কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

প্রশ্নোত্তর-১৪২২

মো. তারেক
আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা
প্রশ্ন : কাঁঠালের মুচি পচে ঝরে যাচ্ছে। করণীয় কী?
উত্তর : কাঁঠাল পচা রোগের আক্রমণে কচি ফলের গায়ে বাদামি রঙের দাগ দেখা যায়। ফলে আক্রান্ত ফল গাছ থেকে ঝড়ে পড়ে যায়। প্রতিকার হিসেবে গাছের নিচে ঝরে পড়া পাতা ও ফল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। মুচিতে ১% বর্দোমিকচার  বা ২ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ বা রিডোমিল এম জেড প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১২ থেকে ১৫ দিন পর পর ২ থেকে ৩ বার স্প্রে করতে হবে।


আলাউদ্দিন
পীরগঞ্জ, রংপুর
প্রশ্ন : তরমুজ গাছের গোড়া পচে গাছ মারা যাচ্ছে। প্রতিকার কী?
উত্তর : ছত্রাকের আক্রমণে তরমুজ গাছের গোড়া পচে যায়।
প্রতিকার : ১. ক্ষেত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
২. রোগাক্রান্ত পরিত্যক্ত অংশ সংগ্রহ করে নষ্ট বা পুড়ে ফেলা।
৩. বীজ বপনের আগে প্রোভেক্স ২.৫ গ্রাম বা ব্যাভিস্টিন ২ গ্রাম দ্বারা প্রতি কেজি বীজ শোধন করা।
৪. রোগের আক্রমণ দেখা দিলে কুপ্রাভিট ৪ গ্রাম ডাইথেন-এম ৪৫ ২.৫ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।

 

নজরুল ইসলাম
সাপাহার, নওগাঁ
প্রশ্ন : চীনাবাদামের পাতার ওপর হলদে রঙের গোলাকার দাম পড়ে এবং ধীরে ধীরে পাতা ঝরে যায়। উপায় কী?
উত্তর : এক ধরনের ছত্রাকের আক্রমণে বাদামের পাতার ওপর হলদে রেখা বেষ্টিত বাদামী রঙের দাগ পড়ে। একে পাতার দাগ বা টিক্কা রোগ বলা হয়।
প্রতিকার : ১. আক্রান্ত গাছের পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
২. ফসল কাটার পর আগাছা পুড়িয়ে ফেলা।
৩. রোগ সহনশীল জাতের চাষ করা।
৪. রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম ব্যাভিস্টিন/নোইন বা ২ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ মিশিয়ে ১২ থেকে ১৫ দিন পর ২ থেকে ৩ বার স্প্রে করা।

 

জোবায়ের উদ্দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রশ্ন : ধান গাছের পাতায় ছোট ছোট চোখের মতো ফোসকা পড়া দাগ দেখা যায় ও পরে পাতা আগা থেকে শুকিয়ে আসে। করণীয় কী?
উত্তর : এটা ধানের ব্লাস্ট রোগ এর লক্ষণ। এ রোগ ধান গাছের তিনটি অংশে আক্রমণ করে যথা-পাতা, কা- ও শিষে।
প্রতিকার : ১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন জাত ব্যবহার করা। যথা- বি আর ১৫, ১৬, ২৩, ২৫ ও ব্রি ধান ২৮, ৩৩।
২. বীজতলা বা জমিতে পানি ধরে রাখা।
৩. সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করা। আক্রান্ত জমিতে ইউরিয়া সারের উপরি প্রয়োগ বন্ধ রাখা।
৪. রোগমুক্ত জমি থেকে বীজ সংগ্রহ করা।
৫. রোগ দেখা দিলে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা। যথা- প্রতি হেক্টরে ৪০০ গ্রাম ট্রুপার, জিল বা নেটিভো ১০ থেকে ১৫ দিনের ব্যবধানে দুইবার প্রয়োগ করা।

 

মো. মনিরুজ্জামান
সাঁথিয়া, পাবনা
প্রশ্ন : পুঁইশাকের পাতায় বাদামি বা লালচে রঙের ছোট ছোট দাগ দেখা যায়। কী করতে হবে?
উত্তর : আপনার পুঁইশাকের সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে হলে যা করতে হবে তাহলো-
● আক্রান্ত পাতাগুলো তুলে নষ্ট বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
● রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন জাতের চাষ করা।
● সুষম সার ব্যবহার ও পরিমিত সেচ প্রদান করা।
● রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে কার্বন ডাজিম (ব্যাভিস্টিন বা নোইন) ১ গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

 

মো. রাজীব
যশোর
প্রশ্ন : ঘেরের প্রস্তুতপ্রণালি সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : ঘের শুকিয়ে তলদেশের পচা কাদা অপসারণ এবং তলদেশ সমান করতে হবে। পাড় উঁচু করে বাঁধতে হবে। সূর্যকে বাধাগ্রস্ত করে এমন ডালপালা রাখা যাবে না। ঘেরের পাড়সহ তলায় চুন ভালোভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে প্রতি শতকে ১ কেজি হারে। ঘেরের তলদেশ চাষ দিয়ে আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। ছোট মেসসাইজের নাইলন জাল দিয়ে ঘেরের চারপাশে বেড়া (৩ ফুট উঁচু) দিতে হবে। পানি প্রবেশ পথ ও জরুরি পানি নির্গমন পথ করতে হবে এবং তাতে স্ক্রিন বা বানা (বাঁশের পাটা ও নাইলনের জাল দিয়ে তৈরি) দিতে হবে। চুন প্রয়োগের ৫ থেকে ৭ দিন পরে প্রয়োজনমতো পানি প্রবেশ করিয়ে ইউরিয়া ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম/শতক, টিএসপি ৭৫ থেকে ১০০ গ্রাম/শতক হারে প্রয়োগ করতে হবে। এরপর ব্লিচিং পাউডার সব ঘেরে ছিটিয়ে দিয়ে পানি জীবাণুমুক্ত করতে হবে। অনেক সময় ঘেরের এককোণায় বাঁশের ফ্রেমের সাথে একটি নার্সারি তৈরি করতে বলা হয়। হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা বা গোবর ব্যবহার করা যাবে না।


মো. জামাল হোসেন
নোয়াখালী
প্রশ্ন : পুকুরে রেণু ছেড়ে পোনা মাছের চাষ কীভাবে করব?
উত্তর : রেণু পোনা চাষের জন্য তুলনামূলক ছোট পুকুর শনাক্ত করতে হবে। ১০ থেকে ২০ শতকের সাইজের ৪ থেকে ৫ টি পুকুর করতে হবে। পুকুর উত্তমরূপে প্রস্তুত করে নিতে হবে। পুকুর ভালোভাবে পরিষ্কার করে এবং সম্ভব হলে পুকুর শুকিয়ে ফেলে প্রতি শতকে ১ কেজি চুন দিতে হবে। এরপর নতুন পানি দিতে হবে। রেণু ছাড়ার আসে কীটনাশক দিয়ে পুকুরের পানিতে বিভিন্ন রকম পোকামাকড় ও ব্যাঙাচি থাকলে মেরে ফেলতে হবে। প্রতি শতকে ২০ থেকে ৩০ গ্রাম হারে রেণু পোনা ছাড়তে হবে। নিয়মিত সুষম খাবার দিতে হবে।

 

সোহেল রানা
শেরপুর
প্রশ্ন : পুকুরে রেণু পোনা চাষের সমস্যাগুলো কী কি? তাদের প্রতিকার কী?
উত্তর : নার্সারি পুকুরে সার প্রয়োগের পর সাধারণত হাঁসপোকা, ব্যাঙাচি ও অন্যান্য প্রাণী জন্ম নেয়। এরা মাছের রেণু খেয়ে ফেলে। অনেক সময় পুকুরে গ্যাস সৃষ্টি হয়ে এবং বিভিন্ন রোগ জীবাণুর আক্রমণে রেণু মারা যেতে পারে।
এক বিঘা জমির পুকুরের জন্য সুমিথিয়ন ৫০ মিলি. বা ডিপটেরাস ১ কেজি পানিতে মিশ্রিত করে সব পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। পরিমাণমতো ডিজেল রেণু ছাড়ার আসে পুকুরে প্রয়োগ করলে হাঁসপোকা দমন করা যায়।

 

হোসেন মাহমুদ
দিনাজপুর
প্রশ্ন : গরুর গা খসখসে এবং ঘা হচ্ছে। কী করণীয়?
উত্তর : ইনজেকশন ভারমিক
(Vermic) প্রতি ২৫ কেজি গরুর দেহের ওজনের জন্য ১ সিসি. ১ বার চামড়ার নিচে পুশ করতে হবে। যদি বেশি হয় তাহলে ৭ দিন পর বুস্টার ডোজ আরও ১ বার দিতে হবে।
-ইনজেকশন অ্যাসটাভেট
(Astavet) ১০০ কেজি গরুর দেহের ওজনের জন্য ৫ সিসি. করে দৈনিক ১ বার ৩ থেকে ৫ দিন মাংসে পুশ করতে হবে।
-ইনজেকশন অ্যামক্সিভেট
(Amoxcyvet) ১ ভায়েল করে রোজ ১ বার ৩ দিন মাংসে পুশ করতে হবে।

আমানুল্লাহ
চট্টগ্রাম
প্রশ্ন : কবুতর ঝিমোচ্ছে, ঘুরে ঘুরে পড়ে যাচ্ছে, করণীয় কী?
উত্তর : ট্যাব. রেনামাইসিন ৫০০ মিলিগ্রাম
(Tab. Renamycin 500 mg.) অর্ধেক ট্যাবলেট গুঁড়া করে আধা লিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে অসুস্থগুলোকে আলাদা করে খেতে দিতে হবে। বাকি দ্রবণ সুস্থগুলোকে খাওয়াতে হবে।
ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ২ থেকে ৩ ফোঁটা খাওয়ার পানির সঙ্গে মিশিয়ে ৫ থেকে ৭ দিন খাওয়াতে হবে।

সাগর
ঠাকুরগাঁও
প্রশ্ন : গরুর খাদ্য হিসেবে ইউ.এম.এস-এর অনুপাত কত?
উত্তর : খড় ৫ কেজি
মোলাসেস ১০৫ থেকে ১২০ গ্রাম
ইউরিয়া ১৫ গ্রাম
পানি ২.৫ থেকে ৩.৫ লিটার ভালোভাবে মিশিয়ে গরুকে খাওয়াতে হবে। অনুপাতের কম বেশি করা যাবে না।

 

সোহাগ
নওগাঁ
প্রশ্ন : বাছুরকে কত মাসে টিকা দিতে হয়?
উত্তর : বাছুরের বয়স অনুযায়ী যেসব টিকা দিতে হয় তাহলো-
৪৫ দিন                 ক্ষরারোগ
৪ মাস                  ক্ষুরারোগ
৬ মাস                  বাদলা
৬ মাস ২১ দিন        তড়কা
৭ মাস ১৪ দিন        গলাফুলা
৮ মাস ৭ দিন         প্লেগ
১০ মাস                ক্ষুরা রোগ।

কৃষিবিদ মোহাম্মদ মারুফ*

* কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫

 


Share with :

Facebook Facebook