কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

প্রশ্নোত্তর (১৪২২ কৃষিকথা)

মো. নুরুদ্দিন
নোয়াখালী
প্রশ্ন : ধান গাছের পাতা লম্বালম্বিভাবে মুড়িয়ে যাচ্ছে এবং পাতার সবুজ অংশ খেয়ে ফেলছে। কী করলে প্রতিকার পাব।
উত্তর : পাতা মোড়ানো পোকার কীড়া ধান গাছের পাতা লম্বালম্বিভাবে মুড়িয়ে ফেলে এবং পাতার ভেতরের সবুজ অংশ খায়। খুব বেশি ক্ষতি করলে পাতা পুড়ে যাওয়ার মতো দেখায়। এ পোকা দমনের জন্য-
* জমিতে ডালপালা পুঁতে পোকা খেকো পাখি বসার ব্যবস্থা করতে হবে।
* আলোক ফাঁদের সাহায্যে পোকা বা মথ দমন করতে হবে।
* আক্রান্ত পাতা কেটে নষ্ট করতে হবে।
-গাছে থোড় আসার সময় বা ঠিক তার আগে যদি শতকরা ২৫ ভাগ পাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে অনুমোদিত কীটনাশক সুমিথিয়ন, টাফগর ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।

 

শাওন দাস
জামালপুর
প্রশ্ন : পেঁপে গাছের পাতার ওপর হালকা হলুদ ও গাঢ় সবুজ রঙের ছোপ ছোপ দাগ পড়ে ও পাতা কুঁকড়ে যায়। এ থেকে বাঁচার উপায় কী?
উত্তর : মোজাইক রোগের কারণে পেঁপে গাছের পাতায় সবুজ ও হলুদ রঙের ছোপ ছোপ দাগ পড়ে। পাতা খর্বাকৃতির হয় ও কুঁকড়ে যায়। পেঁপে গাছের যে কোনো বয়সে এ রোগ দেখা যায়। চারা গাছ আক্রান্ত হলে বেশি ক্ষতি হয়। ফলন অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পায়। এর প্রতিকারের জন্য-
* আক্রান্ত গাছ তুলে পুঁতে ফেলতে হবে।
* রোগ মুক্ত বাগান থেকে বীজ সংগ্রহ করে চারা তৈরি করতে হবে।
* ভাইরাস রোগের বাহক পোকা জাবপোকা ও সাদামাছি দমনের জন্য বালাইনাশক (এডমায়ার, এসাটাফ, রগর ইত্যাদি) ব্যবহার করতে হবে।

 

মো. আলতাফ
পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
প্রশ্ন : ধানের বাদামি গাছ ফড়িং দমনে করণীয় কী?
উত্তর : বাদামি গাছ ফড়িং ধান গাছের একটি মারাত্মক ক্ষতিকর পোকা। ফসল এ পোকা দ্বারা বেশি আক্রান্ত হলে ‘বাজপোড়া’ বা হপার বার্ন অবস্থার সৃষ্টি হয়। বাদামি গাছ ফড়িং দমনের জন্য-
* বোরো মৌসুমে ফেব্রুয়ারি এবং আমন মৌসুমে আগস্ট মাস থেকে নিয়মিত ধান গাছের গোড়ায় পোকার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
* ধান ক্ষেতের পাশে আলোক ফাঁদের ব্যবস্থা করতে হবে।
* ধান ক্ষেত দুইহাত পর পর ফাঁকা করে দিয়ে গাছের গোড়ায় রোদ ও আলো বাতাস লাগার ব্যবস্থা করতে হবে।
* অতিমাত্রায় ইউরিয়া সার ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
* পোকার আক্রমণ হলে জমির পানি সরিয়ে দিতে হবে।
* ধানের চারা নির্দিষ্ট দূরত্বে (২৫x ২০ সেমি.) রোপণ করতে হবে।
* আক্রমণ বেশি হলে অনুমোদিত কীটনাশক (মিপসিন ৭৫ ডব্লিউপি, প্লিনাম, একতারা) গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে হবে।

 

রিংটু
নওগাঁ
প্রশ্ন : গরুর শরীরে আঁচিল হয়েছে কী করণীয়?
উত্তর : অটোজেনাস ভ্যাকসিন পশুর আঁচিল রোগের চিকিৎসায় কার্যকর।
অটোজেনাস ভ্যাকসিন তৈরির প্রক্রিয়া-
ক. প্রথমে পশুর ত্বকের আঁচিল ও তার চারপাশ পরিষ্কার করে নিতে হবে। প্রায় ২ গ্রাম পরিমাণ আঁচিল ধারালো ও জীবাণু মুক্ত ছুরি দ্বারা কেটে একটি জীবাণুমুক্ত পাত্রে সংগ্রহ করতে হবে।
খ. এবার জীবাণুমুক্ত কেঁচি দিয়ে আঁচিল টুকুরা টুকরা করে কেটে মর্টার ও পেস্ট্ল সাহায্যে ৫০% গ্লিসারল স্যালাইনে প্রথমে পেস্ট করে পরে ২০ মি.লি. সিøসারিন স্যালাইনে ১০% টিস্যু সাসপেনশন তৈরি করতে হবে।
গ. এ সাসপেনশন টিউব নিয়ে ২০ মিনিট সেন্টিফিউজ করতে হবে (৩০০০ জচগ)। ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য ২০% টিস্যু সাসপেনশনে ০.৪% ফরমালিন এবং অ্যান্টিবায়োটিক (স্ট্রেপটোপেনিসিলিন) প্রয়োগ করতে হবে। অতঃপর টিউবের ওপরে ফ্লুইড সংগ্রহ করে ৫ মি.লি করে ত্বকের নিচে সপ্তাহে একবার করে মোট ৩টি ইনজেকশন দিতে হয়। এভাবে চিকিৎসা করলে ৮০%-৮৫% আক্রান্ত গরু সুস্থ হয়।
ঘ. আঁচিল যদি সংখ্যায় কম ও আকারে বড় হয় তবে তা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলা যায় অথবা নাইলনের সুতা দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিলে কয়েক দিনের মধ্যে খসে পড়বে।

 

আরাফাত
দিনাজপুর
প্রশ্ন : ডেইরি ফার্ম করব। কয়েকটি দুধ উৎপাদনশীল গাভী সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : কয়েকটি দুধ উৎপাদনশীল গাভীর পরিচয়-
ক. হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান : এ জাতের গরু আকারে বড়। গায়ের রঙ কালো সাদা মিশ্রিত। গাভীর ওজন ৬৫০-৬৭৫ কেজি ও ষাঁড়ের ওজন ৯০০-১০০০ কেজি পর্যন্ত হয়। গাভীর ক্ষেত্রে ১ম বাচ্চা প্রদানের বয়স ১৮-২৪ মাস ও গর্ভধারণকাল ২৮০-২৯০ দিন। বছরে গড় দুধ উৎপাদন ৮০০০-১২০০০ লিটার
খ. জার্সি : এ জাতের গরুর আকার অপেক্ষাকৃত ছোট ও গায়ের রঙ কালচে অথবা লালচে। গাভীর ওজন ৪০০-৫০০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ৬০০-৭০০ কেজি পর্যন্ত হয়। বছরে গড় দুধ উৎপাদন ৪০০০-৫০০০ লিটার প্রথম বাচ্চা প্রদানের বয়স ৩০-৩৮ মাস ও গর্ভধারণকাল ২৮০-২৯০ দিন।
গ. শাহীওয়াল : হালকা লাল। বাদামি এবং সাদা রঙের শাহীওয়াল গরুর কুঁজ ও গলকম্বল বড় এবং ঝুলানো থাকে। গাভীর রঙ লাল এবং ওলান বেশ বড়। গাভীর গড় ওজন ৩০০-৪০০ কেজি এবং ষাঁড় ৪৫০-৫০০ কেজি পর্যন্ত হয়। বছরে গাভীপ্রতি গড় দুধ উৎপাদন ৪০০০-৫৫০০ লিটার, ১ম বাচ্চা উৎপাদন ৩০-৪০ মাস এবং গর্ভধারণকাল ২৮০ দিন পর্যন্ত হয়।
ঘ. হরিয়ানা : সাদা রঙের হরিয়ানা গরুর ঘাড় লম্বা ও সুগঠিত। গলকম্বল ছোট ও পাতলা, পা লম্বা, কুঁক বা চুট বেশ বড় ও প্রশস্ত। গাভীর ওজন গড়ে ৫০০-৫৫০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ৬০০-৬৫০ কেজি পর্যন্ত হয়। বার্ষিক দুধ উৎপাদন ৩২০০ লিটার ও প্রথম বাচ্চা প্রসবকাল ৪৪ মাস।
ঙ. থারপারকার : সাদা বর্ণের থারপাচকার গরু মাঝামাঝি আকার, সুগঠিত দেহ, উঁচু কপাল, চোখের পাঁপড়ি কালো ও চোখ উজ্জ্বল বড়, শিংয়ের গোড়া মোটা। গাভীর গড় ওজন ৪০০-৪৫০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ৫০০-৬০০ কেজি পর্যন্ত হয়। বছরের গড় দুধ উৎপাদন ৪০০০-৪৫০০ লিটার পর্যন্ত হয়।

 

এরশাদ আলি
জামালপুর
প্রশ্ন : শীত মৌসুমে মাছের ক্ষতরোগ বা ঘা দেখা যায়, কী করব?
উত্তর : শীত মৌসুমে পুকুরে পানির তাপমাত্রা কম থাকার কারণে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ বেশি হয়। ফলে মাছের গায়ে বিভিন্ন রকম ঘা, ক্ষতরোগ অথবা পাখনা বা ফুলকা পচা রোগ দেখা দেয়। এ জাতীয় রোগ দেখা দিলে প্রতি শতাংশ পুকুরে আধা কেজি চুন ও আধা কেজি লবণ প্রয়োগ করতে হয়, ৭ দিন পর আবার একইভাবে দিতে হয়। বছরে ২Ñ৩ বার চুন প্রয়োগ করা ভালো পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট শতাংশপ্রতি ১৫ গ্রাম এবং চুন ও লবণ শতাংশপ্রতি ১ কেজি করে প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
ঘাযুক্ত মাছগুলো পুকুর থেকে তুলে পাত্রে ২০ লিটার পানি নিয়ে তাতে ২০০ গ্রাম লবণ মিশিয়ে পানিতে মাছগুলোকে ৫ মিনিট রাখতে হবে। অন্য একটি পাত্রে একই পরিমাণ পানি নিয়ে ৫ গ্রাম পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশিয়ে ৫ মিনিটের জন্য মাছগুলোকে রাখতে হবে তারপর পুকুরে ছাড়তে হবে।
টেট্রাসাইক্লিন-টেরামাইসিন প্রতি কেজি খাদ্যে ২টা ট্যাবলেট ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে। বেশি ঘাওয়ালা মাছ ধরে পুঁতে ফেলতে হবে।
মাছের ক্ষতরোগের মাত্রা বেশি হলে চুন ১ কেজি/শতাংশ এবং লবণ ১ কেজি/শতাংশ হারে প্রয়োগ করতে হবে।
উপকূলীয় অঞ্চলে মাছ চাষের পুকুর বন্যায় প্লাবিত হলে ক্লোরাইডের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির (৩০ পিপিএমের বেশি) ফলে কেবল সিলভার কার্প মাছে ক্ষতরোগ দেখা যায়। এক্ষেত্রে আক্রান্ত পুকুরের তিন ভাগের দুই ভাগ পানি মিঠাপানির দ্বারা পরিবর্তন করতে হবে। প্রতি শতাংশে ৩-৪টি করে চালতা ছেঁচে সারা পুকুরে ছড়িয়ে দিতে হবে। পুকুরকে বন্যামুক্ত রাখতে হবে।

 

আহসান হাবিব
ঠাকুরগাঁও
প্রশ্ন : মাছের ফুলকা পচা রোগ হলে কী করব?
উত্তর : প্রতি শতাংশে আধা কেজি চুন ৭ দিন পর পর দিতে হবে। চুন ১ কেজি/শতক হারে প্রয়োগ করতে হবে। ঘা যুক্ত মাছগুলো পুকুর থেকে তুলে কোনো পাত্রে ২০ লিটার পানি নিয়ে তাতে ২০০ গ্রাম লবণ মিশিয়ে পানিতে মাছগুলোকে ৫ মিনিট রাখতে হবে। অন্য একটি পাত্রে একই পরিমাণ পানি নিয়ে ৫ গ্রাম পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশিয়ে ৫ মিনিটের জন্য মাছগুলোকে রাখতে হবে তারপর পুকুরে ছাড়তে হবে। প্রতি কেজি খাবারের সঙ্গে টেরামাইসিন ট্যাবলেট (৩ মিগ্রা.) একটি করে এক সপ্তাহ খাওয়াতে হবে।

 

কৃষিবিদ মোহাম্মদ মারুফ*

* সহকারী তথ্য অফিসার (শস্য উৎপাদন), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫


Share with :

Facebook Facebook