কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

ফল উন্নয়নে আধুনিক জাত ও প্রযুক্তি

মানুষের পুষ্টি ও সুষম খাবারের জন্য ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং একটি সুস্থ জাতি বিনির্মাণে ফল চাষ সম্প্রসারণ তথা ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। ফল পুষ্টি উপাদানের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার এবং আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, আঁশ এবং প্রচুর উপকারী হরমোন ও ফাইটোকেমিক্যালস প্রদান করে শরীরকে বিভিন্ন রোগবালাই থেকে সুরক্ষা প্রদান করে, যা সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। ফল ঔষধি গুণাগুণে সমৃদ্ধ বিধায় একে ‘রোগ প্রতিরোধী খাদ্যও’ বলা হয়। ফলের অধিক উৎপাদন এবং এর প্রক্রিয়াজাতকৃত দ্রব্য যেমন একদিকে অধিক মুনাফা উপার্জনে সহায়তা করে অপরদিকে দানাজাতীয় খাদ্য শস্যের গ্রহণকেও (intake) পর্যাপ্ত পরিমাণে হ্রাস করে, যা বাংলাদেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করছে। প্রায় ৭০ প্রজাতির ফল এদেশে জন্মে এবং যার অধিকাংশই উচ্চমাত্রায় পরপরাগায়িত (cross pollinated)। প্রতিটি প্রজাতিতে আবার রয়েছে প্রচুর ভিন্নতা (variability)। যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের অভাবে কিছু কিছু প্রজাতি ইতোমধ্যে প্রকৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। দেশে বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ জার্মপ্লাজম থেকেই উন্নতমানের জাত উদ্ভাবন তথা ফলের উন্নয়ন সম্ভব। ফলের উন্নয়নের জন্য সচরাচর ব্যবহৃত পদ্ধতিসমূহ সংক্ষেপে নিম্নে বর্ণিত হলো।


প্রবর্তন (Introduction)
প্রবর্তন বলতে সচরাচর বুঝায় একই বা ভিন্ন মহাদেশ এর অন্তর্ভুক্ত অন্য কোন দেশ থেকে ফল গাছ এনে স্থানীয় পরিবর্তিত আবহাওয়ায় খাপ খাওয়ানো। এমনকি এটি একই দেশের ভিন্ন জেলায় বা প্রদেশেও হতে পারে। এটি দুইভাবে হতে পারে-

 

সরাসরি প্রবর্তন : প্রবর্তিত গাছ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে মূল্যায়নের মাধ্যমে সরাসরি জাত হিসেবে মুক্তায়ন।
 

সেকেন্ডারি প্রবর্তন : এক্ষেত্রে প্রবর্তিত গাছ থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে অথবা সংকরায়নের পর পুনরায় মূল্যায়নের মাধ্যমে জাত হিসেবে মুক্তায়ন।

নির্বাচন (Selection)
প্রকৃতিতে জন্মানো অতি উত্তম গুণাবলিসম্পন্ন চারা চাহিদানুযায়ী বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সংগ্রহ করে  যথাযথভােেব বৈশিষ্ট্যকরণ (characterization) এবং মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্বাচিত জার্মপ্লাজমকে জাত হিসেবে মুক্তায়নই হচ্ছে নির্বাচন। নির্বাচনের মাধ্যমে জাত উদ্ভাবনের জন্য উত্তম প্রজনন স্টক অপরিহার্য।

১। প্রকৃতিতে যে সকল অতি উত্তম গুণাবলি সম্পন্ন চারা (chance seedling) দেখতে পাওয়া যায় সেগুলো নির্বাচন করা।
২। সবচেয়ে ভালো নির্বাচিত জার্মপ্লাজম /জাতসমূহের অযৌন পদ্ধতিতে বংশ বিস্তার করা।
৩। নির্বাচিত জাতগুলোর আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি যা তাদের ফলন ও অন্যান্য গুণাবলি বৃদ্ধি করবে তার উদ্ভাবন তথা উন্নয়ন করা।
৪। সবচেয়ে ভালো নির্বাচনগুলোর মধ্যে সংকরায়ন করা এবংপুনরায় উত্তম প্রজন্মকে (offspring) জাত হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্বাচন (selection) করা এবং পরবর্তীতে মাতৃ (parent) গাছ হিসেবে ব্যবহার করা এবং এই প্রক্রিয়া পুনঃ পুনঃঅনুসরণ করা।


ফলের প্রজনন স্টকের (breeding stock) (বিভিন্ন ক্রস থেকে পাওয়া পরিবারসমূহ) পরিমাণগত জেনেটিক্স (quantitative genetics) থেকে জানা যায় যে, ফলের উন্নয়নের জন্য এতে প্রচুর জেনেটিক পটেনশিয়াল (potential) রয়েছে এবং এক্ষেত্রে নির্বাচন হচ্ছে ফলের জাত উন্নয়নের জন্য একটি সবচেয়ে দক্ষ পদ্ধতি। অনেক প্রাচীন দেশীয় ফলের জাত রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধী জিন বহন করে। সে সমস্ত জিনকে প্রচলিত প্রজনন প্রক্রিয়ায় সংবেদনশীল (susceptible) জাতে স্থানান্তর করে ফলের রোগ পোকা-মাকড় প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন করা যেতে পারে।


সংকরায়ন (hybridization)
দুটি মাতৃগাছের মধ্যে সংকরায়নের মাধ্যমে উৎপন্ন স্বতন্ত্র উদ্ভিদগোষ্ঠীর চারা থেকে উন্নত জাত উদ্ভাবনের জন্য উন্নতমানের ফলগাছ পাওয়া যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে উচ্চফলনশীল, উন্নত গুণগতমানসম্পন্ন, রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধী এবং প্রতিকূল পরিবেশ (বন্যা, খরা এবং লবণাক্ততা) সহনশীল ফলের জাত হিসেবে মুক্তায়ন করা সম্ভব হবে। ফুলের বায়োলজি, সংশ্লিষ্ট ফল সম্পর্কে সম্যক ধারণা, আবহাওয়াগত কারণ (যেমন- তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, সূর্যকীরণের তীব্রতা, বাতাস), মৃত্তিকাজনিত কারণ (ভূমির ধরন, মাটির প্রকৃতি ইত্যাদি), রোগবালাই, পোকামাকড় ইত্যাদির ওপর সংকরায়নের সাফল্য নির্ভরশীল। ফলের গুণগতমান বা অন্যান্য কোন গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সংকরায়নের মাধ্যমে পরবর্তী বংশধরে (offspring) স্থানান্তর করা হয়। যে সমস্ত গুণাবলি পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তর করতে হবে সে সমস্ত গুণাবলিসম্পন্ন মাতৃগাছ নির্বাচন করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, সংকরায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বারি আম-৪ নামক হাইব্রিড জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে।


মিউটেশন ব্রিডিং (Mutation breeding)
জেনেটিক মেটেরিয়াল এর কোন বৈশিষ্ট্যে হঠাৎ বংশানুক্রমিক স্থানান্তরযোগ্য পরিবর্তন ঘটানোকে মিউটেশন বলে। ফলের প্রজননবিদগণ প্রধানত জিন ও ক্রোমোসোম মিউটেশন বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। কিন্তু ফল গাছে জিনোম ও সাইটোপ্লাজমিক মিউটেশন ও ঘটে থাকে। কোন একটি প্লান্ট পপুলেশনে মিউটেশনের মাধ্যমে বৈচিত্র্য/বিভিন্নতা (variation) সৃষ্টি করা হয় যা নির্বাচনের একটি অন্যতম ভিত্তি। কিছু কিছু ফলে প্রচলিত (conventional) প্রজনন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য নয়। এছাড়া যে সমস্ত ফল গাছ বন্ধ্যা ফল তথা জাইগোটিক ভ্রণসহ বীজ উৎপাদন করতে সক্ষম নয় সে সমস্ত ফলের জাত উন্নয়নের একমাত্র পদ্ধতি হলো মিউটেশন প্রজনন। লেবুজাতীয় ফলের কিছু জাত এ এপোমিক্রিস প্রধানত দেখা যায়।


ফলের প্রচলিত প্রজনন পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে মিউটেশন প্রজনন কাজ করতে পারে-
১। প্রকৃতিতে ফলের কোন প্রজাতির যদি কম বৈচিত্র্য (variability) থাকে, ফলে নির্বাচনের মাধ্যমে জাত উন্নয়নের সুযোগ কম থাকে, তখন বৈচিত্র্য সৃষ্টির জন্য;
২। কোন নতুন বৈশিষ্ট্য যেমন- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, কাক্সিক্ষত বৃদ্ধির ধরন অথবা স্ব-অসামঞ্জস্যতা (self-incompatibility) ঘটানোর (induce) জন্য;
৩। অংগজ বংশবিস্তারের মাধ্যমে উৎপন্ন ও সংরক্ষণ করা;
৪। কোন অপ্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্যের সাথে স্থাপিত সংযোগ ভেঙে দেয়ার জন্য;
৫। দূরবর্তী সম্পর্কযুক্ত মাতৃগাছ (parent) এর মধ্যে অসামঞ্জস্যতা দূর করার জন্য এবং
৬। হ্যাপলয়েড তৈরি করার জন্য।


অধিকাংশ অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য যেমন- বৃদ্ধি, ফলন, ফলের আগাম পরিপক্বতা ইত্যাদি একাধিক জিন (polygenic) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এক্ষেত্রে নির্বাচনের দক্ষতা কার্যকারিতা কম কিন্তু মিউটেশনের কার্যকারিতা (efficiency) বেশি। প্রকৃতিগতভাবে ফল গাছে মিউটেশন ঘটে থাকে এবং এর ফলে ফলের বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাত বিশেষত লেবুজাতীয় ফলে সৃষ্টি হয়েছে, যা পূর্ববর্তী জাতকে সম্পূর্ণভাবে স্থানান্তরিত করেছে। এটি ফলের উন্নয়নে মিউটেশন ব্রিডিংয়ের গুরুত্বকে বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। তাই মিউটেশন পরবর্তীতে ফলের মিউটেন্ট নির্বাচন  ফলের জাত উন্নয়নের একটি শক্তিশালী টুল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
টিস্যু কালচার
কোন একটি উপযোগী মাধ্যমে (culture medium) (in vitro) টিস্যু এর বৃদ্ধিকে টিস্যু কালচার বলে। এটির ফলের উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ আছে যেমন- হেপ্লয়েড তৈরি, এমব্রায়ো রেসকিউ (embryo rescue), রোগবালাই, লবণাক্ততা, খরা ইত্যাদি প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন।

 

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
এ পদ্ধতিতে উদ্ভিদ এ জিন পৃথকীকরণ এবং প্রবর্তন করা হয়। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফলের রোগবালাই, লবণাক্ততা, খরা ইত্যাদি প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন করা যেতে পারে।
ফলের কৌলিসম্পদ (genetic resources) সংরক্ষণ
সারাবিশ্বে গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য যে সমস্ত ফলগাছ সংগ্রহ করে থাকে সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে। এই সংগ্রহসমূহ সচরাচর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় বাণিজ্যিক জাত হিসেবে মুক্তায়নের লক্ষ্যে যথাযথভাবে পরীক্ষা করার জন্য অথবা সংকরায়নে ব্যবহারের জন্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়। বর্তমানে ফলের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ বলতে প্রধানত যে সমস্ত প্রজাতির চাষ হচ্ছে সেগুলোকে সংগ্রহ করা বুঝায়। এক্ষেত্রে প্রচলিত প্রজাতিগুলোর পাশাপাশি অতি প্রাচীন (primitive) প্রজাতিগুলোও সুষ্ঠুভাবে রক্ষা করা দরকার। এছাড়া আলাদাভাবে প্রতিটি জেনোটাইপ সংরক্ষণের চেয়ে জিন পুল সংরক্ষণ করা উত্তম। দেশীয় ফলের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য আমাদের বর্তমানে যে সমস্ত জার্মপ্লাজমের বৈচিত্র্য রয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসমূহ যেমন- পোকা ও রোগবালাই প্রতিরোধী, বন্যা, খরা এবং লবণাক্ততা প্রতিরোধী ফলের জাত উন্নয়নে, আমাদের দেশে চাষ হচ্ছে এমন ফলসমূহে বন্য প্রজাতিসমূহ যাতে কৌলিতাত্ত্বিক বৈচিত্র্য রয়েছে, সেগুলোকে সংরক্ষণ করতে হবে।

 

আধুনিক জাত ও প্রযুক্তি
ফলের উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে আধুনিক জাত ও ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি এর ভূমিকা অপরিসীম। ফল বিভাগ, উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, গাজীপুর উষ্ণ এবং অবউষ্ণম-লীয় ফলের উপর নিবিড় গবেষণা পরিচালনা করে আসছে এবং তারই ধারাবাহিকতায় অদ্যাবধি ৩৪টি ফল প্রজাতি যেমন- আম-১১টি, কাঁঠাল-৩টি, কলা-৫টি, পেঁপে-১টি, লিচু-৫টি, পেয়ারা-৪, লেবু-৫টি, কাগজিলেবু-১টি, জারালেবু-১টি, বাতাবিলেবু-৬টি, মাল্টা-২টি, কমলালেবু-৩টি, সাতকরা-১টি, কুল-৫টি, সফেদা-৩টি, নারিকেল-২টি, আমড়া-২টি, কতবেল-১টি, কামরাঙা-২টি, লটকন-১টি, জামরুল-৩টি, আঁশফল-২টি, আমলকী-১টি, বিলাতিগাব-১টি, তৈকর-১টি, জলপাই-১টি, বেল-১টি, নাশপাতি-১টি, প্যাশনফল-১টি, মিষ্টি তেঁতুল-১টি, মিষ্টি লেবু-১টি, রাম্বুটান-১টি, স্ট্রবেরি-৩ টি, ড্রাগনফল-১টি, আ্যাভোকেডো-১টি এর সর্বমোট ৮৪টি জাত ও ১২টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে যার অধিকাংশই সারা দেশে এবং কিছু কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে চাষাবাদের জন্য উপযোগী। বারি আম-৪ সংকরায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বারি কর্তৃক উদ্ভাবিত আমের একটি হাইব্রিড নাবী জাত। ইতোমধ্যে বিএআরআই কর্তৃক উদ্ভাবিত কিছু জাত যেমন- বারি মাল্টা-১, বারি আম-৪, বারি পেয়ারা-২ সারাদেশে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত ও কৃষক কর্তৃক সমাদৃত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে দেশে ফলের উৎপাদন বাড়ছে। আমাদের দেশে সারা বছর প্রয়োজনীয় ফলের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন এখনও অনেক কম এবং এ ঘাটতি বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে মিটানো হয়। ফলের বিদ্যমান ঘাটতি মেটানো এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে প্রয়োজন উচ্চফলনশীল জাত, উৎপাদন প্রযুক্তি এবং সঠিক পরিকল্পনা। তাই ফল গবেষণায় অধিক গুরুত্ব প্রদান করা প্রয়োজন। ফলের কম উৎপাদনশীলতার অন্যতম কারণসমূহ হলো-

 

* উন্নত জাতের পরিবর্তে স্থানীয় (কম উৎপাদনশীল) জাতসমূহের অধিক ব্যবহার (অধিকাংশ বীজের গাছ)
* আধুনিক ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি এর ব্যবহার খুবই কম এবং
* উন্নত জাতের গুণগত মানসম্পন্ন চারা/কলমের অপ্রতুল উৎপাদন ও বিতরণ।

 

পরিশেষে বলা যায়, ফলের উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে বারি উদ্ভাবিত আধুনিক জাত ও এদের উৎপাদন প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য কৃষকদের মাঠে প্রদর্শনী বাগান স্থাপন, প্রদর্শনী বাগান এবং গবেষণা কেন্দ্রে মাঠ দিবসের আয়োজন এবং ফলের আধুনিক উৎপাদন কলাকৌশল সম্পর্কিত ফ্যাক্টশিট/লিফলেট/ ফোল্ডার/বুকলেট ফল চাষিদের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, চলতি বছরে বারি কর্তৃক ‘আম উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তি’ শীর্ষক একটি ফ্যাক্টশিট প্রস্তুতপূর্বক আম উৎপাদন এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে কৃষক এবং মাঠ পর্যায়ের সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের মাঝে বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ গ্রহণ করা হয়েছে।


প্রতি বছর স্থানীয় জাতের পরিবর্তে (কম উৎপাদনশীল) উন্নত জাতের পর্যাপ্ত পরিমাণে মানসম্পন্ন কলমের চারার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। ফলশ্রুতিতে, দেশে গুণগত মানসম্পন্ন ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, যা মানুষের পুষ্টিচাহিদা মিটানোর পাশাপাশি, বাড়তি আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

 

ড. বাবুল চন্দ্র সরকার

মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (অ. দা.), ফল বিভাগ, উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, বারি, গাজীপুর ও সাবেক ফুলব্রাইট ভিজিটিং স্কলার (পোস্ট ডক্টরেট, ইউএসএ)। মোবাইল : ০১৭১৬০০৯৩১৯


Share with :

Facebook Facebook