কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

প্রশ্নোত্তর (নিয়মিত বিভাগ ১৪২৩)

মো. দেলোয়ার হোসেন
পলাশবাড়ি, বীরগঞ্জ, দিনাজপুর
প্রশ্ন : ধানের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। আর পাতাতে বাদামি/কালো ছোট ছোট দাগ পড়ছে। কী করণীয়?
উত্তর : এটি ধানের একটি ছত্রাকজনিত রোগ। এর জন্য
-জমিতে জৈবসার প্রয়োগ করতে হবে
-পর্যায়ক্রমে জমি শুকনো ও সেচের ব্যবস্থা করতে হবে
-আক্রান্ত জমিতে ৬০ গ্রাম পটাশ ও ৬০ গ্রাম থিওভিট ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে তা ৫ শতাংশ জমিতে  স্প্রে করতে হবে
-সুষম সার ব্যবহার করতে হবে
-পরবর্তীতে বীজ শোধন করতে হবে
মো. আলমগীর
চণ্ডীপুর, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা
প্রশ্ন : পানের বরজে পানের গোড়া পচে যাচ্ছে। কী করণীয়?
উত্তর : এটি পানের গোড়া পচা রোগ। এর জন্য
-বরজ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
-আক্রান্ত লতা সংগ্রহ করে পুড়ে নষ্ট করতে হবে
-সরিষার খৈলের সাথে ডায়াথেন এম-৪৫ বা কুপ্রাভিট মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে।
-রোগের আক্রমণ বেশি হলে প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম কুপ্রাভিট ১০-১২ দিন অন্তর স্প্রে করতে হবে
আকরামুল হাসান
গ্রাম- বালিচান্দা, থানা- ফুলপুর
জেলা- ময়মনসিংহ      
প্রশ্ন : ঢেঁড়স গাছের পাতা ছোট হয়ে যাচ্ছে, শিকড়ে প্রচুর গিঁট দেখা যায়। ফলন কম হচ্ছে। কী করলে উপকার পাবো।
উত্তর : এটা ঢেঁড়স গাছের কৃমিজনিত রোগ। এটি মাটিবাহিত রোগ। কৃষি যন্ত্রপাতি, আক্রান্ত চারা, মাটি ও সেচের পানি দ্বারা রোগ দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত গাছ দেখামাত্র তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। একই জমিতে বারবার একই ফসল চাষ না করা। চারা উৎপাদনে বীজতলায় ৬ সেন্টিমিটার পুরু স্তরে কাঠের গুঁড়া বিছিয়ে দিয়ে পোড়ালে কৃমি ও অন্যান্য রোগজীবাণু দমন হয়। দানাদার শস্য আবাদ করে জমির শিকড় গিঁট কৃমি কমানো যায়।
ফুরাডান (কার্বফুরান) বা মিরাল হেক্টরপ্রতি ২৫ কেজি হারে ব্যবহার করে কৃমি রোগ সহজে দমন করা যায়।
মো. মমিনুল
গ্রাম- বিষ্ণুপুর, থানা- নেয়ামতপুর
জেলা- নওগাঁ
প্রশ্ন : ধান গাছের কা- পচে যাচ্ছে, কী করণীয়?
উত্তর : এ রোগ ধান গাছে সাধারণত কুশি গজানোর শেষ অবস্থায় মাঠে দেখা যায়। রোগজীবাণু মাটিতেই বাস করে। প্রথমে কুশির বহিঃখোলে ছোট কালো কালো দাগ দেখা যায়। পরে এ দাগ ভেতরের খোলে ও কা-ে প্রবেশ করে। কা- পচিয়ে দেয়, গাছ ঢলে পড়ে, ফলে ধান চিটা ও অপুষ্ট হয়।
রোগ দেখা দিলে জমির পানি শুকিয়ে পরে আবার সেচ দিতে হবে। জমিতে ইউরিয়া সার প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার না করা। সুষম সার ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে ছত্রাকনাশক স্কোর, নাটিভো অথবা কনটাফ প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি পরিমাণ মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
মো. গোলাম রব্বানি
গ্রাম- মকিমপুর, থানা- মিঠাপুকুর  
জেলা- রংপুর
প্রশ্ন : বাঁধাকপির পাতা পোকায় খেয়ে কপি নষ্ট করছে, কী করব?
উত্তর : পোকার ডিম ও লেদা হাত দ্বারা বাছাই করতে হবে। ক্ষেত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পোকার আক্রমণ বেশি হলে প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি সাইপারমেথ্রিন বা ১ মিলি ক্যারাটে স্প্রে করতে হবে।
মো. নূর ইসলাম
গ্রাম- মাঝিপাড়া, থানা- পঞ্চগড়
জেলা- পঞ্চগড়
প্রশ্ন : শসা গাছের পাতাগুলো নেতিয়ে পড়ছে এবং ধীরে ধীরে গাছ মরে যাচ্ছে, কী করব?
উত্তর : আক্রান্ত গাছ তুলে নষ্ট বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। রোগমুক্ত গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। গাছ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বপনের আগে প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম প্রভেক্স-২০০ দ্বারা বীজ শোধন করে নিতে হবে। আক্রান্ত গাছের গোড়ায় ২ গ্রাম কমপ্যানিয়ন বা ৪ গ্রাম কুপ্রাভিট বা কপার অক্সিক্লোরাইড জাতীয় ছত্রাকনাশক গাছের গোড়ায় ব্যবহার করে উপকার পাওয়া যায়।
সজীব
গ্রাম- তারাটি, উপজেলা- মুক্তাগাছা
জেলা- ময়মনসিংহ
প্রশ্ন : মুরগির বার্ড ফ্লু আক্রমণ রোধের উপায় কী?
উত্তর : জীব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জীবাণুনাশক সলিউশন খামারে ঢোকার পথে দিতে হবে। খামারের চারপাশে বেড়া দিতে হবে। খামার অতিথি পাখি মুক্ত রাখতে হবে। আক্রান্ত মুরগি মাটি চাপা দিতে হবে। আবাসস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাইরের পশু-পাখির সাথে যাতে না মিশে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আক্রান্ত মুরগি মেরে ফেলতে হবে এবং মারার সময় অবশ্যই বিশেষ ধরনের পোশাক ব্যবহার করতে হবে।
ফার্মকে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। আক্রান্ত মুরগি ধ্বংস করতে হবে। ফার্মের গেটে ঋড়ড়ঃ ইধঃয রাখতে হবে। গামবুট ব্যবহার করতে হবে। খামারে বহিরাগতের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ করতে হবে।
রফিক
গ্রাম- চণ্ডীপুর, উপজেলা- শ্যামপুর
জেলা- সাতক্ষীরা
প্রশ্ন : মুরগির গামবোরো রোগের চিকিৎসা কী? (লক্ষণ : খাবার খাবে না, অবসাদগ্রস্ত বা ঝিমাবে, রানের মাংসে রক্ত জমাট বাঁধবে?)
উত্তর : গামবোরো ভ্যাকসিন প্রথম ৩-৫ দিনে বুস্টার ডোজ দিতে হবে। আক্রান্ত বাচ্চাকে লেবুর বা গুড়ের স্যালাইন ৩-৫ দিন খাওয়াতে হবে। Tab. Renamycin গুঁড়া করে খাওয়াতে হবে। অথবা Cosomix Plus Power ১ গ্রাম/ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
রিপন মিয়া
গ্রাম- মউতলা, উপজেলা- কালীগঞ্জ
জেলা- সাতক্ষীরা
প্রশ্ন : ঘেরের প্রস্তুত প্রণালি কী হবে?
উত্তর : ঘের শুকিয়ে তলদেশের পচা কাদা অপসারণ এবং তলদেশ সমান করতে হবে। পাড় উঁচু করে বাঁধতে হবে। ঘেরের পাড়সহ তলায় চুন ভালোভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে প্রতি শতকে ১ কেজি হারে। ঘেরের তলদেশ চাষ দিয়ে আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। ছোট মেসসাইজের নাইলন জাল দিয়ে ঘেরের চারপাশে বেড়া (৩ ফুট উঁচু) দিতে হবে। পানি প্রবেশ পথ ও জরুরি পানি নির্গমন পথ করতে হবে এবং তাতে স্ক্রিন বা বানা (বাঁশের পাটা ও নাইলনের জাল দিয়ে তৈরি) দিতে হবে। চুন প্রয়োগের ৫-৭ দিন পরে প্রয়োজনমতো পানি প্রবেশ করিয়ে সার প্রয়োগ করতে হবে- ইউরিয়া ১৫০-২০০ গ্রাম/শতক, টিএসপি ৭৫-১০০ গ্রাম/শতক হারে। এরপর ব্লিচিং পাউডার সমসতম ঘেরে ছিটিয়ে দিয়ে পানি জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
হাসান পেয়াদা
গ্রাম- মির্জাগঞ্জ, উপজেলা- মির্জাগঞ্জ
জেলা- পটুয়াখালী
প্রশ্ন : পানির পিএইচ কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
উত্তর : পুকুর বা খামার তৈরির সময় চুন ১ কেজি/শতক হারে ৩-৫ ফুট পানির গভীরতায় প্রয়োগ করতে হবে। মজুদ পরবর্তীতে ২৫০-৫০০ গ্রাম/শতক হারে প্রয়োগ করতে হবে। পানির পিএইচ পরীক্ষা করে যদি ৬ এর নিচে থাকে প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে পাথুরে চুন প্রয়োগ করতে হবে।
চুনের পরিবর্তে জিওটক্স/জিওলাইট ২৫০ গ্রাম/শতাংশে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
এ ছাড়াও বায়োকেয়ার প্রতি ৭ দিন অন্তর ৮০-১২০ মিলি শতক হারে দিতে হবে প্রতিষেধক হিসেবে। আর নিরাময়ের জন্য পরপর ২ দিন ১২০-১৬০ মিলি শতক হারে প্রয়োগ করতে হবে।

কৃষিবিদ মোহাম্মদ মারুফ*
*সহকারী তথ্য অফিসার (শস্য উৎপাদন), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫  aiocp@ais.gov.bd


Share with :

Facebook Facebook