কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি অভিযোজন হাওরে সরিষা চাষের সম্ভাবনা

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে হাওর। সুনামগঞ্জের শাল্লা, হাওরবেষ্টিত একটি উপজেলা। এখানে অধিকাংশ জমিতে বছরে একবার শুধু  বোরো মৌসুমে প্রচুর পরিমাণ ধান জন্মানো হয়। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় সব জমি জলাবদ্ধ থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাওরের জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও জীবনযাত্রা নানাভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। দিনে দিনে হাওরে পলি ভরাটের ফলে একদিকে যেমন এর পানি ধারণক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে অন্যদিকে বৃষ্টিপাতের ধরনের পরিবর্তন যেমন- হঠাৎ হঠাৎ প্রচুর বৃষ্টির ফলে পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করছে, যা এ এলাকার একমাত্র ফসল  বোরো ধান চাষকে প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত করে। আবার খালগুলোতে পর্যাপ্ত পানি ধারণক্ষমতা না থাকায় ধান চাষের জন্য পর্যাপ্ত সেচের পানির অভাব দেখা দেয়। অগভীর হাওরের কিছু জমি আছে যা সাধারণত বন্যার পানিতে  অপেক্ষাকৃত দেরিতে ডুবে আবার আগে জাগে। এমন মধ্যম নিচু জমিতে বিনা চাষে কিংবা চাষ দিয়ে সরিষার চাষ করা যায়, ফলে বোরো ধানের আগে আর একটি বাড়তি ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।


কৃষক রিংকু বরন, গ্রাম-নিয়ামতপুর, ইউনিয়ন-হবিবপুর, উপজেলা-শাল্লা, জেলা- সুনামগঞ্জ। ইসলামিক রিলিফ, বাংলাদেশের সহায়তায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের পরামর্শে তিনি গত বছর তার ১০ শতক জমিতে বারি সরিষা-১৫ জাতের চাষ করেন। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি সরিষা বপন করেন এবং ডিসেম্বর মাসের শেষভাগে কর্তন করেন। তার ফসলের ক্ষেতের আশপাশে আর কোনো ফসল ছিল না বিধায় সরিষা ক্ষেতে গবাদিপশুর আক্রমণসহ নানা রকম আপদ মোকবেলা করেও প্রায় ১ টন/হেক্টর হারে ফলন পান। সরিষা চাষের জন্য তিনি স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শ নিয়ে সার প্রয়োগসহ অন্যান্য পরিচর্যা নিশ্চিত করেন। সরিষার গাছগুলোকে তিনি পরবর্তীকালে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। অন্যদিকে এর  খৈল গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করেন।


স্থানীয় অন্যান্য কৃষকের মাঝে সরিষা চাষ ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। ভালো বীজ, পরামর্শ আর আর্থিক সহায়তা পেলে এ অঞ্চলে সরিষা চাষের মাধ্যমে কৃষকদের ঝুঁকি কমানোর সাথে সাথে ফসলের বৈচিত্র্য আনা সম্ভব। অধিক পরিমাণে সরিষার চাষ করা গেলে ভবিষ্যতে মৌমাছি চাষের মাধ্যমে বহু কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে অন্যদিকে তেল আমদানি বাবদ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

 

সরিষা চাষ পদ্ধতি
বীজ বপন সময় : অক্টোবর মাসের প্রথম থেকে মধ্য অক্টোবর।

 

বীজহার : বিঘাপ্রতি ৭০০-৮০০ গ্রাম।
 

বপন পদ্ধতি : জমিতে জো থাকা অবস্থায় বীজ ছিটিয়ে বুনতে হয়।
 

পরিচর্যা : প্রয়োজনে বীজ বপনের ১৫-২০ দিন পর একবার এবং ফুল আসার আগে দ্বিতীয়বার নিড়ানি দিতে হয়।
 

সেচ প্রয়োগ : বীজ বপনের ২৫-৩০ দিনের মধ্যে  প্রথম সেচ এবং ৫০-৫৫ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় সেচ দিতে হবে। বপনের সময় মাটিতে রস কম থাকলে চারা গজানোর ১০-১৫ দিনের মধ্যে একটি হালকা সেচ দিতে হবে।


রোগ ও পোকামাকড় : প্রতি গাছে ৫০টির বেশি জাবপোকা থাকলে ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি বা ডায়াজিনন ৬০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি. হারে মিশিয়ে দুপুরের পর স্প্রে করতে হবে কারণ এসময় মৌমাছি ক্ষেতে থাকে না।


সার প্রয়োগ : মাটিতে রসের তারতম্য অনুসারে সার প্রয়োগ করতে হয়।    

সারের নাম    বিঘাপ্রতি*    
ইউরিয়া    ২৬-৩৫ কেজি
টিএসপি    ২০-২৪ কেজি
এমপি     ১০-১২কেজি
জিপসাম    ১৭-২০ কেজি
বরিক পাউডার    ১.২৫ কেজি

 

*মাটির উর্বরতাভেদে এ সারের পরিমাণ কম বেশি হতে পারে।
সার প্রয়োগ পদ্ধতি : ইউরিয়া সারের অর্ধেক এবং বাকি অন্যান্য সার বপনের আগে এবং বাকি অর্ধেক ইউরিয়া সার গাছে ফুল আসার সময় উপরি প্রয়োগ করতে হয়। সার উপরি প্রয়োগের পর হালকা সেচের ব্যবস্থা করতে হয়।


জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি অভিযোজনবিষয়ক এ পাতাটি ইসলামিক রিলিফ, বাংলাদেশের সৌজন্যে প্রকাশিত। এ পাতাটিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিযোজন সম্পর্কিত প্রায়োগিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিষয়ে যে কেউ লেখা দিতে পারেন। ইসলামিক রিলিফ, বাংলাদেশ, হাউজ ১০, রোড ১০, ব্লক কে, বারিধারা, ঢাকা।


Share with :

Facebook Facebook