কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

কৃষি ও কৃষিকথার জন্য শুভাশিস

সুপেয় পানি  আর সুফলা মাটির আকর্ষণে যাপিত যাযাবর জীবন সঙ্গে করে বসতি স্থাপন করে মানুষ। সূচনা করে কৃষি, আর তাই কৃষি আদৃত হয় সব কৃষ্টি আর সভ্যতার জননীরূপে। মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপন করতে পারলেও তৈরি করতে পারবে না একটি শস্যদানা বা এক ফোঁটা দুধ, দুগ্ধপোষ্য শিশুর জন্য। আদি থেকে অনন্তকাল অবধি প্রকৃতির কাছে করজোড়ে উদ্বাহু হয়ে প্রার্থনা করতে হবে ফল-ফসলের জন্য। প্রকৃতিও একদিনে ধরিত্রীকে পুষ্পপল্লবকুঞ্জে ভরপুর করেনি। আজকের কৃষির অর্জন যুগ যুগান্তরের ঘাত-প্রতিঘাত, ভাঙ্গা-গড়া জোয়ার-ভাটার অবধারিত ফল-ফসল। প্রকৃতির বিরূপতার চেয়েও কর্মজীবী জনগোষ্ঠীকে অধিক আহত করেছে রাজা আর রাজনৈতিক উত্থান-পতন।


ফিরে দেখা : প্রাচীন বাংলার সম্রাট অশোক থেকে হর্ষবর্ধন এমনকি পাল ও সেন শাসনামলে কৃষি, কুটির শিল্প, স্বর্ণ রৌপ্যের গয়না, মসলিন ও বাণিজ্যে উন্নত ছিল। চার হাজার বছর পূর্বেও ঢাকার মসলিন দ্বারা মিসরের মমি আবৃত হতো। প্রধান খাদ্য শস্য ধান ছাড়াও গুড়, চিনি, তুলা, সরিষা, আম, কাঁঠাল, ডালিম, নারিকেল, কলা ইত্যাদির প্রাচুর্য ছিল। মধ্যযুগে মুসলিম শাসন, সুলতান ও নবাবি আমলেও দুঃসময়ে খাজনা মওকুফ, কৃষি ঋণ, খাল খনন, ধর্মগোলায় খাদ্য সংরক্ষণ করে দুর্ভিক্ষের সময় বিতরণের মতো রাষ্ট্রীয় অনুকূল্য, সুশাসন ও কৃষিবান্ধব নীতির ফলে রেশমি বস্ত্র, স্বর্ণ-রৌপ্য বাণিজ্য সর্বোপরি কৃষি পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে সত্যিকার সোনার বাংলায় পরিণত হয়েছিল (নওয়াজ, আ: ১৯৮৯)। কৃষকের ‘গোলা ভরা ধান গোয়াল ভরা গরু পুকুর ভরা মাছ’ সমকালীন সময়ের বাস্তবতার প্রতিধ্বনি। দুর্ভাগ্যক্রমে ইংরেজ শাসন আমলের দীর্ঘসময় ধরে দুঃশাসন, শোষণ, নির্যাতন, অবাধে সম্পদ পাচারের ফলে নেমে আসে বার বার দুর্ভিক্ষ। কৃষক ও কুটির শিল্প সমূলে ধ্বংস হয়ে যায়। কৃষককূল পরিণত হয় ‘চলমান নরকঙ্কালে’। পাকিস্তান আমলেও চরম অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে কৃষির ন্যূনতম উন্নতি হয়নি।


অর্জন : স্বোপার্জিত স্বাধীনতা পরবর্তী চার দশকে কৃষির অর্জন গৌরবের তবে আত্মতৃপ্তির নয়। দেশ খাদ্যে স্বনির্ভরতার দ্বারপ্রান্তে। দানা শস্যের উৎপাদন বেড়েছে চার গুণ, সেচায়িত হচ্ছে ৬০% জমি। বিগত দুই দশকে সারের ব্যবহার বেড়েছে দ্বিগুণেরও অধিক। এ মাটির নিবেদিত প্রাণ বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছেন বৈরী জলবায়ুসহিষ্ণুসহ ৬০টিরও অধিক ধান জাত, ১৩৪টি ফল, ৭৬টি সবজি, ১৩টি মসলাসহ বিভিন্ন প্রাণী সম্পদের প্রায় চার শতাধিক জাত। পাটের জিনোমসিকোয়েন্স নির্ণয় যুগান্তকারী প্রাপ্তি। জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বল্প সময়ে অধিক চারা উৎপাদন ও বাণিজ্যিক ব্যবহার।  প্রান্তিক কৃষিকে প্রাণান্ত প্রচেষ্টায় বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় অর্জিত সাফল্যের দাবিদার সংশ্লি­ষ্ট নিবেদিত জনগোষ্ঠী। গ্রিন সুপার রাইসকে স্বাগত জানাতে তৈরি রয়েছি আমরা। ১৯৫২ সনে প্রণীত আইনে কৃষি ছাড়া অন্য কোনো কাজে কৃষি জমি ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হলেও তার বাস্তবায়ন আজ আকাশ কুসুম কল্পনা। নদী, বন, জলা, আবাদি জমি দখল কৃষিকে ঠেলে দিচ্ছে প্রান্তিকে প্রতিদিন বেদখল হচ্ছে ২২০ হেক্টর আবাদি জমি বছরে কমছে ১% হারে। Hybrid এর মালিকানা Unstable Hybrid এর বদলে Perpetual Hybrid  বীজ উৎপন্ন করতে হবে যেন বার বার সংকর বীজ না কিনতে হয়। কৃষি তথ্য সার্ভিসের মাধ্যমে কৃষিকথা, সম্প্রসারণ বার্তা, কৃষি ডাইরি, ফোল্ডার, পোস্টার ছাড়াও রেডিও সম্প্রচার, টেলিভিশনে সম্প্রচার, মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার, ই-কৃষি, ই-গভর্নেন্স, ই-কমার্সের মাধ্যমে সচেতনতা, দক্ষতা বৃদ্ধির অব্যাহত প্রয়াস প্রশংসনীয়। ডিজিটাল এক্সটেনশন কর্মসূচির আওতায় ই-কৃষি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে।


প্রতি কৃষি অঞ্চলে কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষিসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ও সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আগামী ৫ বছরে প্রতিটি গ্রামে এই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। উৎপাদন, বিতরণ, ব্যবহার, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ এর মতো সম্ভাবনাময় প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়িই হবে স্বয়ংসম্পূর্ণ, হবে বসতবাড়ির বাগান স্বনির্ভরতার সোপান। কৃষি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গবেষণা ও সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের ফলাফল-প্রযুক্তি সংবলিত ওয়েবসাইট বিশেষভাবে কৃষি তথ্য সার্ভিসের হাল নাগাদকৃত ওয়েবসাইট, প্রযুক্তি, প্রয়োগ সংক্রান্ত, জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়াস কৃষকের হাতের মুঠোয়। যন্ত্রের যন্ত্রণা প্রশমন করে প্রযুক্তির যৌক্তিক অংশকে ধারণ করে রোটারি টিলার, বীজ বপন, চারা রোপণ, ইউরিয়া প্রয়োগ, ধান, গম কর্তন, মাড়াই যন্ত্র, সর্বক্ষেত্রে সঠিক ও দক্ষ প্রয়োগ কাজ সহজীকরণ, সময় সাশ্রয়, গুণগতমান বৃদ্ধি, সর্বোপরি শিক্ষিত যুবকদের আকর্ষণ করেছে। ‘চাষা ভুসার পেশা নয়’ শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর গর্বিত পেশার রূপ লাভ করেছে কৃষি।


অন্তরায় : জ্ঞানেই শক্তি-যুক্তিতেই মুক্তি। দুর্ভাগ্য মাঠে কর্মরত কৃষকের ৮৫% এর শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণির নিচে, ১০% দশম শ্রেণিরও কম।  দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি, প্রতি বছর যোগ হচ্ছে ২০ লাখ। হতদরিদ্র চরম দরিদ্র প্রায় ৪ কোটি লোক গতিময় কোনো আর্থিক কর্মকাণ্ডে শামিল হতে পারছে না ফলে তাদের আয়ের ৮৭% ব্যয় হয় শুধুমাত্র খাদ্য ক্রয়ে। কৃষি জমি প্রতি বছর ১ লাখ হেক্টর হ্রাস পাচ্ছে। আবাদি জমি জৈব পদার্থ ১% এর চেয়েও কম, এমন বিপরীতমুখী অবস্থানের সঙ্গে বিষফোড়া হয়ে দেখা দিয়েছে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান শিকার বাংলাদেশ। তবু ২০২০ সালে মধ্যে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে ৪ কোটি টনেরও অধিক। সবজি, ফল, মাছ, মাংস, ডাল, তেলের উৎপাদন বাড়াতে হবে ২-৩ গুণ, সবচেয়ে দুর্দমনীয় আকার ধারণ করেছে কৃষি জমি, নদী, খাল-বিল, পাহাড় ও বনভূক মানুষ নামের দানবের তা-ব, এদের থাবার বাইরে কি ফসলি জমি আদৌ কৃষকের হাতে থাকবে? ‘বাংলাদেশে দেবী লক্ষ্মী নন্দী ভৃঙ্গীদের কব্জায়, দেবী সরস্বতি অধবোদনে চিন্তান্বিতা ‘(রহমান, হা-২০১০)’


করণীয় : পবিত্র কুরআন দৃষ্টান্ত, উদাহরণ, প্রতীক, উপমা, তুলনা ও রূপক হিসেবে ন্যূনতম ৬০টি সূরায় এবং ২৫০টিরও অধিক আয়াতে কৃষি ও এর বিভিন্ন শাখার উল্লেখ ও পুনরুল্লেখ করা হয়েছে মানুষের উপলব্ধি শাণিত করার প্রয়াসে এবং তদানুসারে অনুসন্ধান ও গবেষণা করে কৃষিকে অগ্রগতির চরম শিখরে উত্তীর্ণ করতে। আদি পিতা আদমকে (আ.) নাকি মাটি বার্ধক্যজনিত কারণে তার সন্তানদের খাদ্য জোগান দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছিল। তারপর পেরিয়েছে কত শত সহস্র যুগ। কিন্তু আমাদের মাতৃসম মাটির বার্ধক্যরোধে, ক্ষয়পূরণে, উৎপাদনক্ষম রাখতে ক্রমবর্ধমান অবহেলা, পীড়াদায়ক, আত্মঘাতী। ‘ফসলদানা কৃষকের আর বাকি অংশ মাটির পাওনা’ এ নীতির বাস্তবায়ন জরুরি।


বর্ধিত জনসংখ্যার ক্ষুণ্নিবৃত্তির তাগিদে সুস্পষ্ট রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার, লাগসই পরিকল্পনা, উৎকৃষিত প্রযুক্তি প্রয়োগে নিবেদিত কর্মী বাহিনী নিরবচ্ছিন্ন তদারকি ও সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে বর্ণিত কর্মকা- সম্পাদন অত্যাবশ্যক। নিবেদিত প্রাণ বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণবিদ ছাড়াও আমাদের রয়েছে প্রত্যয়ী কৃষকের বলিষ্ঠ হাত। পরিকল্পিত জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কৌশল, অকৃষি কাজে ফসলি জমি ব্যবহার রোধ, ভূমিহীনদের মাঝে খাস জমি জলা বরাদ্দ, ক্ষুদ্র বর্গাচাষিদের উপকরণ ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করা, দক্ষ বাজারব্যবস্থা, সমর্থন মূল্য নিশ্চিত করা, পরিকল্পিত শিল্প স্থাপন নগরায়ণ, অবাধ তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, মহার্ঘ পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার, অভ্যন্তরীণ জলাধার নির্মাণ, শস্য, প্রাণী উৎপাদনে রাসায়নিকের ব্যবহার সীমিতকরণ, শস্যবীমা, কৃষকের স্বাস্থ্য বীমা, নিরন্তর গবেষণা, উপকারভোগীদের গবেষণায় সম্পৃক্তকরণ, ঘাতসহিষ্ণুশস্য প্রাণিজাত উদ্ভাবন, জৈব প্রযুক্তি উদ্ভাবিত শস্যের প্রসার ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি তথা নিরাপত্তার সহায়ক হবে। আগামীর কৃষি হবে ‘বীজ বপন, কালক্ষেপণ, সৌরশক্তি আহরণ, যার সম্ভাবনা অফুরন্ত। পৃথিবী পৃষ্ঠে পতিত সূর্য শক্তির এক ভাগেরও কম সবুজ বৃক্ষলতা কর্তৃক আহরিত হয়। সি-৪ জাতীয় শস্যের আধিক্য, খাড়া পুরু পাতাযুক্ত শস্যজাত উদ্ভাবন, বহুস্তর বিশিষ্ট ফলবাগান, সাথী ফসল, আন্তঃফসল, রিলে ফসলের মাধ্যমে মাঠ ফসলে অধিক হারে সৌরশক্তি ব্যবহারের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। সেই সঙ্গে সম্ভাব্য সব স্থানে ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণ করে সবুজের সমারোহে ভরিয়ে দিতে হবে। দেশের সব নাগরিকের খাদ্য উৎপাদনে মৌলিক ধারণা থাকা অপরিহার্য, তাই নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রমে কৃষি বিজ্ঞান আবশ্যিক বিষয়রূপে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্বল্প পরিমাণ জমিতে স্থাপনযোগ্য বিধায় ছোট আকারে গো-খামার, মুরগি খামারের মাধ্যমে প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধির অমিত সম্ভাবনাকে বাস্তবায়ন করতে হবে। অভ্যন্তরীণ জলাশয়, নদী, সমুদ্র এলাকায় পরিকল্পিত মৎস্য চাষের সুযোগ নিতে হবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আলোকে। স্বোপার্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে মৌলিক চাহিদার সর্বাগ্রগণ্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্রতী হতে হবে।   


কৃষিকথা : ‘চাষের কথা-চাষির কথা/ পাবেন পড়লে কৃষি কথা’ এ স্লোগানটিই অতি সহজ সাবলীল ভাষায় কৃষিকথার স্বকীয় পরিচয়ে পাঠকের নিকট আদৃত। সে আজকের অবস্থানে এসেছে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে। তার চলার দীর্ঘপথ পরিক্রমা কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। কৃষি কথা আমার চেয়ে ৫ বছরের জ্যেষ্ঠ। তার মূল্যায়নের গুরুভার নেয়ার যোগ্যতার ঘাটতি অকপটে স্বীকার করে বলছি এটা আমার জন্য সমীচীনও নয়। কৃষকের, কৃষিকর্মীর, উৎসাহী পাঠকের, শিক্ষার্থীর সমসাময়িক লাগসই প্রযুক্তির অকপট উপস্থাপনের মাধ্যমে কৃষকের সচেতনতা বৃদ্ধিতে যে অনন্য অবদান রেখে চলেছে তার দৃষ্টান্ত নজিরবিহীন। শুরুতে শুধুমাত্র ফসলের উৎপাদন, পরিচর্যার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও কালক্রমে বিভিন্ন শাখার লেখা অন্তর্ভুক্ত করে এর বলয় বহুধা বিস্তৃতি লাভ করেছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের চিহ্নিত সমস্যার আলোকে সহজ সরল বাংলার সমধানের নির্দেশনা দিয়েছে। একই সঙ্গে গল্প কবিতা প্রবন্ধ অনুসন্ধিৎসু পাঠক/গবেষকদের জন্য চিন্তার খোরাক যুগিয়েছে। এ সম্পর্কে শ্রদ্ধেয় ড. কামাল উদ্দীন আহমদের উপলব্ধি প্রণিধানযোগ্য। ‘মাসিক কৃষিকথা অবশ্যই একটি উচ্চমানের সাময়িকী যার প্রধান অংশজুড়ে থাকে কৃষি সম্পর্কিত নানাবিধ টেকনিক্যাল বিষয়বস্তু, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ও তথ্য। এতে কোনো প্রবন্ধ পাঠাতে হলে সেটা যেন তেন প্রকারে লিখে দিলেই হয় না। তা যেন হয় লেখকের যথাসম্ভব পড়া, শোনা ও অভিজ্ঞতা প্রস্তুত; তা যেন হয় পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য, ব্যবহার উপযোগী, তা যেন বেশ কিছু পাঠকের সত্যিকার জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।’ বিদ্রোহী কবির ‘গাহি তাদের গান, ধরনীর হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান’ সুগভীর অনুভূতি থেকে উৎসারিত পঙ্ক্তির যথার্থ অনুধাবন করে হৃদয়ঙ্গম করে কৃষিকথার মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশের যে ব্রত পালন করে যাচ্ছে, কৃষকের মলিন মুখে হাসি ফোটাবার যে নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে তা যেন উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি হয়, হয় দীর্ঘায়ু এই হোক কামনা। কবিগুরু ‘আমাদের জমির উপর জ্ঞানের আলো ফেলিবার সময় আসিয়াছে’ বলে যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারই অনুসরণে জ্ঞানের আলো অবহেলিত জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দেয়ার ‘কৃষিকথার’ উদ্যোগ প্রশংসিত ও বিকশিত। স্ব-স্ব অবস্থান থেকে একাত্ম হয়ে সভ্যতার কারিগর অন্নদাতা দধীচি কর্ষণজীবী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সমতলে দাঁড়িয়ে সমস্বরে উচ্চারণ করি ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদের লোক।’


অন্তঃকথন : সময় এসেছে ৭০ শতাংশ ভূমিহীন ও প্রান্তিক চাষির সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা বিবেচনায় গৃহীত কর্মসূচি আন্তরিকতা, সক্ষমতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অন্যথায় কষ্টার্জিত স্বোপার্জিত, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব হবে প্রহসন, অর্থহীন, অন্তঃসার শূন্য। অস্তিত্বের তাগিদে পূর্বসূরি কিষাণের কথা স্মরণ করে সমস্বরে সশ্রদ্ধচিত্তে উচ্চারণ করতে হবে, ‘আমার ধমনীতে কৃষাণের রক্ত, বন্যা খরা অথবা শৈত্যপ্রবাহে পরাভব মানে না। .... এগিয়ে যায় উন্নতশীরে জলন্ত চোখে বজ্রমুষ্ঠীতে অস্ত্র হাতে সিংহ গর্জনে।’

 

লেখক:

মো. ওসমান গণী*

* বিভাগীয় প্রধান (অব.), প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বিভাগ, বিএসআরআই, ঈশ্বরদী, পাবনা। লাবণী, ৬-এস,এ/১, লেকসিটি কনকর্ড, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯। মোবাইল : ০১৭১৮-৮২২২৫৫


Share with :

Facebook Facebook