কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

বিজেআরআই কেনাফ-৪ ও বিজেআরআই মেস্তা-৩

বিজেআরআই কেনাফ-৪ (লাল কেনাফ) বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত কেনাফের একটি উন্নত জাত, যা ইরান থেকে আহরিত কৌলিক সম্পদ (এক্সেশন ১৬৪১) থেকে বিশুদ্ধ সারি নির্বাচনের মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়েছে।   


শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য : গাছের কাণ্ড গাঢ় তামাটে লাল, পাতার রঙ খয়েরি সবুজ ও করতলাকৃতি এবং পাতার বোঁটার উপরিভাগ তামাটে লাল রঙ।


চাষ উপযোগী জমি : উঁচু ও নিচু উভয় প্রকার অথচ বৃষ্টির পানি জমে না এরূপ দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ ও এঁটেল দো-আঁশ মাটি এ জাতের জন্য উপযোগী। এছাড়াও উপকূলীয় ও চর অঞ্চলে এ জাতটি চাষ করা যায়। উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত ও খরাপ্রবণ এলাকাসহ দেশে ফসল চাষের অনুপযোগী প্রায় ১০ লাখ হেক্টর পতিত জমিতে অল্প পরিচর্যা ও কম খরচে অধিক ফলনশীল বিজেআরআই কেনাফ-৪ চাষ করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।


বপন কাল : জাতটি চৈত্রের প্রথম থেকে বৈশাখের শেষ পর্যন্ত বপন করা যায়। তবে উত্তম সময় ১৫ চৈত্র থেকে ১৫ বৈশাখ পর্যন্ত।


জমি তৈরি ও বীজ বপন : জমির প্রকারভেদে আড়াআড়ি ৩-৫ বার গভীর চাষের পর ২-৩ বার মই দিয়ে জমির মাটি মিহি করা প্রয়োজন। ছিটিয়ে ও সারিতে উভয় পদ্ধতিতে বীজ বপন করা যায়। সারিতে বপন করলে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩০ সেমি. এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব হবে ৬-৭ সেমি.।


বীজের পরিমাণ : ছিটিয়ে বপন পদ্ধতির ক্ষেত্রে প্রতি হেক্টরে ১৫ থেকে ১৭ কেজি এবং সারিতে বপন পদ্ধতির ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৪ কেজি পরিমাণ বীজ প্রয়োজন হয়।


সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি : প্রতি হেক্টর জমির জন্য ইউরিয়া ১৩০ কেজি, টিএসপি ২৫ কেজি এবং এমওপি ৪০ কেজি পরিমাণ সার দরকার। তবে শুকনা গোবর সার ব্যবহার করা হলে প্রতি হাজার কেজি শুকনো গোবর সার ব্যবহারের জন্য ১১ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি টিএসপি এবং ১০ কেজি এমওপি সার নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম প্রয়োগ করতে হবে। বীজ বপনের দিন নির্ধারিত মাত্রার অর্ধেক পরিমাণ ইউরিয়া প্রথম কিস্তি হিসেবে এবং সম্পূর্ণ মাত্রার টিএসপি এবং এমওপি সার জমিতে শেষ চাষে প্রয়োগ করে এদিয়ে মাটির সাথে ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে। দ্বিতীয় কিস্তি ইউরিয়া সার গাছের ৪৫ দিন বয়সে সামান্য শুকনো মাটির সাথে মিশিয়ে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে।


পরিচর্যা : বীজ বপনের এক হতে দুই সপ্তাহ পর জমির জো অনুযায়ী আঁচড়া দিতে হবে। এ সময় চারার সংখ্যা ঘন হলে প্রাথমিকভাবে চারা পাতলা করা যায়। গাছের বয়স ৪০-৪৫ দিনের মধ্যে একবার নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করা হয় এবং সুস্থ সবল গাছ রেখে দুর্বল ও চিকন গাছ তুলে ফেলতে হবে। অধিক আঁশ ফসলের জন্য কেনাফ ফসলের প্রাথমিক পরিচর্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিড়ানি ও পাতলাকরণে অবহেলা করলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ফলে ফলন কমে যায়।


ফুল আসার সময়কাল : ১৪০-১৬০ দিন (বপনের ১২০ দিন পর থেকে কর্তনযোগ্য)।
 

কর্তন, জাক দেয়া, ধোয়া, শুকানো ও গুদামজাতকরণ :  গাছের বয়স ১১০ থেকে ১২০ দিন হলে কাটা যায় এবং ফলন ভালো পাওয়া যায়। চিকন ও মোটা গাছ আলাদাভাবে আঁটি বেঁধে পাতা ঝরিয়ে গোড়া ৩/৪ দিন এক ফুট পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। পরে পরিষ্কার পানিতে জাক দিতে হবে। জাক খুব পুরু না করে খড় বা কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে দেয়া ভালো। আঁশ যাতে বেশি পচে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ আঁশ যত পরিষ্কার করে ধোয়া যায় ততই উজ্জ্বল হয়। ধোয়া আঁশ বাঁশের আড়ে শুকানো উচিত। মাটিতে শুকালে ময়লা হয়ে আঁশের মান খারাপ হয়। আঁশ শুকানোর পর বান্ডেল বেঁধে গুদামজাত ও বাজারজাত করা হয়। কাগজ শিল্পে ব্যবহারের জন্য বায়োমাস হিসেবে এ ফসল কাটা হলে হালকা আঁটি বেঁধে দাঁড় করিয়ে রাখতে হবে। এতে পাতা ঝরার সঙ্গে সঙ্গে কা-ে জলীয় বাষ্প কমে যাবে এবং কা- পচা প্রতিহত হবে।


বীজ উৎপাদন : আঁশের জন্য বপনকৃত গাছ থেকে আশানুরূপ বীজ পাওয়া সম্ভব নয়। তাই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ বীজ উৎপাদনের জন্য তিনটি পদ্ধতিতে নাবি কেনাফ বীজ উৎপাদন করা যায়। যথা-


১. সরাসরি বীজ বপন পদ্ধতি : এ পদ্ধতিতে বীজ উৎপাদনের জন্য মধ্য জুলাই থেকে আগস্ট মাসের শেষ (শ্রাবণ থেকে ভাদ্রের মাঝামাঝি) পর্যন্ত কিছুটা উঁচুু এবং জলাবদ্ধতা মুক্ত জমিতে পাতলা করে (প্রতি শতকে ৪০-৫০ গ্রাম) বীজ বপন করতে হয়। জমির শেষ চাষের সময় প্রতি শতক জমির জন্য ১৯০ গ্রাম ইউরিয়া, ১০০ গ্রাম টিএসপি এবং ১৬০ গ্রাম এমওপি সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। প্রতি শতক জমির জন্য চারা গজানোর ৩০-৩৫ দিন পর ১৯০ গ্রাম এবং ৬০-৬৫ দিন পর আরও ১৯০ গ্রাম ইউরিয়া সার শুকনো ছাই বা শুকনো গুঁড়া মাটি মিশিয়ে বিকালে জমিতে উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন প্রয়োগকালীন জমিতে পর্র্যাপ্ত রস থাকে এবং প্রয়োগকৃত সার গাছের কচি পাতা ও ডগায় না লাগে।


২. কাটিং বা ডগা রোপণ  পদ্ধতি : গাছের বয়স ১০০-১১০ দিন হলে ডগা (১.৫-২.০ ফুট) ধারালো ছুরি বা চাকু দিয়ে কেটে ৩-৪ টুকরা করে (প্রতি টুকরায় কমপক্ষে ৩টি পর্ব থাকতে হবে) পর্যাপ্ত আর্দ্রতাসমৃদ্ধ জমিতে সারি করে উত্তরমুখী কাত (৪৫ ডিগ্রি কোন) করে ৫-৬ ইঞ্চি দূরে দূরে  লাগাতে হবে। কাটিং লাগানোর আগে বড় পাতা গুলো ফেলে দিতে হবে। জমির শেষ চাষের সময় প্রতি শতক জমির জন্য ৭০ গ্রাম ইউরিয়া, ২০০ গ্রাম টিএসপি এবং ৭০ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি শতক জমির জন্য গাছের বয়স ২০-২৫ দিন পর ৭০ গ্রাম এবং ৪০-৪৫ দিন পর আরও ৭০ গ্রাম ইউরিয়া সার জমিতে উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। পরবর্তীতে এ রোপণকৃত কাটিং থেকে শাখা-প্রশাখা বিস্তার লাভ করে এবং তা থেকে প্রচুর পরিমাণে বীজ উৎপন্ন হয়। বীজের গুণগত মানও ভালো হয়। এ পদ্ধতিতে  প্রতি শতক জমিতে ২.৫-৩.০ কেজি বীজ সহজেই উৎপন্ন করা যায়।


৩. চারা রোপণ  পদ্ধতি : চারা রোপণ  পদ্ধতিতে প্রথমে বীজতলায় বীজ বপন করে চারা উৎপন্ন করা হয়। উঁচু জমিতে ৩ মি.x১ মি. সাইজের বীজতলা তৈরি করে আষাঢ় মাসে (১৫জুন-১৫জুলাই) বীজ বপন করতে হবে। বীজতলার চারার বয়স ৩০-৩৫ দিন হলে চারাগুলো রোপণের জন্য উপযুক্ত হয়। বীজতলা থেকে চারা তুলে নিয়ে ছায়ায় রাখতে হবে। প্রতিটি চারার ডগার ২/৩টি পাতা রেখে অন্যান্য সব পাতার বোঁটা বাদে বাকি অংশ কাঁচি দিয়ে কেটে দিতে হবে। বীজতলা থেকে যেদিন চারা তুলা হবে ওইদিনই মূল জমিতে চারা রোপণ  করা ভালো। মূল জমিতে সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৩০ সেমি. বা ১ ফুট এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব¡ ১০ সেমি. বা প্রায় ৪ ইঞ্চি রাখতে হবে। মেঘলা দিনে অথবা সন্ধ্যার আগে যখন রোদ থাকে না তখন চারা রোপণ  করা ভালো।


বীজ ফসল সংগ্রহ ও বীজ সংরক্ষণ : গাছের শতকরা ৭০-৮০ ভাগ ফল বাদামি রঙ ধারণ করলে গাছের গোড়া সমেত কেটে ফসল সংগ্রহ করতে হবে। তবে রোগাক্রান্ত গাছ থেকে কোনো অবস্থাতেই বীজ সংগ্রহ করা যাবে না। পর্যাপ্ত শুকানো বীজ ঠাণ্ডা করে প্লাস্টিকের ক্যান, টিন, কাঁচের পাত্র ইত্যাদিতে ভরে মুখ ভালোভাবে (বায়ুরোধী) বন্ধ করে ঘরের মধ্যে এক কোণে ঠাণ্ডা স্থানে রাখলে ১/২ বছর বীজ ভালো থাকে। তবে বীজের পরিমাণ বেশি হলে প্লাস্টিক বা টিনের ড্রামে তা সংরক্ষণ করা যাবে।  সংরক্ষণের পাত্র অবশ্যই বায়ুরোধী হতে হবে। বায়ুরোধী     প্লাস্টিক বা টিনের পাত্রে সংরক্ষণকৃত বীজ প্রায় ২ বছর ভালো থাকে।


উপযুক্ত শস্যক্রম : গাছের বয়স ১১০ থেকে ১২০ দিনের মতো হলে কেটে জমিতে চাষ ও এদিয়ে রোপা আমন ধান চাষ করা যায় এবং পরবর্তী ফসল হিসেবে গম/অন্যান্য রবি ফসল চাষাবাদ করা যায়। আগাম বোরো ধান কর্তন করেও এ জাতের কেনাফ চাষাবাদ করা যায়।   

                
বিজেআরআই মেস্তা-৩ : বিজেআরআই মেস্তা-৩ (মসৃণ মেস্তা) বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত মেস্তার একটি উন্নত জাত, যা স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত জার্মপ্লাজম (এক্সেশন ৫০৯৭) থেকে বিশুদ্ধ সারি নির্বাচনের মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়েছে। দ্রুতবর্ধনশীল ও নেমাটোড প্রতিরোধী এ জাতটি সম্পূর্ণ মসৃণ, যা এ পর্যন্ত উদ্ভাবিত মেস্তা জাতগুলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং আগের জাতগুলো থেকে কৃষকের কাছে অধিক পছন্দনীয়। শিকড় মাটির গভীরে যায় বলে এ জাতটি তুলনামূলকভাবে খরাসহিষ্ণু।


শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য : গাছ সম্পূর্ণ সবুজ ও মসৃণ। কাঁটাবিহীন ও রোগমুক্ত এ জাতের পাতার রঙ গাঢ় সবুজ ও করতলাকৃতি। ফুল ক্রিম রঙের। ফল ডিম্বাকৃতি ও মসৃণ।


চাষ উপযোগী জমি : উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে বৃষ্টির পানি জমে না এরূপ দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ ও এঁটেল দো-আঁশ মাটি এ জাতের জন্য উপযোগী। এছাড়াও খরাপীড়িত চরাঞ্চলের পতিত বেলে জমি ও শুষ্ক অঞ্চলের প্রান্তিক জমিতে এ জাতটি বপন উপযোগী।


বপন কাল : জাতটি চৈত্রের প্রথম থেকে বৈশাখের শেষ (১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে) পর্যন্ত বপন করা যায়। তবে উত্তম সময় ১৫ চৈত্র থেকে ১৫ বৈশাখ পর্যন্ত।


জমি তৈরি ও বীজ বপন : জমির প্রকার ভেদে আড়াআড়ি ৩-৫ বার গভীর চাষের পর ২-৩ বার মই দিয়ে জমির মাটি মিহি করা প্রয়োজন। ছিটিয়ে ও সারিতে উভয় পদ্ধতিতে বীজ বপন করা যায়। সারিতে বপন করলে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩০ সেমি. এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব হবে ৬-৭ সেমি.।  
 

বীজের পরিমাণ : ছিটিয়ে বপন পদ্ধতির ক্ষেত্রে প্রতি হেক্টরে ১২ থেকে ১৪ কেজি এবং সারিতে বপন পদ্ধতির ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১২ কেজি পরিমাণ বীজ প্রয়োজন হয়।
 

সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি : প্রতি হেক্টর জমির জন্য ইউরিয়া ১১০ কেজি, টিএসপি ২৫ কেজি এবং এমওপি ৩০ কেজি পরিমাণ সার দরকার। তবে শুকনা গোবর সার ব্যবহার করা হলে প্রতি হাজার কেজি শুকনো গোবর সার ব্যবহারের জন্য ১১ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি টিএসপি এবং ১০ কেজি এমওপি সার নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম প্রয়োগ করতে হবে। বীজ বপনের দিন নির্ধারিত মাত্রার অর্ধেক পরিমাণ ইউরিয়া প্রথম কিস্তি হিসেবে এবং সম্পূর্ণ মাত্রার টিএসপি এবং এমওপি সার জমিতে শেষ চাষে প্রয়োগ করে মই দিয়ে মাটির সাথে ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে। নির্ধারিত মাত্রার বাকি অর্ধেক ইউরিয়া সার গাছের ৪৫ দিন বয়সে সামান্য শুকনো মাটির সাথে মিশিয়ে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন প্রয়োগকালীন জমিতে পর্র্যাপ্ত রস থাকে এবং প্রয়োগকৃত সার গাছের কচি পাতা ও ডগায় না লাগে।


পরিচর্যা : বীজ বপনের এক হতে দুই সপ্তাহ পর জমির জো অনুযায়ী আঁচড়া দিতে হবে। এ সময় চারার সংখ্যা ঘন হলে প্রাথমিকভাবে চারা পাতলা করা যায়। গাছের বয়স ৪০-৪৫ দিনের মধ্যে একবার নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করা হয় এবং সুস্থ সবল গাছ রেখে দুর্বল ও চিকন গাছ তুলে ফেলতে হবে। গাছে রোগ বালাই দেখা দিলে রোগ বালাইয়ের আক্রমণ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। অধিক আঁশ ফসলের জন্য মেস্তা ফসলের প্রাথমিক পরিচর্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিড়ানি ও পাতলাকরনে অবহেলা করলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ফলে ফলন কমে যায়।


ফুল আসার সময়কাল : ১৮০-২১০ দিন (বপনের ১২০ দিন পর থেকে কর্তনযোগ্য)।
 

কর্তন, জাক দেয়া, ধোয়া ও শুকানো : গাছের বয়স ১২০ থেকে ১৩০ দিন হলে ফলন ভালো পাওয়া যায়। চিকন ও মোটা গাছ আলাদা আলাদাভাবে আঁটি বেঁধে পাতা ঝরিয়ে গোড়া ৩/৪ দিন এক ফুট পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। পরে পরিষ্কার পানিতে জাক দিতে হবে। জাক খুব পুরু না করে খড় বা কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে দেওয়া ভালো। আঁশ যাতে বেশি পচে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ আঁশ যত পরিষ্কার করে ধোয়া যায় ততই উজ্জ্বল হয়। ধোয়া আঁশ বাঁশের আড়ে শুকানো উচিত। মাটিতে শুকালে ময়লা হয়ে আঁশের মান খারাপ হয়।
বীজ উৎপাদন : নাবি বীজ উৎপাদন পদ্ধতি অবলম্বন করে কাক্সিক্ষত পরিমাণ বীজ উৎপাদন করা সম্ভব। এ পদ্ধতিতে বীজ উৎপাদনের জন্য মধ্য জুলাই থেকে আগস্ট মাসের শেষ (শ্রাবণ থেকে ভাদ্রের মাঝামাঝি) পর্যন্ত কিছুটা উঁচু এবং জলাবদ্ধতা মুক্ত জমিতে পাতলা করে (প্রতি শতকে ৩৫ থেকে ৪৫ গ্রাম) বীজ বপন করতে হয়। জমির শেষ চাষের সময় প্রতি শতক জমির জন্য ১৬০ গ্রাম ইউরিয়া, ১০০ গ্রাম টিএসপি এবং ১২০ গ্রাম এমওপি সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। প্রতি শতক জমির জন্য চারা গজানোর ৩০-৩৫ দিন পর ১৬০ গ্রাম এবং ৬০-৬৫ দিন পর আরও ১৬০ গ্রাম ইউরিয়া সার শুকনো ছাই বা শুকনো গুঁড়া মাটি মিশিয়ে বিকালে জমিতে উপরিপ্রয়োগ করতে হবে।


বীজ ফসল সংগ্রহ ও বীজ সংরক্ষণ : গাছের শতকরা ৬০-৭০ ভাগ ফল বাদামি রঙ ধারণ করলে গাছের গোড়া সমেত কেটে ফসল সংগ্রহ করতে হবে। পর্যাপ্ত শুকানো বীজ ঠা-া করে প্লাস্টিকের ক্যান, টিন, কাচের পাত্র ইত্যাদিতে ভরে মুখ ভালোভাবে (বায়ুরোধী) বন্ধ করে ঘরের মধ্যে এক কোণে ঠাণ্ডা স্থানে রাখলে ১/২ বছর ওই বীজ ভালো থাকে। তবে বীজের পরিমাণ বেশি হলে প্লাস্টিক বা টিনের ড্রামে তা সংরক্ষণ করা যাবে।


ফলন : অনুকূল আবহাওয়া ও উপযুক্ত পরিচর্যায় ১২০ দিনে এ জাতের ফসল কেটে কৃষকের জমিতে বিঘাপ্রতি প্রায় ৯-১০ মণ আঁশ এবং প্রায় ২৫-২৭ মণ খড়ি পাওয়া যায়। জমি ভেদে উপযুক্ত পরিচর্যায় এ জাত থেকে প্রতি শতাংশে ২.৫-৩.০ কেজি উন্নতমানের মেস্তা বীজ পাওয়া যায়।


উপযুক্ত শস্যক্রম : গাছের বয়স ১২০ দিন হলে কেটে জমিতে চাষ ও মই দিয়ে রোপা আমন ধান বোনা যায় এবং পরবর্তী ফসল হিসেবে গম/অন্যান্য রবি ফসল ও মেস্তা বীজ চাষাবাদ করা যায়। আগাম বোরো ধান কর্তন করেও এ জাতের মেস্তা চাষাবাদ করা যায়।

 

কৃষিবিদ মো. আল-মামুন*
*ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, প্রজনন বিভাগ, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা-১২০৭; ০১৭১১১৮৬০৫১;
almamunbjri@gmail.com 


Share with :

Facebook Facebook