কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের মোট ১১ জেলায় ৭ লাখ হেক্টর জমিজুড়ে রয়েছে বরেন্দ্র এলাকা। এর মধ্যে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নওগাঁ জেলায় ১,৬০,০০০ হেক্টর জমি উঁচু বরেন্দ্র অঞ্চল। তবে রাজশাহীর গোদাগাড়ী, তানোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর, নাচোল, গোমস্তাপুর এবং নওগাঁ জেলার পোরশা ও সাপাহারের আবহাওয়া বেশি রুক্ষ্ম, এগুলোকে ‘ঠা ঠা বরেন্দ্র’ বলা হয়। ‘বরেন্দ্র’ শব্দের সরল ও ব্যাকরণ সম্মত অর্থ হচ্ছে দেবরাজ ইন্দ্রের বরে (বর+ইন্দ্র) অর্থাৎ অনুগ্রহ বা আশীর্বাদপ্রাপ্ত দেশ। বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ খুব কম। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, এ মাটিতে শতকরা মাত্র ০.৮ থেকে ১.৫ ভাগ জৈব পদার্থ রয়েছে। এ মাটিতে নাইট্রোজেন কম, ফসফরাস কম-মধ্যম, পটাশ, গন্ধক ও দস্তা কম-মধ্যম মানের রয়েছে। এ মাটি অম্লধর্মী, এর পিএইচ ৫.২-৬.২। বরেন্দ্র অঞ্চলে বেলে বা বেলে দো-আঁশ জাতীয় মাটি নেই। এখানে লাল মাটি রয়েছে। পলি অঞ্চলে লাল মাটি দেখা যায় না। বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি শুকনো অবস্থায় খুব শক্ত হয়। মাটির রস ধারণক্ষমতা কম।
সংক্ষেপে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষির অতীত এবং বর্তমান অবস্থা
বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষির ইতিহাস ব্যাপক। অতি সংক্ষেপে বলতে গেলে, ব্রিটিশ কর্মচারী রেনেলা তার ১৭৭১ সালের বর্ণনায় বরেন্দ্র অঞ্চলের অনেক বন জঙ্গলে আচ্ছাদিত ধ্বংসস্তূপের বর্ণনা দিয়েছেন। পরবর্তীতে কার্টারের রিপোর্টেও বরেন্দ্র অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বহু পাকা দালানের ধ্বংসাবশেষ এবং ভরাট হয়ে যাওয়া বড় বড় দীঘির উল্লেখ প্রমাণ করে এককালে এ এলাকায় সমৃদ্ধ বসতি এবং সুগঠিত কৃষি ব্যবস্থা ছিল। তবে ব্রিটিশ কর্মচারী সাইমন ১৮৮৬ সালের বর্ণনায় বরেন্দ্র অঞ্চলকে প্রধানত কৃষি বহির্ভূত, খরাপীড়িত, উঁচুনিচু কাঁটাবন হিসেবে দেখিয়েছেন। এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে কার্টারের ১৯২৮ সালের সেটেলমেন্ট রিপোর্টে উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি বরেন্দ্র অঞ্চলকে উঁচু, উন্মুক্ত এবং বন্ধুর ভূমি, উপত্যকার মাঝ দিয়ে সরুনালা প্রবাহিত গ্রীষ্মকালে শুধু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রাম ও বনের ভগ্নাংশ ব্যতীত সমগ্র বরেন্দ্র ছায়াহীন ধু-ধু প্রান্তর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ অঞ্চলে শুধু বৃষ্টিনির্ভর আমন ধান ব্যতীত তেমন কোনো ফসল চাষ হতো না। এ কারণে বছরে প্রায় ৭-৮ মাস জমি পড়ে থাকত। বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সেচ সুবিধা প্রবর্তন করায় রোপা আমন ছাড়াও উফশি বোরো ধান এবং শাকসবজি ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে। ফলে কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটছে। কিন্তু অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। নলকূপগুলো  থেকে আজ আর সেভাবে পনি পাওয়া যাচ্ছে না। বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রচুর খাড়ি (খাল) এবং পুকুর ছিল কিন্তু বর্তমানে এগুলো বেশিরভাগ মাছ চাষে লিজ দেয়া হয়েছে। এর কারণে সেখান থেকে পানি নিয়ে সেচকাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ফারাক্কা বাঁধের জন্য নদীর পানি শুকিয়ে সেচ কাজে বিঘœ হচ্ছে। তবে আশার কথা এ অঞ্চলে বর্তমানে প্রচুর ফল বাগান তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে প্রধান প্রধান ফল হচ্ছে আম, লিচু, কলা, কুল, পেয়ারা উল্লেখযোগ্য। তবে কয়েক বছর ধরে স্ট্রবেরির চাষ এ অঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবজি চাষে এরই মধ্যে এ অঞ্চল অনেক অগগ্রতি লাভ করেছে। এর মধ্যে আগাম শিম, লাউ, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, পেঁপে, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, আলু, করলা, শসা উল্লেখযোগ্য। অতি সম্প্রতি বরেন্দ্র অঞ্চলের গোদাগাড়ী উপজেলায় লতিরাজ কচু, মাচায় তরমুজ চাষ, ফুল চাষ শুরু হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলায় পলিব্যাগ দ্বারা পেয়ারা উৎপাদন, পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন, মাল্টা, ড্রাগনফল, মুগডাল ব্যাপকভাবে আবাদ শুরু হয়েছে।
মাটির গুণাবলি উন্নয়নে করণীয়
বরেন্দ্র্র অঞ্চলের মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ খুব কম এ কারণে ফসল বিন্যাসে সবুজ সারের চাষ সংস্থান করা প্রয়োজন। তাছাড়া মাটি শুকনো অবস্থায় খুব শক্ত হয় এবং মাটির রস ধারণক্ষমতা কম। সেজন্য অধিক জৈব পদার্থ যোগ করলে এসব ধর্মের কাক্সিক্ষত পরিবর্তন হয়। বছরে তিন বার ধান না করা ভালো এ ক্ষেত্রে একবার ডাল চাষ করতে হবে, যাতে মাটিতে জৈব পদার্থ যোগ হয় এবং মাটিতে পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তবে আমন ধানের পর জাবড়া বা মালচ ব্যবহার করে আলু চাষ করা যেতে পারে। বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য মুগডালের আবাদ একটি আশীর্বাদ। মুগডালের পড বা ফল তুলে গাছগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে জৈব পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং আমন ধানে কম ইউরিয়া সারের প্রয়োজন হয়। তবে মুগডালের গাছ মাটির সঙ্গে মিশানোর ৪-৫ দিন পর আমন ধানের চারা লাগালে বেশি লাভ হয়। আর মুগডাল চাষে পানির তেমন প্রয়োজন হয় না এবং উৎপাদন খরচ কম হয়। বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটিতে কম জৈবপদার্থ থাকার কারণে ধৈঞ্চা ফসলকে শস্য বিন্যাসে আনতে হবে। এজন্য গম, ছোলা, মসুর, সরিষার মতো রবি ফসল করে ধৈঞ্চা চাষ করলেও বছরে তিনটি ফসল করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে ধৈঞ্চা বপনের ৪-৫ সপ্তাহ পর মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।
ভূগর্ভস্থ পানি অধিক হারে ব্যবহার না করে খাল, খাস পুকুর পুনঃখনন করে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে হবে, যা হতে শুষ্ক মৌসুমে বা খরায় আমন ধানে এবং গম চাষে সম্পূরক সেচ প্রদান করা যাবে। কারণ যেভাবে বোরো আবাদের জন্য ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো আবাদ করাই কঠিন হয়ে পড়বে। তবে বিল এলাকায় কূপ খনন করা যেতে পারে। কারণ বিল এলাকায় কূপ খননের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির রিচার্জ হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এছাড়া জমির পাশে মিনি পুকুর খনন করে আমন চাষাবাদ করতে হবে এতে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমবে এবং মাটিতে পানির স্তর বৃদ্ধি পাবে। আর সেচ কাজে যদি নদীর পানি ব্যবহার করা যায় তবে সবচেয়ে ভালো, প্রয়োজনে পাম্প ব্যবহার করে নদীর পানি খাল, পুকুরে সরবরাহ করতে হবে। আর খরা খেকে ফসলকে রক্ষার জন্য চাষিদের সম্পূরক সেচের পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
বোরো ধান আবাদ কমিয়ে গম, আলু, টমেটো, ছোলা, মসুর, তিসি, খেসারি, সরিষার আবাদ বৃদ্ধি করা। গমের জন্য বারি গম-২৬ এবং বারি গম-২৮ বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। আর সরিয়ার জন্য বারি সরিষা-১৪ ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ এগুলো অধিক ফলনশীল এবং জীবনকাল স্বল্প।
বোরো চাষ করলে আউশ আবাদ কম হয় সেহেতু  বোরো ধান না করে, গম, আলু অথবা স্বল্প জীবনকালীন রবি ফসলের আবাদ করে আউশ ধান করতে হবে। আউশের জন্য ব্রিধান ৪৮ (জীবনকাল- ১১০ দিন এবং ফলন-৫.৫ টন/হেক্টর), ব্রিধান ৫৫ (জীবনকাল-১০৫ দিন এবং ফলন-৫.০ টন/হেক্টর) চাষ করলে সঠিক সময়ে আমন চাষ করা যাবে, এ ক্ষেত্রে আমনের জন্য বিনা-৭ (জীবনকাল-১১০-১১৫ দিন এবং ফলন-৫.০ টন/হেক্টর) বা ব্রিধান ৫৬ (জীবনকাল-১১০ দিন এবং ফলন-৫.০ টন/হেক্টর), ব্রিধান ৫৭ (জীবনকাল- ১০৫ দিন এবং ফলন-৪.৫ টন/হেক্টর) চাষ করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে আউশের চারা ২০-২৫ দিন এবং আমনের চারা ২৫-৩০ দিন বয়সের হতে হবে।
স্বল্প জীবনকাল বিশিষ্ট নেরিকা ধানের লাইন এনে আরও গবেষণা এবং মাঠপর্যায়ে এর সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করতে হবে।
রাজশাহী অঞ্চলের জন্য আরও পানি কম ব্যবহার হয় এমন শস্য বিন্যাস উদ্ভাবন করতে হবে। তবে নিম্নলিখিত শস্য বিন্যাস এ অঞ্চলের জন্য উপযোগী হবে।
বরেন্দ্র অঞ্চলকে নিয়ে আলাদা ফল উৎপাদন প্রকল্প এবং আলাদা ফ্রুট জোনিং সিস্টেমের আওতায় এনে উন্নত চাষাবাদ কৌশলের জন্য গবেষণা করতে হবে।
এ অঞ্চলে বর্তমানে প্রচুর ফল বাগান তৈরি হচ্ছে এর মধ্যে প্রধান প্রধান হচ্ছে আম, লিচু, কুল, পেয়ারা উল্লেখযোগ্য। তবে আমের বাগান সবচেয়ে বেশি। বিবিএস ২০১৪ এর তথ্য মতে, বাংলাদেশে প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ হয় এবং উৎপাদন প্রায় ৯.৫ লাখ মেট্রিক টন। এর বেশির ভাগ আম বাগানের অবস্থান এ অঞ্চলেই। তাই উন্নত জাত রোপণ, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রোগ ও পোকামাকড় দমন করলে আম চাষাবাদে বিপ্লব আসতে পারে এবং ব্যাপকভাবে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি যেহেতু শুষ্ক এবং পানির প্রাপ্যতা কম সেজন্য কুল একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ফল। কিছু দিন আগেও বসতবাড়ির আশপাশেই কুল চাষ হতো। তবে এখন আপেলকুল, বাউকুল, বারিকুল-১, বারিকুল-২, বারিকুল-৩ এর মতো উন্নত জাত উদ্ভাবিত হওয়ায় এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে এবং এর চাষাবাদের ব্যাপকতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পেয়ারা গুণাগুণে আপেলের থেকে কোনো অংশেই কম নয়। সেজন্য একে ‘গরিবের আপেল’ বলা হয়। থাই পেয়ারা একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে এ অঞ্চলের জন্য দেখা যাচ্ছে। তাই পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য এর আবাদ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তবে নেতিয়ে পড়া বা উইল্টিং রোগের কারণে পেয়ারা চাষে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিচ্ছে। এজন্য নেতিয়ে পড়া প্রতিরোধী জাত (পলি পেয়ারা এবং স্টবেরি পেয়ারা) দ্বারা জোড় কলমের মাধ্যমে নেতিয়ে পড়া প্রতিরোধী পেয়ারা গাছ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
‘পুষ্টির ডিনামাইট’ খ্যাত বারো মাসি সজিনা গ্রামের রাস্তার ধারে এবং বসতবাড়ির আঙিনায় যতœ ছাড়াই বেড়ে ওঠে। তবে আবহাওয়া এবং জলবায়ুর কারণে বারো মাসি সজিনা এ এলাকাতে ব্যাপকভাবে চাষাবাদ করা সম্ভব। এরই মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে সুনির্দিষ্টভাবে দেশব্যাপী সজিনা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের জন্য আলাদা কমিউনিটি রেডিও স্থাপন করা যেতে পারে। যেখান এ অঞ্চলের কৃষকরা স্বল্প সময়ে স্বল্প খরচে প্রয়োজনীয় তথ্য সময়মতো পেতে পারে।
বরেন্দ্র অঞ্চলে আম একটি অন্যতম অর্থকরী ফসল। বাংলাদেশ ফল গবেষণা কেন্দ্র, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তথ্য মতে, রাজশাহী অঞ্চলে উন্নত এবং রপ্তানিযোগ্য আমের উৎপাদন বৃদ্ধিতে করণীয় বিষয়গুলো হচ্ছে-
কৃষি গবেষণার সঙ্গে সমন্বয় করে চাষি প্রশিক্ষণ। আম বাজারজাতকরণ এবং প্রশিক্ষণের জন্য হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করা।
গুটি আমের গাছ না কেটে টপ ওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে ভালো জাতে পরিবর্তন করা। এছাড়া হটওয়াটার ট্রিটমেন্টের (গরম পানিতে শোধন ৫৫ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড তাপমাত্রায় আম শোধন) সুবিধা সৃষ্টি করা। যাতে আম আরও উজ্জ্বল, বেশি দিন স্থায়ী হওয়া এবং ফ্রুট ফ্লাই রোধ করা যায়।
উন্নত পদ্ধতিতে আম উৎপাদনকারী চাষিদের তালিকা করা, নিবন্ধন করা এবং সমিতির আওতায় এনে সমন্বয় সাধন করা।
আম সংরক্ষণের জন্য কোল্ডস্টোর তৈরি, হিমায়িত পরিবহনের ব্যবস্থা, দ্রুত স্থানান্তরকরণ, প্যাকেজিং এবং গুণগতমান পরীক্ষা করার পরীক্ষাগার তৈরি করা।
সমবায়ভিত্তিক আম সংরক্ষণের স্থাপনা তৈরির ব্যবস্থা করা এবং বিদেশিদের চাহিদামাফিক আমের জাত উদ্ভাবন করা।
জৈব প্রযুক্তি নির্ভর আম উৎপাদনে উৎসাহিত করা। এক্ষেত্রে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে আমবাগানে আলো বাতাসের অভাবে বা অন্য কারণে আমগুলো কালো বিবর্ণ এবং মাছি পোকার আক্রমণ হয় সেসব আম বাগানে এ পদ্ধতি খুব লাভজনক। এ পদ্ধতিতে ১০০% রোগ এবং পোকামুক্ত আম উৎপাদন সম্ভব। সঙ্গে সঙ্গে এ আমগুলো ১০-১৪ দিন ঘরে রেখে খাওয়া যায়। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদনে ১৫-৬২ বার স্প্রে করা হয়। অথচ ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৭০-৮০ ভাগ স্প্রে খরচ কমানো যায়।
পরিশেষে জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং ক্রমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাবে বাংলাদেশের কৃষি আজ হুমকির মুখে পড়েছে। এর থেকে উত্তোরণের জন্য বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। সেজন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা, টেকসই প্রশিক্ষণ, সঠিক সময়ে সঠিক উপকরণ সরবরাহ, ভূমি ব্যবহারের সঠিক দিকনির্দেশনামূলক গবেষণা এবং কৃষিতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারসহ নানামুখী উদ্যোগ। তবেই বরেন্দ্র অঞ্চল হবে আমাদের ‘সোনার বাংলার’ অন্যতম শস্যভাণ্ডার।

কৃষিবিদ মো. আবদুল্লাহ-হিল-কাফি*
*আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, রাজশাহী

 


Share with :

Facebook Facebook