কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

কবিতা ( ভাদ্র ১৪২৫)

ভাদ্রের তালের কথা
মো. জন্নুন আলী প্রামাণিক১

ভাদ্রের রোদে পাকা তালে সুবাস দূরে ছড়ায়,
ঝুলিয়ে থাকা রাঙা রঙে সুরভি ভারি চূড়ায়।
বাবুই ধন্য নিজ নীড়ে কোকিল পাখি উড়ায়,
তালের ছালে ব্যর্থ ঠোঁট ঠোক্কর মেরে ফিরায়।
আঁশের পালা ফল জুড়ে রসের পাত্র ভরায়,
সুগন্ধি রস চিপে নিলে রুচির কাজে সহায়।
তালের পিঠা ভাদ্র এলে স্বাদের রসে বানায়,
নরম স্বাদে গুণে অতি খাইলে ভরে হৃদয়।
গাছের রসে তৈরি করা মিছরি রোগ তাড়ায়,
কোমল শাঁস কচি তালে সখের খাদ্য বেজায়।
তালের গাছ শক্ত লম্বা ভীষণ মূর্তি দেখায়,
তুফান তারে ভয় করে আটকা পরে পাতায়।
শ্রোতের বেগ দ্রুত হলে সাহস রাখে সদায়,
বায়ুর সাথে লড়ে তীব্র বিরাট শক্তি মাথায়।
ভাঙন রোধে তাল মস্ত বীরের মতো দাঁড়ায়,
সারিতে রোপা গাছ দেখে ভাঙন দৈত্য পলায়।
মূলের জালে ঘিরে খেলা মাটিকে ধরে মায়ায়,
মাটির নিচে ছড়ে পড়ে শিকড় যত গোড়ায়।
তালের পাখা নক্সি আঁকা গরমে ক্লান্তি মিটায়,
ভাদ্রের তীব্র তাপে শান্তি তাপিত প্রাণ জুড়ায়।
খেলনা নিয়ে শিশু ছোটে পাড়ায় ঘুরে বেড়ায়,
পাতার ঘড়ি হাতে পরে গর্বের কথা শোনায়।
তালের পাতে বানা ঝুড়ি মনের মতো সাজায়,
পাতায় তৈরি বাঁশি শিশু মুখের ফুঁকে বাজায়।
নদীর তীরে সারি সারি তালের গাছ যেথায়,
ভাঙন রোধে মাটি রক্ষা বায়ুর বেগ কমায়।

 

কৃষক পথিকের কথা
সুরুজ্জামান শ্রীপুরী২


ফসলের মাঠে চাষির ছেলের মুখে শুনি মধুর গান
গানের তালে নাচে কৃষক আনন্দে ভরে প্রাণ।

এমন সময় একজন পথিক ফসলের ক্ষেতে যায়,
মনটা কৃষকের এতই খুশি, দেখতে পথিক পায়।

পথিক এত সুখের গান ধরেছ? কি আনন্দ লয়ে
এই গানের মর্ম কৃষক আমায় দাওনা কয়ে?
কৃষক, এক বিঘা জমি মোর চাষ করি মাঠে
অভাব মোচনের ফসল আমার, এখান থেকে জুটে।

এই ফসলের সফলতায়, মোর জীবন পাই
মনের সুখে গান ধরছি, সবুজ শ্যামল গাঁয়।

পথিক, জমি আছে অনেক আমার, ফসল নাহি পাই
কাজ করিতে লজ্জা লাগে, করি কি উপায়?
লেখাপড়া করেছি আমি কেমনে করি কাজ
ধনী ঘরের ছেলে আমি অট্টালিকায় বাস।

কৃষক লেখাপড়া অমূল্য ধন, আছে তোমার জানা
কাজ করিতে লজ্জা কিসের, কে করেছে মানা?

বিশে^ যারা ছিলেন জ্ঞানী, ছিলেন মহাগুণী
কাজ করেছেন গভীর চিত্তে, দিচ্ছেন সদা বাণী।

যথাসাধ্য কাজ কর ভাই লজ্জা করতে নাই
কাজ করিলে ভাগ্য ফিরবে, বিজ্ঞের মুখে পাই।

পথিক, যে উপদেশ দিলা কৃষক শোনলাম তোমার কথা
এখন মাঠে কাজ করিতে করব না আর দ্বিধা
রোদ বাদলে করব কাজ ক্ষেতখামারে গিয়ে
কাজের শেষে ফিরব আমি দুধাল গাভী নিয়ে।

১গ্রাম-বিদ্যাবাগীশ, ডাকঘর ও উপজেলা-ফুলবাড়ী, জেলা-কুড়িগ্রাম; মোবাইল : ০১৭৩৫২০২৭৯৮ ২গ্রাম-শ্রীপুর, পো: শ্রীপুর নতুন বাজার, থানা ও জেলা : জামালপুর

 

 


Share with :

Facebook Facebook