কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

প্রশ্নোত্তর (ভাদ্র-১৪২৫)

রহিমা বেগম, গ্রাম: মৌতলা, উপজেলা: কালিগঞ্জ, জেলা: সাতক্ষীরা
প্রশ্ন: হলুদ গাছে এক ধরনের পোকার আক্রমণে হলুদ গাছের কাণ্ডের উপরের অংশ মরে যাচ্ছে। এ অবস্থায় কি করণীয়?  

উত্তর: আপনার হলুদ গাছে মাজরা পোকার আক্রমণ হয়েছে। এ পোকার আক্রমণে কাণ্ডের উপরের অংশ মরে যায়। এমনকি সাদা ডিগ পাতাও দেখা যায়। এ পোকার আক্রমণ রোধে প্রতি লিটার পানিতে ফেনথিয়ন গ্রুপের কীটনাশক ১.৫ মিলি প্রতি লিটার ভালোভাবে মিশিয়ে সঠিক নিয়মে স্প্রে করলে সুফল পাবেন। এছাড়া ক্ষেত সব সময় পরিষ্কার রাখা এবং হলুদ চাষের জমি তৈরির সময় দানাদার কীটনাশক ব্যবহার করলে অনেক বেশি উপকার পাবেন।   


মো. বনী আদম, গ্রাম: সরফরাজপুর, উপজেলা: চৌগাছা, জেলা: যশোর
প্রশ্ন: কাঁঠাল গাছে এক ধরনের পোকার আক্রমণে কাঁঠাল গাছের শিকড় ও গুড়ি খেয়ে নষ্ট করে ফেলছে। এখন আমি কি করব?

উত্তর: কাঁঠাল গাছে উঁইপোকা আক্রমণ করলে এ ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। এ সমস্যা রোধে গাছের কা- ও গুড়ি থেকে উঁইপোকার ঢিবি ধ্বংস ও মাটি পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। তারপর ক্লোরপাইরিফস গ্রুপের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ৫ মিলিলিটার মিশিয়ে গাছের গোড়া ও কাণ্ডে স্প্রে করতে হবে। তাহলে আপনি আপনার কাঁঠাল গাছের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।  


মো. জয়নুল ইসলাম, গ্রাম: তাম্বুলখানা, উপজেলা: ফরিদপুর সদর, জেলা: ফরিদপুর
প্রশ্ন:  নতুন লিচু গাছ লাগালে অনেকে বলে পুরাতন গাছের নিচের মাটি এনে নতুন গাছের গোড়ায় দিতে। এর কি কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে?

উত্তর: নতুন লিচু কলমের চারা লাগালে পুরাতন গাছের গোড়া থেকে মাটি এনে নতুন গাছের গোড়াতে দিলে উপকার হয়। কারণ পুরাতন লিচু গাছের গোড়ার মাটিতে মাইকোরাইজা নামে এক ধরনের ছত্রাক থাকে। এরা লিচু গাছের শিকড়ের সাথে যুক্ত হয়ে মিথোজীবিতার মাধ্যমে মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান সংগ্রহ করে শিকড়ের মাধ্যমে লিচু গাছে সরবরাহ করে। মাটিতে মাইকোরাইজা থাকলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়। এসব বৈজ্ঞানিক কারণেই পুরাতন গাছের গোড়ার মাটি নতুন লাগানো লিচু গাছের গোড়াতে দিতে হয়।  

 

মো. ফেরদৌসি বেগম, গ্রাম: পিরোজপুর, উপজেলা: মেহেরপুর সদর, জেলা: মেহেরপুর
প্রশ্ন: আমার খিরা গাছে এক রকমের পোকার কারণে খিরা গাছের কচি পাতা ও ডগার অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমার কি করণীয়?  

উত্তর: খিরা গাছের পাতার এ সমস্যার প্রতিকারে বেশ কিছু ব্যবস্থা নিতে হয়। বিশেষ করে আক্রমণ বেশি হলে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক ১ মিলি ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে সঠিক নিয়মে স্প্রে করলে আপনি উপকার পাবেন। কিন্তু রাসায়নিক দমন ছাড়াও আপনি হাত জাল দিয়ে পোকা ধরতে ও মেরে ফেলতে পারেন। আবার চারা বের হওয়ার পর থেকে ২০ থেকে ২৫ দিন পর্যন্ত মশারির জাল দিয়ে চারাগুলো ঢেকে রাখলে এ সমস্যা কম হয়। ক্ষেতের আশপাশের আগাছা নষ্ট করার পাশাপাশি পাতার উপর ছাই ছিটিয়ে সাময়িকভাবে দমন করা যায়। আশা করি এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কাক্সিক্ষত উপকার পাবেন।   

 

কাদের বেপারি, গ্রাম: বাগমারা, উপজেলা: হোমনা, জেলা: কুমিল্লা
প্রশ্ন: টমেটো গাছের উপরের অংশ কুঁকড়িয়ে পাতা মুড়িয়ে যায়। এছাড়া পাতাগুলো কেমন জানি মোটা মোটা মনে হয়। এ সমস্যার সমাধান জানাবেন?

উত্তর: লিফ হপার পোকার দ্বারা ভাইরাস টমেটো গাছকে আক্রমণ করলে এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়। এ সমস্যা হলে পাতা মুড়িয়ে চামড়ার মতো মনে হয়। গাছ আকারে ছোট হয়। এজন্য এ রোগে আক্রান্ত গাছ দেখামাত্রই তুলে ফেলতে হবে। ভাইরাসের বাহক পোকা দমন করতে পারলে এ ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিহত করা যায়। এজন্য ভাইরাসের বাহক পোকা দমনের জন্য ইমিডাক্লোরপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক নিয়মমাফিক ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া ভবিষ্যতে রোগমুক্ত গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন জাত ব্যবহার করলে সুফল পাওয়া যায়।   


রেজাউল শেখ, গ্রাম: বামনডাঙ্গা, উপজেলা: আশাশুনি, জেলা: সাতক্ষীরা
প্রশ্ন: চিনাবাদামের পাতার উপরে হলদে রেখা বেষ্টিত বাদামি রঙের দাগ পড়ছে। দাগগুলো আবার কালো হয়ে যাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে পাতা ঝরে যাচ্ছে। এ অবস্থায় কি করলে উপকার পাব ?

উত্তর: চিনাবাদামের এ রোগটিকে চিনাবাদামের টিক্কা রোগ বলে। আসলে এ রোগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে কার্বেনডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম মিশিয়ে সঠিক নিয়মে স্প্রে করলে সুফল পাওয়া যায়। এছাড়া রোগ সহনশীল জাত এর চাষ করা ভালো। ফসল কাটার পর আগাছা পুড়ে ফেলা এবং আক্রান্ত গাছের পরিত্যক্ত অংশ পুড়ে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে করে চিনা বাদামের পাতায় এ ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা আর থাকে না।     


মো.ইব্রাহিম, গ্রাম: দৌলতপুর, উপজেলা: নড়াইল সদর, জেলা: নড়াইল
প্রশ্ন: থাই কৈ মাছ চাষে সম্পূরক খাদ্য তৈরি সম্পর্কে জানালে উপকৃত হব?  

উত্তর: থাই কৈ মাছ চাষে সম্পূরক খাদ্য তৈরি করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে করে মাছ চাষে লাভের পরিমাণ বেশি হয়ে থাকে। থাই কৈ মাছের আমিষ চাহিদা বিশেষ করে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা কার্প বা রুইজাতীয় মাছের চাইতে বেশি। থাই কৈ মাছের আমিষের চাহিদা ৩০%। সহজলভ্য মৎস্য খাদ্যে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়ে ১০০ কেজি খাদ্যে চালের কুড়া ২৫ কেজি, সরিষার খৈল ১০ কেজি, গমের ভুষি ২৫ কেজি, ফিশ মিল ১৮ কেজি, মিট ও বোনমিল ১৭ কেজি, ভিটামিন ও খনিজ লবণ ১ কেজি থাকতে হবে। এভাবে সম্পূরক খাদ্য তৈরি করা যায়।


করিম মৃধা, গ্রাম: সনগাঁও, উপজেলা: বালিয়াডাঙ্গি, জেলা: ঠাকুরগাঁও
প্রশ্ন: পাঙ্গাস মাছের লালচে রোগ হয়েছে কি করব?

উত্তর: পাঙ্গাস মাছের লালচে রোগ দেখা দিলে যে সব বিষয় করণীয় তাহলো- কমপক্ষে ৫০ ভাগ পানি পরিবর্তন করে প্রতি শতকে ১ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া হররা টেনে পুকুরের তলদেশের কাদার গ্যাস বের করে দিতে হবে। এসবের পাশাপাশি মাছের দেহের ওজনের হিসাবে ৫০ মিলিগ্রাম টেট্রাসাইক্লিন খাবারের সাথে  মিশিয়ে ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে। আর প্রতি শতকে ১০ গ্রাম হারে পটাশ ২ বার প্রয়োগ করলে এ সমস্যা দূর হবে।    

 

আসমাউল হুসনা, গ্রাম: খাটুরিয়া, উপজেলা: গোবিন্দগঞ্জ, জেলা: গাইবান্ধা
প্রশ্ন: আমার ছাগলের শরীরের তাপমাত্রা ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। নাক ও চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। ঠোঁট, মুখ ও বাঁটে বসন্তের গুটির মতো বের হয়েছে?

উত্তর: আক্রান্ত ছাগলকে সুস্থ ছাগল থেকে পৃথক রাখতে হবে। গুটিগুলো সমপরিমাণ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ও উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। অন্যান্য জীবাণু দ্বারা যাতে আক্রান্ত না হয় সেজন্য অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, জেন্টামাইসিন, অ্যাম্পিসিলিন ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। এ রোগ প্রতিরোধের জন্য আগে থেকে গোট পক্স এর টিকা দিতে হবে।   

 

মো. করিমন বেওয়া, গ্রাম: পীড়ানচর, উপজেলা: শিবগঞ্জ, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রশ্ন: আমার বাড়ির মুরগিগুলোর পায়ুস্থানে ময়লা লেগে থাকছে। পালকগুলো কুঁচকে আছে, ডায়রিয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় কি করণীয়। পরামর্শ চাই।  

উত্তর:  আপনার মুরগিগুলোর গামবোরো রোগ হয়েছে। এই রোগ যাতে না হয় সেজন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১০ থেকে ২১ দিনে বয়সে গামবোরোর টিকা প্রদান করতে হয়। আর রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলে দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য এনফ্লক্স ভেট সলিউশন অথবা কট্টা ভেট পাউডার এবং সাথে ইলেকট্রোমিন পাউডার খাওয়াতে হবে।  


কৃষির যে কোনো প্রশ্নের উত্তর বা সমাধান পেতে বাংলাদেশের যে  কোনো জায়গা থেকে যে কোনো মোবাইল থেকে কল করতে পারেন আমাদের কৃষি কল সেন্টারের ১৬১২৩ এ নাম্বারে। শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত যে কোনো দিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ সময়ের মধ্যে। তাছাড়া কৃষিকথার গ্রাহক হতে বার্ষিক ডাক মাশুলসহ ৫০ টাকা মানি অর্ডারের মাধ্যমে পরিচালক, কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫ এ ঠিকানায় পাঠিয়ে ১ বছরের জন্য গ্রাহক হতে পারেন। প্রতি বাংলা মাসের প্রথম দিকে কৃষিকথা পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়।

 

কৃষিবিদ মো. তৌফিক আরেফীন

উপপ্রধান তথ্য অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫,  মোবাইল নং ০১৭১১১১৬০৩২, ঃtaufiquedae25@gmail.com

 


Share with :

Facebook Facebook