কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

প্রশ্নোত্তর অগ্রহায়ণ-১৪২১

মো. জাহাঙ্গীর আলম
নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রশ্ন : কলাগাছের পাতা হলুদ হয়ে বোঁটার কাছে ভেঙে ঝুলে পড়ে ও আক্রান্ত গাছ আস্তে আস্তে মারা যায়। এ ক্ষেত্রে প্রতিকার কী?
উত্তর : কলার তিনটি প্রধান রোগের মধ্যে পানামা রোগ অন্যতম। এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ। এ রোগের প্রতিকার হিসেবে রোগমুক্ত গাছ লাগাতে হবে। রোগাক্রান্ত গাছ তুলে ফেলে দিতে হবে। রোগ প্রতিরোধ সম্পন্ন জাতের চাষ করতে হবে। যেমন- বারিকলা-১, বারিকলা-২। আক্রান্ত জমিতে পরের বছর কলা চাষ করা যাবে না। এ ছাড়া টিল্ট-২৫০ ইসি (০.০৪%) ছত্রাকনাশক অনুমোদিত মাত্রায় আক্রান্ত গাছে প্রয়োগ করেও সুফল পাওয়া যেতে পারে।

আব্দুল সালাম
আগইলঝরা, বরিশাল
প্রশ্ন : পানের বরজে পান পাতা পচে যাচ্ছে, করণীয় কী?
উত্তর : পান চাষে সাধারণত গাছের গোড়া পচা, পাতা পচা রোগ বেশি দেখা যায়। এজন্য পান চাষের জমি উঁচু ও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। বরজের আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হওয়া উচিত। এ রোগে ছাই ও নিমপাতার পানি স্প্রে করে ক্ষতি অনেক কমিয়ে আনা যায়। এছাড়া পচন রোধে রিডোমিল গোল্ড অথবা ডাইথেন এম-৪৫ ছত্রাকনাশক অনুমোদিত মাত্রায় আক্রান্ত গাছে প্রয়োগ করতে হবে। পান চাষে নিয়মিত ১% বোর্দ্রো মিশ্রণ ১৫ দিন পর পর গাছে স্প্রে করলে সব রোগের উপশম হয়।
মেহেদী হাসান
গৌরীপুর, ময়মনসিংহ
প্রশ্ন : লাউ কচি অবস্থায় পচে ঝরে যায়, কারণ কী?
উত্তর : ফলের মাছি পোকা বা ফ্রুট ফ্লাই অনেক সময় কচি ফলের গায়ে ছিদ্র করে ডিম পাড়ে ও তাতে অপরিপক্ব অবস্থায় ফল ঝরে পড়ে। এর প্রতিকার হিসেবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ করা আক্রান্ত ফল পোকাসহ সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা। ফল ধরার পর থেকে ২০-২৫ দিন পর্যন্ত বাদামি কাগজের ঠোঙ্গা বা পেপার দিয়ে ফল ঢেকে রাখা। জমিতে বিষটোপ ফাঁদ ব্যবহার করা। এতে স্ত্রী মাছি ডিম পাড়ার আগেই মারা যেতে পারে বলে জমিতে মাছি পোকার আক্রমণ অনেকাংশে কমে যায়। এছাড়া কিউলিওর (সেক্স ফেরোমন) ফাঁদ ব্যবহার করা। জমিতে বিষটোপ ফাঁদ ও কিউলিওর ফাঁদ পাশাপাশি ব্যবহার করলে সবচেয়ে  কার্যকরভাবে এ পোকা দমন করা যায়।

মো. রাসেল
ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর
প্রশ্ন : শিম গাছের চারা গোড়া ফেটে রস ঝরে, চারা মরে যায়, প্রতিকার কী?
উত্তর : এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ। এ রোগের জীবাণু মাটিতে ও আগাছার মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে। এটি শিম, লাউ, চিচিঙ্গা ফসলে বেশি দেখা যায়।
প্রতিকার :
মাদায় ১০০ গ্রাম করে ট্রাইকো-কম্পোস্ট ব্যবহার করা।
- রোগমুক্ত গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করা।
- শস্যপর্যায় অবলম্বন করা।
- অনুমোদিত ছত্রাকনাশক যথা-রোভরাল ২ গ্রাম ১ লিটার পানিতে গুলিয়ে সঠিক নিয়মে ১৫ দিন স্প্রে করা।

তৌফিকুর রহমান
রংপুর
প্রশ্ন :শীতের মৌসুমে মাছের ক্ষত রোগ বা ঘা দেখা যায়, কী করব?
উত্তর : শীতের মৌসুমে পুকুরে পানির তাপমাত্রা কম থাকার কারণে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস অথবা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ বেশি হয়। ফলে মাছের গায়ে বিভিন্ন রকম ঘা বা ক্ষত রোগ অথবা পাখনা বা ফুলকা পচা রোগ দেখা দেয়। এ ধরনের রোগ দেখা দিলে প্রতি শতাংশ পুকুরে আধা কেজি চুন ও আধা কেজি লবণ প্রয়োগ করতে হয় ৭ দিন পর আবার একইভাবে লবণ দিতে হয়। বছরে ২-৩ বার চুন প্রয়োগ করা ভালো। পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট শতাংশপ্রতি ১৫ গ্রাম এবং চুন ও লবণ শতাংশপ্রতি ১ কেজি করে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

ঘাযুক্ত মাছগুলো পুকুর থেকে তুলে একটি বড় পাত্রে ২০ লিটার পানিতে ২০০ গ্রাম লবণ মিশিয়ে তাতে মাছগুলোকে ৫ মিনিট রাখতে হবে। অন্য একটি পাত্রে একই পরিমাণ পানি নিয়ে ৫ গ্রাম পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশিয়ে ৫ মিনিটের জন্য মাছগুলোকে রাখতে হবে তারপর পুকুরে ছাড়তে হবে।

টেট্রাসাইক্লিন/টেরামাইসিন প্রতি কেজি খাদ্যের সঙ্গে ২টা ট্যাবলেট মিশিয়ে ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে। বেশি ঘাওয়ালা মাছ ধরে পুঁতে ফেলতে হবে।

মাছের ক্ষতরোগের মাত্রা বেশি হলে চুন ১ কেজি/শতাংশ এবং লবণ ১ কেজি/শতাংশ হারে প্রয়োগ করতে হবে।
উপকূলীয় অঞ্চলে মাছ চাষের পুকুর বন্যায় প্লাবিত হলে ক্লোরাইডের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির (৩০ পিপিএম এর বেশি) ফলে কেবল সিলভার কার্প মাছে ক্ষত রোগ দেখা যায়। এক্ষেত্রে আক্রান্ত পুকুরের তিন ভাগের দুই ভাগ পানি মিঠাপানির দ্বারা পরিবর্তন করতে হবে এবং প্রতি শতাংশে ৩-৪টি করে চালতা ছেঁচে সারা পুকুরে ছড়িয়ে দিতে হবে। পুকুরকে বন্যামুক্ত রাখতে হবে।

রাজীবুল হাসান
রাজশাহী
প্রশ্ন : মাছের উকুন রোগ হলে কী করব?
উত্তর : এ রোগের লক্ষণ হলো ফুলকার পাশে পোকা থাকে এবং রক্ত চুষে খায়। চুলকানির কারণে মাছ লাফায়। গোবর বা হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা বেশি দিলে এ রোগ হয়।
প্রতিকার : সুমিথিয়ন বা মেলাথিয়ন প্রতি শতাংশে প্রতি ফুট পানির গভীরতার জন্য ২ মিলি. প্রথম সপ্তাহে দিতে হবে ও এভাবে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।
ডিপটোরেক্স প্রতি শতাংশে ৫-৮ গ্রাম প্রতি ফুট পানির গভীরতার জন্য ৭ দিন অন্তর ৩ বার দিতে হবে।
উকুনের ডিম পাড়ার স্থান যেমন- বাঁশ, চাটাই, কঞ্চি, তক্তা এসব তুলে ফেলতে হবে। রোগ প্রতিরোধের জন্য বায়োকেয়ার ৮০-১২০ মিলি. প্রতি শতকে ৭ দিন পর পর প্রয়োগ করতে হবে তবে রোগ নিরাময়ের জন্য পর পর ২ দিন ১২০-১৬০ মিলি. প্রতি শতক হারে দিতে হবে।

মাহিনুল ইসলাম
লালমনিরহাট
প্রশ্ন : মাছের ফুলকা পচা রোগ হলে কী করব?
উত্তর : শতাংশে আধা কেজি চুন ৭ দিন পর পর দিতে হবে। চুন ১ কেজি প্রতি শতক হারে প্রয়োগ করতে হবে। ঘাযুক্ত মাছগুলো পুকুর থেকে তুলে একটি বড় পাত্রে ২০ লিটার পানির সঙ্গে ২০০ গ্রাম লবণ মিশিয়ে তাতে মাছগুলোকে ৫ মিনিট রাখতে হবে। অন্য একটি পাত্রে একই পরিমাণ পানি নিয়ে ৫ গ্রাম পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশিয়ে ৫ মিনিটের জন্য মাছগুলোকে রাখতে হবে, তারপর পুকুরে ছাড়তে হবে।

প্রতি কেজি খাবারের সঙ্গে টেরামাইসিন ট্যাবলেট (৩ মিগ্রা.) একটি করে এক সপ্তাহ খাওয়াতে হবে।

লুৎফর রহমান
দিনাজপুর
প্রশ্ন : গরুকে কুকুর কামড় দিয়েছে কী করণীয়?
উত্তর : কামড়ানো জায়গা পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দ্রবণ দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। রেবিসিন ১০ সিসি. ১০০ কেজি ওজনের জন্য প্রথম দিন ৪ সিসি., সপ্তম দিন ৩ সিসি. ও ২১তম দিন ৩ সিসি. ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করতে হবে।

রবিউল ইসলাম
রাজশাহী
প্রশ্ন :বাছুরের নাভীতে ঘা করণীয় কী?
উত্তর : এন্টিসেপটিক দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে।
- ইঞ্জেকশন এসপিভেট ০.৫ গ্রাম/৩ সিসি. পানিতে মিশিয়ে বাছুরের রানের মাংসে দিতে হবে।
- ইঞ্জেকশন অ্যাসটাডেট-৩ সিসি. ৫ দিন রানের মাংসে দিতে হবে।

আল আমিন
গাজীপুর
প্রশ্ন : মুরগির রক্ত আমাশয় হয়েছে কী করণীয়?
উত্তর : কসুমিক প্লাস পাউডার ১০০ মুরগির জন্য ২৫ গ্রাম হারে পানিতে মিশিয়ে ১২ ঘণ্টার মধ্যে বারবার খাওয়াতে হবে।

মিলন ইসলাম
রংপুর
প্রশ্ন : হাঁস-মুরগির কৃমির সমস্যায় কী করণীয়?
উত্তর : পাইপ্যারাজিন সাইট্রেট ১০০টি পাখির জন্য ১০ গ্রাম ওষুধ খাবার বা পানির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। প্রতি ৩-৪ মাস পর পর পুনরায় খাওয়াতে হবে।
 
কৃষিবিদ মোহাম্মদ মারুফ
* কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল : ০১৫৫২৪৩৫৬৯১

Share with :

Facebook Facebook