কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

কবিতা (পৌষ ১৪২৪)

নবান্ন
দুলাল চন্দ্র সরকার*

শরতের অবসানে হেমন্তের আগমনে
মাঠ আজ পরিপূর্ণ ধানে
মাঠে মাঠে পাকা ধান কৃষক গাহিছে গান
নবান্নের শুভ আগমনে ॥

নবান্ন এসেছে দ্বারে কৃষকের ঘরে ঘরে
নতুন চাউলের হবে প্রয়োজন
তাই কৃষক কাস্তে হাতে মাথাল পরিয়া মাথে
মাঠে মাঠে ধান কাটার করে আয়োজন ॥

ধানের মধুরও গন্ধে কৃষকরা মহানন্দে
দিনভর কাটিল যে ধান
কৃষাণীর তাতে যত্নের সাথে
আয়োজন করে খাবারের নানা উপাদান ॥

আতপ চাউলের সাথে দুগ্ধ মিশিয়ে তাতে
মধুময় মিষ্টান্ন করে যে রন্ধন
অগ্রহায়ণের প্রথম দিনে বিলাইবে জনে জনে
এত বাঙালির প্রীতির বন্ধন ॥

শুধু নয় পিঠা পুলি নানা শাকসবজি তুলি
রাঁধিল নানা ব্যঞ্জনের বাহার
বাঙালিরা মাছে-ভাতে মিষ্টি-দধি লইয়া পাতে
হাঁপুস-হুঁপুস করে যে আহার ॥

 ভোজনের অবসান হাতে লইয়া পান
মুখে গুজে দেয় জনে জনে
শহর কিংবা গ্রাম খাবারের ধুমধাম
প্রতি বছর এই নবান্নের দিনে ॥

অগ্রহায়ণে কাটে ধান সদানন্দ চাষির প্রাণ
অভাব নাই কারও কোন ঘরে
কৃষক-কৃষাণী মিলে পাকা ধান ঘরে তুলে
নবান্নের আয়োজন সবে মিলে করে ॥

এটাই বাঙালির গর্ব মাসে মাসে নানা পর্ব
পর্বে পর্বে নানা উপাচার,
যুগে যুগে নবান্ন আসে প্রতি অগ্রহায়ণ মাসে
এটাই বাঙালির কৃষ্টি স্বাধিকার ॥

 

 

চাষির সফলতা
মো. জুন্নুন আলী প্রামাণিক**


পৌষের শিশিরে ভেজা চাষির অনুপ্রেরণা বেশি,
ফসল রক্ষায় মগ্ন প্রাণের চমৎকার খুশি।
শ্রমের আড়ালে শস্য প্রচুর শাকসবজি কত,
নিজের পরের খাদ্য জোগায় কৃষকবৃন্দ যত।

রাতের বেলার বানা পিঠায় সকাল বেলা নাশতা,
ধবল শীতের ভিড়ে লুকায় পল্লীবাসীর রাস্তা।
বিজয়ে বরেণ্য চাষি কৃষিতে অগ্রাধিকার পায়,
বিপুল আনন্দে শস্য সেবায় উৎসাহিত হয়।

নতুন নতুন আশা ভরসা সফলতার পথে,
বিপুল ফলার জন্য নিশ্চিত প্রযুক্তিগুলো সাথে।
গমের ক্ষেতের পাশে সরিষা ডাল ফসল আলু,
সুষম মাত্রার সার সেচের ব্যবস্থাবলি চালু।

বিপদ বালাই এলে উপায় কৃষিবিদের কাছে,
অবস্থা মতন দ্রুত ব্যবস্থা ওষুধপত্র আছে।
তাইতো চাষির মস্ত ভাবনা সর্বক্ষণিক পিছে,
আলস্যে সময় নষ্ট করলে সব কিছুই মিছে।

তরুণ সব ক্ষেতে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা,
সঠিক সেবায় মাটি ছড়ায় ফলনরাশি সদা।
ভোরের বকেরা ধুতি পরিয়ে দূরদূরান্তে ডাকে,
আশিস জানায় ভরা মাঠের রুপলহরী দেখে।

বিশুদ্ধ সবজি অতি উত্তম স্বাস্থ্য সম্মত তাই,
মানবদেহের ক্ষতি করে না দুর্ভাবনাও নাই।
বাংলা মাসের সঙ্গে কৃষির ফসলমেলা বসে,
দায়িত্ব আলাদা মাস বদলে সারা বছর আসে।

সময় যখন প্রিয় অধিক জলবায়ুর বলে,
পৌষের কৃষিতে চাষি সফল নানাফসল ফলে।।

*পরিচালক (অব), সরেজমিন উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫, **বিদ্যাবাগীশ, ডাকঘর ও উপজেলা : ফুলবাড়ী, জেলা : কুড়িগ্রাম, মোবাইল : ০১৭৩৫২০২৭৯৮


Share with :

Facebook Facebook