কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

বোরো ধানের জাত বৈশিষ্ট্য

ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য শস্য। এ দেশ বিশ্বের ধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশে ধানের হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৪.২ টন। আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর ভিত্তি করে দেশের ধান উৎপাদনের তিনটি মৌসুম লক্ষ্য করা যায়, যথা- আউশ, আমন ও বোরো। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক বোরো ধানের প্রায় ২৭টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। জাতগুলোর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো-
 

বিআর ৩
একটি উচ্চফলনশীল ধানের জাত, যা বোরো, আউশ এবং আমন তিন মৌসুমের জন্য অনুমোদিত। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৯৭৩ সনে জাতটি উদ্ভাবন করেছে। বিআর৩-এর জনপ্রিয় নাম বিপ্লব। এ জাতের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- গাছের উচ্চতা ৯৫ সেন্টিমিটার, এর চাল মাঝারি মোটা ও পেটে সাদা দাগ আছে, গাছ হেলে পড়ে না এবং ভাত ঝরঝরে। জাতটির জীবনকাল বোরো মৌসুমে ১৭০ দিন এবং ফলন হেক্টরপ্রতি ৬.৫ টন।
 
ব্রিআর ১৪
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ধান বিআর ১৪ বোরো এবং আউশ মৌসুমে চাষাবাদের জন্য ১৯৮৩ সনে জাতীয় বীজ বোর্ডের অনুমোদন লাভ করে। এ ধানের জনপ্রিয় নাম গাজী। এ জাতের বৈশিষ্ট্য হলো- গাছের উচ্চতা ১১৫-১২০ সেন্টিমিটার, কাণ্ড খুব মজবুত এবং পাতা খাড়া, কুশি গজানোর ক্ষমতা মাঝারি, ডিগপাতা কিছুটা হেলে যায়, ফলে শিষ উপরে দেখা যায় এবং দৃষ্টি আকর্ষণ করে, ছড়ার উপরিভাগের ধানে শুঙ আছে, চাল মাঝারি মোটা, সাদা এবং ভাত ঝরঝরে এবং এ জাতে প্রোটিনের পরিমাণ ৮.১%। এর জীবনকাল বোরো মৌসুমে ১৫৫-১৬০ দিন এবং ফলন- বোরো মৌসুমে হেক্টরপ্রতি ৬.০-৬.৫ টন।
 
বিআর ১৬
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ জাতটি ইরি থেকে প্রবর্তন করেছে। এটি ১৯৮৩ সনে বোরো ও আউশ মৌসুমে চাষাবাদের জন্য বিআর ১৬ নামে জাতীয় বীজ বোর্ডের অনুমোদন লাভ করে। এ জাতের জনপ্রিয় নাম শাহীবালাম। ইহা বোরো মৌসুমের বালাম ধান। এ জাতের বৈশিষ্ট্য- গাছের উচ্চতা ৯০-৯৫ সেন্টিমিটার, গাছের কাণ্ড এবং পাতা খাঁড়া ও সবুজ, কুশি গজানোর ক্ষমতা মাঝারি, চাল লম্বা, চিকন এবং সাদা, ভাত ঝরঝরে এবং সুস্বাদু, চালে প্রোটিনের পরিমাণ ৭.৮%। এ জাতের জীবনকাল বোরো মৌসুমে ১৫৫-১৬০ দিন এবং উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে বোরোতে হেক্টরপ্রতি ৫.৫-৬.০ টন ফলন দিয়ে থাকে।
 
বিআর ১৭
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এটিকে হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ হাওর এলাকার উপযোগী বলে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করে। এ জাতটি বিআর ১৭ নামে অনুমোদন লাভ করে। এ ধরনের জনপ্রিয় নাম হাসি। এ জাতের বৈশিষ্ট্য হলো- এটি আগাম জাত, গাছের উচ্চতা ১২৫ সেন্টিমিটার, চাল মাঝারি মোটা ও ভাত ঝরঝরে, ফুল ফোটার সময় শিষগুলো ডিগ পাতার উপরে থাকে। হাওর, বাঁওড় ও বিলাঞ্চলের জন্য এ জাতটি বিশেষ উপযোগী। কারণ গাছ লম্বায় ১২৫ সেন্টিমিটার, তাই ধান পাকার সময় হঠাৎ বন্যায় মাঠে কোমর পানি হলেও ফসল কাটা যায়। এ জাতের জীবনকাল ১৫৫ দিন এবং গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৬.০ টন।
 
বিআর ১৮
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার উপযোগী বলে এ জাতটি ইন্দোনেশিয়া থেকে এদেশে প্রবর্তন করেছে। এটি ১৯৮৫ সনে বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য বিআর ১৮ নামে জাতীয় বীজ বোর্ডের অনুমোদন লাভ করে। এ জাতের জনপ্রিয় নাম শাহজালাল। এ জাতের বৈশিষ্ট্য : কাণ্ড খুবই মজবুত ও হেলেপড়া প্রতিরোধী, গাছের উচ্চতা ১১৫-১২০ সেন্টিমিটার, চারার উচ্চতা ২০-২৫ সেন্টিমিটার, কুশি গজানোর ক্ষমতা মাঝারি, পাতা প্রশস্ত, লম্বা এবং মোটামুটি খাড়া, চাল মাঝারি মোটা, সাদা ও ভাত ঝরঝরে এবং এ জাতের ধান মাড়াই করা সহজ। জাতটির জীবনকাল ১৬৫-১৭০ দিন এবং ফলন হেক্টরপ্রতি ৬.০-৬.৫ টন। (বিআর ১৮) হাওর, বাঁওড় আর বিলাঞ্চলে এ জাতের আবাদ করা উচিত। কারণ এর কাণ্ড লম্বা, তাই ধান পাকার সময় হঠাৎ বন্যায় মাঠে কোমর পানি হলেও ফসল কাটা যায়।
 
বিআর ১৯
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার উপযোগী বলে এ জাতটি ইন্দোনেশিয়া থেকে এদেশে প্রবর্তন করেছে। এটি ১৯৮৫ সনে বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য বিআর ১৯ নামে জাতীয় বীজ বোর্ডের অনুমোদন লাভ করে। এ জাতের জনপ্রিয় নাম মঙ্গল। এটি হাওর অঞ্চলের ধান। এ জাতের বৈশিষ্ট্য- গাছের কা- লম্বা কিন্তু মজবুত, গাছের উচ্চতা ১১০-১১৫ সেন্টিমিটার, পাতা এবং কা- গাঢ় সবুজ, ডিগপাতা ছোট ও খাড়া, পাকার সময় শিষ উপরে থাকে এবং চাল লম্বা, সরু এবং স্বচ্ছ। এ জাতের জীবনকাল বীজ বপন থেকে পাকা পর্যন্ত ১৬৫-১৭০ দিন এবং ফলন হেক্টরপ্রতি ৬.০ টন। হাওর, বাঁওড় আর বিলাঞ্চলে এ জাতের আবাদ করা উচিত। কারণ এর কা- লম্বা, তাই ধান পাকার সময় হঠাৎ বন্যায় মাঠে কোমর পানি হলেও ফসল কাটা যায়।
 
ব্রি ধান ২৮
বোরো মৌসুমের একটি আগাম জাত। এ জাত ১৯৯৪ সনে চাষাবাদের জন্য অনুমোদিত হয়।এ জাতের জীবনকাল ব্রি ধান ২৯ এর চেয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ কম। তাই অসচ্ছল কৃষক যারা আগাম ফসল কাটতে চান তাদের জন্য এ জাতটি বিশেষভাবে উপযোগী। এ জাত আগাম বিধায় বন্যাপ্রবণ এলাকায় যেখানে পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যায় সেসব এলাকার জন্যও উপযোগী। এ ধানের মুড়ি ভালো হয়। বোরো ধান চাষের পর যারা সবুজ সার চাষ করে মাটির উর্বরতা বাড়াতে চান তারা এ আগাম জাতটি নির্বাচন করতে পারেন। এ জাতের বৈশিষ্ট্য- গাছের উচ্চতা ৯০ সেমি, পাকার সময় ধানের শিষ উপরে থাকে, চাল মাঝারি চিকন ও সাদা, ভাত ঝর ঝরে ও খেতে সুস্বাদু। এ জাতের জীবনকাল ১৪০ দিন এবং স্বাভাবিক ফলন হেক্টরপ্রতি ৫.৫-৬.০ টন।
 
ব্রি ধান ২৯
ব্রি ধান ২৯ বোরো মৌসুমের একটি নাবি জাতের ধান। ১৯৯৪ সনে এ জাতটি বাণিজ্যিকভিত্তিতে চাষাবাদের জন্য অনুমোদন করা হয়। এটি একটি উচ্চফলন ক্ষমতাসম্পন্ন জাত। ব্রি ধান ২৯ জাতের বৈশিষ্ট্য হলো- গাছের উচ্চতা ৯৫ সেন্টিমিটার, কাণ্ড মজবুত তাই হেলে পড়ে না এবং এর চাল মাঝারি চিকন ও সাদা। গুণে ও মানে ব্রি ধান ২৯ সব আধুনিক ধানের সেরা। বলা যেতে পারে বোরো মৌসুমে ব্রি ধান ২৯ সবচাইতে জনপ্রিয় জাত। এর ফলনের পরিমাণ সর্বোচ্চ। তবে উচ্চফলন দেয়ার জন্য এর সার গ্রহণ ক্ষমতাও বেশি। ব্রি ধান ২৯ পাতা পোড়া ও খোল পোড়া রোগে মধ্যম প্রতিরোধশীল। এর জীবনকাল ১৬০ দিন এবং গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭.৫ টন। অনেক কৃষকের মতে, ব্রি ধান ২৯ হলো বাংলাদেশের হাইব্রিড ধান।
 
ব্রি ধান ৩৬
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশের ঠাণ্ডা প্রবণ এলাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ জাতটি ইরি থেকে প্রবর্তন করেছে। এটি ১৯৯৮ সনে বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য ব্রি ধান ৩৬ নামে জাতীয় বীজ বোর্ডের অনুমোদন লাভ করে। এ জাতের বৈশিষ্ট্য- চারা অবস্থায় ঠাণ্ডা সহনশীল, গাছের উচ্চতা ৯০-৯৫ সেন্টিমিটার, পাকার সময় পর্যন্ত গাছ সবুজ থাকে, চাল লম্বা ও চিকন, ভাত ঝরঝরে এবং খেতে সুস্বাদু এবং চালে প্রোাটিনের পরিমাণ ৮.৭%। জাতটির জীবনকাল ১৪০-১৪৫ দিন এবং উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে হেক্টরপ্রতি ৫.০-৫.৫ টন ফলন দিয়ে থাকে। বীজ বপনের সময় বোরো মৌসুমে যেসব এলাকায় তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এর নিচে নেমে যায় সেসব এলাকার জন্য ব্রি ধান ৩৬ খুবই উপযুক্ত।
 
ব্রি ধান ৪৫
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ব্রি ধান ৪৫ জাতটি সংকরায়ন করে উদ্ভাবন করেছে। এটি ২০০৫ সনে বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য জাতীয় বীজ বোর্ডের অনুমোদন লাভ করে। ব্রি ধান ২৮ এর সমান জীবনকাল কিন্তু ফলন বেশি। এ জাতের বৈশিষ্ট্য- গাছ ব্রি ধান ২৮ এর চেয়ে অধিক মজবুত, গাছের উচ্চতা ৯৫-১০০ সেন্টিমিটার, ডিগপাতা লম্বা এবং খাঁড়া, ১০০০ ধানের ওজন ২৬ গ্রাম, চাল মাঝারি মোটা এবং সাদা, ভাত ঝরঝরে এবং সুস্বাদু এবং চালে প্রোটিনের পরিমাণ ৭.২%। এ জাতটির জীবনকাল ১৪০-১৪৫ দিন এবং উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে হেক্টরপ্রতি ৬.০-৬.৫ টন ফলন দিয়ে থাকে।
 
ব্রি ধান ৪৭
২০০৬ সনে জাতটি চাষাবাদের জন্য জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন লাভ করে। ব্রি ধান ৪৭ বাংলাদেশের লবণাক্ত এলাকায় বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য অনুমোদন করা হয়েছে। এ জাতের বৈশিষ্ট্য- এটি লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত, গাছের উচ্চতা ১০৫ সেমি., ডিগ পাতা চওড়া, লম্বা ও খাঁড়া, চাল মাঝারি মোটা এবং পেটে সাদা দাগ আছে, এ জাতটি চারা অবস্থায় উচ্চ মাত্রা (১২-১৪ ডিএস/মিটার) লবণাক্ততা সহনশীল এবং বয়স্ক অবস্থায় নিম্ন থেকে মধ্যম মাত্রা ৬ ডিএস/মিটার লবণাক্ততা সহনশীল। এ জাতটির জীবনকাল ১৫২ দিন এবং লবণাক্ত পরিবেশে হেক্টরপ্রতি ৬.০ টন ফলন দিতে সক্ষম। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৮.৫ লাখ হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততা কবলিত। ধান সাধারণত লবণাক্ততা সংবেদনশীল ফসল। এ কারণে লবণাক্ত এলাকায় বিশেষত বোরো মৌসুমে উফশী ধান চাষাবাদ ব্যাহত হয়। বোরো মৌসুমে প্রধানত প্রথম দিকে অর্থাৎ চারা অবস্থায় লবণাক্ততা বেশি থাকে। এ অবস্থায় ব্রি ধান ৪৭ আবাদ করে কৃষকরা ব্রি ধান২৮ বা অন্যান্য বোরো ধানের চাইতে অধিক ফলন পেতে পারেন।
 
ব্রি ধান ৫০
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উঁচু জমি এবং সেচ সুবিধা ভালো এমন জমির জন্য ব্রি ধান ৫০ অনুমোদন করেছে। এটি ২০০৮ সনে বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য ব্রি ধান ৫০ নামে জাতীয় বীজ বোর্ডের অনুমোদন লাভ করে। এ জাতের জনপ্রিয় নাম বাংলামতি। এটি বোরো মৌসুমের একমাত্র সুগন্ধিযুক্ত আধুনিক জাত। এ জাতের বৈশিষ্ট্য- গাছের উচ্চতা ৮২ সেন্টিমিটার, গাছ হেলে পড়ে না, চাল লম্বা, চিকন, সুগন্ধি ও সাদা, ভাত ঝরঝরে এবং চালে প্রোটিনের পরিমাণ ৮.২%। এ জাতের চালে সুগন্ধি আছে এবং চালের মান বাসমতির মতো। ধান ও চাল সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবে চাল তৈরির ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতি এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ জাতের জীবনকাল বীজ বপন থেকে পাকা পর্যন্ত ১৫৫ দিন এবং ফলন হেক্টরপ্রতি ৬.০ টন।
 
ব্রি ধান ৫৫
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এ জাতটি উদ্ভাবন করে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জাতটি বোরো ও আউশ মৌসুমে চাষাবাদের জন্য নির্বাচন করা হয়। এ জাতটি ২০১১ সনে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন লাভ করে। বোরো মৌসুমের চাষাবাদ পদ্ধতি নিম্নে দেয়া হলো। এ জাতের বৈশিষ্ট্যÑ এটি আগাম জাত, অধিক ফলনশীল, গাছের উচ্চতা ১০০ সেন্টিমিটার, চাল লম্বা, মাঝারি চিকন, এক হাজার ধানের ওজন ২৩.৫ গ্রাম, চালে প্রোটিনের পরিমাণ ৮.৩% এবং চালে এম্যাইলোজের পরিমাণ ২২%। জাতের জীবনকাল ১৪৫ দিন এবং গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭.০ টন। ব্রি ধান ৫৫ মাঝারি লবণ (৮-১০ ডিএস/মিটার ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত) সহনশীল এবং মাঝারী ঠাণ্ডা ও খরাসহিষ্ণু জাত। অতএব, এ জাতটি ঠাণ্ডা প্রবণ এলাকায় বোরো মৌসুমে চাষাবাদ করা সম্ভব। জাতটি আগাম হলেও অধিক ফলনশীল।
 
ব্রি ধান ৫৮
ব্রি ধান ৫৮ এর কৌলিক সারি নং- BRRI dhan29-SC3-28-16-4-HR2 ওই কৌলিক সারিটি সোমাক্লোনাল ভ্যারিয়েশনের মাধ্যমে উদ্ভাবিত। ওই ভ্যারিয়েন্ট প্রথমত ব্রি ধান ২৯ এর চাল থেকে ল্যাবরেটরিতে টিস্যু কালচার পদ্ধতির মাধ্যমে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ওই ভ্যারিয়েন্ট গ্রিন হাউসে স্থানান্তর করে জন্মানোর ফলে প্রাপ্ত গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করা হয়। ওই বীজ বর্ধন করে বৃহৎ পরিসরে জন্মানো হয় এবং প্রচলিত পদ্ধতিতে কৌলিক বাছাই এর মাধ্যমে চূড়ান্ত কৌলিক সারি নির্বাচন করা হয়। কৌলিক সারিটি প্রজনন প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বোরো মৌসুমে ব্রি ধান ২৮ ও ব্রি ধান ২৯ জাতের চাষাবাদ উপযোগী এলাকায় ফলন পরীক্ষায় সন্তোষজনক হওয়ায় ২০১২ সনে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক বোরোর জাত হিসাবে অনুমোদিত হয়। এ জাতের বৈশিষ্ট্য- পূর্ণ বয়স্ক গাছের উচ্চতা ১০০-১০৫ সেমি. অঙ্গজ অবস্থায় গাছের আকার ও আকৃতি ব্রি ধান ২৯ এর চেয়ে লম্বা, এ জাতের ডিগ পাতা হেলানো এবং লম্বা, ধান পরিপক্ব হওয়ার সাথে সাথে ডিগপাতা বেশি হেলে থাকে, ধানের দানা অনেকটা ব্রি ধান ২৯ এর মত তবে সামান্য চিকন, ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৪ গ্রাম, পাকা ধানের রঙ খড়ের মতো এবং চালের আকার আকৃতি প্রায় ব্রি ধান ২৯ এর মতো। ব্রি ধান ৫৮ এর জীবনকাল ব্রি ধান ২৮ এর চেয়ে ৬-৭ দিন নাবি কিন্তু ব্রি ধান ২৯ জাতের চেয়ে ৭-১০ দিন আগাম। ব্রিধান৫৮ মাঝারি ঢলে পড়া প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন যা ব্রি ধান ২৮-এ নেই। এ জাতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলোÑ শিষ থেকে ধান ঝরে পড়ে না। পরিপক্ব শিষগুলো ডিগপাতার উপরে অবস্থান করে বিধায় পুরো ক্ষেত দেখতে খুব আকর্ষণীয় এবং অধিক ফলনশীল। এ জাতের জীবনকাল ১৫০-১৫৫ দিন এবং উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে ব্রি ধান ৫৮ চাষে হেক্টরে ৭.০ টন থেকে ৭.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
 
ব্রি ধান ৫৯
ব্রিধান ৫৯ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক INGER (International Network for Germplasm Evaluation of Rice) এর মাধ্যমে সংগ্রহ ও মূল্যায়ন করে জাত হিসাবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়। এর কৌলিক সারি নং- ইড৩২৮। জাতটি ২০১৩ সনে NTC- কর্তৃক বোরো মৌসুমে জন্য অনুমোদন লাভ করে। জাতের বৈশিষ্ট্য : অধিক ফলনশীল, গাছের উচ্চতা ৮৩ সেমি. এবং ঢলে পড়ে না, চালের আকার আকৃতি মাঝারি মোটা এবং রঙ সাদা, ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৪.৬ গ্রাম, চালে প্রোটিনের পরিমাণ ৭.৫% এবং চালে এম্যাইলোজের পরিমাণ ২৪.৬%। ব্রিধান ৫৯ এর জীবনকাল ব্রিধান ২৮ এর চেয়ে এক সপ্তাহ নাবি কিন্তু গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ০.৬ টন বেশি। এ জাতের পূর্ণবয়স্ক গাছ উচ্চতায় ব্রিধান ২৮ এর চেয়ে খাটো এবং মজবুত বিধায় ঢলে পড়ে না। এ জাতের গড় জীবনকাল ১৫৩ দিন এবং হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৭.১ টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে ব্রি ধান ৫৯ এর সম্ভাব্য ফলন (Potential yield) হেক্টরে ৮.৫ টন পর্যন্ত পাওয়া যায়।
 
ব্রি ধান ৬০
ব্রি ধান ৬০-এর কৌলিক সারি নং- BR7323-4B-1। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক BR7166-4-5-3 এবং BR26 এর মধ্যে সঙ্করায়ন পর বংশানুক্রম নির্বাচনের (Pedigree Selection) মাধ্যমে উদ্ভাবিত। জাতটি ২০১৩ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক বোরো মৌসুমে জন্য অনুমোদন লাভ করে। জাতের বৈশিষ্ট্য- অধিক ফলনশীল, গাছের উচ্চতা ৯৮ সেমি. চালের আকার লম্বা ও সরু এবং রঙ সাদা, ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৩.৮ গ্রাম, চালে প্রোটিনের পরিমাণ ৭.৮% এবং চালে এম্যাইলোজের পরিমাণ ২২.২%। ব্রি ধান৬০ এর জীবনকাল ব্রি ধান ২৮ এর চেয়ে ৪-৫ দিন নাবি কিন্তু ফলন প্রতি হেক্টরে ০.৮ টন বেশি। এ জাতের পূর্ণবয়স্ক গাছ উচ্চতায় ব্রি ধান ২৮ এর চেয়ে সামান্য খাটো এবং গাছ মজবুদ বিধায় ঢলে পড়ে না। এ জাতের গড় জীবনকাল ১৫১ দিন এবং হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৭.৩ টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে ব্রিধান ৬০ এর সম্ভাব্য ফলন (Potential yield) হেক্টরে ৮.৫ টন পর্যন্ত পাওয়া যায়।
 
ব্রিধান ৬১
ব্রিধান৬১ এর কৌলিক সারি নং- BR7105-4R-2 ওই কৌলিক সারিটি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক IR64419-3B-4-3 এবং BRRI dhan29 এর সঙ্করায়নের এবং কৌলিক বাছাই (Pedigree selection) এর মাধ্যমে উদ্ভাবিত। প্রচলিত প্রজনন পদ্ধতিতে চূড়ান্ত কৌলিক সারি নির্বাচন করা হয়। জাতটি দেশের বিভিন্ন লবণাক্ততাপ্রবণ অঞ্চলে বোরো মৌসুমে ব্রি ধান ৪৭ জাতের চাষাবাদ উপযোগী এলাকায় চাষের উপযোগী। জাতটি ২০১৩ সনে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক বোরো মৌসুমে জন্য অনুমোদন লাভ করে। ব্রি ধান ৬১ এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো চারা অবস্থায় ১২-১৪ ডিএস/মি (৩ সপ্তাহ পর্যন্ত) লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। উপরন্তু এ জাতটি অঙ্গজ বৃদ্ধি থেকে প্রজনন পর্যায় পর্যন্ত লবণাক্ততা সংবেদনশীল সব ধাপে (Salt sensitive stages) ৮ ডিএস/মি মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করে ফলন দিতে সক্ষম যা প্রচলিত উচ্চফলনশীল জাত ব্রি ধান ২৮ পারে না। এ জাতটি ব্রি ধান ৪৭ এর মতো লবণ সহ্য করতে পারে তবে এর দানা মাঝারি চিকন ও শিষ থেকে ধান সহজে ঝরে পড়ে না। এ জাতের বৈশিষ্ট্য : অধিক ফলনশীল, চারা অবস্থায় ১২-১৪ ডিএস/মি (৩ সপ্তাহ পর্যন্ত) এবং অঙ্গজ বৃদ্ধি থেকে প্রজনন পর্যায় পর্যন্ত ৮ ডিএস/মি লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে, গাছের উচ্চতা ৯৫ সেমি. চালের আকার মাঝারি চিকন, ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২১ গ্রাম, চালে প্রোটিনের পরিমাণ ৮.৮%, চালে এম্যাইলোজের পরিমাণ ২২%, খোলে (Leaf sheath) ও বড় তুষের (Lemma) অগ্রভাগে, এনথোসায়ানিন রঙ আছে এবং গর্ভমুণ্ড (Stigma) পার্পল বর্ণের। এ জাতের গড় জীবনকাল ১৪৫-১৫০ দিন এবং লবণাক্ততার মাত্রা ভেদে হেক্টর প্রতি ৩.৮-৭.৪ টন ফলন দিতে সক্ষম, যা ব্রি ধান২৮ এর থেকে ১.৫ টন/হেক্টর বেশি।
 
ব্রি ধান ৬৩
ব্রি ধান ৬৩ বোরো মৌসুমের একটি প্রিমিয়াম কোয়ালিটি রাইস। এর কৌলিক সারি BR 7358-30-3-1। ওই কৌলিক সারিটি ইরানিয়ান জাত Amol-3 এবং BRRI dhan ২৮ নামক উচ্চফলনশীল মেগা জাতের সাথে সংকরায়ন করে পরবর্তীতে বংশানুক্রম সিলেকশন (Pedigree Selection)  এর মাধ্যমে উদ্ভাবিত। কৌলিক সারিটি ব্রি সদর দপ্তর, আঞ্চলিক কার্যালয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকের মাঠে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ফলন পরীক্ষায় সন্তোষজনক হওয়ায় ২০১৪ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক বোরো মৌসুমে কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের জন্য অনুমোদন লাভ করে। এ জাতটির চাল সরু এবং গুণাগুণ বালাম চালের মতো বলে জাতটি সরু বালাম নামে পরিচিতি। এ জাতের পাকা ধানের রঙ সোনালি চালের আকার আকৃতি পাকিস্তানি বাসস্তমির মতো লম্বা ও চিকন চালে আমাইলোজের পরিমাণ ২৫.০% চালে প্রোটিনের পরিমাণ ৮.২% ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২২.১ গ্রাম।
 
এ জাতের ডিগ পাতা খাড়া ও লম্বা তাই এ ধান দেখতে খুব আকর্ষণীয় হয়। বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য একটি উত্তম জাত, যা বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। এ ধানটি ব্রিধান ৫০ এর চেয়ে ৫-৭ দিন আগাম। ব্রিধান ৬৩ জাতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শিষ থেকে ধান ঝরে পড়ে না। ব্রি ধান ৬৩ চালের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো রান্নার পর ভাত লম্বায় বাড়ে। এ ধানটি ব্রি ধান ২৮ এর মতো একই পরিচর্যায় করা যাবে। এ ধান চাষ করে কৃষক অধিক লাভবান হবেন। এ জাতের জীবনকাল- এ জাতের গড় জীবনকাল ১৪৮-১৫০ দিন। ফলন- ব্রি ধান ৬৩ উপযুক্ত পরিচর্যায় হেক্টরে ৬.৫-৭.০ টন ফলন দিতে সক্ষম।
 
ব্রি ধান ৬৪
ব্রি ধান ৬৪ জিংক সমৃদ্ধ বোরো ধানের জাত। এ জাতটি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট IR 75382-32-2-3-3 এবং  BR 7166-4-5-3-2-5-5B1-92 এর মধ্যে সঙ্করনের পর বংশানুক্রম সিলেকশন (Pedigree Selection) এর মাধ্যমে উদ্ভাবন করেছে। এর কৌলিক সারি নং- BR7840-54-1-2-5 এ জাতটি ২০১৪ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক বোরো মৌসুমে কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের জন্য অনুমোদন লাভ করে। অধিক ফলনশীল।
 
এ জাতের বৈশিষ্ট্য গাছের উচ্চতা ১১০ সেমি.।
চালের মাঝারি মোটা এবং রঙ সাদা।
১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৪.৬ গ্রাম।
চালে প্রোটিনের পরিমাণ ৭.২%।
চালে জিংক এর পরিমাণ ২৪ মিলিগ্রাম/কেজি।
 
ব্রি ধান ৬৪ এর চালে উচ্চ মাত্রায় অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যোপাদান জিংক রয়েছে। মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, বৃদ্ধিমত্তাসহ নানাবিধ শারীরবৃত্তীক প্রক্রিয়ার জন্য জিংক অতি প্রয়োজনীয়। এর অভাবে শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ব্যহত হয়; বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি যেমন, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, ম্যালেরিয়াতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। আমাদের দেশের শতকরা ৪০ ভাগের বেশি মানুষ বিশেষ করে শিশু ও নারীদের জিংকের ঘাটতি রয়েছে। প্রচলিত উচ্চফলনশীল ধানের জাতগুলোতে জিংকের গড় পরতা পরিমাণ ১৫-১৬ মিলিগ্রাম। ব্রি ধান ৬৪ তে জিংকের পরিমাণ প্রচলিত জাতের চেয়ে কমপক্ষে ৮ মিলিগ্রাম বেশি। এ জাতের ভাত নিয়মিত খেলে আমাদের মতো দেশগুলোর দরিদ্র মানুষের দৈনিক জিংক চাহিদার কমপক্ষে শতকরা ৪০ ভাগ পূরণ করা সম্ভব হবে। এ ধানের জাত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জিংকের অভাব জনিত অপুষ্টি লাঘবে টেকসই ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। জীবনকাল- এ জাতের গড় জীবনকাল ১৫০-১৫২ দিন। ফলন : হেক্টরপ্রতি গড় ৬.০-৬.৫ টন ফলন দিতে সক্ষম। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে ৭.০ টন পর্যন্ত ফলন দিতে পারে।
 
ব্রি হাইব্রিড ধান ১
গত ৩৫ বছরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে প্রধানত উচ্চফলনশীল ধানের ব্যাপক চাষাবাদের ফলে চালের উৎপাদন বেড়েছে আড়াইগুণ। কিন্তু অন্যান্য খাদ্যশস্যের উৎপাদন সমানতালে বৃদ্ধি না পাওয়ায় দেশে খাদ্য ঘাটতি রয়ে গেছে। তাছাড়া প্রতি বছর চাষাবাদের জমির পরিমাণ শতকরা ০.৬১ হারে হ্রাস পাচ্ছে। এ অবস্থায় উফশী জাত দ্বারা দেশের খাদ্য চাহিদা মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। হাইব্রিড ধান বর্তমানে উচ্চফলনশীল যে কোনো জাতের চেয়ে হেক্টরে প্রায় ১ টন বেশি ফলন দিতে সক্ষম। তাই অল্প জমি থেকে অধিক ধান উৎপাদন বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে হলে হাইব্রিড ধানের চাষ করতে হবে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ব্রি হাইব্রিড ধান১ বরিশাল ও যশোর অঞ্চলে চাষাবাদের জন্য ২০০১ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন লাভ করে। এ জাতের বৈশিষ্ট্যÑ এর ডিগপাতা ঘন সবুজ এবং খাঁড়া, চাল মাঝারি চিকন, স্বচ্ছ ও সাদা, ভাত ঝরঝরে, এর চালে প্রটিনের পরিমাণ ৮.৯% এবং এম্যাইলোজের পরিমাণ ২৭%। এ জাতটির জীবনকাল ১৫৫-১৬০ দিন এবং হেক্টরপ্রতি ফলন ৭.৫-৮.৫ টন।
 
ব্রি হাইব্রিড ধান ২
ব্রি হাইব্রিড ধান ২ বোরো মৌসুমে চাষ উপযোগী ব্রি উদ্ভাবিত একটি হাইব্রিড ধান। ইহার কৌলিক সারি বিআর১০এইচ। জাতটি ২০০৮ সনে জাতীয় বীজবোর্ড কর্তৃক অনুমোদ লাভ করে। জাতের বৈশিষ্ট্য- গাছের উচ্চতা ১০৫ সেমি. এর কাণ্ড ও পাতা ঘন সবুজ এবং খাড়া, চাল মাঝারি মোটা এবং ভাত ঝরঝরে, এ জাতের চালে ৯.০% প্রোটিন ও ২৩.৩% এম্যাইলোজ রয়েছে। এ জাতের জীবনকাল ১৪৫ দিন এবং গড় ফলন ৮.০ টন/হেক্টর।

ব্রি হাইব্রিড ধান ৩
ব্রি হাইব্রিড ধান৩ বোরো মৌসুমের জন্য চাষ উপযোগী ব্রি উদ্ভাবিত একটি জাত। ইহার কৌলিক সারি বিআরএইচ২। জাতটি ২০০৯ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তক অনুমোদন লাভ করে। এ জাতের বৈশিষ্ট্য- এটি একটি আগাম জাত, গাছের উচ্চতা ১১০ সেন্টিমিটার, চাল মাঝারি মোটা এবং ভাত ঝরঝরে। এর জীবন কাল ১৪৫ দিন এবং এই জাতের গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৯.০ টন।
 
 বারি উদ্ভাবিত সর্বশেষ বোরো ধানের জাতগুলো
নানা গুণের আরো পাঁচটি নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে একটি আউশ, একটি আমন ও ৩টি বোরো ধানের জাত রয়েছে। এর ফলে খরা সহ্য করতে পারে এমন জাতের পাশাপাশি এখন প্রোটিন ও এমাইলোজ সমৃদ্ধ ধানের বীজও পাওয়া যাবে। আগ্রহী কৃষকরা চলতি মৌসুম থেকেই এই বীজ নিয়ে আবাদ শুর করতে পারবেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট  উদ্ভাবিত এ জাতগুলো হলো ব্রিধান ৬৫, ব্রিধান ৬৬, ব্রিধান ৬৭, ব্রিধান ৬৮, ব্রিধান ৬৯। জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় এ পাঁচটি ইনব্রিড ও হাইব্রিড ধান জাত অবমুক্ত করা হয়। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রিধান ৬৭ জাতটি বোরো মৌসুমে আবাদ করা যাবে। এ জাতের গড় জীবনকাল ১৪০ থেকে ১৫০ দিন। চালের আকার আকৃতি মাঝারি চিকন এবং রঙ সাদা। প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, চারা অবস্থায় ১২ থেকে ১৪ ডিএস/মি. (৩ সপ্তাহ) লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। ফলন হেক্টরে তিন দশমিক আট থেকে সাত দশমিক চার টন। জাতটি পুরো জীবনকাল আট ডিএস/মি. লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে।
      ব্রিধান ৬৮ জাতটিও বোরে মৌসুমের জন্য। এ জাতের গড় জীবনকাল ১৪৯ দিন। এ ধানের চাল মাঝারি মোটা এবং রঙ সাদা। চালে শতকরা সাত দশমিক সাত ভাগ প্রোটিন এবং ২৫ দশমিক সাত ভাগ এম্যাইলোজ রয়েছে। ব্রিধান ৬৮ এর জীবনকাল ব্রিধান ২৮ এর চেয়ে চার থেকে পাঁচ দিন নাবী। ফলন হেক্টরে সাত দশমিক তিন টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে নয় দশমিক দুই টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।
      ব্রিধান ৬৯ জাতটিও বোরো মৌসুমের জন্য। এ জাতের গড় জীবনকাল ১৪৫ থেকে ১৬০ দিন। এ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য ধানের দানার রঙ সোনালি রঙের এবং মাঝারি মোটা। চালের আকার আকৃতি মাঝারি মোটা এবং রঙ সাদা। এই জাতের জীবনকাল ব্রিধান ২৮ এর চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ দিন বেশি। ফলন হেক্টরে সাত দশমিক ৩০ টন। এ জাতটি কম উপকরণ ব্যবহারের ভালো ফলন দিতে সক্ষম। জাতটিতে অন্য জাতের চেয়ে ২০ দশমিক ইউরিয়া কম লাগে। (সংকলিত)

 
 
সৈয়দ আবু সিয়াম জুলকারনাইন*
* তথ্য অফিসার (কৃষি), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল নং-০১৭১৪২৩৭৪৫৯
 

Share with :

Facebook Facebook