কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

পরিবর্তিত জলবায়ুতে প্রাণিসম্পদ অভিযোজনের প্রযুক্তি

বাংলাদেশের বিপদাপন্ন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এবং আয় রোজকার বাড়াতে গবাদিপ্রাণী ও হাঁস-মুরগি প্রতিপালনের গুরুত্ব অপরিসীম। সম্প্রতি ঘন ঘন এবং অসময়ে বন্যার প্রাদুর্ভাব গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি প্রতিপালনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। পরিবর্তিত বন্যাকালীন পরিস্থিতি ক্রমাগতভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে গবাদিপ্রাণী ও পাখির বাসস্থানের ঝুঁকি, গোখাদ্যের দুষ্প্রাপ্যতা এবং নানা ধরনের রোগব্যাধির আশঙ্কা। এসব ঝুঁকির অন্যতম কারণগুলো হচ্ছে নিচু স্থানে গবাদিপ্রাণী ও পাখির আবাসস্থল তৈরি, নিরাপদ উঁচু স্থানের অভাব, চারণভূমি প্লাবিত হওয়া, স্থানীয়ভাবে চিকিৎসক ও ওষুধপত্রের অভাব এবং প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাস সম্পর্কে জনগোষ্ঠীর যথাযথ পদক্ষেপের অভাব ও অসচেতনতা।  
উপকূলীয় অঞ্চলের অধিকাংশ জেলাগুলোর পানিতে আশঙ্কাজনকভাবে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় শুধু মানুষই নয়, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির জীবনধারণও আজ মারাত্মক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। লবণাক্ত পানি পান করার ফলে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নানা ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় গোখাদ্যের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে উপকূল অঞ্চলে দেখা দিয়েছে গোখাদ্যের চরম অভাব। একই সাথে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা এবং তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির বাসস্থান ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনগোষ্ঠীকে নানা বিপাকে পড়তে হচ্ছে। দুর্যোগ পরিস্থিতিতে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। এসব রোগব্যাধির মধ্যে  ক্ষুরা  রোগ, বাদলা, তড়কা রোগ, কৃমি, রানীক্ষেত ইত্যাদি। কখনও কখনও এসব রোগ মহামারী আকার ধারণ করে এবং বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা  সেবার অভাব এবং গবাদিপ্রাণী ও হাঁস-মুরগি পালনে জনগোষ্ঠীর যথাযথ প্রস্তুতি, ঝুঁকি হ্রাস পদক্ষেপের অভাব ঝুঁকির মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের অভাব ও অনিয়ম; খরাপ্রবণ অঞ্চলে খরার তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে মানুষের সাথে সাথে গবাদিপ্রাণী ও পাখি পালন মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। খরা মৌসুমে তীব্র রৌদ্র তাপের কারণে মাঠ-ঘাট সব শুকিয়ে যাওয়ায় সবুজ ঘাসশূন্য হয়ে যায়, গবাদিপ্রাণী ও পাখির খাদ্যাভাব মারাত্মক আকার ধারণ করে। খাদ্য ঘাটতির কারণে গবাদিপ্রাণীর দুর্বলতা, প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস, গর্ভপাত দুধ কমে যাওয়া, রক্ত স্বল্পতা ইত্যাদি স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। এ সময় হিটস্ট্রোকে অনেক মুরগি মারা যায় এবং উৎপাদন ব্যাহত হয়। খরার পরে বৃষ্টি হলে নতুন গজানো ঘাসে নাইট্রেটের পরিমাণ বৃদ্ধি হওয়ায় গবাদিপ্রাণীর নাইট্রেট বিষক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগোষ্ঠীর অজ্ঞতা, যথাযথ প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাস পদক্ষেপের অভাব গবাদিপ্রাণী ও পাখি পালনে ঝুঁকির মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তুলে।
জলবাযু পরিবর্তনের কারণে শীতকালে শীতের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে এ সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে। প্রচণ্ড শীতের কারণে হাঁস-মুরগির বাচ্চার মৃত্যুর হার ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তোলে। খাদ্য গ্রহণ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে উৎপাদন হ্রাস পায়। গবাদিপ্রাণী ও হাঁস-মুরগির শরীরে তীব্র পুষ্টির অভাবজনিত রোগ এবং গবাদিপ্রাণীর চর্মরোগ দেখা দেয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকায় এ সমস্যা কৃষক-খামারিদের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কালবৈশাখীর প্রভাব ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। বিশেষ করে চৈত্র এবং বৈশাখ মাসে দেশের উত্তর দিক থেকে দক্ষিণে আবার কখনও  দক্ষিণ দিক থেকে উত্তর দিকে প্রচ- বেগে প্রবাহিত বাতাস গবাদিপ্রাণী ও হাঁস-মুরগির আবাস স্থলকে লণ্ডভণ্ড করে দেয়। ফলশ্রুতিতে উৎপাদন হ্রাস পাওয়াসহ ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতের মাধ্যমেও গবাদিপশুর ব্যাপক জীবনহানির ব্যাপকতা লক্ষ করা যায়। প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সচেতনতার অভাবে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হযে থাকে।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে প্রাণিসম্পদের বিপন্নতা : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ মারাত্মকভাবে বিপন্ন। বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নাজুক অর্থনীতি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিক নির্ভরতা এ বিপদাপন্নতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

  • বাংলাদেশের গড় বার্ষিক তাপমাত্রা গত ১৪ বছরে (১৯৮৫-১৯৯৮) মে মাসে এক ডিগ্রি সে. এবং নভেম্বর মাসে ০.৫ ডিগ্রি সে. বৃদ্ধি পেয়েছে; যা প্রাণিসম্পদ উৎপাদন এবং সংরক্ষণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে;
  • বাংলাদেশের মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি ৮৩০,০০০ হেক্টর আবাদি জমির ক্ষতি করেছে; যা প্রাণীর খাদ্য উৎপাদনে ঋণাত্মক প্রভাব ফেলেছে;
  • বাংলাদেশে গড় বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেয়েছে; ফলে প্রাণিসম্পদ ও পাখির রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে;
  • ভয়াবহ বন্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে গত ২০০২, ২০০৩, ২০০৪, ২০০৭ সালে। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বেড়েছে; গবাদিপ্রাণী ও পাখির ব্যাপক প্রাণহানিসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে;
  • সমুদ্রের লোনা পানি দেশের অভ্যন্তরে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রবেশ করেছে; ফলে খাবার পানিসহ পশুখাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

অভিযোজন (Adaptation)
 অভিযোজন হচ্ছে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়ানো। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়, যে পরিস্থিতি উত্তরণে গৃহীত কৌশলকে জলবায়ু ঝুঁকি অভিযোজন বলা হয়।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রাণিসম্পদের অভিযোজন কৌশল (Livestock Adaptation Technology to Climate Change) : আমাদের জাতীয় উন্নয়ন ও নিজেদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জলবায়ু পবির্তনের ঝুঁকি ও অভিঘাত মোকাবিলায় সব সর্বস্তরে খাপ খাওয়ানো, অভিযোজন করণীয় ও দায়িত্ব রয়েছে।
প্রাণিসম্পদর অভিযোজনে যেসব খাতকে প্রাধান্য দিয়ে কৌশল নির্ধারণ করা যায়; সেগুলো হলো-
পানি : বৃষ্টির পানি ধারণ, পানি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কৌশল রপ্ত করা, ব্যবহৃত পানি পুনরায় ব্যবহার, লবণাক্ততা দূরীকরণ, গবাদিপ্রাণী ও পাখির জন্য পানি ব্যবহার ।
প্রাণিসম্পদ ও কৃষি : অঞ্চলভিত্তিক দুর্যোগ সহনশীল জাতের গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন সব করা। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে দুর্যোগ সহনশীল জাতের প্রাণী উৎপাদন করা। যেহেতু প্রাণী উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। প্রাণী ব্যবস্থাপনায় যে শস্য সরাসরিযুক্ত ওইসব শস্যের চাষকে উৎসাহিত করা, ফডার বৃক্ষ ও ফলমূলের চারা রোপণ, দুর্যোগসহনশীল ঘাসের প্রচলন, অঞ্চলভিত্তিক ঘাস উৎপাদনের প্রযুক্তিসমূহ জনসাধারণের মাঝে বিতরণ করা, কৃষি ব্যবস্থাপনার উন্নতি করা, ভূমি ক্ষয় নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে বৃক্ষ রোপণ।
দুর্যোগ সহনশীল ক্যাট্ল ব্রিড হাইব্রিড নেপিয়ার
নেপিয়ার একটি উন্নত জাতের এবং বহুবর্ষজীবী দ্রত বর্ধনশীল ঘাস। সহজে চাষ করা যায় এবং একবার চাষ করলে ৩-৪ বছর পর্যন্ত ঘাস পাওয়া যায়।
চাষ পদ্ধতি
জলাবদ্ধ স্থান ছাড়া বাংলাদেশের সব ধরনের মাটিতে এমনকি পাহাড়ের ঢালে ও সমুদ্র তীরবর্তী লবণাক্ত জমিতেও জন্মে। উত্তমরূপে চাষ করে জমি তৈরি করতে হয়। কাদামাটিতেও লাগানো যেতে পারে। বছরের যে কোনো সময় এ ঘাস চাষ করা যায় তবে উত্তম সময় হচ্ছে ফাল্গুন চৈত্র মাস। চাষের জন্য শতাংশ প্রতি ১০০ কাটিং বা মোথা প্রয়োজন হয়। রোপণের ক্ষেত্রে লাইন থেকে লাইন ১.৫ ফুট বা এক হাত এবং মোথা থেকে মোথার দূরত্ব ১.৫ ফুট বজায় রাখতে হয়। জমি তৈরিতে শতাংশ প্রতি গোবর-জৈবসার ৬০-৭০ কেজি, ইউরিয়া-টিএসপি-এমওপি ২০০ঃ২৮০ঃ১২০ গ্রাম এবং ঘাস লাগানোর এক মাস পর ইউরিয়া ২০০-৩০০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হয়। এছাড়া প্রতিবার ঘাস কাটার পর ইউরিয়া ২০০-৩০০ গ্রাম প্রতি শতকে প্রয়োগ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। খরা মৌসুমে ১৫-২০ দিন পর পর, গ্রীষ্মকালে ৩০-৪৫ দিন পর পর এবং শীতকালে ৫০-৬০ দিন পর পর সেচ দিতে হয়। ১ম বছর ৫-৬ বার, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ বছর ৭-৯ বার ঘাস কাটা যায়।
ফলন ও লাভ
অন্যান্য ঘাসের চেয়ে এর পুষ্টিমান অনেক বেশি, এজন্য নেপিয়ার ঘাস গরুকে খাওয়ালে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, দ্রুত ওজন বাড়ে, পুষ্টির ঘাটতি কমানো যায় এবং গরুর খাদ্য খরচ কম হয়। বছরে শতাংশপ্রতি ৭০০-৯০০ কেজি ঘাস পাওয়া যায়।
ঘাসের প্রাপ্তিস্থান
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস, ব্যক্তি মালিকানাধীন খামার এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাভার, ঢাকা।
অবকাঠামো : পুনর্বাসন, ঘূর্ণিঝড় প্রতিরোধক্ষম বাসস্থান ও বসতি স্থাপন, খানা পর্যায়ে এবং এলাকাভিত্তিক মজবুত এবং স্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র/মাটির কিল্লা স্থাপন, বৃষ্টির পানি ধরে রাখাসহ প্রতিকূল সময়ে ব্যবহারের জন্য জলাধার স্থাপন। প্রাণিসম্পদের সেবা ও সম্প্রসারণের জন্য লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক অবকাঠামো স্থাপন।
প্রাণী স্বাস্থ্যসেবা/জনস্বাস্থ্য : ভোগ্যপণ্য হিসেবে ব্যবহৃত প্রাণী এবং প্রাণিজ পণ্য দূষণমুক্ত, জীবাণুমুক্ত এবং জনস্বাস্থের সহায়কভাবে উৎপাদন করা। জলবায়ুজনিত রোগ নির্ণয়, রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক রোগসমূহ মোকাবিলায় সক্ষমতা তৈরি করা। প্রাণী রোগ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নিবিড় টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন। প্রাণিসম্পদের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ভেটেরিনারি সার্ভিসের পরিধি গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা, সার্ভিসের মান বৃদ্ধি করা এবং জনবল তৈরি করা।
অভিযোজন কৌশলে গবাদিপ্রাণী ও পাখির রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি
যোগাযোগ : পুনর্বিন্যাস ও পুনর্বাসন; প্রাণীর উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। চাহিদামাফিক রাস্তা নির্মাণ, মেরামত এবং অবকাঠামো স্থাপন করা। দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং যোগাগের জন্য আইসিটি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ব্যবহার করা।
শক্তি : গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় প্রাণিসম্পদ খাত থেকে সম্ভাব্য গ্রিন হাউস গ্যাসকে রিসাইক্লিংকরে পুনঃব্যবহারের প্রচলন করা। প্রাকৃতিক নির্ভরতাকে কমিয়ে এনে সৌরবিদ্যুৎ বা রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদন করা। উৎপাদিত শক্তিকে রান্নাসহ পারিবারিক সব কাজে ব্যবহার করে জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো।
বিভিন্ন ধরনের অভিযোজন (Different Types of Adaptation)
কাঠামোগত অভিযোজন (Structural Adaptation) : এ প্রক্রিয়ায় বর্তমানে প্রচলিত প্রযুক্তিগুলোর কিছুটা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে অভিযোজিত হওয়া যায়। যেমন- বন্যার জন্য গবাদিপ্রাণী ও পাখির ঘর উঁচু করা, মজবুত কাঠামো দিয়ে ঘর তৈরি করা।
অ-কাঠামোগত অভিযোজন (Non-structural Adaptation) : অনেক ক্ষেত্রে জীবন চর্চা ও ব্যবহারে পরিবর্তনের মাধ্যমেই খাপ খাওয়ানো বা অভিযোজিত হওয়া সম্ভব। যেমন- ঝুকিপূর্ণ স্থান থেকে নিরাপদ স্থানে গিয়ে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন ।
নিবৃত্তিমূলক অভিযোজন(Anticipatory Adaptation) : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব পরিলক্ষিত হওয়ার আগেই অভিযোজন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। যেমন- বন্যার আগেই খাদ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা, টিকা প্রদান করা, জরুরি ওষুধপত্র মজুদ রাখা।
প্রতিক্রিয়ামূলক অভিযোজন (Reactive Adaptation) : জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো পরিলক্ষিত হওয়ার পর যে অভিযোজন প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয় তাকে প্রতিক্রিয়ামূলক অভিযোজন বলা হয়। যেমন- লোনা এলাকায় লোনা সহনশীল ঘাষের প্রচলন করা। আকস্মিক বন্যা এলাকায় হাঁস চাষের প্রচলন করা। হাঁস পালন, ভেড়া পালন, ছাগল পালন। এসব পরিকল্পিতভাবে করা।

ডা. মো. রফিকুল ইসলাম*
*ফোকাল পয়েন্ট (দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন) ও ইউএলও, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ফার্মগেট, ঢাকা


Share with :

Facebook Facebook