কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

অভিবাসন রোধে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও গ্রামীণ উন্নয়ন

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গড়ার কার্যকর উদ্যোগ ও অঙ্গীকার প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব খাদ্য দিবস। দিবসের কার্যক্রমগুলো বিশ্বময় ক্ষুধার্থ মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও তাদের খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টিকর খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। গত বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের অনিবার্যতার মুখে কৃষি এবং খাদ্যকেও পরিবর্তিত হতে হবে’। খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ উন্নয়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে অভিবাসনের ধারণা বদলে দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে এবার (২০১৭) পালিত হচ্ছে বিশ্ব খাদ্য দিবস। প্রাণিসম্পদ খাত গ্রামীণ উন্নয়নে বিনিয়োগের ধারণা পুরোপুরি বদলে দিতে পারে, বদলে দিতে পারে অভিবাসনের প্রচলিত ধারা। সরকারের সদিচ্ছার সাথে উপযুক্ত বাজেট বরাদ্দ ও জনবলের সংস্থান হলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এখনই বাংলাদেশের জনগণের পুষ্টি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতেও সক্ষম।

 


 

খাদ্য মানুষের প্রাথমিক এবং মৌলিক মানবাধিকারের উপাদান সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী ৮০৫ মিলিয়ন মানুষ দীর্ঘস্থায়ীভাবে ক্ষুধার্থ জীবনযাপন করে; প্রতিদিন ৬০% নারী এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী কমপক্ষে ৫ মিলিয়ন শিশু অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করে (ইউ/এফএও, বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০১৬)।


খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ যদিও অনেক দূর এগিয়েছে কিন্তু ক্ষুধাশূন্য বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিদ্যমান কিছু প্রতিবন্ধকতা আমাদের এখনও অতিক্রম করতে হবে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনগোষ্ঠী এখনও খাদ্য অনিশ্চয়তা এবং ক্ষুধার্থ জীবনযাপন করে যাদের যথাযথ পুষ্টিকর খাদ্য ও বহুমাত্রিক খাদ্য তালিকায় প্রবেশের সুযোগ নেই।  খাদ্য উৎপাদনে বহুদূর এগোনোর পরেও অতি তীব্র অপুষ্টির মাত্রা এখনও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব হয়নি, এখনও প্রতি তিনজনে একজন শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত অপুষ্টিজনিত কারণে (ইউ/এফএও, বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০১৬)। সর্বোপরি, জলবায়ু এবং আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে সর্বাপেক্ষা বড় প্রশ্নটি এখন খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। টেকসই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীকে সামনে অগ্রসর করা এবং সামগ্রিক কৃষি ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক (যেমন-শস্য বহুমুখীকরণ, মূল্য সংযোজিত প্রাণিজাত খাদ্য উৎপাদন ইত্যাদি) উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবি। ক্ষুধা দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নত পুষ্টির যোগান নিশ্চিত করা এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন তথা ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি ২ বাস্তবায়ন করা বাংলাদেশের কৃষি খাতের সব থেকে বড় দায়িত্ব। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে কাক্সিক্ষত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও প্রাণিজ আমিষের অগ্রসরমান উপযুক্ত জোগান আমাদের আশাবাদী করছে। এ ক্ষেত্রে পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত নির্ভরযোগ্য ভূমিকা ও অবদান রাখতে সক্ষম।


প্রাণিজাত আমিষের দুইটি প্রধান উৎস প্রাণিসম্পদ এবং মৎস্যসম্পদ খাত। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২০১৫-১৬ এর তথ্য ভিত্তিতে নেট প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন (ফ্রেশ ভিত্তিক) প্রাণিসম্পদ খাত (২০১৫-১৬) হতে ৪৬.৫৭ লাখ টন (১ এমএল দুধে এ ০.০৩৩ গ্রাম আমিষ, ১ গ্রাম মাংসে ০.২১১৬ গ্রাম আমিষ এবং ১ গ্রাম ডিমে ০.১২৫ গ্রাম আমিষ অথবা ১টি ডিম ৬০ গ্রাম যাতে ৭.৫ গ্রাম আমিষ হিসেবে) এবং মৎস্য সম্পদ খাত (২০১৫-১৬) হতে ৬.৩৯ লাখ টন (১০০ গ্রাম মাছে এ ১৭ বা ১ গ্রাম মাছে এ ০.১৭ গ্রাম আমিষ)। সুতরাং, বাংলাদেশে বার্ষিক সর্বমোট নেট প্রাণিজ আমিষ সরবরাহের পরিমাণ = ৫২.৯৬ লাখ টন (২০১৫-১৬)।


 

প্রাণিসম্পদ মানব জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। মানব সভ্যতা বিকাশের প্রতিটি স্তরে প্রাণিসম্পদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কৃষি কাজ শুরুর পূর্বে পশু শিকারই মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন হলেও সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে পশুকে কর্ষণ, পরিবহন ও খাদ্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন কাজে লাগানো হয়েছে। গৃহপালিত পশুপাখি এখন মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণের অবিচ্ছেদ্য খাত। ৭০ এর দশকে পারিবারিক আমিষের চাহিদা পূরণ এবং জমি কর্ষণ ও পরিবহন শক্তিই ছিল পশুপাখি পালনের প্রধান উদ্দেশ্য। ৮০ এর দশক থেকে এ খাতে ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও মানুষের দৃশ্যমান আয় বৃদ্ধির ফলে দুধ-ডিম-মাংসের চাহিদা বেড়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে সূচিত হয়েছে উৎপাদনশীল পশুপাখির বাণিজ্যিক পালন পদ্ধতি। ফলে সামগ্রিক প্রাণিসম্পদ খাত শিল্প খাতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জের সর্ব ক্ষেত্রে গবাদিপ্রাণীর খামার গড়ে তুলে যুবসমাজ এরই মধ্যে চাকরির বিকল্প কর্মসংস্থান এবং অভিবাসনের বিকল্প খুঁজে পেয়েছে। ২০০৭-০৮ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ খাতে আমিষ উৎপাদনের ও প্রবৃদ্ধির ধারা পরিচ্ছন্নভাবে ঊর্ধ্বমুখী। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ধারণা, কাক্সিক্ষত প্রকৃত ডাটাবেজ তৈরি সম্পন্ন হলে দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণে এবং জিডিপিতে প্রাণিসম্পদের অবদান যে আরও বহুমাত্রিক, তা পরিষ্কার করা যাবে।


মাংস উৎপাদনে আমরা এরই মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি, ডিম উৎপাদনে আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের খুবই কাছাকাছি আর দুধ উৎপাদনেও আমরা অচীরেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে পারব এমনভাবেই সার্বিক উৎপাদন ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে।


প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক জনগণের প্রয়োজন ও চাহিদা মাফিক কর্মসূচির প্রেক্ষিতে ২০১১-১২ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের মধ্যে ডিম, দুধ ও মাংসের উৎপাদন প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত পাঁচ/ছয় বছরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ডিম, দুধ ও মাংস উৎপাদন এর প্রতিটি ক্ষেত্র শ্রমঘন শিল্প খাতে রূপান্তর করা ছাড়াও শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের অভিবাসন বিমুখ করেছে বহুলাংশে।


জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে অধিক উৎপাদনশীল প্রাণীর শিল্পমুখী ও নিবিড় পালন স্বাভাবিকভাবেই নতুন রোগব্যাধি আবির্ভাবে সহায়ক হয়েছে, ফলে প্রাণিস্বাস্থ্যসহ মানবস্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত তিন দশক থেকেই সার্বিক প্রাণিজাত পণ্য উৎপাদন এবং প্রবৃদ্ধি ক্রমবর্ধমান হারে উন্নত হচ্ছে। এতে উৎপাদনের গতিশীলতাও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধির নানা ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি এর কিছু নেতিবাচক দিকও আছে। বিদ্যমান ক্রমবর্ধমান উৎপাদনমুখিতা এবং প্রবৃদ্ধির ধারা টেকসই করতে নেতিবাচক দিকগুলোও বিবেচনা করা একান্ত আবশ্যক। জনস্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টিও অপরিহার্যভাবে বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেসব বিষয়ে আশু পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মনে করে তা হলো- ১. প্রাণিবর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ২. জবাই উপজাত ব্যবস্থাপনা, ৩. ওষুধের উৎপাদন ও ব্যবহার ব্যবস্থাপনা, ৪. পরস্পর সংক্রমণযোগ্য (জুনেটিক) রোগের দমন ও ব্যবস্থাপনা, ৫. আবির্ভূত ও পুনঃআবির্ভূত রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, ৬. পুষ্টি নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন-ব্যবস্থাপনা এবং ৭. প্রাণিকল্যাণ নৈতিকতা ব্যবস্থাপনা।


প্রাণিসম্পদ সেবার মান উচ্চতর মাত্রা এবং যুগোপযোগী করার অঙ্গীকার, সেবা গ্রহীতাগণের সাথে আরও নিবিড় সমন্বয় সাধন, প্রাণিসম্পদ খাতের ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধির অগ্রযাত্রাকে সমুন্নত রাখা, পুষ্টি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্জনে এ খাত প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নিরাপদ প্রাণী ও প্রাণিজাত খাদ্য উৎপাদনের অঙ্গীকার এবং রেগুলেটরি সার্ভিসে রূপান্তরের প্রত্যয় এ খাতের রয়েছে। ক্রমবর্ধমান ডিম, দুধ ও মাংস উৎপাদন বাজার চাহিদার সাথে বহুলাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ফলে এখন কোরবানির পশুর শতভাগ চাহিদা দেশীয় উৎপাদন হতেই পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগ নিয়ন্ত্রণের ফলে পোলট্রি শিল্প এখন দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থান খাত, যেখানে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ সরাসরি কর্মরত। কৃত্রিম প্রজননের সফলতায় প্রাণিসম্পদ খাত মাইলফলক ছোঁয়ার দ্বারপ্রান্তে। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা, ডিজিজ সার্ভিল্যান্স, ট্রান্সবাউন্ডারি প্রাণিরোগ দমন কার্যক্রম জোরদার করার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। ই-প্রাণিসম্পদ সেবা, আইসিটি উন্নয়ন, উদ্ভাবনী কার্যক্রম, প্রাণিসম্পদ সহায়ক মোবাইল অ্যাপ, ২৪ ঘণ্টা সেবা সংক্রান্ত এসএমএস সার্ভিস এবং সফটওয়্যারভিত্তিক রিপোর্টিং চালুর মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ায় অগ্রসরমান। এখন আমরা প্রস্তুত ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ, এপিডেমিওলজি, পোলট্রি ভেলু চেইনে ফুড সেফটি কার্যক্রম এবং প্রডাক্ট ডাইভারসিফিকেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য। প্রাণিবর্জ্য, জবাই উপজাত, ওষুধ উৎপাদন ও ব্যবহার, পরস্পর সংক্রমণযোগ্য (জুনেটিক) রোগ দমন, আবির্ভূত ও পুনরাবির্ভূত রোগ নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে প্রাণিসম্পদ খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা এবং নিরাপদ প্রাণী ও প্রাণিজাত খাদ্য উৎপাদন জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অপরিহার্য হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে। তার জন্য সার্ভিস রেগুলেশন জোরদারকরণ এবং প্রাণিকল্যাণ নীতিমালা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আন্তঃবিভাগ সমন্বিত কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়া জরুরি বলেও আমরা মনে করছি। কৃষি ও কৃষকের সেবার মান বৃদ্ধি, স্বল্পতম সময়ে ও স্বল্প খরচে সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অচীরেই আমরা ইলেক্ট্রনিক ভেটেরিনারি সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছি। আশা করছি, সরকারের অন্যান্য সংস্থা গ্রামীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে তাদের সেবা-খাত সম্প্রসারণ করবে এবং প্রাণিসম্পদ শিল্প গ্রাম পর্যায়ে আরও জনপ্রিয় হবে।


এরই মধ্যে সৃষ্ট খাদ্য পুষ্টি নিরাপত্তা বলয় টেকসই করাসহ প্রবৃদ্ধির চলমান ধারাকে আমরা আরও গতিশীল করতে পারব বলে আমাদের দৃঢ়বিশ্বাস। ফলশ্রুতিতে ক্ষুধা দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হব। অভিবাসনের ধারণা উল্টোরথে যাত্রা করবে আমরা সে বাস্তবতার অপেক্ষায়।

 

ড. মো. আইনুল হক*  ড. সৈয়দ আলী আহসান**

 *মহাপরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ঢাকা ; **উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, এলআর সংযুক্ত: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ঢাকা

 


Share with :

Facebook Facebook