কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

কবিতা (শ্রাবণ ১৪২৬)

নিরাপদ খাদ্য ও কীটনাশক

ড. মোঃ আলতাফ হোসেন১


কীটনাশক নাশ করে শুধু মাত্রই পোকা    
আমরা যদি ভাবি তাই- খেয়ে যাবো ধোঁকা।
কীটনাশক করলে স্প্রে- কোথায় যাচ্ছে সে?
ভাবতে হবে সবাইকে!
ক্ষতিকারী পোকা মরে যায়, বন্ধু পোকারও রেহাই নাই
গাছ শোষণ করে বিষ, চলে যায় তা শস্যদানায়।
খড়ভুসি গবাদি খায়, দুধ-মাংসেও বিষ যায়
জান্তে-অজান্তে খাচ্ছি বিষ-‘সবারই জানা চাই’।
আবার বৃষ্টিতে ভিজে গাছ, বিষ মিশছে মাটিতে
উপকারী অনুজীব, সে-ও পারছে না বাঁচিতে।
কেঁচো মরে, ব্যাঙ মরে আরও মরে বন্ধু পোকা ও পাখি
সেই সাথে ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের কথাটাও বলে রাখি।
বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে বিষ চলে যায় খাল, বিল ও নদীতে
সেখানে সে বাসা বাঁধে ফাইটোপ্লাঙ্কটন ও শ্যাওলাতে।
ফাইটোপ্লাঙ্কটন মাছের খাদ্য আরও আছে শ্যাওলা
বিষ যাচ্ছে মাছের পেটে শুনুন সবাই ভাইয়েরা!
আমরা মাছ খাই, বিষ তাহলে কোথায় যায়?
ভাবতে হবে কথাটা সবাই।
শাকসবজি ফসলে প্রায় প্রতিদিনই করা হয় স্প্রে
সকাল, বিকাল কিংবা রাত্রিতে।
ক্ষতিকর পর্যায়ে পোকা আছে কিংবা নাই
সেটা বিবেচনার তোয়াক্কা কারো নাই।
করতে হবে স্প্রে, তুলতে হবে ফসল
লাভটাই যেন আসল!
শাকসবজি খাওয়া হয়-কাঁচা অথবা রান্না করে
এর জন্য অধিক সতর্কতা রাখা উচিত ধরে।
কিন্তু দেখা যায় উল্টো চিত্র
সতর্কতার নেই কোন দৃশ্য!
গাছপাকা ফল খেতে ভারি মিষ্টি
টস্টসে রসে ভরা আছে অনেক পুষ্টি।
কিন্তু কাঁচা ফল পাকানো হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে
নিরাপদ ফলাহারের নিশ্চয়তা দিবে আসলে কে?
কীটনাশক করলে স্প্রে, খাদ্য শৃঙ্খলে মিশছে সে
গাছ, মাছ, গবাদি ও পাখিতে খাদ্যের মাধ্যমে যাচ্ছে সে
আমরা খাচ্ছি সবাইকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত কোথায় যাচ্ছে সে?
ভাবতে হবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে।
কীটনাশকের জৈব বিবর্ধন হচ্ছে আমাদের শরীরে
অনেক রোগ ব্যাধি হচ্ছে কীটনাশকের কারণে।
গ্যাস্ট্রিক, আলসার, ক্যান্সারসহ বহুবিধ রোগের-
কারণ হচ্ছে সে ধীরে ধীরে।
কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন আছে কিংবা নাই
বিবেচনা না করে প্রয়োগ হচ্ছে দেদার ভাই।
এগুলো দেখার যেন কেউ নাই
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমরা আসলে যাচ্ছি কোথায়!
যথেচ্ছা কীটনাশক স্প্রে করাটা হয়েছে এখন এক ম্যানিয়া
সেখান থেকে আমরা বেড়িয়ে আসতে পারব কি না জানি না!
যদিও ইদানীংকালে জৈব কীটনাশকের উদ্ভাবনে-
কিছুটা কমেছে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার
তবে আরও বাড়াতে হবে জৈব কীটনাশকের সমাহার।
বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, রাজনীতিক, প্রশাসক, লেখক ও শিক্ষক
সবাইকে বলে যাই- কীটনাশকের ভয়াবহতা থেকে পরিত্রাণের আরও উপায় খুঁজে দেখবেন ভাই।
পোকামাকড় প্রতি বছর করে নেয় হরণ
ফসলের অন্তত গড়ে প্রায় ২০ ভাগ ফলন।

 

কাঠুরিয়া ও পথিক
মোঃ মাজাহারুল ইসলাম২

ফসলের কাঙ্খিত ফলন পেতে
প্রয়োজন মতো কীটনাশক হয় দিতে।
কাঠুরিয়া কুঠার হাতে
বৃক্ষ নিধনে যায়
তা দেখে সুবোধ পথিক
বলে হায় হায়!
গাছ কেটো না ভাই
জীবন রক্ষার সবই মোরা
গাছ থেকেই পাই।
সবই! এ কি কথা বলে
কাঠুরিয়া সুধায় পথিকে
চোখ কপালে তোলে।
পথিক বলে, শুনো তবে-
‘মোদের শ^াসের অক্সিজেন
গাছ বাতাসে ছাড়ে,
প্রশ^াসের কার্বন-ডাই অক্সাইড
গাছে গ্রহণ করে।
মাটি ও বায়ুর বাড়তি তাপ
গাছ যে শোষণ করে,
তাপমাত্রা না বাড়িয়ে পরিবেশ
ঠা-া ও নির্মল রাখে।
পানি ও বায়ু মাটি দূষণসহ
ভূমিক্ষয় করে রোধ,
বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ছাড়াও
বহু প্রাকৃতিক দুর্যোগ করে প্রতিরোধ।
ফুল ফল কাঠ ঔষধ ছাড়াও
গাছ থেকে কত কি পাই!
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়
গাছের জুড়ি নাই।’
সব সমর্থনান্তে পথিককে বলে কাঠুরিয়া
আমার বাসস্থান আসবাব তৈরি করব কি দিয়া?
উত্তরে পথিক বলে-
প্রয়োজনে গাছ কাটো ভাই,
তবে একটি কেটে ঐ স্থানে
দুটি লাগানো চাই।

১প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ডাল গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, ঈশ্বরদী, পাবনা, মোবাইল নং- ০১৭২৫-০৩৪৫৯৫ ২ উপসহকারী কৃষি অফিসার, মুরাদনগর, কুমিল্লা। মোবাইল : ০১৮১৮২৮৮৫১৭, ই-মেইল : mazhar517@gmail.com

 

 


Share with :

Facebook Facebook