কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

গ্রামীণ দারিদ্র্য নিরসনে মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ভূমিকা

আমরা জানি, দারিদ্র্য হচ্ছে এমন একটি দুষ্টচক্র, যা বছরের পর বছর, বংশানুক্রমে আবর্তিত হতে থাকে যদি না কোনবহিঃশক্তি প্রয়োগ করে এর অবসান না করা হয়। স্বাধীনতার পর নবজাতক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার এক বিরাট বোঝা নিয়ে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ছিল বিশ্ব পরিম-লেও। তবে বাংলাদেশের সোনালী ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন একজন, বালাদেশের রূপকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ভাবলেন, ভৌগোলিক ও ঐতিহ্যগতভাবে কৃষি প্রধান বাংলাদেশে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যের স্থবির শৃঙ্খল ভাঙতে হলে কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপের কোন বিকল্পনেই। গ্রামীণ দরিদ্র কৃষককে এবং কৃষিকে সুরক্ষার জন্য নেয়া হলো নানামুখী পদক্ষেপ। সেখান থেকে যাত্রা শুরু। আজ চারদশক পর দারিদ্র্যের হার ৭০ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ২৯ শতাংশের নিচে। খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে তিনগুণ। মানুষ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। কিন্তু এখন কৃষকের ঘরে খাবার সংকট নেই। কৃষক এখন শুধু পরিবারের খাদ্যের জোগান দেয়ার জন্য চাষ করে না, সে মাঠে ফসল উৎপাদন করে আর্থিক লাভের জন্যও। এ উত্তরণ সম্ভব হয়েছে প্রধানত আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। কৃষক ও কৃষির সুরক্ষার জন্য চলছে অবিরাম গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সম্প্রসারণ ও প্রণোদনা। এ বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে কৃষি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন খাতভিত্তিক অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এর মধ্যে মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট অন্যতম।


মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। ভূমি ও মাটির গুণাগুণ, বৈশিষ্ট্য, সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে মাটির শ্রেণিবিন্যাস এবং এ সমস্ত উপাত্ত সম্বলিত মানচিত্র প্রণয়ন ও সরবরাহ মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রধান কাজ। গবেষণা ও সম্প্রসারণধর্মী এ প্রতিষ্ঠানটি ভূমি, মৃত্তিকা, সার ও সেচের পানির সুষ্ঠু ব্যবহার বিষয়ক প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং উদ্ভাবিত প্রযুক্তি হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ কর্মীগণকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে। এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি মাটির ক্রমবর্ধমান অবক্ষয়, সেচের পানির দূষণ, ভূমির অপব্যবহার, মাটিতে ফসলের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি, ভূমির নিষ্কাশন জটিলতা বিষয়ে নিয়মিত পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও সমস্যা সমাধানকল্পে গবেষণামূলক কাজ করে থাকে। ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে অধিক ফসল উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪১৮ লাভ করে।
 

এ প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের ক্রমহ্রাসমান ভূমি ও মৃত্তিকাসম্পদের যৌক্তিক, লাভজনক টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে সহায়তা করা। এর ফলে কৃষক যেমন টেকসই ফসল উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে, পাশাপাশি নিশ্চিত হয়েছে পেশাগত সুরক্ষা। সামগ্রিকভাবে তারা দারিদ্র্যের বেড়াজাল থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছেন। এ প্রতিষ্ঠান কৃষক ও কৃষির উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।


খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশের ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদের যৌক্তিক, লাভজনক, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ব্যবহার নিশ্চিতকরণ তথা কৃষকদের সুবিধা প্রদানের নিমিত্ত দেশের প্রতিটি উপজেলায় আধা-বিস্তারিত মৃত্তিকা ও ভূমি জরিপের (Semi-Detailed Soil Survey) মাধ্যমে সব উপজেলার জন্য আলাদা আলাদাভাবে ‘ভূমি ও মৃত্তিকাসম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ নির্দেশিকায় উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে উৎপাদন পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য-উপাত্ত সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এ নির্দেশিকায় মাটি, ভূমি ও কৃষি জলবায়ুর ওপর ভিত্তি করে কোথায় কোন ফসল চাষ করা যাবে, উক্ত ফসলে বিভিন্ন জাতওয়ারী কতটুকু সার প্রয়োগ করতে হবে, উক্ত এলাকায় কৃষি উৎপাদনের প্রতিবন্ধকতা ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য করণীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে মৃত্তিকা ও ভূমি পুন: জরিপের মাধ্যমে এ নির্দেশিকার তথ্য-উপাত্ত হালনাগাদ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২০টি নবায়নকৃত ‘উপজলো ভূমি ও মৃত্তিকাসম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা’প্রকাশ করা হয়ছে।


উপজেলা ‘ভূমি ও মৃত্তিকাসম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকায়’ সন্নিবেশিত মৃত্তিকা উর্বরতা বিষয়ক তথ্য-উপাত্ত জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল তথ্যে রূপান্তর করা হয়েছে। এ বিশাল তথ্য-উপাত্তকে ভিত্তি করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্যাটালিস্টের সহযোগিতায় ‘অনলাইন ফার্টিলাইজার রিকমেন্ডেশন সিস্টেম’ নামক একটি সফটওয়্যার প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ইনফরমেশন কমিউনিকেশন টেকনোলজি ব্যবহার করে ২৭ জুলাই ২০০৯ ‘অনলাইন ফার্টিলাইজার রিকমেন্ডেশন সার্ভিস’ চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৩০টি উপজেলার জন্য এ সেবা চালু করা হয়। বর্তমানে এ সেবা কার্যক্রম দেশের সব উপজেলায় সম্প্রসারিত হয়েছে। ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র অথবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশের যে কোন প্রান্তের একজন কৃষক শুধুমাত্র তার ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলার নাম এবং সাধারণ বর্ষায় জমিতে কতটুকু পানি দাঁড়ায় এ তথ্য দিয়ে মৃত্তিকা উর্বরতা মানের ভিত্তিতে তার চাহিদামতো ফসলের জন্য সুষম সার সুপারিশ পেতে পারেন। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশ সরকারের ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী ‘মাইলফলক’। মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ‘অনলাইন ফার্টিলাইজার রিকমেন্ডেশন সিস্টেম’ চালুর জন্য ইবংঃ ওঞ টংবৎ-২০১০ অধিৎফ লাভ করে।


মৃত্তিকা উর্বরতা মানের ভিত্তিতে বিভিন্ন ফসলের চাহিদা অনুসারে সুষম সার ব্যবহারের লক্ষ্যে এসআরডিআই-এর বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ১৬টি মৃত্তিকা পরীক্ষাগারের মাধ্যমে ২০০৯-২০১০ থেকে এ পর্যন্ত ২০১৪ সময়ে মাটি পরীক্ষা করে প্রায় ১,১০,০০০ কৃষককে ফসলভিত্তিক সুষম সার সুপারিশ কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদন ১৫-২৫% বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ ৫-১০% কম হচ্ছে, মৃত্তিকা অবক্ষয় রোধ হচ্ছে এবং পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।


মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট মাঠ পর্যায়ে ভেজাল সার শনাক্তকরণের কৃষকবান্ধব পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে সারা দেশের কৃষক, সম্প্রসারণ কর্মী, সার ডিলার এবং এনজিও কর্মী রাসায়নিক বিশ্লেষণ না করেই সহজ পদ্ধতিতে ভেজাল সার শনাক্ত করতে পারেন।
১০টি ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষাগারের মাধ্যমে প্রতি বছর ১১২টি উপজেলায় সরেজমিন ৫,৬০০ কৃষকের মাটির নমুনা বিশ্লেষণ করে সুষম সার সুপারিশ কার্ড প্রদান করা হয়।
ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানভিত্তিক সুষম সার প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৃত্তিকা অবক্ষয় রোধের জন্য সব ইউনিয়নের জন্য ইউনিয়ন ভূমি, মাটি ও সার সুপারিশ সহায়িকা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমের আওতায় ইতোমধ্যে ৪৫০টি ইউনিয়নের ইউনিয়ন সহায়িকা প্রকাশ করা হয়েছে। এ সহায়িকা ব্যবহার করে ইউনিয়নভিত্তিক মাটির উর্বরতামান অনুসারে সুপারিশকৃত সার প্রয়োগ করে ফসল উৎপাদন ১৫-২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব।

ইউনিয়ন ফেস্টুন ব্যবহার করে ইউনিয়নভিত্তিক মাটির উর্বরতামান অনুসারে নির্দিষ্ট ফসলের জন্য সার সুপারিশ প্রয়োগ করা যায়। ইতোমধ্যে ২৫০টি ইউনিয়নের মৃত্তিকার উর্বরতামান অনুসারে প্রধান প্রধান ফসলের জন্য সার সুপারিশ ফেস্টুন তৈরি করে দর্শনীয় ও জনসমাগমের স্থানসমূহে টানানো হয়েছে।
মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট উপকূলীয় এলাকার সমস্যাক্লিস্ট লবণাক্ত মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনার জন্য টেকসই ও কৃষকবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে। ইনস্টিটিউট দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ত মাটি ব্যবস্থাপনার জন্য ইতোমধ্যে তিনটি প্রযুক্তি যথাক্রমে- গ্রীষ্মকালীন সবজি ফসলে সেচের জন্য খামার- পুকুর প্রযুক্তি এবং মাদা ফসলের জন্য কলসি-সেচ ও দ্বি-স্তর মালচিং পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া, ইনস্টিটিউটের লবণাক্ততা মনিটরিং কার্যক্রমের আওতায় উপকূলীয় এলাকার মনিটরিং স্পট থেকে নিয়মিত লবণাক্ততার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তি এবং লবণাক্ত পরিবীক্ষণ তথ্য ব্যবহার করে উপকূলীয় এলাকার কৃষক ভাইয়েরা মৃত্তিকা, পানি ও লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফসল চাষের এলাকাসম্প্রসারণ, নিবিড়তা বৃদ্ধি ও অধিক ফলন আহরণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
পার্বত্য এলাকার ভূমি ও মাটি সংরক্ষণ ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বান্দরবানে “মৃত্তিকা সংরক্ষণ ও পানি বিভাজিকা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র নামে একটি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। এ গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকার ভূমিক্ষয় ও ভূমি ধস রোধে বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যেমন-
ক) ভূমিক্ষয় রোধ ও ফসল চাষের জন্য হেজ-রো (
Hedge-Row) প্রযুক্তি
খ) ভূমি ধস রোধ ও পুনরুদ্ধারের জন্য জিও-জুট টেক্সটাইল প্রযুক্তি
গ)  নালা ক্ষয় নিয়ন্ত্রণের জন্য গেবিয়নচেক ড্যাম প্রযুক্তি।
ঘ) পাহাড়ি ঢালে শস্য উৎপাদনের জন্য বেঞ্চ টেরাস প্রযুক্তি।

এছাড়া কন্টুর ক্রপিং, উন্নত জুম চাষ প্রযুক্তি ও এগ্রো-সিলভি কালচার ইত্যাদি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। এ প্রযুক্তিসমূহ সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকদের মাঝে বিস্তারের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে এবং হচ্ছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের ক্ষয়িষ্ণু পাহাড়ি এলাকা বিশেষ করে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি এলাকার কৃষক ভাইয়েরা মৃত্তিকা ক্ষয়রোধ করে অধিকতর এলাকা ফসল চাষের আওতায় এনে উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন। এর ফলে পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন ও পুষ্টি চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়েছে।
মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট বিস্তারিত, আধা-বিস্তারিত ও রিকোনাইস্যান্স জরিপ ও অন্যান্য কার্যক্রমকালে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত এবং এরিয়াল ফটোগ্রাফ, ইমেজারি ও জিআইএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূমি ব্যবহার, সমস্যাক্লিস্ট মাটি, মৃত্তিকা পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি, ফসলবিন্যাসসহ মৃত্তিকা সংক্রান্ত অসংখ্য মানচিত্র প্রণয়ন করেছে। এসব মানচিত্র পরিকল্পনাবিদ, নীতি প্রণয়নকারী এবং গবেষকগণ জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করছেন।
মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট কর্তৃক বিভিন্ন কারিগরি প্রতিবেদন যথা- কৃষি প্রযুক্তির হাতবই,
Saline Soils of Bangladesh -২০১০, Land and Soil Appraisal of Bangladesh, Keys to Soil Series, Physiography of Bangladesh, সরেজমিন ভেজাল সার শনাক্তকরণ, সারের নমুনা সংগ্রহ পদ্ধতি, মৃত্তিকা বিশ্লেষণের ফলাফলের ভিত্তিতে সুষম সার সুপারিশ ম্যানুয়েল, Agricultural Land Availability in Bangladesh নামক পুস্তিকাসমূহ প্রকাশ করেছে।


বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ১,০৫০ জন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, ব্লক পর্যায়ের ৩,৬০০ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং ৭০,০০০ জন কৃষককে বিভিন্ন মেয়াদে ভূমি ও মৃত্তিকাসম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা, মাটির নমুনা সংগ্রহ পদ্ধতি, মাটির উর্বরতার ভিত্তিতে সুষম সার প্রয়োগ, সরেজমিন ভেজাল সার শনাক্তকরণ, লবণাক্ত ও পাহাড়ি ভূমি ব্যবস্থাপনা, জৈবসার তৈরি এবং মাটির উর্বরতামান বৃদ্ধিতে সহায়ক বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।


মানুষের সর্বপ্রথম চাহিদা হচ্ছে খাদ্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও জীবনব্যবস্থার আধুনিকায়ন পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনের বিষয়টিকে পৃথিবী জুড়েই একটি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ছুড়ে দিয়েছে। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য দরকার অধিক খাদ্য উৎপাদনের জন্য কৃষককে সর্বোচ্চ প্রণোদনা ও কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা। এসআরডিআই কৃষককে সরাসরি প্রণোদনা না দিলেও কৃষক যাতে টেকসই ও লাভজনকভাবে মাটির ব্যবহার নিশ্চিত করে অধিক খাদ্য উৎপাদনে ব্যাপৃত থাকতে পারেন সে লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আর এ প্রচেষ্টার মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গ্রামীণ দারিদ্র্য সম্পূর্ণরূপে নিরসন হবে এবং বাংলাদেশ পরিণত হবে সচ্ছল ও সুখী মানুষের দেশে।
ড. মো. আলতাফ হোসেন*

* প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, জরিপ শাখা, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, ঢাকা

 


Share with :

Facebook Facebook