কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

মুজিববর্ষে কৃষিতে আঞ্চলিক সমন্বয়ে প্রাসঙ্গিক ভাবনা

ড. এস.এম. আতিকুল্লাহ
আগামীর উন্নয়নের জন্য কৃষি বিকাশের কোনো বিকল্প নেই। উন্নয়নধারায় আঞ্চলিক সমন্বয় এবং হাবভিত্তিক পরিকল্পনা এ দুটি শব্দ ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে দাতাসংস্থা উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে হাব শব্দটি বেশি ব্যবহার করে থাকে।  এজন্য দাতা সংস্থা আঞ্চলিক সমন্বয় ও পরিকল্পনার প্রতি বেশ জোর দিচ্ছে। হাব বলতে একটা ছোট পরিসরকে বুঝানো হয় যেমন নিঝুম দ্বীপ। পক্ষান্তরে অঞ্চল শব্দটি কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে সমতল ভ‚মি অঞ্চল। কোন অঞ্চলের অর্থনৈতিক কাঠামো মজবুত হলে সমগ্র দেশের অর্থনীতি মজবুত হয়। আবার কোনো একটি অঞ্চলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে খামার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এ দু’টি ক্ষেত্রেই টেকসই উৎপাদনের ধারা ও কৃষকের স্বার্থরক্ষায় আঞ্চলিক সমন্বয় ও পরিকল্পনা একান্ত দরকার। অবশ্য বাংলাদেশের কৃষিতে অঞ্চলভিত্তিক কার্যক্রম প্রচলিত চালু আছে।
কৃষিতে ঘনীভূত সমস্যা ও সাফল্যের অন্তরালে
সসম্যার অন্তরালে : খাদ্য উৎপাদন ও মাথাপিছু পুষ্টি প্রাপ্যতায় আঞ্চলিক বৈষম্যতা ও দারিদ্র্যের হার বেশ কয়েকটি অঞ্চল বেশ প্রকট হয়েছে। এক সময়ের সুফলা বরিশাল বিভাগের চরাঞ্চলে খাদ্য পরিস্থিতি নাজুক;  খাদ্য নিরাপত্তার সূচকে পশ্চাতপদ ও অনিশ্চিত। আবার রংপুর এবং জামালপুর অঞ্চলের মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় আক্রান্ত। বলা হয়, ‘জ্যৈষ্ঠ নেবো বাগান বাড়োয় আষাঢ় নেবো কাঁঠালে’। গ্রামের ধনী, মধ্যবিত্ত ও গরিব পরিবারগুলোর মধ্যে জমি ও খাদ্যগ্রহণের বৈষম্য স্পষ্টতর হচ্ছে। এখনো অনেক পরিবার নিজের আয়ে বছরে গরুর মাংস ও আস্ত ডিম খেতে পারে না। সকল অঞ্চল ও মানুষের খাদ্যের মৌলিক চাহিদা সমানুপাতিক হওয়া উচিত। তা না হলে প্রজন্ম নীরব পুষ্টি হীনতায় ভুগবে যা বংশ পরম্প্ররায় বহন করতে হবে। পাশাপাশি সমতাভিত্তিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। বাধাগ্রস্ত হবে আগামীর শিক্ষা ও মেধা বিকাশ। একদিকে খাদ্যেভেজাল ও রাসায়নিক মিশ্রণ। অন্যদিকে বৈরী জলবায়ু ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে অঞ্চল ভিত্তিক প্রভাব বেশ জটিল হয়ে উঠছে। পরিবর্তিত পরিবেশ ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক বিপর্যয় কৃষকের সংকট বাড়িয়ে দেয়। বৈশি^ক পরিবর্তন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস বিলোপ, ক্রমান্বয়ে কৃষকের দৈনতা প্রকট হয়ে উঠছে। ইউএনডিপি পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দক্ষিণের চরাঞ্চলের প্রতিটি পরিবারে বা বাড়িতে একজন সদস্য হয় মারা গেছেন নয় কোন জখমপ্রাপ্ত  অথবা কর্মক্ষম নয়। এই অঞ্চলগুলিই আগামীর খাদ্য চাহিদা পূরণে ভূমিকা পালন করতে পারে। লবণপ্রবণ এলাকায় গবাদিপশু পালনে তেমন গতি নেই। শুধু সিলেট, বরিশাল অঞ্চলের পতিত ও প্রান্তিক জমি কাজে লাগিয়ে ফসলের বহুমুখীকরণ একমাত্র আঞ্চলিক ও হাবভিত্তিক কর্মসূচির/প্রকল্পের মাধ্যমেই সম্ভব। এই লক্ষ্যে দারিদ্র্যবিমোচন, পরিবেশ সংরক্ষণ, পানি ব্যবস্থাপনায়, মৎসচাষে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার।
আশার কথা ইতোমধ্যে সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে শুরু করলেও অঞ্চলভিত্তিক বা হাবভিত্তিক সমন্বয়ের অভাবে তা বেশ প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারছে না। তাই কৃষি উন্নয়নে অঞ্চলভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করা, অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সমাধানের পথ খুঁজে বের করা দরকার। সুসংহত আঞ্চলিক সমন্বয় যথাসময়ে সম্পদ বণ্টন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের পথনির্দেশনা দেয়। এই সমন্বয়             কৃষকদের অঞ্চলভিত্তিক নানা ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা ও সামাজিক এবং প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান দিতে পারে।  
সাফল্যের অন্তরালে : বাংলাদেশে কৃষি বিবর্তনের ধারা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় আজকাল খোরাকি কৃষি পরিবর্তন হয়ে বাণিজ্যিক কৃষি ধারা প্রবর্তিত হয়েছে। কৃষির আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অঞ্চলভিত্তিক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকের জন্য নানা ধরনের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও বাজারমুখী সেবা ও সহায়তা প্রদানের জন্য সংগঠন তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানসমূহ নানা ধরনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও স¤প্রসারণ করে যাচ্ছে। স¤প্রসারণ কৌশলেও ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। আধুনিক উপকরণ যেমন সেচযন্ত্র, সার, বীজ, কীটনাশক ইত্যাদি উৎপাদন ও সরবরাহ ভর্তুকিসহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। নানাজাতীয় খাদ্য ধান, গম ও ভুট্টার গবেষণার জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠান। ফল ফসলসহ মসলা, গবাদিপশু ও মৎস্য গবেষণায় বেশ কিছু অঞ্চলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। এ সব প্রতিষ্ঠান অঞ্চলভিত্তিক প্রযুক্তি ও কৌশল উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি পণ্যের বাজারমান নিয়ন্ত্রণ করছে। পণ্যের মান নিশ্চিত করা, বাজারমূল্য পর্যবেক্ষণ করাসহ নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত কাজ করছে।
পাশাপাশি কৃষি শিক্ষার জন্য প্রতিটি অঞ্চলে কৃষি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এগুলোসবই হচ্ছে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, ক্রমহ্রাসমান আবাদি জমি এবং পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য। এ কথা সত্য এইসব সমষ্টিগত আঞ্চলিক ও জাতিগত প্রচেষ্টার সম্মিলিত ফলাফল হচ্ছে দেশে খাদ্য সংকট চিরতরে হটিয়ে দেয়া। গ্রামে খাদ্যের হাহাকার নেই। কোন কোন ফল-ফসল ইত্যাদি রপ্তানি হচ্ছে। খামারির প্রচেষ্টা, সম্প্রসারণ কর্মীর ভূমিকা, বিজ্ঞানীদের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ঐকান্তিক প্রয়াসেই কৃষিতে আমুল পরিবর্তন হয়েছে। অচিন পাড়াগায়ের বাজারে নানা জাতের চাল, রকমারি সবজি, দুধ, ডিম, সবই মিলে। সরবরাহের ঘাটতি নেই উৎপাদন হলে তো সরবরাহ বাড়বে। ঠিক তাই হচ্ছে। তাই বাংলাদেশ আজ ধান উৎপাদনে বিশ্বের চতুর্থ, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, মাছ উৎপাদনে পঞ্চম এবং আম ও পেয়ারা উৎপাদনে যথাক্রমে নবম ও দশম।
পথের বাধা সরিয়ে কৃষকের আগমনে করণীয় : কিন্তু উৎপাদনের এই ধারাকে স্থায়িত্ব রূপ দিতে হবে। ১) উৎপাদন খরচ কমিয়ে লাভজনক সাশ্রয়ী কৃষি প্রবর্তন করতে হবে। ২) অঞ্চলভিত্তিক সমন্বয়। ৩) বাণিজ্যিক ও রপ্তানিমুখী কৃষির ধারা প্রবর্তন। ৪) অঞ্চলভিত্তিক এবং ফসলভিত্তিক কৃষকের সংগঠন তৈরি। মোটের ওপর মাটির ওপর চাপ কমিয়ে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে হবে। বিষমুক্ত নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, ফসল আহরণ পরবর্তী অপচয় কমিয়ে আনা এগুলো হলো কৃষির আগামীর চ্যালেঞ্জ এবং তা আঞ্চলিক সমন্বয় বিশেষভাবে সফল হতে পারে।
মানবসম্পদ উন্নয়ন : মানবসম্পদ উন্নয়ন করতে কার্যক্রমগুলো এভাবে হতে পারে, আঞ্চলিক বিষয়ভিত্তিক মানবসম্পদ চিহ্নিত করা এ বিষয়ে যিনি কাজ করবেন এবং বিষয়ভিত্তিক কাজের সাথে খাপখাইয়ে নেয়া, কতগুলো জ্ঞান ও দক্ষতায় নিজেকে দক্ষ করা, যা সাধারণ শিক্ষায় অর্জন করা সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ মানবসম্পদ নতুন সমস্যার মোকাবেলায় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করা এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনীর সাথে দৃঢ়ভাবে লেগে থাকা। বিষয়ভিত্তিক মানবসম্পদকে চিহ্নিত করা আবার তিনি বদলি হলে তার বিকল্প তৈরি করা।
অঞ্চলভিত্তিক জাতিগোষ্ঠী, ফসলের জাত, মাটির প্রকৃতি, নদী, পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ ইত্যাদি সম্পদের তারতম্য বিদ্যমান। তাই কৃষি উন্নয়নে আঞ্চলিক পরিকল্পনার কথা জোরেসোরে বলা চচ্ছে। সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষকের ইচ্ছা ও উদ্যমের অভাব না ঘটলে দেশের আগামীর খাদ্য চাহিদার উপযুক্ত সমাধান সম্ভব হবে না।
মতামত ও পর্যালোচনা
ষ কৃষিতে সমস্যার সমাধান কয়েক দিনের বিষয় নয়, এজন্য স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার।
ষ    কৃষি ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও করণীয় সম্পর্কে আঞ্চলিক দলের (কৃষি, মৎস, পশুসম্পদ, পাট, গম, মসলাভিত্তিক) সমন্বয় কার্যকর প্রস্তুতির ও পদক্ষেপ নেয়ার সামর্থ্য থাকা। অঞ্চল কি নির্দেশনা দেয় তা মেনে চলা দরকার।
ষ অবহেলিত জনপদের জন্য সংবেদনশীল উন্নয়ন বরাদ্দ। অর্থনৈতিক মানদÐে পশ্চাৎপদ এই জনগোষ্ঠীর জন্য অঞ্চলভিত্তিক কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনায়, নতুন প্রকল্প তৈরি ও বিশেষ কৃষি বরাদ্দ রাখা দরকার।
ষ প্রসঙ্গত জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজেট প্রণয়নের বিষয়ে কৃষকের অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা ও    কৃষকের অংশগ্রহণ।   
ষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ও পরবর্তিতে কৃষকের প্রয়োজন হয় দিকনির্দেশনার। এজন্য কৃষকের সামর্থ্য বৃদ্ধি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা আঞ্চলিক সহায়তা প্রদান।  
ষ সরকার থানা পর্যায় ধান,পাট সংগ্রহের মূল্য নির্ধারণ করে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে। আঞ্চলিক সমন্বয় শক্তিশালীকরণ এর খানিকটা উপশম দিতে পারে।
ষ দেখা যায় প্রযুক্তি থাকা সত্তে¡ও অনেক কৃষকের চাষ পদ্ধতি অবৈজ্ঞানিক, তাই মাংস, হাস-মুরগি ও পশুপালন চাষি ও খামারিদের সংগঠন বিনির্মাণ অবশ্যক।
ষ    কৃষি পরিবেশ অঞ্চল এবং লবণাক্ততার মাত্রা ও খরার তীব্রতার উপর ভিত্তি করে শস্যবিন্যাস এবং বহুমুখীকরণের বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া।  
ষ খরা প্রতিরোধী জাত ব্যবহার, আগাম চাষ, পানি সংরক্ষণ ইত্যাদি ইতিবাচক কাজ করার জন্য কৃষককে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
ষ    মাঠ পর্যায়ে কৃষি পরামর্শকেন্দ্রে কৃষক আসার জন্য উপযোগী আস্থা তৈরি করতে হবে। কৃষি স¤প্রসারণের মাঠকর্মীর দক্ষতা বিশেষ করে ডিপ্লোমা ও স্নাতক পর্যায়ের কৃষি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের কাঠামো ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন করা দরকার।
ষ    বসতবাড়ির চারিদিকে বিজ্ঞানভিত্তিক ভ‚নীতি অনুসরণ করে কৃষি-বনায়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার ।
ষ কৃষি পণ্য স্থানীয় বাজারে বেচাকেনা হয় এবং তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় মোকামগুলোতে ফসল সংরক্ষণাগার, কোল্ডস্টোরেজ তৈরি। স্থানীয়পর্যায়ের হাটবাজার ও মোকামগুলোর অবকাঠামোর উন্নতি সাধন, বিদ্যুতায়নের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া।
ষ    কৃষি ক্ষেত্রে তথ্য বিভ্রাট ও শূন্যতা সৃষ্টি পরিকল্পনা প্রণয়নের ত্রæটি থেকে যায়। আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কৃষকদের সঠিক তথ্য দেয়া। আঞ্চলিক তথ্যভাÐার তৈরি করা।  
ষ আগামীর কৃষির কথা বললে, অঞ্চলিক “ক্লাইমেট স্মার্ট” কৃষির পরিকল্পনা করা দরকার। অঞ্চলভিত্তিক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে। বন্যা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সমন্বিত কৃষি-মৎস্য-পশুসম্পদ গবেষণা এবং তা মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ আগামী দিনের দাবি।
ষ সরকারি গবেষণার পাশাপাশি বেসরকারি গবেষণার সংগঠন তৈরি।
ষ    ক্ষেতে পরিমিত মাত্রায় সুষম সার, ওষুধ প্রয়োগের নীতি পতিপালন ও অনুসরণ আঞ্চলিকভিত্তিক সমন্বয় থাকা দরকার।
একটা চীনা প্রবাদ আছে, জাতীয় উন্নতি ও সমৃদ্ধি হলো গাছের ন্যায়, কৃষি তার মূল, শিল্প তার শাখা এবং বাণিজ্য তার পাতা। সুতরাং মূলে কোন ক্ষত দেখা দিলে তা গোটা গাছটি ধ্বংস করে। জমি, জল, জনসংখ্যা আগামীর কৃষির একটি ঘনীভূত সমস্যা এবং সম্ভাবনা। প্রতি বছর ২০ হাজার হেক্টর চাষযোগ্য জমি হ্রাস ও ২৫ লাখ জনসংখ্যা বৃদ্ধি, পাশাপাশি পরিবর্তিত পরিবেশ এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক বিপর্যয় কৃষি-কৃষক একটি সংকটের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। এ সংকট মোচনের পূর্ব শর্ত হলো কৃষিতে স্থানীয় সম্পদ,  পুঁজি, প্রযুক্তি, উপকরণ ও মানবসম্পদের সুষম বিন্যাস ও ব্যবহার। আগামীর কৃষির কথা বললে কৃষি অঞ্চল তথা গ্রামের কৃষি, অর্থ, স্বাস্থ্য, পানি, বাসস্থান, জমির ব্যবস্থাপনার একটা সমষ্টিগত রূপ বিশ্লেষণ করতে হবে এবং অঞ্চলকে নিয়ে সুষ্ঠু পরিকল্পনা করার সময় এখনই তার চেয়েও বড় কথা রাষ্ট্রীয় নীতিতে কৃষি উন্নয়নের রাজনৈতিক অঙ্গীকার সমন্বত রাখা। অন্যদিকে আমাদের পূর্বে কৃষি, বন, মৎস্য সংক্রান্ত নীতিমালা ছিল না। আজ তা প্রণয়ন করা হয়েছে; তাই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কৃষকের স্বার্থ সরক্ষায় অন্তরায় সৃষ্টি করলে তার শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আবার নীতি, বিধান থাকলেও  ইটভাটার মালিকদের তুলনায় কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভ‚মিহীন  কৃষক।
সুতরাং মুজিব শতবর্ষে আমাদের করণীয় স্বপ্ন তিনটে হওয়া দরকার একটি হলো ১) পরিবেশসম্মত উপায়ে উৎপাদনের চাকা ঘুরিয়ে দেয়া ২) কর্মসংস্থানের অবারিত সুযোগ উন্মুক্ত করা ৩) কৃষিকে রপ্তানির দিকে ঠেলে দেয়া। তাই প্রান্তে এসে বলি, ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। জুলি ও কুড়ি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৩ ফেব্রæয়ারি ১৯৭৩ কৃষিবিদ ক্লাস ওয়ান। তার পরিপ্রেক্ষিতেই বর্তমানে এক পাল কৃষি বিজ্ঞানি, ব্রিডার, ডকটর, সম্প্রসারণ কর্মী তৈরি হয়েছে। সবুজ বিপ্লবের জনক নরম্যান ই. বোরলগ, ইমেরিটাস নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেন, সবাই এক সুতায় কৃষকের গাথামালা। পালের গোদা, পুবের হাওয়া, প্রভাতের সূর্য, টুঙ্গিপাড়ার শিকড় থেকে বয়ে আসা চন্দ্র কিরণ সোনালী আসের কন্যা, তুমি কৃষকের হাসি। তিনিই পারেন প্রচেষ্টার আকড়ে খাদ্য নিরাপত্তার নিগড়, কৃষকদরদি “দেশ রতœ শেখ হাসিনা”, সাবাস বাংলাদেশ।  য়

এগ্রিকালচার স্পেসালিস্ট (আইডবিøউএম), পিতা শাহ মৌলভী আহম্মদ আলী, গ্রাম পো. কালিশুরী, বাউফল mdatikullah@yahoo.com,  ০১৭১২৮৮৯৯২৭


Share with :

Facebook Facebook