কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৬ এপ্রিল ২০১৮

খাগড়াছড়িতে বিনাধান-১৯ চাষাবাদ বিষয়ে কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত


প্রকাশন তারিখ : 2018-04-24

গত ২১-০৪-২০১৮ তারিখে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ( বিনা ) উপকেন্দ্র, খাগড়াছড়ি এর উদ্যোগে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সহযোগিতায় বিনা উপকেন্দ্র খাগড়াছড়ির প্রশিক্ষণ কক্ষে দিনব্যাপি ‘বিনা উদ্ভাবিত আউশ ধানের উন্নত জাত বিনাধান-১৯ এর বৈশিষ্ট, চাষাবাদ পদ্ধতি ও প্রদর্শনী স্থাপন’ বিষয়ে কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার উপ পরিচালক কৃষিবিদ আবুল কাশেম, বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আবুল কালাম আজাদ, কৃষি তথ্য সার্ভিস রাঙ্গামাটির আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ মিস্ত্রী এবং বিনা’র খাগড়াছড়ি উপকেন্দ্র এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও স্টেশন ইনচার্জ কৃষিবিদ সুশান চৌহান।

 

এসময় কৃষিবিদ আবুল কাশেম বলেন একসময় বাংলাদেশে আউশ এবং আমনই ছিল ধান উৎপাদনের প্রধান মৌসুম। যার ফলে রবি মৌসুমে কৃষকরা ডাল, তেল ও মশলাসহ অন্যান্য রবি ফসল আবাদ করতো। সেচ নির্ভর বোরো ধান চাষের প্রবনতা বৃদ্ধির ফলে অন্যান্য রবি ফসলের আবাদ কমে যাওয়ায় প্রতি বছর বিপুল বৈদেশিক মূদ্রা ব্যায় করে এসব ফসল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। তাছাড়া বোরো ধান চাষের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নীচে নেমে যাওয়ার ফলে পরিবেশের উপর বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। পার্বত্য এলাকায় বৃষ্টি নির্ভর আউশ ধান চাষের সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে বিনা উদ্ভাবিত আউশ ধানের উন্নত জাত বিনাধান-১৯ পার্বত্য এলাকার ধানের উৎপাদন বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ মিস্ত্রী বলেন বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আউশ মৌসুমে বিদ্যমান উচ্চফলনশীল ধানের জাত গুলোর পাশাপাশি বিনাধান-১৯ এর আবাদ বাড়ানো গেলে দেশে ধান উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমান বাড়ানো সম্ভব হবে। প্রশিক্ষণ পর্বে ড. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন মাত্র ৯০-১০০ দিন জীবনকাল সম্পন্ন বিনাধান-১৯ আউশ ও আমন মৌসুমে বৃষ্টি নির্ভর অবস্থায় সরাসরি ডিবলিং এবং রোপা উভয় পদ্ধতিতে চাষ করা যায় এবং গড় ফলন যথাক্রমে ৩.৮৪ এবং ৫.৫ টন/হেক্টর। এজাতটির দীর্ঘমেয়াদি খরা মোকাবেলার ক্ষমতা রয়েছে। চাল লম্বা, চিকন এবং রান্নার পর ভাত ঝুরঝুরা হয় এবং খেতে সুস্বাদু। পার্বত্য এলাকায় জুমের জমিতে স্থানীয় জাতের পরিবর্তে এ জাতটির আবাদ বাড়ানোর মাধ্যমে এ এলাকাযর কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি এ জাতের ধানের চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের সম্যক ধারনা প্রদান করেন। প্রশিক্ষণে কৃষক কৃষানী ও সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে কৃষকদের মাঝে বিনাধান-১৯ এর বীজ বিতরণ করা হয়। 


Share with :

Facebook Facebook