কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

আগামী দিনের কৃষি

সন্দেহ নেই কৃষিতে আমাদের তাৎপর্যময় সাফল্য রয়েছে। ফসল কৃষিতে সে সাফল্য মূলত আমাদের দানাশস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে যতটা, অতটা নয় অনেক ফসলের ক্ষেত্রেই। সবজি ও ফলমূলের উৎপাদনও বেড়েছে বটে তবে এখনো চাহিদার তুলনায় বেশ কম। ডাল, তেল ও মসলা ফসলে উৎপাদন খানিক বাড়লেও আমরা এসব ক্ষেত্রে বেশ পরনির্ভরশীল। ডালজাতীয় ফসলে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে আরো বহুদূর। মসলা ফসলের ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তেল ফসলের ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতা খানিক কমলেও এখনও আমদানি করতে হয় প্রচুর পরিমাণ তেল। তাছাড়া সরষের তেলের গুণমান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বেশ পিছিয়ে রয়েছি আমরা। ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে যথেষ্ট, বেড়েছে আমাদের আলুর উৎপাদনও। তবে আলুর উৎপাদন খানিক কমলেও ক্ষতি নেই বরং সেখানে আবাদ করা সম্ভব হবে অন্যান্য কিছু ফসল।

আমাদের জনসংখ্যা এখনও স্থিতিশীল নয়। এটি বাড়ছে শতকরা বার্ষিক ১.৪৭ ভাগ হারে। আমাদের আবাদি জমিও স্থিতিশীল নয়। এটি বরং উল্টো কমছে প্রতি বছর। কমছে তা ন্যূনতম শতকরা ০.৫০ ভাগ হারে। এ দুটো আমাদের জন্য আসলেই বড় চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে যত বলছি তত মানছি না, যত মানছি তত বাস্তবে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। অনেকটা যেন দেখেও না দেখার ভান করা। এসবের বাইরেও কৃষির অন্যান্য চ্যালেঞ্জও রয়েছে কত। আমাদের জমির জৈব বস্তুর পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। অনেক আবাদি জমিতে জৈব বস্তুর পরিমাণ শতকরা ৫ ভাগ থাকার কথা থাকলেও তা নেমে গেছে শতকরা ১ ভাগে। অনিবার্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে জমির উর্বরতা। উপর্যুপরি জমি চাষের ফলে জমির নিজস্ব খাদ্য উপাদান সরবরাহ করার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। কেবল মুখ্য উপাদান নয় এমনকি গৌণ খাদ্য উপাদান বিশেষ করে জিংক, বোরন এসবের জন্য ক্রমে একটি সংকটময় অবস্থায় চলে যাচ্ছে আমাদের অনেক আবাদি জমি। অনেকেই আধুনিক কৃষির কুফল বলেই ভাবছে এটাকে। ফসলের আধুনিক জাত ফলন দিচ্ছে বেশি, ফলে সে মাটি থেকে টেনেও নিচ্ছে খাবার বেশি। অন্যদিকে আবার একই জমি আবাদ করা হচ্ছে বারবার। এক ফসলি জমি দুই ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হয়েছে, দুই ফসলি জমি রূপান্তরিত হয়েছে তিন ফসলি জমিতে। কোন কোন জমি আবার যাচ্ছে এখন বছরের চার ফসলের আওতায়ও। বলা বাহুল্য, এখন আমাদের দেশে ফসলের নিবিড়তা হলো শতকরা ১৯২ ভাগ। সব কিছু মিলে জমির গুণাগুণই যাচ্ছে পাল্টে। টেকসই কৃষির জন্য তা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


মাটির স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ আমাদের নিতেই হবে। মাটিতে জৈবসার প্রয়োগ করে তা করা সম্ভব বটে, তবে সে পরিমাণ জৈবসার তৈরির উদ্যোগ তো আমাদের নেই। আগের দিনে প্রতি গৃহস্থের বাড়িতে গরু-ছাগল এবং মুরগি পালনের রীতি প্রচলিত ছিল বলে প্রতি কৃষকের বাড়িতে পাওয়া যেত গোবর এবং বিষ্ঠা। এসব এক একটি গর্তে জমা করে কৃষক পেতেন জমিতে দেয়ার জৈবসার। আজ বহু গৃহস্থের বাড়িতে গরু, ছাগল বা মহিষ এবং এমনকি হাঁস-মুরগি পালনের কোন আয়োজন নেই। ফলে সহজে জৈবসার পাওয়ার উৎসটা হ্রাস পেয়েছে। আজ তাই উচ্ছিষ্ট জৈব বস্তু পচিয়ে বা কেঁচো চাষ করে কেঁচো সার তৈরি করে মাটিতে প্রয়োগ করা ছাড়া কোন উপায় নেই। এগিয়ে আসতে হবে এ কাজে সরকারকে, কৃষি উপকরণ সরবরাহকারী প্রাইভেট কোম্পানি এবং বেসরকারি সংস্থাকে এ কাজে যুক্ত করতে হবে। আর আবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে কৃষক সম্প্রদায়কে। জৈবসার উৎপাদনের এক বড় পরিকল্পনা নিতে হবে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায়। বাজেটে পিপিপিতে রাখা বরাদ্দ থেকে একাজে জোগান দিতে হবে খানিক অর্থ। জৈবসার প্রয়োগের পাশাপাশি সুষম সার প্রয়োগের বিষয়টিতে আরো সচেতনতা বাড়াতে হবে। মাটিতে যেহেতু অনুপুষ্টির অভাব বাড়ছে দিন দিন কৃষি বিশেজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী জমিভেদে প্রয়োগ করতে হবে নানা রকম অনুপুষ্টিসমৃদ্ধ সারও।

চ্যালেঞ্জ আমাদের পানি নিয়েও। সেটি যেমন ভূগর্ভস্থ পানির সমস্যা সেটি আমাদের ভূউপরিস্থিত পানির সমস্যাও। ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানি স্তর ক্রমে নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ যেখানে কঠিন হয়ে পড়ছে সেখানে ভূগর্ভস্থ পানি সেচের পানি হিসেবে ব্যবহার করা কতটা যৌক্তিক তা খুব দ্রুতই ভেবে নেয়ার সময় এসেছে। তাছাড়া ধানের মতো পানিখোর ফসলে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যয় করব না পানি সাশ্রয়ী সবজি বা ফল ফসলে তা ব্যবহার করব সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে অবশ্যই। দেশের নদী-নালার অনেক এলাকায় বর্ষাকালেও পানির ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া বৃষ্টির পানি শুকনো মৌসুমে ব্যবহার করার জন্য পানি যে ধরে রাখব জলাশয়ে সে ব্যবস্থা আমাদের কোথায়? আর বৃষ্টিনির্ভর কৃষির জন্য আমাদের প্রস্তুতিও তেমন বড় কিছু নেই। বরং বৃষ্টিনির্ভর আউশ ধান এক সময়ের প্রধান ফসল হলেও আজ তা গৌণ ধান ফসলে রূপ নিয়েছে। অথচ যথাযথ পরিকল্পনা ও ফসল উন্নয়ন কার্যক্রম নিতে পারলে বর্ষাকালের প্রধান ফসল হয়ে উঠতে পারে আমাদের আউশ ধান। প্রয়োজন সে উপযোগী উন্নত জাত তৈরি করা। প্রয়োজন সে অনুযায়ী আমাদের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রযুক্তিকে শানিয়ে নেয়া। তাহলে পরে ভূগর্ভস্থ পানিনির্ভর বোরো ধান উৎপাদন খানিক কমিয়ে আনা সম্ভব। তাছাড়া পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারও বেশ জরুরি। ‘পর্যায়ক্রমে ভেজানো ও শুকানো’ পদ্ধতি সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে ধান চাষে পানির ব্যবহার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। ভাতের ওপর খানিক চাপ আমাদের কমাতে পারলে লাভ হবে দুইভাবে। গম, গোলআলু, মিষ্টিআলুর পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় খাবার খানিক বাড়াতে পারলে কমবে ভাতের ওপর চাপ। এতে ধান চাষের কিছু জমিতে রবি মৌসুমে ফলানো যাবে অন্য ফসল। তাছাড়া খাবারের বৈচিত্র্য বাড়লে বাড়বে আমাদের পুষ্টির জোগান। সেটিও তো কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ফসলের বৈচিত্র্য যত বাড়বে আমাদের মাঠে বাড়বে তত বৈচিত্র্যময় খাদ্যের জোগান। সে কারণেই জমি তো ছাড়তে হবে তেল, ডাল আর মসলার জন্যও। না হলে তো বিশাল অঙ্কের অর্থ চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে এসব আমদানি করতে গিয়ে। অথচ দেশে এখন চমৎকার সব সরষে, বাদাম আর সয়াবিন জাত রয়েছে। ছোলা, মসুর এসব শিম্বি ফসলের বেশ স্বল্পমেয়াদি আর গুণগতমান সম্পন্ন জাতও কিছু রয়েছে আমাদের। পেঁয়াজের ঘাটতি মেটাতে হলে খানিক বাড়তি জমি তো ছাড়তে হবে এর আবাদেও। সে পরিকল্পনা আমাদের তো করতে হবে কৃষিজ পণ্যে আমাদের স্বয়ম্ভরতা বাড়াবার জন্যই।

কৃষির আরেক বড় চ্যালেঞ্জ হলো আমাদের জীব বৈচিত্র্য হ্রাস। সে যেমন ফসলের, সে তেমনি মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদেরও। ফসলের আধুনিক জাতের প্রচার ও প্রসার মাঠ থেকে বিদায় করছে আমাদের চেনা জানা সব স্থানীয় জাতগুলোকে। ইতোমধ্যে এর অনেকেই বিলুপ্ত হয়েছে, অনেকে এখন বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। বিলুপ্ত হচ্ছে আমাদের প্রাকৃতিক জলাশয়ে বেড়ে বর্তে ওঠা বহু মৎস্য প্রজাতি। প্রাকৃতিক নিয়মেই যারা সেরে নিত প্রজনন কর্মকাণ্ড আজ জলাশয় ব্যবস্থাপনার ত্রুটি এর জন্য তৈরি করছে এক বৈরী পরিবেশ। আমাদের হাঁস-মুরগি আর চেনা জানা স্থানীয় গো-মহিষাদির লালন পালনও হ্রাস পেয়েছে। বিদেশি ব্রিডের প্রচার প্রসার আর যত্নআত্তি বিলুপ্তির মুখে ঠেলে দিচ্ছে দেশি ব্রিড আর এদের নানা প্রকরণকে। আমাদের এসব মূল্যবান সম্পদ রক্ষা করার জন্য যে অপ্রতুল ব্যবস্থা রয়েছে তাকে বাড়াতে হবে আমাদের খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করার স্বার্থেই। এরা আমাদের বৈচিত্র্যময় খাদ্যের অন্যতম উৎস। এরা আমাদের নতুন নতুন জাত আর ব্রিড তৈরিরও অন্যতম কাঁচামাল। মাঠ পর্যায়ে এসব জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং এর যথাযথ ব্যবহার বাড়াতে হলে নিতে হবে নানা রকম সমন্বিত কার্যক্রম। চাষি ভাইদের কার্যকর অংশগ্রহণের পাশাপাশি গবেষকদেরও এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে আগামী দিনের কৃষির কথা ভেবেই। এসব মহামূল্যবান কৃষিজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার মাধ্যমে কৃষিতে সত্যিকার সাফল্য লাভ করতে হলে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকেও।


সন্দেহ নেই আমাদের কৃষির আরেক চ্যালেঞ্জ হলো খরা, লবণাক্ততা, আকস্মিক বন্যা। এসব ছাড়াও রয়েছে ঝড় ও সাইক্লোনের মতো নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়। রয়েছে বিশ্ব উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব। আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের জমি অনেক বেশি লবণাক্ততার হাতে পড়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় ৭টি জেলায় ২-১২ ডিএস/মি. মাত্রার লবণাক্ত জমির পরিমাণ এক মিলিয়ন হেক্টর। লবণাক্ততা সইয়ে নিয়ে ভালো ফলন দেবে তেমন ফসলের জাতের এখনও ঘাটতি রয়েছে। দু-চারটি ধানের জাত অবশ্য এ দেশে অবমুক্ত করেছে আমাদের বিজ্ঞানীরা। লবণাক্ত সহিষ্ণু ব্রি-উদ্ভাবিত জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান৪৭, ব্রি ধান৫৩, ব্রি ধান৫৪, ব্রি ধান৬৭ এবং ব্রি ধান৭৩। এসব জাত খানিক লবণসহিষ্ণু বটে। সমস্যা দাঁড়িয়েছে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার মাত্রা নিয়ে। আর বিশাল দক্ষিণাঞ্চলে ধানের পাশাপাশি জন্মাতে হবে কিছু অন্য ফসলও। সেসব ফসলের লবণাক্ত সহিষ্ণু জাত সৃষ্টির কর্মকা- বড় শ্লথ। বলা যায় কোন কোন ফসলে তা একেবারেই অনুপস্থিত। ফলে এ দিকে আমাদের যে ভীষণ মনোযোগ দেয়া দরকার তা বলাইবাহুল্য। দেশের উত্তরাঞ্চলের এক বড় অংশ নানা মাত্রায় খরা আক্রান্ত। বাংলাদেশের ১.৭ মিলিয়ন হেক্টর ধান আবাদি এলাকা নানা মাত্রার খরা প্রবণ। বাংলাদেশে স্বল্প বৃষ্টি নির্ভর অবমুক্ত ধানের খরা সহিষ্ণু জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান৪২, ব্রি ধান৪৩, ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান৫৭, ব্রি ধান৬৪, ব্রি ধান৬৫ এবং ব্রি ধান৭১। বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যায় জলমগ্ন হয় সে রকম আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ২ মিলিয়ন হেক্টর। প্রতি বছর আকস্মিক বন্যা ফসলের বেশ ক্ষতি সাধন করে থাকে। এ রকম বন্যা সহনশীল অবমুক্ত ধান জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২। আমাদের বৈরী পরিবেশ সহনশীল আরো জাত উদ্ভাবন করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিজ্ঞানীদের এ কাজে অর্থায়ন করতে হবে, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে আর দিতে হবে যথাযথ প্রণোদনা। ঘাত প্রতিরোধী জাত সৃষ্টির কর্ম পরিকল্পনাটাকেও খানিকটা শানিয়ে নিতে হবে।


আমাদের দেশের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ চাষিই হলো ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি। এদের নিজস্ব আবাদি জমির পরিমাণ মাত্র ০.০৫ একর বা তার কিছু বেশি। নিজের জমি চাষের পাশাপাশি অন্যের জমি ভাগে বা বর্গায় চাষ করেন তারা। আমাদের কৃষির এক বড় নিয়ামক শক্তি তারা। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে উন্নত বীজ সংগ্রহ আর সময়মতো কৃষি উপকরণ কেনা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে। সহজ শর্তে তাদের কাছে ঋণ সুবিধা পৌঁছে দিতে পারলে নিঃসন্দেহে বাড়বে আমাদের কৃষিজ উৎপাদন। আমাদের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা আমাদের মূল্যবান জনশক্তি। তাদের কাছে উৎপাদন প্রযুক্তি ও উত্তম বীজ পৌঁছে দেয়া আগামী দিনের কৃষির একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মকা- হতে পারে। তাছাড়া তারা যেন সঠিক মূল্যে সঠিক সার ও সঠিক কীটনাশকসহ অন্য বালাইনাশক পান সেটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। ভেজাল সার, ভেজাল  ওষুধ কেবল কৃষকের অর্থের বিনাশ ঘটায়, উৎপাদনে এর প্রভাব হয় নেতিবাচক। ফলে আমাদের কৃষিজ পণ্য চাহিদা মেটাতে হলে এসব কৃষককে সঠিক উপকরণ সহায়তা প্রদান করে কৃষি উৎপাদনবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।


আমাদের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা নিজেদের শ্রম ও বিনিয়োগ করে তাদের নিজের কিংবা বর্গা জমিতে। তাদের ঘামে শ্রমে উৎপাদিত হয় নানা কৃষিজ পণ্য। প্রায়ই এসব পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হন তারা। পচনশীল শাকসবজি ও ফলমূলের দাম কম হলেও তারা বেচে দিতে বাধ্য হন। এসব দরিদ্র কৃষক তাদের শাকসবজি ও ফলমূল দু-একদিনের জন্য সংরক্ষণ করে রাখতে পারে সে ব্যবস্থাও গড়ে উঠেনি দেশে। কৃষিজ পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির জন্য বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়টি এখনও আমাদের দেশে অবহেলিতই রয়ে গেছে। উদয়াস্ত কাজ করে যারা এসব ফলায় তাদের চেয়ে কত অল্প শ্রমে বেশি মুনাফা লাভ করে মধ্যস্বত্ব ভোগীরা। সরাসরি কৃষকের উৎপাদিত পণ্য যেন ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেয়া যায় সে ব্যবস্থা নিতে পারলে লাভবান হবেন এসব কৃষক।


বোঝাই যাচ্ছে আমাদের আগামী দিনের কৃষির সামনে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই আমাদের উৎপাদন ব্যবস্থাকে চাঙা করে তুলতে হবে। আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে হলে এরতো কোন বিকল্প নেই। শুধু একথাটি মনে রাখা জরুরি যে, আমাদের কৃষি কর্মকা- যেন আমাদের মাটি, পানি আর ফসলের বাস্তুতন্ত্রকে নষ্ট না করে দেয়। যেন তা বেধড়ক বিনাশ না ঘটায় আমাদের মূল্যবান কৃষি জীববৈচিত্র্যের। এরাই আসলে আমাদের কৃষির মূল ভিত্তি সম্পদ হিসেবে কাজ করছে। এর যথাযথ সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেই আমাদের কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। টেকসই কৃষির জন্য এটি বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
 

ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া*

* প্রফেসর, জেনেটিক্স অ্যান্ড প্লান্ট ব্রিডিং বিভাগ এবং প্রোভাইস-চ্যান্সেলর, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলানগর, ঢাকা-১২০৭

 


Share with :

Facebook Facebook