কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

কৃষিকথা : অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

চাষের কথা চাষির কথা
পাবেন পড়লে কৃষিকথা

 স্লোগানটির মর্মার্থ উপলব্ধি করলেই বুঝতে পারি ‘কৃষিকথা’ তার জন্মলগ্ন থেকেই কৃষির আধুনিক কলাকৌশলকে কৃষকের জীবনের সাথে যোগসূত্র স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। কৃষিকথা কৃষি গবেষণালব্ধ ফলাফল চাষিভাইদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে সেতুবন্ধনের কাজ করছে। কৃষিকথা কৃষক সমাজের কাছে অতি সুপরিচিত একটি নাম। এটি সুদীর্ঘ ৭৪ বছরের ঐতিহ্যবাহী ম্যাগাজিন। বৈশাখ-১৪২২ কৃষিকথা ৭৫ বছরে পদার্পণ করল। কৃষিকথা শুধু কৃষি তথ্য সার্ভিসই নয় কৃষি জগতের একটি গর্বিত পত্রিকা।
 

কৃষিকথার প্রাক ইতিহাস
এখন আমরা যে কৃষিকথা দেখছি তার পূর্বসূরি হলো ‘কৃষি সমাচার’। তৎকালীন বঙ্গীয় কৃষি বিভাগ ১৯২১ সনের মার্চ মাসে কৃষি সমাচার নামে একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রকাশ করে। তখন এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ৩৩। নিবন্ধ, গল্প, খবর, ব্যক্তিগত সংবাদ, হাঁস-মুরগি পালন ও কৃষি তথ্যাদিতে পরিপূর্ণ থাকত পত্রিকাটি।


কৃষিকথার জন্ম
কৃষি সমাচার ১৯৩৯ সনে রূপ নেয় কৃষিকথা হিসেবে। তখন দ্বিমাসিক ভিত্তিতে প্রকাশ করা হতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অধিক খাদ্য ফলাও অভিযান শুরু হলে কৃষিসংক্রান্ত প্রচার, প্রপাগাণ্ডা জোরদার করা হয়। ফলে ১৯৪১ সন থেকে কৃষিকথা মাসিকে রূপান্তরিত হয়। সে হিসাবে কৃষিকথার জন্ম সন ধরা হয় ১৯৪১। এ জন্ম সন ধরেই কৃষিকথার প্রকাশকাল গণনা করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী কৃষিকথা এখন ৭৫ বছর বয়সে পদার্পণ করেছে।


বিনামূল্যে কৃষিকথা
বঙ্গীয় কৃষি বিভাগের সরকারি প্রেস আলীপুর কলকাতা থেকে কৃষিকথা ছাপা হতো। এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন এস এন ব্যানার্জি (১৯৪১-৪৩)। তখন কৃষিকথায় নিবন্ধ, কবিতা, নাটিকা, চিঠিপত্র, জেলার কথা, কৃষিপঞ্জি এসব লেখা স্থান পেত। তখন কৃষিকথার কোন মূল্য ধরা হয়নি। ১৯৪৪-৪৫ সন থেকে মূল্য ধরা হয়। ওই সময় বার্ষিক চাঁদার হার ছিল মাত্র এক টাকা।


কৃষিকথা নিয়ে বিতর্ক
১৯৪৭ সনে ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ার পর কৃষিকথা ভাগাভাগি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ডাইরেক্টরেট অব বেঙ্গল কর্তৃক কলকাতা রাইটার্স বিল্ডিং থেকে কৃষিকথা প্রকাশ হয়ে আসছিল। স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমবঙ্গ কৃষিকথা ধরে রাখতে চায়। অপরদিকে পূর্ববঙ্গও কৃষিকথা পাওয়ার দাবি করে বসে। এ প্রসঙ্গে একটা সুন্দর নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। তাহলো  যে বঙ্গে গ্রাহক সংখ্যা বেশি হবে সে বঙ্গই এটা পাবে। সৌভাগ্যবশত পূর্ববঙ্গে গ্রাহক সংখ্যা বেশি বলে প্রমাণিত হয়। সেই সুবাদে কৃষিকথা পূর্ববঙ্গের ভাগে পড়ে। আজ ৭৫ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের সম্মানিত গ্রাহক ভাইদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।


পাক আমলে কৃষিকথা
দেশ ভাগের পর কৃষিকথা পূর্ব পাকিস্তানের ভাগে পড়লে সরকারের ডাইরেক্টরেট অব এক্সটেনশন অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপম্যান্ট, ইস্ট পাকিস্তান, ইডেন বিল্ডিং ঢাকা থেকে পাবলিক রিলেশন অফিসার কর্তৃক প্রকাশিত হতে থাকে। তখন দ্য স্টার প্রেস শেখ সাহেব বাজার লেন ঢাকা থেকে ছাপা হতো। ১৯৪৮ সনে কৃষিকথার সম্পাদক ছিলেন আ. হামিদ ও ১৯৫০ সনে মো. মোস্তফা আলী। তখন চাঁদার পরিমাণ ছিল বার্ষিক ২ টাকা।


কৃষি তথ্য সার্ভিসের জন্ম ও কৃষিকথা
কৃষি তথ্য সংস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার ভার পড়ে মোস্তফা আলীর ওপর। পরিকল্পনাটি ২১ বার রিভাইজ করা হয়। সবচেয়ে বড় বাধা আসে জনসংযোগ বিভাগ থেকে। তাদের বক্তব্য হলো- ‘প্রচার কাজ তো আমরাই করছি।’ পরে এক মজার ঘটনা ঘটে এবং জাদুর মতো পরিকল্পনা পাস হয়ে যায়। ওই সময়  আলী আজগর ছিলেন অতিরিক্ত চিফ সেক্রেটারি (প্ল্যানিং)। তিনি আলী সাহেবকে প্রশ্ন করেন
Why are you here? উত্তরে আলী সাহেব বললেন, I have a scheme। পরে প্রশ্ন করলেন What’s that ? আলী সাহেব উত্তর দিলেন Agriculture Information Service, আজগর সাহেব বলেন, ‘Publicity is there’। আলী সাহেব তৎক্ষণাৎ উত্তর দিলেন- publicity deals with the public in the city and Agricultural Information Service will deal with the people in the village. আজগর সাহেব সাথে সাথে বলে দিলেন ‘Your Scheme is approved, You go. মিটিংয়ে সবাইকে অবাক করে আলী সাহেব হাসিখুশি ভরা মনে ফিরে আসলেন।


১৯৬১ সনের আগস্ট মাসে কৃষি তথ্য সংস্থার জন্ম হয়। সদর দপ্তর ছিল ৩, আর কে মিশন রোড ঢাকা। ওই সময় কৃষিকথা কৃষি তথ্য সংস্থায় হস্তান্তর করা হয়। ১৯৬১ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত মো. মোস্তফা আলী ছিলেন প্রধান কারিগরি তথ্য কর্মকর্তা এবং কৃষিকথার প্রধান সম্পাদক। ১৯৬১ সনে ১৯, রমাকান্ত নন্দী লেন থেকে এবং ১৯৬২ সনে জিনাত প্রিন্টিং প্রেস থেকে ছাপা হয়। জুলাই ১৯৬৪ থেকে বিজি প্রেসে কৃষিকথা ছাপা হতো এবং খামারবাড়িতে নিজস্ব প্রেস স্থাপনের পূর্ব পর্যন্ত ওখান থেকেই ছাপার কাজ চলে। জুলাই ১৯৭৮ (শ্রাবণ/১৩৮৫) থেকে কৃষি তথ্য সংস্থা খামারবাড়ি ফার্মগেট, ঢাকায় স্থাপিত নিজস্ব প্রেসে মুদ্রণ কাজ শুরু হয়। বর্তমানে দুটি সিঙ্গেল কালার ও একটি বাইকালার মেশিনের সাহায্যে কৃষিকথা, বুকলেট, পোস্টার, লিফলেট, ফোল্ডার ছাপা হচ্ছে।

 

কৃষি তথ্য সার্ভিস ও কৃষিকথা
১৯৮৮ সনে সরকার কর্তৃক কৃষি তথ্য সংস্থাকে কৃষি তথ্য সার্ভিস নামে নতুনভাবে নামকরণ করে। ওই সময় কৃষিকথার সম্পাদক ছিলেন সিরাজ উদ্দিন আহমেদ। সম্পাদকের পদটি পূরণ না হওয়ায় কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালকরাই সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

 

কৃষিকথা মুদ্রণ সংখ্যার চালচিত্র

(প্রতি ৫ বছর পর পর বৈশাখ সংখ্যার ভিত্তিতে)
সন                     সংখ্যা            মন্তব্য
১৩৮৫/১৯৭৮    ৮,০০০          ১৩৮৫ সনের
১৩৯০/১৯৮৩    ৭,৮৫০          পূর্বে কৃষিকথায়
১৩৯৫/১৯৮৮    ৫,২০০          সংখ্যা উল্লেখ
১৪০০/১৯৯৩    ১০,০০০          থাকত না
১৪০৫/১৯৯৮    ৮,৩৭০    
১৪১০/২০০৩    ২৮,০০০
১৪১৫/২০০৮    ৪৪,৯০০
১৪২০/২০১৩    ২৬,০০০
১৪২১/২০১৪     ৪৪,৯০০

 

 সেকাল

একাল

১. কৃষিকথার সাইজ ছিল বড়। পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল সাধারণত ৪০-৫২

১. এখনকার সাইজ তুলনামূলকভাবে কিছুটা ছোট। পৃষ্ঠা সংখ্যা সাধারণত ৩২-৪০।

২. প্রচ্ছদ ছিল বাইকালার

২. প্রচ্ছদ এখন মাল্টিকালার

৩. আঙ্গিক সাদামাটা প্রযুক্তিভিত্তিক সচিত্র প্রতিবেদন অনুপস্থিত

৩. আঙ্গিক সুন্দর, আকর্ষণীয়। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রযুক্তিভিত্তিক ছবিবিশিষ্ট।

৪. প্রযুক্তিভিত্তিক গবেষক-বিজ্ঞানীদের লেখার অভাব ছিল।

৪. প্রযুক্তিভিত্তিক লেখার প্রাচুর্য। বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের লেখা সমৃদ্ধ।

৫. নামিদামি লেখক-কবিদের লেখা ছাপা হতো। যেমন প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ, বিজ্ঞানী আব্দুল্লাহ্ আল মুতী শরফুদ্দিন, কবি ফররুখ আহমদ, কবি বন্দে আলী মিয়া, কেএম শমশের আলী (বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত) তাদের লেখা কৃষিকথাকে ধন্য করেছে।

৫. জাতীয় পর্যায়ের লেখক-কবিদের লেখার অভাব। কৃষিকথায় যারা লেখেন তারা সাধারণ লেখক-কবি।

৬. ভিভিআইপি যেমন গভর্নর-গভর্নর জেনারেলের বাণী ছাপা হতো।

৬. সাধারণত ভিআইপিদের বাণী ছাপা হয় না। তবে ফলদ বৃক্ষরোপণ-২০১৪ বিশেষ সংখ্যায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী-কৃষি মন্ত্রীদের বাণী ছাপা হয়েছে।

৭. কবিতা, নিবন্ধ, গল্প, প্রশ্ন-উত্তর, খনার বচন, গ্রাহকের চিঠি, বিশ্ব সংবাদ এমনকি নিবন্ধের ওপর প্রতিবাদ ছাপা হতো।

৭. নিবন্ধ, কবিতা, গল্প, নাটিকা, মুখোমুখি, পুস্তক পরিচিতি, প্রশ্নোত্তর, আগামী মাসের কৃষি স্থান পাচ্ছে।

৮. ফসল, পশুপালন, পোলট্রি, নার্সারি, জেলার কথা- এসব ছিল মুখ্য বিষয়।

৮. ফসল, প্রাণিসম্পদ, উদ্ভিদ সংরক্ষণ, মৃত্তিকা, বন, পরিবেশ, কৃষি বাজার, বায়োগ্যাস, কৃষি কল সেন্টার- এসব এখন মুখ্য বিষয়।

কৃষিকথার বর্তমান অবস্থা
বর্তমান কৃষিকথার আঙ্গিক শ্রী বৃদ্ধি পেয়েছে। রঙিন আকর্ষণীয় প্রচ্ছদে ছাপা হচ্ছে। লেখার গুণগতমানও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের সচিত্র লেখা পাঠকদের কাছে সহজবোধ্য করে তুলছে। মাঠ ফসল, উদ্যান ফসল, ফুল, উদ্ভিদ সংরক্ষণ, মৃত্তিকা, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, বন, পরিবেশ, পুষ্টিবিষয়ক নিবন্ধ, নাটিকা কবিতা-গান, প্রশ্নোত্তর, আগামী মাসের কৃষি নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ করা হচ্ছে। সেই সাথে কৃষি তথ্য সেবায় কৃষি কল সেন্টার, ই-কৃষি সংক্রান্ত তথ্যাবলি কৃষিকথাকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলছে।


কৃষিকথার গ্রাহক সংখ্যা কখনো স্থিতিশীল ছিল না। কখনো বাড়ে আবার কখনো কমে গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে মুদ্রণ সংখ্যাও বেড়ে যায়। ১৪২১ বৈশাখ (২০১৪) সংখ্যায় ৪৪,৯০০ কপি ছাপা  হয়। সর্বশেষ ১৪২১ চৈত্র (২০১৫) সংখ্যায় ৪৩,১০০ কপি ছাপা হয়। এর মধ্যে উপসহকারী কৃষি অফিসারসহ সৌজন্য সংখ্যা প্রায় ১৪০০০ কপি। উপসহকারী কৃষি অফিসারসহ সৌজন্য সংখ্যা বাদ দিলে গ্রাহকসংখ্যা হচ্ছে মাত্র ২৯০৫২। ১৬ কোটি মানুষের দেশে প্রায় দেড় কোটি কৃষক পরিবারের জন্য বর্তমানের কৃষিকথা মুদ্রণ বা গ্রাহকসংখ্যা একেবারেই নৈরাশ্যজনক। কৃষিকথার ৪০ বছরপূর্তি সংখ্যার তথ্যে প্রকাশ ১৯৭২ সনের আগে কৃষিকথার গ্রাহকসংখ্যা ৩৫ হাজারে উন্নীত হয়। এরই মধ্যে জনসংখ্যা দ্বিগুণের চেয়েও বেশি হয়েছে। চাষির সংখ্যাও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই কৃষিকথার গ্রাহক সংখ্যাও সে হারে বাড়ানো দরকার। ২০০৫ সনে একবার কৃষিকথার মুদ্রণ কপি দাঁড়ায় ৫০ হাজারের কাছাকাছি। এখন কৃষিকথার নগদ মূল্য প্রতি কপি ৫  টাকা। বার্ষিক চাঁদা ডাক মাশুলসহ মাত্র ৫০  টাকা। পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩২-৪০ পর্যন্ত ওঠানামা করছে। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনা করলে কৃষিকথার মূল্য বেশি নয় বরং সরকার থেকে চাষিভাইদের ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।


বর্তমানে কৃষি তথ্য সার্ভিস কৃষিকথা অগ্রিম ছাপাচ্ছে এবং সময়ের আগেই কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জোর উদ্যোগ চালাচ্ছে। সুখের কথা এরই মধ্যে গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বৈশাখ ১৪২২ সংখ্যায় সাড়ে ৪ হাজার নতুন গ্রাহক বৃদ্ধি পাচ্ছে। উত্তরোত্তর গ্রাহক সংখ্যা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


ভবিষ্যৎ করণীয়
কৃষিকথার আঙ্গিক শ্রীবৃদ্ধি করা
* কৃষিকথার বাহ্যিক রূপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একে আরও আকর্ষণীয় করে ছাপা দরকার। কৃষিবিদ গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত মাসিক ‘কৃষি বার্তার’ মতো ভেতর-বাইর রঙিন করে আরও আকর্ষণীয় করে প্রকাশ করা যেতে পারে।
* কৃষিকথা আকার আগের মতো ২০
x ৩০ ইঞ্চি সাইজ অর্থাৎ একটু বড় করা উচিত। কলেবর বড় করা দরকার অর্থাৎ পৃষ্ঠা সংখ্যা বাড়ানো দরকার।
 

গুণগতমান বৃদ্ধি করা
* অতীতের মতো নামিদামি লেখক, সাহিত্যিক, কৃষি সাহিত্যিকদের লেখা, নামকরা বা খ্যাতনামা কবিদের কবিতা-গান ছাপালে কৃষিকথার গুণগতমান বৃদ্ধি পাবে। দেশের বরেণ্য কৃষিবিদ, কৃষি বিশেষজ্ঞ-কৃষি বিজ্ঞানীদের সচিত্র লেখা কৃষিকথাকে আরও প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ করবে।
* নামিদামি লেখক বা কবিদের যথাযথ সম্মানীত দেয়া দরকার। বর্তমান সর্বোচ্চ সম্মানী  ১ হাজার টাকা থেকে অন্তত ২ হাজারে উন্নীত করার প্রয়াস চালানো জরুরি।

 

সময়মতো কৃষিকথা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা
কৃষিকথা পাই না- গ্রাহক যেন এ কথা বলতে না পারে। কৃষির প্রতিটি মাঠ কর্মকা- সময়ের ছকে বাঁধা। সময়মতো গ্রাহক কৃষিকথা না পেলে পরে আর কোনো কাজে আসে না। পরবর্তী এক বছরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তাই যে মাসের কৃষিকথা তা মাস শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগেই অভিযোগ বিহীনভাবে গ্রাহকের হাতে পৌঁছাতে হবে।


গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি করা
বাংলাদেশে মোট গ্রামের সংখ্যা ৮৭,২২৩টি। প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি সমিতি বা ক্লাবে কৃষিকথা পৌঁছাতে হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সৌজন্য সংখ্যা ছাড়াই অন্তত ১ লাখ গ্রাহক করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।


সবশেষে বলতে হয়, ঐতিহ্যবাহী কৃষিকথাকে এমন আকর্ষণীয় জ্ঞানের ভাণ্ডার হিসেবে প্রকাশ করতে হবে এবং ওয়েবসাইটে ও গণমাধ্যমে প্রচারণা করতে হবে যাতে কৃষক ভাইয়েরা নিজেরাই কৃষিকথা খুঁজে বের করেন। আর পাগলপারা হয়ে  কৃষিকথার গ্রাহক হন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে অবদান রাখেন। কৃষি তথ্য সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা নিবেদিত প্রাণ নিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে কৃষিকথা পৌঁছে দিয়ে এটিকে শতাব্দীর গৌরবময় পত্রিকায় সমাসীন করবেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সবার সম্মিলিত প্রয়াসে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সুখীসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠুক- এটাই একান্ত কামনা।

 

লেখক:

মু. ফজলুল হক রিকাবদার*
* সাবেক পরিচালক, কৃষি তথ্য সার্ভিস ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর


Share with :

Facebook Facebook