কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

সম্পাদকীয় (অগ্রহায়ণ-১৪২২)

বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। এ দেশের কৃষি ঋতুবৈচিত্র্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। ঋতু পরিক্রমায় অগ্রহায়ণ মাস হেমন্তকাল। এ মাসে একদিকে যেমন আমন ধান কাটার ধুম পড়ে যায় অন্যদিকে রবি ফসলের চাষাবাদের প্রস্তুতি চলে পুরোদমে। রবি মৌসুমে বোরোসহ হরেক রকমের শাকসবজি, তেলবীজ ফসল, ডাল জাতীয় ফসল, মসলা জাতীয় ফসল প্রভৃতির চাষাবাদ করা হয়ে থাকে। নাবি বন্যার কারণে রবি ফসলের চাষাবাদ পিছিয়ে যায়। এসব কারণে পরিবেশের সঙ্গে খাপখাইয়ে যেসব ফসল চাষাবাদ করে ভালো ফলন পাওয়া যায় এবং সময়মতো ঘরে তোলা যায় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ কথা সত্যি যে, দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু দেশের জনসংখ্যা যেহেতু ক্রমবর্ধমান সেহেতু প্রতি বছর খাদ্যের চাহিদা কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের খাদ্য ফসলের উৎপাদন সমানুপাতে বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হবে। আর একটি বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে যে, শুধু দানাজাতীয় খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেই চলবে না, পুষ্টির দিকটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। এজন্য শাকসবজি, ফলমূল চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ও গ্রহণের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। আশার কথা, বিশ্বব্যাপী সি-উইড একটি গুরুত্বপূর্ণ জলজ সম্পদ, পুষ্টিগুণের বিচারে যা বিভিন্ন দেশে খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। চীন, জাপান ও কোরিয়ায় সনাতনভাবেই দৈনন্দিন খাদ্যে সি-উইড ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে এবং দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও ইউরোপে এর ব্যবহার বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে সি-উইড ব্যবহার বিষয়ে চিন্তাভাবনার সময় এসেছে বলে আমরা মনে করি। মানব খাদ্য হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও ডেইরি, ওষুধ, টেক্সটাইল ও কাগজ শিল্পে সি-উইড আগার কিংবা জেল জাতীয় দ্রব্য তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া, জমিতে সার, প্রাণী খাদ্য ও লবণ উৎপাদনেও সি-উইড ব্যবহার করা হয়। সি-উইডে প্রচুর পরিমাণে খনিজদ্রব্য বিদ্যমান থাকায় খাদ্যে অনুপুষ্টি হিসেবে এর ব্যবহার গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। আমরা আশা করি এ ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণে সচেষ্ট হবেন।

প্রিয় চাষিভাইয়েরা, অগ্রহায়ণ মাসে কৃষিকাজের ব্যাপকতা বেড়ে যায়, প্রয়োজন হয় কৃষি উপকরণ সংগ্রহ, কৃষি শ্রমিকের মজুরি, সেচ খরচ প্রভৃতি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সময়মতো সম্পন্ন করে রাখলে সারা বছর সাচ্ছন্দে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সহজ হয়। আমরা চাই সুপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর ও মাঠের কর্মকা- সম্পন্ন করে নিজের জীবনমান ও কৃষির সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখুন, দেশকে আরও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যান।


Share with :

Facebook Facebook