কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

জোয়ারভাটা ও বাংলাদেশের কৃষি

কৃষিতে বৃষ্টি অত্যন্ত অপরিহার্য একটি অনুষঙ্গ। সময়মতো বৃষ্টি ভালো ফসলের জন্য সহায়ক। বৃষ্টি না হলে ফসল চাষ যেমন সম্ভব হয় না আবার অতি বৃষ্টি ফসলের জন্য এত ক্ষতিকর যে ফসল সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই বৃষ্টি বছরের সব সময় সমান হয় না। শীতকালে কম হয় এবং বর্ষাকালে বেশি হয়। শীতকালে উত্তর দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হয়। উত্তর দিক থেকে যে বাতাস আসে তাতে কোনো জলীয়বাষ্প থাকে না বিধায় ওই সময় বৃষ্টিপাত হয় না। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মৌসুমি বায়ু প্রবাহীত হয়। মৌসুমি বায়ু দক্ষিণ দিক থেকে প্রবাহিত হয়, যার সঙ্গে সমুদ্র থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প ভেসে আসে এবং তদ্বারা প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটে। প্রায় ৮০% -৯০% বৃষ্টি এ সময় হয়। এই সময়কাল এবং এ সময়ের বায়ুপ্রবাহ ও তৎসঙ্গে বৃষ্টিপাতকে বলা হয় মনসুন।
 
এক সময় বলা হতো যে, বাংলাদেশের কৃষি হলো মৌসুমি বায়ুর জুয়া খেলা (The Agriculture of Bangladesh is the gambling of the monsoon)। কারণ কোনো বছর অত্যধিক বেশি বৃষ্টি হতো আবার কোনো বছর খুবই কম বৃষ্টি হতো। ফলে ফসলে কাক্সিক্ষত পরিমাণ পানির সংকট হতো অথবা অধিক পানিতে বা বন্যায় ফসল বিনষ্ট হতো।
 
বৃষ্টির আবার নানা কাহিনী আছে। যেমন- বৃষ্টি হলো পানি চক্রের একটি অবস্থা। পানি তাপে গরম হয়ে হালকা হয়ে গ্যাস হয় এবং তা উপরে উঠে যায়। উপরের তাপমাত্রা কম থাকায় গ্যাস বিন্দুগুলো জমাট বাঁধতে থাকে এবং একপর্যায়ে পানির ফোঁটায় রূপ নেয়। অনেকগুলো ফোঁটা একত্রে মেঘে রূপান্তরিত হয়। মেঘ গঠনকারী পানির ফোঁটার স্পেসিফিক গ্রাভিটি যদি বাতাসের চেয়ে কম হয় তাহলে তা মেঘ আকারে ভাসতে থাকে আর যদি বেশি হয় তাহলে ফোঁটাগুলো নিচের দিকে পতিত হতে থাকে অর্থাৎ ফোঁটার ভরে নিচে পড়তে থাকে। এভাবে অনেকগুলো পানির ফোঁটা একসঙ্গে পড়তে থাকলে তাই বৃষ্টি বলে পরিচিত হয়।
 
প্রকৃতপক্ষে বৃষ্টির আসল নাম হলো বারিপাত, ইংরেজিতে যাকে বলে প্রেসিপিটেশন (Precipitation )। বারি অর্থ পানি আর পাত অর্থ পতন বা পড়া। এককথায় পানি নিচের দিকে পড়তে থাকলে তাকে বলা হয় বারিপাত।
 
বারিপাত কয়েক ধরনের হতে পারে যেমন বৃষ্টিপাত (Rainfall) কুয়াশা (fog) শীলাবৃষ্টি (Hailstorm) ইত্যাদি। ফোঁটার আকার ও অবস্থা (যেমন কঠিন বা তরল) পতনের গতি ও তীব্রতা ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করেই বারিপাতকে বৃষ্টিপাত (Rainfall), কুয়াশা (fog), শিলাবৃষ্টি ইত্যাদি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়ে থাকে।
 
 সাধারণত স্থলভাগের ওপর যে জলীয়বাষ্প থাকে তার পরিমাণ কম থাকায় তা থেকে মেঘ তৈরি হওয়া কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। তাই মেঘ তৈরিতে যে প্রচুর পরিমাণ জলের প্রয়োজন তা মূলত আসে সমুদ্রের বিশাল জলরাশি থেকে। সমুদ্র থেকে যে জলীয়বাষ্প তৈরি হয় তা থেকেই প্রধানত মেঘ তৈরি হয়। মেঘ তৈরিতে সূর্যের ভূমিকা ব্যাপক। সূর্যের তাপে সমুদ্রের পানি গরম হয়ে হালকা হয়ে গ্যাসে পরিণত হয়েই মেঘ তৈরি হয়। এই মেঘ সব সময় সমভাবে তৈরি হয় না। এটার সঙ্গে চান্দ্র মাসের এবং পৃথিবীর বার্ষিক গতির সম্পর্ক আছে। চাঁদের সাথে মেঘ তৈরি তথা বৃষ্টিপাতের সম্পর্ক বিশদ আলোচনার বিষয়।
 
আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর ৩ ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল। এই জলরাশির ৯৭% আছে সমুদ্রে। আমরা জানি যে, মহাবিশ্বের সব বস্তু একে অপরকে তার ভর ও দূরত্ব অনুযায়ী কাছে টানে। সূর্য, পৃথিবী, চন্দ্র একে অপরকে টানে। ভর যত বেশি টান তত বেশি; আবার দূরত্ব যত কম টান তত বেশি। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কঠিন পদার্থের বন্ধন তরল পদার্থের তুলনায় অত্যন্ত মজবুত। কঠিন পদার্থের অণুগুলো একে অপরকে বেশি মজবুত অবস্থায় আঁকড়ে থাকে তরল পদার্থের তুলনায়। গ্যাস বা বায়বীয় পদার্থের বন্ধন কঠিন ও তরলের চেয়ে অত্যন্ত দুর্বল।
 
পানি একটি তরল পদার্থ বলে পানির অণু একে অপরকে কম শক্তিতে টেনে রাখে। পানির আর একটি রূপ হলো জলীয়বাষ্প। জলীয়বাষ্প প্রকৃতপক্ষে একটি গ্যাস। বাইরের কোনো শক্তি পৃথিবী থেকে কোনো কঠিন পদার্থের অংশকে ছিনিয়ে নিতে যত মাত্রায় বল প্রয়োগ করতে হবে তরলের ক্ষেত্রে তার চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম শক্তিতেই বিচ্ছিন্ন করা যাবে। গ্যাসের ক্ষেত্রে আরো কম মাত্রা প্রয়োজন হবে।
 
পৃথিবী সূর্যের চার পাশে ঘোরে। আর চন্দ্র ঘোরে পৃথিবীর চার পার্শ্বে। এই ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে সূর্য-চন্দ্র-পৃথিবী একই সরলরেখায় অবতীর্ণ হয়। পূর্ণিমা ও অমাবস্যা তিথিতে পৃথিবী, চন্দ্র আর সূর্য এক সরল রেখা বরাবরে চলে আসে; যাকে বলা হয় সমসূত্রে আসা (Planetary alignment or Syzygy)। এ সময় পৃথিবীর ওপর চন্দ্র ও সূর্যের যৌথ টান পড়ে এবং একই সরল রেখায়। যখন টান বেড়ে যায় তখন পৃথিবী পৃষ্ঠের সব বস্তুকে সূর্য বা চন্দ্র ছিনিয়ে নিতে চায়। চন্দ্র ক্ষুদ্র হলেও তা পৃথিবীর অতি থাকায় পৃথিবীর ওপর এই টানের প্রভাব বেশি। পৃথিবীর ওপর সূর্যের টান চন্দ্রের ৪৬%। অর্থাৎ পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের টান সূর্যের টানের চেয়ে প্রায় ২ গুণ বেশি।
 
সূর্য, পৃথিবী ও চন্দ্রের টানাটানিতে দুর্বল বন্ধনযুক্ত পানি ও জলীয়বাষ্প বেশি আকৃষ্ট হয় সূর্য ও চন্দ্রের দিকে। ফলে পানি ও গ্যাস চন্দ্র ও সূর্যের দিকে ধাবিত হতে চায়। ফলশ্রুতিতে তা পৃথিবী ছেড়ে উভয়দিকে উত্থিত হয়। এ সময় অতিরিক্ত পানি ফুলে উঠে সূর্য ও চন্দ্রের অবস্থানের দিকে। এ সময় পৃথিবী পৃষ্ঠের অন্য স্থানের পানি ছুটে আসে ফাঁকা স্থান পূরণের জন্য। এর ফলে ইন্টারটাইডাল এলাকায় (Intertidal zone) পানি বৃদ্ধি পায়। একে বলে জোয়ার (High Tide)। পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময় জোয়রের পানির সর্বাধিক উচ্চতা হয় বলে তখন একে বলা হয় (Spring Tide)। আবার জোয়ারের ৬ ঘণ্টা পর টান কমে যায় এবং তখন ইন্টারটাইডাল এলাকার (Intertidal zone) পানিও কমে যায়। তখন উপকূলবর্তী নদনদীর পানি শুকে যেতে দেখা যায়। একে বলে ভাটা (Low Tide)। এভাবে বাংলাদেশে প্রতি ৬ ঘণ্টা পরপর জোয়ার ও ভাটা হয়। বাংলাদেশের অবস্থান যেহেতু নিরক্ষীয় (Equator) অঞ্চলের কাছাকাছি তাই জোয়ারের প্রভাব বা টান এ অঞ্চলে বেশি পড়ে। জলীয় বাষ্প পানির বন্ধনের চেয়ে হালকা বলে অধিক জলীয়বাষ্প ওপরে উত্থিত হয়। জলীয়বাষ্প মেঘের মূল উপাদান বিধায় এ সময় মেঘ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং যৌক্তিক কারণই অধিক বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
 
সাধারণত চাঁদের মাস সাড়ে ২৯ দিনে হয় (চাঁদের মাস-সিনোডিক হিসাব অনুযায়ী অর্থাৎ এক নতুন চাঁদ থেকে আরেক নতুন চাঁদ পর্যন্ত সময়- ২৯ দিন ১২ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট ২.৮ সেকেন্ড)। সে হিসাব অনুযায়ী মোটামুটি বলা যায় চান্দ্র মাসের সাড়ে ১৪ দিন পর পূর্ণিমা হয়। তার সাড়ে ১৪ দিন পর অমাবস্যা। পূর্ণিমার সময় সূর্য ও চন্দ্রের মাঝখানে পৃথিবী থাকে অর্থাৎ ‘সূর্য-পৃথিবী-চন্দ্র’- এভাবে সমসূত্রে অবস্থান করে। আর অমাবস্যার সময় ‘সূর্য-চন্দ্র-পৃথিবি’ - এভাবে সমসূত্রে অবস্থান করে। এ দুই সময় সবচেয়ে বেশি শক্তিতে টান পড়ে পৃথিবীর ওপর এবং ফলশ্রুতিতে জোয়ারের সর্বাধিক টান হয়। আবার চান্দ্র মাসের মোটামোটি হিসাবে ৭ ও ২১ তারিখে (1st and 3rd quarters of the lunar phases) সূর্য ও পৃথিবী সরল রেখায় থাকে বটে কিন্তু চাঁদ সমসূত্রে না থেকে সূর্য ও পৃথিবীর অবস্থানগত সরল রেখার ওপর চাঁদ ৯০ ডিগ্রি কোন করে অবস্থান করে। ফলে সূর্য ও চাঁদের আড়াআড়ি অবস্থানের কারণ পৃথিবির ওপর সূর্য ও চাঁদের টান অনেকটা বিবর্জিত হয়ে সবযেয়ে কম থাকে। এ সময় অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথির চেয়ে অনেক অনেক কম শক্তির জোয়ারভাটা হয়। একে বলা হয় মরাকটাল (Neap Tide)।
 
অমাবস্যা-পূর্ণিমার সময় ঘটিত জোয়ার-ভাটার প্রেক্ষিতে তৈরি মেঘ সমুদ্রোপকূল এলাকায় বৃষ্টি ঘটায় এবং বাতাসের সঙ্গে চারদিকে ছড়ে দূরবর্তী স্থানে চলে যায় এবং সাধারণত পরিচলন পদ্ধতিতে বৃষ্টি ঘটাতে থাকে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে।
 
আবার মেঘের সাথে পৃথিবীপৃষ্ঠে সূর্যের আলোর আপতন (Incidence) ও বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা, সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। বিশেষ করে স্থলভাগ ও জলভাগের ওপর সূর্যের আলোর আপতন ও মেঘের ছায়ার দারুণ এক প্রভাব আছে বাতাসের চাপ, আর্দ্রতা ও প্রবাহর ওপর। বাতাসের তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে স্থান ও সময় ভেদে বাতাসের উচ্চচাপ ও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় এবং ফলশ্রুতিতে বাতাস প্রবাহের দিক ও বেগ পরিবর্তন হয়। এ কারণই অনেক সময় অমাবস্যা-পূর্ণিমা তিথিতে সমুদ্রোপোকুল ও পার্শ্ববর্তী স্থানে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়।
 
তবে এই তিথির দিনেই বৃষ্টি হবে এমন ধরাবাঁধা নিয়ম আছে তা বলা যাবে না। কারণ বৃষ্টির সঙ্গে আরো অনেক বিষয় সংশ্লিষ্ট আছে। যেমন পৃথিবীর কক্ষপথে পৃথিবীর অবস্থান যাকে প্রকারান্তরে আমরা বলতে পারি ঋতু বা মৌসুম। আরো আছে বাতাসের তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, প্রবাহ ইত্যাদি। তা ছাড়া নতুন চাঁদ ও পূর্ণিমার পর থেকে ১ম ও ৩য় কোয়ার্টার পর্যন্ত টান কমতে থাকে এবং ১ম ও ৩য় কোয়ার্টারের পর থেকে তা আবার বাড়তে থাকে। তাই অমাবস্যা ও পূর্ণিমার বেশ আগ থেকেই জোয়ারের পানির আয়তন ও বেগ (Volume and Magnitude) ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং অমাবস্যা-পূর্ণিমাতেই সেটা সর্বাধিক হয়। অনেক সময় এই তিথির দু-এক দিন পর দেশের দূরবর্তী স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। কারণ মেঘ তৈরি ও গমনাগমনের জন্য সময়ের দরকার হয়। তা ছাড়া বাতাসের আর্দ্রতার একটি ব্যাপার থেকেই যায়; যার ওপর ভিত্তি করে কোনো স্থানের বৃষ্টি হওয়া অনেকটা নির্ভর করে।
 
বৃষ্টির আনুষঙ্গিক নিয়ামকগুলোর কারণ বৃষ্টি হওয়া না হওয়া অনেকটা নির্ভরশীল। শীতকালে আমাদের দেশে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ামক অনুকূলে থাকে না বিধায়, এই অমাবস্যা পূর্ণিমার প্রভাবে বৃষ্টি হবে একথাটা শীতকালের জন্য কিছুটা ক্ষীণভাবে প্রযোজ্য। পক্ষান্তরে নিয়ামকগুলো বছরের অন্যান্য সময় বিশেষ করে বর্ষাকালে অনুকূলে থাকায় এটা বেশি প্রযোজ্য। তবে অমাবস্যা পূর্ণিমার সময়টায় বৃষ্টি না হলেও মেঘলা অবস্থা বিরাজ করার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
 
তাছাড়া বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণ প্রকৃতি অনেকটাই অনিয়মতান্ত্রিক তথা বিরূপ আচরণ করছে। বায়ুম-লের উপাদানের পরিমাণের দ্রুত তারতম্য ঘটছে। গাছপালা কমে যাওয়ায় বাতাসে উদ্ভিদ থেকে ট্রানসপিরেশনের মাধ্যমে প্রাপ্ত জলীয়বাষ্প অনেক কমে গেছে। বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। ফলে মেঘ তৈরির উপযুক্ত পরিবেশ সব সময় অনুকূল থাকছে না। তাই বৃষ্টিপাত বলা যায় পুরোপুরি অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।
 
আগেকার দিনে জলবায়ুর এমন পরিবর্তন ছিল না এবং প্রকৃতিও অনেকটা নিয়মতান্ত্রিকভাবে বৃষ্টি পাত ঘটাতো। তখনকার কৃষক হয়তো অমাবস্যা-পূর্ণিমাতে মেঘের আনাগোনা বা বৃষ্টিপাত লক্ষ করত। তাই এই নিয়মের ধারাবাহিকতা পর্যবেক্ষণ করে আগেকার কৃষকরা অমাবস্যা-পূর্ণিমা দেখে বীজ বপন, রোপণ, ও শস্যকর্তন করত। বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে অনেক কৃষক এটাকে অবৈজ্ঞানিক মনে করে অগ্রাহ্য করে থাকেন। আসলে আগেকার কৃষক অতীতের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই বিষয়টিকে অবধারিত মনে করে এই অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিকে দেখে ফসলের বপন, রোপণ, কর্তন ইত্যাদি কাজ করত।
 
বর্তমানে স্পার্শো (SPARSO) ও আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আবহাওয়ার বিভিন্ন নিয়ামকগুলো স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এবং/অথবা অন্যান্য আনুষঙ্গিক পদ্ধতিতে উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে অনেকটা নির্ভুলভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে। মেঘলা আবহাওয়া, কুয়াশা, শীলাবৃষ্টি, খরা, বন্যা, ঝড়, টর্নেডো ইত্যাদির পূর্বাবাস বা আগাম আবহাওয়া বার্তা কৃষকের জানানো হচ্ছে বিভিন্নভাবে। কিন্তু কৃষক বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণ সবসময় তা জানতে পারছেন না।
 
তাই কৃষক নিজ থেকে অমাবস্যা-পূর্ণিমার সময়টা একটু সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে বা দু-এক দিন অপেক্ষা করে বপন, রোপণ, ফসল সংগ্রহ, মাড়াইঝাড়াই এর কাজে হাত দিলে উপকার পেতে পারেন। বিশেষ করে আগাম রবি ফসল করতে এটা বেশি কাজে লাগতে পারে।
 
 
কৃষিবিদ স. ম. আশরাফ আলী*
* জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, বনানী, বগুড়া, মোবা: ০১৯৩৮৮২৮৭৮৪
 

Share with :

Facebook Facebook