কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

গ্রামীণ দারিদ্র্য নিরসনে সমবায় আন্দোলন

বাংলাদেশের গ্রাম ও শহরে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাপনের যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। শহরের নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত জনগোষ্ঠী কিছু নাগরিক সুবিধা ভোগ করে, যা গ্রামের মানুষের পক্ষে সম্ভব হয় না। বিদ্যুৎ, পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার জন্য  গ্যাস, ক্যাবল টিভির সম্প্রচার, ইন্টারনেট ইত্যাদি প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত সেবার বেশির ভাগ থেকেই গ্রামের মানুষ বঞ্চিত থাকে। অন্যদিকে গ্রামের মানুষ সবুজ প্রকৃতি, বিশুদ্ধ বাতাস, উন্মুক্ত খেলার মাঠ, তাজা শাকসবজি এবং দূষণমুক্ত পরিবেশের সুবিধা পেলেও শহরে বসবাসকারী নাগরিকগোষ্ঠী তা থেকে বঞ্চিত হয়। জীবন যাপনের এই ব্যতিক্রমধর্মী বৈচিত্র্য থাকলেও বাংলাদেশের বেশিরভাগ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিত্যদিনের সঙ্গী হচ্ছে দারিদ্র্য। গ্রামের মানুষ নানামুখী দারিদ্র্যের সঙ্গে বসবাস করে। পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের দারিদ্র্য, শিক্ষার দারিদ্র্য, আবাসনের দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশগত দারিদ্র্য, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দারিদ্র্য, মানবাধিকার ও আয়  বৈষম্যজনিত দারিদ্র্যসহ নানামুখী প্রতিকূলতার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় গ্রামের মানুষকে।

নোবেল বিজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলার নগর ও গ্রামীণ জীবনকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সমবায় নীতি প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, ‘লোভের উত্তেজনা, শক্তি উপাসনা, যে অবস্থায় সমাজে কোন কারণে অসংযত হয়ে দেখা দেয় সে অবস্থায় মানুষ আপন সর্বাঙ্গীণ মনুষ্যত্ব সাধনার দিকে মন দিতে পারে না; সে প্রবল হতে চায়, পরিপূর্ণ হতে চায় না। এই রকম অবস্থাতেই নগরের আধিপত্য হয় অপরিমিত, আর গ্রামগুলি উপেক্ষিত হতে থাকে। তখন যত কিছু সুবিধা সুযোগ, যত-কিছু ভোগের আয়োজন, সমস্ত নগরেই পুঞ্জিত হয়। গ্রামগুলি দাসের মতো অন্ন জোগায় এবং তার পরিবর্তে কোন রকম জীবনধারণ করে মাত্র। তাতে সমাজের মধ্যে এমন একটা ভাগ হয় যাতে এক দিকে পড়ে তীব্র আলো, আর-এক দিকে গভীর অন্ধকার।’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একই প্রবন্ধে আরো উল্লেখ করেন যে, “নগরগুলি দেশের শক্তির ক্ষেত্র, গ্রামগুলি প্রাণের ক্ষেত্র। সামাজিকতা হল লোকালয়ের প্রাণ। এই সামাজিকতা কখনোই নগরে জমাট বাঁধতে পারে না। তার একটা কারণ এই যে, নগর আয়তনে  বড়ো হওয়াতে মানুষের সামাজিক সম্বন্ধ সেখানে স্বভাবতই আলগা হয়ে থাকে। আর-একটা কারণ এই যে, নগরে ব্যবসায় ও অন্যান্য বিশেষ প্রয়োজন ও সুযোগের অনুরোধে জনসংখ্যা অত্যন্ত মস্ত হয়ে উঠে। সেখানে মুখ্যত মানুষ নিজের আবশ্যককে চায়, পরস্পরকে চায় না। দেখতে দেখতে গত ৫০ বছরের মধ্যে নগর একান্ত নগর হয়ে উঠল, তার খিড়কির দরজা দিয়েও গ্রামের আনাগোনার পথ রইল না। একেই বলে ‘ঘর হইতে আঙিনা বিদেশ’; গ্রামগুলি শহরকে চারিদিকেই ঘিরে আছে, তবু শত যোজন দূরে।”

বাংলাদেশের চিরাচরিত গ্রামীণ সমাজ কাঠামোর একটি অন্যতম রূপ হচ্ছে সংঘবদ্ধ থাকা। পরিবার প্রথা ভিত্তিক গোষ্ঠীতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার মূল শক্তি হচ্ছে সম্মিলিত উদ্যোগ, সামাজিক বন্ধন এবং সমষ্টিগত উন্নয়ন। গ্রামীণ দারিদ্র্য দূরীকরণে সমবায় দর্শন বেশ টেকসই এবং কার্যকরী হাতিয়ার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও বিচ্ছিন্নভাবে সমবায় ব্যবস্থা প্রায় শতাধিক বছর যাবৎ গ্রামীণ দারিদ্র্য লাঘবে ইতিবাচক অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে তিন-স্তর বিশিষ্ট সমবায় বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে ভিন্ন ভিন্ন পেশার ভিত্তিতে সংঘবদ্ধ করে সমবায়ের মাধ্যমে এগিয়ে চলার পথ দেখায়। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষক সমবায়, জেলে সমবায়, তাঁতী সমবায়সহ নানা ধরনের পেশাভিত্তিক সমবায় সংগঠন গড়ে উঠে। এসব সমবায় সমিতির যেমন সাফল্য ছিল তেমনি নানামুখী দুর্বলতা/ব্যর্থতাও কম ছিল না। ষাটের দশকে তিন-স্তর বিশিষ্ট সমবায়ের পাশাপাশি দ্বিস্তর সমবায়ের যাত্রা শুরু হয়। মূলত আখতার হামিদ খান দ্বিস্তর বিশিষ্ট সমবায়ের প্রবর্তন করেন। এ ধরনের সমবায় মডেলের আওতায় গ্রাম পর্যায়ে প্রাথমিক কৃষক সমবায় সমিতিগুলোর সমন্বয়ে উপজেলা পর্যায়ের কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আশির দশকের শুরুর দিকে এ ধরনের দ্বিস্তর সমবায়ের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটলেও বিংশ শতকের শুরুর দিকে সমবায়ের এ ধারাটিও মুখ থুবড়ে পড়ে। ১৯০৪ সন থেকে শুরু হয়ে ২০০৪ সন পর্যন্ত সমবায় পদ্ধতির নানামুখী প্রয়োগ লক্ষ করা গেলেও কার্যত টেকসই সমবায় মডেল গড়ে উঠেনি। সমবায় সেক্টরে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হলেও জাতীয়ভাবে টেকসই গ্রাম উন্নয়নের কার্যকর পদ্ধতি লক্ষ করা যায়নি। অথচ বিশ্বব্যাপী সমবায় একটি স্বীকৃত উন্নয়ন কৌশল। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যাপক সফলতা অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সংবিধানের ১৩(খ) অনুচ্ছেদে সম্পদের মালিকানার অন্যতম খাত হিসেবে সমবায়কে স্বীকৃতি দেয়া হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধুমাত্র সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েই সমবায়কে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি গ্রাম উন্নয়নের লক্ষ্যে এবং শোষিত মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় সমতা ভিত্তিক উন্নয়ন দর্শনের আওতায় সমবায়কে অন্যতম কৌশলিক হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে গ্রাম উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে সমবায়কে বেছে নেয়া হয়। ১৯৭৩ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লায় সমবায় ভিত্তিক সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি শীর্ষক প্রায়োগিক গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়। বিভিন্ন পর্যায়ে এ গবেষণার সফল পরিসমাপ্তি শেষে ২০০৫ সনে যখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের কাছে জাতীয় ভিত্তিক প্রকল্প প্রণয়নের জন্য হস্তান্তর করা হয় তখন বাংলাদেশে সমবায়ের সাফল্য ব্যর্থতার ১০০ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এ রকম একটি সময়ে দেশের ২১টি উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে জাতীয়ভাবে সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়ে ২০০৯ সনে ২য় পর্যায়ে দেশের ৬৪টি জেলার ৬৬টি উপজেলায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ও কর্মকৌশলের মধ্যে রয়েছে-

 

উদ্দেশ্য
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিটি গ্রামের সব শ্রেণী ও পেশায় নিয়োজিত গ্রামবাসীদের গ্রামভিত্তিক একটি সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির আওতায় এনে স্বচেষ্টা ও আত্মনির্ভশীলতার ভিত্তিতে সব পরিবারের যুব-কিশোর, মহিলা ও পুরুষদের যোগ্যতা ও ঝোঁক অনুযায়ী পরিকল্পিতভাবে আয়-উপার্জন বৃদ্ধিকল্পে আত্মকর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন তথা দারিদ্র্য বিমোচন।
সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যগুলো হলো
১। প্রতিটি গ্রামে একটি সমন্বিত
(Comprehensive) গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি গঠন করা। বয়স, লিঙ্গ, পেশা এবং শ্রেণিভেদে সবার জন্য এই সমবায় সমিতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা।
২। গ্রামবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির আওতায় গ্রামের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করা।
৩। বেইজ লাইন সমীক্ষার মাধ্যমে
Village Information Book (গ্রাম তথ্য বই) তৈরি করা এবং সে ধরনের উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করা যা বাস্তবায়নে গ্রামবাসী সক্রিয় অংশগ্রহণ করবে।
৪। প্রতিটি সমিতিতে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষিত গ্রাম উন্নয়ন কর্মী তৈরি করা যারা গ্রাম ও সরকারি সেবা সরবরাহকারী দপ্তরের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করবে। একইভাবে সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি সরকারের জাতিগঠনমূলক দপ্তর সমূহের উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রমের প্লাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
৫। ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদ রূপে গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
৬। সমবায় সমিতির আওতায় গৃহস্থালি কাজে সোলার প্যানেল ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ করে সৌরশক্তির উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
৭। গ্রামকে উন্নয়নের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
বাস্তবায়ন কর্মকৌশল
১। প্রতিটি সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি পারিবারিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সার্বিক গ্রাম তথ্য বই প্রণয়ন করবে।
২। গ্রাম তথ্য বই এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বার্ষিক গ্রাম উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে (অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন)। এই পরিকল্পনাটি
Bottom up Planning এর প্রাথমিক ধাপ হিসেবে কাজ করে। মূলত এর মাধ্যমে তৃণমূলের মানুষ জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
৩। গ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সমন্বিত হবে কেন্দ্রীয় সমিতিতে এবং সামাজিক ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদে প্রেরণ করবে। অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় সমিতি ব্যাংকসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সংযোগ প্রতিষ্ঠা করবে।
৪। সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতিতে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মী থাকবে যাঁরা বিভিন্ন বিষয়ে (যেমন- কৃষি, মৎস্য, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু, স্বাস্থ্য-পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনা, শিক্ষা, মহিলা, যুব, পরিবেশ, সেলাই ও হস্তশিল্প, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স, প্লাম্বিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিংস ইত্যাদি) প্রশিক্ষিত হবে। তাঁদের মাধ্যমে ও সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সরাসরি তত্ত্বাবধানে সব ধরনের সরকারি সেবা ও উন্নয়ন উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
৫। গ্রাম পর্যায়ে মহিলা, পুরুষ এবং ক্ষুদে সমবায়ীগণ প্রতি সপ্তাহে পৃথকভাবে সভা করে তাঁদের কাজ কর্মের অগ্রগতি পর্যালোচনার মাধ্যমে পরিবীক্ষণ করবে। বিভিন্ন বিষয় বা দলভিত্তিক পরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করে সমিতির কাজ-কর্ম সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে।
৬। প্রতিটি সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতিতে একজন করে গ্রামকর্মী নিয়োজিত থাকবে। গ্রামকর্মীর মূল দায়িত্ব হচ্ছে সমবায় সমিতির সাপ্তাহিক সভা (উঠোন বৈঠক), মাসিক সভা আহ্বান ও  পরিচালনা করা। তাছাড়াও সদস্য অন্তর্ভুক্তি, শেয়ার-সঞ্চয় সংগ্রহ, বিনিয়োগ, ব্যাংক হিসাব রক্ষণাবেক্ষণসহ যাবতীয় সাচিবিক দায়িত্ব পালন করা গ্রামকর্মীর অন্যতম দায়িত্ব। গ্রামকর্মী হচ্ছে সিভিডিপি সমবায় সমিতির মূল
Focal Person.
৭। একটি উপজেলার এক-তৃতীয়াংশ সমবায় সমিতি নিয়ে এক একটি গুচ্ছ (Cluster) গঠিত হয়। প্রতি মাসে এই Cluster এর আওতায় প্রতি সমিতি হতে ০৩ (তিন) জন করে সমবায়ী একটি যৌথসভায় মিলিত হবে। সভায় উপস্থিত সমবায়ীরা নিজ নিজ সমবায় সমিতির বিগত মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করবে এবং আগামী মাসের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে। এর ফলে সমবায়ীদের সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং পরিকল্পিতভাবে অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নে সুযোগ লাভ করে।
 

সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি শীর্ষক প্রকল্পের আওতাভুক্ত গ্রামগুলোতে গঠিত সিভিডিপি সমবায় সমিতিতে সরকারি-বেসরকারি সেবা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা এবং প্রকল্প দপ্তর থেকে প্রদত্ত সেবা সমন্বিত হয়। ফলে  গ্রামের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশসহ সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। এ ধরনের সেবা চলাচলের আন্তঃপ্রবাহ নিম্নবর্ণিত  ছকে দেখানো যেতে পারে-

গ্রামের মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনসচেতনতা ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি, সংগঠিত হয়ে সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা, স্থানীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, সরকারি এবং বেসরকারি সেবাগুলো তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতিগুলো কাজ করে যাচ্ছে।  নিরন্তরভাবে পরিচালিত এ কার্যক্রম গ্রামের মানুষের আর্থিক ও সামাজিক অগ্রগতির সূচকগুলোকে উর্ধ্বমুখী রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। নিরবচ্ছিন্ন প্রশিক্ষণ এবং উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম চলমান থাকায় সিভিডিপিভুক্ত গ্রামের মানুষ অন্য গ্রামের তুলনায় অধিক সচেতন, এসব গ্রামের তরুণরা অধিকতর আত্মপ্রত্যয়ী এবং উদ্যোমী, নারীরা সাহসী হিসেবে আভির্ভূত হয়েছে। সিভিডিপি পরিবারের ক্ষুদে সদস্যরা একদিকে সঞ্চয়ী হওয়ার দীক্ষা পাচ্ছে পাশাপাশি সামাজিক নেতৃত্বের কলাকৌশল রপ্ত করতে সক্ষম হচ্ছে।


সিভিডিপির মাধ্যমে গ্রামের মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তির সমন্বয়ে গড়ে উঠা ‘সমবায় শক্তি’ পারে গ্রামের প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়ে সমৃদ্ধ এবং আলোকিত গ্রাম  প্রতিষ্ঠা করতে, যেমনটি স্বপ্ন দেখেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

 

মো. মফিজুল ইসলাম*
* নিবন্ধক ও মহাপরিচালক, সমবায় অধিদপ্তর, ঢাকা

 


Share with :

Facebook Facebook