কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

বরেন্দ্র ভূমির চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী
সারা বাংলাদেশ ৩০টি ইকোলজিক্যাল জোনে বিভক্ত। এর মধ্যে দেশের উত্তর পশ্চিম এলাকা ২৫, ২৬ ও ২৭ এই ৩টি ইকোলজিক্যাল জোন নিয়ে অবস্থিত। এর মধ্যে ২৬ নম্বর ইকোলজিক্যাল জোনটি রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর উঁচু বরেন্দ্র অঞ্চল, ২৫ নম্বর হচ্ছে মধ্যম বরেন্দ্র অঞ্চল এবং ২৭ নম্বরটি হচ্ছে সমতল বরেন্দ্র অঞ্চল নিয়ে গঠিত। বরেন্দ্র অঞ্চল বলতে দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলার ১২৫টি উপজেলাকে বুঝায়।
বর্তমান বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ১৯৯২ সালে গঠনের সময় শুধু ২৬ নম্বর ইকোলজিক্যাল জোন নিয়ে কাজ করত। কিন্তু ক্রমান্ব^য়ে রংপুর ডিভিশন পর্যন্ত এর বিস্তৃতি ঘটে।
বরেন্দ্র অঞ্চলের ভ‚-প্রকৃতিকে মোটামুটি ৩ ভাগে ভাগ করা যায় -
০১. লাল মাটি দ্বারা গঠিত প্রাচীন ভ‚মি;
০২. পলিমাটি দ্বারা গঠিত   মোটামুটি প্রাচীন ও উঁচু ভ‚মি এবং
০৩. বিভিন্ন নদীবাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত নিম্ন ভ‚মি।
বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন নদী বিশেষ করে যমুনা, পদ্মা, আত্রাই, মহানন্দা, তিস্তা, করতোয়া প্রভৃতি নদীবাহিত পলি ও বালি স্ত‚পকৃত হয়ে নিম্ন প্লাবন ভ‚মি সৃষ্টি করেছে। এই পলি দ্বারা গঠিত নিম্ন ভ‚মি বর্ষাকালে বন্যায় তলিয়ে যায়। বাংলাদেশের পূূর্বাঞ্চলের বৈশিষ্ট্য মÐিত এ ধরনের ভ‚মি বরেন্দ্রের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়। উঁচু বরেন্দ্র এলাকা দূর থেকে দেখতে অনেকটা গ্যালারির মতো। অসমতল ভ‚-প্রকৃতির কারণে বৃষ্টির পানি মাটির গভীরে প্রবেশের তুলনায় উঁচু থেকে নিচের দিকে গড়িয়ে যায়। ফলে শুষ্ক মৌসুমে মাটির আর্দ্রতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।
বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল জুড়ে উঁচু বরেন্দ্র ভ‚মি রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার আবহাওয়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় রুক্ষ এবং চরম ভাবাপন্ন। বরেন্দ্র অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১২৫০ থেকে ২০০০ মিমি. (আইডব্লিউএম-২০০৬)। শীত মৌসুমে কোনো কোনো বছর তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে, আবার গ্রীষ্মকালে কোনো কোনো সময় ৪১-৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে যায়।  তবে কোনো কোনো বছরে মাত্র ৮০০-৯০০ মিলি বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। এ বৃষ্টিপাতের শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি আবার মৌসুম ভিত্তিক, যেখানে       জুন-অক্টোবর বা আষাঢ়-কার্তিক মাসে হয়ে থাকে। মৌসুমভিত্তিক হওয়া সত্তে¡ও বৃষ্টিপাতের ধারা সুষম বণ্ঠিত না হওয়ায় সঠিক সময়ে আমন ধান লাগানো যায় না ফলে অধিকাংশ সময়ে আমন ধানের চাষ দেরি হওয়ায় পরবর্তী ফসল চাষের সুযোগ বিঘিœত হয়। এ সমস্যার কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে আমন ধান কাটার পরে বরি মৌসুমে প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি থাকে। অসম বৃষ্টিপাতের কারণে আমন ধানের বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায় খরা আক্রান্ত হয় যা ফলনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রচলিত থকথকে কাদাময় বীজতলা তৈরির জন্য কমপক্ষে ৫০০-৬০০ মিলি (২০-২৪ ইঞ্চি) পানির প্রয়োজন হয়। কাদাময় বীজতলায় আমন ধানের চারা উৎপাদনের উল্লেখিত পরিমাণ বৃষ্টিপাতের জন্য কৃৃষকরা অপেক্ষা করেন। কিন্তু ২৫ বছরের রাজশাহী অঞ্চলের জুন-জুলাই মাসের বৃষ্টিপাতের দ্বারা পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, কাদাময় বীজতলায় চারা উৎপাদনের জন্য কাক্সিক্ষত পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলশ্রæতিতে একদিকে যেমন আমন আবাদ দেরি হওয়ায় ফলন কমে যায় অন্যদিকে আমন ধান কাটার পর দ্বিতীয় ফসল হিসেবে রবি শস্যের চাষ       অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে দেরিতে রবি শস্যের বীজ বপন সম্ভব হলেও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে দানা গঠন (বিশেষ করে ছোলার) ব্যাহত হয়।
পরিবর্তিত জলবায়ু ও কৃষিতে এর প্রভাবের ফলে খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রভাব সারা বিশ্বে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের ওপর এর    প্রভাব অতি গভীর। বর্ধিষ্ণু জনসংখ্যার কারণে আমাদের কৃষি ইতোমধ্যেই বেশ চাপের সম্মুখীন। এর সাথে পরিবর্তিত জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব এটিকে আরও নাজুক অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কৃৃষির সাথে আবহাওয়া ও জলবায়ুর সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। বিশেষ করে বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এ সম্পর্ক আরও গভীর। জলবায়ু যেহেতু দীর্ঘ সময়ের তাই এর ভিত্তিতেই কোনো এলাকার কৃষি-সংস্কৃতি গড়ে উঠে। প্রতিটি ফসলের জন্য নির্দিষ্ট সুবিধাজনক আবহাওয়াগত পরিস্থিতির প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবহমান কালের চিরচেনা ঋতুর আবর্তন অনেকটা অনিয়মিত হয়ে গেছে, যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে আমাদের কৃষি সংস্কৃতির ওপর।
বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রায় ৩১.০ লাখ হেক্টর জমি চাষযোগ্য। এ এলাকায় দানাদার ফসলসহ অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। রবি মৌসুমে দানাদার ফসল যেমন গম, ভুট্টা, ডাল ও তেলবীজ শস্য, আলু এবং অন্যান্য ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে এবং খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূূর্ণ ভ‚মিকা রাখছে। এছাড়া এ অঞ্চলে প্রায় ৩.০ লাখ হেক্টর জমি বরেন্দ্র অঞ্চলের আওতাভুক্ত এবং বৃষ্টিপাত খুবই কম হওয়ার ফলে আমন ধান কাটার পর নভেম্বর মাসে উঁচু জমিতে প্রয়োজনীয় ‘জো’ (বাতাল) না থাকাতে শতকরা ৫৫ ভাগ জমি অর্থাৎ প্রায় ৭৫ হাজার হেক্টর জমি পতিত থাকে। দেশের জনসংখ্যা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে অথচ জমির পরিমাণ প্রতিদিনই কমে যাচ্ছে। এ বাড়তি জনসংখ্যার মুখে খাদ্য দিতে একমাত্র পতিত জমি ব্যবহার ছাড়া গত্যন্তর নাই। এ অঞ্চলের ভ‚-গর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় নিচে নেমে যাওয়ার কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলের কিছু কিছু খাবার পানির নলক‚প অকেজো হয়ে পড়েছে ও  গভীর নলক‚প এর ডিসচার্জ কমে গেছে। গত এক দশকে এ অঞ্চলে স্থিতিশীল পানির স্তর ক্ষেত্র বিশেষে প্রায় ১০-২০ ফুট নিচে নেমেছে (তানোর, গোদাগাড়ী, নাচোল, ভোলাহাট উপজেলা এর কিছু কিছু অংশ বিশেষে নেমেছে ১৫-২৫ ফুট)। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও প্রায় সারা বছর সব পর্যায়ের সেচযন্ত্র চালু থাকা এবং ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব এর অন্যতম কারণ। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি না থাকায় এ অঞ্চলে ভ‚গর্ভস্থ পানির স্তরের প্রয়োজনীয় পরিমাণ রিচার্জ হয় না।
বিএমডিএ, বিএডিসি ও অন্যান্য বিভাগ বা সংস্থা এবং      জনসাধারণ ব্যক্তিগত (চৎরাধঃব) পর্যায়ে ২৪,১২১টি গভীর নলক‚প (উঞড), ৭,১৯,৪২৬ টি অগভীর নলক‚প (ঝঞড) এবং লো-লিপ্ট পাম্প রয়েছে ১০,৪৮৩টি (খখচ) (সূত্র : মাইনর ইরিগেশন সার্ভে রিপোর্ট-২০১৬-১৭, বিএডিসি)। এর মধ্যে শুধু বিএমডিএ’র গভীর নলক‚প (উঞড) ১৫,৫১৭টি  ও ৪১৭টি অগভীর নলক‚প (খখচ) পরিচালনা করছে। উল্লেখিত সব গভীর ও অগভীর নলক‚প দিয়ে বছরে (সেচ মৌসুম ৫ মাস) প্রায় ১২,৪৩০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি উত্তোলিত হয়। খরা মৌসুমে বিশেষ করে বোরো ধানে সেচ দিতে অধিক হারে ভ‚গর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে ভ‚গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে খাবার পানির অভাবসহ জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ঝুঁকির সাথে যুক্ত হয়ে সামাজিক পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
১৮৪৯ সালে বরেন্দ্র ভ‚মির ৫৫% এলাকা বনভ‚মি ছিল। কিন্তু ব্যাপকভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বনভ‚মি উজাড় হয়ে মরুপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয়। ১৯৭৪ সাল নাগাদ বরেন্দ্র ভ‚মির ৭০% এলাকা কৃষি জমিতে রূপান্তরিত হয় এবং কৃষি কাজে গভীর নলক‚প দ্বারা সেচের মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাদ্যের অভাব পূরণ হয়েছে, অন্যদিকে এক সময় মরুভ‚মির মতো দেখতে এক-ফসলি বরেন্দ্র অঞ্চল গভীর নলক‚পের সেচের আওতায় আসায় ফসলের নিবিড়তা দাঁড়িয়েছে ২০০%-এর অধিক। বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ুর পরিবর্তন (স্বল্প বৃষ্টিপাত, উচ্চ তাপমাত্রা, দীর্ঘ খরা) মোকাবেলা করে ফসল উৎপাদনের জন্য ক্রমবর্ধমান হারে ভ‚গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করায় ভ‚-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। এ প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে পরিবেশগত বিপর্যয় অনিবার্য।
বরেন্দ্র অঞ্চলে ১৬টি জেলায় প্রবাহিত নদীগুলোর মধ্যে কয়েকটির অপমৃত্যু ঘটেছে আর কিছু নদী মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। বরেন্দ্র অঞ্চলে অনেক বিল বা প্রাকৃতিক জলাধার ছিল। বর্তমানে কিছু বিলের অস্তিত্ব রয়েছে। অন্যগুলো চাষাবাদের অধীনে চলে গেছে, বরেন্দ্রের বিলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য   চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভাতিয়ার বিল, টাংরা বিল, মরিচা দাঁড়া বিল, রাজশাহীর বিল কুমারি বিলসহ আরো অনেক বিল চাষাবাদের জমি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
জমিগুলোতে জৈব পদার্থ উপাদান কমে গেছে। যেখানে মাটিতে ৫ শতাংশ জৈব পদার্থ থাকার কথা, সেখানে আছে মাত্র ১ শতাংশ। এছাড়া প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক,        বালাইনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে পানি দূষণ হচ্ছে, জমির উর্বরাশক্তি কমে যাচ্ছে যার ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে যত্রতত্রভাবে ভ‚গর্ভস্থ পানি বেশি বেশি উত্তোলন করা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ না করার ফলে পানির বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হতে পারে।
কৃষি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য এবং সেচকাজে পানির অপচয় হ্রাস ও ভ‚গর্ভস্থ পানির সুপরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ও পানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উন্নয়ন করার উদ্দেশ্যে ‘ঞযব এৎড়ঁহফ ডধঃবৎ গধহধমবসবহঃ ঙৎফরহধহপব ১৯৮৫’ (ঙৎফরহধহপব ঘড়. ঢঢঠওও ড়ভ ১৯৮৫) অধ্যাদেশটি রহিত করে বাংলা ভাষায় ‘কৃষিকাজে ভ‚গর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১৭’ প্রণয়ন করা হয়েছে। কৃষিকাজে ভ‚গর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১৭ যা ২১ জানুয়ারি ২০১৮ জাতীয় সংসদে পাস হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় ভ‚গর্ভস্থ যেই পরিমাণ পানি উত্তোলন করা হয় সেই পরিমাণ পানি রিচার্জ হয় না। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে কোনো কোনো এলাকায় খরার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক        কৃষিকাজ কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এছাড়া জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখোমুখি হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু কিছু এলাকায় পানীয় জলেরও সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরেন্দ্র এলাকায় কম পানি গ্রহণ করে এমন সব ফসলের জাত প্রবর্তন এবং সেচসাশ্রয়ী প্রযুক্তিগুলোকে কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় করার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সবার প্রতি আহŸান জানিয়েছেন। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষকের শিক্ষিত সন্তানদের কৃষিতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
বরেন্দ্র অঞ্চলকে নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন হলো, বিজ্ঞানীরা যেভাবে খরাসহিষ্ণু ব্রি ধান ৭১, বারি গম ৩৩ ইত্যাদিসহ নতুন নতুন জাত এবং ডালজাতীয় শস্য ক্রপিং প্যাটানের মধ্যে এনে একদিকে ফসলের নিবিড়তা এবং অন্যদিকে ফসলের বৈচিত্র্য আনছেন এসব বিষয়ে যদি           কৃষকদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া যায় তাহলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া মোকাবেলা করেও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আমাদের করণীয়
১. বরেন্দ্র অঞ্চলে সারফেস ওয়াটার ও গ্রাউন্ড ওয়াটারের বর্তমান অবস্থা, মজুদ ও ভবিষ্যৎ বিষয়ে বর্তমানে একটি কম্প্রিহেনসিভ টেকনিক্যাল স্টাডি প্রয়োজন। দেশীয় প্রতিষ্ঠান ওডগ  ও ঈএওঝ এ কাজটি করতে পারে।
২. বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট অসংখ্য খাস মজা পুকুর, খাল ও বিল পুনঃ খননের মাধ্যমে জলাধার সৃষ্টি করা প্রয়োজন এবং কমিউনিটি বেইসড ইরিগেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (সিবিআইএমএস) মাধ্যমে কৃষিতে সারফেস ওয়াটারের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অতিশীঘ্রই পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
৩. বর্ষাকালে পানি ও বন্যার পানি সংরক্ষণের জন্য নদী বা খালের ঝঃৎধঃবমরপ চড়রহঃ এ ডবরৎ/ঊষবাধঃবফ বিরৎ/জঁননবৎ উধস নির্মাণ করে ওয়াটার রিজার্ভার সৃষ্টি  এবং লো-লিফট্ পাম্প (খখচ) স্থাপনের মাধ্যমে পাশ্ববর্তী এলাকায় সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের যে সব এলাকায় ভ‚গর্ভস্থ পানির স্তর তুলনামূলকভাবে বেশি নিম্নগামী হয়েছে সে সব এলাকায় খাস খাল/পুকুর/বিলের তলদেশে   জব-পযধৎমব স্থাপন করে  অয়ঁরভবৎ কে জরপয করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলে অয়ঁরভবৎ কে জরপয করার জন্য সর্বোপরি গঙ্গা ব্যারেজ স্থাপনের বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে কাজ করতে হবে।
৪. উঁম বিষষ (ঝড়ষধৎ ঊহবৎমরুবফ) এর মাধ্যমে বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ কার্যক্রম বিস্তৃত করতে হবে। এতে পরিমিত সেচের মাধ্যমে রবি ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে এক নবদিগন্ত উম্মোচিত হবে। এছাড়া অডউ পদ্ধতি ও সেচের পাইপ লাইন মেরামত ও সম্প্রসারণ করে সেচের পানি সাশ্রয় করা যেতে পারে। এ ছাড়াও রাত ১১টা হতে সকাল ৭টা পর্যন্ত সেচ পাম্প চালানো ও সেচের ক্ষেত্রে প্রি-পেইড মিটারিং পদ্ধতি চালু করলে সেচের পানি সাশ্রয় হবে।
৫. প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গধংংরাব চষধহঃধঃরড়হ চৎড়লবপঃ বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে ঈড়সসঁহরঃু অভভড়ৎবংঃধঃরড়হ পদ্ধতি উল্লেখযোগ্য ভ‚মিকা রাখতে পারে।
৬. বরেন্দ্র অঞ্চলে ঐবধঃ ঞড়ষবৎধহপব জরপব ঠধৎরবঃু প্রবর্তন করাসহ ঈৎড়ঢ় উরাবৎংরভরপধঃরড়হ করতে হবে। অল্প সেচ প্রয়োজন এরূপ ফসল চাষে কৃষকদেরকে ব্যাপক      গড়ঃরাধঃরড়হ করতে হবে।
৭. ব্যক্তি উদ্যোক্তা/বিভিন্ন শিল্প কারখানা পর্যায়ে এৎড়ঁহফ ডধঃবৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ গড়হরঃড়ৎরহম ও আইন প্রণয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই স্বপ্ন বরেন্দ্র অঞ্চলের    কৃষকদের দ্বারা বাস্তবায়ন ও পূরণ হবে বলে আমরা আশাবাদী।য়


সাবেক এমপি ও চেয়ারম্যান, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃৃপক্ষ (বিএমডিএ), রাজশাহী, মোবাইল-০৭২১৭৬০৫০৯,                    ই-মেইল : chairman@bmda.gov.bd

 


Share with :

Facebook Facebook