কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

ধানে ইঁদুর সমস্যা : ক্ষতি ও ব্যবস্থাপনা

ইঁদুর সবার কাছে পরিচিত স্তন্যপায়ী মেরুদণ্ডী বালাই যা মানুষের সাথে নিবিঢ়ভাবে সহাবস্থান করে। এ প্রাণী প্রতিনিয়তই কৃষকের কষ্টার্জিত ফসলের ক্ষতিসাধন করছে যেমন- মাঠের শস্য কেটেকুটে নষ্ট করে, খায় এবং গর্তে জমা করে।


গুদামজাত শস্যে মলমূত্র ও লোম সংমিশ্রণ করে।


মানুষ ও গবাদিপশুতে রোগবালাই ছড়ায়।


মাঠের ফসল উৎপাদন ও গুদামজাত শস্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ইঁদুর এক বিরাট সমস্যা। প্রজাতিভেদে এদের ওজন ৭০-৪৫০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। ইঁদুর আকারে ছোট হলেও বছরে সব ধরনের ক্ষতি মিলিয়ে প্রায় ১০-১২শ’ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য নষ্ট করে থাকে, যার বাজারমূল্য ৭শ’ কোটি টাকারও বেশি। ইঁদুর বেড়িবাঁধ ও বিভিন্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে গর্ত করে এবং মাটি সরিয়ে বাঁধ দুর্বল করে ফেলে। ফলে বাঁধ ভেঙে পানি দ্বারা প্লাবিত হয়ে বাড়িঘর, ফসলাদি ও গবাদিপশুর যে ক্ষতি সাধন করে তার আর্থিক মূল্য বিবেচনা করলে ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যাবে। ইঁদুর দ্বারা প্রাথমিক ক্ষতি হয় ধান, গম, বাদাম ও নারিকেল ফসলে। বিভিন্ন ধরনের ইঁদুরের মধ্যে কালো ইঁদুর, মাঠের বড় কালো ইঁদুর, নরম পশমযুক্ত মাঠের ইঁদুর ও ছোট লেজযুক্ত ইঁদুর ধানের ক্ষতি করে। এদের মধ্যে কালো ইঁদুর মাঠে ও গুদামে এবং মাঠের বড় কালো ইঁদুর নিচু ভূমির জমিতে বেশি আক্রমণ করে। ইঁদুর যে কোনো পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়ে দ্রুত বংশ বিস্তার করতে পারে। উপযুক্ত এবং অনুকূল পরিবেশে একজোড়া প্রাপ্ত বয়স্ক ইঁদুর বছরে প্রায় ২০০০টি বংশধর সৃষ্টি করতে পারে। বাচ্চা প্রসবের পর ২ দিনের মধ্যেই স্ত্রী ইঁদুর পুনরায় গর্ভধারণ করতে পারে। এদের গর্ভধারণকাল প্রজাতিভেদে ১৮-২২ দিন হয়। সারা বছরই বাচ্চা দিতে পারে। মাঠ ফসলের শতকরা  ৫ থেকে ৭ ভাগ এবং গুদামজাত শস্যের ৩ থেকে ৫ ভাগ ইঁদুরের দ্বারা ক্ষতি হয়। ইঁদুর শুধু আমাদের খাদ্য শস্য খেয়ে  নষ্ট করে তাই নয় বরং এদের মলমূত্র, লোম খাদ্যদ্রব্যের সাথে মিশে টাইফয়েড জন্ডিস, প্লেগ, চর্মরোগ ও ক্রিমিরোগসহ প্রায় ৬০ ধরনের রোগ ছড়াতে পারে।


ইঁদুর কোথায় থাকে এবং ধান ক্ষেতে কি ক্ষতি করে?
মাঠের কালো ইঁদুর ও মাঠের বড় কালো ইঁদুর গর্তে থাকে। গর্তের মুখ বন্ধ রাখে এবং মাটি স্তূপ করে রাখে। একটি গর্তে একটি মাত্র ইঁদুর থাকে। সাধারণত আগাম পরিপক্ব ধানের জমিতে ইঁদুরের আক্রমণ বেশি হয়। ইঁদুর ধান গাছের কুশি তেরছা কোণে (৪৫ ডিগ্রি) কেটে দেয়। গাছের শীষ বের হলে শীষ বাঁকিয়ে নিয়ে কচি ও পাকা শীষগুলো কেটে দেয়। ইঁদুর ধান ফসলে তিন মৌসুমেই আক্রমণ করতে পারে। তবে আমন মৌসুমে নিরাপদ আশ্রয়স্থল, পর্যাপ্ত খাদ্য এবং পানি সহজলভ্য হওয়া এবং মৌসুমের শেষভাগে বৃষ্টিপাত কম ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ সময়ে ইঁদুরের প্রজনন খুব বেশি হয়। ফলে ইঁদুরের সংখ্যা অন্যান্য মৌসুমের তুলনায় বেড়ে যায়। তাই ইঁদুরের প্রজনন শুরুর আগেই ইঁদুর নিধন অভিযান কার্যক্রম শুরু করা দরকার।


ইঁদুর কেন কাটাকাটি করে?
ইঁদুর বা ইঁদুর জাতীয় প্রাণীদের অনবরত কাটাকাটির অভ্যাস বিদ্যমান। কারণ এসব প্রাণীর মুখের ওপরের ও নিচের চোয়ালের সামনের জোড়া দাঁত চোয়ালের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকায় এবং এ জোড়া দাঁতের কোনো রুট ক্যানেল না থাকায় সামনের কর্তন দন্তগুলো অনবরত সারাজীবন বাড়তে থাকে। দাঁতের এ অনবরত বৃদ্ধিকে কমিয়ে আনার জন্য ইঁদুর বা ইঁদুর জাতীয় প্রাণীরা অনবরত কাটাকাটি করে।


আমন মৌসুমে ইঁদুর দমনের উপযুক্ত সময় কোনটি?
আমন মৌসুমে ইঁদুর দমনের উপযুক্ত সময় ভাদ্র থেকে মধ্য কার্তিক। কারণ এ সময়ে মাঠে ইঁদুরের সংখ্যা কম থাকে। জমিতে পানি থাকে বলে ইঁদুর মাঠের উঁচু স্থানে, রেলসড়ক ও মহাসড়ক, বাঁধে এবং পুকুরের পাড়ে, ধানের জমির পাশে কচুরিপানার দলে অল্প জায়গায় অবস্থান করে। মাঠে প্রচুর খাদ্য না থাকায় ইঁদুর সহজেই এ সময় বিষটোপ খেয়ে থাকে। আমন ফসল ক্ষতি করার আগেই ইঁদুর মারতে পারলে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি কম হয় এবং ফসলের ক্ষতিও অনেক কম হয়ে থাকে। ধান রোপণের সময় ও রোপণের ৪৫-৫০ দিনের মধ্যে ধানের জমি ও আশপাশের এলাকার ইঁদুর দমনের ব্যবস্থা নেয়া উচিত।


কোথায় কখন ইঁদুর দমন করতে হবে?
সড়ক ও মহাসড়কের ইঁদুরের নতুন গর্তে, ফসলের মাঠে, পুকুর পাড়ের গর্তে, রেললাইনে ইঁদুরের গর্তে, ফসলের মাঠে উঁচু স্থানে, ঘরবাড়ির ও আশপাশের ইঁদুরের নতুন গর্তে, জমিতে যখন পানি থাকে ও ধানে থোড় আসার আগে ইঁদুর দমন করতে হবে। রাস্তাঘাটের ইঁদুর মাঠের পানি সরে গেলে আমন ক্ষেতে ঢুকে পড়ে এবং বিপুল ক্ষতি করে। তাই জমির পাশে সরকারি রাস্তার ও উঁচু জায়গার ইঁদুর জমিতে প্রবেশ করার আগেই মেরে ফেলতে হবে।


মাঠ ফসলের বৃদ্ধির সাথে সাথে ইঁদুর প্রজনন প্রক্রিয়াও চালাতে থাকে। তাই ফসলের থোড় ও পাকা অবস্থায় ইঁদুর দমন ব্যবস্থা ততটা কার্যকর হয় না। কারণ এ সময় মাঠে ইঁদুরের সংখ্যা অত্যধিক বেড়ে যায়। এ সময় ইঁদুরের ক্ষতির মাত্রা বেশি হলেই কেবল ইঁদুরের উপস্থিতি বুঝা যায়, তখন দমন ব্যবস্থা ততটা কার্যকরী হয় না। কারণ মাঠের ফসল রেখে ইঁদুর বিষটোপ খেতে চায় না এবং দমন খরচ অনেক গুণ বেড়ে যায়।


কিভাবে ইঁদুর দমন করা যায়?
ইঁদুরের ক্ষয়ক্ষতির ধরন, এর ব্যাপকতা ও দমন প্রক্রিয়া অন্যান্য বালাই থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও কৌশলগত। তাই স্থান কাল পাত্রভেদে কৌশলের সঠিক ও সমন্বিত দমন পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে ইঁদুর দমন করতে হবে। এতে করে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি, ইঁদুর বাহিত রোগ ও পরিবেশ দূষণের মাত্রা কমানো সম্ভব হবে। তবে ইঁদুরকে সঠিকভাবে মোকাবিলা করার জন্য সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন। সবাই মিলে একযোগে বেশি জায়গার ইঁদুর মারলে ফসল রক্ষা পায় ও ইঁদুরের সংখ্যা পরবর্তীতে বাড়তে পারে না। এজন্যই সরকারিভাবে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে ইঁদুর নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়ে থাকে এবং এটাকে সামাজিকভাবে আরও কার্যকরী করতে হবে। ইঁদুর দমন পদ্ধতিকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। ১. অরাসায়নিক পদ্ধতিতে দমন  ২. রাসায়নিক পদ্ধতিতে দমন এবং ৩. জৈবিক পদ্ধতিতে দমন।  

অরাসায়নিক পদ্ধতি মানে ভৌতিক ও যান্ত্রিক কলাকৌশল যেমন-
গর্ত খুঁড়ে ইঁদুর বের করে মেরে ফেলা।
ইঁদুরের গর্তে পানি ঢেলে ইঁদুর বের করে মেরে ফেলা।
ইঁদুরের গর্তে মরিচের ধোঁয়া দিয়ে ইঁদুরকে বের করে মেরে ফেলা।
ক্ষেতের আইল চিকন (যেমন- ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি) রেখে ক্ষেতে ইঁদুরের প্রকোপ কমানো যায়।
বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করে।
একই এলাকার ধান ফসল একই সময়ে লাগানো ও কর্তন করা হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হয়।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে ইঁদুরের প্রকোপ কমানো যায়। বাড়িঘর ও ক্ষেতের আশপাশের ঝোপঝাড়, জলাশয়ের কচুরিপানা পরিষ্কার করতে হবে।
ধান ক্ষেতের চারদিকে এক মিটার উচ্চতায় পলিথিন দ্বারা ঘিরে দিয়ে ইঁদুরের আক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়।
আগে পাকে এমন স্বল্প জীবনকালের ধান (যেমন- ব্রি ধান৬২) চাষ করে একে ফাঁদ ফসল হিসেবে ব্যবহার করে ইঁদুর দমন করা যেতে পারে।


বিভিন্ন যান্ত্রিক উৎপীড়ক (রিপেলেন্ট) যেমন- জমিতে ভিডিও ফ্লিম টানিয়ে, মানুষের প্রতিকৃতি জমিতে দিয়ে অথবা আলট্রা শব্দ সৃষ্টি করে জমি থেকে ইঁদুরকে সাময়িক সরিয়ে রাখা যায়। ইঁদুর তাড়ানোর নতুন পদ্ধতি হিসেবে আমন ধান ক্ষেতে পলিথিনের ঝাণ্ডা উড়িয়ে সুফল পাচ্ছেন কৃষক। বাতাসের কারণে পলিথিন পত পত শব্দ করে উড়ে আর ইঁদুর মনে করে কেউ আসছে, তাই ভয়ে পালিয়ে যায়। অবশ্য বায়ুপ্রবাহ মন্থর হলে কৌশলটি ভালোভাবে কাজ করবে না। বেশি সময় ধরে একই উৎপীড়ক ব্যবহার করলে এর কার্যকারিতা কমে যায়।
রাসায়নিক পদ্ধতিতে ইঁদুর দমনে তিন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যেমন- ১. একমাত্রা বিষটোপ। ২. দীর্ঘমেয়াদি বিষটোপ এবং ৩. বিষ গ্যাস বড়ি।

 

একমাত্রা বিষটোপ : এ ধরনের বিষটোপ ইঁদুর একবার খেলেই সঙ্গে সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারা যায়। গমে মিশ্রিত জিংক ফসফাইড (<২%) বিষটোপ এর মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত।
 

প্রয়োগ কৌশল : জিংক ফসফাইড ছাড়া শুধু গম কয়েক দিন দিয়ে অভ্যাস করে হঠাৎ একদিন জিংক ফসফাইড মিশ্রিত গম প্রদান করতে হবে।   
 

সমস্যা : যদি মৃত ইঁদুরগুলো সরিয়ে ফেলা না হয় তবে বিষটোপ লাজুকতা (বিষটোপ খেয়ে ইঁদুর মরে পড়ে আছে, এটা দেখে জীবিত ইঁদুরের ওই বিষটোপের প্রতি খাওয়ার অনীহা)। দেখা দিতে পারে।  


দীর্ঘমেয়াদি বিষটোপ : এ ধরনের বিষটোপ ইঁদুর খেলে সঙ্গে সঙ্গে  মারা যায় না। ইঁদুরের শরীরে বিশেষ প্রতিক্রিয়া হয় এবং কিছু দিন অর্থাৎ ২ থেকে ১৪ দিন পর মারা যায়। এক্ষেত্রে ল্যানির‌্যাট, স্টর্ম, ব্রমাপয়েন্ট, ক্লের‌্যাট ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি বিষটোপ রক্তের জমাটবাঁধার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। ফলে ইঁদুরের দেহে কোনো কারণে সৃষ্ট বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ ক্ষতের জন্য অনবরত রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে ২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে ইঁদুর দুর্বল হয়ে গর্তের মধ্যে মারা যায়। এখানে বিষটোপ লাজুকতা দেখা যায় না।


বিষ গ্যাস বড়ি : বিষ গ্যাস বড়ি মরণ গ্যাস উৎপন্ন করে। ইঁদুরের গর্তে বিষাক্ত অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড বড়ি দিয়ে গর্তের মুখ ভালো করে বন্ধ করে দিলে ইঁদুর মারা যায়। এজন্য নতুন সচল গর্তে গ্যাস বড়ি দিয়ে আশপাশের সব গর্তের/নালার মুখ মাটি দিয়ে শক্ত করে বন্ধ করে দিতে হবে।


বিষটোপ কোথায় প্রয়োগ করতে হবে?
ইঁদুর নতুন মাটি বের করেছে এরূপ সচল গর্তের ভেতরে বিষটোপ দিতে হবে। একটি গর্তে অনেক মুখ থাকতে পারে তবে যে গর্তের মুখে নতুন মাটি পাওয়া যাবে শুধু সেই গর্তের ভেতর বিষটোপ  দিতে হবে। একটি গর্তে জিংক ফসফাইডের বিষটোপের একটি টুকরা (কেক) অথবা বড়ি প্রয়োগের পর গর্তের সব মুখ ভালোভাবে বন্ধ করতে হবে। ল্যানির‌্যাট ছোট পাত্রে বা মোটা কাগজের পোটলা তৈরি করে সচল গর্তের মুখে রাখতে হবে।


জৈবিক পদ্ধতিতে কিভাবে ইঁদুর দমন করা যায়?
জৈবিক পদ্ধতি হলো অন্য জীবের সাহায্যে দমন। ইঁদুরভোজী প্রাণীদের রক্ষা এবং বংশবিস্তারের যথাযথ ব্যবস্থা করলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ ইঁদুর সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে। আমরা জানি পেঁচা, শিয়াল, বেজি, বন বিড়াল, সাপ, গুঁইসাপ, বিড়াল জাতীয় প্রাণীর প্রধান খাদ্য হচ্ছে ইঁদুর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইসরাইল, জর্ডান, মালয়েশিয়া ও হাঙ্গেরি মাঠ ফসলের ইঁদুর দমনে পেঁচার ব্যবহার করছে। এজন্য তারা পেঁচার প্রাকৃতিক পরিবেশকে সংরক্ষণের পাশাপাশি এর প্রজনন ও প্রতিপালন কার্যক্রমকে কৃষক পর্যায়ে উৎসাহিত করছে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, একজোড়া পেঁচা চার মাসের একটি প্রজনন চক্রে ৪ থেকে ৬টি বাচ্চার লালন-পালনে ৫০-৭০ গ্রাম ওজনের প্রায় ৩০০০ থেকে ৫০০০ পর্যন্ত ইঁদুর ভক্ষণ করতে পারে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রায়  ১১ প্রজাতির পেঁচার সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে কোনো এলাকায় কোনো প্রজাতির পেঁচা বেশি তার সঠিক তথ্য জানা নেই। মানব সমাজে পেঁচাকে অলক্ষণের প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়। কিন্তু মানুষের কোনো ক্ষতি না করে বরং পেঁচা নীরবে-নিভৃতে ইঁদুর দমন করে মাঠের ফসলের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করছে। তাই জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের সংরক্ষণ ও বংশবিস্তারের সুযোগ করে দিতে হবে। পরিশেষে একটি পরিচিত স্লোগানের মাধ্যমে শেষ করতে চাই, তাহলো-

 

‘সবাই মিলে ইঁদুর মারি
দেশের সম্পদ রক্ষা করি’।

 

ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন*  মো. মোসাদ্দেক হোসেন**
*প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, কীটতত্ত্ব বিভাগ, ব্রি, গাজীপুর-১৭০১

 


Share with :

Facebook Facebook