেজ রাখে। বাড়ায় ত্বকের উজ্জ্বলতাও। লাউয়ের খোসা আলাদা করে ভাজি হিসাবেও খাওয়া যায়।
বেগুনের খোসা
বেগুনের খোসায় রয়েছে ‘নাসুনিন’ নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা অ্যান্টি-এজিং-এ সহায়ক। এ ছাড়াও বেগুনের খোসা ত্বককে সতেজ রেখে উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
কলার খোসা
কলার খোসায় রয়েছে লুটেন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা        দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে সাহায্য করে। কলার খোসায় থাকা ট্রিপটোফ্যান শরীরে সেরোটনিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। আর এই সেরোটনিন মন মেজাজ ভাল রাখতে সাহায্য করে।
তরমুজের খোসা
রসাল তরমুজের পুরু ও শক্ত খোসায় ’এল সাইট্রলিন’ নামের অ্যামাইনো এসিড আছে। এই অ্যামাইনো এসিড শরীর চর্চা ও খেলাধুলায় দক্ষতা বাড়াতে এবং বিশেষতঃ মাংসপেশীর ব্যাথা কমাতে বা এর নমনীয়তা বাড়াতে সহায়তা করে। রক্ত থেকে নাইট্রোজেন দূর করতেও সহায়তা করে এই ‘সাইট্রলিন’ (যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসডিএ’ কৃষি গবেষণা সংস্থা ২০০৩)।
আলুর খোসার গুণাগুন
আলু এমন একটি সবজি যে কোন তরকারীতেই ব্যবহার করা যায়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা আলুর খোসা ফেলে দেই। আলুর খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আর পটাসিয়াম। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন বি, সি এবং প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান। তাই সর্বোচ্চ পুষ্টি পেতে আলু খেতে হবে খোসাসহ।
প্রথম উপকারিতা : আলুর খোসায় প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম এবং মিনারেল রয়েছে। যা শরীরের রাসায়ানিক প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। পটাশিয়াম আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে সচল রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারি। এক একটি আলুর খোসা থেকে আমরা ৬০০ গ্রাম পটাশিয়াম পেতে পারি। যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয় উপকারিতা : মানুষের প্রতিদিন অত্যন্ত পক্ষে ১৬ মিলিগ্রাম করে নিয়াসিন শরীরের জন্য প্রয়োজন।শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় এই নিয়াসিন সহজেই পাওয়া যেতে পারে আলুর খোসা থেকে। নিয়াসিন শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
তৃতীয় উপকারিতা : আলু থেকে আমরা প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল এবং কার্বোহাইড্রেট পাই। তেমনি আলুর খোসাতেও এসব উপাদান থাকে। তাই আলুর খোসা না ছাড়িয়ে খাওয়া হয়, তাহলে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল এবং কার্বোহাইড্রেট বেশি পরিমানে পাওয়া যাবে। এতে শরীর আরও শক্তিশালী ও রোগ প্রতিরোধী হয়ে উঠবে।
চতুর্থ উপকারিতা : আয়রন হল শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। আয়রণ দেহের রক্ত কণিকার স্বাভাবিক কার্যপ্রণালীকে সক্রিয় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক দিন ৩-৫টি খোসা সহ আলু খেলে শরীরে ৪ মিলিগ্রাম লোহা বা আয়রন যোগান দিবে।
পঞ্চম উপকারিতা : যাদের হজমশক্তি দুর্বল তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে আলুর খোসা খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। কারণ, আলুর খোসায় প্রচুর পরিমানে ফাইবার আছে। ফাইবার শরীরের হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। আলুর খোসা গুরুপাক খাবারও সহজে হজম করতে সাহায্য করে।
ষষ্ঠ উপকারিতা : আলুর খোসায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার ফলে হজমশক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি শরীরের অতিরিক্ত গøুকোজ শুষে নেয়।  এতে আলুর খোসা শরীরের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত করতে সাহায্য করে। যদিও ডায়াবেটিস রোগীদের আলু খেতে নিষেধ; তবে আলু যদি খোসা সমেত সিদ্ধ করে পানি ফেলে দিয়ে রান্না করা হয় বা খাওয়া হয় তাতে খুব একটা ক্ষতি হয় না।
নির্ভয়ে ফলগ্রহণ
অন্যদিকে কোন গবেষণালব্ধ ফলাফল বা বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত ব্যতিরকে কিছু গনমাধ্যম ও এক শ্রেণীর সংগঠন বা ব্যক্তি কর্তৃক দুধ, মৌসুমি ফল, শাকসবজিসহ মাছে ফরমালিন ব্যবহারের নেতিবাচক প্রচারণার ফলে কিছু মানুষ শুধু ফল খাওয়াই ছেড়ে দেয়নি, চাষী পর্যায়ে আর্থিক ক্ষতিসহ রপ্তানী বাণিজ্যে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে এবং হচ্ছে। সেজণ্য জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে জানোনো যাচ্ছে আপনারা নির্ভয়ে ফল খান, দেশী-বিদেশী ফল (যেমন : আম, কলা, আনারস, লিচু, আফেল, কমলা, মাল্টা ইত্যাদি) সংরক্ষণে ফরমালিন ব্যবহার করা হয়না। তাছাড়া কীটনাশক নিয়েও ভ্রান্ত ধারণা আছে, আধুনিক কৃষিতে কীটনাশক ব্যবহার ব্যতীরকে চাষাবাদ কল্পনাতীত। কীটনাশক এর শুধূ ক্ষতিকর দিক নিয়েই বেশি আলোচনা করি, মনে রাখা দরকার কীটনাশক কিন্তু ফসলের অনেক ধরণের ক্ষতিকর ফাংগাসসহ অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান বিনষ্ট করে খাদ্য নিরাপদ করার মাধ্যমে আমাদেরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই নীরোগ ও সুস্থ থাকতে রোগ-প্রতিরোধ খাবার হিসাবে ফল-মুল, শাকসবজির কোন বিকল্প নেই।
আমে রাসায়নিকের ব্যবহার
প্রতিটি আমের পরিপক্কতার একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। তবে, এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে বিশ্ব জলবায়ু দ্রæত পরিবর্তনশীল; তাই বছরভিত্তিক জলবায়ুর এরুপ আচরণগত বৈশিষ্ট্যের কারণে/প্রভাবে উপরে উল্লেখিত পরিপক্কতার সময় ২-৫ দিন আগে বা পরে হতে পারে। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, সব আম গাছে পাকে এগুলোর চেয়ে পূর্ণ পরিপক্কতা লাভকারী আম সমূহ যদি ৫-৭ দিন পূর্বে গাছ থেকে আহরণ করা হয় অপেক্ষাকৃত সেসব আম গাছে পাকা আমের চেয়ে অধিক মিষ্ট হয়, সাথে কোন প্রকার স্বাস্থ্য ঝুঁকিও নেই।
আমে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের ব্যবহার
ইথোফেন যেমন ইথিলিন গ্যাস নির্গমন করে , কার্বাইড তেমনি এসিটিলিন গ্যাস নির্গমন করে এবং একইভাবে ফল পাকায়। তবে কার্বাইড মুলতঃ নিষিদ্ধ একটি রাসায়নিক। শিল্প-     কারখানায় ব্যবহারের জন্য সীমিত আকারে কার্বাইড আমদানি করা হয়। রাসায়নিক মুক্ত (কার্বাইড) মুক্ত পাকা আম খেতে ২৫ মের পূর্বে ক্রয় পরিহার করতে হবে এবং সরকার কর্র্তৃক মার্চ- এপ্রিল মাসে কোন প্রকার আম যেন আমদানি না হয় সেজন্য উক্ত ২ মাস এলসি বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে। কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম খেলে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় মুখে ঘা ও ঠোট ফুলে যাওয়া, শরীরে চুলকানি, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, পেপটিক আলসার, শ্বাসকষ্ট, মস্তিকে পানি জমা জনিত প্রদাহ, মাথা ঘোরা, ঘুম ঘুম ভাব, মহিলাদের বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ফলে ফরমালিনের ব্যবহার
ফরমালিন হচ্ছে অতি উদ্বায়ী ও অতি দ্রবণীয় একটি বর্ণহীন ও ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত রাসায়নিক। ফল-মুল শাক সবজি হচ্ছে ফাইবার অর্থাৎ আঁশ (ঋরনৎব) জাতীয় খাবার, তাই ফরমালিন ফল সংরক্ষণ বা পাঁকাতে কোন ভূমিকা রাখেনা। ফল-সবজিতে খুবই সামান্য প্রোটিন থাকায় ফরমালিন প্রয়োগ করা হলে কোন বন্ডিং সৃষ্টি করেনা, তা উড়ে চলে যায়। তাছাড়া ফল-মূলে   প্রাকৃতিকভাবেই নির্দিষ্ট মাত্রায় ফরমালিন (৩-৬০ মিলিগ্রাম/কেজি) বিদ্যমান থাকে। ইউরোপিয়ান ফুড সেফইট অথোরটি (ঊঋঝঅ) এর মতে একজন মানুষ দৈনিক ১০০     পিপিএম পর্যন্ত ফরমালিন কোন প্রকার স্বাস্থ্য ঝুঁকি ছাড়াই গ্রহণ করতে পারে।
ফল পাকানো এবং সংরক্ষণে ইথোফেনের ব্যবহার
ইথোফেন একটি বিশ্ব সমাদৃত ও বহুল ব্যবহৃত অত্যন্ত নিরাপদ রাসায়নিক. যা ফলে প্রাকৃতিক ভাবেই বিদ্যমান থাকে। সেজন্য, ফল পরিপক্কতা লাভের সময়ে বিভিন্ন ফলে সামান্য পরিমান ইথোফেন গ্যাস তৈরী হয়; ফলশ্রæতিতে ফলের অভ্যান্তরে বিদ্যমান অনেকগুলো জিন তড়িৎ সচল হয়। তখন ফলের রং পরিবর্তন, মিষ্টতা ও গঠনবিন্যাস (ঞবীঃঁৎব) এ পরিবর্তন আসে এবং ফল পাকতে শুরু করে। কৃষকের মাঠ হতে সংগ্রহকৃত নমুনা. বাজারজাত পর্যায়ের নমুনা ও গবেষণাগারে বিভিন্ন মাত্রায় ইথোফেন (২৫০-১০০০০ পিপিএম) সরাসরি স্প্রে করার পর সকল পরীক্ষায় দেখা গেছে যে ইথোফেন প্রয়োগের অব্যাহতি পর হতেই প্রয়োগকৃত ফলের দেহ থেকে তা দ্রুত বের হয়ে যায় এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তা ঈড়ফবী অষষরসবহঃধৎু ঈড়সসরংংরড়হ (ঋঅঙ/ডঐঙ) কর্তৃক মানব দেহের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ গ্রহনীয় মাত্রার (গজখ ২ পিপিএম ) বেশ নীচে চলে আসে। আরও উল্লেখ্য যে , শুধুমাত্র মানবদেহের জন্য নির্ধারিত গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা (গজখ) ছাড়াও অউও(অপপবঢ়ঃধনষব উধরষু ওহঃধশব) এর মাত্রার ওপরেও ইথোফেনের ক্ষতিকর প্রভাব নির্ভর করে। ঈঙউঊঢ/ঋঝঝঅও এর সুপারিশ মোতাবেক একজন মানুষ কোন প্রকার স্বাস্থ্য ঝুঁকি ছাড়া তার প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের বিপরীতে প্রতিদিন ০.০৫ পিপিএম গ্রহণ করতে পারে। অর্থাৎ যদি একজন মানুষের ওজন ৬০ কেজি হয় তাহলে সে সর্বোচ্চ (৬০ী০.০৫) ৩ পিপিএম ইথোফেন প্রতিদিন গ্রহণ করতে পারবে। উদাহরনস্বরুপ বলা যায়, যদি কোন ফলে প্রতি কেজিতে ০.৫০ পিপিএম ইথোফেন অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়, তাহলে কোন ব্যাক্তিকে নুন্যতম দৈনিক ৬ কেজি ফল খেতে হবে।
আমদানীকৃত আপেল
অন্যান্য ফলের ন্যায় আপেলেও ফরমালিন ব্যবহার করা হয়না। তবে আমদানিকৃত আপেল দীর্ঘদিন সতেজ রাখার জন্য      সাধারণত ফুড গ্রেড বা ইডিব্ল (তরল ও কঠিন) প্যারাফিন প্রয়োগ করা হয়। কঠিন বা তরল প্যারাফিন যে কোন মাত্রায় খাদ্যের সাথে মানবদেহে প্রবেশ করলেও তা কোন ক্ষতিকর বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না বা হজম প্রক্রিয়ায় অর্র্ন্তভুক্ত হয় না, ফলে এটি সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত অবস্থায় পুনরায় শরীর হতে বেরিয়ে যায়। সুতরাং এসব মোমযুক্ত/প্যারাফিনযুক্ত আমদানিকৃত আপেল ভক্ষণ নিরাপদ। আরও উল্লেখ্য যে বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত নব নব উদ্ভাবনের মাধ্যমে শুধু খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পণ্যের মান বৃদ্ধি ও পঁচনকে দীর্ঘায়িত করার জন্য নব নব বিভিন্ন প্রযুক্তিও উদ্ভাবন করে চলেছে। বর্তমানে প্যারাফিন ওযাক্সের পাশাপাশি কৃষিজ উপজাত যেমন ঃ ফলমূলের খোসা, কাÐ, পাতা, গাছের প্রাকৃতিক নির্যাস ব্যবহার করে অত্যন্ত পাতলা অবরণ সমৃদ্ধ ফিল্ম তৈরী করে আপেল সহ অন্যন্য ফলের গায়ে ওয়াক্স হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এধরণের ওয়াক্স একদিকে যেমন ফল-কে সতেজ রাখতে সাহায্য করছে তেমনি পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করছে।
হর্টিকালচার ক্রপস তথা ফল-সবজিতে ক্ষেত্রভেদে ৪০-৯৮ ভাগ পানি বিদ্যমান থাকে। তাই ব্যাপকভাবে যাতে ওজন হ্রাস না হয়, সেজন্য ওয়াক্স ব্যবহার করা হয়। উল্লেখ্য যে প্রকার/জাত ভেদে ’হরটিকালচার ক্রপ’ এর ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৫-১০ গ্রাম ওজন কমে। তাছাড়া চকচকে-তকতকে ভাব বজায়, ফাংগাস/ছত্রাক এর আক্রমন থেকে রক্ষা, দীর্ঘদিন সংরক্ষণ, কোল্ড ষ্টোরেজ এ সংরক্ষণকালীন সংবেদনশীলতা রোধ, আর্দ্রতার অপচয় রোধ ও অন্যান্য বাহ্যিক আঘাত রোধ-সহ রোগ সৃষ্টিকারী জীবানু রোধ করার জন্য ইডিব্ল প্যারাফিন ওয়াক্স বা ইডিপিল ব্যবহার করা হয়।আপেলে ব্যবহৃত ওয়াক্স একটি খাওয়ার যোগ্য মোম, এতে কোন স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই।
বাজারে প্রাপ্ত আঙ্গুর
বাজারে প্রাপ্ত আমদানীকৃত আঙ্গুর নিয়েও মানুষের মাঝে অস্থিরতা বিরাজমান। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, আধুনিক কৃষি ও  কৃষি পণ্য কীটনাশক ও প্রিজারভেটিবস ব্যবহার ছাড়া উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণ করা প্রায় অসম্ভব। মানুষ         জ্বর-সর্দি-কাশি বা জীবাণূ দ্বারা আক্রান্ত হলে যেমনি ঔষধ খাওয়ার প্রয়োজন হয়; তেমনি ফসলের পোঁকা-মাকড় দমন, ছত্রাকের আক্রমন রোধ ও নির্দিষ্ট সময়ান্তে সতেজ রাখার জন্য প্রিজারভেটিবস প্রয়োজন। আঙ্গুরে মূলতঃ ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা হয়; এর কার্যক্ষমতা বেশী সময় থাকেনা, খাওয়ার পূর্বে ভালভাবে ধুয়ে নিলে কোন স্বাস্থ্য ঝুঁকিও থাকেনা। তাছাড়া শিপমেণ্টের পূর্বে সালফার ডাই অক্সাইড ব্যবহারে বাষ্পশোধণ করা হয় ও পরিবহণের সময় কার্টুনে সালফার ডাই অক্সাইড প্যাড ব্যবহার করা হয়।
অনেকেই আংগুরের গায়ে বা ত্বকের বাইরের অংশে সাদা পাউডার জাতীয় পদার্থ দেখে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করে অজানা অস্বস্তিতে ভোগেন। প্রকৃতপক্ষে আংগুরের গায়ে সাদা পাউডার জাতীয় যে পদার্থ দেখা যায়, তা একেবারেই প্রাকৃতিক এবং তা ‘ওল্ড ডাস্ট’, ‘বøুম বা বøাস’, এসিডোফাইলাস (ব্যাকট্রেরিয়াম) নামে পরিচিত, যা একটি প্রাকৃতিক প্রলেপ। এটা আর্দ্রতা রোধসহ আংগুরকে পঁচন ও পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করে। তাছাড়া মদ তৈরীর প্রাথমিক পর্যায়ে ফারমেন্টশেন এ সহায়তা করে। এধরনের বøুম পাম জাতীয় ফলেও দেখা যায়।
প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের রয়েছে দীর্ঘ       অভিজ্ঞতা। অতীতে যেমনি প্রতিটি দূর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সক্ষমতা দেখিয়েছে। তাই এবারও নিঃসন্দেহে বলা যায়, কৃষি প্রিয় মাননীয় প্রধাণমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় ও সময়ের সাহসী যোদ্ধা সুযোগ্য কৃষি মন্ত্রীর সার্বিক তত্ত¡াবধানে কৃষি আবার প্রাণ ফিরে পাবে।  আশা করা যায়, কৃষকদের সময়মত সার, বীজ ও প্রণোদণা যথাসময়ে যথাযথভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছানো গেলে দেশের কৃষি ও কৃষক আবার ঘুরে দাড়াবে। দেশের অর্থনীতিসহ খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এ ব্যাপারে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। য়
পরিচালক (পুষ্টি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, ফার্মগেট, ঢাকা, মোবাইল : ০১৭৭৭৬৮৬৮৬৬, ই-মেইল :  dmmislam@yahoo.com

 

বিস্তারিত
বাংলাদেশে বছরব্যাপী ফল উৎপাদন কৌশল

ড. মোঃ মেহেদী মাসুদ

বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত এবং কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়া। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা/কর্মচারী কাজ করে যাচ্ছে। দেশের ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও তার চাষ সম্প্রসারণের কাজ অব্যাহত রয়েছে। সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে ফলের উৎপাদন ও উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নিয়মিত ফল খেলে দেহের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়, ক্লান্তি দূর হয়, সুস্বাস্থ্য  বজায় থাকে ও ভাতের উপর চাপ কমবে। বাংলাদেশে বছরে ৩.৮০ লক্ষ হেক্টর জমিতে ৪৭.০ লক্ষ মেট্রিক টন ফল উৎপাদন হয়। কিন্তু আমাদের বাৎসরিক চাহিদা রয়েছে ৬১.১৭ মেট্রিক টন। ২০১৩-১৪ সালে  ফলের মোট উৎপাদন ছিল ৯৯,৭২,২৪৭ মেট্রিক টন এবং ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে উৎপাদন হয়েছে ১,২১,৫১,৯৩৪ মেট্রিক টন, বৃদ্ধির হার ২১%। উল্লেখ্য আমাদের দেশে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ২০০ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন কিন্তু আমরা প্রতিদিন প্রায় গড়ে ৭০-৮০ গ্রাম ফল ভক্ষন করি। মোট চাহিদার শতকরা ৬৫ ভাগ ফল আমরা উৎপাদন করি, বাকী ৩৫ ভাগের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় আমরা ফল আমদানী করে থাকি। অথচ বাংলাদেশের আবহাওয়ায় প্রায় ৭০  প্রকারেরও বেশী জাতের ফল চাষের উপযোগী যা পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই বিরল।
ফল বাংলাদেশের অতি জনপ্রিয় ও উপযোগী উদ্যানতাত্তি¡ক ফসল, রঙ, গন্ধ স্বাদ ও পুষ্টির বিবেচনায় আমাদের দেশী ফলসমূহ খুবই অর্থবহ ও বৈচিত্র্যময়। মানুষের জন্য অত্যাবশীয় বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের উৎস হলো দেশীয় ফল। ফল ভক্ষনে রোগ প্রতিরোধ ছাড়াও হজম, পরিপাক, কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দুরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে। ফলে ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদন, এ্যান্থোসায়ানিন, লাইকোপেন ও এন্টি অক্সিডেন্ট উপস্থিত থাকায় মরণ ব্যাধি থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে। তাছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ফলের অবদান অনস্বীকার্য। দেশে যে সব ফল উৎপাদন হয় তার প্রায় ৬০% উৎপাদিত হয় জুন-জুলাই ও আগষ্ট মাসে। শীতকালে ফল প্রাপ্তির সুযোগ কম। শীতকালে যেসব ফল (কুল, কলা, পেঁপে, তেঁতুল) উৎপাদন সুবিধা আছে সে ফলের দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশে চাষ উপযোগী বিদেশী জাতের বিভিন্ন ফল আবাদের পরিমাণ বাড়িয়ে সারা বছর ফল প্রাপ্তি সম্ভব।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ফলের অবস্থান ঃ
আয়তনে বিশ্বের অন্যতম ছোট দেশ বাংলাদেশ হলেও ফল উৎপাদনের সফলতার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। মৌসুমি ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বাংলাদেশে এখন ৭২ প্রজাতির ফলের চাষ হচ্ছে। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার (এফএও) মতে ১৮ বছর যাবত বাংলাদেশে সাড়ে ১১ শতাংশ হারে ফল উৎপাদন বেড়েছে। কাঁঠাল উৎপাদনে বিশ্বে ২য়, আমে ৭ম এবং পেয়ারা উৎপাদনে ৮ম স্থানে আছে বাংলাদেশ। আর মৌসুমী ফল উৎপাদনে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ১০ম।  আয়তনে কম হলেও প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে ফল চাষের জমি বাড়ছে।
 গত ১০ বছরে দেশের আম ও পেয়ারার উৎপাদন দ্বিগুণ, পেঁপেতে আড়াই গুণ, লিচু উৎপাদনে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
 ৪-৫ বছরের মধ্যে নতুন ফল ড্রাগন, এভোকাডো এবং দেশী ফল বাতাবী লেবু, তরমুজ, লটকন, আমড়া ও আমলকীর মতো পুষ্টিকর ফলের উৎপাদন ব্যাপক হারে বাড়ছে। নতুন করে চাষ উপযোগী ড্রাগন ফলের ২৩টি আলাদা প্রজাতির, খেজুরের ১৬টি, নারিকেলের ২ প্রজাতি, কাঁঠালের ৩টি জাত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সম্প্রসারণের কাজগুলো চলমান। উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে সীমিত জমিতে  অধিক ফল উৎপাদনের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
(ক) আম ঃ দেশের ফল থেকে আসা পুষ্টি চাহিদার বড় অংশের জোগান দেয় আম। আম প্রায় সবকটি জেলায় চাষ হচ্ছে। সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক থাইল্যান্ড থেকে বারোমাসি আমের জাত আমদানী করা হয়েছে। আ¤্রপালি আমের সম্প্রসারণের ফলে আম চাষ ব্যাপক হারে বেড়েছে।
আগাম জাত : চৈতী, গোলাপখাস, বৈশাখী, লক্ষনভোগ, সুরত বোম্বাই, গোবিন্দভোগ ও সকল প্রকার গুটি আম
মধ্যম জাত : গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলী, আ¤্রপালী, হাড়িভাঙ্গা, হিমসাগর, রাণীপছন্দ, কহিতুর, আনোয়ার আতা, বাউ-১৪, বারি-৮, রাংগুয়াই, ব্যানানা আম, নামডকমাই, মেহেদী ম্যাঙ্গো (কেনসিংটন প্রাইড), তাইওয়ান গ্রীন, থাই   কাঁচামিঠা, টিক্কা ফরাস, থাই রেড, ‘চ্যু’, ব্রæনাই কিং,   কোকোনাট ম্যাংঙ্গো. হুংচু, চুকানন, কিউজাই আম।
নাবি জাত : বান্দিগোড়, বারী আম-৪, শ্রাবন্তী, আশ্বিনা, ঝিনুক আশ্বিনা, যাদুভোগ, গৌড়মতি।
বারোমাসি জাত : অমৃত (কাঠিমন), বারি আম-১১, বরিশাল বারোমাসী ইত্যাদি।
(খ) কাঁঠাল : ফল কাঁঠালকে বলা হয় মাংসের বিকল্প। বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশ থেকে সংগ্রহকৃত আঠা ও ভোতাবিহীন রঙ্গিন কোষ বিশিষ্ট মূল্যবান কাঁঠাল সংগ্রহ করে সম্প্রসারণ করা হয়েছে যা জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
(গ) পেয়ারা : এক সময় শুধু দেশী পেয়ারার চাষ হতো। থ্যাইল্যান্ড থেকে উন্নতমানের বেশ কয়েকটি জাত সংগ্রহ করে এদেশে চাষ করা হচ্ছে যার ফলে সারা বছরব্যাপী পেয়ারা ফল প্রাপ্তির সম্ভব হয়েছে। ২০১৩-১৪ সালে পেয়ারার উৎপাদন ছিল ৩০২০৬৯ যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮-১৯ সালে ৫,২১,৩৩৬ মেট্রিক টন, বৃদ্ধির হার ৭২%।
(ঘ) লিচু : লিচুর প্রাপ্তির সময়সীমা আরও ২মাস বাড়ানোর লক্ষ্যে দিনাজপুর অঞ্চল থেকে কাঁঠালী জাতের লিচুর কলম সংগ্রহ করে তা সম্প্রসারণের কাজ চলমান।
পাহাড়ী এলাকা আমাদের দেশের প্রায় এক দশমাংশ। পাহাড়ী এলাকায় অনেক অনাবাদি জমি রয়েছে। অত্র প্রকল্পের আওতায় ঐসব অঞ্চলে কাঁঠাল, আমের বিভিন্ন জাত, থাই পেয়ারা, লটকন, লেবু, কমলা, মাল্টা, রামবুটান, পার্সিমন ইত্যাদি ফলের বাগান স্থাপন করা হয়েছে। বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের  লক্ষ্যে সহজে পঁচেনা এবং বেশি সময় ধরে বাজারজাত করা যায় এমন দেশি ও সম্ভাবনাময় বিদেশী ফলের সম্প্রসারণের জন্য মাননীয় কৃষিমন্ত্রী মহোদয় সদয় নির্দেশনা দিয়েছেন। এ রকম ফল যেমন- কাজুবাদাম, নারিকেল, মাল্টা, বেল, কদবেল, সফেদা, ডালিম বারোমাসি আমড়া, দেশী কুল, তেঁতুল, প্যাসান ফল, জাম্বুরা, চালতা ইত্যাদি ফলের সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে মাতৃবাগান সৃজন এবং কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারণের কাজ চলছে। য়

প্রকল্প পরিচালক, বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প, ডিএই, খামারবাড়ি, ঢাকা, মোবাইল : ০১৭১৬২৬০৬৯৫;  ইমেইল-: pdyrfp@gmail.com

বিস্তারিত
কোভিড-১৯ : নগর কৃষির গুরুত্ব ও ফল চাষ

অধ্যাপক এ এইচ. এম. সোলায়মান, পিএইচডি

নগর কৃষিতে ছাদ বাগান নিয়ে বিভিন্ন রকম ফোন আসে। একজনের কথার কিছু অংশ আপনাদের সাথে শেয়ার করছি : আমি প্রায় ১০০০ ঘণ্টা ইউটিউব, গুগল সার্চ করে নগর কৃষি ও ছাদ বাগান সম্বন্ধে জানার চেষ্টা করেছি এবং আমি আমার বাসার ছাদে ও পুরান বাড়ির আশেপাশে ফল-সবজি লাগাতে চাই। আমার মা ও শিশুরা যাতে নিজেরা নিজেদের ফল নিজেরা পেড়ে খেতে পারে। একটু একটু আধুনিক বিষয় শিখে রপ্ত করে শুরু করতে চাই। তাই আপনার পরামর্শ নিতে আপনাকে কল করেছি। উনি আরো শিখতে চান, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে চান আরো জেনে শিখে কাজ করতে চান, তার পরিকল্পনামাফিক সাফল্যজনক ভাবে বাগান করা হয়তো সহজ হবে। আর একটা বিষয় পরিষ্কার করি যে, সঠিকভাবে ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং শহুরে কৃষি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে ছাদ-বাগান করলে ছাদের ক্ষতিতো হয়ই না বরং টেকসই সবুজ আচ্ছাদন অক্সিজেন সরবরাহ করে আপনার বাসস্থান-অফিস ও প্রতিষ্ঠানকে আরো আরামদায়ক ও শান্তিময় রাখবে।
এখন ফল মৌসুম এবং যে কোন বৃক্ষ রোপণের উপযুক্ত সময়। করোনা পরিস্থিতিতে অবসর সময় কাটানোর খুবই আশাব্যঞ্জক বিষয় ছিল বাগান পরিকল্পনা ও সৃজন করা। গত প্রায় আড়াই মাসে এই করোনা বা কোভিড-১৯ পরিস্থিতি আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে, তার মধ্যে শহর ও গ্রামের সকল মানুষ একটা বিষয় বুঝেছে যে, নিজের প্রয়োজনীয় খাবার, ফল-সবজি নিজে আবাদ করতে পারলে নিজের নিরাপদতা নিশ্চিত করে যতটুকু খালি জায়গা তাতে অল্প পরিমাণে হলেও ফল-ফসল উৎপাদন সবচেয়ে জরুরী।
 নগর কৃষি ও ছাদ বাগান নিয়ে কাজ করা সংগঠন গুলোর সাথে কথা বলে জানা যায়, এই করোনা পরিস্থিতিতে অন-লাইনে বাগান করার উপকরণ বিক্রি সন্তোষজনক ছিল যদিও অন্য সকল ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা ছিল হতাশার। তাই আমরাও আশা করছি আগামী দশকে নগরকৃষি ও ছাদ বাগান তৈরী আরো বাড়বে।
 একটি কথা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, আগামী দশক হবে বাণিজ্যিক নগর কৃষি উৎপাদন ও নগর কৃষির আধুনিক কলাকৌশল রপ্ত করা। ঢাকা শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় দশ লক্ষ ছাদ রয়েছে তার সাথে রয়েছে অব্যবহৃত পরিত্যক্ত খালি ও উন্মুক্ত বা আবদ্ধ জায়গা  যেখানে বাসস্থান, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস-আদালত, ব্যাংক, শপিংমল, কনভেনশন সেন্টার ইত্যাদি বেশী। বিল্ডিং কোডে ২০% সবুজ থাকার কথা থাকলেও মানার ও দেখার কেউ আছে বলে মনে হয় না।  করোনা পরিস্থিতিতে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং শহরবাসীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় নিলে ফল চাষ সবসময় অত্যাবশ্যকীয়।  
একটি গবেষণায় জানা যায়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির যে হার তাতে ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর খাদ্য উৎপাদন উন্নত দেশে ৭০% এবং বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল বা স্বল্পোন্নত দেশে ১০০% ভাগ বাড়াতে হবে। যেহেতু জমির পরিমাণ কমছে এবং সকলের চাহিদা বাড়ছে তাতে উলম্ব বা ভার্টিক্যাল ফার্মিং ও বাণিজ্যিকভাবে শুরু করার পরিকল্পনা এখনই নিতে হবে। নগরে সবুজের পরিমাণ বাড়ছে, উপযুক্ততা অনুযায়ী পুষ্টি পাওয়ার বিষয়টি গুরুত¦ সহকারে ভাবতে হবে এবং তা করার সময় এখনই। তাই নগরে ফল ও সবজি চাষের জন্য ছাদ-বাগানসহ নতুন নতুন প্রযুক্তি ও কলাকৌশল নগরে টেকসইকরণের সাথে সাথে উপকরণ সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করতে হবে।
বাণিজ্যিক উলম্ব চাষাবাদ
গবেষকদের ধারণা অনুযায়ী, সুউচ্চ ৩০ তলা ভবনে ২৭,৮০০০,০০০ বর্গমিটার ভার্টিক্যাল ফার্ম স্থাপন করা যায় যা দিয়ে ৫০,০০০ মানুষকে খাওয়ানো যাবে যেখান থেকে প্রত্যেক জনকে ২০০০ ক্যালরি প্রতিদিন দেয়া সম্ভব। সুতরাং, বলাই যায়, ভবিষ্যৎ এর জন্য একমাত্র মাধ্যম হবে নগর ভার্টিক্যাল কৃষি ফার্ম।  আরো উল্লেখ্য যে, বর্তমান ভূমি কৃষির যে সকল সমস্যা যেমন- পরিবহন সমস্যা, সংরক্ষণ সমস্যার মতো কোন সমস্যাই নগর কৃষিতে থাকতো না। কারণ নগর কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি ও কলাকৌশলের ফলে প্রত্যেক ফার্ম থেকে ফ্রেশ ফল বা সবজি সরাসরি বাজারজাত করা যাবে যেখানে ডিজাইনার, প্রকৌশলী, পুষ্টিবিদসহ অনেক লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং এতে একদল দক্ষ জনশক্তি তৈরী করা স¤ভব হবে।    
বাণিজ্যিক নগর কৃষি আরো টেকসই করা সম্ভব কারণ এত সেচের পানির অপচয় ৪০-৬০% কমিয়ে এনে ৩-৪ গুন ফলন বাড়ানো যায় যেখানে মাটি বিহীন হাইড্রোপনিক ছাড়াও অন্যান্য অনেক গ্রোয়িং মিডিয়া পাওয়া যায় শুধু জানার চেষ্টাটা বাড়াতে হবে। এখন  পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ পানিকে অটোমেটিক এবং জলবায়ূ-নিয়ন্ত্রিত বিল্ডিং এ সংরক্ষণ করে পুনরায় ব্যবহার করা হয়। যদিও আধুনিক এই প্রযুক্তির ইনডোর ভার্টিক্যাল ফার্মিং এ আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারের কারণে এককালীন খরচ বেশি হবে বিধায় স্থানীয় উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে এর খরচ শুরুতে বেশি হলেও তা একবারই করতে হয়। তারপর নিজের অভিজ্ঞতা ও ব্যবহারের উপর তা কমপক্ষে ১০ বছর ব্যবহার করা যাবে ।  দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে কাজ করলে বাণিজ্যিক নগর ফার্মিং টেকসই ও লাভজনক করার সম্ভাবনা বর্তমান সরকারের একটি পরিকল্পনা।
আধুনিক চাষাবাদ : এলইডি  গ্রো-লাইট বানিজ্যিক ভার্টিক্যাল ডিভাইস, একুয়াপনিক্স ছাড়াও স্মার্ট ফার্মিং ডিভাইস, গ্রীন স্ক্রিন বা বায়োওয়াল, স্বয়ংক্রিয় সেচসমৃদ্ধ ভার্টিক্যাল ইনডোর ফার্ম, অব্যবহৃত বা আবদ্ধ ঘরে অপটিক্যাল-ফাইবার ব্যবহার করে আলো দিয়ে চাষাবাদ ইত্যাদি এখন আমাদের দেশেই সম্ভব এবং তা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে একদল উদ্যমী নন-কৃষিবিদ যাদের সাথে মিলে কৃষিবিদগণ কাজ করলে দেশে বাণিজ্যিক নগর চাষে বিপ্লব ঘটবেই।  এ বিষয়ে বেশ কিছু প্রাইভেট কোম্পানি সাফল্যজনকভাবে কাজ করছে মাইশা গ্রæপ প্যারামাউন্ট গ্রæপ, পারটেক্স গ্রæপ, ডাইরেক্ট ফ্রেশ লিমিটেড, পাবনা, নারায়ণগঞ্জেও কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।  
গাছ নির্বাচন : এখনও অনেকে বলেন, নগরে বা ছাদে একটু ছোট জাতের ঝোপালো ফল-সবজি গাছ লাগানো ভালো, এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে ১৫-২০ বছর যাবত ছাদ-বাগান করে আশা ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো। নগরে এবং ছাদে সব হয়। ছোট জাতের ভিয়েতনামিজ নারিকেল, সবজাতের আম, আমড়া, কামরাঙা, জাম, জামরুল, কদবেল, থাই ও মিসরীয় ডুমুর, আনার, ডালিম, লটকন, থাই লিচু, সিন্দুরী পেয়ারা আম, জাম, হলুদ এবং সাদা ড্রাগন ফল, বারোমাসি আম, বীজহীন লেবু, লাল স্ট্রবেরি পেয়ারা, লাল ইক্ষু, কমলা, বারি মাল্টা,  এভোকেডো, রাম্বুটান, পার্সিমন ছাড়াও গতানুগতিক সব দেশী ফলতো এখন সাধারণ বিষয়। বীজ থেকে যে সকল ফল নগরবাসী গতানুগতিক চাষ করে তার মধ্যে করমচা, শরিফা, বিলিম্বি ইত্যাদি কয়েকটি ছাড়া প্রায় সবই কলমের ফল গাছ। আসলে এখন ছাদ-কৃষির কল্যাণে নগরবাসী সব ধরনের ও একটু ভিন্ন ফল গাছ চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছে।
নিরাপদ চাষাবাদঃ ট্রাইকোডার্মা মিশ্রিত সার, বায়োচার, রেডিমিক্স, জীবাণুমুক্ত কোকোডাস্ট ইত্যাদি গ্রোয়িং মিডিয়া হিসেবে ছাদ বাগানে ব্যবহার করা যায়।  ভার্মি কম্পোস্ট, রান্নাঘর ও খাবারের উচ্ছিষ্টাংশ দিয়ে বানানো সার, চা-কম্পোস্ট, ডিম খোসা ভাংগা মিশানো, নতুন মাশরুম কম্পোস্ট (পটাশ ও ফসফরাস আধিক্য), নিম খৈল, সরিষা খৈল, ইত্যাদি ছাড়াও যে কোন বায়োলজিক্যাল কম্পোস্ট ব্যবহার করা নিরাপদ চাষাবাদের অন্তর্ভূক্ত।
এছাড়াও নিয়ম মেনে রাসায়নিক পেস্টিসাইড ব্যবহার করতে হবে; ফল ও ফল-জাতীয় সবজি চাষে ফল আহরণের কমপক্ষে ২০ দিন আগে থেকে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা ডাবে না।  পোকা দমনে ফ্লাইং ইনসেক্ট এর জন্য ফেরোমন ট্রাপ, সোলার লাইট ট্রাপ, হলুদ আঠালো ট্রাপ, পেঁয়াজ পাতার ও ছোলা পেস্ট বা নির্যাস, রসুনের, গাঁদা ও চন্দ্রমল্লিকার ফুলের নির্যাস ভালো কাজ করবে।
অন্য ফসল : একটি বেডে একই সাথে ফল গাছের ড্রামে বা প্লেন্টার বক্সে ফল গাছের সাথে সাথী ফসল হিসেবে সবজি, ওষুধি ও গাদা চাষ করুন। মনে রাখবেন আমাদের দেশে সকল মৌসুমে সকল স্থানে সকল ফল চাষ করা সম্ভব শুধু সঠিক মানুষ ও প্রতিষ্ঠান থেকে পরামর্শ নিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্লাস্টিক বোতল না ফেলে যে কোন ফল-ফসলের বীজ চারা লাগালে, নিজের বাড়িতেই অক্সিজেন ফ্যাক্টরি স্থাপন হবে।
প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা : প্রশিক্ষণ ও কারিগরী সহায়তার জন্য আপনার নিকটস্থ কৃষি অফিস হর্টিকালচার সেন্টার ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত¡ বিভাগসহ ফেসবুক গ্রæপগুলো পরামর্শ স্বতঃস্ফুর্তভাবে প্রদান করে অনলাইন পোর্টাল করে, ফেসবুকে গ্রæপ করে নিজেদের ফল-ফসল আদান-প্রদান করা যেতে পারে; ছাদ-কার্নিশ বা ব্যালকনিতে পটে বা টবে আবাদে সতর্কতা অবলম্বন করা যাতে বিল্ডিং বা এপার্টমেন্টের নিচ দিয়ে যাতায়া
তকারী পথচারী দুর্ঘটনার শিকার না হয়।
আমাদের এখনই সময় আধুনিক নগর কৃষি নিয়ে বেশি বেশি গবেষণা, প্রকল্প নিয়ে কাজ করা। সরকার নতুন নতুন সৃজনশীল পদ্ধতির মাধ্যমে গবেষণার সাথে সাথে নতুন কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করছে এবং অনলাইন শপ, ফেসবুক পেজ তৈরী করে সকলের কাছে উপাদান পৌঁছে দেয়ার এখনই সময়। য়

অধ্যাপক, উদ্যানতত্ত¡ বিভাগ ও প্রতিষ্ঠাতা, ফ্যাব ল্যাব, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-১২০৭। মোবাইল : ০১৭১১০৫৪২১৫। ই-মেইল :solaimansau@gmail.com>

 

 

বিস্তারিত
কাঁচা আমের সংগ্রহোত্তর বহুমুখী ব্যবহার

ড. মো: গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী১, ড. মো: মিয়ারুদ্দীন২
আম আমাদের দেশে অন্যতম একটি জনপ্রিয় ফল। স্বাদে, গন্ধে এবং ফলের রং এটিকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে তেমনি পুষ্টি সমৃদ্ধ ফল হিসেবে পরিগনিত হয়েছে। আম পুষ্টিগুনে ভরপুর বলে সকলেই এটি বিভিন্নভাবে খেতে পছন্দ করে।   ভিটামিন ’এ’, ’সি’, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি অধিক পরিমাণে ফলটিতে বিদ্যমান রয়েছে। আমাদের দেশে আমের সংগ্রহোত্তর অপচয় ২৫-৪০% বা অনেক সময় উৎপাদন বেশি হওয়ায় সঠিক পরিচর্যা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের অভাবে এর অপচয় অধিক পরিমাণ হয়ে থাকে। কিন্তু আমের মূল্য সংযোজনের (ঠধষঁব ধফফরঃরড়হ) মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে সারা বছর বহুমুখী খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে স্বল্প খরচ ও সহজ প্রযুক্তি প্রয়োগ এর মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাতকরণ করে বছর ব্যাপী ব্যবহার করা যাবে। বাংলাদেশে আম উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর মধ্যে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর, যশোর, সাতক্ষীরা, টাংগাইল, গাজীপুর, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল অন্যতম।
উল্লেখ্য যে, আমাদের দেশে প্রায়ই প্রতিবছর ঝড়, শিলা বৃষ্টি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগে প্রচুর পরিমাণে আম ঝরে পড়ে। আম কৃষক বা ব্যবসায়ী ঝড়ে পড়া কাঁচা আম খুব অল্প দামে বাজারে বিক্রি করে। এতে প্রথমে বেশি মূল্য পেলেও পরবর্তীতে খুব অল্প দামে কাঁচা আম বাজারে বিক্রয় করতে বাধ্য হয়। আম চাষী কোন পরিচর্যা ছাড়াই হিপ বা স্তুপ করে আম মাটিতে এক জায়গায় রাখে। এতে আমের কষ, ধুলা-বালি বা খালি হাতের সংস্পর্শে বিভিন্ন জীবানুর আক্রমণে আম দ্রæত পচঁতে শুরু করে। কিন্তু আমের সংগ্রহোত্তর পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংরক্ষণ সময় বৃদ্ধিসহ প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন খাবারের সাথে ব্যবহার করা যাবে বা বহুবিধ খাদ্য সামগ্রী তৈরি করা সম্ভব হবে।  
বাংলাদেশে কৃষি জাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান যেমন- প্রাণ, স্কয়ার, আহমেদ প্রডাক্টস্, রাজশাহী ম্যাংগো প্রডাক্টস্ ও অন্যান্য ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান স্বল্প পরিমানে আমের পণ্য  দেশে ও বিদেশে বাজারজাত করে থাকে। উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে ম্যাংগো বার, ম্যাংগো জুস অন্যতম। কিন্তু আমাদের দেশে যে পরিমান আম উৎপন্ন হয়ে থাকে সে তুলনায় আম হতে উৎপাদিত পণ্য ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান খুবই নগন্য। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ও এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, জাপান, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়ায় আমের বিভিন্ন রকমের পণ্য যেমন-আমের জুস, নেকটার, ড্রাইড ম্যাংগো প্রডাক্টস্, অসমোটিক ডিহাইড্রেটেড পণ্য, কনসেনট্রেটেড ম্যাংগো প্রডাক্টস্, আমের পাল্প, ম্যাংগো বার ইত্যাদি বাজারে দেখা যায়, যা ঐসব দেশেই স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হয়ে থাকে।
দেশের আপামর জনগোষ্টীর পুষ্টির চাহিদা বিবেচনা করলে আম প্রক্রিয়াজাতকরণ করে বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্য তৈরির মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ করতে সক্ষম হবে। এছাড়া আমাদের দেশের বড় বড়       সুপারশপ ও বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান বিদেশ হতে প্রতি বছর বিভিন্ন আমের পণ্য আমদানি করে এবং তা অধিক মূল্যে আমরা ক্রয় করে থাকি। এক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরিকৃত স্বল্প খরচে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কার্যক্রম বাংলাদেশ  কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইত্যেমধ্যে ষ্টীপিং পদ্ধতিতে ৮-১০ মাস কাঁচা আম সংরক্ষণ, গুণগত মানসম্পন্ন আমচুর প্রক্রিয়াজাতকরণ, ম্যাংগো বার, আমসত্ত¡, আমের অসমোটিক ডিহাইড্রেটেড পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কাঁচা আমের জুস, কাঁচা আমের পাউডার, স্বল্প খরচে আমের আচার, চাটনি ইত্যাদি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে সম্প্রসারণের কার্যক্রম কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাঁচা আম সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শীর্ষক কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও যেকোন উদ্যোক্তা প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করে কাঁচা আম প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে সক্ষম হবেন। এতে করে এই কৃষি পণ্যের নতুন বাজার তৈরির পাশাপাশি এগ্রো প্রসেসিং শিল্পে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং অধিক পরিমাণে কৃষি পণ্য হিসেবে কাঁচা আমের ব্যবহার বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। ফলে আমচাষী, আম বিক্রেতা ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে লাভবান হবে। সর্বোপরি, নিজেদের পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মেটানো যাবে এবং দেশ আর্থিকভাবে লাভবান হবে। য়

১উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কর্মসূচী পরিচালক (কাচাঁ আম সংগ্রহোত্তর প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ কর্মসূচী, ২মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ, বিএআরআই, গাজীপুর-১৭০১। মোবা: ০১৭১২২৭১১৬৩, ই-মেইল :  ferdous613@gmail.com

বিস্তারিত
গবাদিপশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও চামড়া শিল্প উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি

 মো: জাহিদুর রহমান

বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ । এ দেশে প্রায় ৯০ ভাগ   মুসলমানদের ধর্মীয় প্রধান উৎসব ঈদ। যার মধ্যে কোরবানির ঈদে মূলত অনেক গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া জবাই হয়। প্রাণিসম্পদের হিসাব মতে, বছরে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া কোরবানি হয়ে থাকে। সারা বছরের       সিংহভাগ পশু এ সময় জবাই হয়। পশু জবাইয়ের সাথে সাথে যেমন চামড়া সংরক্ষণ জরুরি তেমনি বর্জ্য অপসারণ জরুরি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক না হলে পরিবেশের যেমন ক্ষতি হয় তেমনি মূল্যবান জৈব পদার্থের অপব্যবহার হয় । এ জন্য সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা  খুবই জরুরি।
এখন সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যে সমস্ত বিষয়ের উপর খেয়াল রাখতে হবে তা হলো :
১. যেখানে সেখানে পশু জবাই না করে নির্দিষ্ট জায়গায় পশু জবাই করা ।
২. জবাইয়ের জন্য সম্ভব হলে চাষাবাদের জমি বাছাই করা যেতে পারে অথবা নিজ আঙ্গিনায়ও হতে পারে ।
৩. যেখানে জবাই করা হবে সেখানে জবাইয়ের পূর্বে রক্ত জমানোর জন্য আলাদা ছোট গর্ত খুঁড়তে হবে ।
৪. জবাইয়ের পর রক্ত ছোট নালা তৈরির মাধ্যমে গর্তে ফেলতে  হবে ।
৫. তারপর রক্তকে মাটিচাপা দিতে হবে এতে কিছু দিন পর সে রক্ত সারে পরিণত হয়, যা ইউরিয়া সারের মতো কাজ করে। এতে প্রায় শতকরা ১০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে ।
৬. আবার এ রক্ত শুকিয়ে গুঁড়া করে বøাড মিল হিসেবে মুরগীকে খাওয়ানো যায় যাতে প্রায় ৫০% প্রোটিন থাকে ।
৭. এবার নাড়িভুড়ি যা মানুষ খায় না এমন অংশ যেখানে সেখানে না ফেলে মাছের উপাদেয় খাবার হিসাবে ব্যবহার করা যায় বা এগুলো গর্তে পচিয়ে জৈবসার তেরি করা যায় ।
৮. অপ্রয়োজনীয় হাড়, খুরও কাজে লাগানো যায় যেমন হাড় মেশিনের মাধ্যমে গুঁড়া করে বোনমিল তৈরি করে মুরগিকে, গরুকে খাওয়ানো যায়, যা ক্যালসিয়ামের উৎস হিসেবে কাজ করে ।
৯. অপ্রয়োজনীয় যে কোনো বর্জ্য মাটিতে গর্ত করে রাখতে হবে, যাতে করে পরিবেশ বিশুদ্ধ থাকবে ।
এ চামড়া খুবই মূল্যবান, এ চামড়াকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে চামড়া শিল্পের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। জবাইয়ের পর অনেক সময়    চামড়ার সঠিক ব্যবস্থাপনা না করলে পরিবেশ দূষিত হয় ।
চামরার ব্যবহার :
১. চামড়া দ্বারা পাদুকা যেমন জুতা, স্যান্ডেল তৈরি করা যায় যা অনেক টেকসই দামি ।
২. চামড়া হতে পোশাক যেমন জামা, কোট, প্যান্ট তৈরি হয় যা শীত প্রধান দেশে অনেক মূল্যবান ।
৩. চামড়া দ্বারা মলাট তৈরি হয় যা মূল্যবান বই বা অন্য কোনো বস্তুর কভার  হিসেবে কাজ করে ।
৪. চামড়া দ্বারা বেল্ট, ঘড়ির বেল্ট, মানিব্যাগ ও বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ তৈরি হয় যা অনেক টেকসই ও দেখতে অনেক সুন্দর হয় ।
৫. চামড়া দিয়ে বিভিন্ন প্রকার খেলনাসামগ্রী যেমন ফুটবল, বাস্কেট বল, র‌্যাকেট খেলার বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করা যায় ।
৬. চামড়া দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ড্রামস, বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে      চামড়ার ব্যবহার বাড়ানো যায়। এ গুলো বিশেষ করে চীনে, জাপানে ব্যবহার করা হয়।
৭. চামড়ার অংশ বিশেষ হতে আঠা তৈরি হয় যার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে ।
চামড়া সংরক্ষণ :
চামড়া খুবই মূল্যবান সম্পদ। প্রতি বছর চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যাদি রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকা আয় করা হয়ে থাকে। তাই মূল্যবান চামড়ার মান সঠিক বা ত্রæটিমুক্ত রাখতে কয়েকটি নিয়ম মেনে চামড়া সংরক্ষণ করতে হবে ।
প্রধানত তিনভাবে চামড়া সংরক্ষণ করা যায় । যেমন-
শুষ্ককরণ
শুষ্ককরণ করা হয় চারভাবে।
১. মাটির উপর শুকানো : মাটির উপর চট বিছিয়ে তার উপর চামড়া টানটান করে রাখতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন কুকড়ে না যায় এবং কোনো প্রাণি যেন চামড়ার কোনো ক্ষতি না করতে পারে।
২. ঝুলিয়ে শুকানো : অনেক সময় গাছের ডালের সাথে চামড়া বেধে দিয়ে চামড়া শুকানো যায়।  
৩. রশি বা তারের উপর শুকানো : চামড়া যেহেতু ভারী তাই চামড়াকে ঝুলানোর জন্য দুই প্রান্তে দুটি খুঁটি শক্ত করে লাগাতে হবে, তারপর একটু উচুতে তার বা শক্ত রশি বাধতে হবে। এবার চামড়াকে তারের উপর রাখতে হবে।
৪. তাবু বানিয়ে শুকানো : চামড়া শুকানোর জন্য বাঁশের বা লোহার তাবু আকৃতির খাঁচা বানাতে হবে এবং তারপর চামড়া খাঁচার উপর রেখে চামড়া শুকানো যায়।
লবণ দ্বারা সংরক্ষণ
এ পদ্ধতিতে সঠিকভাবে চামড়া সংরক্ষণ করতে হলে কয়েকটি ধাপ মেনে চামড়া সংরক্ষণ করতে হবে যেমন-
১. প্রথমত চামড়া ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
২. ট্রিমিং এর মাধ্যমে চামড়ায় লেগে থাকা গোশত, চর্বি ও ঝিল্লি উঠিয়ে ফেলতে হবে নতুবা সব জায়গায় লবণ যাবে না।
৩. চামড়ার ওপর মুঠি মুঠি লবণ ছাড়িয়ে হাত দিয়ে ভালোভাবে ঘষে লবণ সব জায়গায় সমভাবে লাগাতে হবে ।
৪. প্রথমবার লাগানো লবণ চুষে নিলে আরও একবার লবণ ছড়িয়ে দিতে হবে।
৫. সাধারণত গরুর চামড়ার জন্য ৫-৭ কেজি এবং ছাগল, ভেড়ার জন্য ১.৫-২ কেজি লবণ দরকার হয়।
পিকলিং পদ্ধতি  
এই পদ্ধতিতে চামড়ার ফাইবার অধিক রিসিপটিভ হয় যা ট্যানিং এর জন্য ভালো। এতে চামড়ার এসিডিটি বা পি এইস ৩ হয়। এতে করে ক্রোমিয়াম ট্রানিন চামড়ায় প্রবেশ করে। চামড়া যেন পিচ্ছিল না হয় এ জন্য এতে লবণ যোগ করা হয়। চামড়ায় যেন পচন না ধরে সে জন্য ফানগিসাইড, ব্যাকটেরিওসাইড চামড়ায় ব্যবহার করা হয়। পিকলিং পদ্ধতিতে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয় এবং এ পদ্ধতিতে দীর্ঘ সময় চামড়া সংরক্ষণ করা যায়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করলে, চামড়া ছাড়ালে, চামড়া সংরক্ষণ করলে দেশের কোটি কোটি টাকা যেমন বাঁচবে তেমনি পরিবেশ বাঁচবে । তাই সবাইকে এসব পদ্ধতি অবলম্বনের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। ড়

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, রামপাল, বাগেরহাট, টেলিফোন : ০৪৬৫৭-৫৬০২৪, মোবাইল-০১৯১৩৮১৩৬৫৬, ই-মেইল :  Zahidur.rhman81@yahoo.com

বিস্তারিত
আমগাছের রিজুভেনাইজেশন বা উজ্জ্বীবিতকরণ

প্রফেসর ড. এম. এ. রহিম১, ড. মো. শামছুল আলম২

রিজুভেনাইজেশন বা উজ্জ্বীবিতকরণ হচ্ছে এমন একটি  পদ্ধতি যার মাধ্যমে বয়স্ক বা ঘন করে লাগানো গাছ/বাগান, যে গাছে/বাগানে আদৌ ফল ধরে না বা  খুবই কম ফল দেয় সে ধরণের ফল গাছ/বাগানকে ফল উৎপাদনক্ষম করে তোলার পদ্ধতি। সাধারণত ১৫-২০ বছর বয়সী বাগানে আগের চেয়ে ফল উৎপাদন কমে যায়, গাছ দূর্বল হয়ে পড়ে, গাছ বা বাগান ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্পাদন করা জটিল হয়ে উঠে এবং রোগ ও পোকা-মাকড় দ্বারা গাছ বেশী আক্রান্ত হয়। পোকা-মাকড় সহজে দমন করা যায় না। এমতাবস্থায় নিম্নলিখিত জটিলতা দেখা যায়।
* ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায় অথবা হয়-ই না।
* ডালে শর্করা ও নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয় অনুপাতের (ঈ:ঘ) ব্যাঘাত ঘটে। আমের ডালে মুকুল আসতে হলে, ফুল আসার আগে ডালটিতে পর্যাপ্ত পরিমানে অধিক শর্করা ও কম নাইট্রোজেন দুই-ই থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, শর্করার ভাগ নাইট্রোজোনের ভাগের চেয়ে যথেষ্ট বেশী থাকতে হবে। আর যদি দু’টির ভাগ সমান হয় বা বিশেষ করে ডালটির নাইট্রোজেনের মাত্রা শর্করার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে ঐ ডালের ডগায় মুকুল আসার বদলে পাতা  এসে যায়।
* ঘন করে লাগানো বাগানের ক্ষেত্রে, গাছের মধ্যে খাদ্যের জন্য প্রতিযোগিতা চলে। ফলে গাছ পরিমিত খাদ্য পায় না।
* ঘন ডালপালা থাকার কারণে আলো ও বায়ু চলাচল ঠিকমত হয় না বলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়।
বয়স্ক/ঘন বাগানে মরা, রোগাক্রান্ত এবং পোকাক্রান্ত ডালপালা বেশি থাকে। উক্ত ডালপালা গুলো খাবার নেয় কিন্তু কোন ফলও ধরে না, ফলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়।
* গাছের নীচের দিকের ডালপালায় রোদ কম পড়ে, ফলে ফলন হয় না বললেই চলে। তাছাড়া ঐ সমস্ত ডালগুলো রোগ ও পোকার আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। ফলে গাছের বৃদ্ধি ব্যহত হয়।
রিজুভিনাইজেশন পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা: রিজুভেনাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বয়স্ক, অনুৎপাদনশীল/ঘন আম বাগান বা গাছকে উজ্জ্বীবিত করা যেতে পারে যা নি¤েœ বর্ণনা করা হলো-
* বয়স্ক, অধিক ঘন এবং ফল হয় না এমন বাগান/গাছ আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে মাটি থেকে ২.৭৫ মি- ৩.০০ মিটার উচ্চতায় গাছের সমস্ত ডাল কেটে ফেলতে হবে।
* কর্তিত অংশে আলকাতরা/রং এর প্রলেপ দিতে হবে।
* সার, সেচ ও নিকাশ ব্যবস্থা করতে হবে।
* ডাল কাটার পর ৩-৪ মাসের মধ্যে নতুন কুশি বের হবে।
* ডাল কাটার পর ৬-৭ মাসের মধ্যে ঘন শাখা প্রশাখা বের হবে।
* প্রতিটি শাখায় সুস্থ-সবল, মোটা-তাজা ৫-৭টি ডাল রেখে, রোগাক্রান্ত, মরা, কীটাক্রান্ত, দূর্বল ডালসহ বাকীডালগুলো কেটে ফেলতে হবে।
* ডাল কাটার পর মূলগাছে ও নতুন গজানো পাতায় রোগ ও পোকামাকড়েরর উপদ্রব বেশি হয়। এজন্য গাছের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে।
* কর্তিত গাছে প্রথম বছরে কোন ফল পাওয়া যায় না।
* দ্বিতীয় বছর পর্যন্ত কর্তিত গাছের নতুন গজানো ডাল পাতলাকরণের কাজ চলতে থাকবে।
* দ্বিতীয় বছরে জানুয়ারি- ফেব্রæয়ারি মাসে কর্তিত গাছের গজানো শাখায় ফুল আসবে।
* দ্বিতীয় বছরে কর্তিত গাছের নুতন গজানো শাখায় ফল ধরে।
যথাযথ ব্যবস্থাপনায় তৃতীয় বছরে কর্তিত গাছটি একটি পূর্ণাঙ্গ ফলবান বৃক্ষে পরিণত হবে।
সার প্রয়োগ : কর্তিত গাছে নতুন ডালপালা গজানো ও সতেজ করার লক্ষ্যে আম বাগানে চাষ দিয়ে বা গাছের গোড়া আগাছা মুক্ত করে জৈবসার প্রয়োগের পাশাপাশি বিভিন্ন রকমের রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা অত্যাবশ্যক। গাছের গোড়ায় সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে গোড়া থেকে ১.০-১.৫ মিটার দূরে নালা পদ্ধতিতে সার দেয়া যেতে পারে।  এ ক্ষেত্রে যে সমস্ত সার প্রয়োগ করতে হবে তা সারণি-১ দ্রষ্টব্য।
উল্লেখিত সারগুলোর অর্ধেক পরিমাণ সার গাছের ডাল কাটার পর পরই প্রথম ধাপে প্রয়োগ করতে হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে বাকি অর্ধেক সার  আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে প্রয়োগ করতে হবে।
সেচ ও নিকাশ: সার প্রয়োগের পর উক্ত সার যাতে গাছ গ্রহণ করতে পারে সে জন্যে আম বাগানে প্রথমে একটি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। এর পর মাঝে মাঝে গাছের প্রয়োজন অনুসারে এমন ভাবে সেচ দিতে হবে যেন মাটিতে রস থাকে। লক্ষ রাখতে হবে যেন আম বাগানে বা গাছের গোড়ায় যেন কোন অবস্থায় দীর্ঘ সময় পানি জমে না থাকে।
পোকামাকড় ও ব্যবস্থাপনা
পাতাখেকো শুঁয়োপোকা
এ পোকার কীড়া (বাচ্চা) চারাগাছ ও বড় আমগাছের পাতায় আক্রমণ করে। স্ত্রী মথ আমপাতার ওপরের পিঠের কিনারায় লাইন করে মুক্তার দানার মতো সাদা ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে কীড়া বের হলে, কীড়াগুলো প্রথমে  ঐ পাতার ওপর গুচ্ছাকারে থাকে, পরে গাছে ছড়িয়ে যায় এবং পাতার মধ্যশিরা রেখে পুরো পাতা খেয়ে ফেলে  আক্রান্ত গাছ সম্পূর্ণ বা আংশিক পাতাশূন্য হয়ে পড়ে। এতে গাছের খাবার তৈরি বাধা পায় এবং গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। আক্রমণ খুব বেশি হলে গাছে ফুল ও ফল হয় না।
দমনব্যবস্থা
ডিমসহ পাতা দেখামাত্রই সংগ্রহ করে পুড়িয়ে মারতে হবে। গুচ্ছাকারে বা ছড়ানো অবস্থায় থাকা শুঁয়োপোকাগুলো সংগ্রহ করে পা-দিয়ে পিষে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। পা-দিয়ে পিষে মারার সময় অবশ্যই পায়ে স্যান্ডেল বা জুতা থাকতে হবে। আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০ মিলিলিটার ডাইমেক্রন/ ডায়াজিনন ৬০ ইসি (৪ কর্ক) বা সুমিথিয়ন ৫০ ইসি (৪ কর্ক) মিশিয়ে পাতা ও           ডাল-পালাসহ গাছের গোড়ার মাটি ভিজিয়ে ¯েপ্র করতে হবে।
পাতাকাটা উইভিল ক্ষতির ধরন: এ পোকা কচি আমপাতার নিচের পিঠে ছোটছোট গর্ত করে ডিম পাড়ে। এরপর ডিমসহ কচিপাতাটি (লাল পাতা) রাতের বেলা বোঁটা থেকে একটু দূরে কাঁচি দিয়ে কাটার  মতো করে কেটে ফেলে দেয়। এতে গাছের নুতন পাতা ধ্বংস হয় এবং খাবার তৈরি কমে যায়। ফলে চারা বা গাছ দুর্বল হয়ে যায়।
দমনব্যবস্থা
আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে গাছে কচিপাতা দেখার সাথে সাথে প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০ মিলিলিটার সুমিথিয়ন ৬০ ইসি (৪ কর্ক) মিশিয়ে গাছসহ গাছের গোড়ার মাটি ভিজিয়ে ¯েপ্র করতে হবে। এ পোকা দিনের বেলায় গাছের নিচে পড়ে থাকা পাতার নিচে ও আগাছার মধ্যে লুকিয়ে থাকে। তাই গাছের নিচে পড়ে থাকা কচিপাতা দেখামাত্র সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
ফল ধারণ: আম গাছকে উজ্জীবিতকরণ করার প্রথম বছরের পর ঐ গাছে সাধারণত কোন ফল ধরে না তবে ঠিকমত ব্যবস্থাপনা দিলে দ্বিতীয় বছর থেকে গাছে ফল ধরা শুরু হয়। য়

১পরিচালক, বাউ-জার্মপ্লাজম সেন্টার, বা.কৃ.বি., ময়মনসিংহ। ২এসএসও, উদ্যানতত্ত¡ বিভাগ, বিনা, মোবা : ০১৭১১১২৪৭২২ ই-মেইল : mithuhort@yahoo.com

বিস্তারিত
পুষ্টিকর ফল বৃক্ষ হিসেবে তালগাছ

ড. মো.আমজাদ হোসেন১ ও ড. সমজিৎকুমার পাল২
‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে সব গাছ ছাড়িয়ে
উঁকি মারে আকাশে ...’।
বাঙালি মাত্রেই এ ছড়াটির সাথে আমাদের পরিচয় ঘটে শিশুকাল থেকেই। শিশুকাল থেকেই আমরা শিখিতাল গাছ সবচেয়ে বড়, এমনই বড় যে, সে আকাশে উঁকি মারার সাহস রাখে। কিন্তু সে যে শুধু দেহে বড় নয়, গুণে ও বড়, সেটা কিন্তু শেখার সুযোগ হয় না। আজকের এ রচনায় স্বল্প পরিসরে হলেও তাল গাছের সেই গুণের কথা কিছুটা তুলে ধরবো।  কারণ এর গুণ    বাউপকারের পরিমাণও প্রায় আকাশ সমান।
তালের শ্বাস এখন বাজারে খুব বিক্রি হচ্ছে। ক’দিনপরেই পাকাতালের স্বাদ নেয়ার সময় হবে। তালের বড়া, তালেরক্ষীর, তালের পায়েস... জিহŸায় জল আসা এসব খাবারের সঙ্গে রয়েছে বাঙালির নাড়ির সংযোগ। তাই স্বাদ নেবো তালের; আর উদ্যোগ নেবো এর বীজ থেকে বংশ বিস্তারের। যারা ভেজালের বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার, তারাও নিশ্চয় জানেন তাল ফসলটিই সবচেয়ে বেশি ভেজাল মুক্ত। এতে এখনও কীটনাশক, ফরমালিন কিংবা রাইপেনারের কোন ব্যবহার হয় না। তাই নি:সন্দেহে খেতে পারেন এ ফলটি। কারণ পুষ্টির বিবেচনায়, তাল একটি অতিউচ্চ মানের ফল। প্রতি ১০০ গ্রাম তালের রস, তালের পাটালী, তালশ্বাস এবং পাকাতালের পুষ্টিমান টেবিল-১ দ্রষ্টব্য।
তবে তালের রস ও গুড়ের     পুষ্টিমান তালের জাত, গাছের বয়স, গাছের পরিচর্যা প্রভৃতি ভেদে বিভিন্ন হয়ে থাকে। তালের রস ও তালের গুড়ের   পুষ্টিমানের বর্ণনা টেবিল-২ দ্রষ্টব্য।
তালের রস যে ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের (ঈযড়ঢ়ৎধ বঃ ধষ ১৯৫৮ পরঃবফ নু গড়ৎঃড়হ ১৯৮৮) একটা ভাল উৎস এবং   এতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় এ্যাসকরবিক এসিড (উরংংধহধুধশব ১৯৮৬) রয়েছে সে কথা অনেকেই স্বীকার করেছেন। প্রতি ১০০ লিটার রসে সাধারণত ৭-৮ কেজি চিনি কিংবা ৮ কেজি গুড় পাওয়া যায়(চধঁষধং ধহফ গঁঃযঁশৎরংযহধহ ১৯৮৩ধ পরঃবফ নু উধারং ধহফ ঔড়যহংড়হ ১৯৮৭)। দিনে দু’বার রস নামানো হয়। বিকালের চেয়ে সকালের রসের মান ও পরিমাণ ভাল থাকে (জড়সবৎধ ১৯৬৮)। অন্যদিকে কম্বোডিয়ার একটি গবেষণায় দেখা গেছে জানুয়ারি মাসের রসে সুক্রোজের পরিমাণ  ৬৬-৯৪% হলেও এপ্রিল মাসের রসে তা কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৫১-৮১% (কযরবঁ ইড়ৎরহ ধহফ চৎবংঃড়হ ১৯৯৫; কযরবঁ ইড়ৎরহ ১৯৯৬)। এছাড়াও পাকাতালে রয়েছে (প্রতি ১০০ গ্রামে) থায়ামিন ০.০৪ মি.গ্রাম, রিবোফ্লেভিন ০.০২ মি. গ্রাম, নায়াসিন ০.৩ মি. গ্রাম এবং ভিটামিনসি ৫ মি. গ্রাম। দেখা যাচ্ছে পাকাতালের রসে যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন এবং খনিজ দ্রব্যাদি রয়েছে। অন্যদিকে তালের গুড়ও যথেষ্ট পুষ্টিকর। এর পুষ্টিমান নি¤œরূপ:
পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে খাদ্যের শতকরা ১৮ ভাগ ক্যালরী মিষ্টি জাত খাবার অর্থাৎ চিনিবা গুড় থেকে আসা উচিত। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার সুপারিশ মোতাবেক একজন সুস্থ্য মানুষের প্রয়োজন মাথাপিছু বছরে ন্যূনতম ১৩ কেজি চিনি বা ১৬ কেজি গুড় খাওয়া। এ হিসাবে দেশের চিনির প্রয়োজন প্রায় ১৮ লক্ষ টন। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে আখ হতে চিনি ও গুড়ের বার্ষিক উৎপাদনের পরিমাণ যথাক্রমে প্রায় এক লক্ষ ও ৫ লক্ষ টন। অর্থাৎ দেশে চিনি ও গুড়ের যে ঘাটতি রয়েছে তা বিকল্প হিসাবে তাল ও খেজুরের রসের মাধ্যমে মিটানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ তালের গুড়ে রয়েছে প্রায় শতকরা ৭৬.৮৬ ভাগ চিনি।
তাছাড়া তালের গুড়ের ঘ্রাণ, মিষ্টতা আর স্বাদ,খাদ্যে আলাদামাত্রা যুক্ত করে। আর স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য সুখবর হলো এর গøাইসেমিক ইনডেক্স খুব কম (৪১ এরও কম) (ঘঁঃৎ ঔ. ২০১১; ১০: ৫৯)। গøাইসেমিক ইনডেক্স এর মাত্রা ৫৫ এর বেশি না হলে তাতে মোটা হবার কিংবা ডায়াবেটিস বেড়ে যাবার ভয় থাকে না। অতএব অন্য যেকোনো ফলের মতো তালের ব্যবহার নিঃসন্দেহে আমাদের পুষ্টি যোগানের একটি বড় উৎস হতে পারে। আর তালগাছের অন্য বহুবিধ ব্যবহার তো রয়েছেই, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বজ্রপাত নিরোধক বৃক্ষ হিসেবে এর জনপ্রিয়তা এখন অনেক বেশি। সেকারণেই তালগাছ রোপণের সামাজিক আন্দোলনকে আসুন আরো বেশি বেগবান করে তুলি। য়

মহাপরিচালক, ২. পরিচালক (গবেষণা), বাংলাদেশ সুগারক্রপগবেষণাইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী, পাবনা। ফোন : ০৭৩২৫৬৫৩৬২৮, dg-bsri.gov.bd

বিস্তারিত
মৎস্য চাষ ব্যবস্থাপনায় যান্ত্রিকীকরণ

কমর-উন-নাহার

কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে আর্থসামাজিক উন্নয়নে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যের প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ জোগান দেয় মাছ। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য আজ বিশ্ব পরিমÐলেও স্বীকৃত। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের তৃতীয় এবং বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মৎস্য উৎপাদনে পঞ্চম (ঋঅঙ-২০১৮)।
বর্তমান বাংলাদেশে মানুষের জনপ্রতি দৈনিক গড়ে ৬২.৫৮ গ্রাম (বিবিএস এর তথ্য মতে) মাছ খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করছে। দেশের মোট জিডিপির ৩.৫৭ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপির এক চতুর্থাংশের বেশি (২৫.৩৫ শতাংশ) মৎস্য খাতের অবদান। (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৮) দেশের রপ্তানির আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে মৎস্য খাত থেকে । দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ১১ শতাংশের অধিক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরক্ষভাবে এ সেক্টরের সাথে জড়িত থেকে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। মাছ চাষ একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় খাত হওয়ায় সাধারণ জনগণসহ দেশের বিভিন্ন বিনিয়োগকারীরা মৎস্যখাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়ে বিনিয়োগ করছে।
বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি খাত কৃষি খাত। কৃষি খাতে সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার  আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার উপর জোড় দিয়েছে। দ্রæত সময়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের যান্ত্রিকীকরণ করা হয়েছে। কৃষিতে শ্রমিক সংকট লাঘবের জন্য সহজে ব্যবহার্য ও টেকসই কৃষি যন্ত্রপাতি সুলভে সহজ প্রাপ্য করার অঙ্গিকারের মাধ্যমে কৃষি খাতকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কৃষি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে আসছে। তাই মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে একই পুকুরে  সর্বোচ্চ উৎপাদন পেতে মৎস্য খাতকে যান্ত্রিকীকরণে কোন বিকল্প নাই। মৎস্য খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে আমরা মাছের অধিক উৎপাদন নিশ্চিত করতে পারি। বাংলাদেশের মৎস্য চাষ ব্যবস্থাপনা এখনো অনেকাংশে সনাতন ও অদক্ষ শ্রমিকের উপর নির্ভরশীল। যার ফলে মাছের উৎপাদন কম হয়। চাষি আর্থিকভাবে লাভবান কম হয় ফলে মাছ চাষে চাষি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবারহের আওতায় এসেছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে মৎস্য খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করে অধিক উৎপাদন করা সম্ভব। এতে চাষী তার উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে অধিক লাভবান হবে, দেশও আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ হবে এবং অধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হবে। মৎস্য খামারে যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যায় সেগুলোর একটি বর্ণনা নি¤েœ দেওয়া হলো  :  
পানির বিভিন্ন গুণাগুন পরীক্ষার যন্ত্রপাতি : মাছ চাষের পূর্বশর্ত পুকুরের পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা।  পানির বিভিন্ন প্যারামিটারগুলো যেমন : অক্সিজেন, চঐ, অ্যামানিয়া নাইট্রেট, তাপমাত্রা এসব উপাদান মাছ চাষে পুকুরে অনেক সময় বিভিন্ন কারণে কম বেশি হয় এবং পানির পরিবেশ বিপর্যয়ের মাধ্যমে মাছ মারা যায়। এতে খামারির বড় ধরণের ক্ষতি হয় কিন্তু ডিজিটাল মেশিনের মাধ্যমে এই সমস্যা শনাক্তকরণ ও এর পরিমাণ সর্ম্পকে জানা যায়। সেই অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে চাষি বড় ধরণের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। পানির গুনাগুন সঠিক মাত্রায় রাখার জন্য যে সমস্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার হয় যেমন : অ্যারেটর ও বেøায়ার এ যন্ত্র ব্যবহার করে পানির গুণাগুণ স্বাভাবিক অবস্থায় রাখা যায় এবং মৎস্য খামারের জৈবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
মাছের খাবার তৈরির (ডুবন্ত ও ভাসমান) পিলেট মেশিন : মাছ চাষ ব্যবস্থাপনায় যে খরচ হয় তার সিংহভাগই চলে যায় মাছের সম্পূরক খাদ্য ক্রয়ে। এই খরচের পরিমাণ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ । অনেক সময় সঠিক গুণগত মানস¤পূন্ন খাদ্য না পাওয়ায় চাষির উৎপাদন হ্রাস পায় এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। চাষী যদি ছোট আকারের ডুবন্ত ও ভাসমান খাদ্য তৈরীতে পিলেট মেশিন ব্যবহার করে তবে সে সঠিক গুনগত মান সম্পন্ন পুষ্ঠিকর খাদ্য কম খরচে তৈরী করতে সক্ষম হবে। সেক্ষেত্রে সম্পূরক খাদ্য বাবদ খরচ অনেক কমে যাবে।
খামারে খাদ্য প্রয়োগ যান্ত্রিকীকারণ : পুকুরে মাছের খাদ্য প্রয়োগ ব্যবস্থা যদি যান্ত্রিকীকরণ করা যায় তবে খাদ্যের অতিরিক্ত ব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত স্থানে নির্ধারিত পরিমাণ খাদ্য প্রয়োগের কথা থাকলেও অনেক সময় চাষিদের অদক্ষতা এবং অস্বচ্ছতার কারণে তারা পুকুরে খাদ্য প্রয়োগে সঠিক নিয়ম না মেনেই পুকুরে তাদের ইচ্ছামতো খাদ্য প্রয়োগ করে থাকে। কখনো খাবারের স্বল্পতা আবার কখনো অধিক খাবার প্রয়োগের কারণে তা নষ্ট হয়ে পুকুরের পানিতে বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি করে মাছের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। পরবর্তীতে চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার পুকুরে সমানভাবে খাদ্য প্রয়োগ না করার ফলে সঠিকভাবে সব মাছ খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না যার কারণে মাছের আকারের তারতম্য দেখা যায় এবং মাছের উৎপাদন হ্রাস পায়। অটোমেটিক ফিশ ফিডার (অঁঃড়সধঃরপ ঋরংয ঋববফবৎ) ব্যবহারের মাধ্যমে এই সমস্যা দূর করা যায়। এটি একটি প্রোগ্রামকৃত যন্ত্র। যার মাধ্যমে নিদিষ্ট সময়ে নির্ধারিত পরিমাণ খাবার সুষম দূরত্বে সমহারে পুকুরে প্রয়োগ করা যায়। এতে সকল মাছের খাদ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়। উৎপাদন বৃদ্ধি পায় । বর্তমানে চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ মৎস্য খামারে ফিশ ফিডার ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গসহ বেশ কিছু জেলায় যেমন : খুলনা , বাগেরহাট, ময়মনসিংহ , কুমিল্লা, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্চ, মৌলভী বাজার, যশোর , চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় মাছ চাষিরা এই মেশিন ব্যবহার করছে। অটোমেটিক ফিশ ফিডার স্থাপন করে মাছের খাদ্য প্রয়োগের হার কমাতে সক্ষম হয়েছেন অন্যদিকে খামারের পানি দূষণের পরিমাণও হ্রাস করতে পারছেন। এ যন্ত্রটি ২-১৮ মিটার দূরত্বে ১৩০ ডিগ্রি কোণ পর্যন্ত খাবার পৌছে দিতে সক্ষম। যার ফলে অধিক ঘনত্বে মাছ চাষ করা সম্ভব।
অ্যারেশন ব্যবস্থা যান্ত্রিকীকরণ : মাছ চাষের পূর্বশর্ত পুকুরের পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা। পানির পরিবেশ অনুক‚লে থাকলে মাছ চাষের অধিকাংশ ঝুঁকি হ্রাস পায়। অ্যারেশনের মাধ্যমে আমরা এ কাজটি করতে পারি। পুকুরে মাছের অতিরিক্ত খাদ্য, মাছের মলমূত্র এবং বিভিন্ন  জৈব পদার্থ তলদেশে জমে পঁচে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক গ্যাসের সৃষ্টি করে। অ্যারেশনের ফলে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় ফলে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে এবং ক্ষতিকারক জৈব পদার্থ ভেঙে পুষ্টি উপাদান পানিতে মুক্ত করে  যা মাছের জন্য খুবই উপকারী। অন্যদিকে অ্যারেশন ব্যবস্থা কম হলে পুকুরের তলদেশে জৈব পদার্থ পঁচে ক্ষতিকারক গ্যাস অ্যামনিয়া, হাইড্রোজেন      সালফাইড, কার্বন-ডাই-অক্সসাইড তৈরি করে। যার ফলে মাছ মারা যেতে পারে। অ্যারেশনের মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো   সমাধান করা যায় । অনেক সময় মেঘলাদিনে, ভ্যাকসা     আবাহাওয়ায়. বৃষ্টির দিনে পুকুরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিলে পুকুরের সব মাছ মরে চাষির বিপুল ক্ষতি হয়ে যায়। পুকুরে অ্যারশন ব্যবস্থা থাকলে চাষিরা অতি সহজে এই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। অ্যারশনের মাধ্যমে পানির পরিবেশ উন্নয়ন, ক্ষতিকারক এ্যালজি বøুম, মাছের রোগের প্রাদুর্ভাব হ্রাসসহ সর্বোপরি পুকুরের পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে অধিক ঘনত্বে মাছ চাষ করা যায়। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের অ্যারেটার পাওয়া যায় এগুলো বিদ্যুৎচালিত এবং যেখানে বিদ্যুৎ নেই সেখানে ব্যবহারের জন্য সোলার এ্যারেটরের ব্যবস্থা আছে। যেসব এ্যারেটার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্যাডেল হুইল এ্যারেটর, রুট বেøায়ার, সার্জ এ্যারেটর, সুপার এ্যারেটর, টারবাইন এ্যারেটর, ভেনচ্যুরি এ্যারেটর, জেট এ্যারেটর, সাবমারসিবল টারবাইন এ্যারেটর, তবে অধিক ঘনত্বে মাছ চাষের ক্ষেত্রে রুট বেøায়ার ও প্যাডেল হুইল সমন্বিত ব্যবহার করা হয়। প্যাডেল হুইল ও রুট বেøায়ার এ্যারেটর দুই ধরনের যেমন : ১ সিঙ্গেল ফেইজ (১৮০-২৪০ ভোল্ট ) ২ । থ্রি ফেইজ (৩৮০-৪৪০ ভোল্ট) সিঙ্গেল ফেইজ এ্যারেটরের ব্যবহার বেশি। কারণ বেশিরভাগ খামারে    ১৮০-২৪০ ভোল্ট বৈদ্যুতিক সংযোক দেওয়া থাকে। আমাদের দেশে উত্তর আঞ্চলসহ অনেক জেলাতেই চাষিরা খামারে এ্যারিটর ব্যবহার করছে।  
মাছ চাষ যান্ত্রিকীকরণের ফলে মাছের পুকুরে ক্ষতিকারক এ্যান্টিবায়োটিক, এ্যাকুয়া মেডিসিন, নানান ধরনের এ্যাকুয়া কেমিক্যাল ব্যবহার প্রয়োজন পরে না। এতে চাষির অর্থ খরচ কমে আসে এবং কেমিক্যাল মুক্ত নিরাপদ মাছ উৎপাদন করে ভোক্তাদের হাতে পৌঁছে দিতে পারে। তাছাড়া অন্যান্য যন্ত্রপাতি যেমন জেনারেটর, পশু পাখির তাড়ানোর যন্ত্রপাতি, মোবাইল ইন্টারনেট, সিসি টিভি ইত্যাদি সংযোগের মাধ্যমে অটো মেশন করে খামার মালিক খামারটি নজরদারিতে রাখতে পারেন। য়
মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিস, সোনারগাঁ, নারায়াণগঞ্জ ।

বিস্তারিত
দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৌসুমী ফল

কৃষিবিদ মো. কবির হোসেন১ কৃষিবিদ সাবিনা ইয়াসমিন২

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ফলের গুরুত্ব ও অবদান অপরিসীম। বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের চাহিদা পূরণ, শারীরিক বৃদ্ধি ও দেহের ক্ষয় রোধ, মেধার বিকাশ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, সর্বোপরি দেশের জনগণের দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান ও আয়বৃদ্ধিসহ নানাবিধ সুবিধা আমরা ফল থেকে পাই। এছাড়া জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন সরবরাহ, পরিবেশ দূষণ কমানো, প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে ফলদ বৃক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই দেশের উন্নয়ন ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফল চাষের বিকল্প নেই। তাই যদি ভাল থাকতে চান তাহলে প্রতিদিন অন্তত একটি বা দুইটি ফল খান। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ফল খাওয়া প্রয়োজন প্রায় ২২০ গ্রাম  তার মধ্যে আমরা পাই ৭৮ গ্রাম /প্রতিদিন/প্রতিজন। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটির ও বেশি লোক বাস করে এবং তাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে  প্রতিবছর ১২১.৫২ লক্ষ মেট্রিকটন ফল উৎপাদন হচ্ছে। যদিও চাহিদার তুলনায় এই ফলন পযাপ্ত নয়। তাই আমাদেরকে পরিকল্পনামাফিক বসতবাড়িতে ও বাণিজ্যিকভাবে ফল চাষ করতে হবে। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের ফল বিভিন্ন সময়ে পাওয়া যায়।  যেমন বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে অধিক পরিমাণে ফল পাওয়া যায়। সেজন্য ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের মাধ্যমে ফল সংরক্ষণ করতে পারলে  এবং বিভিন্ন মৌসুমী ফল রোপণ করলে সারা বছরই  ফলের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে পুষ্টি চাহিদা মেটানো সম্ভব।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি ও বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বর্তমানে দেশ ইতোমধ্যে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। দেশের উন্নয়ন ও পুষ্টি নিরাপত্তায় ফল চাষের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে বলেন আমাদেরকে ফল উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে পুষ্টিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে এবং  করোনার প্রভাব মোকাবেলার জন্য প্রতি ইঞ্চি জমিকে চাষাবাদের মাধমে কাজে লাগানোর জন্য নির্দেশনা দেন। আমাদের দেশীয় ফল বিশেষ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ হওয়ায় এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় দেশীয় ফলমূলের যোগান নিশ্চিত করতে ফলদ বৃক্ষ রোপণের বিকল্প নেই । তাই পরিকল্পিতভাবে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে বছরব্যাপী দেশীয় ফলের চাষ বৃদ্ধি করতে হবে।’
ফল উৎপাদনে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা
ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোর উৎপাদন মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। শুধু উৎপাদনই নয়, ফল রপ্তানীতে ও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।  বিগত পাঁচ বছরের ফল উৎপাদনের তথ্য সারণি-১ দ্রষ্টব্য।
ফল উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুণগতমানসম্পন্ন উন্নত জাতের চারা/কলম তৈরি           নিশ্চিতকরণ ও পরিচর্যা: ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে এখনো পর্যন্ত  ‌কোভিড ১৯ নামক ভাইরাস সমস্ত পৃথিবীর প্রায় সব কটা দেশের মানুষকে আক্রমণ করে  চলেছে । এই আক্রমণে দেশের জনগণ যেমন মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে তেমনি সেই সাথে দেশে  নানা রকম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। পরিমানমতো ও পুষ্টিকর খাবার উৎপাদন ও গ্রহণ এই মূহুর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তাই আমাদের সকলকে বেশি বেশি করে সকল ধরণের ফসল চাষ করা সহ ফলদ বৃক্ষ রোপণ করা অতীব জরুরী। এক্ষেত্রে     মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশকে মূলমন্ত্র ধরে কাজ করে যাচ্ছে করোনাকালীন দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইং এর বিভিন্ন ক্যাটাগরীর মোট ৭৬টি হর্টিকালচার সেন্টারগুলোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। তারা  নিয়মিত চারা/কলম উৎপাদন ও গ্রাহকদের সেবা প্রদান করছেন করোনা যোদ্ধা হিসেবে। বিভিন্ন সবজি ও ফুলের চারা উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যেই সেন্টার গুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেন্টার গুলোতে প্রতিদিন সামজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত উৎপাদিত চারা-কলম বিক্রয় ও ফল উৎপাদনে চাষীদের বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে । চলতি বছর (২০১৯-২০) বাংলাদেশে বিভিন্ন ফলের উৎপাদন এলাকা বৃদ্ধিসহ উৎপাদন লক্ষমাত্রা অর্জনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট হর্টিকালচার উইং বিভিন্ন পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই গ্রহণ করেছেন ।  
গুণগতমানসম্পন্ন উন্নত জাতের চারা/কলম রোপণের জন্য নিকটস্থ সরকারি হটিকালচার সেন্টার থেকে চারা/কলম ক্রয় করা যেতে পারে কারণ এখানে স্বল্পমূল্যে ভালো মানের চারা/কলম পাওয়া যাবে।
সূত্র: বার্ষিক প্রতিবেদন, হর্টিকালচার উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
পুরানো ফলন্ত গাছগুলোর সঠিক পরিচর্যা গ্রহণের মাধ্যমে বেশি ফল প্রাপ্তি নিশ্চিত করণের মাধ্যমে এলাকাবাসীর আর্থিক উন্নয়ন ও ফল চাষকে লাভজনক স্তরে নেয়া যেতে পারে। গাছগুলোকে ট্রেনিং-প্রæনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অফলন্ত ডাল অপসারণ করে আলো-বাতাস চলাচল সুবিধা করা, বাগানে গাছের অপ্রয়োজনীয়  ডালপালা ছাঁটাই/অপসারণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা ও বাগানকে আগাছা, লতা-পাতা মুক্ত করা, সার প্রয়োগ, রোগ-পোকা দমন, মালচিং দেয়া, সুবিধা থাকলে সেচ দেয়া ।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফল গ্রহণের নিয়মাবলী : করোনা নামক ভাইরাস এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে বাঁচাতে সবচেয়ে  সহজ উপায় হলো দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। আর এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হলে অবশ্যই প্রতিদিন নিয়মিত ফল-মূল ও শাক-সবজি  গ্রহণ করতে হবে।ফল পুষ্টি উপাদানের এক সমৃদ্ধ ভান্ডার এবং আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, আঁশ এবং প্রচুর উপকারী হরমোন ও ফাইটোকেমিক্যালস প্রদান করে শরীরকে বিভিন্ন রোগবালাই থেকে সুরক্ষা প্রদান করে, যা সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। ফল ঔষধি গুণাগুণে সমৃদ্ধ বিধায় একে ‘রোগ প্রতিরোধী খাদ্য ও’ বলা হয়। বিভিন্ন ফলে ক্যান্সার প্রতিরোধকারী উপাদান অ্যান্থোসায়ানিন, লাইকোপেন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপস্থিত থাকায় মরণনাশক রোগব্যাধি থেকে রক্ষা।
ফল আমরা কাঁচা বা পাকা অবস্থায় সরাসরি খেয়ে থাকি। ফল রান্না ব্যতীত সরাসরি খাওয়া সম্ভব বিধায় এতে বিদ্যমান সবটুকু পুষ্টি পাওয়া যায়। কিন্তু করোণাকালীন সময়ে কাঁচা খাওয়া যায় এমন খাদ্যদ্রব্য সরাসরি খাওয়ার সময় অবশ্যই সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। রান্না খাবারের মাধ্যমে কোভিড-১৯ সংক্রিমত হবার কোন তথ্য প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন খাবার রান্না হলে এই ভাইরাস মরে যায়। কিন্তু ঝুঁকি আছে কাঁচা শাকসব্জি, ফলমূল নিয়ে। যেহেতু অন্য ক্রেতারা বাজারে যে কোন জিনিস হাত দিয়ে ধরে থাকতে পারে, এমনকী              বিক্রেতারাও সেগুলো ধরছে, তাই এমন কোন নিশ্চয়তা নেই যে সেগুলো পুরো জীবাণুমুক্ত। কাঁচা বাজারের ক্ষেত্রে অধ্যাপক            ব্লমফিল্ডের পরামর্শ হল সবকিছু ভাল করে কলের ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে তারপর সেগুলো তুলে রাখা বা ব্যবহার করা (বিবিসি বাংলা নিউজ)। কাঁচা এবং রান্না করা খাবার সম্পূর্ণ আলাদা রাখার পরামর্শ দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
করোনা ভাইরাস যদিও এখন পর্যন্ত খাবারে থাবা বসায়নি। তবু কিছু সতর্কতা পালন করা জরুরি। তারই টিপস রইল এখানে পাঁচ ধাপে পরিষ্কার করতে হবে: (সূত্র: এনডিটিবি ফুড বাংলা, ভারত)
১. আগে নিজের হাত ধুয়ে নিন
শাকসবজি ধোয়ার আগে অবশ্যই আপনার হাত পরিষ্কার আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। ফল এবং সবজি পরিষ্কারের আগে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ডের জন্য নিজের হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ফল, সবজি ধুতে থাকুন।
২. পানির নীচে রেখে ধুতে হবে
বাজার থেকে কেনা সমস্ত ফল এবং শাকসবজি খোলা কলের নীচে ফেলে ধুয়ে হাত দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন ।  এতে কোনও জীবাণু সংক্রমণের ভয় থাকে না।
৩. সাবান একেবারেই নয়
সাবান বা ডিটারজেন্ট নয়, শুধু পানি দিয়ে বাজার থেকে আনা জিনিসগুলো ধুয়ে নিন। কোথাও, কোনও পচা বা দাগ  ধরা অংশ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সেটি কেটে বাদ দিয়ে দিন।
৪. ব্রাশ বা স্পঞ্জ ব্যবহার চলবে
আলু বা গাজরের মতো সবজি পরিষ্কারের সময় ময়লা পরিষ্কার করতে ব্রাশ বা স্পঞ্জ ব্যবহার করতে পারেন।
৫. বাড়তি যতœ নিয়ে ধোবেন কোনগুলো
আঙুর জাতীয় ফল বা সবজি পরিষ্কারের সময় বাড়তি যতœ নেওয়া জরুরি। তাই এগুলিকে একটি বাস্কেটে রেখে কলের নীচে রাখুন। আবার লেটুস এবং পাতাযুক্ত শাকগুলি এক বাটি ঠান্ডা পানিতে রাখতে হবে।
এভাবে সকলে এগিয়ে আসলেই তবে এই দেশ ফল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ন হবে। আর আমাদের জনগণ পাবে পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং দেশ পাবে সুস্থ্য ও মেধাসম্পন্ন নাগরিক । ফল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজন উপযুক্ত সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থাপনা। এতে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পরিসরে গড়ে উঠবে আরো প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প। ফলে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি হবে আরো মজবুত ও গতিশীল, দেশবাসী পাবে খাদ্যে পুষ্টিমানসম্পন্ন একটি ভবিষ্যৎ। তাই আসুন বেশি করে ফলদ বৃক্ষ রোপণ করি ও রোগ প্রতিরোধ গড়ে তুলি। য়
১পরিচালক, হর্টিকালচার উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকা, মোবাইল: ০১৭১৬৩৮৪৫৩৮, ২উপজেলা কৃষি অফিসার, সংযুক্ত: হর্টিকালচার উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকা, মোবাইল: ০১৬৮৮০৫৪৭৮৬

 

বিস্তারিত
কবিতা (আষাঢ় ১৪২৭)

ফল গাছ বুনি
ড. সমজিৎপাল১

ফল খেলে বল মেলে, দেহ থাকে তাজা
ফল থেকে সবই পাই, দরকার যাযা।
চুকা-মিঠা নানা আম, নানান বরণ
স্বাদ আর পুষ্টিতে রাজার ধরণ।
কাঁঠাল জাতীয় ফল রস পাই গাঢ়
কাঁচা খাই, পাকা খাই, বীজ খাই আরো।
জাম দেয় রক্তটা রক্তেরই রঙে
ঔষধি গুণ পাই; নানারঙে-ঢঙে।
সারাটি বছর ধরে কলা-পেঁপে খাই
মাল্টা, কমলা আর নারকেল পাই।
কুল খাই, লিচু খাই কিছু দিন ধরে
পেয়ারার চেহারাটা দেখি ঘরে ঘরে।
আনারসরস দেয়, দেয় নানাপুষ্টি
তেঁতুলের আঁচারেতে পেয়ে যায় পুষ্টি।
জলপাই-য়ে জলও পাই, আরো পাই তেল
কোষ্ঠ কঠিন হলে বেশি খাই বেল
কদবেল, জামরুল, সফেদা ও আমড়া
কামরাঙা খেয়ে রাঙা শরীরের চামড়া।
ডাব খাই, গাব খাই, মিনারেল চেয়ে
রোগ প্রতিরোধ গড়ি আমলকি খেয়ে।
ডালিম আর শসা কাটে শরীরের মেদ
শরিফা ও আতা ফলে রয়েছে বিভেদ।
তরমুজ-বাঙি খেয়ে শীতল হোক দেহ
বেতফল ইদানিং চিনে নাতো কেহ।
তৈকর, লটকন কিংবা করমচা
সাথে আঁশফল খেলে, চা’বেনা গরম চা।
বিদেশি অনেক ফল হয়ে গেছে দেশি
স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফলপাই বেশি বেশি।
নাশপাতি, এ্যাভোকেডো আরো কত ফল
আঙুর আপেলসহ রয়েছে সচল।
প্যাশন ও রাম্বুতান দেশে আছে জাত
ফল খেলে দেহ সয় অসুখের ঘাত।
করোনার মতো যতো কঠিন আছে রোগ
ফল খেলে থাকে নাতে কোনো দুর্ভোগ।
সারাক্ষণ এই সবই কান পেতে শুনি
তাইতো আসুন আজই ফল গাছ বুনি।

সবুজ পৃথিবী
 মো: জুন্নুন আলী প্রামাণিক২
মাটির আদরে অগণিত চারা উপরে তাকিয়ে দেখে,
জ্যৈষ্ঠের প্রখর রৌদ্রময় তেলে শিতল বৃষ্টিকে ডাকে।
বিচিত্র জাতের গাছপালা বাড়ে ভরসা উর্বর কোলে,
চাষির যতেœর দৃষ্টিসিমা নিত্য তরুন গাছের ডালে।
শূন্যতা পূরণে চারিদিকে দোলে চারার কোমল পাতা,
উপর আকাশে বড় বৃক্ষ কিছু ঘুচায় দুঃখ ব্যাথা।
সাহসে পূর্ণতা অর্জনের পথে আগ্রহ প্রকাশ করে,
চারার সেবার পরিসর জুড়ে সজাগ সেবক ঘোরে।
নতুন বনানী ভবিষ্যতে দেবে বিশুদ্ধ বায়ুর দোলা,
সুস্থতা নির্মল পরিবেশে ফেরে তাইতো নাসিকা খোলা।
মানব জীবনে তরুলতা সাথী বাঁচার সুপথ দাতা,
সুন্দর আবেশে অসুন্দর নাই শোনায় সুখের কথা।
ফলদ গাছের পাশাপাশি নাচে কাঠের গাছের চারা,
উন্নত ভুবন রুপায়নে তাজা চিত্রের নতুন সাড়া।
ঔষধি গাছের গুণাগুণ বেশি অসুখ আরোগ্য কত,
বাহিরে যেমন সুন্দরের ছবি অন্তরে ক্ষমতা শত।
প্রশান্ত স্বভাবে প্রশান্তির ছায়া প্রাণের উত্তাপ নাশে,
¯েœহের বাধনে উপকারি বৃক্ষ সারাটি জীবন পাশে।
বায়ুর শোধনে ভ‚মিকার সাক্ষ্য উপরে ছড়িয়ে দেয়,
গাছের কারণে জলবায়ু নিত্য সেবায় সচেষ্ট হয়।
শুদ্ধতা বাড়ানো দরকার আছে ফুলের সুবাস মাঝে,
সবুজ পৃথিবী গঠনের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা রোপণ কাজে।
গাছের মাথায় গতিশীল প্রাণ প্রফুল্ল কর্মঠ খাটি,
আনন্দে পূর্ণতা অর্জনের পথে শিকড়ে জড়ায় মাটি।
সবুজ বেষ্টনী সারাক্ষণ দেয় জীবনে প্রেরণা শক্তি,
গাছের শাখায় পাখিসব বসে জানায় অসিম ভক্তি।
১পরিচালক (গবেষণা), বাংলাদেশ সুগারক্রপগবেষণাইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী, পাবনা। মোবাইল : ০১৭১২০২১১৪০, ই-মেইল :samajitpal@bsri.gov.bd 2গ্রাম : বিদ্যাবাগীশ, ডাকঘর ও উপজেলা : ফুলবাড়ী, জেলা : কুড়িগ্রাম, মোবাইল : ০১৭৩৫২০২৭৯৮

 

বিস্তারিত
প্রশ্নোত্তর (আষাঢ় ১৪২৭)

প্রশ্নোত্তর
কৃষিবিদ মো. তৌফিক আরেফীন
কৃষি বিষয়ক
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
ফেরদৌসি বেগম, গ্রাম: পিরোজপুর, উপজেলা: মেহেরপুর সদর, জেলা: মেহেরপুর
প্রশ্ন: ঢেঁড়শ গাছের শিকড়ে গিঁট দেখা যাচ্ছে। কী করণীয়?   
উত্তর:  ঢেঁড়শ গাছে নেমাটোড আক্রমণের কারণে এ রোগটি হয়ে থাকে। এ রোগ হলে আক্রান্ত গাছের শিকড়ে প্রচুর গিঁট দেখা যায়। এমনকি ফল কম হয়। সেজন্য আক্রান্ত গাছ নজরে আসলে তুলে ফেলা দরকার। এছাড়া একই জমিতে বারবার ঢেঁড়শ চাষ না করা। জমি    গভীরভাবে চাষ করা। আর নেমাটোড রোধে কার্বোফুরান গ্রæপের যেমন ফুরাডান/ ভিটাফুরান/কুরাটার নিয়মমাফিক ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।   
মোঃ রহিম বেপারি, গ্রাম: বাগমারা, উপজেলা: হোমনা, জেলা: কুমিল্লা
প্রশ্ন: পেয়ারা গাছের ছাতরা পোকা বা মিলিবাগ দমনে কী করণীয়?  
উত্তর:  ছাতরা পোকার পেয়ারা গাছের পাতা ও ডালের রস চুষে খায়। এতে করে পেয়ারা গাছ দুর্বল হয়ে যায়। এমনকি এ পোকার আক্রমণের কারণে গাছে পিঁপড়া আসতে দেখা যায়। এজন্য আক্রান্ত ডালপালা কিছুটা ছাটাই করে দেয়া দরকার। তারপর গাছের গোড়ার মাটি থেকে ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার উপরে স্বচ্ছ পলিথিন মুড়ে দিতে হবে। যাতে করে মিলিবাগ বা ছাতরা পোকা উপরে উঠতে না পারে। তারপর জৈব      বালাইনাশক বাইকাও ২ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে পেয়ারা গাছে স্প্রে করলে উপকার পাবেন। আর যদি ছাতরা পোকার আক্রমণ বেশি হয় তবে ২ গ্রাম মিপসিন বা সপসিন প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে সঠিক নিয়মে স্প্রে করলে উপকার পাবেন।  
আসমাউল হুসনা, গ্রাম: খাটুরিয়া, উপজেলা: গোবিন্দগঞ্জ, জেলা: গাইবান্ধা
প্রশ্ন:  পানি কচুর পাতার দাগ রোগ দূর করার জন্য কী করণীয়?   
উত্তর:  ছত্রাকজনিত এ রোগ হলে পানি কচুর পাতায় বাদামি দাগ দেখা দেয়। তারপর সব দাগ একত্রে মিশে সম্পূর্ণ পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগ দমনে কার্বেনডাজিম গ্রæপের ছত্রাকনাশক যেমন নোইন, এমকোজেম ১ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে সঠিক নিয়মে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া স্প্রে করার সময় ছত্রাকনাশক যাতে পাতায় লেগে থাকে সেজন্য ২ থেকে ৩ গ্রাম সাবানের গুড়া বা ১টি  ছোট শ্যাম্পু স্টিকার হিসাবে ব্যবহার করতে হয়। এসব ব্যবস্থা নিলে আশা করি উপকার পাবেন।  
মোঃ আনছার আলী, গ্রাম: পীড়ানচর, উপজেলা: শিবগঞ্জ, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রশ্ন: কৃষি জমিতে ডলোচুন ব্যবহারের নিয়ম কী ?
উত্তর: জমির পুষ্টি উপাদানের সহজলভ্যতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ কিছু ধরণের মাটিতে ডলোচুন প্রয়োগ করতে হয়। সেক্ষেত্রে মাটির পিএইচ মান জানা খুব জরুরি। পিএইচ মানের ওপর ভিত্তি করে ডলোচুনের মাত্রা নির্ধারণ করতে হয়। মাটির পিএইচ মান ৪.৫ এর কম হলে প্রতি শতক জমিতে ৩ কেজি ডলোচুন প্রয়োগ করতে হয়। আর যদি মাটির পিএইচ মান ৪.৬ থেকে ৫.৫ হয় তবে প্রতি শতকে ডলোচুন লাগে ২ কেজি। এছাড়া মাটির পিএইচ মান যদি ৫.৬ থেকে ৬.৫ হয় প্রতি শতক জমিতে ১ কেজি হারে ডলোচুন ব্যবহার করতে হয়। মাটির পিএইচ মান ৭ বা ৭ এর উপরে গেলে ডলোচুন প্রয়োগ করতে হয় না।
মোঃ মজিবর চৌধুরী  গ্রাম: খাটুরিয়া, উপজেলা: গোবিন্দগঞ্জ, জেলা: গাইবান্ধা
প্রশ্ন: লাউ গাছের কাÐ ফেটে আঠা বের হচ্ছে, কী করব ?
উত্তর: লাউ গাছের কাÐ ফেটে গিয়ে আঠা বের হওয়া এ রোগকে গ্যামোসিস বা আঠাঝরা রোগ বলে। এ রোগ দমনে বোর্দোমিকশ্চার ব্যবহার করলে সুফল মিলে। এটি তৈরির জন্য ১০ গ্রাম তুঁতে, ১০ গ্রাম চুন ও ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে তৈরি করতে হয়। এ মিকশ্চারটি তৈরির পদ্ধতিটি হচ্ছে। প্রথমে মাটি বা প্লাস্টিকের একটি পাত্রে ১০ গ্রাম চুন ভালোভাবে গুড়ো করে নিতে হবে। এরপর আরেকটি পাত্রে ১০ গ্রাম তুঁতে ভালোভাবে গুড়ো করে নিতে হবে। তারপর প্রত্যেকটি পাত্রে ৫০০ মিলি পানি মিশিয়ে ভালো করে দ্রবণ তৈরি করতে হবে। তারপর দুটো পাত্রের দ্রবণটিকে আরেকটি পাত্রে ঢেলে একটা কাঠের কাঠি দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করে বিকেল বেলায় নিয়মমাফিক স্প্রে করতে হয়। বোর্দোমিকশ্চার তৈরির ১২ ঘন্টার মধ্যে ব্যবহার করতে হয়। নাহলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না। বোর্দোমিকশ্চার ব্যবহার করা ছাড়াও আপনি সানভিট/ বিøটক্স প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম ভালোভাবে মিশিয়ে রোগাক্রান্ত লাউ গাছে সঠিক নিয়মে স্প্রে করতে পারেন। তবেই আপনি কাক্সিক্ষত পানের ফলন পাবেন।
নীলোৎপল রায়, গ্রাম: মৌতলা, উপজেলা: কালিগঞ্জ, জেলা: সাতক্ষীরা
প্রশ্ন:  নতুন লিচু গাছ লাগালে অনেকে বলে পুরাতন গাছের নীচের মাটি এনে নতুন গাছের গোড়ায় দিতে। এর কি কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে?
উত্তর: নতুন লিচু কলমের চারা লাগালে পুরাতন গাছের গোড়া থেকে মাটি এনে নতুন গাছের গোড়াতে দিলে উপকার হয়। কারণ পুরাতন লিচু গাছের গোড়ার মাটিতে মাইকোরাইজা নামে এক ধরনের ছত্রাক থাকে। এরা লিচু গাছের শিকড়ের সাথে যুক্ত হয়ে মিথোজীবিতার মাধ্যমে মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান সংগ্রহ করে শিকড়ের মাধ্যমে লিচু গাছে সরবরাহ করে। মাটিতে মাইকোরাইজা থাকলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়। এসব বৈজ্ঞানিক কারণেই পুরাতন গাছের গোড়ার মাটি নতুন লাগানো লিচু গাছের গোড়াতে দিতে হয়।  
মৎস্যবিষয়ক
মোঃ খাইরুল আলম, গ্রাম: ধরধরা, উপজেলা: বোদা,       জেলা: পঞ্চগড়
প্রশ্ন: মাছের ফুলকা পঁচা রোগ হয়েছে। কী করবো?
উত্তর: চুন প্রতি শতকে ১ কেজি হারে প্রয়োগ করতে হবে। ঘা যুক্ত মাছগুলোকে পুকুর থেকে তুলে ২০ লিটার পানি পাত্রে নিয়ে তাতে ২০০ গ্রাম লবণ মিশিয়ে মাছগুলোকে ৫ মিনিট রাখতে হবে। এরপর পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দ্রবণে ৫ মিনিট রাখতে হবে। প্রতি কেজি খাবারের সাথে  টেরামাইসিন ট্যাবলেট ১টি করে ১ সপ্তাহ খাওয়াতে হবে।   
মোঃ আসলাম হোসেন, গ্রাম: চিলাহাটি, উপজেলা:  ডোমার, জেলা: নীলফামারী
প্রশ্ন: মাছের শরীরে উকুন দেখা যাচ্ছে। কী করবো?
উত্তর: সুমিথিয়ন বা ম্যালাথিয়ন প্রতি শতকে প্রতি ফুট পানির গভীরতার জন্য ২ মিলি প্রথম সপ্তাহে দিতে হবে এবং এভাবে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। ডিপটারেক্স প্রতি শতকে ৫ থেকে ৮ গ্রাম প্রতি ফুট পানির গভীরতার জন্য ৭ দিন অন্তর ৩ বার দিতে হবে।  
প্রাণিসম্পদ বিষয়ক
মোঃ রমজান আলী,   গ্রাম: রাজারগাঁও, উপজেলা: সিলেট সদর, জেলা: সিলেট
প্রশ্ন:  আমার গরুর বয়স ৬ মাস। দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে ডায়রিয়া হয়। এমতাবস্থায় কী করণীয় ?
উত্তর: আপনি যে সমস্যার উল্লেখ করেছেন এ সমস্যার জন্য অ্যালবেনডাজল ক্যাপলেট খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি ডিবি ভিটামিনও খাওয়াতে হবে। এসব ব্যবস্থা নিলে আপনি আশাকরি উপকার পাবেন।   
মোঃ সুমন পারভেজ, গ্রাম: বলরামপুর, উপজেলা: বীরগঞ্জ, জেলা: দিনাজপুর
প্রশ্ন: আমার মুরগিগুলো হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। শ^াস কষ্ট দেখা যাচ্ছে। শরীরের ভেতর বিভিন্ন অঙ্গে রক্তক্ষরণ দেখা যাচ্ছে। কি করবো?    
উত্তর: কট্রিমোক্সাসল ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পাওে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ করারর জন্য ভিটামিন-কে ব্যবহার করতে হবে। এসব ব্যবস্থা নিলে আশাকরি উপকার পাবেন। য়
(মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক প্রশ্ন কৃষি কল সেন্টার হতে প্রাপ্ত)
*উপপ্রধান তথ্য অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল নং ০১৭১১১১৬০৩২, taufiquedae25@gmail.com

 

বিস্তারিত
শ্রাবণ মাসের কৃষি (১৪২৭)

(১৫ জুলাই-১৫ আগস্ট)
কৃষিবিদ ফেরদৌসী বেগম

সুপ্রিয় কৃষিজীবী ভাইবোন, শ্রাবণের অথৈ পানিতে খালবিল, নদীনাল, পুকুর ডোবা ভরে যায়, ভাসিয়ে দেয় মাঠ-ঘাট, প্রান্তর এমনকি আমাদের বসত বাড়ির আঙ্গিনা। প্রকৃতি সদয় থাকলে ভাটির টানে এ পানির সিংহভাগ চলে যায় সমুদ্রে। কৃষি কাজে ফিরে আসে ব্যস্ততা। আর এ প্রসঙ্গে জেনে নেবো কৃষির বৃহত্তর ভুবনে কোন কোন কাজগুলো করতে হবে আমাদের।
আউশ  
এসময় আউশ ধান পাকে। রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে পাকা আউশ ধান কেটে মাড়াই-ঝাড়াই করে শুকিয়ে বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে।
বীজ ধান হিসেবে সংরক্ষণ করতে হলে লাগসই প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে ভালো বীজ পাওয়া যাবে।
আমন ধান
শ্রাবণ মাস আমন ধানের চারা রোপণের ভরা মৌসুম। চারার বয়স ৩০-৪০ দিন হলে জমিতে রোপণ করতে হবে।
উপক‚লীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে লবণাক্ত ও জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু উপযোগী উফশী জাত (ব্রি ধান৪০, ব্রি ধান৪১, ব্রি ধান৪৪, ব্রি ধান৫২, ব্রি ধান৫৩, ব্রি ধান৫৪, ব্রি ধান৭৩, ব্রি ধান৭৬, ব্রি ধান৭৭, ব্রি ধান৭৮, ব্রি ধান৭৯, বিনা ধান২৩ পাহাড়ি এলাকার জন্য উপযোগী জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান ৪৯, ব্রি ধান ৭০, ব্রি ধান ৭১, ব্রি ধান ৭৫ এবং ব্রি ধান ৮০, বিনা ধান-৮, বিনা ধান-১১, বিনা ধান-১২ ও বিনা ধান-১৭ এসব) চাষ করতে পারেন।
খরা প্রকোপ এলাকায় নাবি রোপা আমনের পরিবর্তে যথাসম্ভব আগাম রোপা আমন (ব্রি ধান৩৩, ব্রি ধান ৩৯ ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান৫৭, ব্রিধান৬২ ব্রি ধান৬৬, ব্রি ধান৭১, এসব) চাষ করতে পারেন। প্রতিক‚ল পরিবেশে বরেন্দ্র এলাকার জন্য জাতগুলো হলো ব্রিধান ৫৫, ব্রি ধান ৫৭, ব্রি ধান ৬৬, ব্রি ধান ৭১, ব্রি ধান ৭৫ ও ব্রি ধান ৮০ এসব চাষ করতে পারেন। সে সাথে জমির এক কোণে গর্ত করে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন।
চারা রোপণের ১২-১৫ দিন পর প্রথমবার ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। এর ১৫-২০ দিন পর দ্বিতীয়বার এবং তার ১৫-২০ দিন পর তৃতীয়বার ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে।
গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করলে চারা লাগানোর ১০ দিনের মধ্যে প্রতি চার গুছির মাঝে ১.৮ গ্রামের ১টি গুটি ব্যবহার করতে হবে।
পোকা নিয়ন্ত্রণের জন্য ধানের ক্ষেতে বাঁশের কঞ্চি বা ডাল পুঁতে দিতে পারেন যাতে পাখি বসতে পারে এবং এসব পাখি পোকা ধরে খেতে পারে।
পাট
ক্ষেতের অর্ধেকের বেশি পাট গাছে ফুল আসলে পাট কাটতে হবে। এতে আঁশের মান ভালো হয় এবং ফলনও ভালো পাওয়া যায়।
পাট পচানোর জন্য আটি বেঁধে পাতা ঝড়ানোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং জাগ দিতে হবে।
ইতোমধ্যে পাট পচে গেলে আঁশ ছাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
পাটের আঁশ ছাড়িয়ে ভালো করে ধোয়ার পর ৪০ লিটার পানিতে এক কেজি তেঁতুল গুলে তাতে আঁশ ৫-১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে, এতে উজ্জ্বল বর্ণের পাট পাওয়া যায়।
যেখানে জাগ দেয়ার পানির অভাব সেখানে রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচাতে পারেন। এতে আঁশের মান ভালো হয় এবং পচন সময় কমে যায়।
বন্যার কারণে অনেক সময় সরাসরি পাট গাছ থেকে বীজ উৎপাদন সম্ভব হয় না। তাই পাটের ডগা বা কাÐ কেটে উঁচু জায়গায় লাগিয়ে তা থেকে খুব সহজেই বীজ উৎপাদন করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
পাটের ভাল বীজ পেতে হলে দেশী পাট বীজ এ মাসে বপন করতে হবে। সারিতে বপন করলে প্রতি শতাংশ জমিতে ১৬ গ্রাম তোষা এবং ২০ গ্রাম দেশী বীজ বপন করতে হবে। আর ছিটিয়ে বপন করলে শতাংশে ২০ গ্রাম তোষ এবং ২৪ গ্রাম দেশী পাটের বীজ বপন করতে হবে।
তুলা :
রংপুর, দিনাজপুর অঞ্চলে আগাম শীত আসে, সে জন্য এসব অঞ্চলে এ মাসের মধ্যে তুলার বীজ বপন করতে হবে।
শাকসবজি :
বর্ষাকালে শুকনো জায়গার অভাব হলে টব, মাটির চাড়ি, কাঠের বাক্স এমনকি পলিথিন ব্যাগে সবজির চারা উৎপাদনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ মাসে সবজি বাগানে করণীয় কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদায় মাটি দেয়া, আগাছা পরিষ্কার, গাছের গোড়ায় পানি জমতে না দেয়া, মরা বা হলুদ পাতা কেটে ফেলা, প্রয়োজনে সারের উপরিপ্রয়োগ করা।
লতাজাতীয় গাছের বৃদ্ধি বেশি হলে ১৫-২০ শতাংশ পাতা ও লতা কেটে দিলে তাড়াতাড়ি ফুল ও ফল ধরবে।
কুমড়াজাতীয় সব সবজিতে হাত পরাগায়ন বা কৃত্রিম পরাগায়ন অধিক ফলনে দারুণভাবে সহায়তা করবে। গাছে ফুল ধরা শুরু হলে প্রতিদিন ভোরবেলা হাতপরাগায়ন নিশ্চিত করলে ফলন অনেক বেড়ে যাবে।
গত মাসে শিম ও লাউয়ের চারা রোপণের ব্যবস্থা না নিয়ে থাকলে দ্রæত ব্যবস্থা নিতে হবে। শিম ও লাউয়ের বীজ পচা কচুরিপানার স্ত‚পে বপন করে অতপর মূল মাদায় স্থানান্তর করতে পারেন। মাদার দূরত্ব হবে  ৩ ফুট, ১ ফুট চওড়া ও ১ ফুট গভীর করে মাদা তৈরি করতে হবে। পাতায় দাগপড়া রোগ দেখা দিলে অনুমোদিত মাত্রায় ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। বর্ষাকালীন সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতকালীন শাকসবজি চাষের প্রস্তুতি নিতে হবে।
গ্রীষ্মকালীন টমেটো ফসল মাঠে থাকলে গাছ বেঁধে দিতে হবে। এ মাসে নাবী পাট বীজ ফসলের সাথে সাথী ফসল হিসাবে সবজি চাষ করতে পারেন।
গাছপালা
এখন সারা দেশে গাছ রোপণের কাজ চলছে। ফলদ, বনজ এবং ঔষধি বৃক্ষজাতীয় গাছের চারা বা কলম রোপণের ব্যবস্থা নিতে হবে।
উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে একহাত চওড়া এবং একহাত গভীর গর্ত করে অর্ধেক মাটি এবং অর্ধেক জৈবসারের সাথে ১০০ গ্রাম টিএসপি এবং ১০০ গ্রাম এমওপি ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। সার ও মাটির এ মিশ্রণ গর্ত ভরাট করে রেখে দিতে হবে। দিন দশেক পরে গর্তে চারা বা কলাম রোপণ করতে হবে।
ভালো জাতের মানসম্পন্ন চারা রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের পর গোড়ার মাটি তুলে দিতে হবে এবং খুঁটির সাথে সোজা করে বেঁধে দিতে হবে।
গরু ছাগলের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য রোপণ করা চারার চারপাশে খাঁড়া বা বেড়া দিতে হবে।
প্রাণিসম্পদ :
আর্দ্র আবহাওয়ায় পোলট্রির রোগবালাই বেড়ে যায়। তাই খামার জীবাণুমুক্তকরণ, ভ্যাকসিন প্রয়োগ, বায়োসিকিউরিটি এসব কাজগুলো সঠিকভাবে করতে হবে।
আর্দ্র আবহাওয়ায় পোলট্রি ফিডগুলো অনেক সময়ই জমাট বেঁধে যায়। সেজন্য পোলট্রি ফিডগুলো মাঝে মাঝে রোদে দিতে হবে।
বর্ষাকালে হাঁস মুরগিতে আফলাটক্সিন এর প্রকোপ বাড়ে। এতে হাঁস মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এজন্য খাবারের সাথে সূর্যমুখীর খৈল, সয়াবিন মিল, মেইজ গøুটেন মিল, সরিষার খৈল, চালের কুঁড়া এসব ব্যবহার করা ভালো।
গবাদি পশুকে পানি খাওয়ানোর ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ দূষিত পানি খাওয়ালে নানা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
গো খাদ্যের জন্য রাস্তার পাশে, পুকুর পাড়ে বা পতিত জায়গায় ডালজাতীয় শস্যের আবাদ করতে হবে।
গরু, মহিষ ও ছাগল ভেড়াকে যতটা সম্ভব উঁচু জায়গায় রাখতে হবে।
মৎস্যসম্পদ :
চারা পুকুরের মাছ ৫-৭ সেন্টিমিটার পরিমাণ বড় হলে মজুদ পুকুরে ছাড়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। সাথে সাথে গত বছর মজুদ পুকুরে ছাড়া মাছ বিক্রি করে দিতে হবে।
পানি বৃদ্ধির কারণে পুকুর থেকে মাছ যাতে বেরিয়ে না যেতে পারে এজন্য পুকুরের পাড় বেঁধে উঁচু করে দিতে হবে অথবা জাল দিয়ে মাছ আটকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
পানি বেড়ে গেলে মাছের খাদ্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সময় পুকুরে প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।
সুপ্রিয় কৃষিজীবী ভাইবোন, কৃষিক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের জন্য আধুনিক কৃষির কৌশলগুলো যেমন অবলম্বন করতে হবে তেমনি সকল কাজ করতে হবে সম্মিলিতভাবে। খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য বাড়ির আশপাশে, রাস্তার পাড়ে, পতিত জমিতে যত বেশি সম্ভব ফলদ বৃক্ষের চারা রোপণ করতে হবে। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা কৃষিকে নিয়ে যাবে উন্নতির শিখরে। আর কৃষির যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য আপনার নিকটস্থ উপজেলা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া কৃষি তথ্য সার্ভিসের কৃষি কল সেন্টারের ১৬১২৩ এ নম্বরে যে কোন মোবাইল অপারেটর থেকে কল করে নিতে পারেন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। য়
সম্পাদক, কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা, টেলিফোন : ০২৫৫০২৮৪০৪; ই-মেইল :  fardousi30@gmail.com

 

বিস্তারিত

Share with :

Facebook Facebook