কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

বাংলাদেশে তুলা উৎপাদন ও এর সম্ভাবনা

মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো হলো খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা। সভ্যতার দিক থেকে বিবেচনায় বস্ত্রই হচ্ছে আমাদের প্রথম মৌলিক চাহিদা। এই বস্ত্র শিল্পের মূল ও প্রধান উপাদান তুলা। এক সময় বাংলাদেশের মসলিন ছিল বিশ্ব বিখ্যাত। এই মসলিনের তুলা এ দেশেই উৎপাদিত হতো। ব্রিটিশ শাসনামলে সেই তুলা ও মসলিন কালের গর্ভে হারিয়ে যায়। বর্তমানে আবার বস্ত্র এবং গার্মেন্ট খাত বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। বাংলাদেশে বস্ত্র খাতের ৩৮৩টি সুতা কলের জন্য বছরে প্রায় ৪০ লাখ বেল আঁশ তুলার প্রয়োজন হয়, যার সিংহভাগ বিদেশ থেকে আমদানি করে মেটানো হচ্ছে এবং এই চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিমাণ তুলা আমদানি করতে প্রতি বছর প্রায় ১২০০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ৪০-৫০ ভাগ তুলা আমাদের দেশে উৎপাদন করা সম্ভব।

বিশ্বে তুলা উৎপাদন ও ব্যবহার
ইএসডিএ এর হিসাব মতে, ২০১৩/১৪ মৌসুমে বিশ্বে ৩৩.১ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে তুলার আবাদ করে ১১৭.১ মিলিয়ন বেল তুলা উৎপাদন করে এবং গড় উৎপাদনের পরিমাণ ৭৬৬ কেজি/হে.। চীন পৃথিবীর বৃহত্তম তুলা উৎপাদনকারী দেশ। ২০১৩/১৪ মৌসুমে চীন ৫.১ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে তুলার আবাদ করে এবং ৩২ মিলিয়ন বেল তুলা উৎপাদন করে। দ্বিতীয় পৃথিবীর বৃহত্তম তুলা উৎপাদনকারী দেশ ভারত ২০১৩/১৪ মৌসুমে ১১.৭ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে তুলার আবাদ করে এবং ২৯ মিলিয়ন বেল তুলা উৎপাদন করে।

বাংলাদেশে তুলা উৎপাদন
বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং জলবায়ু তুলা চাষের জন্য উপযোগী এবং ঐতিহ্যবাহী মসলিন কাপড়ের জন্য প্রয়োজনীয় তুলা এ দেশেই আবাদ হতো বলে কথিত আছে। ১৯৭৩-৭৪ সনে বাংলাদেশে সমভূমির তুলাচাষ শুরু হওয়ার পর থেকে তুলা চাষ এলাকা ও উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিককালে হাইব্রিড ও উচ্চফলনশীল জাতের তুলাচাষ প্রবর্তনের ফলে তুলার ফলন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে তুলার বাজার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিদের তুলা এখন একটি লাভজনক ফসল হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। বর্তমানে তুলা উন্নয়ন বোর্ড তুলা গবেষণা, এর সম্প্রসারণ, বীজ উৎপাদন ও বিতরণ, প্রশিক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও জিনিং এবং ঋণ বিতরণ প্রভৃতি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। বর্তমানে তুলা বাংলাদেশের দ্বিতীয় অর্থকরী ফসল এবং বস্ত্র শিল্পের প্রধান কাঁচামাল। বর্তমানে সমতল এলাকার ৩৪টি জেলায় সমভূমির জাতের তুলার আবাদ হচ্ছে এবং অতি সম্প্রতি ৩টি পার্বত্য জেলাতেও পাহাড়ি জাতের পাশাপাশি সমভূমির জাতের তুলার চাষাবাদ হচ্ছে।

তুলা উন্নয়ন বোর্ড অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে চাষিদের সঙ্গে নিয়ে তুলা উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং দিন দিন এর সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে চলেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে যত অর্থকরী ফসল রয়েছে লাভের দিক দিয়ে তুলা অন্যতম। বিঘা প্রতি নিট লাভ ১৮,০০০-২০,০০০ টাকা এবং বিক্রির নিশ্চয়তা শতভাগ। ২০১৩/১৪ মৌসুমে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করে দেড় লাখ বেল আঁশ তুলা উৎপাদিত হয়। যা চাহিদার তিন ভাগেরও কম। সমভূমি জাতের তুলার আঁশ মাঝারি লম্বা এবং মসৃণ ধরনের। বাংলাদেশে উৎপাদিত তুলার গুণগত মান উজবেকিস্তান, ভারত ও পাকিস্তানের তুলার সমকক্ষ, যা স্থানীয় সুতা ও কাপড়ের কলে ব্যবহার হচ্ছে। অপরপক্ষে পাহাড়ি তুলার আঁশ মোটা, খাটো ও খস্খসে ধরনের। এ তুলা উপজাতীয়রা নিজস্ব তাঁতে ব্যবহার্য পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করছে এবং কম্বল, পশমী কাপড় ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায়, বরেন্দ্র এলাকায়, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকায় ও চরাঞ্চলে তুলাচাষ উপযোগী ২.৪২ লাখ হে. জমি রয়েছে, যা তুলাচাষের আওতায় এনে সফলভাবে তুলাচাষ করা হলে স্থানীয় চাহিদার প্রায় ৩০ ভাগ পূরণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে দেশে তুলার আঁশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভোজ্যতেলের কিয়দাংশ পূরণ হবে এবং গবাদিপশু ও মাছের খাদ্য হিসেবে খৈলের জোগান হবে। এতে তুলাভিত্তিক শিল্পের প্রসার ঘটবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ দেশে অর্থনৈতিক কর্মকা- জোরদার হবে।

জমি নির্বাচন ও তুলাচাষ
তুলাচাষের জন্য উপযুক্ত হচ্ছে উঁচু জমি যেখানে বন্যা বা বৃষ্টির পানি জমে থাকে না। উত্তম সুনিষ্কাশিত মাটি তুলাচাষের উপযোগী। তুলাচাষের জন্য উৎকৃষ্ট হচ্ছে- বেলে দো-আঁশ ও দো-আঁশ প্রকৃতির মাটি। এ ছাড়াও, এটেল দো-আঁশ ও পলিযুক্ত এটেল দো-আঁশ মাটিতে তুলাচাষ করা যায়। মাটির জো অবস্থা বুঝে ৩-৪টি চাষ ও মই দিয়ে জমি সমতল ও ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। সারি থেকে সারি ৯০ সেমি. (৩ ফুট বা ২ হাত) এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৪৫সেমি. (১.৫ ফুট বা ১ হাত) বজায় রেখে বীজ বপন করতে হয়। সারি বরাবর মাটি উঁচু করে ( ridge & furrow পদ্ধতি) তার ওপর বীজ বপন করা উত্তম।

তুলার জাত
তুলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক উদ্ভাবিত সিবি-১২, সিবি-১৩ ও সিবি-১৪ জাতের তুলাবীজ সারা দেশে চাষ করা হয়। এ ছাড়া বেসরকারি বীজ কোম্পানি কর্তৃক আমদানিকৃত হাইব্রিড বীজ (রূপালি-১, সৌরভ, ডিএম-২ প্রভৃতি) বর্তমানে বাংলাদেশে চাষ হচ্ছে। জাত ভেদে তুলার বীজ ১ আষাঢ় থেকে ১৫ শ্রাবণ পর্যন্ত (১৫ জুন থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত) বপনের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তবে ৩০ শ্রাবণ অর্থাৎ ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বীজ বপন করা যেতে পারে। হাইব্রিড জাত আগাম বপন করা উত্তম। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব জাতের ক্ষেত্রে বিঘাপ্রতি ১.৫০ কেজি এবং হাইব্রিডের ক্ষেত্রে ৫০০-৬০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। বীজ বপনের আগে তুলাবীজ ৩-৪ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে শুকনো মাটি বা ছাই দিয়ে ঘষে নেয়া উত্তম।

সার ব্যবস্থাপনা
ভালো ফলন পেতে হলে তুলা ক্ষেতে উপযুক্ত সার সঠিক পরিমাণ ও নিয়মমাফিক ব্যবহার করতে হয়। মাটিতে জৈব ও রাসায়নিক উভয় প্রকার সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন । জৈবসার ব্যবহারে মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধি পায়। ফলে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ে, অনুজীবের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং অনুখাদ্যের পরিমাণ বাড়ে।
বিঘাপ্রতি ইউরিয়া সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ সময় তুলার জাত, প্রয়োগ পদ্ধতি, মাটির উর্বরতা শক্তি এবং উক্ত সময়ের আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে নিরূপণ করতে হবে। গাছের ৪০ দিন এবং ৬০ দিন বয়সে টিএসপি সারের পরিবর্তে ডিএপি সার পার্শ্ব প্রয়োগ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে ইউরিয়া সার বিঘাপ্রতি ৫-৬ (১৮%) কেজি কম ব্যবহার করতে হবে।

সার প্রয়োগ পদ্ধতি
বেসাল সার বীজ বপনের জন্য তৈরি নালায় অথবা পৃথক নালা কেটে প্রয়োগ করতে হবে। পার্শ্ব প্রয়োগের ক্ষেত্রে সারি থেকে ৫-৬ সেমি. দূরে নালা কেটে সার প্রয়োগ করে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। একবার সারির যে দিকে পার্শ্ব প্রয়োগ করা হবে পরে তার বিপরীত দিকে পার্শ্ব প্রয়োগ করতে হবে। বেসাল সার প্রয়োগ কোনো কারণে সম্ভব না হলে তা চূড়ান্ত চারা পাতলাকরণের পর পার্শ্ব প্রয়োগ করতে হবে। উল্লেখ্য, তুলা ফসলে ফুল ধারণপর্যায় অধিক হারে খাদ্য গ্রহণ শুরু করে যা বোল ধারণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

ফলিয়ার স্প্রে
গাছের বয়স ৫০-৬০ দিনের পর থেকে ১০০ দিন পর্যন্ত ১০-১৫ দিন অন্তর অন্তর ৩ থেকে ৪ বার মাত্রানুযায়ী ফলিয়ার স্প্রে করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে ইউরিয়া অথবা ডিএপি সার ২% হারে (প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০০ গ্রাম ইউরিয়া অথবা ডিএপি সার), এমওপি সার ১% হারে (প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম এমওপি সার), এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যেমন বোরণ, জিংক সালফেট ০.১০- ০.১৫ % হারে (প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১০-১৫ গ্রাম সার) পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে গাছের পাতায় স্প্রে করলে অধিক ফলন পাওয়া যায়।

কম্পোস্ট/গোবর সার প্রয়োগ

হেক্টরপ্রতি ১২.৫ টন কম্পোস্ট সার, ২.৫ টন ভার্মি কম্পোস্ট/পোল্ট্রির বিষ্ঠা অথবা প্রাপ্তি সাপেক্ষে ৫-৬ টন পচা গোবর সার জমিতে ছিঢিয়ে চাষ দিয়ে মিশিয়ে দিতে হবে। তুলার ফলন বৃদ্ধি ও মান উন্নয়নের জন্য জৈবসার প্রয়োগ করা প্রয়োজন। কুইক কম্পোস্ট/ভার্মি কম্পোষ্ট তৈরির পদ্ধতি অনুসরণ করে সহজেই কম্পোস্ট সার তৈরি করা যায়।

সবুজ সার প্রয়োগ
ধৈঞ্চা ও শন-পাট সবুজ সারের জন্য উপযুক্ত। তুলার জমিতে জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম সপ্তাহে ৫০ কেজি/হেক্টর সবুজ সারের বীজ বুনতে হয় এবং ৪৫-৫০ দিন পরে জমিতে চাষ দিয়ে সবুজ অবস্থায় ধৈঞ্চা বা শন-পাটের গাছ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হয়। গাছগুলো মাটিতে পচে মিশে যাওয়ার পর তুলাবীজ বপন করতে হয়।

হরমোন স্প্রে
গাছের ফুল, কুঁড়ি ও বোল সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ৫০-৬০ দিন বয়সের পর থেকে ৭-১০ দিন পর পর ৩-৪ বার হরমোন যেমন- প্লানোফিক্র/ফ্লোরা ইতাদি গাছের পাতায় প্রয়োগ করা হলে অধিক ফলন পাওয়া যায়। গাছের পাতা সবুজ রাখার জন্য সালফার সার প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম মিশিয়ে প্রয়োগ করা যেতে পারে।

তুলার ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমন ব্যবস্থাপনা
আমাদের দেশে ক্ষতিকারক পোকার মধ্যে জ্যাসিড, জাবপোকা, স্পটেড বোলওয়ার্ম, আমেরিকান বোলওয়ার্ম ও সাদা মাছির নামই সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য। এই পোকা দ্বারা তুলা ফসল আক্রান্ত হলে এবং সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ফসলের মারাত্মক ক্ষতিসাধিত হয় এবং তুলার ফলন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। বর্তমান বিশ্বে সমন্বিত/ফসল ব্যবস্থাপনার (ICM) মাধ্যমে ফসলকে পোকা-মাকড়ের ব্যাপক আক্রমণ থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা বলতে পোকামাকড় দমনের একের অধিক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের আক্রমণকে প্রতিহত করে ফসলকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়।

ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
বপনের পর জাতভেদে ১১০-১২০ দিনের মধ্যে তুলার বোল ফাটতে শুরু করে। ৩-৪ বারে সব তুলা সংগ্রহ করতে ৪০-৫০ দিন দরকার হয়। তুলার বোল সম্পূর্ণরূপে ফাটার পর ও ৭-১০ দিন গাছেই শুকানো উচিত। এতে আঁশ ও বীজের মান উন্নত হয়।

আয় ব্যয়ের হিসাব
তেত্রিশ শতকের এক বিঘা তুলা চাষ করলে পঁচিশ হাজার থেকে ত্রিশ হাজার টাকা আয় হয় এবং সব মিলিয়ে সাত হাজার থেকে আট হাজার টাকা খরচ হয়। অর্থাৎ তেত্রিশ শতকের এক বিঘা তুলা চাষ করলে ছয় মাসে আঠারো হাজার থেকে বিশ হাজার টাকা নিট লাভ পাওয়া যায়।

বিঘা (৩৩ শতক) প্রতি সারের মাত্রা ও প্রয়োগ পদ্ধতি
সারের নাম

সারের পরিমাণ (কেজি/বিঘা)

 

 

   মন্তব্য

 

মোট পরিমাণ

জমি তৈরর সময় প্রয়োগ (বেসাল)

পার্শ্ব প্রয়োগ

 

 

 

 

১ম (বপনের ২০-২৫ দিন পর)

২য় (বপনের ৪০-৫০ দিন পর)

৩য় (বপনের ৬০-৭০ দিন পর

৪র্থ (বপনের ৭০-৮০ দিন পর)

 

ইউরিয়া

 ২৫-৩০

 ২.৫-৩.৫

 ২.৫-৪.০

 ৭.৫-৯.০

 ৭.৫-৯.০

 ৫-৬

হাইব্রিড জাতের জন্য সার কিছু বেশি লাগবে।

টিএসপি

 ২৫-৩০

 ১০-১২

 ৮-৯

 ৮-৯

 -

 -

এমওপি

 ৩৫-৪০

 ৩-৪

 ৫-৬

 ৯-১০

 ৯-১০

 ৪-৫

জিপসাম

 ১৪-১৬

 ৪-৫

 -

 ৬-৭

 ৪-৫

 -

বোরণ

 ২.৫-৩

 ১-১.৫

 ১

 -

 ০.৫০

 -

জিংক

 ২.৫-৩

 ১-১.৫

 ১

 -

 ০.৫০

 -

ম্যাগনেশিয়াম সালফেট

 ২.৫-৩

 ১-১.৫

 ১

 -

 ০.৫০

 -

গোবর/আবর্জনা
পচা সার 

 ৬০০-৮০০

 ৬০০-৮০০

 -

 -

 

 

চুন    ১০০-১৫০

বীজ বপনের ২০-২৫ দিন আগে   

অম্ল মাটির জন্য

                                                                                                
তুলার উপজাত
তুলা এমন একটি ফসল যার প্রতিটি অংশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমনÑআঁশ থেকে সুতা, বীজ থেকে খৈল ও খাওয়ার তেল পাওয়া যায়। গাছ থেকে জ্বালানি, কাগজ হার্ডবোর্ড বানানো যায়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি। যে জমিতে কোনো ফসল হয় না সেই জমিতে পর পর দুই মৌসুম তুলা চাষ করলে এর উর্বরতা শক্তি এমন বৃদ্ধি পায় তখন সর্ব প্রকার ফসল সহজেই ফলানো যায়।

শেষ কথা
বর্তমানে হাইব্রিড সীড প্রবর্তনের মাধ্যমে চাষিপর্যায়ে তুলা চাষের ব্যাপক সাড়া ফেলেছে যার মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ৬ থেকে ৭ লাখ বেল তুলা উৎপাদন করা সম্ভব হবে এবং এর মাধ্যমে সরকারের ৪-৫ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং এই অর্থ বাংলাদেশের অন্য খাতে উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে সরকারের রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে এবং মধ্যম আয়ের উন্নত দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণতার পাশাপাশি বস্ত্রের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অত্যন্ত জরুরি এবং এর জন্য তুলা উন্নয়ন খাতে সরকার তথা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সুদৃষ্টি তথা সরাসরি অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ফিজিওলজিক্যালি তুলা লবণাক্ত ও খরা সহ্য ক্ষমতাসম্পন্ন ফসল। বরেন্দ্র এলাকায় ৫.০ লাখ হেক্টর এর বেশি জমি আছে। এ থেকে এক লাখ হেক্টর জমি তুলা চাষের আওতায় আনা সম্ভব। দেশের দক্ষিণ অঞ্চল অর্থাৎ খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে কম থেকে মাঝারি লবণাক্ত জমি আছে যার মধ্যে ২ হাজার হেক্টর জমি আগামী ৫ বছরের মধ্যে তুলা আবাদের আওতায় নিয়ে আসা যাবে। এসব এলাকার ফসল চাষের নিবিড়তা অনেক কম এবং শস্যবিন্যাস পতিত-পতিত-রোপা আমন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদী অববাহিকায় আনুমানিক প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর এ ধরনের অধিক জমি আছে যেখানে কম আয়ের/মূল্যের ফসল আবাদ হয় তন্মধ্যে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে সহজেই তুলা চাষ সম্প্রসারণ করা যাবে। তুলা চাষের মাধ্যমে মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করা তথা গ্রামীণ জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গঠন সম্ভব।

ড. মো. গাজী গোলাম মর্তুজা*

* কর্মসূচি  পরিচালক, নিবিড় তুলাচাষ কর্মসূচি, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, Email: mortuza01@yahoo.com


Share with :

Facebook Facebook