কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

বারি উদ্ভাবিত অঞ্চলভিত্তিক ফলের জাত

উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল বিশেষত ফল উৎপাদনে বাংলাদেশে বিগত এক যুগে এক ফল বিপ্লব সাধিত হয়েছে। বিগত ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ফলের মোট উৎপাদন বৃদ্ধি এবং হেক্টরপ্রতি উৎপাদনের হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। বাংলাদেশ বর্তমানে আম উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম ও পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে রয়েছে। দেশব্যাপী বারি মাল্টা-১ এর সম্প্রসারণও উল্লেখ করার মতো। বাংলাদেশে বর্তমানে ১ লাখ ৩৮ হাজার হেক্টর জমি থেকে ৪৬ লাখ টন ফল উৎপাদিত হয় যা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এ অবস্থায় আমাদের দেশে ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশ হচ্ছে দেশীয় বৈচিত্র্যময় ফলের এক অফুরন্ত ভা-ার এবং প্রায় ৭০ প্রজাতির বিভিন্ন সুস্বাদু ও আকর্ষণীয় ফল এদেশে জন্মে, যার ক্ষুদ্র একটি অংশ বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। অঞ্চলভিত্তিক কিছু কিছু ফল খুবই ভালো হয়; বরিশালে আমড়া, পেয়ারা, কাউয়া, সফেদা, বিলাতিগাব, কদবেল; সিলেট, চট্টগ্রামে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে লেবু জাতীয় ফল, আনারস; নরসিংদীতে লটকন; রাজশাহী অঞ্চলে আম; তবে অধিকাংশ ফলই দেশে জন্মে। আবহাওয়া ও মাটির দিক থেকেও বাংলাদেশে বেশ বৈচিত্র্য দেখা যায়। ১৬ কোটি মানুষের জনবহুল এ দেশে অপুষ্টি একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা। পুষ্টি ও সুষম খাবারের জন্য ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা সুস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাই ফলের উন্নয়ন তথা পুষ্টির প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর জাতি বিনির্মাণ করা সম্ভব। ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং উপকারী ফাইটোক্যামিক্যালস থাকে, যা শরীরকে বিভিন্ন রোগবালাই থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। ফলের অধিক উৎপাদন এবং এর প্রক্রিয়াজাত দ্রব্য দানাজাতীয় খাদ্য শস্যের গ্রহণ পর্যাপ্ত পরিমাণে হ্রাস করবে।
ফল বিভাগ, উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, গাজীপুর উষ্ণ এবং অবউষ্ণম-লীয় ফলের ওপর নিবিড় গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে এবং ৩২টি বিভিন্ন ফল প্রজাতির ৭৬টি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে, যার অধিকাংশই দেশে এবং কিছু কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে চাষাবাদের উপযোগী। বারি উদ্ভাবিত ফলের উন্নত জাতগুলোর চাষাবাদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, ফলের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং রপ্তানি শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। বিএআরআই কর্তৃক উদ্ভাবিত বারি মাল্টা-১, বারি আম-৩, বারি আম-৪, বারি পেয়ারা-২ দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশব্যাপী ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত ও কৃষক কর্তৃক সমাদৃত হয়েছে, যার ফলে দেশে ফলের উৎপাদন বাড়ছে। ফলের কম উৎপাদনশীলতার কারণ হলো উন্নত জাতের পরিবর্তে স্থানীয় কম উৎপাদনশীল জাতগুলোর অধিক ব্যবহার; কেননা এরা অধিকাংশ বীজের গাছ, যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব এবং উন্নত জাতের গুণগতমানসম্পন্ন চারা-কলমের অপ্রতুল উৎপাদন ও বিতরণ। বিএআরআই কর্তৃক উদ্ভাবিত অঞ্চলভিত্তিক ফলের
নির্বাচিত জাতগুলোর বিবরণ হলো-
 

বারি আম-২ প্রতি বছর ফলদানকারী একটি রঙিন উচ্চফলনশীল মাঝ মৌসুমি জাত। গাছ বড় ও খাঁড়া। ফাল্গুন মাসে গাছে মুকুল আসে এবং জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষের দিকে ফল আহরণ উপযোগী হয়। ফল ডিম্বাকৃতির, গড় ওজন ২৫০ গ্রাম। ফলের শাঁস গাঢ় হলদে, মধ্যম রসালো, আঁশহীন, মধ্যম মিষ্টি। হেক্টরপ্রতি ফলন ২২ টন। জাতটি রপ্তানিযোগ্য। সারা বাংলাদেশে চাষোপযোগী।
বারি আম-৪ প্রতি বছর ফলদানকারী একটি উচ্চফলনশীল নাবি হাই্িব্রড জাত। ফলের আকার বড় ৬০০ গ্রাম, ফলের শাঁস উজ্জ্বল হলদে, মধ্যম রসালো, আঁশহীন, খুব মিষ্টি, ফলন ১৫-১৬ টন-হেক্টর এবং সারা দেশে চাষোপযোগী। তবে লবণাক্ত, খরাপ্রবণ এবং পাহাড়ি অঞ্চলে চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
বারি আম-৫ নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চফলনশীল আগাম জাত। গাছ বড় ও খাঁড়া। ফাল্গুন মাসে গাছে মুকুল আসে এবং জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম দিকে ফল আহরণ উপযোগী হয়। ফল মাঝারি (২৩০ গ্রাম), ডি¤¦াকার, উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের ও খেতে মিষ্টি । হেক্টরপ্রতি ফলন ১৫-২০ টন। জাতটি রপ্তানিযোগ্য। যশোর অঞ্চলে চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
বারি আম-৭ প্রতি বছর ফলদানকারী রঙিন উচ্চফলনশীল মাঝ মৌসুমি জাত। গাছ বড় ও মধ্যম খাঁড়া। ফাল্গুন মাসে গাছে মুকুল আসে এবং জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ থেকে আষাঢ় মাসের প্রথম দিকে ফল আহরণ উপযোগী হয়। ফল গোলাকার, লাল আভাসহ হলুদ বর্ণের, গড় ওজন ২৮৫ গ্রাম। ফলের শাঁস হলদে, মধ্যম রসালো, আঁশহীন, মধ্যম মিষ্টি। হেক্টরপ্রতি ফলন ২০-২৫ টন। জাতটি রপ্তানিযোগ্য। রাজশাহী অঞ্চলে চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
বারি আম-১১ বছরে তিনবার ফলদানকারী একটি ব্যতিক্রমী জাত। নভেম্বর, ফেব্রুয়ারি ও মে মাসে গাছে মুকুল আসে এবং মার্চ-এপ্রিল, মে-জুন এবং জুলাই-আগস্ট মাসে ফল আহরণ উপযোগী হয়। ফল আয়তাকার, ফলের গড় ওজন ৩১৭ গ্রাম। এক বছরে গাছ প্রতি ফল ২৩টি এবং গড় ফলন ২.২ টন-হেক্টর। ফলের শাঁস গাঢ় হলুদ বর্ণের। ফল পাকা অবস্থায় হলুদ বর্ণের। বাংলাদেশের সব এলাকায় চাষ উপযোগী।
বারি কাঁঠাল-২ নিয়মিত ফলদানকারী একটি উচ্চফলনশীল অমৌসুমি (জানুয়ারি-এপ্রিল) জাত। ফল মাঝারি (৬.৯৫ কেজি) ও দেখতে আকর্ষণীয়। ফলের শাঁস হালকা হলুদ বর্ণের, সুগন্ধযুক্ত ও মধ্যম রসালো এবং খুব মিষ্টি। খাদ্যোপযোগী অংশ ৬০%। অমৌসুমে কাঁঠাল উৎপাদনের জন্য সারা বাংলাদেশে চাষের জন্য উপযোগী, পাহাড়ি এলাকায় চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
বারি কাঁঠাল-৩, বারি কাঁঠাল-২ (জানুয়ারি থেকে এপ্রিল) এর চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ফল সংগ্রহ করা যায় (সেপ্টেম্বর থেকে জুন)। উচ্চফলনশীল (২৪৫টি-গাছ এবং ১৩৩২ কেজি-গাছ)। ফল মাঝারি আকারের (৫.৪৩ কেজি) এবং লালচে সবুজ রঙের। ফলের শাঁস মাঝারি নরম, হালকা হলুদ রঙের, মধ্যম রসালো, খুব মিষ্টি এবং সুগন্ধযুক্ত। গড় ফলন ১৩০-১৩৫ টন-হেক্টর। প্রায় সারা বছর কাঁঠাল উৎপাদনের জন্য সারা বাংলাদেশে চাষের জন্য উপযোগী তবে পাহাড়ি এলাকায় চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
বারি কলা-১ উচ্চফলনশীল এ জাতটি ২০০০ সালে উদ্ভাবিত হয়। গাছ অমৃতসাগর জাতের গাছের চেয়ে খাট, অথচ ফলন দেড় থেকে দুই গুণ বেশি। প্রতি কাঁদির ওজন প্রায় ২৫ কেজি, কাঁদিতে ৮-১১টি ফানা থাকে। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে এ জাতের কাঁদিতে ১৫০-২০০টি কলা পাওয়া যায়। হেক্টরপ্রতি ফলন ৫০-৬০ টন, ফলের গড় ওজন ১২৫ গ্রাম, পাকা কলার রঙ উজ্জ্বল হলুদ এবং খেতে সুস¦াদু। বাংলাদেশের সব এলাকায় চাষ উপযোগী।
বারি কলা-৩ একটি উচ্চফলনশীল জাত এবং ফলন ৫০ টন/হেক্টর। কলার একটি কাঁদির ওজন ২৩ কেজি। প্রতিটি ফলের ওজন ১৪৪ গ্রাম, খুব মিষ্টি এবং সাধারণ রোগ বালাই সহনশীল। চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। সারা বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য উপযোগী।
বারি কলা-৫ উচ্চফলনশীল কাঁচা কলার জাত। শাঁস দৃঢ় ও হালকা হলুদ বর্ণের। কলা আকারে লম্বা খোসা মধ্যম মোটা। প্রতি কাঁদিতে কলার সংখ্যা ৯৩ থেকে ৯৭টি। কলা রান্না করার পর খুবই সুস্বাদু। কাঁদির গড় ওজন ২০.৩৮ কেজি। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৫১ মেট্রিক টন। সারা দেশে চাষোপযোগী।
বারি পেয়ারা-২ একটি উচ্চফলনশীল জাত। জাতটি বর্ষাকালে এবং শীতকালে দুইবার ফল দেয়। তবে সঠিক পরিচর্যা করা হলে প্রায় সারা বছর ফল দিতে পারে। ফল আকারে বেশ বড় ও গোলাকার, শাঁস সাদা, খেতে কচকচে, সুস্বাদু ও মিষ্টি ফলন ৩০ টন/হেক্টর। সারা বাংলাদেশে চাষোপযোগী, লবণাক্ত ও খরাপ্রবন ও পাহাড়ি অঞ্চল চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এছাড়া ছাদ বাগানে চাষোপযোগী।

বারি পেয়ারা-৪ (বীজবিহীন)- উচ্চফলনশীল, নিয়মিত ফল ধারণকারী, পেঁয়ারার একটি নাবি জাত। জাতটিতে জুন মাসে ফুল আসে এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ফল সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। ফল সম্পূর্ণ বীজমুক্ত, কচকচে ও মিষ্টি স¦াধযুক্ত। ফলের গড় ওজন ২৮৪ গ্রাম, ফলের গাত্র মসৃণ, পরিপক্ব অবস্থায় হলদে সবুজ, শাঁস সাদা এবং খেতে খুবই সুস্বাদু। ফল সাধারণ তাপমাত্রায় ৮-১০ দিন সংরক্ষণ করা যায়। পাঁচ বছরের গাছে গড়ে ২৯৬টি ফল ধারণ করে, যার ওজন ৮৪ কেজি এবং হেক্টরপ্রতি ৩২ টন ফল পাওয়া যায়। সারা দেশে চাষোপযোগী।
বারি লিচু-১ নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চফলনশীল আগাম জাত। মাঘের প্রথম সপ্তাহে গাছে ফুল আসে এবং জ্যৈষ্ঠের প্রথম সপ্তাহে ফল আহরণ উপযোগী হয়। ফলের গড় ওজন ২০ গ্রাম, ফল ডিম্বাকার ও রঙ লাল। শাঁস মাংসল, রসালো ও মিষ্টি। রাজশাহী ও পাবনা অঞ্চলের জন্য উপযোগী। হেক্টরপ্রতি ফলন ১০-১২ টন।
বারি লিচু-৪ নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চফলনশীল মাঝ মৌসুমি জাত। ফলের রঙ আকর্ষণীয় গাড় লাল। ফলের গড় ওজন ২৭ গ্রাম, সুস্বাদু, খুব রসালো এবং খুব মিষ্টি। ফলন ১০-১৩ টন/হেক্টর, জাতটি রপ্তানিযোগ্য এবং বিশেষভাবে দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলের জন্য উপযোগী। দেশের উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে চাষাবাদের জন্য উপযোগী।
বারি লিচু-৫ নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চফলনশীল জাত। ফলের রঙ আকর্ষণীয় উজ্জ্বল লাল। ফলের গড় ওজন ২১ গ্রাম, সুস্বাদু এবং মিষ্টি। পাহাড়ি অঞ্চল চাষাবাদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
শাহী পেঁপে উচ্চফলনশীল একলিঙ্গী জাত। কাণ্ডের খুব নিচু থেকে ফল ধরা শুরু হয়। ফল ডিম্বাকৃতির, ফলপ্রতি বীজের সংখ্যা ৫০০-৫৫০টি। রঙ গাঢ় কমলা থেকে লাল। ফল মিষ্টি ও সুস্বাদু। গাছ প্রতি ফলের সংখ্যা ৪০-৬০টি। হেক্টরপ্রতি ফলন ৪০-৬০ টন। দেশের সর্বত্র চাষ উপযোগী।
বারি লেবু-২ সারা বছর ফল উৎপাদকারী উচ্চফলনশীল জাত। গাছ বড় ও ছড়ানো। প্রধান মৌসুমে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে গাছে ফুল আসে এবং আষাঢ় থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত ফল আহরণ করা যায়। গাছ প্রতি বছরে ১৮৬টি ফল হয়। ফলের শাঁস সাদা, খুব রসালো এবং অল্প টক। প্রতিটি ফলে ৪৪টি বীজ থাকে। হেক্টরপ্রতি ফলন ১২ টন। দেশের সর্বত্র চাষের উপযোগী। সারা বাংলাদেশের জন্য চাষোপযোগী, তবে পাহাড়ি অঞ্চল, লবণাক্ত এবং চরাঞ্চলে চাষাবাদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এছাড়া ছাদ বাগানে চাষোপযোগী।
বারি লেবু-৩ নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চফলনশীল নাবি জাত। বছরে দুইবার ফল দেয়, ফলের আকার মাঝারি (৫০-৬০ গ্রাম), ফলের স্বাদ হালকা টক। ফলন ১০ টন/হেক্টর। সারা দেশে চাষোপযোগী। তবে পাহাড়ি অঞ্চল, লবণাক্ত এবং চরাঞ্চলে চাষাবাদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
বারি আমলকী-১ উচ্চফলনশীল নিয়মিত ফলদানকারী জাত। ফল বড় (৩০ গ্রাম), চ্যাপ্টা এবং হালকা সবুজ। শাঁস সাদা, মধ্যম রসালো, কচকচে, অল্প কষ্টিভাব সংবলিত এবং সুস্বাদু। খরা ও লবণাক্ত এলাকায় চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। সারা বাংলাদেশের জন্য চাষোপযোগী, তবে পাহাড়ি অঞ্চল, লবণাক্ত অঞ্চল এবং খরাপ্রবণ উত্তরাঞ্চল চাষাবাদের জন্য বিষেশভাবে উপযোগী।
বারি সফেদা-৩ বছরে দুইবার ফল ধারণকারী উচ্চফলনশীল জাত। ফল গোলাকার, মাঝারি (১১৭ গ্রাম), ফল খেতে খুব মিষ্টি। সারা বাংলাদেশে চাষোপযোগী, তবে খরাপ্রবণ ও লবণাক্ত দক্ষিণাঞ্চলে চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
বারি কুল-১ উচ্চফলনশীল জাত। ফল আকারে মাঝারি আকারের (২৩ গ্রাম), ফলের দুই প্রান্ত সুচালো, পাল্প রসালো, মিষ্টি। ফলন ১০-১২ টন/হেক্টর। রপ্তানিযোগ্য জাত। সারা দেশে চাষোপযোগী তবে বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল এবং খরাপ্রবণ উত্তরাঞ্চলে চাষোপযোগী।
বারি কুল-৪ উচ্চফলনশীল নিয়মিত প্রচুর ফলদানকারী একটি জাত। পাকা ফল দেখতে আকর্ষণীয় হলুদাভ সবুজ রঙের, ফলের গড় ওজন ৩৬ গ্রাম, ফল ডিম্বাকৃতি এবং খোসা পাতলা, রসালো এবং মিষ্টি। বীজ ছোট এবং দুই প্রান্ত ভোঁতা, গাছ প্রতি ফলের সংখ্যা ৫৫৫০টি এবং গাছ প্রতি ফলন ২০০ থেকে ২২০ কেজি। সারা দেশে চাষোপযোগী তবে লবণাক্ত ও পাহাড়ি অঞ্চল চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
বারি আঁশফল-২ উচ্চফলনশীল নিয়মিত ফলদানকারী খাটো জাত। ফল তুলনামূলকভাবে বড় (৯.০ গ্রাম), বাদামি রঙের, শাঁস সাদা, কচকচে এবং খুব মিষ্টি। সারা দেশে চাষোপযোগী, তবে খরাপ্রবণ অঞ্চলে চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
বারি বেল-১ উচ্চফলনশীল, নিয়মিত ফলদানকারী। ফল সংগ্রহকাল মধ্য মার্চ থেকে মধ্য জুন। শাঁস হলুদ রঙের, তিতাবিহীন। উৎপাদন গাছ প্রতি ৩৪ কেজি (৬ বছরের বয়সী গাছ)। সারা বাংলাদেশের জন্য চাষোপযোগী, তবে খরাপ্রবণ অঞ্চলে চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
বারি কামরাঙা-১ উচ্চফলনশীল নিয়মিত ফলদানকারী জাত। গাছ মাঝারি, মধ্যম খাঁড়া ও ঝোপালো। বছরে তিনবার ফল দেয় (জুলাই-আগস্ট, নভেম্বর-ডিসেম্বর এবং ফেব্রুয়ারি)। ফল মাঝারি (৯৭ গ্রাম), লম্বাটে, হালকা হলুদ। শাঁস সাদা, রসালো, কচকচে এবং মিষ্টি । হেক্টর প্রতি ফলন ৩৫ টন। জাতটি রপ্তানিযোগ্য। সারা বাংলাদেশে চাষোপযোগী, তবে লবণাক্ত ও খরাপ্রবণ অঞ্চলে চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
বারি কামারাঙা-২ উচ্চফলনশীল নিয়মিত ফলদানকারী জাত। বছরে ৩ বার ফল দেয়। ফল মাঝারি (১০০ গ্রাম), ডিম্বাকৃতির, হালকা হলুদ, রসালো এবং মিষ্টি স্বাদের। সারা বাংলাদেশের জন্য চাষোপযোগী, তবে খরা ও লবণাক্তসহিষ্ণু অঞ্চলে চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
বারি মাল্টা-১ উচ্চফলনশীল জাত। ফলের আকার মাঝারি (১৪৬ গ্রাম), খুব রসালো (৩৩.৭%), মিষ্টি। ফলন ২০ টন/হেক্টর। সারা দেশে চাষোপযোগী তবে লবণাক্ত ও পাহাড়ি অঞ্চলে চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এছাড়া ছাদ বাগানে চাষোপযোগী।
বারি কমলা-১ উচ্চফলনশীল ও নিয়মিত ফলদানকারী জাত। ফলের আকার বড় এবং প্রায় গোলাকৃতির। ফলের গড় ওজন ১৯০ গ্রাম। ফলের খোসা ঢিলা, ফল রসালো ও খুব মিষ্টি। ফলন ২০-২৫ টন/হেক্টর। উত্তর পূর্বাঞ্চল বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় এবং পঞ্চগড়ও কুড়িগ্রাম এ চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
বারি কমলা-৩ নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চফলনশীল আগাম জাত। গাছ মাঝারি, খাড়া ও মধ্যম ঝোপালো। জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাসে গাছে ফুল আসে এবং মধ্য নভেম্বর মাসের শুরু থেকে ফল আহরণ উপযোগী হয়। ফল পাকার পর গাঢ় কমলা রঙ ধারণ করে। ফলের আকার বড় এবং প্রায় গোলাকৃতির। ফলের খোসা ঢিলা, শাঁস রসালো ও মিষ্টি। ফলের গড় ওজন ১৯০ গ্রাম। বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পঞ্চগড় জেলার জন্য উপযোগী।
বারি বাতাবিলেবু-৩ উচ্চফলনশীল মাঝ মৌসুমি জাত। গাছ মাঝারি, মধ্যম খাঁড়া। জানুয়ারি মাসে গাছে ফুল আসে এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ফল আহরণ উপযোগী হয়। ফল উপবৃত্তাকার, পাকা ফলের রঙ সবুজাভ হলুদ এবং গড় ওজন ১০৭৫ গ্রাম। শাঁস গোলাপি, খুব রসালো, নরম, খুব মিষ্টি ও সম্পূর্ণ তিতাবিহীন। ফলের কোষ খুব সহজে আলাদা করা যায়। গাছ প্রতি ১০০-১১০টি ফল ধরে যার ওজন ১০০-১২০ কেজি। হেক্টরপ্রতি ফলন ২৫-৩০ টন। সারা বাংলাদেশের জন্য চাষোপযোগী, তবে পাহাড়ি অঞ্চল ও লবণাক্ত এলাকায় চাষ করা সম্ভব।
বারি বাতাবিলেবু-৫ নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চফলনশীল। গাছটির পাতা তুলনামূলকভাবে অনেক বড় ও ঝোপালো। ফলের গোলাকার ও বড় (ফলের গড় ওজন ৮৭৫ গ্রাম)। ফল দেখতে উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের এবং টিএসএস ৯.০৫%। ফল সাধারণত এককভাবে ধরে। আট বছর বয়সী প্রতিটি গাছে গড় ফলের সংখ্যা ১৮টি এবং ফলন ১৬.০৪ কেজি এবং ১০.০৩ টন/হেক্টর/বছর। সারা বাংলাদেশের জন্য চাষোপযোগী, তবে পাহাড়াঞ্চল ও লবণাক্ত এলাকায় চাষ করা সম্ভব।
বারি সাতকড়া-১ ফল মধ্যম আকৃতির (৩২২ গ্রাম), পাকা অবস্থায় হালকা হলুদাভ রঙের হয় এবং ফলন ১০ টন/হেক্টর। বৃহওর সিলেট অঞ্চলে ও পাহাড়ি অঞ্চল চাষাবাদোপযোগী। বিদেশে রপ্তানিযোগ্য।
বারি তৈকর-১ নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চফলনশীল জাত। গাছ মাঝারি, মধ্যম ছড়ানো ও বেশ ঝোপালো। বছরে দুইবার ফল দেয়। প্রথমবার ফুল আসে মধ্য শ্রাবণ থেকে মধ্য আশ্বিন (আগস্ট-সেপ্টেম্বর) মাসে এবং দ্বিতীয়বার ফুল আসে মধ্য মাঘ থেকে মধ্য ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারি) মাসে। প্রথমবার ফল সংগ্রহের উপযোগী হয় মধ্য কার্তিক থেকে মধ্য পৌষ (নভেম্বর-ডিসেম্বর) মাসে এবং দ্বিতীয়বার ফল সংগ্রহের উপযোগী হয় মধ্য চৈত্র থেকে মধ্য জ্যৈষ্ঠ (এপ্রিল-মে) মাসে। ফল চ্যাপ্টা-গোলাকৃতির, আকারে বড়। কচি  ফলের রঙ সবুজ, পরিপক্ব বা পাকা ফলের রঙ হলুদ। হেক্টরপ্রতি ফলন ৭০-৭৫ টন। বৃহত্তর সিলেট জেলার জন্য উপযোগী।
বারি আমড়া-১ খাটো প্রকৃতির জাত। সারা বছর ফল ধরে, ফল ছোট আকৃতির, টক-মিষ্টি স্বাদযুক্ত । ফলন ১৫-১৭ টন/হেক্টর। সারা বাংলাদেশের জন্য চাষোপযোগী, লবণাক্ত দক্ষিণাঞ্চলে চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এছাড়া ছাদ বাগানে চাষোপযোগী।
বারি আমড়া-২ নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চফলনশীল জাত। গাছ লম্বাকৃতির, ফল বড় আকৃতির, টক-মিষ্টি স্বাদযুক্ত। ফলন ১৭ টন/হেক্টর। সারা বাংলাদেশের জন্য চাষোপযোগী, তবে লবণাক্ত দক্ষিণাঞ্চলে চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
বারি ড্রাগনফল-১ ফল গোলাকার, হালকা গোলাপি রঙের এবং শাঁস গাঢ় গোলাপি বর্ণের। ফলের গড় ওজন ৩৭৫.১১ গ্রাম। চার বছর বয়সী গাছের গড় ফলন ২০.৬০ টন/হেক্টর। সারা বাংলাদেশের জন্য চাষোপযোগী, তবে খরাপ্রবণ অঞ্চলে চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
বারি জামরুল-১ উচ্চফলনশীল, নিয়মিত ফলদানকারী মিষ্টি জাত। গাছটি ছড়ানো প্রকৃতির। ফল মাঝারি আকারের পরিপক্ব ফল দেখতে আকর্ষণীয় সবুজাভ মেরুন বর্ণের, খেতে কচকচে। ছয় বছর বয়সী গাছ প্রতি ফলের সংখ্যা ৪০০টি যার ওজন ২৪ কেজি। ফলন ১০ টন/হেক্টর। সারাদেশে চাষোপযোগী।

 

বারি লটকন-১ মাঝ মৌসুমি উচ্চফলনশীল জাত। গাছ মাঝারী, মধ্যম খাঁড়া ও ঝোপালো। ফাল্গুন মাসে গাছে ফুল আসে এবং শ্রাবণ মাসে ফল আহরণ করা যায়। নয় বছর বয়স্ক গাছে ৩৩৫০টি ফল ধরে যার ওজন ৫০ কেজি। ফল মাঝারি। শাঁস নরম, রসালো, অম্লমধুর স্বাদযুক্ত, এবং মিষ্টি গন্ধযুক্ত। হেক্টরপ্রতি ফলন ১৪ টন। সারা দেশে চাষোপযোগী পাহাড়ি অঞ্চল ও লবণাক্ত অঞ্চলে বিশেষভাবে চাষোপযোগী । বারি বিলাতিগাব-১ নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চফলনশীল জাত। গাছ প্রতি ফলের সংখ্যা ৩৭২টি, ফল বড় (৪০০ গ্রাম), গোলাকার ও আকর্ষণীয় উজ্জ্বল লাল বর্ণের। ফলের শাঁস ধূসর বর্ণের সুগন্ধযুক্ত এবং মিষ্টি। ফলন ৩০-৩৫ টন/হেক্টর। সারা বাংলাদেশের জন্য চাষোপযোগী, তবে খরা ও লবণাক্ত অঞ্চলে চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী
 

বারি নারিকেল-১ উচ্চফলনশীল এবং লম্বা জাত। পূর্ণ বয়স্ক প্রতিটি গাছে ফলের সংখ্যা ৬৫-৭৫টি। ফল ডিম্বাকার, পরিপক্ব ফলের ওজন ১২০০-১৩০০ গ্রাম, পানির পরিমাণ ২৭০-২৯০ মিলি.। জাতটি কা- ঝরা রোগ সহনশীল। সারা দেশে চাষোপযোগী। তবে সমুদ্রতীরবর্তী ও লবণাক্ত দক্ষিণাঞ্চলে চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী
বারি নারিকেল-২ উচ্চফলনশীল এবং লম্বা জাত। পূর্ণ বয়স্ক প্রতিটি গাছে ফলের সংখ্যা ৬৫-৭৫টি। ফল ডিম্বাকার, পরিপক্ব ফলের ওজন ১৫০০-১৭০০ গ্রাম, পানির পরিমাণ ৩৩০-৩৪৫ মিলি., তেলের পরিমাণ ৫০-৫৫%। পাতার দাগ রোগ সহনশীল। বাংলাদেশের জন্য চাষোপযোগী, তবে সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল এবং লবণাক্ত দক্ষিণাঞ্চলে চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
বারি জলপাই-১ ফল আকারে বড়, গড় ফলের ওজন ৪৬ গ্রাম এবং খাদ্যোপযোগী অংশ ৮৪.৯৯%। প্রতি শাখায় ফলের সংখ্যা বেশি (৮টি-প্রতি শাখা)। নিয়মিত ফলদানকারী ও ফলের শীর্ষভাগ সুচালো। ছয় বছর বয়সী গাছের ফলন ১২৫ কেজি/গাছ। বাংলাদেশের জন্য চাষোপযোগী, খরা, পাহাড়ি অঞ্চল এবং লবণাক্ত এলাকায় চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী

 

বারি কদবেল-১ নিয়মিত বা প্রতি বছর ফল ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ও উচ্চফলনশীল। এর গাছের শাখা প্রশাখা বেশ বিস্তৃত, পাতাগুলো সতেজ ও ঝোপালো। ফল সংগ্রহের সময় অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসে। ফল গোলাকার, তুলনামূলকভাবে বড় আকারের হয়। ফলের শাঁস নরম ও টক-মিষ্টি স্বাদযুক্ত, কম রসালো, অল্প আঁশযুক্ত। পাঁচ বছর বয়সী প্রতি গাছে গড়ে ফলের সংখ্যা ১১৩টি ও ফলন প্রায় ৩৯ কেজি। বাংলাদেশের জন্য চাষোপযোগী, লবণাক্ত ও পাহাড়ি অঞ্চলে চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী বারি তেঁতুল-১ (মিষ্টি তেঁতুল)- নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চফলনশীল জাত। গাছ মাঝারি, মধ্যম ঝোপালো ও ছড়ানো। এপ্রিল-মে মাসে গাছে ফুল আসে এবং মার্চ মাসে ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। ফল মাঝারি (৩২ গ্রাম)। শাঁস নরম, আঠালো এবং মিষ্টি। বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকায় চাষযোগ্য। হেক্টরপ্রতি ফলন ১০-১২ টন। পাহাড়ি অঞ্চলে বিশেষভাবে চাষোপযোগী ।
বারি স্ট্রবেরি-২- উচ্চফলনশীল নিয়মিত ফল দানকারী জাত। ফল সংগ্রহ মধ্য ডিসেম্বর থেকে মধ্য এপ্রিল। ফল আকর্ষণীয় গাঢ় লাল রঙের, তুলনামূলক দৃঢ় এবং সুগন্ধযুক্ত। ফল বড়, প্রান্তভাগ সরু এবং গাছপ্রতি ফল ধরে ৩৭টি। সারা দেশে চাষোপযোগী।

 

ড. মদন গোপাল সাহা*
ড. বাবুল চন্দ্র সরকার**

*মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ফল বিভাগ ০১৫৫২৪৫০১৬২;  **প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ফল বিভাগ, উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, বারি, গাজীপুর; মোবাইল : ০১৭১৬০০৯৩১৯


Share with :

Facebook Facebook