কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

বাংলাদেশে ফল উন্নয়ন গবেষণা

আমাদের বড় সৌভাগ্য যে, এ দেশের জলবায়ুতে ফলছে নানা রকম ফল ফলাদি। প্রতিটি বাড়ির আঙিনায়, ক্ষেতের আইলে, নদ-নদী, খাল-বিলের পাড়ে পতিত জমিতে সর্বত্রই রয়েছে নানা রকম ফল গাছ। তাছাড়া পরিকল্পিতভাবে এখন মানুষ গড়ে তুলছে নানা রকম ফলের বাগান। এখন আর কেবল শখের বিষয় নয় ফলের আবাদ। রীতিমতো বাণিজ্যিকভিত্তিতে দেশের নানা স্থানে আবাদ করা হচ্ছে নানা রকম ফল বৃক্ষ। বাংলাদেশের প্রধান ফল ফসল হলো আম, কাঁঠাল, কলা, আনারস, লিচু, পেয়ারা, লেবু, কুল ইত্যাদি। সমভূমি এলাকায় এসব ফল ফসলের আবাদ প্রায় সারা দেশেই বিস্তৃত। দেশের পাহাড়ি জেলাগুলোতে আনারস, পেঁপে, লিচু, কলা, কাঁঠাল ইত্যাদি ফলের ভালো বৈচিত্র্য রয়েছে। ইদানীং পার্বত্য জেলায় লিচু, আম, জাম্বুরা, বেল, আমড়া ইত্যাদি ফল আবাদের বিস্তৃতি ঘটছে। যদিও আম, কাঁঠাল ও আনারস দেশের কোনো কোনো এলাকায় অত্যন্ত ভালো জন্মে থাকে বলে এসব ফলের সঙ্গে কোনো কোনো এলাকার নামও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। কলা, পেঁপে, আনারস, তরমুজ ও ফুটি অল্প সময়ের মধ্যে এদের ফল আহরণ করা যায় এবং এ দেশে এর ফলনও বেশ আশাব্যঞ্জক। এসবের বাইরে এ দেশে রয়েছে অন্যান্য নানা রকম দেশি-বিদেশি ফলও। এর কোনো কোনোটা প্রচলিত তো কোনো কোনোটা আবার অপ্রচলিত।
ফল নিয়ে এ দেশে গবেষণা হয়েছে সবচেয়ে কম। এ দেশের নানা অঞ্চলে এখন আবাদ করা হচ্ছে কমছে কম ষাট-সত্তর রকমের ফল ফসল। বড় অনুসন্ধানী এ দেশের কৃষক। বড় বিজ্ঞানমনস্কও তারা। নতুন কিছু দেখলে তা রক্ষা করেন সযতেœ। ফলে বেশ কিছু সংখ্যক ফল ফসলের বৈচিত্র্যময় নানা রকম জাত তারা বাছাই করে নিয়েছেন প্রকৃতির ভা-ার থেকে। আম, কাঁঠাল, লিচু, পেঁপে ফল তো পরপরাগী স্বভাবের। এর অর্থ হচ্ছে অন্য জাতের ফুলের পরাগরেণু উড়ে এসে নিষেক ঘটায় আরেক জাতের ডিম্বকোষে। এভাবে তৈরি হয় প্রকৃতিতে বৈচিত্র্যপূর্ণ সব গাছ। বিচিত্র এ উদ্ভিদ সম্ভার থেকে আমাদের কৃষকরা নিজেদের মতো করে বাছাই করে নেন নানা রকম জাত। এভাবেই আম আর কাঁঠালে সৃষ্টি হয়েছে কত কত শত দেশ জুড়ে। এসব শত শত জাত কিন্তু বিজ্ঞানীদের সৃষ্ট জাত নয়। প্রকৃতির আপন নিয়মে এরা উদ্ভাবিত হয়েছে। কৃষকগণ এদের রক্ষা করেছেন, মমতা দিয়ে যতœ করেছেন। এ নিয়েই তৈরি হয়েছে আমাদের ফলের জীববৈচিত্র্য। এদের বৈচিত্র্য আমাদের সত্যিসত্যি অবাক করে। এখনও দিন দিন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে নতুন নতুন রকমের ফল আর ফলো জাত কোনো কোনো অঞ্চলে।
কৃষকের সংরক্ষিত ফলের বৈচিত্র্যপূর্ণ এসব জাত সংগ্রহ করা হলো এ দেশের ফল বিজ্ঞানীদের প্রধান কাজ। দেশি সব ফলজাত সংগ্রহ করে চলে এদের মূল্যায়ন। অনেক জাতের মধ্যে যেটি সবচেয়ে বেশি সফল একে নতুন নাম দিয়ে নতুন জাত হিসেবে অবমুক্ত করা হয়। বড় আদিম প্রকৃতির ফসল উন্নয়ন কর্মকা- এটি। ফলের যেসব জাত আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এদের সংগ্রহ করে উত্তমটিকে সহজে জাত হিসেবে অবমুক্ত করা। যে কৃষক এই জাতটি সংরক্ষণ করছেন যুগ যুগ ধরে তার কোনো স্বীকৃতি কিন্তু দেয়া হয় না।
এটি মন্দ নয় যে, বিজ্ঞানীদের যাচাই-বাছাই কর্মকা- ও উত্তম ফল জাতের চারা সুলভ হওয়ায় অপরিচিত একটি ফল জাত এভাবে সবার কাছে পরিচিতি পাচ্ছে। এর মাধ্যমে ফল জাতগুলো আগ্রহী অন্যান্য কৃষকও আবাদ করতে পারছেন। উত্তম জাতের চারা গাছ তৈরি করে বিক্রি করে দুই পয়সার মুখ দেখছে নার্সারির মালিকরা। যিনি এ কৌলিসম্পদটিকে যতœ করে এতদিন আগলে রেখেছেন সে কৃষক পেলেন না সরাসরি কিছুই। বড় অনৈতিক ঠেকে এ বিষয়টি। এটি নিয়ে আমাদের খানিকটা ভাবা দরকার। কৃষকের নামটি জাত অবমুক্তির সঙ্গে জড়িত করে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাকে অন্তত একটি কৃতজ্ঞতাপত্র দেয়া যায় কিনা তা ভেবে দেখা দরকার।
ফল উন্নয়ন কার্যক্রম বড় ঢিলেঢালা আমাদের। মূলত দুটি কারণ রয়েছে এর পেছনে। এক. যারা ফল উন্নয়ন কার্যক্রমের দায়িত্ব পেয়েছে তাদের অনেকেই জীবের বংশগতিবিদ্যা, জীবমিতি আর ফসল উন্নয়ন পদ্ধতি সম্পর্কে ঠিক ওয়াকিবহাল নয়। দুই. ফল উন্নয়ন কর্মকা- একটু দীর্ঘমেয়াদি বলে সে পথে না গিয়ে সহজ ও সরল পথ ধরে জাত অবমুক্তকরণ কাজটাকেই প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। সারা দেশে মূলত দুটি প্রতিষ্ঠানে চলছে ফল জাত অবমুক্তকরণের কর্মকা-। একটি হলো বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফল গবেষণা বিভাগ, উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র এবং আম গবেষণা কেন্দ্র আর অন্যটি হলো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টারের জাত অবমুক্তকরণ কর্মকা-। এখানে একটি পরিসংখ্যান নিয়ে এলে আমাদের ফল ফসল উন্নয়ন গবেষণার বিষয়টি পরিষ্কার হবে। বাংলাদেশে এ যাবত বাণিজ্যিকভাবে আবাদের জন্য অবমুক্ত করা ফল জাতের সংখ্যা ১৪১টি। এদের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট জাত ছাড়করণ করেছে মোট ৬৬টি। এর ৫৩টি হলো এ দেশের বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চল থেকে সংগৃহীত ফল জাত, যা কেবল মূল্যায়ন করে জাত অবমুক্ত করা হয়েছে। এসব জাত প্রাকৃতিক সংকরায়নের মাধ্যমে সৃষ্ট এবং এসব জাত সংরক্ষণ করছেন মাঠে আমাদের কৃষকগণ। আর ১১টি জাত বিদেশ থেকে প্রবর্তন করে অভিযোজন ও মূল্যায়ন শেষে জাত হিসেবে অবমুক্ত করা হয়েছে। তিনটি ফল জাত অবমুক্ত করা হয়েছে প্রকৃত প্রজনন কর্মসূচি থেকে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টার থেকে গত ৭ বছরে অবমুক্ত করা হয়েছে ৭৫টি ফল জাত। গড়ে প্রতি বছর ১০টির অধিক জাত অবমুক্ত করা হয়েছে এ সেন্টার থেকে। এর মধ্যে ৪০টি জাতই অবমুক্ত করা হয়েছে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত জাত মূল্যায়ন করে। এসব ফলের জাতও কৃষকের সংরক্ষিত জাতই। আর ৩৫টি জাত অবমুক্ত করা হয়েছে বিদেশ থেকে বিভিন্ন জাত এদেশে প্রবর্তন ও অভিযোজন করার মাধ্যমে। বিদেশ থেকে প্রবর্তিত এবং অবমুক্ত ফলগুলো হলো রাম্বুটান, স্ট্রবেরি, ডুমুর, মাল্টা, আঁশফল, ড্রাগন ফল, জামরুল ফল ইত্যাদি। বিএইউ থেকে অবমুক্ত ২১টি আমজাতের মধ্যে বিদেশ থেকে প্রবর্তিত আম জাত ৮টি। এ কেন্দ্র থেকে ছাড়কৃত ১০টি পেয়ারার মধ্যে ৭টি পেয়ারাই বিদেশ থেকে প্রবর্তিত।
এসব পরিসংখ্যান থেকে তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠে। এক. আমাদের দেশে ফলের বৈচিত্র্য বিশাল। গ্রামগঞ্জে পাহাড়ে পর্বতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নানা রকম স্থানীয় ফল জাত। ফল বিজ্ঞানীগণ মূলত এসব ফলজাত সংগ্রহ করে নতুন নামে দ্রুত জাত অবমুক্তকরণের দিকে অধিক আগ্রহী হয়ে পড়েছেন। দুই. বিদেশ থেকে ফল বীজ নিয়ে এসে এদেশে যাচাই-বাছাই করে ফল জাত ছাড়করণও তুলনামূলকভাবে বেশ সহজ। শুধু বীজ সংগ্রহ করে আনার দিকে মনোযোগী কোনো বিজ্ঞানীকে এ কাজে নিযুক্ত করলে তা থেকে অনেক জাত পাওয়া সম্ভব। তিন. আমাদের দেশে ফল প্রজননের কাজ শুরু হয়নি সহজে এভাবে জাত অবমুক্ত করা যাচ্ছে বলে। তাছাড়া ফল নিয়ে সংকরায়ন করে জাত সৃষ্টি, পলিপ্লয়েড জাত সৃষ্টি, অ্যানিউপ্লয়েড জাত সৃষ্টি, মিউটেশন করে জাত সৃষ্টির কর্মকা-ই শুরু হয়নি।
বিএআরআই বিজ্ঞানীগণ অবশ্য দুই-তিনটি ফল ফসলের সংকরায়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। আমে সংকরায়ন করে ইতোমধ্যে দুই তিনটি হাইব্রিড আম জাত অবমুক্ত করেছে বিএআরআই। স্ট্রবেরির ক্ষেত্রেও সংকরায়ন করে নতুন জাত সৃষ্টির কর্মকা- চলছে। ফসল উন্নয়ন গবেষণায় উদ্ভিদ প্রজননবিদদের অংশগ্রহণ করার প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৃষ্টি করা গেলে ফল ফসল উন্নয়ন গবেষণা যে নতুন মাত্রা পাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ফল উন্নয়ন গবেষণার সঙ্গে জড়িত ফল বিজ্ঞানীদের উদ্ভিদ প্রজনন সহায়ক জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা ফল ফসল উন্নয়নের প্রধান বাধা।
হিসাব-নিকাশ থেকে দেখা যাচ্ছে যে, প্রকৃত অর্থে এ দেশে বহু ফল ফসলের কোনো নিজস্ব প্রজনন কর্মসূচিই শুরু করা হয়নি। আমরা অবশ্য এ দেশের মুখ্য ফল গবেষণার কথাই বলছি। ফল গবেষণার একটি বড় সমস্যা হলো গবেষণার ফলাফল পর্যবেক্ষণ করার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার বিষয়টি। অনেক গাছেই ফলধারণ একটি সময়সাপেক্ষ বিষয়। তবে সব ফল গাছেই তা এক রকম দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয় তা কিন্তু নয়। কলা এক বছরেই কিন্তু ফলন দেয়। কলার খানিক বৈচিত্র্যও আমাদের রয়েছে। অথচ কলার জাত উন্নয়ন কর্মকা- সংগ্রহ আর জাত অবমুক্তকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। কলার কোনো সংকরায়ন কর্মসূচি এ দেশে নেয়াই হয়নি। লিচু, আম এসব ফল বৃক্ষ উন্নয়ন কর্মসূচির সুবিধা এই যে, একবার ভালো একটি জাত বাছাই করতে পারলে তা অঙ্গজ উপায়ে বংশবিস্তার করা যায় বলে সহজেই এর গুণাগুণ রক্ষা করা চলে। সংকরায়ন থেকে ফল ধারণ পর্যন্ত এদের সময় কয়েক বছর লাগে বটে তবে একবার একটি ভালো জাত পেয়ে গেলে আর বিশুদ্ধ লাইন পাওয়ার জন্য মাঠ ফসলের মতো এদের প্রতি বছর জন্মানোর প্রয়োজন হয় না। ভালো ফল সম্পন্ন একটি গাছ পেলেই যথেষ্ঠ। সে কারণে এসব ফসলে সংকরায়ন কর্মকা- শুরু করা দরকার। কুল গবেষণার ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। আমরা আমাদের কোনো কোনো কুল কিন্তু সংকরায়নে ব্যবহারই করতে পারি। পেয়ারার কোনো কোনো জাত আজ বিলুপ্তই হচ্ছে। লৌহজাত খনিজ ও ভিটামিনসমৃদ্ধ লাল মাংসল পেয়ারা আজ খুঁজে পাওয়াই ভার। এসব জিন সম্পদ হারিয়ে গেলে আগামী দিনে অবশ্যই ব্যাহত হবে ফল উন্নয়ন গবেষণা। সে কারণে বহুবর্ষজীবী ফলের জাতগুলো দেশের নির্দিষ্ট কতগুলো স্থানে মাঠ পর্যায়ে সংরক্ষণ করার কথা এখন ভাবা অতি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঠ পর্যায়ে বহুবর্ষজীবী ফলের কৌলিসম্পদ সংরক্ষণ একটি অতি জরুরি বিষয়। বিএআরআই দেশের দুই-চারটি গবেষণা খামারে এরকম কৌলিসম্পদ সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যা আরও বিস্তৃত করা সুযোগ রয়েছে।
আমাদের দেশে পেঁপে নিয়ে খানিক গবেষণা পরিচালিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগে। পেঁপের একটি চমৎকার জাত উদ্ভাবন করেছেন সেখানকার গবেষকরা। পেঁপে নিয়ে নিয়মিত গবেষণা পরিচালনা করার সুযোগ রয়েছে। পেঁপের ভিন্নবাসী এবং স্ত্রী লিঙ্গকে উভয় প্রকার জাত সৃষ্টির জন্য গবেষণা পরিচালনা করা সম্ভব। পেঁপের যেহেতু তিন রকম লিঙ্গরূপ রয়েছে ফলে ব্রিডারদের অংশগ্রহণ ছাড়া এদের বিশুদ্ধতা রক্ষা এবং নতুন জাত উদ্ভাবন প্রায় অসম্ভব। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফল গবেষণার সঙ্গে ব্রিডার জড়িত নয় বলে এক্ষেত্রে আমরা ভীষণ রকম পিছিয়ে রয়েছি। বাইরে থেকে প্রবর্তিত জাতের ওপরই আমাদের যা কিছু ভরসা।
লেবুজাতীয় ফসলে আমরা কিন্তু বেশ সমৃদ্ধশালী। আর হবে না বা কেন। লেবুজাতীয় বেশ কিছু ফলের উৎপত্তি স্থলইতো বঙ্গ-ভারত। এখানে নানা রকম লেবু যেমন- বড় লেবু, সাধারণ লেবু, কাগজিলেবু, জামির বা জাম্বুরিসহ বাতাবিলেবু ও কমলা ভালোই জন্মে। এর মধ্যে দেশজুড়ে কোনো কোনোটার বৈচিত্র্যও চমৎকার। এমনকি পাহাড়ি এলাকায় কোনো কোনো বিরল সব লেবুর জাত রয়েছে। রয়েছে এমনকি বীজহীন মাঝারি আকৃতির লেবুও। এর জাত সংরক্ষণ ও উন্নয়নে আমাদের উদ্যোগী হওয়া উচিত।
কাঁঠালের জাত বৈচিত্র্য এ দেশে প্রচুর। আকার আকৃতি, বর্ণ, গন্ধ, স্বাদ ও কোষের গুণে মানে এ বৈচিত্র্য তুলনাহীন। এর জীববৈচিত্র্য নিয়ে একটি বিশদ গবেষণা হতেই পারে। এদের নানা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে শ্রেণিভুক্ত করা একান্ত জরুরি। উত্তম জাতগুলো যেন যথাযথ মনোযোগ পায় এবং এদের বংশবৃদ্ধি করার মাধ্যমে মানুষের কাছে সেরা জাতের কাঁঠাল যেন পৌঁছে দেয়া যায় সেরকম প্রকল্প আমাদের থাকতেই পারে। তাছাড়া কাঁঠালের চমৎকার সব কৌলিসম্পদের একটি মাঠ জিন ব্যাংক স্থাপন করা এবং দেশের নানা অঞ্চল থেকে মূল্যবান কৌলিসম্পদ এনে জিন ভা-ার গড়ে তোলাও প্রয়োজন। বছরে দুইবার কাঁঠাল ধরে এরকম জাতগুলোও আমাদের সংগ্রহ করা প্রয়োজন। ভোক্তার কাছে অসময়ের কাঁঠালের একটি বাড়তি আকর্ষণ রয়েছে।
ফল উন্নয়ন গবেষণার পাশাপাশি ফল চাষাবাদ, ফলের বংশবিস্তার, ফলের প্রক্রিয়াজাতকরণসহ নানা বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া নতুন নতুন ফল এ দেশে প্রবর্তন করে এদের উপযোগিতা যাচাই করার কর্মকা- তো চলছেই। চলছে এদের এ দেশে জাত হিসেবে অবমুক্তির কর্মকা-ও। তবে এদের গুণমান ও পাশাপাশি এদের চাহিদার বিষয়টি অবশ্যই সর্বাগ্রে বিবেচনায় নিতে হবে। দেশি ফলকে উপেক্ষা করে বিদেশি ফলকে অধিক গুরুত্ব দেয়া যৌক্তিক নয় বলেই মনে হয়। দেশে যেসব ফল ফলাদি ভালো জন্মে এবং যাদের পুষ্টিমান উত্তম সেসব ফল গবেষণার প্রতি অধিক মনোযোগ দেয়া আশু প্রয়োজন।

ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া*
*প্রফেসর, জেনেটিক্স অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগ এবং প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭

 


Share with :

Facebook Facebook