কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

প্রশ্নোত্তর (আশ্বিন-১৪২২)

রাজু আহমেদ
ধামুরহাট, নওগাঁ

প্রশ্ন : ধান গাছের পাতা পেঁয়াজ পাতার মতো নলাকার হয়ে যায়। মাঝে মাঝে কচি কা-ের ভেতরে পোকায় খেয়ে ফেলছে। এ পোকা কীভাবে দমন করা যাবে।

উত্তর : নলি মাছি বা গলমাছির কীড়া ধান গাছের বাড়ন্ত কুশিতে আক্রমণ করে এবং আক্রান্ত কুশি পেঁয়াজ পাতার মতো হয়ে যায়। ফলে কুশিতে আর শিষ হয় না। প্রতিকার হিসাবে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
১. রোপণের পর নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করা।
২. আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে পূর্ণবয়স্ক পোকা দমন করা।
৩. জমিতে শতকরা ৫ ভাগ পেঁয়াজ পাতার মতো লক্ষণ দেখা গেলে কার্বোফুরান অথবা ফেনিট্রোথিয়ন জাতীয় কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।

মঈনউদ্দিন আহম্মেদ
লালপুর, নাটোর
প্রশ্ন : শিমের পাতার নিচের দিকে শিরা বরাবর লাল বা কালো দাগ পড়ে। এছাড়া ফলের ওপর ছোট ছোট দাগ পড়ে। করণীয় কী?

উত্তর : এটি শিমের ছত্রাকজনিত রোগ। আক্রান্ত বীজ, পরে চারা ও গাছ এবং তার অবশিষ্টাংশের মাধ্যমে এ রোগ বিস্তৃত হয়। প্রতিকার হিসাবে-
১. রোগমুক্ত ভালো বীজ ব্যবহার করতে হবে।
২. শিমের পরিত্যক্ত অংশ একত্র করে পুড়িয়ে ফেলা।
৩. বীজ শোধন করা (প্রোভেক্স ২.৫ গ্রাম বা ব্যাভিস্টিন ২ গ্রাম/ ১ কেজি বীজ)।
৪. গাছে রোগের লক্ষণ দেখা দিলে ছত্রাকনাশক টিল্ট-২৫০ ইসি ০.৫ মিলি. বা ডাইথেন এম-৪৫ ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।

বাদল রায়
খানসামা, দিনাজপুর
প্রশ্ন :  করলার পাতা ছোট হয়ে গুচ্ছ আকারে হয়ে গেছে। কী করলে উপকার পাব।

উত্তর : এটি করলার মাইকোপ্লাজমাজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত গাছের পাতাগুলো গুচ্ছ আকারে দেখা যায়। গাছ বাড়ে না। ফুল ও ফল কমে যায়। বাহক পোকা হিসেবে জ্যাসিড পোকা দ্বারা এ রোগ ছড়ায়।
১. আক্রান্ত গাছ দেখামাত্র তুলে নষ্ট বা পুড়িয়ে ফেলা।
২. রোগমুক্ত গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করা।
৩. ক্ষেতের আশপাশের আগাছা পরিষ্কার করা।
৪. বাহক পোকা ধ্বংস করার জন্য বালাইনাশক প্রয়োগ করা যেমন- এসাটাফ, টিডো, এডমায়ার এর যে কোনো একটি।

মো. মনিরুজ্জামান
নীলফামারী
প্রশ্ন : নারিকেলের চারায় উঁইপোকা আক্রমণ কীভাবে প্রতিহত করব।

উত্তর : উঁইপোকা চারা গাছের শিকড় নষ্ট করে গাছের ক্ষতি করে। এ পোকা দমনে যা করতে হবে তাহলো-
- উঁইপোকার ঢিবি খনন ও ধ্বংস করতে হবে।
- গাছের গোড়ার মাটি কুপিয়ে পরিষ্কার করা।
- উঁইপোকার আক্রমণ বেশি হলে কীটনাশক ক্লোরপাইরিফস (ডার্সবান) প্রতি লিটার পানিতে ৫ মিলি. হারে মিশিয়ে মাটিতে স্প্রে করতে হবে।

মো. আমিনুল ইসলাম
নওগাঁ
প্রশ্ন : ঢেঁড়সের পাতা বিবর্ণ হয়ে কুঁকুড়ে যাচ্ছে। কী করলে উপকার পাবো।

উত্তর : ঢেঁড়সের জ্যাসিড/সাদামাছি পোকা চারা গাছ থেকে শেষ পর্যন্ত পাতার রস চুষে খায় এবং আক্রান্ত পাতা বিবর্ণ হয় ও কুঁকড়ে যায়। এ পোকা দমনে করণীয় হলো-
- ক্ষেতের আশপাশে বেগুন, তুলা, মেস্তা চাষ না করা।
- আক্রান্ত গাছ তুলে নষ্ট করা।
- পোকার আক্রমণ বেশি হলে ডাইমেথয়েড অথবা ইমিডাক্লোরপিড জাতীয় কীটনাশক গাছে স্প্রে করতে হবে।

সুমন
চট্টগ্রাম
প্রশ্ন : ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র বা ইউএমএস তৈরি করা যায় কীভাবে?

উত্তর : ইউএমএস তৈরির প্রথম শর্ত হলো সর্বদা এর গঠন সঠিক রাখতে হবে। ১০০ কেজি ইউএমএস তৈরি করতে হলে ৮২ কেজি শুকনা খড়, ১৫ কেজি চিটাগুড় ও ২-৩ কেজি ইউরিয়া মিশাতে হবে। খড়গুলো পলিথিন বিছিয়ে তার ওপর মাঝারিভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। বালতিতে ৫ লিটার পানির সাথে ৩ কেজি ইউরিয়া মিশিয়ে নিতে হবে। এবারে মিশ্রণটি খড়ের ওপর অর্ধেক ছিটিয়ে দিতে হবে। খড়গুলোর গায়ে ভালোভাবে মিশ্রণ লাগিয়ে উক্ত খড় গরুকে খেতে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে মিশ্রণ যেন কোনোভাবেই পলিথিনে আটকে না থাকে। এভাবে তৈরি ইউএমএস ৩ দিনের বেশি সংরক্ষণ না করাই ভালো।

মমিনুল
নীলফামারী
প্রশ্ন : তড়কা বা অ্যানথ্রাক্স রোগের লক্ষণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর :
রোগের লক্ষণ
১. তড়কা রোগে মৃত্যুহার অত্যধিক, অনেক ক্ষেত্রে লক্ষণ প্রকাশের অল্পক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ করে মৃত্যু হতে পারে।
২. প্রচ- জ্বর হয়। জ্বরের ফলে কাঁপুনি দেখা যায় ও লোম খাঁড়া হয়ে যায়। তাপমাত্রা ১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে।
৩. ক্ষুধামন্দা, পেটফাঁপা, পেটে ব্যথার কারণে লাথি মারে, রক্ত মিশ্রিত প্রস্রাব ও তরল পায়খানা হতে পারে। রোগের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে মল আলকাতরার মতো কালো ও শক্ত হয়ে যায়।
৪. ঘাড়ের পেছনে চামড়ার নিচে তরল পদার্থ জমে ফুলে উঠে।
৫. গর্ভবতী গাভীতে গর্ভপাত ও দুগ্ধবর্তী গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যায়।
৬. রোগের চূড়ান্ত পর্যায়ে পশু নিস্তেজ হয়ে পড়ে। শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, মাংসপেশিতে কাঁপুনি ও খিঁচুনি দেখা দেয়। লক্ষণ প্রকাশের ১-৩ দিনের মধ্যে আক্রান্ত পশু হঠাৎ পড়ে মারা যায় এবং নাক, মুখ ও মলমূত্রের ছিদ্রপথ দিয়ে রক্ত বের হতে পারে।

প্রতিরোধ :
১. তড়কা রোগের জীবাণু পরিবেশে অনেক দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। স্যাঁতসে্যঁতে পরিবেশে এ জীবাণু বেশি বিস্তার লাভ করে। তাই এ রোগে মৃত পশু আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হবে বা ২ মিটার গভীর গর্তে পর্যাপ্ত কলিচুন সহযোগে পুঁতে ফেলতে হবে।
২. আক্রান্ত পশুর প্রাকৃতিক ছিদ্রপথগুলো দিয়ে মৃত্যুর আগে বা পড়ে যাতে রক্ত বের হতে না পারে সেজন্য তুলা দিয়ে ছিদ্রপথগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। মাটিতে আক্রান্ত পশুর রক্ত পড়ে থাকলে রক্তসহ মাটি পুড়িয়ে ফেলতে হবে অথবা গভীর গর্ত করে পুঁতে ফেলতে হবে।
৩. এ রোগে আক্রান্ত মৃত পশু কাটা ছেঁড়া করা উচিত নয়। ময়নাতদন্ত করার প্রয়োজন হলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। মনে রাখতে হবে অ্যানথ্রাক্স রোগের জীবাণু দ্বারা মানুষও আক্রান্ত  হয়।
৪. পশুজাত দ্রব্য অর্থাৎ মিট বা বোনমিল থেকেও জীবাণু ছড়াতে পারে বলে আক্রান্ত পশুর উপজাত থেকে মিট বা বোনমিল তৈরি করা উচিত নয়।
৫. এ রোগে আক্রান্ত হলে আশপাশের সমস্ত পশুকে সঙ্গে সঙ্গে পৃথক করা উচিত এবং সুস্থ পশুকে অ্যানথ্রাক্স রোগের টিকা প্রদান করা উচিত।

জাহিদুর রহমান
বরগুনা
প্রশ্ন : মাছের সুষম খাবার তৈরি ও প্রয়োগ পদ্ধতি কী?

উত্তর : পুকুরের মাছের ওজনের ৩%-৫% হারে ভালো কোম্পানির ফিড প্রতিদিন প্রয়োগ অথবা খৈল, চালের কুঁড়া, গমের ভুসি ১০০ কেজি মাছের জন্য ৩ কেজি খাবার (১.৫ কেজি একদিন পূর্বে ভিজিয়ে রাখা খৈল ও ১.৫ কেজি গমের ভুসি বা চালের কুঁড়া) মিশিয়ে ছোট ছোট ম- তৈরি করে পুকুরে প্রয়োগ করা। খাবারগুলো মাটির পাত্রে অথবা প্লাস্টিকের চটের ওপর রাখলে ভালো হয়, কারণ মাছ খাবার খেল কিনা তা সঠিকভাবে জানতে পারা যাবে। যদি ২ দিন পরও খাবার দেখা যায় তাহলে মাছের খাবার কমিয়ে দিতে হবে। এক কেজি আদর্শ মাছের খাবার তৈরিতে গমের ভুসি ৩০০ গ্রাম, চালের কুঁড়া ২০০ গ্রাম, ফিশমিল ২০০ গ্রাম, আটা ১০০ গ্রাম, পূর্বে ভিজানো খৈল ২০০ গ্রাম প্রয়োজন। সেসঙ্গে ভিটামিন প্রিমিক্স ১ কেজি খাবারে ১ চা চামচ, লবণ ১ চা চামচ ও চিটাগুড় প্রয়োজনমতো (ম- প্রস্তুত করতে যতটুকু প্রয়োজন ১০০-২০০ গ্রাম) মিশাতে হবে।

মোহাম্মদ সুজন আলী
পঞ্চগড়
প্রশ্ন : পুকুরে শ্যাওলা জমে মাছ মারা যাচ্ছে। করণীয় কী?

উত্তর : কাপড় বা মশারি দিয়ে শ্যাওলার আস্তরণ তুলে ফেলতে পারলে ভালো। খড়ের দড়ি বেঁধে তা দিয়ে পুকুরের ওপরে টেনে এক কোণায় এনে তুলে ফেলতে হবে। অথবা শ্যাওলার স্তর একত্র করার পর ২০০-২৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার ছিটিয়ে দিলে তা নষ্ট হয়ে যাবে। এ ধরনের সমস্যায় তুঁতের ব্যবহার করা যেতে পারে। একরপ্রতি ২০-২৫টি ৫০ গ্রাম তুঁতে কাপড়ের পুঁটলিতে খুঁটিতে বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে রাখা। তাছাড়া শতকপ্রতি ০.৫ কেজি চুন প্রয়োগেও ফল পাওয়া যায়।

শামিম আহমেদ
রাজশাহী
প্রশ্ন : পুকুরে কীভাবে চুন প্রয়োগ করব?  

উত্তর : সাধারণত চুন পানিতে গুলালে পানির তাপমাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ পানি গরম হয়ে যায়। তাই পুকুরে পোনা থাকা অবস্থায় কখনোই সরাসরি পুকুরে চুন দেয়া যাবে না, চুন পানিতে গুলিয়ে ঠা-া করে পুকুরে দিতে হবে। সন্ধ্যার সময় পরিমাণমতো চুন একটি টিনের বালতি বা মাটির গর্তে পানি দিয়ে গুলিয়ে পরদিন সকালে উক্ত পানিতে গুলানো ঠা-া চুন একটি থালা দিয়ে পাড়সহ সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।

কৃষিবিদ মোহাম্মদ মারুফ*
* কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫

 


Share with :

Facebook Facebook