কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

উপকূলীয় অঞ্চল কৃষির অপার সম্ভাবনা

বাংলাদেশের শস্যগোলা ধরা হয় উত্তরবঙ্গকে। কিন্তু উত্তরবঙ্গ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বিপর্যস্ত। পানি সংকটে সেখানে এখন শস্য উৎপাদন সংকটাপন্ন। খরা ও শৈত্যপ্রবাহ এখন শস্যহানির এক অনিবার্য নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। উত্তম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এরই মধ্যে এ উত্তরাঞ্চলের অনেক জমি উৎপাদনের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে। অথচ উপকূলীয় অঞ্চলে অনেক ফসলের ফলন এখনও নি¤œ পর্যায়ে রয়েছে। সেখানেও আছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। তথাপি সে অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির এক চমৎকার সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলাগুলোতে এরই মধ্যে এ অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির এসব সম্ভাবনাকে বিবেচনা করে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির এক মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। সে মহাপরিকল্পনাতেও দক্ষিণাঞ্চলে উত্তম কৃষি ব্যবস্থাপনা ও বিশেষ কিছু কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন ফসলের ফলন পার্থক্য কমিয়ে বর্তমান উৎপাদনকে বৃদ্ধি করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদি উপকূলের এ কৃষি সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে তা দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনের চিত্রকে বদলে দেবে।
উত্তরাঞ্চলে পানির যেখানে সংকট, সেখানে এত পানি ব্যবহার করে ধান বা সেচবিলাসী ফসল চাষের দরকার কি? বরং পানি যেখানে সস্তা ও সুলভ সেখানে পানি ব্যবহার করে ধান উৎপাদনে জোর দেয়া উচিত। দক্ষিণাঞ্চলের মতো এত সস্তায় আবাদ দেশের আর কোথাও সম্ভব না। সেচের পানি এখানে ফ্রি। লবণাক্ততা আছে, কিন্তু তা একটি নির্দ্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং তা সব জায়গায় নয়। এখনও উপকূলের বিপুল পরিমাণ জমি লবণাক্ততামুক্ত বা স্বল্প লবণাক্ততাযুক্ত। সেসব জমিতে অনেক রকমের ফসলের আবাদ হতে পারে। লবণাক্তপ্রবণ জমির জন্য বিশেষ ফসল ও ফসলের লবণসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন ও ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া যায়।
দেশের পাঁচ ভাগের একভাগ মানুষ বাস করে উপকূলীয় ১৪টি জেলায়। এ অঞ্চলের মানুষ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দারিদ্র্য, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিবেচনায় কিছুটা সুবিধাবঞ্চিত। বাংলাদেশের মোট আবাদি জমির প্রায় ৩০ শতাংশ জমি রয়েছে এ অঞ্চলে যার পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ হেক্টর। তাই উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে। এ অঞ্চলে ফসলের নিবিড়তা বাংলাদেশের গড় শস্য নিবিড়তার চেয়ে বেশ কম। এ পরিপ্রেক্ষিতে উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও শস্য নিবিড়তা বাড়ানোর জন্য প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত উপকূলীয় অঞ্চলের উপযোগী বিভিন্ন ফসল ও ফসলের জাত সম্প্রসারণ। পরে লক্ষ্য হওয়া উচিত উত্তম কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব ফসলের ফলন পার্থক্য কমিয়ে আনা। শুধু এটুকু কাজ করতে পারলেই উপকূলীয় অঞ্চলে বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন প্রায় দেড় থেকে দ্বিগুণ করা সম্ভব। উপকূলীয় অঞ্চলের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শুধু ফসল নয়, কৃষির বৈচিত্র্যকরণ করে মাঠ ফসল, উদ্যান ফসল, অর্থকরী ফসল, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ প্রভৃতির উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা উন্নয়ন করে একটি সুসমন্বিত ও সুসংহত টেকসই কৃষি উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়া যায়। মোট কথা হলো, উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকের যার যত ধরনের কৃষি সম্পদ আছে তার প্রত্যেকটি সম্পদের সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা বিবেচনা করে বর্তমান উৎপাদনকে বৃদ্ধি করতে যা যা করা দরকার তা করতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে যেসব পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে তা হলো।
ধান চাষ
উপকূলীয় অঞ্চলের প্রধান ফসল আমন ধান। এ অঞ্চলে আমন ধানের চালের বর্তমান গড় ফলন প্রায় ২.৩ মেট্রিক টন/হেক্টর। হেক্টরপ্রতি এ ফলনকে ২ মেট্রিক টন পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। অনুরূপভাবে আউশ ও বোরো ধানের বর্তমান গড় ফলনকেও হেক্টরপ্রতি প্রায় ১.৮-২.৮ মেট্রিক টন পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। এটা সম্ভব করতে হলে স্থানীয় পরিবেশ ও অবস্থার সাথে খাপ খায় এ রকম কিছু উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করতে হবে, এরই মধ্য উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাত সম্প্রসারণ করতে হবে, সার ও পানি ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনা উত্তমভাবে করতে হবে। এ অঞ্চলে আমন মৌসুমে পানির কোনো অভাব নেই, লবণাক্ততাও থাকে না। বোরো মৌসুমের শেষ দিকে কিছুটা লবণাক্ততার প্রভাব পড়ে। আউশ মৌসুমে লবণাক্ততার প্রভাব বেশি দেখা যায়। তাই এ অঞ্চলে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে রোপা আমন ধান চাষের ওপর বেশি জোর দিতে হবে। সুলভ পানি, অনেক এলাকায় লবণাক্ততার সীমা ফসলের ক্ষতি সীমার অনেক নিচে থাকে। এসব এলাকায়  পরিকল্পিতভাবে ভূউপরিস্থ পানি দিয়ে সেচের এলাকা বাড়িয়ে ধানের চাষ এলাকা বাড়ানোর সুযোগ আছে। এক জরিপে দেখা গেছে, এ অঞ্চলে এভাবে প্রায় ৭ লাখ হেক্টর জমি ভূউপরিস্থ পানি দিয়ে সেচের আওতায় আনা সম্ভব। মহাপরিকল্পনাতে এ অঞ্চলে ধানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য যেসব সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলো হলো-
জোয়ার-ভাটা বিধৌত ও জোয়ারবিহীন এলাকায় রোপা আমন ধান চাষ সম্প্রসারণে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ; বিশেষত আধুনিক উচ্চফলনশীল জাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে।
রোপা আউশ ধানের চাষ বৃদ্ধি করতে স্বল্প জীবনকাল বিশিষ্ট জাত (৮৫-৯০ দিন) উদ্ভাবন; এ ধরনের জাতের জন্য ভিয়েতনামে খুঁজে দেখা যেতে পারে।
বোরো ধান চাষের এলাকা সম্প্রসারণ; বিশেষ করে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে।
ডাল, তেলবীজ ও নতুন কোনো ফসলের চাষ
উপকূলীয় অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে উচ্চ মূল্যের কিছু ফসল, ডাল ও তেলবীজ ফসল চাষেরও সুযোগ আছে। তবে তা সব এলাকায় নয়। বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার বেশ কিছু জমিতে এ প্রচেষ্টা করা যেতে পারে। এসব এলাকায় ডাল ফসল হিসেবে মুগ, খেসারি, ছোলা, ফেলন চাষ সম্প্রসারণ করা যায়। তেলবীজ ফসল হিসেবে তিল, সূর্যমুখী, চিনাবাদামের চাষ করা যায়। নতুন ফসল হিসেবে ভুট্টা, সুগার বিট, মরিচ, সয়াবিন, পাট, আখ ও মাশরুম চাষ করা যায়। এরই মধ্যে সাতক্ষীরাতে পাটের পরীক্ষামূলক চাষ করে সফলতা পাওয়া গেছে। তবে এ অঞ্চলে চাষের জন্য বিশেষ জাত উদ্ভাবন করা দরকার। তুলা লবণাক্ততা সইতে পারে, তবে জলাবদ্ধতা সইতে পারে না। সুনিষ্কাশিত উঁচু জমি থাকলে সেখানে তুলা চাষ করা যায়। গম চাষের  চেষ্টা করা যায়। এসব ফসলের উৎপাদন বাড়াতে হলে অধিক ফলনশীল জাত উদ্ভাবন ও তার চাষ সম্প্রসারণ, উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদের ওপর জোর দিতে হবে।
শাকসবজি চাষ
উপকূলীয় অঞ্চল সম্পর্কে এতদিন অনেকেরই ধারণা ছিল ওইখানে ভালো শাকসবজি হয় না। কিন্তু বর্তমানে এ ধারণা অনেকটাই বদলে গেছে। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে অনেক জমির পাশে এখন ট্রাকে করে শাকসবজি দেশের অন্যত্র যাচ্ছে। গ্রীষ্মকালটাই এখানে শাকসবজি চাষের সম্ভাবনাময় মৌসুম। এ মৌসুমে সেখানে কুমড়াগোত্রীয় সবজিই বেশি চাষ করা হয়। এর মধ্যে চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, শসা, করলা, ঢেঁড়শ, বরবটি, অমৌসুমের লাউ, পুঁইশাক অন্যতম। বর্তমানে উপকূলীয় অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে প্রায় ২৫,৩০০ হেক্টর জমিতে ৩,২১৮৫০ মেট্রিক টন শাকসবজি উৎপাদিত হচ্ছে। নানা কৌশলে এ চাষ এলাকা ৮৬,৫০০ হেক্টরে বাড়ানো যায়। আর তা করতে পারলে ওখান থেকে গ্রীষ্মকালেই প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন শাকসবজি উৎপাদিত হবে। তবে এই অঞ্চল শীতকালে শাকসবজি উৎপাদনের জন্য খুব উপযুক্ত না। সেচ সংকট ও লবণাক্ততাসহ নানা প্রতিকূলতা রয়েছে এ মৌসুমে। তথাপি বর্তমানে এ অঞ্চলে শীতকালে প্রায় ২৬,০০০ হেক্টর জমিতে ৫ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন শাকসবজি উৎপাদিত হচ্ছে। শীতকালেও সবজি চাষের জমি ৮০,০০০ হেক্টরে উন্নীত করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে উপযুক্ত সবজি নির্বাচন, লবণাক্ততা সহনশীল জাত উদ্ভাবন, বেশি করে জৈব সারের ব্যবহার, সেচ ব্যস্থাপনার উন্নয়ন, কৃষক প্রশিক্ষণ, মানসম্মত হাইব্রিড বীজের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি, ভ্যালু চেইন ও বাজারজাতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এসব করতে পারলে শীতকালেও এ অঞ্চলে প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন শাকসবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ অঞ্চলে বর্তমানে ব্যাপকভাবে হাইব্রিড জাতের সবজি বীজের ব্যবহার বেড়েছে সত্য। তবে চাষ ব্যবস্থাপনায় এখনও ততটা পরিবর্তন আসেনি। এ কারণে এ অঞ্চলের শাকসবজি উৎপাদনে বেশ ফলন পার্থক্য দেখা যায়। যেমন- শসা ও করলার হেক্টরপ্রতি ফলন পার্থক্য যথাক্রমে ৯.৬৬ মেট্রিক টন ও ১০.১৩ মেট্রিক টন। সবচেয়ে বেশি ফলন পার্থক্য রয়েছে পুঁইশাকের বেলায়। বর্তমানে এ অঞ্চলে পুঁইশাকের গড় ফলন ১৫.৯৪ মেট্রিক টন, সেখানে এ ফলন উত্তম ব্যবস্থাপনায় হতে পারে ৪০-৫০ মেট্রিক টন। বেগুনের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। বর্তমানে এ অঞ্চলে বাঁধাকপি ও ফুলকপিও ভালো হচ্ছে। তবে ওলকপি এগুলোর চেয়ে বেশি হয়। এ অঞ্চলে শাকসবজির উৎপাদনবৃদ্ধির জন্য যেসব কাজগুলো করা যেতে পারে-
*     এলাকার উপযোগী এমনকি লবণাক্ততা সহনশীল জাতের সবজি উদ্ভাবন;
*     হাইব্রিড জাতের বীজ সহলভ্যকরণ;
*     সবজি চাষিদের বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ;
*     সারাবছর যাতে শাকসবজি উৎপাদন করা যায় সেভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ;
*     জমির আইল, ঘেরের পাড়, বসতবাড়ির বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে শাকসবজির চাষ সম্প্রসারণ;
*     চরে মিষ্টিআলু ও মিষ্টিকুমড়ার চাষ সম্প্রসারণ;
*    নিচু ও জলাভূমিতে ভাসমান ধাপে ও সর্জান পদ্ধতিতে শাকসবজি চাষ সম্প্রসারণ।
ফল চাষ
উপকূলীয় অঞ্চলে অনেক ফল হয় না, আবার এমন কিছু ফল এত ভালো হয় যে সেগুলো আবার দেশের অন্য কোথাও তেমন ভালো হয় না। উপকূলীয় অঞ্চল বলতেই আমরা নারিকেলের রাজ্য বুঝি। দেশে উৎপাদিত পেয়ারা ও আমড়ার প্রায় ৮০ শতাংশ উৎপাদিত হয় উপকূলীয় অঞ্চলে। কিছু অপ্রচলিত ফল রয়েছে যেগুলো এ অঞ্চলে চমৎকার ফলন দেয়। এর মধ্যে সফেদা ও তেঁতুল উল্লেখযোগ্য। আরও রয়েছে কুল, কদবেল, চালতা, খেজুর, ডেউয়া, আমলকী, তাল, বিলাতি গাব, বাতাবিলেবু। কিন্তু মুশকিলটা ওই এক জায়গাতেই। এসব ফলের ফলন যা পাওয়া উচিত, সেখানে তা হচ্ছে না। ফলন পার্থক্য রয়েই যাচ্ছে। ফলন বিচারে উপকূলীয় অঞ্চলে বিভিন্ন ফলের মোট উৎপাদন কাক্সিক্ষত উৎপাদনের চেয়ে প্রায় ১৩২ শতাংশ কম হচ্ছে।
তালিকা ১- উপকূলীয় অঞ্চলে ফলের ফলন পার্থক্য (মেট্রিক টন/হেক্টর)
সুতরাং উপকূলীয় অঞ্চলে ফলের ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধি অনিবার্য। সে সুযোগ রয়েছে, শুধু তাকে কাজে লাগাতে হবে। এজন্য যেসব কৌশলগুলো নেয়া যেতে পারে-
প্রথমত যে ফল এ অঞ্চলে যেসব ফল ভালো ফলন দেয় সেসব ফল চাষে জোর দিতে হবে। তালিকা-১ দেখা যাচ্ছে, নারিকেল, কলা ও আমড়ার ফলন পার্থক্য অনেক কম, পক্ষান্তরে লিচুর ফলন পার্থক্য অনেক বেশি। তাহলে কোনটা আমরা চাষের জন্য সুপারিশ করব? বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে;
কুল, তেঁতুল, তাল ফলগাছ অধিক লবণাক্ততা সইতে পারে। মধ্যম লবণাক্ততা সইতে পারে আমলকী, ফলসা, ডালিম, ডেউয়া, জাম, সফেদা। কম লবণাক্ততা সইতে পারে আম, পেয়ারা, কদবেল। লবণাক্ততা মোটেই সইতে পারে না কলা, পেঁপে, কাঁঠাল। চরে তরমুজ ভালো হয়। তাই এসব বিষয়গুলো বিবেচনা করে লবণাক্ত এলাকার জমিতে চাষের জন্য ফলগাছ নির্বাচন করতে হবে;
নতুন ফল হিসেবে মাল্টা ও খাটো জাতের নারিকেলের চাষ সম্প্রসারণ করা যায়;
সর্জান ও স্তূপ পদ্ধতিতে মটি উঁচু করে সেখানে ফলবাগান করা যায়;
প্রতিটি ফলগাছের উত্তম ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে;
স্থানীয়ভাবে ফলের মানসম্মত চারা-কলম উৎপাদনে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে।

মৃত্যুঞ্জয় রায়*
*উপ প্রকল্প পরিচালক, আইএফএমসি প্রকল্প, ডিএই, খামারবাড়ি, ঢাকা ও গ্রন্থকার ‘উপকূলীয় কৃষি’


Share with :

Facebook Facebook