কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

কবিতা (অগ্রহায়ণ ১৪২৪)

অগ্রহায়ণে ব্যস্ত চাষি
মো. জন্নুন আলী প্রামাণিক*

শীতের শীতল আবেশ নিয়ে জলবায়ুর যাত্রা,
স্বভাব বদলে ভীষণ দক্ষ রূপরাশির বার্তা।
দুইটি মাসের ভেতর তার মৌসুমচিত্র ফোটে,
শীতের সোহাগ স্নেহের ধারা শাকসবজি মাঠে।
ঋতুর বাঁধনে নিজেকে গড়ে বাংলাদেশে তাই,
এরূপ নিয়ম এখানে শুধু অন্য কোথাও নাই,
আজব ব্যাপার অবাক করা চাল চলনে সদা,
বিগড়ে যাওয়া ব্যাপার হলে নানা প্রকার বাধা।
চাষির শীতের ফসল যত অনুকূলতা পেলে,
কোমল রোদের ছোঁয়ায় মেতে যথানিয়মে ফলে।
আলুর ক্ষেতের সবুজ পাতা হেলে দুলিয়ে থাকে,
মাটির বুকের আহার খেয়ে ফলনশক্তি বুকে।
সুষম সারের সেচের জোরে নানাপ্রকার শস্য,
বিশুদ্ধ সকল সবজি শাকে মন মাতানো দৃশ্য।
বিচিত্র জাতের ক্ষেতের শোভা সুচারুরূপে বাড়ে,
রাতের শিশির ভিজায় অঙ্গঁ সোহাগমাখা ঘোরে।
সরিষা কলাই গমের কচি ক্ষেত খামারে রূপ,
শীতের নিঝুম রাতের ঘুমে পাখপাখালি চুপ।
খেজুর গুড়ের সুঘ্রাণ ছোটে এলোপাতারি চলে,
গাছের আজব দানের কথা প্রতিনিয়ত বলে।
আগাম বপন চলতি চাষে প্রস্তুতিসব সেরে,
আমন তোলার সাথেই জমি আবাদযোগ্য করে।
কলের লাঙ্গল চালায় জোরে আবহাওয়া দেখে,
কোমল আলোয় শুকায় মাটি চঞ্চলতার চোখে।
সারের জোগান আগের থেকে জৈবসারটি বেশি।
সবুজ সারের প্রয়োগ দিলে বুকজুড়ানো হাসি।
বপন রোপণ সময় বুঝে অগ্রহায়ণ জুড়ে।
কৃষাণ-কৃষাণী সারাটি দিন দেখাশোনায় ঘুরে।

 

আইএফএম মাঠ দিবস
মো. মাজেদুল ইসলাম (মিন্টু)**

চলো ভাই, আইএফএম এর মাঠ দিবসে যাই,        
উন্নয়নের জোয়ার উঠেছে, আইরে চাষি ভাই।
বসতবাড়িতে খামার প্রযুক্তি প্রদর্শিত হয়,
খামারে কখন কি করণীয় এফএমএ-তা কয়।
খামার উপাদান ফল, সবজি, ধান, মাছের চাষ,
হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলের, আদর্শ ঘরে বাস।
একটির সাথে অন্যটির আন্তঃসম্পর্ক আছে,
লাল নীল রশি দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে।
ধান চাষের সমন্বিত কৌশল, পূর্বের সাথে তুল না,
সমন্বিত কৌশলে ফলন বেশি, একথাটি ভুল না।
ধান ফসলের বন্ধুপোকা করো সংরক্ষণ,
সমন্বিতভাবে শক্রপোকা মারো সর্বক্ষণ।
মুরগি পালন উন্নত হাজলে, পানি খাবার দেশি,
মুরগির স্বাস্থ্য ভালো থাকে বাচ্চা ফুটে বেশি।
কম সময়ে অধিক ডিম, বাচ্চা পৃথক হলে,
নেট দিয়ে দ্বিতল ঘর বানাও সবাই মিলে।
আদর্শ ঘর বানাও সবাই, পরিকল্পনা করে,
সুষম খাদ্য দাও পশুকে দুপুর সন্ধ্যা ভোরে।
মাংস বেশি, দুধ বেশি, পশু থেকে পাবে,
রোগ হলে চিকিৎসা করো, সম্মিলিত ভাবে।
বসত বাড়ির পতিত জায়গয় ফল-ফলাদির চাষ,
নিয়মিত ফল পেয়ে, মিটবে মনের আশ।
রৌদ্রজ্জ্বল ফাঁকা জায়গায়, শাকসবজির চারা,
অপুষ্টি দূর হবে, টাটকা সবজি দ্বারা।
মাছ চাষে অধিক লাভ, খাদ্য পুষ্টি মিলে,
আদর্শ পুকুরে সঠিক মাত্রায় খাদ্য, চুন, দিলে।
আইএফএম-এর যুক্তি নিয়ে করো সমিতি,
কাজ করো মিলে মিশে, হবেই উন্নতি।

*গ্রাম-বিদ্যাবাগীশ, ডাকঘর ও উপজেলা-ফুলবাড়ী, জেলা-কুড়িগ্রাম **উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, পাবনা সদর, পাবনা, মোবাইল : ০১৭১৭৪৬৬৯৯৮                                


Share with :

Facebook Facebook