কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

প্রশ্নোত্তর-১৪২১

আবদুল মোতালেব
হাতিবান্ধা, লালমনিরহাট
প্রশ্ন : পেয়ারা গাছের ডালপালা আগা থেকে মরে যায়, ফল ফেটে যায় ও পচে যায়। করণীয় কী?
উত্তর : ছোট বড় যে কোনো বয়সের গাছ আগা থেকে মরতে পারে, যা ডাই ব্যাক নামে পরিচিত। এক প্রকার ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়। এগুলো রোগাক্রান্ত ডালপালা থেকে বৃষ্টি ও বাতাসের দ্বারা বিস্তার লাভ করে।
 
দমন ব্যবস্থা : মরা ডালপালা কেটে পুড়িয়ে ফেলা ও কাটা স্থানে বোর্দোপেস্ট বা কিউ প্রভিট ২ গ্রাম ১ লিটার পানিতে গুলে ব্রাশ বা তুলা দিয়ে লাগান। প্রতি বছর আক্রমণ হয় জানা থাকলে টিল্ট (০.০৫%), ব্যভিস্টিন বা নোইন (০.২%), ফল মটরদানার মতো অবস্থায় আসার পর থেকে ১৫ দিন পর পর ৪ বার স্প্রে করা। ফল পাকার একমাস আগে থেকেই স্প্রে বন্ধ করতে হবে।
 
মো. আশেক আলী
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ
 
প্রশ্ন : সরিষা গাছের পাতার নিচের পৃষ্ঠে সাদা পাউডারের মতো এবং পাতার ওপরের পৃষ্ঠ হলদে রঙের। প্রতিকারের উপায় কী?
উত্তর : পেরোনোস পোরা ব্রাসিসি নামক এক প্রকার ছত্রাক দ্বারা এ রোগ হয়। গাছের চারা অবস্থার পর থেকে যে কোনো সময় এ রোগে গাছ আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগ পরবর্তীতে সরিষার শুটি আক্রমণ করে। আক্রান্ত বীজ ও বিকল্প পোষকের মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে। গাছ ঘন করে লাগালে ও বাতাসের আর্দ্রতা কম হলে এ রোগ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
 
প্রতিকার : সুষম সার ব্যবহার ও সেচের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করে লাগাতে হবে। রোগ দেখা মাত্র রিডোমিল এম জেড-৭২ বা ডাইথেন এম-৪৫ শতকরা ০.২ ভাগ হারে (প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম ছত্রাকনাশক) ১০ দিন পর পর তিনবার সব গাছে ছিটিয়ে দিতে হবে।
 
কুশল                                                                                    
পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
 
প্রশ্ন : বাঁধাকপির গোড়া পচা রোগ।
উত্তর : ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রকলির চারা রোপণের পর  ২-৩ সপ্তাহ এ রোগের আক্রমণ বেশি হয়ে থাকে। এ রোগে আক্রান্ত চারা গোড়া পচে মারা যায়। এ রোগের জীবাণু মাটিতে থাকে এবং অনুকূল পরিবেশে সহজেই চারার গোড়ায় আক্রমণ করে থাকে।  
 
- ফসলের পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
- সেচের বা বৃষ্টির পর চারার গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে।
- ভিটাভেক্স- ২০০ বা প্রোভেক্স (প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম) হারে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর গাছের গোড়াসহ মাটি ভিজিয়ে দিতে হবে।                                                                                                     
হাফিজুর রহমান                                                       
মান্দা, নঁওগা  
 
প্রশ্ন : আলুর গায়ে বিভিন্ন আকারের বাদামি দাগ পড়ে, গর্তের মতো হয় কী কী ব্যবস্থা নিলে এ রোগ হবে না জানালে ভালো হয়।
উত্তর : স্ট্রেপ্টোমাইসিস স্কেবিজ নামক জীবাণুর আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে। রোগমুক্ত বীজ বপন করতে হবে। আলু লাগানোর সময় ২% বোরিক এসিড দ্রবণে কাটা আলু এবং ৩% দ্রবণে আস্ত আলুকে ৩০ মিনিট ডুবিয়ে রেখে তারপর ভালোভাবে বাতাসে শুকিয়ে লাগাতে হবে। আলু টিউবার ধারণের সময় অর্থাৎ ৩৫-৫৫ দিন পর্যন্ত জমিতে পানির অভাব হতে দেয়া যাবে না এবং গাছের বয়স ৭০ দিনের পর সেচ বন্ধ করতে হবে। জমিতে বেশি মাত্রায় নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করা যাবে না। জমিতে হেক্টরপ্রতি ১২০ কেজি জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হবে।                                                                                      

মো. মকবুল হোসেন
উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ
 
প্রশ্ন : গম চাষে কয়টি সেচের প্রয়োজন হয়?
উত্তর : মাটির প্রকারভেদে ২-৩টি সেচের প্রয়োজন হয়। প্রথম সেচ অবশ্যই চারা গজানোর ১৭-২১ দিন পর, দ্বিতীয় সেচ গমের শীষ বের হওয়ার সময় (বপনের ৭৫-৮০ দিন পর) প্রয়োগ করতে হবে।
 
প্রশ্ন : পুকুরে প্রাকৃতিক খাবার নেই, মাছ খাবি খায়। এ অবস্থায় করণীয় কী?
উত্তর : মৎস্য চাষে মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য মাছকে সরবরাহকৃত খাবারের সাথে সাথে পুকুরে যে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রাকৃতিক খাবার থাকে সে বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি। পুকুরের পানি যদি খুব স্বচ্ছ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে পানিতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাবার নেই। পুকুরে প্রাকৃতিক খাবার উৎপাদনের জন্য প্রতি শতক পুকুরের জন্য ইউরিয়া ১০০-১৫০ গ্রাম, টিএসপি ৫০-৭৫ গ্রাম এবং গোবর ২-৫ কেজি ১৫ দিন পর পর দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনোভাবেই পুকুরের পানি খুব বেশি সবুজ বা গাড় সবুজ হয়ে না যায়। তাতে মাছের অক্সিজেনের অভাব হয়ে মাছ মারা যেতে পারে।
 
মূলত পুকুরের পানিতে অক্সিজেনের অভাব হলে মাছ খাবি খায়। এ অবস্থায় মাছের ঘনত্ব বেশি হলে কমাতে হবে। পানি বদল করতে হবে ও নতুন পানি ঢুকাতে হবে। পানিতে ঢেউয়ের সৃষ্টি বা বাঁশ পিটিয়ে অক্সিজেনের সংযোগ ঘটাতে হবে। পুকুরে হররা টানতে হবে।
 
প্রশ্ন : পুকুরের পানি ধারণক্ষমতা কীভাবে বাড়ানো যায়?
উত্তর : পুকুরে পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এঁটেল-দোআঁশ মাটি পুকুরের তলায় চারদিকে ৬ ইঞ্চি পরিমাণ ছড়িয়ে দিতে হবে। পুকুর শুকিয়ে গেলে তলায় ও পাড়ে ধৈঞ্চা বুনে ২ ফুট গাছ হলে তা চাষ দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
 
প্রশ্ন : পুকুর তৈরির সময় এবং মাছ থাকা অবস্থায় সার প্রয়োগের মাত্রা কেমন হবে?
উত্তর :
পুকুর তৈরির সময়
প্রতি শতাংশে ইউরিয়া- ১৫০ গ্রাম, টিএসপি-১০০ গ্রাম, এমপি-২৫ গ্রাম গোবর ৮-১০ কেজি অথবা কোম্পোস্ট সার- ১০-১৫ কেজি।
 
মাছ থাকা অবস্থায়
প্রতি শতাংশে ইউরিয়া -১৫০ গ্রাম, টিএসপি-১০০ গ্রাম, গোবর-৪-৫ কেজি অথবা কম্পোস্ট সার-৮-১০ কেজি।
মজুদপূর্ব অবস্থায়
ইউরিয়া- ১০০ গ্রাম/শতক, টিএসপি- ৫০ গ্রাম/শতক, গোবর ৮-১০ কেজি/শতক।
 
মজুদ পরবর্তী অবস্থায়
ইউরিয়া-১০ গ্রাম/শতক, টিএসপি-৬ গ্রাম/শতক, গোবর-১০০-১৫০ গ্রাম/শতক হারে ২ দিন পর পর পানির রঙের ওপর নির্ভর করে দিতে হবে।
 
আবদুল আলীম
পাবনা
 
প্রশ্ন : মুরগির বসন্ত হয়েছে। কী করণীয়?
উত্তর : ডেটল বা সেভলন অথবা পটাসিয়াম পার ম্যাঙ্গানেট দ্বারা বসন্তের গুটি দিনে ৪-৫ বার পরিষ্কার করে দিতে হবে।
তারপর নিম্নোক্ত অ্যান্টিবায়োটিক মলম দিতে হবে।
রেনামাইসিন ওয়েন্টমেন্ট আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে।
কসমিক্স প্লাস কসিট্রিম ১ গ্রাম ওষুধ ১ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ৫ দিন খাওয়াতে হবে।
                                                    
শাহ আলম                                                                   
দিনাজপুর
 
প্রশ্ন : বাছুরের চোয়ালের নিচে ফুলে গেছে। কী করণীয়?
উত্তর : সেলিভোন ইনজেকশন ১০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ২ মিলিলিটার ইঞ্জেকশান মাংসপেশি বা শিরায় ধীরে ধীরে প্রয়োগ করতে হবে। ২য় দিনেও এ মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।
Inj. Nitronex ১ সিসি করে ১৪ দিন পর পর ২ বার চামড়ার নিচে পুশ করতে হবে।
Inj. Astavet ৩ সিসি করে রোজ ১ বার ৩ দিন মাংসে পুশ করতে হবে।

সাইফুল
রংপুর    
 
প্রশ্ন : গরুর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। কী করণীয়?
উত্তর : ফিটকিরি দিয়ে চোখ ধুয়ে দিতে হবে রোজ ১ বার, এভাবে ৭ দিন।
বোরিক এসিড লোশন (১-২%) অথবা নরমাল স্যালাইন দিয়ে দিন ৩ বার করে ২-৩ দিন পরিষ্কার করতে হবে।

চোখে অপসোফেনিকল চোখের ড্রপ দিনে ৩-৪ বার করে ৩-৫ দিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
দিনে ২ বার গোসল করাতে হবে।
 
ইঞ্জেকশন প্রোনাপেন ৪০ লাখ রোজ ১ বার ৩ দিন মাংসে পুশ করতে হবে।
ইঞ্জেকশন অ্যাস্টাভেট ৫ সিসি করে রোজ ১ বার ৪ দিন মাংসে পুশ করতে হবে।
 

কৃষিবিদ মোহাম্মদ মারুফ
* কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল : ০১৫৫২৪৩৫৬৯১

Share with :

Facebook Facebook