কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

নগর কৃষি ও ফল চাষ

ঢাকা শহরে কমপক্ষে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ ছাদ রয়েছে (সাড়ে চার হাজার হেক্টরের বেশি) যা দেশের কোন একটি উপজেলার সমান বা বেশি। যেখানে বাসস্থান, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস-আদালত, ব্যাংক, শপিং মল, কনভেনশন সেন্টার ইত্যাদি বেশি। বিল্ডিং কোডে ২০% সবুজ থাকার কথা থাকলেও মানার বিষয়টি আশাব্যঞ্জক নয়। শহরবাসীর পুষ্টির বিষয়টি মাথায় নিলে ফল চাষ অত্যাবশ্যকীয় বিষয় হলেও সবজি, ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছ-পালা লাগানোর পরিমাণ শহরে তুলনামূলক বেশি। এটিও আশার বিষয় যে, নগরে সবুজের পরিমাণ বাড়ছে, কিন্তু এর সাথে সাথে পুষ্টি পাওয়ার বিষয়টি গুরুত¦ সহকারে ভাবতে হবে এবং তা এখনই করার উপযুক্ত সময়। তাই নগরে ফল ও সবজি চাষের জন্য ছাদ-বাগানসহ নতুন নতুন প্রযুক্তি ও কলাকৌশল নগরে টেকসই ও জনপ্রিয় করতে হবে। একটি গবেষণায় জানা যায়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর খাদ্য উৎপাদন উন্নত দেশে ৭০% এবং বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল বা স্বল্পোন্নত দেশে ১০০% বাড়াতে হবে। আর নগর কৃষি বললে উলম্ব বা ভার্টিক্যাল ফার্মিং সমার্থকভাবেই চলে আসে।


নগর কৃষি ও বাণিজ্যিক উলম্ব (Commercial vertical urban farming) নগর চাষাবাদ
একবিংশ শতাব্দীতে আরো দ্রুত নগরায়ণের এবং জনসংখ্যা ২০৫০ সালে ৮.৩ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমানে পৃথিবীর ৩৮% স্থল প্রায় ৮০০ মিলিয়ন হেক্টর ফার্মিং এর আওতায় এবং অতিরিক্ত জনগণকে খাওয়ানোর জন্য এখনকার কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার করলে আরো ১০০ মিলিয়ন হেক্টর কৃষি জমি প্রয়োজন পড়বে। কিন্তু এই পরিমান কৃষি জমি অবশিষ্ট নাই যার ফলে বাণিজ্যিক ভার্টিক্যাল চাষাবাদ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই যা অবশ্যই নগর কৃষির অন্তর্গত। গবেষকদের ধারণা অনুযায়ী, সুউচ্চ ৩০তলা ভবনে ২৭,৮০০০,০০০ বর্গমিটার ভার্টিক্যাল ফার্ম স্থাপন করা যায় যা দিয়ে ৫০,০০০ মানুষকে খাওয়ানো যাবে যেখান থেকে প্রত্যেক জনকে ২০০০ ক্যালরি প্রতিদিন দেয়া সম্ভব। সুতরাং, বলাই যায়, ভবিষ্যৎ এর জন্য একমাত্র মাধ্যম হবে নগর ভার্টিক্যাল কৃষি ফার্ম। আরো উল্লেখ্য যে, বর্তমান ভূমি কৃষির যে সকল সমস্যা যেমন- পরিবহন সমস্যা, সংরক্ষণ সমস্যার মতো কোন সমস্যা নগর কৃষিতে থাকবে না কারণ নগর কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি ও কলাকৌশলের ফলে প্রত্যেক ফার্ম থেকে ফ্রেশ ফল বা সবজি সরাসরি বাজারজাত করা যাবে যেখানে ডিজাইনার, প্রকৌশলী, পুষ্টিবিদসহ অনেক লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং এতে একদল দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব হবে।    


বাণিজ্যিক নগর কৃষি আরো টেকসই করা সম্ভব কারণ এতে সেচের পানির অপচয় ৪০-৬০% কমিয়ে এনে ৩-৪গুণ ফলন বাড়ানো যায় যেখানে হাইড্রোপনিক্যালি পুষ্টিউপাদানসমৃদ্ধ পানিকে অটোমেটিক এবং জলবায়ুনিয়ন্ত্রিত বিল্ডিং এ সংরক্ষন করে পুনরায় ব্যবহার করা হয়। যদিও আধুনিক এই প্রযুক্তির ইনডোর ভার্টিক্যাল ফার্মিং এ আর্টিফিসিয়াল খঊউ ষরমযঃ, ধৎঃরভরপরধষ রহঃবষষরমবহপব (অও), ধঁঃড়-রৎৎরমধঃরড়হ রিঃয ংড়ষঁঃরড়হ ব্যবহারের কারণে এককালীন খরচ বেশি হবে বিধায় স্থানীয় উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে এর খরচ কমিয়ে আনাটা বড় চ্যালেঞ্জ। এই জায়গাটিতে সহযোগিতা করতে পারে শেকৃবি ও বাকৃবিতে প্রতিষ্ঠিত ফ্যাব-ল্যাব ও প্রকৌশল বিভাগগুলো; এছাড়াও কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে কাজ করলে বাণিজ্যিক নগর ফার্মিং টেকসই ও লাভজনক করা সম্ভব।


আধুনিক নগর চাষাবাদ : বাণিজ্যিক নগর ভার্টিক্যাল ডিভাইস  (ঈড়সসবৎপরধষ ঁৎনধহ াবৎঃরপধষ ভধৎসরহম ফবারপব রিঃয খঊউ ষরমযঃরহম), গ্রিনহাউজ হাইড্রোপনিক (এৎববহযড়ঁংব যুফৎড়ঢ়ড়হরপং), ইকুয়াপনিক্স (অয়ঁধঢ়ড়হরপং) ছাড়াও স্মার্ট ফার্মিং ডিভাইস (ঝগঅজঞ ভধৎসরহম ফবারপব), গ্রিন স্ক্রিন (এৎববহ ঝপৎববহ রিঃয ধঁঃড়- রৎৎরমধঃরড়হ), স্বয়ংক্রিয় সেচসমৃদ্ধ ভার্টিক্যাল লাইন ডিভাইস (ঠবৎঃরপধষ ভধৎসরহম ফবারপব রিঃয ধঁঃড়-রৎৎরমধঃরড়হ), স্বয়ংক্রিয়  ছাদ-বাগান ঠা-াকরণ ডিভাইস (জড়ড়ভঃড়ঢ় পড়ড়ষরহম রিঃয ভড়মমরহম ংুংঃবস)  ইত্যাদি এখন আমাদের দেশেই সম্ভব এবং তা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে একদল উদ্যমী নন-কৃষিবিদ যাদের সাথে মিলে কৃষিবিদগণ কাজ করলে দেশে বাণিজ্যিক নগর চাষে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। এ বিষয়ে বেশ কিছু প্রাইভেট কোম্পানি সাফল্যজনকভাবে কাজ করছে মাইশা গ্রুপ (গ্রিনহাউজ-নেট মেলন চাষ), প্যারামাউন্ট গ্রুপ (গ্রিনহাউজ হাইড্রোপনিক-লেটুস, নেট মেলন, টমেটো), পারটেক্স গ্রুপ ইত্যাদি।


যে সকল ফল বেশি জনপ্রিয় : ধারণা ছিল নগরে বা ছাদে একটু ছোট জাতের, ঝোপালো ফল-সবজি গাছ লাগানো ভালো, এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে ১৫-২০ বছর যাবত ছাদ-বাগান করে আশা ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো। নগরে এবং ছাদে কি হয় না, সব হয়-ছোট জাতের ভিয়েতনামিজ নারিকেল, সব জাতের আম, আমড়া, কামরাঙা, জাম, জামরুল, কদবেল, থাই ও মিসরীয় ডুমুর, আনার, ডালিম, লটকন, থাই লিচু, সিন্দুরী পেয়ারা আম, জাম, হলুদ এবং সাদা ড্রাগন ফল, বারোমাসি আম, বীজহীন লেবু, লাল স্ট্রবেরি পেয়ারা, লাল ইক্ষু, কমলা, বারি মাল্টা,  অ্যাভোকেডো, রাম্বুটান ছাড়াও গতানুগতিক সব দেশি ফলতো এখন সাধারণ বিষয়। বীজ থেকে যে সকল ফল নগরবাসী গতানুগতিক চাষ করে তার মধ্যে করমচা, শরিফা, বিলিম্বি ইত্যাদি কয়েকটি ছাড়া প্রায় সবই কলমের ফল গাছ। আসলে এখন ছাদ-কৃষির কল্যাণে নগরবাসী সব ধরনের ফল গাছই চাষ করার আগ্রহ দেখাচ্ছে।  


গবেষণার হালচাল : বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইঅজও) সবজি নিয়ে কাজের সাথে সাথে স্ট্রবেরি ফল নিয়ে কাজ করছে। এছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেশ কজন ছোট ছোট পরিসরে ভার্টিক্যাল চাষাবাদ করছে। বীজবিহীন জাম, গ্রাফটেড কাঁঠালও চাষ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অনেক নগর কৃষক। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম থেকে অনেকেই বীজ, চারা এনে অনলাইনে বিক্রি করছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। বেশিরভাগ নগর কৃষক কৃষিবিদ নন কিন্তু নিজ আগ্রহ ও নেশা থেকে অনেক নগর কৃষক অপ্রচলিত এবং ভিন্নরকমের, স্বাদের, রংয়ের ফল বীজ ও চারা বিক্রি পেশা হিসেবে নিয়েছেন যার মধ্যে একটি বড় অংশ নারী-কৃষক গবেষণায় আরো বেশি মনোযোগ দেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।


নিরাপদ ও কোয়ালিটি ফল চাষে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি জেনে রাখা ভালো-
মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও জৈব চাষাবাদ : ট্রাইকোডার্মা মিশ্রিত সার, বায়োচার, জীবাণুমুক্ত কোকোডাস্ট ইত্যাদি মাটির সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে মাটি শোধনের পাশাপাশি গ্রোয়িং মিডিয়ার গুণাগুণ ভালো থাকবে এবং ভালো ফল-সবজি হবে। ভার্মি কম্পোস্ট, রান্নাঘর ও খাবারের উচ্ছিষ্টাংশ দিয়ে বানানো সার, চা-কম্পোস্ট, ডিম খোসা ভাঙ্গা মিশানো, নতুন মাশরুম কম্পোস্ট (পটাশ ও ফসফরাস আধিক্য), নিম খৈল, সরিষা খৈল, ইত্যাদি ছাড়াও যে কোন বায়োলজিক্যাল কম্পোস্ট ব্যবহার করুন।


রোগ-পোকামাকড় দমন : নিয়ম মেনে রাসায়নিক পেস্টিসাইড ব্যবহার করতে হবে; ফল ও ফল-জাতীয় সবজি চাষে ফল আহরনের কমপক্ষে ২০ দিন আগে থেকে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করা। পোকা দমনে ফ্লাইং ইনসেক্ট এর জন্য ফেরোমন ট্রাপ, সোলার লাইট ট্রাপ (কারিগরি সহায়তার জন্য অওঝ, উঅঊ, ঋঅই খঅই-শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যোগাযোগ করতে পারেন), আঠালো (ঝঃরপশু ঃৎধঢ়) ট্রাপ, পেয়াজ পাতার ও ছোলা পেস্ট বা নির্যাস, রসুনের, গাঁদা ও চন্দ্রমল্লিকার (সর্বাধিক কার্যকরী-ফুলের দোকানে ফেলে দেয়া ফুল) ফুলের নির্যাস ভালো কাজ করবে।


মিশ্র-ফসল : একই সাথে একটি বেডে ফল গাছের ড্রামে বা প্লেন্টার বক্সে ফল গাছের সাথে সাথী ফসল হিসেবে সবজি, ঔষধি ও গাদা চাষ করা। আমাদের দেশে সকল মৌসুমে সকল স্থানে সকল ফল চাষ করা সম্ভব প্লাস্টিক বোতল না ফেলে যে কোন -ফল-ফসলের বীজ চারা লাগিয়ে, নিজেই নিজের অক্সিজেন ফ্যাক্টরি স্থাপন করা যায়।


নগর কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ছাদ-বাগান ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা গবেষণায় জানা যায়, ঢাকা শহরের ৭৬% ছাদ-বাগানী প্রশিক্ষন নিতে চায়। প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার জন্য আপনার নিকটস্থ কৃষি অফিস হর্টিকালচার সেন্টার ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগসহ ফেসবুক গ্রুপগুলো পরামর্শ স্বতঃস্ফূতভাবে প্রদান করে। অনলাইন পোর্টাল করে, ফেসবুকে গ্রুপ করে নিজেদের ফল-ফসল আদান-প্রদান করা। নিরাপদ নগর কৃষির তথ্য ও চাষাবাদের সকল উপাদানের উৎস ও উপাদান আদান-প্রদান করা। সঠিকভাবে ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং শহুরে কৃষি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে ছাদ-বাগান করলে ছাদের ক্ষতি তো হয়ই না বরং টেকসই সবুজ আচ্ছাদন অক্সিজেন সরবরাহ করে বাসস্থান-অফিস ও প্রতিষ্ঠানকে আরো আরামদায়ক ও শান্তিময় রাখবে। ছাদ-কার্নিশ বা ব্যালকনিতে পটে বা টবে আবাদে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যাতে বিল্ডিং বা এপার্টমেন্টের নিচ দিয়ে যাতায়াতকারী পথচারী দুর্ঘটনার শিকার না হন।


নগর-কৃষি প্রচারণা : সম্প্রতি উঅঊ নগর কৃষি প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় শুরুতে ঢাকা শহরে প্রায় ৬০০ ছাদ-বাগান টার্গেট করে কাজ শুরু করেছে। এতে থাকবে প্রচুর প্রশিক্ষণ, হাতে-কলমে শিক্ষা ছাড়াও আরো ছাদ-বাগান প্রতিষ্ঠা করা। এতে একটি বিষয় পরিষ্কার, কৃষি মন্ত্রণালয় নগর কৃষিকে অধিকতর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এখন সবচেয়ে জরুরি যারা ১৫-২০ বছর ছাদ-বাগান বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তাদেরই প্রচেষ্ট্য়া নগর আজ সবুজ ও ফুল-ফল-সবজিময় হচ্ছে, তাদের সাথে নিয়ে সমন্বয় করে কাজ করলে নগর কৃষি বিষয়ক কার্যক্রম সফলতা লাভ করবে।


চীন, জাপান, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড বাণিজ্যিক নগর ভার্টিক্যাল চাষাবাদকৃত ফল-ফসল বাজারজাত করছে সাফল্যজনকভাবে। অথচ আমরা নগর কৃষি বলতে এখনও ছাদ-কৃষিকেই বুঝাই এবং তাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকার পরিকল্পনায় ব্যস্ত। হ্যাঁ, এটা ঠিক শহরে চাষাবাদের একটি বৃহৎ  প্লেস ছাদ এবং এ দিয়ে প্রচুর পরিবারের ফল-ফসলের চাহিদা মিটছে কিন্তু এর পাশাপাশি এখনই ভাবতে হবে  বাণিজ্যিক নগর ভার্টিক্যাল ও ইনডোর চাষাবাদ নিয়ে যা দেশের কৃষি সেক্টরে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে যা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে এশিয়ার বেশ কটি দেশ। আমাদের এখনই সময় আধুনিক নগর কৃষি নিয়ে বেশি বেশি গবেষণা, প্রকল্প নিয়ে কাজ করা। নতুন নতুন সৃজনশীল (ওহহড়াধঃরাব) পদ্ধতির মাধ্যমে গবেষণার সাথে সাথে নতুন কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং নগর কৃষি বাজার অনলাইন শপ তৈরির মাধ্যমে নগর কৃষি সকলের কাছে পৌঁছে দেয়ার এখনই সময়।

 

ড. এ এইচ. এম. সোলায়মান
সহযোগী অধ্যাপক, শেরেবাংলা কৃষি, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-১২০৭ ও ফ্যাব ল্যাব ম্যানেজার, ফ্যাব ল্যাব শেকৃবি, মোবাইল : ০১৭১১০৫৪২১৫, ই-মেইল : solaimansau@gmail.com


Share with :

Facebook Facebook