কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৪ ডিসেম্বর ২০১৮

কৃষি তথ্য সার্ভিস

সংস্থা পরিচিতি:
 
কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) কৃষি মন্ত্রণালয়াধীন একটি সংস্থা। কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তি গণমাধ্যমের সাহায্যে তৃণমূল পর্যায়ে কৃষকের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়াই সংস্থার মূল লক্ষ্য। এটি ১৯৬১ সনে কৃষি তথ্য সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর ১৯৮৫ সনে কৃষি তথ্য সার্ভিসে পরিণত হয়। সদর দপ্তর ও দেশব্যাপী ১১টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে কৃষি তথ্য সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে।
কৃষি তথ্য সার্ভিস কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কৃষি উন্নয়নমূলক প্রচার-প্রচারণার কাজটি করে থাকে। কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন সংস্থার চাহিদানুযায়ী মুদ্রণ সামগ্রী প্রকাশ, ভিডিও সামগ্রী নির্মাণ ও প্রচারের দায়িত্ব পালন করে আসছে। 
 
ভিশন: 
আধুনিক কৃষি তথ্য সেবা সহজলভ্যকরণ।
মিশন: 
প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও আইসিটি গণমাধ্যমের সহায়তায় কৃষি বিষয়ক তথ্য ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে সহজলভ্য করে জনসচেনতা সৃষ্টি।
 
কৃষি তথ্যের বিস্তার মাধ্যম:
 
কৃষি তথ্য সার্ভিস মূলত গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সম্প্রসারণ বিভাগ, বিশ^বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন নলেজ সেন্টার থেকে প্রাপ্ত কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তি কৃষকের গ্রহণযোগ্য করে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও আইসিটি মাধ্যমে কৃষি তথ্য বিস্তার করে থাকে।
 
প্রিন্ট মিডিয়া কার্যক্রম:
 
  • কৃষিকথা: বাংলাদেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন ফার্ম ম্যাগাজিন মাসিক কৃষিকথা প্রকাশ এবং নামমাত্র মূল্যে বিতরণ করা হয়। বর্তমান কৃষিকথার গ্রাহক সংখ্যা ৮০ হাজারেরও বেশি। আর এর পাঠকের সংখ্যা ১৫ লাখেরও বেশি। জানুয়ারি ২০০৯ হতে জুন ২০১৮ পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী মাসিক ‘কৃষিকথা’ পত্রিকার প্রায় ৩৯.৬০ লক্ষ কপি মুদ্রণ ও বিতরণ করা হয়েছে। 
  • সম্প্রসারণ বার্তা: মাসিক বিভাগীয় নিউজ বুলেটিন চার রঙে প্রকাশ ও বিতরণ করা হয়। কৃষি উন্নয়ন, সমৃদ্ধি, সফলতা, বিভিন্ন ইভেন্টসের হালনাগাদ খবর নিয়ে সম্প্রসারণ বার্তা নিয়মিত প্রকাশিত হয়। জানুয়ারি ২০০৯ হতে জুন ২০১৮ পর্যন্ত মাসিক সম্প্রসারণ বার্তা’র ১.০৫ লক্ষ কপি প্রকাশ ও বিতরণ করা হয়েছে। 
  • অন্যান্য প্রকাশনা: কৃষক ও কৃষি কর্মী এবং আগ্রহীদের চলমান চাহিদামাফিক সময়ে প্রযুক্তি নির্ভর বই, বুকলেট, পোস্টার, লিফলেট, ফোল্ডার, স্টিকার, ম্যাগাজিন, ব্যানার, ফেস্টুন মুদ্রণসহ বিনামূল্যে বিতরণের মাধ্যমে প্রযুক্তি বিস্তারে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আলোচ্য সময়ে কৃষি প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন লিফলেট, পোস্টার, বুকলেট ইত্যাদির প্রায় ৩৫.৮২ লক্ষ কপি মুদ্রণ ও বিতরণ করা হয়েছে।

ইলেকট্রনিক মিডিয়া কার্যক্রম:

 

  • বাংলাদেশ টেলিভিশন: কৃষি তথ্য সার্ভিসের সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং সহায়তায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠান সপ্তাহে ৫ দিন সম্প্রচারিত হচ্ছে। এছাড়া ২০১৪ সাল থেকে বিটিভিতে প্রতিদিনের কৃষিবিষয়ক অনুষ্ঠান বাংলার কৃষি প্রতিদিন সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে প্রচারিত হচ্ছে। উক্ত সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানের ২৩১৫টি পর্ব এবং ‘বাংলার কৃষি’ অনুষ্ঠানের  প্রায় ১৬৯০টি পর্ব সম্প্রচারের যাবতীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
  • বাংলাদেশ বেতার: বাংলাদেশ বেতারের জাতীয় ও আঞ্চলিক কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান নির্মাণে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান। প্রতিদিন জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বেতার কেন্দ্র থেকে দৈনিক প্রায় সাড়ে ১৪ ঘণ্টা অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হচ্ছে।
  • কমিউনিটি রেডিও: ‘আমার রেডিও আমার কথা বলে’ এ স্লোগানকে ধারণ করে বরগুনা জেলার আমতলীতে অবস্থিত কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে কৃষি রেডিও এফএম ৯৮.৮ নামে বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার ১২টি উপজেলায় গ্রামীণ কল্যাণ ও চাহিদাভিত্তিক কৃষিসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান দৈনিক ৮ ঘণ্টা সম্প্রচার করা হয়ে থাকে। 
  • কৃষি ভিডিও চিত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস সর্বাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন ভিডিও, ডকুমেন্টারি, ফিল্ম, ফিলার, নাটক, টকশো নির্মাণ এবং গণমাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়ে থাকে। এ ভিডিওগুলো গ্রামীণ পর্যায়ে মোবাইল সিনেমা ভ্যানের মাধ্যমে প্রর্দশন করা হয়ে থাকে। আলোচ্য সময়ে কৃষি প্রযুক্তিনির্ভর ৩৭টি ভিডিও ফিল্ম, ৭২টি ফিলার নির্মাণ ও সম্প্রচার করা হয়েছে। এ সময়ে ৭৪২০টি ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রর্শনীর মাধ্যমে তৃণমুল পর্যায়ে আধুনিক কৃষি তথ্য প্রযুক্তি সম্প্রচারের কাজ করা হয়েছে। 
 
আইসিটি ও ইনোভেশন কার্যক্রম:
 
  • কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র (এআইসিসি): কৃষি তথ্য সার্ভিসই প্রথম গ্রাম পর্যায়ে ৪৯৯টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে আইসিটি ব্যবহার করে গ্রামের তৃণমূল পর্যায়ে কৃষি তথ্য বিস্তারের কার্যক্রম শুরু করেছে। এসব কেন্দ্রে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, ইন্টারনেট মডেম, মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ইত্যাদি প্রদান করে ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
  • কৃষি কল সেন্টার: সরাসরি কৃষি বিশেষজ্ঞদের (কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) সাথে কথা বলে তাৎক্ষণিকভাবে কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিতে ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কৃষি কল সেন্টার-১৬১২৩। দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে যে কোনো মোবাইল থেকে মাত্র ২৫ পয়সা/মিনিট হারে কল করতে পারেন ১৬১২৩ নম্বরে। জুন ২০১৪ থেকে আগস্ট ২০১৮ পর্যন্ত সময়ে প্রায় এক লক্ষ কৃষিজীবীদের তথ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে।
  • স্মার্ট এগ্রিকালচার: কৃষি তথ্য সার্ভিস দেশীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশে ‘স্মার্ট এগ্রিকালচার’ এর চর্চা শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে আলুর মড়ক রোগ নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের জিআইএসভিত্তিক তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মোবাইলে আগাম সতর্কীকরণ বার্তা প্রেরণ করা হচ্ছে।
  • ই-বুক: মাল্টিমিডিয়া ই-বুক হলো কোনো বিষয়ে টেক্সট কনটেন্টের সাথে অডিও, ভিডিও, অ্যানিমেশন এসবের সমন্বয়ে প্রণীত ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল বই। এগুলো সিডি আকারে সবকয়টি এআইসিসিতে বিতরণ করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিভিন্ন ফসল ও প্রযুক্তি নির্ভর ৫৫টি মাল্টিমিডিয়া ই-বুক তৈরি করা হয়েছে। 
  • ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপস ও অন্যান্য উদ্যোগ: কৃষির বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি সম্বলিত একটি সুবিশাল ওয়েবপোর্টাল িি.িধরং.মড়া.নফ নির্মাণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়ে থাকে। এছাড়াও কৃষিকথা ও কৃষি তথ্য সার্ভিস নামে দুটি মোবাইল অ্যাপস নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দশটি কৃষি অঞ্চলে দশটি আধুনিক আইসিটি ল্যাব ও সহজেই তথ্য গ্রহণের জন্য ১১টি কিয়স্ক তৈরি করা হয়েছে।

অন্যান্য কার্যক্রম:

 

  • প্রশিক্ষণ কার্যক্রম: কৃষি তথ্য সার্ভিস মিডিয়াভিত্তিক বিভিন্ন আঙ্গিকে বিভিন্ন শিরোনামে কৃষক, কৃষিকর্মী, কৃষিবিদ, সার্ভিস প্রোভাইডার ও স্টেক হোল্ডারদের আধুনিক প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন করছে। এতে দক্ষ মিডিয়া কর্মী ও আইসটিবান্ধব কর্মী তৈরি হচ্ছে যারা কৃষির আধুনিক লাগসই তথ্যপ্রযুক্তিকে বাস্তবায়ন করে কৃষি উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করছে। ২০০৯ থেকে অদ্যাবধি ১১৪৫০ জনকে ই-কৃষি, গণমাধ্যমে কৃষি, কৃষি প্রযুক্তি ইত্যাদি শিরোনামে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। 
  • অন্যান্য অনুষ্ঠান আয়োজন: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন দিবস উপলক্ষ্যে সেমিনার, মেলা, র‌্যালি ইত্যাদির আয়োজন করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে কৃষি তথ্য সার্ভিস কৃষির সার্বিক প্রচার প্রচারণা করে থাকে।

 

কৃষি তথ্য সার্ভিস কৃষি অগ্রযাত্রার গৌরবোজ্জ্বল অংশীদার। সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে কৃষি তথ্য সার্ভিস অর্জন করেছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক (স্বর্ণপদক), জাতীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী পদকসহ নানা স্বীকৃতি। বর্তমান সরকারের কৃষি উন্নয়নের অব্যাহত ধারায় এআইএস কৃষি তথ্য বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে টেকসই কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় বদ্ধ পরিকর।


Share with :

Facebook Facebook