কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

পরিবেশবান্ধব ইঁদুর দমন ব্যবস্থাপনা

ইঁদুর জাতীয় প্রাণী সম্পর্কে ধারণা
পৃথিবীর সব স্তন্যপায়ী প্রজাতির মধ্যে শতকরা ৪২ ভাগ ইঁদুর জাতীয় প্রাণী। ইঁদুর জাতীয় প্রাণী রোডেন্টসিয়া বর্গের ও মিউরিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। সারা পৃথিবীতে ২৭০০টির অধিক ইঁদুর জাতীয় প্রজাতি আছে। এ প্রাণীদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাদের দাঁতের বিশেষ গঠন ও তার বিন্যাস। ১৬টি দাঁত থাকে। মাংসাশী ও পেষণ পূর্ব দাঁত নেই। তবে উভয় পাটিতে সামনে একজোড়া করে ছেদন দাঁত যা অত্যন্ত তীক্ষè ও ধারালো বাটালির মতো। ছেদন দাঁত গজানোর পর হতে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত প্রতিনিয়ত বাড়ে। কাটাকাটি না করতে পারলে দাঁত বেড়ে চুয়াল দিয়ে বেড় হয়ে যায় এবং ইঁদুরের খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। দাঁত ঠিক রাখার জন্য শক্ত জিনিস সর্বদা কাটাকাটি করে থাকে। ইঁদুর, কাঠবিড়ালি, সজারু ইঁদুর জাতীয় প্রাণী। চিকা ইঁদুর জাতীয় প্রাণী নহে। ইঁদুর সর্বভূক, নিশাচর এবং স্তন্যপায়ীদের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম সফল প্রাণী। এদের উপকারী ও অপকারী উভয় ভূমিকা রয়েছে। তবে ক্ষতিকারক ভূমিকাই বেশি ।

ইঁদুর দমনের প্রয়োজনীয়তা
১. ইঁদুর মাঠের সব প্রকার খাদ্য শস্যের ক্ষতি করে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ইঁদুর ১২ থেকে ১৫ লাখ মেট্রিক টনের অধিক খাদ্যশস্য প্রতি বছর ক্ষতি করে (ডিএই, ২০১৩)। দশমিনা বীজ বর্ধন খামার এলাকায় চরে বসবাসকারী কৃষকদের মতে আমন ধানের ৭৫ থেকে ৮০% ইঁদুর দ্বারা বিগত ৭-৮ বছর ধরে ক্ষতি হয়ে আসছে, অর্থাৎ কৃষক শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ আমন ধান ঘরে তুলতে পারত। বাংলাদেশে আমন ফসলে গড়ে ১০ থেকে ১৫ ভাগ ইঁদুর দ্বারা প্রতি বছর ক্ষতি হয়ে থাকে।

২. দক্ষিণ অঞ্চলে প্রতিটি নারিকেল গাছের ১০ থেকে ১২টি কচি নারিকেল প্রতি বছর ইঁদুর দ্বারা নষ্ট হয়। সুপারি ও শাকসবজি (গোল আলু), ডাল এবং তৈল ফসলের ক্ষতি করে।

৩। রাস্তাঘাট, বাঁধ, সেচ নালা, বসতবাড়ি, দালানকোঠা ইত্যাদি অবকাঠামোতে গর্ত খননের ফলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয় এবং ১০% সেচের পানির অপচয় হয়।

৪. ইঁদুর ৬০টির বেশি রোগের জীবাণু বহন ও বিস্তার করে থাকে। এদের মাধমে অনেক ধরনের জুনোটিক রোগ যেমন-

প্লেগ, অ্যাইরোসিস। এছাড়া, নানা প্রকার চর্মরোগ, কৃমিরোগ, হানটাভাইরাস মিউরিন টাইফাস, স্পটেড জ্বর, লেপটোস্পাইরোসিস, ইঁদুরের কামরানো জ্বর, জন্ডিস রোগের জীবাণু ইঁদুর দ্বারা বিস্তার ঘটে। এসব রোগের জীবাণু ইঁদুরের মল-মূত্র, লোমের মাধ্যমে  বিস্তার ঘটে।

৫. ইঁদুর খাদ্যের বিষক্রিয়া ও পরিবেশের দূষণ ঘটিয়ে থাকে।

ইঁদুরের ক্ষতিকারক প্রজাতি
বাংলাদেশে ১৩ প্রজাতির ক্ষতিকারক ইঁদুরের প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। তিনটি ইঁদুরের প্রজাতি দশমিনা বীজ বর্ধন খামারে পাওয়া গেছে। প্রজাতিগুলো হচ্ছে- ক. মাঠের বড় কালো ইঁদুর (Bandicota bengalensis), খ. মাঠের কালো ইঁদুর (Bandicota indica), গ. গেছু ইঁদুর ( Rattus rattus)। এদের মধ্যে মাঠের বড় কালো ইঁদুরের সংখ্যা ৯৮%। সামদ্রিক অঞ্চলে ও নিচু ভূমি এলাকায় এদের উপস্থিতি রয়েছে। মাঠের কালো ইঁদুর (Black Field rat) বাংলাদেশে কৃষি ফসল, গুদাম, গ্রাম ও শহর এলাকাসহ সর্বত্র একটি প্রধান ক্ষতিকারক বালাই।
 
মাঠের কালো ইঁদুর বাংলাদেশে কৃষি ফসল, গুদাম, গ্রাম ও শহর এলাকাসহ সর্বত্র একটি প্রধান ক্ষতিকারক বালাই। ঘরের ইঁদুর/গেছু ইঁদুর বাংলাদেশের সর্বত্র এ দলের উপস্থিতি রয়েছে। সেন্টমাটিন দ্বীপে এদের সংখ্যাই বেশি। বহু দেশের গেছো ইঁদুরের (Rattus rattus) যৌগিক সদস্যরা গ্রাম অথবা শহরের আবাসভূমিতে সীমাবদ্ধ থাকে। দানাদার শস্যসহ নানা রকমের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে।   
                                                       
ইঁদুরের ক্ষয়ক্ষতি পরিমাপ
ইঁদুর দ্বারা ফসল ও সম্পদের প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়। সব ফসল ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি সঠিকভাবে নির্ণয় করা বাস্তবে সম্ভব হয় না। পৃথিবীতে প্রতি বছর ইঁদুর দ্বারা যে পরিমাণ ক্ষতি হয় তার পরিমাণ ২৫ টি গরিব দেশের মোট জিডিপি এর সমান হবে। ইঁদুরের ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করে উপস্থিত ইঁদুরের সংখ্যার নিবিড়তার ওপর। প্রতিটি ইঁদুর তার দেহের ওজনের ১০% খাদ্য প্রতিদিন গ্রহণ করে থাকে। সাধারণত বড় ইঁদুর প্রতিদিন ২৩ থেকে ৫৮ গ্রাম এবং ছোট ইঁদুর ৩ থেকে ৫ গ্রাম খেয়ে থাকে।

শস্য কর্তন পূর্ব ক্ষতি নির্ণয়
ইঁদুরের দ্বারা ক্ষতি অন্যবালাই হতে তফাৎ হচ্ছে ইঁদুর কুশির গোড়ার দিকে মাটি হতে একটু উপরে ৪৫ ডিগ্রি কোণ করে কাটে। দানাদার শস্যের ( যেমন-ধান, গম) ইঁদুর দ্বারা ক্ষতি বিভিন্ন স্তরে করতে হবে। কুশি স্তরে ইঁদুরের ক্ষতি নির্ণয়ের মাধ্যমে ইঁদুরের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা করা যায়। ধানের কুশি স্তরের ইঁদুর দ্বারা ক্ষতি অনেকাংশে পূরণ হয়ে যায়। কিন্তু থোড় হতে পাকা স্তরে ক্ষতি গাছ পূরণ করতে পারে না । এজন্য পাকা স্তরে ক্ষতির জরিপ করা হয়। দুইটি পদ্ধতিতে ইঁদুরের ক্ষয়ক্ষতি জরিপ করা হয়, যথা- ১. কর্তিত ও অকর্তিত কুশি গণনা পদ্ধতি ও ২। সক্রিয় গর্ত গণনা পদ্ধতি     
   
পরিবেশবান্ধব ইঁদুর জাতীয় বালাই ব্যবস্থাপনা কৌশল
ইঁদুর জাতীয় প্রাণী দমনের ক্ষেত্রে কোন ম্যাজিক বুলেট নেই কারণ এদের ২০০ এর উপরে বালাই প্রজাতি রয়েছে যাদের প্রত্যেকের স্বতন্ত্র আচরণ, নিবাসন ও খাদ্যাভ্যাসে ভিন্নতা বিদ্যমান। এজন্য একটি পদ্ধতি দ্বারা এদের দমন বা ক্ষতির পরিমাণ কমানো বাস্তবে সম্ভব নয়। প্রত্যেক ইঁদুরজাতীয় বালাই প্রজাতির ভিন্ন ইকোলজি রয়েছে। এ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করার সময় এ বিষয়টি সবসময় বিবেচনায় রাখতে হবে। ইঁদুর দমনের বিষয়টি সার প্রয়োগের মতো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। ফসলে অত্যধিক বেশি বা কম এবং অসময়ে সার প্রয়োগ করা হলে অর্থনৈতিক অপচয় ও পরিশ্রম বিফলে যায়। যে কোনো ইঁদুর দমনের ক্ষেত্রে একই রকম ঘটনা ঘটে থাকে।

অর্থনৈতিক প্রান্তসীমা
পোকামাকড়, রোগবালাই ও আগাছা দমনের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্ব রয়েছে, কিন্তু ইঁদুর জাতীয় বালাই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্ব নেই, কারণ একটি মাঠে একটি ইঁদুর দ্বারা শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। এজন্য একটি ইঁদুরের উপস্থিতি দেখামাত্র দমনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাই ইঁদুরের অর্থনৈতিক প্রান্তসীমা হচ্ছে শূন্য।

অনুসন্ধানকারী দল
দশমিনা ১০৪৪ একর বীজবর্ধন খামারের ইঁদুরের ক্ষয়ক্ষতি কম রাখার জন্য ৫ থেকে ৮ সদস্যের অনুসন্ধানকারী দল থাকা প্রয়োজন। এ দলের কাজ হবে কোথায় ইঁদুরের উপস্থিতি হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করে দমন পরিকল্পনা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ দলের সদস্যরা মাঠে, আইলে, খালের পাড়ে, পতিত ভূমি, ফলের বাগানে ইঁদুরের গর্ত বা মাটি, ক্ষতিগ্রস্ত শস্য, চলাচলের পথ, মল ইত্যাদি দেখে উপস্থিতি নির্ণয়ন করবে। এ পর্যবেক্ষণ সারা বছর ধরে করতে হবে। এখানে বন হতে যে কোন সময় কিছুসংখ্যক ইঁদুরের আগমন ঘটার সম্ভাবনা আছে এবং তাদের দ্বারা অল্প সময়ে মাঠের পপুলেশন বেড়ে যেতে পারে।

নিবাসন ব্যবস্থাপনা
এ ব্যবস্থার মূল বিষয় হচ্ছে ইঁদুরের নিবাসনের সুযোগ কমানো। এসব নিবাসনগুলো হচ্ছে : হুগলাপাতার বন, কচুরিপানা, ঢোলকমলি, করচা, কচুগাছ ও অন্যান্য আগাছা। এছাড়া মাঠে অনেক স্থানে আগাছা পূর্ণ ছোট, মাঝারি এবং বড় উঁচু পতিত ভূমি যেখানে জোয়ারের সময় ইঁদুর আশ্রয় নিয়ে থাকে। এখানে তিনটি প্রদক্ষেপ প্রহণ করা প্রয়োজন।

ক. হুগলাপাতার বন, কচুরিপানা, ঢোলকলমি জমির পাশে ও খালে, অপ্রয়োজনীয় আগাছা, শস্যের অশিষ্টাংশ কেটে ধ্বংস করতে হবে।

খ. ফসলের মাঠের আইলের প্রস্থ কমিয়ে ৩০ সেন্টিমিটার করা হলে ইঁদুরের বাসা করতে অসুবিধা হবে এবং আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। ফসলের মাঠের পাশে অল্প জায়গা আগাছাযুক্ত পতিত আছে সে স্থানগুলো ফসল চাষের ব্যবস্থা করতে হবে। ফসলের মাঠেও অনেক আগাছা রয়েছে যা ইঁদুরের বাসস্থানের সুবিধা হচ্ছে।  

ইঁদুর দমনের উপযুক্ত সময় ও কলাকৌশল
১. যে কোনো ফসল রোপণ বা বপনের সময় মাঠের ও আইলের ইঁদুর মারতে হবে।
২. জুলাই হতে সেপ্টম্বর মাস পর্যন্ত জোয়ারের পানিতে বীজ বর্ধন খামারের প্রায় সব মাঠ পানিতে ডুবে যায়।

দিনের বেলায় বেশি জোয়ারের সময় মাঠের ইঁদুরগুলো হুগলাপাতা, ঢোলকলমি, কচুরিপানার দলে উঁচু ভূমি এবং গাছে আশ্রয় নিয়ে থাকে। এ সময় নৌকায় দলবেঁধে গিয়ে ওইসব স্থানের ইঁদুর  টেঁটা ও লাঠি দিয়ে মারতে হবে। মাঠের বড় কালো ইঁদুর ডোব দিয়ে ও সাঁতার কেটে অনেক দূর যেতে পারে। এজন্য দল বেঁধে মাঠের ইঁদুরের সম্ভাব্য সকল আশ্রয় স্থানগুলোর ইঁদুর মারতে হবে। এতে পরবর্তীতে ইঁদুরের সংখ্যা কম থাকবে।

৩. জুলাই-আগস্ট মাসে বোনা আমন ধানের ক্ষেতে (বিশেষত স্থানীয় জাতে) ইঁদুর টেঁটা বা অন্যভাবে মারা হলে ক্ষয়ক্ষতি হতে রক্ষা পাবে। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে বেশি ইঁদুর দ্বারা কুশি ক্ষতিকরার পর মারা হলে আমন ধান কিছুটা কম ক্ষতি পূরণ করতে পারে।

৪. জোয়ারের সময় সব রাস্তাঘাট, খালের পাড় ও উঁচু পতিত ভূমির ইঁদুর বিষটোপ প্রয়োগ করে মারতে হবে ।

৫. ফসলের থোড় স্তরে ইঁদুরের প্রজনন কার্যকারিতা আরম্ভ হয়। দশমিনা বীজ বর্ধন খামারে অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে ৯৫% এর বেশি স্ত্রী ইঁদুর গর্ভধারণ অবস্থায় পাওয়া গেছে। তাই সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে বেশি ইঁদুর মারা হলে পরবর্তীতে ইঁদুরের সংখ্যা

কম থাকবে। এ সময় একটি স্ত্রী ইঁদুর মারতে পারলে পরবর্তীতে ৩৫টি ইঁদুর মারার সমান উপকার হবে।
গর্ত খুঁড়ে ইঁদুর নিধন উঁচু ভূমি ও রাস্তাঘাটের, খালের পাড়ে ইঁদুর গর্তর্ খুঁড়ে বেড় করা খুব কঠিন। যেখানে ইঁদুরের গর্তের পরিধি কম সেখানে গর্ত খুঁড়ে ইঁদুর নিধন করা যায়। দশমিনা বীজ বর্ধন খামারে জোয়ারের পানির কারণে ইঁদুরের গর্তের পরিধি খুব বেশি বড় হয়না। এজন্য গর্ত খুঁড়ে ইঁদুর দমন করা যায়। গতর্ খুঁড়ার সময় গর্তের চারদিক জাল দ্বারা ঘিরে নিলে ইঁদুর সহজে পালাতে পারে না।

ফাঁদ পেতে ইঁদুর দমন
নানা রকমের ফাঁদ বাজারের পাওয়া যায় যেমন জীবন্ত ইঁদুর ধরার ফাঁদ (তারের খাঁচা ফাঁদ ও কাঠে তৈরি ফাঁদ) এবং কেচি কল (Snap trap) এবং বাঁশের তৈরি ফাঁদ। কেচিকল ব্যবহার করা যেতে পারে। ফাঁদে টোপ হিসেবে নারিকেল ও শুঁটকি মাছ ব্যবহার করা যেতে পারে। কেচি কল দ্বারা ছোট-বড় সব রকমের ইঁদুর জাতীয় প্রাণী নিধন করা যায়। তবে এক বা দুইটির পরিবর্তে ১০ থেকে ২০টি ফাঁদ একই স্থানে তিন রাত ব্যবহার করা হলে বেশি কার্যকর হবে।

রাসায়নিক পদ্ধতিতে ইঁদুর ব্যবস্থাপনা
বাংলাদেশে ইঁদুর দমনের জন্য তীব্র বিষ বা একমাত্রা বিষ (যেমন-জিংক ফসফাইড), দীর্ঘস্থায়ী বিষ (যেমন-ল্যানির‌্যাট, ব্রমাপয়েন্ট, ক্লেরাট) এবং গ্যাস বড়ি (অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড) ব্যবহার হয়। দশমিনা বীজ বর্ধন খামারের ২% জিংক ফসফাইড বিষটোপ ব্যবহার করা হয়েছে।এ বিষটোপ ব্যবহারের ক্ষেত্র সমস্যা হচ্ছে ইঁদুরের বিষটোপ লাজুকতা সমস্যা রয়েছে। এখানে টোপ হিসেবে শামুক, চিংড়ি, চাল বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। এসব টোপের মধ্যে চিংড়ি মাছ ও শামুকের তৈরি বিষটোপ ইঁদুর বেশি খেয়েছে। এ বিষটোপ আমন ধানের থোড় আসার পূর্ব পর্যন্ত সময়ে প্রয়োগ করা যেতে পারে।       
            
গ্যাসবড়ি দ্বারা ইঁদুর দমন
গ্যাসবড়ি ইঁদুরের প্রজনন সময়ে ও ফসলের থোড় হতে পাকা স্তরে প্রতিটি নতুন গর্তে একটি গ্যাস বড়ি প্রয়োগ করতে হবে। এতে ইঁদুরের বাচ্চাসহ মারা যায় বলে ইঁদুরের পপুলেশন বাড়তে পারেনা। ইঁদুরের গর্ত পদ্ধতিতে অনেকগুলো নতুন মুখ থাকে। সব গর্তের মুখ নরম বা কাদামাটি দিয়ে ভালোভাবে বন্ধ করে দিতে হবে। গ্যাস বড়ি প্রয়োগকৃত গর্তের মুখ পর দিন খোলা পেলে একইভাবে একটি গ্যাসবড়ি প্রয়োগ করতে হবে। গর্তের ইঁদুর দমনের ক্ষেত্রে গ্যাসবড়ি অত্যন্তÍ কার্যকর একটি পদ্ধতি।

সাবধানতা
যে কোন বিষ মানুষ ও অন্য প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর। এজন্য বিষটোপ বা গ্যাস বড়ি প্রয়োগের সময় ধূমপান ও খাদ্য গ্রহণ করা যাবে না। বিষটোপ তৈরি ও প্রয়োগের পর হাতমুখ ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

ধাতব প্রতিরোধক
টিনের পাত লাগানোর পূর্বে গাছকে ইঁদুর মুক্ত করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় মরা ডাল পালা কেটে পরিষ্কার করতে হবে এবং অন্য গাছের সঙ্গে লেগে থাকা ডালপালা ছেটে দিতে হবে যাতে অন্য গাছ হতে ইঁদুর আসতে না পারে। নারিকেল, সুপারি গাছসহ ফল উৎপাদনকারী গাছের গোড়া গতে ২ মিটার উপরে গাছের খাড়া কাণ্ডের চারিদিকে ৫০ সেমি. প্রশস্থ টিনের পাত শক্তভাবে আটকিয়ে দিতে হবে। এতে ইঁদুর নিচ হতে গাছের উপরে উঠতে পারে না। 
                     
ইঁদুরভোজী প্রাণী : অনেক বন্যপ্রাণী (যেমন-বন বিড়াল, শিয়াল) এবং নিশাচর পাখি (যেমন-পেঁচা) ও সাপ (যেমন-গুইসাপ) এদের প্রধান খাদ্য হচ্ছে ইঁদুর। এসব প্রাণীদের বংশ বিস্তার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

উপসংহার
ইঁদুর একটি সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যা সামাজিকভাবে করতে হবে। দলগতভাবে ফসলের মাঠে ইঁদুরের উপস্থিতি যাচাই ও মারতে হবে। খালের পাড়ের ও রাস্তার ধারের ইঁদুর সর্বদা মারতে হবে। একটি পদ্ধতি দ্বারা সফল বা কার্যকরভাবে ইঁদুর দমন করা সম্ভব হবে না। একাধিক দমন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। ইঁদুর দমন ব্যবস্থাপনা সারা বছর ফসরের মাঠে, ঘরবাড়িতে, অফিস আদালতে, ফলের বাগানে, সেচের নালায় কোন সময়ের জন্য বন্ধ করা যাবে না।
 
ড. সন্তোষ কুমার সরকার*
* মুখ্য প্রশিক্ষক (অব:), ডিএই; মোবাইল : ০১৭১৪২২২১৫৭

Share with :

Facebook Facebook