কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

ইঁদুর কাটে কাটুস কুটুস

তাইরে নাইরে বন্ধুরে, কুমড়া কাটে ইন্দুরে; তাইরে নাইরে বন্দুরে, কাঁথা কাটে ইন্দুরে; তাইরে নাইরে বন্ধুরে, কাগজ কাটে ইন্দুরে...
 

তাইরে নাইরে... ফারহান ইমতি আনমনে বলেই যাচ্ছে বিরতিহীন ক্যাসেট প্লেয়ারের মতো। থামছে না দেখে বড় বুবু প্রিয়ন্তি ইমতির রুমে এসে বলল- কিরে ইমতি পাগল হয়ে গেছিস নাকি। এসব আবল তাবল কি বকছিস। ইমতি তবুও থামছে না বলেই যাচ্ছে তাইরে নাইরে বন্ধুরে...
 

এবার মেঝ বোন অবন্তি মাকে ডাকতে ডাকতে বলছে মাগো দেখো ইমতি পাগল হয়ে বকবকাচ্ছে। ওমা মাগো চিৎকার শুনে ছোট বোন রূপন্তি আর মা এসে ইমতির রুমে হাজির।


ইমতি এক হেয়ালি যুবক। এসএসসি ভালোভাবে পাস করলে ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বিভাগে পাস করার পর আর পড়ালেখায় সংযুক্ত থাকতে চাইল না। অনেক শাসন আদর করে অবশেষে দ্বিতীয় বিভাগে স্নাতক পাস করল। এসএসসি পাসের পর টেলিভিশনে এক যুবকের কৃষিতে সাফল্য গাঁথার অনুষ্ঠান দেখে সেই যে মাথা বিগড়ালো আর ঠিক হলো না। গাছের চারা কলম রোপণ, বাগান করা, কলম-নার্সারি করা, মাছ চাষ, হাঁস-মুরগি পালন, ছাগল পালন, কবুতর পালন, কোয়েল পালন, কম্পোস্ট তৈরি এসব করা তার নেশায় পরিণত হলো। প্রথম প্রথম সাংবাদিক বাবা জিএম কবীর ভুঁইয়া ও মা ফেন্সি কবীর নিষেধ করতেন, রাগ করতেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু না হওয়ার কারণে পরিবারের সবাই ইমতিকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বানানোর আশা ছেড়ে দিলেন। সঁপে দিলেন কৃষিবিদ আর কৃষি ভুবনের হাতে।


মধ্যবর্তী অবস্থার ভুঁইয়া পরিবারের কোনো কিছুর অভাব না থাকলেও পাগলা ইমতির পাগলামিতে প্রতিদিন, সপ্তাহে, মাসে কিছু কিছু বাড়তি আয় রোজগার আসতে থাকল। তার একটাই কথা বাজার থেকে বিষ কিনে খাব না। সুস্থ সবল দেহ চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই। রাজকীয় মরণ চাই। ইমতি বলত তোমাদের বিষমুক্ত শাকসবজি ফলমূল খাওয়াব। প্রথম প্রথম বাড়ির এলাকার সবাই ব্যাপারগুলো তেমন পাত্তাই দিত না। সময়ের ব্যবধানে সবার মাথায় ইমতির পাগলামির ধনাত্মক প্রভাব ও অনুভূতি দারুণভাবে নাড়া দিতে লাগল। এলাকার লোকজন তার এসব দেখে নাম দিল পাগলা বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানীরা আসলে পাগলই হন। ইমতির আশ্চর্য দিক হলো কখন যে কি করে বসে কি বলে বসে কেউ ধারণাও করতে পারে না। পরবর্তীতে দেখা যায় পাগলামির আশ্চার্যপনার মধ্যেও একটি রহস্যমূলক শুভ সুন্দর সফলতা কল্যাণ লুকায়িত আছে। এসব কারণে এলাকায় তার একটি পাগলা বিজ্ঞানী সহযোগী ও অনুসারী দলও এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে।


আজকের ব্যাপারটি পরিবারের সবাইকে চমকে দিয়েছে। তাইরে নাইরে বন্ধুরে... এর রহস্য কি। রূপন্তি ধাক্কা দিয়ে জিজ্ঞেস করল এই ভাইয়া তোর কি হয়েছে। এগুলো কি বলছিস। আবার বুঝি তোর মাথা বিগড়ালো।


-নারে রূপন্তি, রহস্য খুউব রহস্য এত দিন বুঝবার পারি নাই। আইজ সব ফকফকা হইয়া গেল। অহন বুঝি আপুমনির মসলিন শাড়ি টুকরো করা দাদু ভাইয়ার কাশ্মিরী শালের জাল বানানো কৌশল আর তোর এত দামের লেহেঙ্গাকে কেটে কুটে ভুসি বানিয়েছে। এত ক্ষতি কিভাবে কেন করেছে। আর ঠেকাইতে পারব না ইন্দুর মামু। সোনার চান্দু যাইবা কই। তোমারে এবার দলবলসহ সার্জারি করমু খাসি করমু। সব টেকনিক শিক্ষা ফালাইছি কৃষি স্যারগো কাছে।


-কি হয়েছে খুলে বল ছোট ভাইয়া। আমরা তো কিছুই বুঝতে পারছি না।
 

-বুঝবি সব বুঝবি। আমার চোখের আন্ধার কাইট্টা গেছে। এবার আর থামাইতে পারবা না। নন্দিরহাটে এতক্ষণ কৃষি তথ্য সার্ভিসের মাল্টিমিডিয়াতে ইন্দুর ভায়ার কাটুস কুটুস ছবি দেইখ্যা আইলাম। আহ কৃষি তথ্য সার্ভিসকে আমার হাজারো ধন্যবাদ, লাখো সালাম। এমুন একটা জব্বর ছবি বানাইছে। নায়ক নাই নায়িকা নাই কিন্তু দারুণ হিট ছবি। আমার সুযোগ থাকলে অগরে বড় একটা পুরস্কার দিতাম। তয় আন্তরিক ধন্যবাদ দিয়া আইছি।
-ওই পাগলা সাক্ষী দেস না বৃত্তান্ত কস। খুলে বল শুনি। কি সিনেমা দেখলি। এত মাতাল হইলি কি দেখে অবন্তি ধমকের সুরে বলল।  


-বুবু রাগ কইরো না। অহন কমুনা কাইল্কা সন্ধ্যায় সব বুঝবা সূর্যের লাহান পরিষ্কার হইব আমাগো বাড়ির স্কুলে কাইল্কা সন্ধ্যায় ইন্দুর শো অইবে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের স্যারদের রাজি করাইছি। তোমরা শুধু একটু সামান্য মেজবানদারি করবা। মহিলাদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা অইব। হেডস্যার, চেয়ারম্যান কাকু যুব শক্তি সবাই থাকব। তোমরাও থাকবা। ইন্দুর শো অইব। হাঁ হাঁ হাঁ- তোর পাগলামির শেষ নাই । ইন্দুর আবার নাচবো গাইবো ক্যামনে। -সব রহস্য আজ নয় কাল সন্ধ্যায় বুঝবা তোমরা সবাই।


পর দিন সন্ধ্যায় ভুঁইয়া বাড়ির সামনে স্কুলের মাঠে শত নয়, হাজার লোক ইমতি পাগলার স্বেচ্ছাসেবীর দল সুশৃঙ্খলভাবে দর্শকদের বসাচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার পর সাদা পর্দায় অপারেটর ইয়াকুব পাঠান সাহেব টেস্ট করে ঠিক করে রেখেছেন। তথ্য সার্ভিসের কৃষিবিদ উমা আজাদী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর সিনেমা শুরু হলো।


হ্যামিলনের বংশীওয়ালা বাঁশি বাজিয়ে যাচ্ছেন আর লাখ লাখ ইঁদুর তাকে অনুসরণ করে সাগরের দিকে যাচ্ছে। হঠাৎ ছন্দ পতন। ভরাট কণ্ঠে ভেসে ওঠল। না হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা আর পাওয়া যাবে না। আমরাই এদের বংশ নিপাত করব সম্মিলিতভাবে সব পদ্ধতির সমন্বয়ে। আপনি জানেন কি ইঁদুর বছরে আমাদের ক্ষতি করে ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনায়াসেই এত বিরাট ক্ষতি থেকে এদেশটাকে বাঁচাতে পারি। শুধু দরকার আমাদের সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা। ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, চাষি, বধূ, মাতা, কন্যা, পুত্র, নেতাকর্মী সবাই মিলে।


আসুন দেখি ইঁদুর আমাদের কি কি ক্ষতি করে
-মাঠ ফসল, গোলার ফসল, আসবাবপত্র, বই খাতা দালান কোঠা, ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট, বাঁধ, জামাকাপড়, ফল, তরিতরকারি, বিদ্যুৎ, টেলিফোন লাইন, সব জায়গার কেটেকুটে নাস্তানাবুদ করে দেয়। ইঁদুরবাহিত রোগের সংখ্যা ৪০ এর অধিক। রাজঘর থেকে কুঁড়েঘর, রিকশাভ্যান থেকে বিমান সবখানেই ইঁদুরের দৌরাত্ম্য। আমন ফসলের জমিতে প্রতি হেক্টরে ৬০-৬৫টি ইঁদুর থাকে। এরা মাঠে ফসলের ৮-১২%, গুদামজাত ফসলের ৩-৫% নষ্ট করে। প্রতি বছর যে পরিমাণ খাদ্য নষ্ট করে তা দিয়ে পৃথিবীর অন্তত ২৫-৩০টি দেশের মানুষ আনায়াসে খেয়ে বাঁচতে পারে।


কারা এসব ক্ষতি করে?
১৭০০ প্রজতির ইঁদুরের মধ্যে ১২ প্রজাতির ইঁদুর শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মাঠের কালো ইঁদুর, মাঠের বড় কালো ইঁদুর, খাটো লেজযুক্ত ইঁদুর, ঘরের ইঁদুর, গেছো ইঁদুর, নরওয়ে বাদামি ইঁদুর, মোলায়েম লোমযুক্ত ইঁদুর, টিকা বা ছুঁচো আরও কত নাম এদের।


-ওমা দেখতে ক্যামন গো এসব। -চুপ কর অবন্তি আগে দেখ বলল প্রিয়ন্তি।
 

ইঁদুর কেন এত ক্ষতি করে?
ইঁদুরের চোয়ালে দুই জোড়া ছেদন দাঁত আছে। যেগুলো সারা জীবন বাড়ে। তাই ছেদন দাঁতকে ছোট রাখতে ইঁদুর দিনরাত কাটাকুটি করে। দাঁত বড় হয়ে এক মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি হয় বলে তারা এমন করে।

 

ইঁদুরের জন্ম বৃদ্ধি কৌশল
একজোড়া দম্পতি ইঁদুর বছরে ২৫০০-৩০০০টি ইঁদুরের একটি কলোনি তৈরি করতে পারে। কেননা, ইঁদুর প্রতি ১৮-২২ দিনে একবার অর্থাৎ বছরে ১৩-১৫ বার বাচ্চা দেয়। প্রতিবার ৫-১৬টি বাচ্চা প্রসব করে। একবার বাচ্চা দেয়ার ২৪ ঘণ্টা পর আবার গর্ভধারণ করতে পারে। মাত্র ৯০ দিন বয়সী এটি বাচ্চা ইঁদুর গর্ভধারণ করতে পারে।


আরও শুনবেন ইঁদুর প্রতিদিন তার শরীরের ১০% ওজনের খাদ্য খায় এবং একই পরিমাণ নষ্ট করে। এরা বছরে ৫ লিটার প্রসাব করে। ১৫ হাজার বার পায়খানা করে যার ওজন ২ কেজির কম নয়। পশম ঝরে ৫ লাখের ওপর। লাফিয়ে ১ থেকে ১.৫ মিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। ১০ মিটার ওপর থেকে পড়লেও শারীরিক কোনো ক্ষতি হয় না। মাটির ১ মিটার গভীরে এবং ৫০ মিটারের বেশি লম্বা গর্ত তৈরি করতে পারে। ইঁদুর খুব চালাক প্রাণী। এদের শ্রবণ, ঘ্রাণ এবং বুদ্ধি শক্তি তীব্র। এরা ২-৫ বছর বাঁচে। একটি ইঁদুর বছরে ৫০ কেজি গোলাজাত ফসল নষ্ট করে আর ২০ কেজির মতো খাবার গর্তে নিয়ে জমা রাখে।
   

 সিনেমা চলাকালে মনু মৃধা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল ক্যামনে ওদের নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের ম্যাডাম অফিসার হেসে বললেন, এত ধৈর্য হারালে হবে না। একটু পরেই দেখতে পাবেন। -না আর থেমে থাকা যায় না। এত দিন তো বুঝতাম না। এবার বুঝলাম ক্যামনে এত ক্ষতি হয় বছরের পর বছর ইঁদুরের মাধ্যমে...।
 

দমনের আগে কিছু টিপস
আমাদের এ দেশে গড়ে ৩০-৩৫% কৃষক সক্রিয়ভাবে ইঁদুর দমন করে। কিন্তু শতভাগ নাগরিকের অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে ইঁদুর দমন সর্বোতভাবে কার্যকর হবে না ইঁদুর নিধনে সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন কৌশলের সমন্বয়ে কাজ করতে হবে। তবেই বাজিমাত করা যাবে। যেমন বর্ষাকালে মাঠের সব ইঁদুর বাড়িঘরে, উঁচুস্থানে আশ্রয় নেয়। তখন ইঁদুর নিধন অভিযান বেশ কার্যকর। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইঁদুরের ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। বিড়াল, পেঁচা, গুঁইসাপ, ঈগল, বনবিড়াল, বাগদাশ, বেজি প্রচুর সংখ্যক ইঁদুর খেয়ে আমাদের উপকার করে। এজন্য এসবের লালন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। পুনর্বাসিত করতে হবে। আমাদের দেশের সরকারি, বেসরকারি, নেতাকর্মী ছাত্র, শিক্ষক, সৈনিক, আনসার, ভিডিপি, পুরুষ, মহিলা সবাই মিলে ইঁদুরকে দেশের শত্রু ভাবতে হবে এবং আন্তরিকভাবে ইঁদুর দমনে সমন্বিত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবেই ইঁদুরের দৌরাত্ম্য কমবে, ক্ষতি কমবে।

 

হুঁ সিনেমার মানুষটা ঠিকই কইছে। সবাই মিল্লা ইন্দুর মারলে কাম অইব। একলা একলা তা অইব না। ভুঁইয়া বাড়ির বৃদ্ধ মুনি হেকিম আলী স্বগতোক্তি করল।
 

এবার শুনি ইঁদুর দমন সম্পর্কে-

আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার ম্যাডাম উমা আজাদী বললো দুইভাবে ইঁদুর দমন করা যায়। রাসায়নিক এবং অরাসায়নিক পদ্ধতি।
 

শুরুতেই অরাসায়নিক পদ্ধতি। ঘর দুয়ার ভালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ইঁদুর চলাচলের জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে। তা ছাড়া ফাঁদ পেতে, কল পেতে, বাঁশ দিয়ে, ইঁদুরের গর্তে পানি দিয়ে, গর্তে মরিচের ধোঁয়া দিয়ে, গর্ত খুঁড়ে, মাঠে জমির আইল পরিষ্কার রেখে।
 

আর গাছে টিনের পাত বসিয়ে, আঠা লাগিয়েও দমন করা যায়। একটা নতুন পদ্ধতি আছে অনুসরণ করতে পারলে দারুণ কার্যকর হয়। সেটি হলো কোন মতে দু-একটি ইঁদুর কৌশলে ধরে তার পায়খানার রাস্তা ভালোভাবে সেলাই করে ছেড়ে দেয়া। সেলাই করা ইঁদুর তাদের স্বভাব মতো শুধু খাবে। কিন্তু পায়খানা করতে পারবে না। পায়খানা না করতে পেরে সে পাগল হয়ে গিয়ে অন্য ইঁদুরকে কামড়িয়ে মেরে ফেলবে। এভাবেও ইঁদুর ধ্বংস করা যায়।
 

এবার দেখব রাসায়নিক পদ্ধতিতে ইঁদুর দমন পদ্ধতি
বিষ প্রয়োগে ইঁদুর দমন করা যায় সহজে। বাজারে জিঙ্ক ফসফাইড সংবলিত বিষটোপ কিনতে পাওয়া যায়। আটা, রুটি, মুড়ি, খই, চালভাজা, চিঁড়া, বিস্কুট, শুঁটকি, এসবের সাথে মিশিয়ে ইঁদুর মারা যায়। বাজারে এখন অনেক কোম্পানির নিবন্ধিত ওষুধ পাওয়া যায়। কোন কিছুর সাথে মেশানো ছাড়াই এগুলো প্রয়োগ করতে হয়। ঘরের কোণে অন্ধকারে, ইঁদুর চলাচলের জায়গায়, অন্যান্য স্থানে সামান্য পরিমাণে রেখে দিতে হয়। ইঁদুর চালাক প্রাণী তাই আস্তে আস্তে খাবে। পরে দূরে গিয়ে মারা যাবে। রাসায়নিক ওষুধের মধ্যে আছে ল্যানির‌্যাট, স্টর্ম, ব্রোমোপয়েন্ট, ক্লেরাট, রেকুমিন, বা জিঙ্ক ফসফাইড সংবলিত যে কোনো ওষুধ অন্তত ৮০% কার্যকর হিসেবে প্রমাণ করেছে। একটি কথা, এসব ওষুধ বাচ্চা, অবুঝ শিশু, মানসিক প্রতিবন্ধী, হাঁস-মুরগির নাগালের বাইরে রাখবেন।

 

শেষ হলো ফিল্ম শো : ইঁদুর কাটে কাটুস কুটুস
প্রিয়ন্তি বুজি, আমাদের ইমতি পাগলা তো ভালোই ম্যানেজ করছে। আমরা তো চিন্তাও করতে পারুম না ইঁদুরের এসব কাজ- কারবার করে। মনে হয় আমাদের দায়িত্ব আছে সবাই মিলে ইঁদুর মারার। এবার শুনছিলাম ইঁদুরের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান উড্ডয়নে কত দেরি হয়েছে, সংসদে সমস্যা হয়েছে। তা ছাড়া কয়েক বছর আগে ইঁদুরজনিত প্লেগ রোগের আক্রমণের আতঙ্ক কি মানসিক আর স্নায়ুবিক ঝড়ই না বয়ে গিয়েছিল সারা বাংলাদেশে। অবন্তি ঠিকই বলেছিস আমরা মেয়েরাও এ ব্যাপারে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারি।

 

-বুবু তুমি আমি দুইজনেই স্কুলে চাকরি করি। চল তোমার আমার স্কুলের সব ছাত্রছাত্রীদের ইঁদুর নিধনে উদ্বুদ্ধ করি। প্রয়োজনে হেড স্যারকে বলে পরীক্ষায় ইঁদুর দমনের ওপর কিছু নম্বর রাখার ব্যবস্থা করি। তাছাড়া প্রত্যেককে ইঁদুর নিধনের এবং লেজ জমা দেয়ার পুরস্কার হিসেবে স্কুল ব্যাগ, বক্স, চকলেট, পেনসিল, ইরেজার, কলম খাতা, সাপনার, টিফিন বক্স, স্কুলব্যাগ এসব দিতে পারি।
এত টাকা পাবি কোথায়?

 

- কোনো সমস্যা নেই। বাবন ইচ্ছে করলে কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করলে নিশ্চয় এ মহৎ কাজে এগিয়ে আসাবেন এবং স্পন্সর করে আমাদের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নে অংশগ্রহণ করবেন। -প্রিয়ন্তি বুবুু, অবন্তি বুবু, তোমরা কথা বন্ধ কর বললো রুপন্তি। এখন চেয়ারম্যান কাকু, হেড স্যার, সিনেমা অফিসার স্যার কিছু বলবেন। আমাদের পাগলা বিজ্ঞানী তো তারই ব্যবস্থা করছে বোধ করি। -হু, তুই ভালো করে শুন। আমি বাড়ি যাই। মাকে সাহায্য করি। ৩০-৩৫ জন মেহমান খাবেন। মা এতক্ষণ একাকী কত কষ্ট করেছেন। রূপন্তি তুই ইমতির সাথে আসিস আমি আর অবন্তি বাড়ি গেলাম । তুইও তাড়াতাড়ি আসিস। -আচ্ছা তোমরা যাও। আমি ইমতি ভাইয়ার সাথে আসছি।


সিনেমা শেষে কৃষি তথ্য সার্ভিসের টেকনিক্যাল পার্টিসিপেন্টে স্বপ্নীল ইশতি বলল- সুধীম-লী শেষ হলো ইঁদুর বিষয়ক সিনেমা। আশা করি আপনারা অনুধাবন করতে পেরেছেন ইঁদুর আমাদের কি ক্ষতি করে কিভাবে করে। আর এদের এসব ক্ষতির হাত থেকে আমরা ক্যামন করে আমাদের সম্পদ রক্ষা করব। আরেকটা কথা আপনারা সম্মিলিতভাবে ইঁদুর দমন করুন নিজেদের ফসল রক্ষা করুন, দেশকে এত বড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করুন। আর মৃত ইঁদুরের লেজ উপজেলা অফিসে জমা দিয়ে জাতীয় পুরস্কারও পেয়ে যাবেন এ কথাগুলো বলেই ইমতি হেড স্যারকে বলল।
 

-স্যার ইঁদুরের সিনেমা তো শেষ হলো এবার আপনি সবার উদ্দেশে কিছু বলুন। -কি বলব সবই তো বলা হয়ে গেছে কৃষি তথ্য সার্ভিসের সিনেমায়। এখন সবাই মিলে কাজে লেগে যাওয়া দরকার। তা ছাড়া আমি কেন বলব। চেয়ারম্যান সাহেব আছেন জনগণের প্রতিনিধি, তোমার বাবা জিএম ভুঁইয়া সাহেব আছেন উনারা বলবেন। -না স্যার আপনি শিক্ষক, আমাদের মুরব্বি, অভিভাবক। আপনাকে আপামর সবাই সম্মান করে। তাই সবাই আপনার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। স্যার আপনিই বলুন।
 

খানিকক্ষণ চুপ করে থাকার পর হেড স্যার মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বললেন সম্মানিত এলাকাবাসী আমাকে কিছু বলতে বলা হয়েছে। আমার পক্ষ থেকে এবার কথা বলবেন আমার প্রিয় ছাত্র এবং আপনাদের প্রিয় পাগলা বিজ্ঞানী ইমতি ভুঁইয়া। ইমতি থ মেরে গেল। কি বলবে বুঝে উঠতে পারল না। তবুও স্যার যখন দায়িত্ব দিয়েছেন তখন কিছু বলতেই হয়।
 

- সম্মানিত সমাবেশ। আপনারা দেখলেন বুঝলেন ইঁদুর কাহিনী। হ্যামিলন পাব না, তেমন বংশীবাদকও পাবো না। আমাদের সবার সম্মিলিত আন্তরিকতায় আর প্রচেষ্টায় এ গ্রাম এবং এলাকা ইঁদুরমুক্ত করবই এই আমাদের প্রতিশ্রুতি।
 

-এই ইমতি আমার একটি কথা। এলাকাবাসী মনে করে ইমতিই আমাদের নন্দি গ্রামের বংশীবাদক। আমরা তোমার সাথে আছি। যত খরচ লাগবে সহযোগিতা লাগবে আমি দেব বললেন চেয়ারম্যান সাহেব। আর শুনুন আপনারা সবাই মিলে ইমতিকে সাহায্য করবেন। সম্মিলিতভাবে সময় মতো ইঁদুরের বংশ করে দেব ধ্বংস। ইঁদুর মুক্ত ইউনিয়ন করব, ইঁদুরমুক্ত দেশ গড়ব। ইঁদুরের বংশ করে দেব ধ্বংস।

 

কৃষিবিদ ডক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম*
*পরিচালক, কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫


Share with :

Facebook Facebook