কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

কৃষি কথা

বাংলাদেশের ফুল শিল্প : সমস্যা ও সম্ভাবনা

ফুল। দুই অক্ষরের একটি সুন্দর শব্দ। ফুল সৌন্দর্যের প্রতীক। ফুল পবিত্রতা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক। জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকীসহ যে কোনো উপলক্ষে কাউকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাতে আমরা ফুল উপহার দেই। ফুল নিয়ে যুগে যুগে রচিত হয়েছে অনেক কাব্য ও সাহিত্য। কবি বলেছেন, জোটে যদি মোটে একটি পয়সা, খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি, দুইটি যদি জোটে তার একটি ফুল কিনে নিও ওহে অনুরাগী। অতীতে ফুলের উৎপাদন ও ব্যবহার ছিল খুব সীমিত। বর্তমানে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও বাণিজ্যিকভিত্তিতে ফুলের উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে এবং ফুলের ব্যবহারও অনেক বেড়েছে।


বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভিত্তিতে ফুল উৎপাদনের শুভ সূচনা শুরু হয় ১৯৮৩ সালে যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা গ্রামে। সে সময়ে একজন ফুল অনুরাগী উদ্যোগী কৃষক জনাব শের আলী মাত্র ০.৮৩ ডেসিম্যাল জমিতে ফুল চাষ শুরু করেন। আজ বাংলাদেশের ২৪টি জেলায় প্রায় ৩,৫০০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুলের চাষ হচ্ছে। ফুল উৎপাদনে জড়িত আছেন প্রায় ১৫,০০০ কৃষক এবং ফুল উৎপাদন ও বিপণন ব্যবসায়ে অন্তত ১.৫০ লাখ মানুষ সরাসরি নিয়োজিত রয়েছেন। ফুল সেক্টরের কার্যক্রমের মাধ্যমে জীবিকা উপার্জন করছেন প্রায় ৭ লাখ মানুষ। ফুল শিল্পের সম্প্রসারণের ফলে আজকাল ফুলের ব্যবহারও অনেক বেড়েছে। এখন বিয়ে শাদিতো বটেই, অন্যান্য সামাজিক ও জাতীয় অনুষ্ঠান যেমন-মাতৃভাষা দিবস, ভ্যালেনটাইনস ডে, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় ও সামাজিক জীবনের অনেক ক্ষেত্রে যেমন-বিবাহবার্ষিকী, জন্মদিন, পূজা  পার্বণে ফুলের ব্যবহার অনিবার্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া জাতীয় নেতাদের মৃত্যু দিবসেও তাঁদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর প্রচলন বৃদ্ধি পেয়েছে।


ফুলের বহুবিধ ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুলের উৎপাদন গত এক যুগে অনেক বেড়েছে। বর্তমানে দেশের ২৪টি জেলায় প্রায় ৩৫২০ হেক্টর জমিতে ফুলের উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৬০০ হেক্টর (৭৪%) জমিতে ফুলের চাষ হয়। ২য় স্থানে রয়েছে ঢাকা বিভাগ ৬৯০ হেক্টর (২০%) এবং ৩য় স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ ১২১ হেক্টর (৩.৪৪%)। এছাড়া রংপুর বিভাগে ৪২ হেক্টর (০.২৯%)। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে মূল উৎপাদনের প্রায় ১৫০০০ হাজার কৃষক জড়িত। এদের মধ্যে খুলনা বিভাগে ১১২৫০ জন (৭৫%), ঢাকা বিভাগে ৩০০০ জন (২০%)। বাকি ৫% কৃষক রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে ফুল চাষে নিয়োজিত।


বিভিন্ন জাতের ফুল উৎপাদনের হিসাবে দেখা যায়, সর্বোচ্চ উৎপাদন হয় গ্লাডিওলাস ৯৯১৪ টন যার টাকার মূল্য মার্কেট শেয়ার ৩১%। এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে গোলাপ ১১১৩২ টন (২৪%), রজনীগন্ধা ১০৮১৪ টন (১৭%), ম্যারিগোল্ড ১২৬২৪ টন (৮%) অন্যান্য ফুলের মার্কেট শেয়ার মোট ২০%। বার্ষিক হিসাবে ২০১৪-১৫ সালে ফুল উৎপাদন হয়েছে ৫৭,০০০ টন এবং বিক্রয়লব্ধ টাকা হচ্ছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ আয় হয় গ্লাডিওলাস থেকে প্রায় ২২৩ কোটি টাকা। তারপর গোলাপ ১৭০ কোটি, রজনীগন্ধা ১৩৩ কোটি, মেরিগোল্ড ৫৭ কোটি এবং অন্যান্য ফুল থেকে প্রায় ১৫০ কোটি।


গত ৫-৬ বছরে ফুল শিল্পের বিকাশ ও প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত সন্তোষজনক। নিচের ছকে এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য দেয়া হলো-

 

প্রবৃদ্ধি খাত

২০০৯-২০১০

২০১৪-২০১৫

উৎপাদন এলাকা (হে.)

১,৭৭৪

৩৫২০

উৎপাদন (মে. টন)

২৩,৭২০

৫৬৬৪৯

খুচরা বিক্রয়ের পরিমাণ (মে. টন)

১৮,০৫০

৪৫১৮৭

বিক্রয় মূল্য (টাকা)

২৫২ কোটি

৮০৫ কোটি

 


ফুল শিল্প বিকাশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গত ২০০৯-১০ থেকে ২০১৪-১৫ সালের হিসাবে গড় প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত উৎসাহ ব্যঞ্জক। ফুল উৎপাদনের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ২০%, বিক্রিত মূল্যের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ২৬%, খুচরা বাজারে বিক্রয়ের গড় প্রবৃদ্ধি ২০%, তবে উৎপাদন এলাকা বৃদ্ধি হার মাত্র ১৫% যা অপেক্ষাকৃত কম। সার্বিকভাবে ফুল শিল্পের বিকাশের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে- ফুল চাষ ধান ও শাকসবজির তুলনায় অনেক বেশি লাভজনক। ফুলের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান কারণগুলো হচ্ছে- ফুলের চাহিদার ব্যাপক বৃদ্ধি, হেক্টর প্রতি অধিক লাভ, ফুলের নতুন জাত ও প্রযুক্তি গ্রহণ, অর্থনৈতিক উন্নতি, অন্যান্য জেলায় ফুলের চাষ বৃদ্ধির সুযোগ, শহরের মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্য ও মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ফুল ক্রয়ের ব্যাপক অভ্যাস ও উৎসাহ।


ফুল শিল্পের এসব সুযোগ ও সম্ভাবনার মধ্যেও ফুল শিল্প বর্তমানে যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন তা হচ্ছে- ফুল উৎপাদন প্রযুক্তির ওপর অনেক কৃষকের জ্ঞানের অভাব, অতিরিক্ত মূলধন ব্যয়, বাংলাদেশে ফুলের বীজ ও চারার অপ্রাপ্যতা এবং এ ব্যাপারে ভারত থেকে আমদানি নির্ভরতা, গ্রিনহাউস নির্মাণের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির অপ্রাপ্যতা, ফুল চাষের জন্য বিশেষ কম্পাউন্ড সারের অভাব, ঢাকাসহ বড় বড় শহরগুলোতে স্থায়ী পাইকারি ফুলের বাজারের অভাব, আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন উৎপাদন প্রযুক্তির অভাব, কৃষক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে ২০% ফুল বিনষ্ট হওয়া, ফুল নিয়ে প্রয়োজনীয় গবেষণার অভাব ও একটি জাতীয় ফুল নীতি না থাকা।


তাই বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ফুল শিল্পের আরও অধিকতর বিকাশের লক্ষ্যে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন তা হচ্ছে - বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফুল নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা, ফুল উৎপাদন প্রযুক্তির ওপর ব্যাপক প্রশিক্ষণের আয়োজন, ফুলের বীজ ও চারা আমদানির ওপর শুল্ক মওকুফ, ঢাকাসহ বড় বড় শহরে ফুলের স্থায়ী পাইকারি বাজার স্থাপন, পরিবহন কালে ফুল জাতে বিনষ্ট না হয় তার জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবহন ব্যবস্থা চালু, যশোরে ফুলের জন্য বিশেষায়িত হিমাগার স্থাপন, দক্ষিণাঞ্চলের ফুল উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে বাজারের অবকাঠামো উন্নয়ন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বেসরকারি ব্যাংক ও ক্ষুদ্র ঋণদান সংস্থা কর্তৃক ঋণের সুযোগ বৃদ্ধি, সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ফুল সেক্টরে মহিলা উদ্যোক্তাদের অধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের  উদ্যোগে একটি জাতীয় ফুলনীতি প্রণয়ন।

 

কৃষিবিদ মাহমুদ হোসেন*

বিস্তারিত
মাশরুমের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

বাংলাদেশে জমির অপ্রতুলতা, বেকারত্ব, পুষ্টিহীনতা, মাথাপিছু আয়ের স্বল্পতা, মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান, সর্বোপরি দারিদ্র্য বিমোচন ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় মাশরুম একটি সম্ভাবনাময় ফসল। এদেশের আবহাওয়া মাশরুম চাষের জন্য অত্যান্ত উপযোগী। অমিত সম্ভাবনাময় ফসল মাশরুম চাষের জন্য কোনো উর্বর জমির প্রয়োজন হয় না বিধায় দেশে মাশরুম উৎপাদন যতই বাড়ানো হোক না কেন তাতে কোনো ফসলেরই উৎপাদন কমার সম্ভাবনা নেই। যার মোটেই চাষের জমি নেই তিনিও বসত ঘরের পাশের অব্যবহৃত জায়গায় অনেক পরিমাণ মাশরুম উৎপাদন করতে পারেন। এজন্য ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে  মাশরুমের উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ মাশরুম চাষ করতে পারেন। মাশরুম এমন  একটি ফসল যা ধনী, দরিদ্র সবার ঘরে সমভাবে জায়গা করে নিয়েছে। গ্রাম-গঞ্জে, শহরে এমনকি অতিমাত্রায় বিলাসিদের প্রাসাদেও মাশরুম স্থান পেয়েছে। আল্লাহতায়ালা মানব জাতির কল্যাণে দুনিয়ায় অগণিত জিনিসের সৃষ্টি করেছেন। এরকম কোটি কোটি সৃষ্টির মধ্যে মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী ও ঔষধিগুণে ভরপুর একটি দ্রব্যের সহজ-সরল নাম মাশরুম। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধিগুণ সম্পন্ন খাবার। এতে আছে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, অ্যামাইনো এসিড, অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। স্বাদ, পুষ্টি ও ঔষধিগুণের কারণে এরইমধ্যে এটি সারা দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মাশরুম চাষ আমাদের দেশের পুষ্টি সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


খাদ্যগুণে সমৃদ্ধ মাশরুম অত্যন্ত স্বাস্থ্যপ্রদ একটি খাবার। মাশরুমের পুষ্টিমান তুলনামূলকভাবে অত্যধিক এবং এর প্রোটিন অতি উন্নতমানের এবং মানব দেহের জন্য অতিশয় উপকারী। একটি পরিপূর্ণ  প্রোটিনের পূর্বশর্ত হলো মানব দেহের অত্যাবশ্যকীয় ৯টি অ্যাসিডের  উপস্থিতি। মাশরুমে অতীব প্রয়োজনীয় এ ৯টি অ্যামাইনো অ্যাসিড বিদ্যমান। অন্যান্য প্রাণিজ আমিষ যেমন -মাছ, মাংস, ডিম অতি নামি-দামি খাবার হলেও এতে চর্বি স¤পৃক্ত অবস্থায় থাকায় যা অতি মাত্রায় গ্রহণ করলে শরীরে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে, যার ফলে মেদ-ভুঁড়ির সৃষ্টি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ প্রভৃতি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।


মাশরুমের প্রোটিনে-ফ্যাট এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অতি স্বল্প এবং কোলেস্টেরল ভাঙার উপাদান-লোভস্ট্রাটিন, অ্যান্টাডেনিন, ইরিটাডেনিন ও নায়াসিন থাকায় শরীরের কোলেস্টেরলস জমতে পারে না বরং মাশরুম খেলে শরীরে বহু দিনের জমানো কোলেস্টেরল  ধীরে ধীরে বিনষ্ট হয়ে যায়। ১০০ গ্রাম শুকনো মাশরুমে ২৫-৩৫ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে। পক্ষান্তরে আমরা যা অতি নামি-দামি খাবার হিসেবে মাছ, মাংস, ডিম খেয়ে থাকি তার মধ্যে ১০০ গ্রাম মাছ, মাংস ও ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ হলো ১৬-২২ গ্রাম , ২২-২৫ গ্রাম  ও ১৩ গ্রাম  মাত্র।


মানব দেহের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা সৃষ্টি করাই ভিটামিন ও মিনারেলের প্রধান কাজ। শরীরের চাহিদামতো প্রতিদিন ভিটামিন ও মিনারেল খেতে না পারলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা ক্রমশ দুর্বল হয়ে নানারূপ জটিল রোগে আক্রান্ত হতে হয়। প্রাকৃতিকভাবে মাশরুমেই  সবচেয়ে বেশি ভিটামিন  ও মিনারেল বিদ্যমান। মাশরুমে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম ও সেলেনিয়াম। সেলেনিয়াম উপাদানটি শুধু মাছেই পাওয়া যায়। যারা পুরোপুরি নিরামিষভোজী তারা মাশরুমের মাধ্যমে এ উপকারী উপাদানটি গ্রহণ করতে পারেন। মাশরুমে আরও আছে এরগোথিওনেইন নামে এক ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা মানব দেহের জন্য ঢালের মতো কাজ করে।  মাশরুমে ভিটামিন  বি-১২ আছে প্রচুর পরিমাণে যা অন্য কোনো উদ্ভিজ্জ উৎসে নেই। মাশরুম কোলেস্টেরল শূন্য। এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও খুবই সামান্য। এতে যে এনজাইম ও ফাইবার আছে তা দেহে উপস্থিত বাকি ব্যাড কোলেস্টেরলের বসতিও উজাড় করে দেয়।


মাশরুমে উচ্চমাত্রার আঁশ থাকে, সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকে এবং প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়া মাশরুমে কোলেস্টেরল কমানোর অন্যতম উপাদান ইরিটাডেনিন, লোভাস্টটিন, এ টাডেনিন, কিটিন এবং ভিটামিন  বি, সি ও ডি থাকায় নিয়মিত মাশরুম খেলে উচ্চ রক্তচাপও হৃদরোগ নিরাময় হয়। মাশরুমের ফাইবার বা আঁশ পাকস্থলী দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখতে সাহায্য করে। মাশরুম রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ওজন কমাতে সহায়তা করে। উচ্চ ফ্যাট সমৃদ্ধ  লাল মাংসের পরিবর্তে মাশরুম গ্রহণ করলে ওজন কমানো সহজ হয়। ঋঅঝঊই তে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা যায়, লাল মাংসের পরিবর্তে সাদা মাশরুম গ্রহণ করলে ওজন কমে। মাশরুমে নিয়াসিন ও রিবোফ্লাবিন থাকে যা ত্বকের জন্য উপকারী। ৮০-৯০ ভাগ পানি থাকে যা ত্বককে নরম ও কোমল রাখে।


মাশরুমে পলিফেনল ও সেলেনিয়াম নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এতে মানুষের শরীরের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সালফারও থাকে। এ অত্যাবশ্যকীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো মারাত্মক কিছু রোগ, যেমন-স্ট্রোক, স্নায়ুতন্ত্রের রোগ এবং ক্যান্সার থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এটি মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শিতাকে মাশরুম দৈনন্দিন কিছু অসুখ যেমন-কফ ও ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করে। সূর্যের আলোর সংস্পর্শে যে মাশরুম উৎপন্ন হয় তাতে প্রচুর ভিটামিন  ডি থাকে, যা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধে মাশরুম বেশ উপকারী। নিয়মিত মাশরুম খেলে ব্রেস্ট ক্যান্সার ও প্রোস্টেট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। মাশরুমের ফাইটোকেমিক্যাল টিউমারের বৃদ্ধিতে বাঁধার সৃষ্টি করে।  


মাশরুমের ভিটামিন বি স্নায়ুর জন্য উপকারী এবং বয়সজনিত রোগ যেমন- আলঝেইমার্স রোগ থেকে রক্ষা করে। মাশরুম গ্রহণ করলে রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। মাশরুমে এনজাইম ও প্রাকৃতিক ইনসুলিন থাকে যা চিনিকে ভাঙতে পারে। এতে থাকা ফাইবার ও এনজাইম হজমে সহায়তা করে। এটি অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কাজ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং কোলনের পুষ্টি উপাদান শোষণকেও বাড়তে সাহায্য করে। মাশরুমের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন-ডি আছে। শিশুদের দাঁত ও হাড় গঠনে এ উপাদানগুলো অত্যন্ত কার্যকরী। মাশরুমে নিউক্লিক এসিড ও অ্যান্টি এলার্জেন থাকায় এবং সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকায় কিডনি রোগ ও এলার্জি রোগের প্রতিরোধক। মাশরুমে স্ফিংগলিপিড এবং ভিটামিন-১২ বেশি থাকায় স্নায়ুতন্ত্র ও স্পাইনাল কর্ড সুস্থ রাখে। তাই মাশরুম খেলে হাইপার টেনশন দূর হয় এবং মেরুদ- দৃঢ় থাকে। হেপাটাইটিস বি ও জন্ডিস প্রতিরোধ করে। অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। মাশরুমের খনিজ লবণ দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক।

 

ড. আখতার জাহান কাঁকন*

*উপজেলা কৃষি অফিসার (এল.আর), খামারবাড়ি, ঢাকা, সংযুক্ত : মাশরুম বিশেষজ্ঞ, মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, সাভার, ঢাকা

 

বিস্তারিত
সিলেট অঞ্চলের কৃষি, সমস্যা ও সম্ভাবনা

দুইটি পাতা একটি কুড়ির দেশ সিলেট। বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাংশে হাওর, বাঁওড়, বিল, পাহাড়, নদী, বনাঞ্চল আর সমতল ভূমির অপূর্ব সমন্বয়ে গঠিত সিলেট অঞ্চল। সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ জেলার সমন্বয়ে এ সিলেট অঞ্চল। এ অঞ্চলের মোট আয়তন ১২,৫০৫.৩২ বর্গকিলোমিটার যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১২% এবং মোট জনসংখ্যা প্রায় ১,১৪,২৪,৭২০ জন। প্রায় ১১,৮১,২১৩টি কৃষি পরিবারের মোট ফসলি জমি প্রায় ১২,৫৬,৮৫৭ হেক্টর। ভূমির বিচিত্র লীলায় রয়েছে হাজারও পাহাড়-টিলা এবং হাওর-বাঁওড়ের সংখ্যা প্রায় ২১৮টি। এ অঞ্চলে আবাদি জমির শতকরা ৪০ ভাগই হাওর এলাকা যেখানে অসংখ্য ছোট বড় হাওর, বিল আর প্রাকৃতিক জলাধার আছে। বিশ্ব খ্যাত হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওর এ সিলেট অঞ্চলেই অবস্থিত।  বাংলাদেশের মোট ১৬৩টি চা বাগানের মধ্যে ১২৭টি চা বাগান রয়েছে এ সিলেট অঞ্চলে। শস্য খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ এ অঞ্চল তবে শাকসবজি উৎপাদনে দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে এখনও অনেক পেছনে। কৃষি পরিবেশ অঞ্চলেরও রয়েছে এক বিচিত্রতা মোট ৬টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চল যথা এইজেড ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৯ এবং ৩০ ভুক্ত এ অঞ্চল। বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল অঞ্চল সিলেট। সিলেট অঞ্চলের মৌলভীবাজার জেলায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য সূত্রে ২০১৬ সালে এ অঞ্চলে মোট বৃষ্টিপাত ছিল ৭,৮৫৩ মিমি.। এ অঞ্চলের মাটির কথা কি আর বলব, এ অঞ্চলের মাটিরও রয়েছে বৈচিত্রতা।  টিলা, পাহাড় এবং সুরমা অববাহিকা হওয়ায় বেশিরভাগ মাটিই অম্লীয় মাটি। অনেকাংশে অম্লীয় মাত্রা পিএইচ স্কেলে ৪.০০ এর নিচে। মাটির গঠনেও রয়েছে ভিন্নতা। ধানভিত্তিক ফসল ধারায় স্বল্পমেয়াদি অন্যান্য ফসল সমন্বয় করে যথাযথ পরিকল্পনা ও উপযোগী কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের নিবিড়তা বাড়ানো সম্ভব। কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে সিলেট অঞ্চলে তাই প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষির রয়েছে অপার সম্ভাবনা।


একনজরে সিলেট অঞ্চলের কৃষির হালচাল
সিলেট অঞ্চলের মানুষের মূল উপজীব্য বিষয় কৃষি হওয়া সত্ত্বেও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সিলেটের কৃষি এখনও অনেক পেছনে। সিলেট অঞ্চলে নিট ফসলি জমি প্রায় ৭,৯৭,৯৪৯ হেক্টর। জেলাওয়ারি নিট ফসলি জমির পরিমাণ সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জে যথাক্রমে ২,১৪,৩৩৩ হেক্টর, ১,২৬,৬৮২ হেক্টর, ১,৮০,৫০০ হেক্টর এবং ২,৭৬,৪৩৪ হেক্টর। সিলেট অঞ্চলে এক ফসলি জমির পরিমাণ প্রায় ৩,৭২,৪৫০ হেক্টর, দুই ফসলি জমির পরিমাণ প্রায় ৩,৩৩,৬৫৩ হেক্টর, তিন ফসলি জমির পরিমাণ মাত্র ৮৩,০০০ হেক্টর এবং তিনের অধিক ফসলি জমির পরিমাণ একবারেই নেই। বর্তমানে বাংলাদেশে ফসলের নিবিড়তা ১৯৭ শতাংশ। অথচ সিলেট অঞ্চলের শস্যের নিবিড়তা মাত্র ১৬৮%। যার মধ্যে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার ফসলের গড় নিবিড়তা যথাক্রমে ১৭৪%, ১৭৮%, ১৭২% এবং ১৪৯%। এ অঞ্চলে মোট কৃষক পরিবার প্রায় ১১,৮১,২১৩টি, এর মধ্যে ভূমিহীন পরিবার প্রায় ২,৩৪,০৬৩টি, প্রান্তিক চাষি প্রায় ৫,২১,৬৯২টি, ক্ষুদ্র চাষি প্রায় ২,৩০,৫২৮টি, মাঝারি ১,৫০,৮৭৩টি এবং বড় কৃষক পরিবার প্রায় ৪৪,০৫৭ টি। সিলেট অঞ্চলে মৌসুমি পতিত জমি একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রবি মৌসুমে প্রায় ১,৬৪,১৬৮ হেক্টর, খরিফ-১ এ প্রায় ১,৮১,৭২৫ হেক্টর এবং খরিফ-২ এ প্রায় ৫১,৫০১ হেক্টর জমি পতিত থাকে। খাদ্য পরিস্থিতির বিবেচনায় এ অঞ্চল শস্য খাদ্যে উদ্বৃত্ত- ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় ৯,৩৭,০৯১ মেট্রিক টন শস্য খাদ্য বেশি উৎপাদিত হয়েছিল।

 

এ অঞ্চলের প্রধান প্রধান শস্যবিন্যাস
প্রধান প্রধান শস্যবিন্যাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বোরো-পতিত-পতিত (৩৪%), বোরো-পতিত রোপা আমন (১৭%), পতিত-আউশ-রোপা আমন (১২%), পতিত-পতিত-রোপা আমন (১০%), বোরো-আউশ-রোপা আমন (৪%), বোরো-বোনা আমন-রোপা আমন (৪%), সবজি-পতিত-রোপা আমন (৩%), সবজি-সবজি-সবজি (৩%), সরিষা+বোরো-পতিত-রোপা আমন (৩%), এসব।


সিলেট অঞ্চলের কৃষিতে প্রধান প্রধান সমস্যা
বর্তমানে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের কৃষি চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ অঞ্চলের কৃষি ও কৃষিজীবী মানুষের জীবন জীবিকার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। অতিবৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে সর্বনাশা আগাম ও নাবি বন্যা কৃষকের জন্য আতঙ্কের বিষয়। প্রতিনিয়ত পাহাড়ি ঢলে নদী ভরাট হওয়ায় নদীতে পানি ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খ- খ- বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফসলহানী হওয়া। ভূ-গর্ভস্থ পাথর, বালি ও গ্যাসের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপনে অপরাগতা। শীত মৌসুমে নদী ও খালের পানি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় সেচ কাজ পরিচালনা ব্যাহত হওয়া। রবি মৌসুমে পতিত জমিতে গো-চারণের উপদ্রব। প্রবাসী মালিক ফলে অনেক সময় জমি বর্গা চাষে দিতে অনীহা। চা বাগানের অন্তর্গত টিলা জাতীয় জমি অনাবাদি থাকা। আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষাকল্পে স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন উফশী জাত ও সময়মতো বীজের অভাব। নদীর পাড় ও বাঁধ থেকে হাওরের জমি অত্যন্ত নিচু বিধায় পানির চাপে নদীর পাড় উপচিয়ে ও বাঁধ ভেঙে স্বল্প সময়ের মধ্যে মাঠের ফসল ডুবে যাওয়া। হাওর এলাকায় দেরিতে পানি সরার কারণে সঠিক সময়ে বোরো বীজতলা  ও চারা রোপণ বিলম্বিত হওয়া। শীতকালে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা, বোরো ধান সংগ্রহের সময় বৃষ্টিপাত হয় বিধায় ধান শুকানো সমস্যা, হাওর এলাকায় ফসলের মাঠ বাড়ি হতে দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় কৃষি উপকরণসহ নিয়মিত জমি পরিদর্শন সমস্যা। তাছাড়া অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সেচ ও নিষ্কাশনের অপ্রতুলতা, শ্রমিক সংকট।


সিলেট অঞ্চল উপযোগী ফসল ও জাত
ধান ফসলের জন্য প্রথমে আমন ধানের আগাম জাতের মধ্যে রয়েছে বিনাধান৭, বিনাধান১৭, ব্রি ধান৩৩, ব্রি ধান৩৯, ব্রি ধান৫৭, ব্রি ধান৬২ এসব জাত। মধ্যম মেয়াদি আমন ধানের জাতের মধ্যে আছে ব্রি ধান৩০, ব্রি ধান৩২, ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৪০, ব্রি ধান৪১ এবং ব্রি ধান৪৯ এবং নাবি জাত হিসেবে বিআর২২, বিআর২৩, বিনাশাইল, নাইজার শাইল এসব। অধিক ফলনশীল মাঝারি থেকে মোটা চালের জন্য বিআর১০, বিআর১১, ব্রি ধান৩০, ব্রি ধান৩১ চাষ করা যায়। সুগন্ধি চালের জন্য ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৩৭, ব্রি ধান৩৮ চাষ করা যায়। বন্যার পানি বা জলমগ্নতা সহনশীল জাত ব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২ এবং বিনাধান১১, বিনাধান১২ চাষ করা যায়। তবে সিলেট এলাকার জন্য ব্রি ধান৪৯ এবং বিআর১১ খুবই উপযোগী। বোরো ধানের উপযোগী জাতগুলো-উফশী জাত : ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান২৯, ব্রি ধান৫৮ এসব। হাওর এলাকায় বোরো ধানের জাত হিসেবে ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান৪৫, ব্রি ধান৫৮ এবং বিনাধান-১০ চাষ করা খুবই উপযোগী। হাওর এলাকায় আগাম আকস্মিক বন্যার হাত থেকে বাঁচার জন্য ব্রি ধান২৯ চাষ না করাই উত্তম। আউশ মৌসুমে উফশী ধান বিআর২৬, ব্রি ধান২৭, ব্রি ধান৪৮ উল্লেখযোগ্য। সর্বোপরি এ এলাকায় সুগন্ধি ধান উৎপাদনের একটি বিশাল সুযোগ রয়েছে।

গম ফসলের মধ্যে বারি গম-২৪, বারি গম-২৫ এবং বারি গম-২৬ চাষ সম্প্রসারণ করা যায়। তেল ফসলের ক্ষেত্রে সরিষা (বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৫, বারি সরিষা-১৭ এসব), সয়াবিন, বাদাম, চিনাবাদাম, সূর্যমুখী, তিল, তিসি; মসলা জাতীয় মরিচ, হলুদ; সবজি হিসেবে করলা, লাউ, বেগুন, টমেটো, শসা, মটরশুঁটি, ঢেঁড়শ, মিষ্টিকুমড়া; ফল চাষ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে খাটো জাতের নারিকেল, মাল্টা, আমড়া, থাই পেয়ারা, কাউফল, ডেউয়া, কুল, সফেদা, আমলকী, লটকন, তৈকর, আম, জাম, বাতাবিলেবু, তরমুজ, বাঙি লাগানো যায়। তাছাড়া অন্যান্য ফসল চুইঝাল, সাতকরা, গোলমরিচ, নাগামরিচ, লাইশাক, গাছ আলু, খাসিয়া পান, সুপারি, ফরাস, লতিকচু, চাষ বেশ উপযোগী। তাছাড়াও রয়েছে বেত, মূর্তা এসবের চাষ।


সিলেট অঞ্চলভিত্তিক উপযোগী প্রযুক্তিগুলো
এ এলাকার জন্য উপযোগী প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে প্রথমে হচ্ছে ডলোচুনের ব্যবহার-সিলেট এলাকার অম্লীয় মাটি দূর করার জন্য শতাংশ প্রতি ০৪ কেজি হারে ডলোচুন ভালোভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে, একবার