কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি অভিযোজন

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা ও খুলনা এলাকায় মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর বিস্তীর্ণ জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। এসব জমিতে যব চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। যব অত্যন্ত খরা এবং লবণ সহনশীল বলে উপকূলীয় বৈরী আবহাওয়া, উচ্চ তাপমাত্রার সাথে ভালোভাবে খাপ খাওয়াতে সক্ষম। শুষ্ক মৌসুমে জমি অনাবাদি ফেলে রাখলে লবণ ধুলায় জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় যব চাষের ফলে মাটি আবৃত থাকাতে  জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না বরং জমির উন্নয়ন ঘটে। শুষ্ক মৌসুমে গোখাদ্যের তীব্র অভাব থাকে। এ সময় যব চাষ করে ঘাস হিসেবে গবাদিপশুকে খাওয়ানো যায়। যবের খর জ্বালানি ও ঘরের চালা তৈরিতে ব্যবহার করা যায়।

 

আইলা দুর্গত কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের কৃষক আইয়ুব আলী সরদার (৫৫) গত বছর তার বাড়ির সামনে পতিত জমিতে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের সহায়তায় এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের পরামর্শ ও সরবরাহকৃত বীজ দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে যব চাষ করেন। যব চাষে স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পরিদর্শন ও পরামর্শ সহায়তা দেন।


নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে জমি উত্তমরূপে চাষ করে জো অবস্থায় বীজ বপন করা হয়। এ সময় জমির  সংগৃহীত মাটির নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায়  লবণাক্ততা ছিল ৬ ডিএস/মি. এবং পরবর্তীতে ডিসেম্বর-মার্চ পর্যন্ত লবণাক্ততা আরও বৃদ্ধি পেলেও ফসলের ওপর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। যব চাষের জন্য তেমন কোনো পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না এবং সেচেরও প্রয়োজন হয় না তবে খুব বেশি খরা দেখা দিলে হালকা একটি ছিটিয়ে সেচ দিতে হয় এবং জমিতে যেন পানি না জমে সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হয়। মার্চ মাসের শেষ দিকে ফসল কর্তন করা হয় এবং গড়ে প্রায় ২.৫ টন/হেক্টর ফলন পাওয়া  যায়।


আইলার পরে প্রায় ৪ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও উপযুক্ত ফসল ও প্রযুক্তির অভাবে মানুষ যখন জমি ফেলে রাখছে তখন যব চাষ কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। ভালোবীজ ও কারিগরি সহায়তা পেলে আরও বেশি পরিমাণ জমি যব চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
 

যব উৎপাদন প্রযুক্তি

মাটি : পানি জমে না এমন বেলে দো-আঁশ ও দো-আঁশ মাটি যব চাষের জন্য উপযুক্ত। জমিতে ‘জো’ আসার পর মাটির প্রকার ভেদে ৩-৪টি আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করতে হয়।
 

বপনের সময় : মধ্য-কার্তিক থেকে অগ্রাহায়ণ মাস (নভেম্বর থেকে মধ্য ডিসেম্বর) পর্যন্ত বীজ বপন করা যায়।
 

বীজহার: যব ছিটিয়ে ও সারিতে বপন করা যায়। ছিটিয়ে বুনলে হেক্টরপ্রতি ১২০ কেজি এবং সারিতে বুনলে ১০০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়। সারিতে বুনলে ২ সারির মাঝে দূরত্ব ২০-২৫ সেমি. রাখতে হবে। লাঙল দিয়ে ৩.৫ সেমি. গভীর নালা টেনে তাতে বীজ বুনে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
 

আগাছা দমন : চারা গজানোর পর ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে ৮-১০ সেমি. দূরত্বে একটি চারা রেখে বাকি চারা তুলে পাতলা করে দিতে হবে। জমিতে আগাছা দেখা দিলে নিড়ানি দিয়ে দমন করতে হবে।
 

সারের পরিমাণ : সাধারণত অনুর্বর জমিতে যব চাষ করা হলেও সুপারিশমতো সার প্রয়োগে এর ফলন বাড়ানো যায়। এক্ষেত্রে প্রতি শতকে ইউরিয়া ৬৮০ গ্রাম, টিএসপি ৪৬০ গ্রাম এবং এমপি ৩০০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হয়।
 

সার প্রয়োগ পদ্ধতি : সেচের ব্যবস্থা থাকলে শেষ চাষের সময় অর্ধেক ইউরিয়া এবং সবটুকু টিএসপি ও এমপি সার প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া ২ কিস্তিতে বীজ বপনের ৩০-৩৫ দিন পর এবং দ্বিতীয় কিস্তি বীজ বপনের ৫৫-৬০ দিন পর (সেচের পর) প্রয়োগ করতে হবে।
 

পানি সেচ : রবি মৌসুমে খরা দেখা দিলে ১-২টি হালকা সেচের ব্যবস্থা করলে ফলন বেশি পাওয়া যায়।
 

ফসল সংগ্রহ : শিষ, খড় ও পাতার রঙ বাদামি হয়ে এলে বুঝতে হবে ফসল পেকেছে। সাধারণত চৈত্রের প্রথম সপ্তাহ থেকে মধ্য সপ্তাহ (মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ) সময়ে যব সংগ্রহ করা যায়।


সূত্র : কৃষি প্রযুক্তি হাতবই, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট

জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি অভিযোজনবিষয়ক এ পাতাটি ইসলামিক রিলিফ, বাংলাদেশের সৌজন্যে প্রকাশিত। এ পাতাটিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিযোজন সম্পর্কিত প্রায়োগিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিষয়ে যে কেউ লেখা দিতে পারেন। ইসলামিক রিলিফ, হাউজ ১০, রোড ১০, ব্লক কে, বারিধারা, ঢাকা, বাংলাদেশ।


Share with :

Facebook Facebook