কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

প্রশ্নোত্তর (ভাদ্র-১৪২২)

মো. আলমগীর হোসেন
নীলফামারী

প্রশ্ন : আদার কন্দ পচা রোগে করণীয় কী?
উত্তর : কন্দ পচা রোগ আদা ফসলের একটি মারাত্মক রোগ। এটি মাটি ও বীজবাহিত ছত্রাকজনিত রোগ।

 

প্রতিকার :
১. আক্রান্ত গাছ রাইজমসহ সম্পূর্ণরূপে তুলে ধ্বংস করতে হবে।

২. রোপণের আগে প্রতি লিটার পানিতে ২.৫ গ্রাম রিডোমিল গোল্ড বা ১ গ্রাম ব্যাভিস্টিন মিশ্রিত দ্রবণে বীজকন্দ ৩০ মিনিট ডুবিয়ে ছায়ায় শুকিয়ে রোপণ করতে হবে এবং একই পদ্ধতিতে  মাতৃকন্দ শোধন করে বীজকন্দ সংরক্ষণ করতে হবে।

৩. রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থাৎ আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে যখন আক্রমণের লক্ষণ প্রকাশ পায় তখন সঙ্গে সঙ্গে রিডোমিল গোল্ড প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে মাটির সংযোগস্থলে ১৫-২০ দিন পর পর গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে হবে।
 

নারায়ণ চন্দ্র
পঞ্চগড়
প্রশ্ন : ধান গাছের এক ধরনের পোকা পাতা খেয়ে ঝাঁঝড়া করে ফেলে। কিভাবে দমন করব?

উত্তর : ধানের লম্বাশুঁড় উড়চুঙ্গা পোকা ধানের পাতার কিনারা ও শিরাগুলো বাদে পাতা এমনভাবে খায় যে পাতাগুলো ঝাঁঝড়া হয়ে যায়। এ পোকা দমন করার জন্য যা করা দরকার তাহলো-
০ জমিতে ডালপালা পুঁতে পোকা খেকো পাখি বসার ব্যবস্থা করা।
০ আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে পোকা ধরার ব্যবস্থা করা।
০ জমিতে শতকরা ২৫ ভাগ পাতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কুইনালফস জাতীয় কীটনাশক অনুমোদিত মাত্রায় প্রয়োগ করা।

 

মো. শুকুর আলী
সিরাজগঞ্জ
প্রশ্ন : আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি বীজ বপনের সময় কখন জানালে উপকৃত হবো।
উত্তর : আগস্টের শেষ হতে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত ফুলকপি, বাঁধাকপি বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। আগাম চাষের জন্য বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই চারা উৎপাদন করতে হয়। এ সময়ে ঘরের বারান্দায়, টবে বা গামলায় বীজতলা তৈরি করা যেতে পারে।
মো. আবদুল মোতালেব

 

নীলফামারী
প্রশ্ন : পটোল গাছের কাণ্ড ও পটোলের গায়ে পানি ভেজা নরম পচন দেখা যাচ্ছে। করণীয় কী?
উত্তর : পটোল গাছের কাণ্ড ও পটোলের গায়ে সাদা সাদা মাইসেলিয়াম দেখা যায়। এটা পটোলের ছত্রাকজনিত রোগ। এ রোগে গাছের গোড়া, শিকড় ও পটোলে পানি ভেজা নরম পচা রোগ দেখা যায়। পরবর্তীতে পটোল গাছসহ পটোল নষ্ট হয়ে যায়।

 

প্রতিকার :
-আক্রান্ত গাছ পটোলগুলো সংগ্রহ করে নষ্ট বা পুড়ে ফেলতে হবে।
-রোগ সহনশীল জাত বারি পটোল-১, বারি পটোল-২ ব্যবহার করতে হবে।
-প্রতি বছর একই জমিতে পটোল চাষ না করে শস্য পর্যায় অনুসরণ করতে হবে।
-পটোলের শাখা কলম (কাটিং) শোধন করে লাগাতে হবে।
-অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
-সুষম সার ব্যবহার করতে হবে।
-রোগের আক্রমণ দেখা দিলে প্রতিলিটার পানিতে ১ গ্রাম ম্যানকোজেব+মেটালোক্সিল ১০-১২ দিন অন্তর স্প্রে করতে হবে।

 

মনিরুল
পাবনা
প্রশ্ন : গরু খায় না শুকিয়ে যাচ্ছে। কী করণীয়?
উত্তর : প্রথমেই আপনাকে কৃমির ওষুধ দিতে হবে; যদি ৩ মাসের বেশি সময় কৃমির ওষুধ না দিয়ে থাকেন। কৃমির ওষুধ দেয়ার সাতদিন পর আপনি যে দানাদার খাবারগুলো খাওয়াচ্ছেন তার সাথে ভিটামিন মিশিয়ে দিবেন। সুষম দানাদার খাবার খাওয়াবেন।

 

আহমেদ আলী
জামালপুর

 

প্রশ্ন : গরুর চামড়া উঠে যাচ্ছে। কী করণীয়?
উত্তর : অনেক সময় বহিঃপরজীবী জনিত কারণে এমন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আইভারমেকটিন গ্রুপের ইনজেকশন চামড়ার নিচে দিতে হবে।
০ জিংক সমৃদ্ধ সিরাপ খাওয়াতে হবে।
০ এন্টিহিস্টামিনিক ওষুধ দিতে হবে।

 

শাহজাহান
কুমিল্লা

 

প্রশ্ন : হাঁস হাঁটতে পারছে না। প্যারালাইসিসের মতো হয়ে যাচ্ছে। কী করব?
উত্তর : সাধারণত ডাক প্লেগ হলে এমনটি হতে পারে। এক্ষেত্রে সময়মতো ডাক প্লেগের টিকা দিয়ে নিতে হয়। যেগুলো আক্রান্ত হয়েছে সেগুলোকে আপাতত সুস্থ হাঁসগুলো থেকে আলাদা রাখবেন। টেরামাইসিন ক্যাপসুল সকালে অর্ধেক বিকালে অর্ধেক এভাবে তিন দিন খাওয়াবেন।

 

রতন
দিনাজপুর
প্রশ্ন : হাঁস-মুরগিকে প্রতিমাসে/বছরে কি কি টিকা দিতে হয়।

উত্তর : বয়সভেদে হাঁস-মুরগিকে নিচের ছকে বর্ণিত নিয়মে টিকা দিতে হবে।

বয়স

 রোগ

টিকার ব্যবহার

টিকা ব্যবহার পদ্ধতি

১ দিন

ম্যারেকস রোগ

ম্যারেকস টিকা

ঘাড়ের চামড়ার নিচে

৭ দিন ও ২১ দিন

গামবোরো রোগ

গামবোরো লাইভ টিকা

চোখে দুই ফোঁটা

১ দিন/৭ দিন

রানীক্ষেত রোগ

বিসিআর ডিভি

১ চোখে ১ ফোঁটা

১ মাস

বসন্ত রোগ

বসন্তরোগের টিকা

পালকবিহীন স্থানে ছিদ্র করে

২ মাস, ৬ মাস পরপর

রানীক্ষেত রোগ

আরডিভি

মাংসে ১ মিলি. ইনজেকশন

১ মাসে ৬ মাস পরপর

ডাকপ্লেগ রোগ

ডাকপ্লেগ রোগ

রানের মাংসে ইনকেশন

৭৫ দিন পরে ৬ মাস পরপর

কলেরা

কলেরার ঠিকা

রানের মাংস ১ মিলি. ইনজেকশন

 

মো. রুবেল
ঠাকুরগাঁও
প্রশ্ন : পুকুরের পানি নষ্ট (পানির রঙ নষ্ট হওয়া, দুর্গন্ধযুক্ত পানি) হলে বা ঘোলা হলে কী করতে হবে।
উত্তর : পুকুরের পানি নষ্ট বা দূষিত হয়ে গেলে শতকপ্রতি মাছ থাকা অবস্থায় ০.৫ কেজি চুন, মাছ না থাকা অবস্থায় ১ কেজি চুন গুলিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। চুন গুলানোর সময় সতর্ক থাকতে হবে। চুন গুলানোর পর ঠাণ্ডা করে নিতে হবে। পুকুরের পাড়ে অধিক গাছপালা থাকলে তার ডালগুলো ছেঁটে দিতে হবে যাতে পাতা পুকুরে না পড়ে।

 

মো. ইমরান করিম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

 

প্রশ্ন : মাছ বড় হচ্ছে না কী করা যায়?
উত্তর : হ্যাচারি বা যে কোনো উৎস থেকে অপরিপক্ব বা পুষ্টিহীন অথবা খারাপ মানের পোনা পুকুরে বেশি ঘনত্বে ছাড়লে এ সমস্যা হতে পারে। তাই পোনা সংগ্রহের আগে পোনার গুণগতমান সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে বিশ্বস্ত কোনো হ্যাচারি থেকে সংগ্রহ করুন।


তবে দৈনিক সম্পূরক খাদ্য (মানসম্পন্ন খাবার) দিলে, সার প্রয়োগ করলে এবং পানি ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো করতে পারলে এ সমস্যার নিরসন হয়।
মাছের ঘনত্ব বেশি থাকলে কমিয়ে দিতে হবে। শতকপ্রতি ৪০ থেকে ৫০টি মাছ (মিশ্র চাষের ক্ষেত্রে সিলভার কার্প, কাতল/ বিগহেড শতকপ্রতি ২০টি রুই ১২টি; মৃগেল/মিরর কার্প/কার্পিও ১০টি; গ্রাসকার্প ২টি, সরপুঁটি ৬টি) পুকুরে ছাড়তে হবে। পুকুরস্থ মাছের মোট ওজনের ৩%-৫% হারে সম্পূরক সুষম খাদ্য প্রতিদিন প্রয়োগ করতে হবে। পুকুরের পানি ঘোলা হলে শতকপ্রতি চুন ০.৫ কেজি এবং ইউরিয়া সার শতকপ্রতি ১০০ গ্রাম হারে দিতে হবে।

 

আনোয়ারুল ইসলাম
টাঙ্গাইল
প্রশ্ন : বন্যার পর পুকুরের পানিতে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য কতটুকু আছে তা জানার উপায় কী?
উত্তর : হাতের তালু পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে বা সেক্কি ডিস্ক (
Secchi dish) নামক যন্ত্রের সাহায্যে এ পরীক্ষা করা যায়। হাত কনুই পর্যন্ত ডুবিয়ে যদি হাতের তালু পরিষ্কার দেখা যায় তাহলে পুকুরে মাছের খাবার খুবই কম আছে বলে ধরে নিতে হবে। আর যদি না দেখা যায় এবং পানির রঙ সবুজ থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে পুকুরের পানিতে পর্যাপ্ত খাবার আছে। একইভাবে সেক্কি ডিস্ক যন্ত্রটি ১ থেকে ২ ফুট পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে এ পরীক্ষা করা যায়।


কৃষিবিদ মোহাম্মদ মারুফ*

* কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫


Share with :

Facebook Facebook