কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

সম্পাদকীয় (চৈত্র ১৪২২)

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এ দেশ ঋতু বৈচিত্র্যের দেশ। এক সময় শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন ফসলের সমারোহ শুধু ওই সব ঋতুতেই দেখা যেত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে এখন সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করা হয়। আইপিসিসির ৪র্থ সমীক্ষায় দেখা যায়, গত শতাব্দীতে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে ০.৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ শতাব্দীর শেষ নাগাদ ২.৫ ডিগ্রি থেকে ৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা আছে।  বাংলাদেশের গড় বার্ষিক তাপমাত্রা গত ১৪ বছরে (১৯৮৫-১৯৯৮) মে মাসে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং নভেম্বর মাসে ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে মাটির উর্বরতা ও উৎপাদনশীলতায় যে প্রভাব পড়বে সে বিষয়ে আমাদের চিন্তা-ভাবনার সময় এখনই। কারণ ২০৫০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা যদি আরও ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে তাহলে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে মৃত্তিকা ইকোসিস্টেম, জলজ ইকোসিস্টেম এবং বায়ুম-ল। শীতকালে তাপমাত্রা বাড়ার ফলে বোরো ধান, গম, আলু, শীতকালীন সবজি, আম, ফুল, ডাল ফসল, তেল ফসলসহ সব অপ্রধান ফসলের ফলন কমে যাবে। আবার বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে গেলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে আউশ ধান, আমন ধানসহ বর্ষাকালীন শাকসবজির উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। আকস্মিক বন্যায় বিঘিœত হবে হাওর এলাকার কৃষি। এটি মোটেই কাম্য নয়।
সুপ্রিয় পাঠক ও চাষি ভাইয়েরা, পরিবর্তিত জলবায়ু ও নানা রকম প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বর্তমানে দানাশস্যে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়েছি। আমাদের এ সক্ষমতা সময়ের সাথে তালমিলিয়ে আরো বাড়াতে হবে। কারণ খাদ্যশস্যের উৎপাদন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য বর্ধিত উৎপাদন প্রয়োজন। তবে একটি কথা আমাদের মনে রাখতে হবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য দানাশস্যের পাশাপাশি ডাল ফসল, তেল ফসল, শাকসবজি, ফলমূল এসবেরও উৎপাদন সমানতালে বাড়াতে হবে। উল্লেখ্য, এ বিষয়টি বিবেচনা করে কৃষি মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছে। আমরা আশা করি বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করেই দেশ এগিয়ে যাবে।


Share with :

Facebook Facebook