কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

কবিতা (পৌষ ১৪২২)

পেঁপের কথা
কৃষিবিদ আহমেদ হাছিব মোল্লা*
প্রতিদিন একটি করে পেঁপে খাও
বাড়ির বাইরে বদ্দি তাড়াও,
কারিকা পাপায়া পেঁপের নাম
পুষ্টিগুণে পেঁপে ভালো অনেক তার দাম।
পেঁপে ফলের ক্যারোটিন আর সি ভিটামিন
রোগ নিরাময় পেঁপে খেলে প্রতিদিন,
চমৎকার পেঁপে ফল ঔষধিগুণে
উপকার মেলে কাঁচা পেঁপের পেপেইনে।
পেঁপে ফলে নিরাময় ডিপথেরিয়া ত্বকে যা
আরও সারে আলসার এবং একজিমা,
কিডনি ক্যান্সার অজীর্ণ রোগ
পেঁপে খেয়ে কমাও ভোগ।
অনেক রোগে পেঁপের আঠা দরকারি
প্লীহা যকৃতি রোগে পেঁপে বেশ উপকারী,
পেঁপের বিচি ধনন্তরী সব কবিরাজ কয়
বিচির গুঁড়োয় ক্রিমি মরে নাহি কোন ভয়।
বাড়ির পানে পেঁপে গাছ যদি দুটি থাকে
কাঁচা পাকা পেড়ে খেলে শরীর ভালো রাখে,
পাকা পাকা পেঁপে ফল এ ভিটামিনের রাজা
শিশুর জন্য দারুণ ভালো নিত্য খাবে তাজা।
পেঁপের চারা জোগাড় কর নার্সারিতে যেয়ে
শরীর সুস্থ টনটনেভাব পাকা পেঁপে খেয়ে,
পেঁপে ফল অনেক বল জেনে রাখ ভাই
আজই কিন্তু পাঁচটি চারা রোপণ কর তাই।

 

মৌসুম যখন শান্ত
মো. জুন্নুন আলী প্রামানিক**
মৌসুম যখন সহজ সরল শান্ত মেজাজে থাকে,
আকাশে বাতাসে জমিনে তখন মিষ্টি পাখিরা ডাকে।
বিচিত্র ফসলে মাঠের বুকটি শক্তি সান্তনা পায়,
কৃষাণ কৃষাণী সার্থক শ্রমের প্রাপ্তি দু’হাতে লয়,
সময় মতন বৃষ্টির জোগানে জমি সজাগ হয়,
সমস্যা থাকে না চাহিদা পূরণে সব ফসলে জয়।
শীতল বাতাস সোহাগে উড়িয়ে দিকবেদিক ছোটে,
সবুজ হাসির শখের আবাদ পূর্ণ সকল মাঠে।
বোরোর বিচিত্র কোমল চারারা দৃষ্টি ফুটিয়ে হাসে,  
যতেœর যথেষ্ট প্রয়োগে কৃষক লিপ্ত ফসল চাষে।
সুযোগ সুবিধা এগিয়ে চলার পথ ধরিয়ে আসে,
ফলন অধিক নিয়ম মানায় কৃষি বারোটি মাসে।
চাঁদনী আকাশ রাতের বেলায় জ্বলে আলোর মতো,
স্বচ্ছতা প্রকাশে সুনীল শূন্যের রূপ লহরী শত।
তারকাগুলোর ছড়ানো আলোক রশ্মি মাটিতে পড়ে,
অনন্ত অসীম সীমানা তখন দৃষ্টি সীমার ধারে।
স্বাগত জানার ঘাটতি থাকে না চাষি নিমগ্ন ক্ষেতে,
ঔষধ সারের অভাব হয় না সুষ্ঠু উপায়ে দিতে।
অনেক প্রকার সবজি জমিতে নিজ গতিতে বাড়ে,
দায়িত্বে বিশুদ্ধ রাখলে সেসব পুষ্টি জোগায় জোরে।
স্নেহের বাতাস পানির আদরে নিত্য চলার পালা,
উঠানে উঠানে ফসল আসর শস্য এখন মেলা।
বন্যার কবলে খরার প্রকোপে বাধা বিপত্তি হলে,
উপায় পাওয়ার অনেক সুযোগ আছে অফিস গেলে।
সহায় জোগাড় মৌসুমি বায়ুর সেবা যখন ভালো,
উন্নত জাতের ফসল তখন ছড়ে সোনালি আলো।

 

আমি কৃষকের সন্তান
এস এম মোশরাফুজ্জামান মুকুল***
আমি কৃষকের সন্তান-
এ কথা বলতে নেই এতটুকু অভিমান।
সবুজ ঘেরা বাংলাদেশের
কৃষিই হলো প্রাণ।
আমি কৃষকের সন্তান।
আমি গ্রাম বাংলাকে সাজাতে চাই -
সবুজ ঘেরা স্বপ্ন দিয়ে,
ফুল ও ফসলের হাসি দিয়ে,
যে হাসিতে হাসবে আমার মা
যে হাসিতে হাসবে আমার মাতৃভূমি।
আর আমি সভ্যতার শেকড় খুঁজতে গিয়ে
থেকে গিয়েছি কৃষিতে।
আমি জীবিকার প্রয়োজনে
নিজেকে সমর্পণ করেছি মাটির কাছে।
আমি কৃষকের সন্তান -
একথা বলতে নেই এতটুকুও অভিমান।
আমার বাংলার মাঠে বসে
রকমারী সোনালি ধানের মেলা,
খাল বিল নদী জলাশয়ে
রূপালি মাছের খেলা।
কাস্তে হাতে মাথাল মাথায় গামছা কাঁধে
বাঁশের বাঁশিতে বেলা শেষে তুলি সুর
এ যে কি আনন্দ লিখি ছন্দ,
মন হয়ে যায় ভরপুর।

* অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক, ডিএই, শাহিনা মনজিল, বাড়ি নং-৪০, রোড নং-৭, মুজগুন্নী আ/এ, বয়রা, খালিশপুর, খুলনা।
** গ্রাম-বিদ্যাবাগিশ, ডাকঘর ও উপজেলা-ফুলবাড়ী, জেলা-কুড়িগ্রাম। ***রেডিও সুন্দরবন ৯৮.৮, কয়রা, খুলনা।

 


Share with :

Facebook Facebook