About Ais

রোগ ব্যস্থাপনা

চারা ধ্বসা রোগ (Damping off)
রোগজীবাণু- Pythium, Rhizoctonia, Fusarium & Phytophthora sp.
যেসব সবজি আক্রান্ত- হয়
বেগুন, টমেটো, কপি, কুমড়া জাতীয় ফসল ইত্যাদি
রোগের লক্ষণ
বীজতলায় বীজ ফেলার পর যখন তা গজাতে শুরু করে তখন থেকে চারা ধ্বসা রোগের আক্রমণ শুরু হয় আর তা চলতে থাকে মূল ক্ষেতে চারা রোপণ পর্যন্ত -। অংকুরিত বীজে এ ছত্রাকের আক্রমণ শুরু হয়ে বীজপত্র, কান্ড এবং শেষে মূল বা শিকড় নষ্ট করে দেয়। চারাতে এ রোগ চেনার সহজ উপায় হল, চারার গোড়ায় বাদামী জলবসা দাগ কান্ডকে ঘিরে থাকতে দেখা যায়। এ রোগের আক্রমণে চারা প্রথমে হালকা সবুজ হয়ে ঢলে যায় এবং আক্রান্ত - স্থান পচনের ফলে সম্পূর্ণ চারাটিই মরে যায়। বীজতলায় এটি সবচে মারাক্ত একটি রোগ। আক্রমণ শুরু হওয়ার ২-৪ দিনের মধ্যেই আক্রান্ত - চারা পচে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ রোগের জীবাণু মাটিতে থাকে এবং তা থেকে পরবর্তী মৌসুমেও রোগের বিস্তার ঘটাতে পারে। বীজ অংকুরিত হওয়ার পর চারা মাটির উপরে ওঠার আগেও এ রোগ দ্বারা আক্রান্ত - হয়ে নষ্ট হতে পারে।
অনুকূল পরিবেশ
বীজতলা অধিক স্যাঁতস্যাতে, আঁটো সাঁটো মাটি আর গরম ভাব থাকলে এ রোগের বিস্তার অধিক হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ রোগের জীবাণু আক্রান- গাছের অবশিষ্টাংশ এবং মাটিতে থাকতে পারে সেচ বা বৃষ্টির পানির মাধ্যমে এসব জীবাণু স্থানারিত হয়।
দমন ব্যবস্থাপনা
বীজতলায় ঘন করে বীজ না বোনা।
দীর্ঘ সময় ধরে ছায়া পায় এমন জায়গায় বীজতলা না করা।
বীজতলায় বীজ ফেলার আগে মাটি ভাল করে চাষ দিয়ে রোদে কয়েকদিন শুকিয়ে নেয়া এবং শেষ চাষের পর সম্ভব হলে বীজতলা সম্পূর্ণভাবে দু’চারদিন কালো পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা।
বীজতলায় শুকনো খড় পোড়ানো।
নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভাল রাখা। বীজতলায় কখনো  যেন পানি জমতে/দাঁড়াতে না পারে।
পর্যাপ্ত জৈব সার (হেক্টর প্রতি ১৫-২০ টন) জমি তৈরির সময় প্রতি মিশানো।
সম্ভব হলে জমি তৈরির সময এক বোতল ফরমালিন ৫০ বোতল পানির সাথে মিশিয়ে মাটি শোধন করে নেয়া যেতে পারে। ফরমালিন মাটিতে দেওয়ার পর বীজতলার মাটি দু‘এক দিন পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা উচিত।
ভিটাভ্যাক্স ২০০, রিডোমিল  গোল্ড  ইত্যাদি প্রয়োগ করে বীজতলার মাটি শোধন করা যায়।
বীজতলায় বীজ বপনের আগে প্রতি কেজি বীজের জন্য ২ গ্রাম হারে ভিটাভ্যাক্স ২০০ অথবা হোমাই ৮০ ডব্লিউ পি দ্বারা বীজ শোধন করে  নেয়া। এর পরিবর্তে এপ্রোন টি জেড ৭৯ এবং লিরোটেকট-এম ব্যবহার করা যায়। ৫১.৭০ সে. তাপমাত্রার গরম পানিতে ৩০ মিনিট বীজ ডুবিয়ে রেখেও শোধন করা যায়।
আক্রান- গাছ জমি থেকে তুলে ধ্বংস করতে হবে।
ট্রাইকোডার্মা হারজিয়ানাম নামক ছত্রাক জীবাণু এ রোগ প্রতিরোধ করতে পারে বলে জানা গেছে।  তাই, চারা রোপণের পূর্বে জমি তৈরির সময় মূল জমির মাটির সাথে ট্রাইকোডার্মা মিশিয়ে দিতে হবে।
বীজতলায় এ রোগের সংক্রমণ দেখা দিলে বোর্দো মিশ্রণ (অনুপাত ৪:৪:৫০ চুনঃ তুঁতেঃ পানি) প্রতি বর্গ মিটারে এক গ্যালন হারে স্প্রে করা। চারা গজানোর পর পরই এই মিশ্রণ একবার সেপ্র করতে পারলে রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা কমে যায়।
ক্ষেতে একবার এ রোগের আক্রমণ দেখা দিলে অন্ত: দু’বছর সেখানে বেগুন গোত্রীয় কোন ফসল চাষ না করা।
ঢলে পড়া বা নেতানো রোগ (Wilt)
রোগের জীবাণু- Ralostonia solanacearum,

  Verticillium sp., Fusarium oxysporum
যেসব সবজি আক্রান্ত- হয়
বেগুন, টমেটো, মরিচ, আলু, তামাক ইত্যাদি
রোগের লক্ষণ
যে কোন বয়সের গাছই ক্ষেতে গেলে অনেক সময় ঝিমিয়ে ঢলে যেতে দেখা যায়। বেগুন ও টমেটো চাষে এ এক দারুণ সমস্যা। এ রোগের প্রকোপ বেশি হলে সম্পূর্ণ ক্ষেতই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত - হয়ে গাছের কচি পাতা প্রথমে ঢলে পড়ে কিংবা নীচের বয়স্ক পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। শিকড়ের মাধ্যমে আক্রমণ শুরু হলেও পরে তা কান্ডে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগের জীবাণু গাছে মাটি থেকে টেনে তোলা পানি সঞ্চালনে বাধা দেয়, ফলে গাছ ঢলে পড়ে ও শেষে মারা যায়। ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক জীবাণু দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত - হলে গাছ হঠাৎ ঢলে পড়ে। আক্রান্ত - গাছের ডাল কেটে পানিতে রাখলে ব্যাকটেরিয়ার সাদা কষের মত স্লাইম বেরিয়ে আসে। পক্ষান্তরে ছত্রাক জীবাণু দ্বারা গাছ আক্রান্ত -হলে প্রথমে গাছের অংশ বিশেষ এবং কয়েকদিন পর সম্পূর্ণ গাছ ঢলে পড়ে। আক্রান্ত - কান্ডের ভিতরের অংশ বাদামী রং ধারণ করে।
অনুকূল পরিবেশ
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় মাটি যদি ভেজা থাকে তাহলে এ রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। রোগাক্রান্ত- গাছ ও সেচের পানির মাধ্যমে এ রোগের জীবাণু বিস্তার লাভ করে। কৃমিজনিত রোগের প্রকোপ বেশি হলে ব্যাকটেরিয়াজনিত ঢলে পড়া রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
দমন ব্যবস্থাপনা
আইএসডি০০৬, বিএল০৯ এবং এসএ২০০০ জাত এ রোগ প্রতিরোধী। এ ছাড়া পুষা ক্রান্তি- এবং মুক্তাকেশী এ রোগের প্রতি মোটামুটি সহনশীল। এ ছাড়া হাইব্রীড বিজয়, উৎসব, আনন্দ, হাসি, খুশী ইত্যাদি জাত ব্যাকটেরিয়াজনিত ঢলে পড়া রোগ প্রতিরোধী বলে জানা গেছে।
বীজতলায় বপনের পূর্বে বেডের উপরে ১৫ সেন্টিমিটার পুরু করে কাঠের গুঁড়া বিছিয়ে পুড়িয়ে দিলে জীবাণু নষ্ট হয়। জমি কাদা করে সপ্তাহ খানেক পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলে মাটি শোধন হয় ও ছত্রাক জীবাণু মারা যায়।
রোগ মুক্ত চারা উৎপাদন ও রোপণ করতে হবে। বীজ তলায় বীজ বপনের ২-৩ সপ্তাহ পূর্বে ৩-৫ টন/হেক্টর হারে মুরগির পচা বিষ্ঠা মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া। মূল জমিতেও এভাবে মুরগির বিষ্ঠা  দেয়া যেতে পারে। ২৫০-৩০০ কেজি/হেক্টর হারে সরিষা বা নিম খৈল এভাবে প্রয়োগ করেও সুফল পাওয়া যায়।
জমি আগাছামুক্ত রাখা। ঢলে পড়া চারা ক্ষেতে দেখা মাত্রই তুলে তা ধ্বংস করতে হবে।
পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার ও পরিমিত ইউরিয়া ব্যবহার করা।
জমি সব সময় আর্দ্র বা ভিজা না রাখা এবং নিকাশের ব্যবস্থা রাখা।
বন বেগুন গাছের কান্ডের সাথে কাঙ্খিত জাতের জোড় কলম করে বেগুনের চাষ করলে ঢলে পড়া রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা যায়।
চারা রোপণের পূর্বে মাটির সাথে ট্রাইকোডার্মা মিশিয়ে দিলে ছত্রাকজনিত ঢলে পড়া রোগ কম হয়।
মোজেইক রোগ  (Mosaic)
রোগের কারণ- Potato virus Y (PVY), Tomato masaic virus (TMV)
যেসব সবজি আক্রান্ত- হয়
টমেটো, শিম, বরবটি, মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, পেঁপে ইত্যাদি
রোগের লক্ষণ
গাছের যে কোন বৃদ্ধি স্থরেই এ রোগ হতে পারে। চারা অবস্থায় আক্রান্ত- হলে গাছ সবচে’ বেশি ক্ষতিগ্রস্থ- হয়। এ অবস্থায় বীজ গজানোর পর বীজপত্র হলুদ হয়ে যায় এবং পরে চারা নেতিয়ে পড়ে। বয়স্ক গাছে প্রথমে ডগার মাথায় কচি পাতায় এ রোগের লক্ষণ দেখা যায়। এ রোগের আক্রমণে পাতায় হলুদ সবুজ ছোপ ছোপ মোজেইকের মত দাগ দেখা যায়। দাগগুলো অসম আকারের। দ্রুত বড় হয়। শেষে দাগগুলো সম্পূর্ণ পাতাই ছেয়ে ফেলে। আক্রান- পাতা ছোট, বিকৃত, নীচের দিকে কোঁকড়ানো ও বিবর্ণ হয়ে যায়। এমনকি শিরা-উপশিরাও  হলুদ হয়ে যায়। লতার পর্বমধ্য খাটো হয়ে আসে। ফলে গাছ খাটো হয়ে যায়। সাধারণতঃ ফল ধরেনা। ধরলেও কচি ফল খসখসে, ছোট ও ফুটকি দাগযুক্ত হয়। মাঝে মাঝে ফলের রং সাদাও হয়ে যায়। ফুল কম আসে এবং অধিক আক্রমণে পাতা ও গাছ মরে যায়। Myzus persicae I Aphis gossipii প্রজাতির জাব পোকা দ্বারা এ ভাইরাস রোগ ছড়ায়। তবে বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতির মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। টমেটোর হলদে ভাইরাসের দু’টি প্রজাতি আছে। একটি পাতার রঙ হলুদ করে, অন্যটি বেগুনী করে। অল্প বয়সী গাছ আক্রান্ত- হলে ফল ধরার আগেই মারা যায়।
অনুকূল অবস্থা
সাদা মাছি দ্বারা এ রোগ ছড়ায়। তাই ক্ষেতে সাদা মাছি থাকলে রোগ বেশি হয়।
আগাম ধ্বসা (Early blight)
রোগের কারণ- Alternaria solani
যেসব সবজি আক্রান্ত- হয়
বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি, টমেটো, আলু ও মরিচ।
রোগের লক্ষণ
যে কোন বয়সের গাছেই আগাম ধ্বসা রোগ হতে পারে। চারাতে যদি ক্ষতি করতে পারে তবে বর্ধনশীল বড় গাছেই রোগ বেশি দেখা যায়। মাটির উপরে গাছের সব অংশই এ রোগ দ্বারা আক্রান- হয়। চারায় প্রথমে বীজপত্র গাঢ় রঙের ছোট ছোট দাগ পড়ে। পরে তা কান্ড ও পাতায় যায়। শেষে চারা মরে যায়। চারা অবস্থায় এ রোগ হলে তাকে কলার রট ((Coller rot)  বা ঘাড় পচা রোগ বলে। কেননা, চারার গোড়া ও তার উপরে যে কোন জায়গার কান্ডে এ দাগ ঘিরে ফেলে সেখান থেকে চারা পচিয়ে মেরে ফেলে। যদি চারা না মরে তবে তার বৃদ্ধি কমে যায় ও গাছ খাটো হয়ে যায়।
বয়স্ক গাছের পাতায় প্রথমে চাক চাক বলয়ের মত গাঢ় বাদামী দাগ পড়ে। দাগগুলো পরে বড় হয়ে থাকে। একাধিক দাগ মিলে বড় বড় দাগের সৃষ্টি করে। পাতা হলদে হয়ে যায় ও পরে বাদামী হয়ে ঝরে পড়ে। বয়স্ক পাতায় প্রথমে এ লক্ষণ দেখা যায় ও পরে তা উপরের দিকে উঠতে থাকে। চরম আক্রমণে সম্পূর্ণ গাছই মরে যেতে পারে। টমেটো গাছে যখন ফল পাকতে শুরু হয় সাধারণত: তখন এ রোগের প্রকোপ বেশি হয়। ফল আক্রান্ত- হলে পাকার আগেই তা ঝরে পড়ে। ফলেও অনুরূপ চাক চাক কোঁচকানো বাদামী থেকে কালো রঙের দাগ সৃষ্টি হয়।
অনুকূল পরিবেশ
এ রোগের জীবাণু বীজ বাহিত এবং মাটি ও আগাছার মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকতে পারে। পরে সেখান থেকে বাতাস, পানি, পোকা ইত্যাদির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। বৃষ্টি হলে রোগ বেশি হয়।
দমন ব্যবস্থাপনা
১.যেখানে এ রোগ নিয়মিত ও বেশি হয় সেখানে রোপণ সময় পরিবর্তন করে সম্ভব হলে শুষ্ক মৌসুমে ঐসব ফসল চাষ করা।
২.রোগমু্‌ক্ত গাছ থেকে সংগৃহীত বা রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করা।
৩.বীজতলা ও মূল জমিতে নিকাশ ব্যবস্থা ভাল রাখা।
৪.শস্য পর্যায় অবলম্বন করা।
৫.ফল চূড়ান্ত-ভাবে সংগ্রহের পর পরই সব গাছ ধ্বংস করে  দেয়া।
৬.পরিচর্যার সময় গাছে যেন কোন ক্ষত সৃষ্টি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা।
৭.পাতা বেশি সময় ধরে ভেজা থাকলে এ রোগের জীবাণু বেশি অংকুরিত হওয়ার সুযোগ পায়। তাই ঝরণা সেচ না দেয়া ভাল।
৮.মুড়ি ফসল, বিশেষ করে বেগুন ফসল না রাখা।
৯.সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক সঠিক নিয়মে স্প্রে করা।
নাবি ধ্বসা (Late blight)
রোগের কারণ- Phytophthara infestans
যেসব সবজি আক্রান্ত- হয়
টমেটো, আলু
রোগের লক্ষণ
যে কোন বয়সের গাছে নাবি ধ্বসা রোগ হতে পারে। তবে ফুল আসার সময় সাধারণত: আক্রমণ করে, বিশেষত: জানুয়ারি মাসে। প্রথমে পাতায় ফ্যাকাশে সবুজ রঙের দাগ পড়ে এবং দ্রুত তা বাদামী রঙ ধারণ করে পুরো পাতাই ঝলসে দেয়। সাধারণত: পাতার আগা ও কিনার থেকে এই ঝল্‌সানো শুরু হয়। গোড়ার দিকের পাতা প্রথমে আক্রান্ত -হয়। আলুর কন্দও এ রোগে আক্রান্ত হয়। আলুর আক্রান্ত - কন্দে এ রোগের জীবাণু সুপ্তাবস্থায় থেকে রোপণের পর গাছে আবার বিস্তার লাভ করে। টমেটোর কান্ড ও ফলেও এ রোগ ক্ষতি করে। কান্ড ও ফলে বাদামী দাগ পড়ে সে জায়গা ঝলসে যায়। আক্রান্ত - ফল টিপ দিলে শক্ত মনে হয়।
অনুকূল পরিবেশ
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও আকাশ মেঘলা থাকলে আক্রমণ শুরু হওয়ার পর চার দিনের মধ্যেই সব গাছ মেরে ফেলতে পারে। কিন্তু আবহাওয়া শুষ্ক থাকলে রোগ ধীরে ধীরে বাড়ে এবং এ অবস্থায় আক্রান্ত - পাতা শুকিয়ে কুঁকড়ে আসে ও মচমচে হয়ে যায়।
দমন ব্যবস্থাপনা
১.রোগমুক্ত সুস্থ্য বীজ ও কন্দ বপন করা। সম্ভব হলে বীজ শোধন করে নেয়া।
২.আক্রান্ত- ফল ও গাছ তুলে ধ্বংস করা।
৩.আক্রান্ত- ক্ষেত থেকে দেরি করে আলু  তোলা। প্রথমে উপরের সব গাছ কেটে ক্ষেত থেকে সরিয়ে ফেলে ৭-১০ দিন জমিতে আলু রেখে দিয়ে পরে সেগুলো তোলা।
৪.অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার থেকে বিরত থাকা। সুষম সার ও অধিক জৈব সার দিয়ে চাষ করা।
৫.ঘন করে চারা বা কন্দ রোপণ না করা।
৬.ক্ষেতে রোগের উপস্থিতি ও রোগ বিস্তারের অনুকুল অব থাকলে দ্রুত অনুমোদিত ছত্রাকনাশক সঠিক নিয়মে সেপ্র করা।
শিকড় পচা (Root rot)
রোগের কারণ- Rhizoctonia solani, Macrophomina sp., Phytophthora parasitica   & P.capsici
যেসব সবজি আক্রান্ত- হয়
বেগুন ও টমেটো।
রোগের লক্ষণ
এ রোগের আক্রমণে আংশিক বা পুরো শিকড়ই পচে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হল, মাটি বরাবর গাছের গোড়ায় প্রথমে সবুজাভ জলবসা দাগ দেখা যায়। পরে এই দাগ কান্ডকে ঘিরে ফেলে। ফলে গাছ নেতিয়ে পড়ে ও মারা যায়। ক্ষেতের যে জায়গায় এ রোগ প্রথম দেখা যায় সেখানে আশে পাশের গাছেও তা ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষেতে তালির মত স্থানে স্থানে এরূপ লক্ষণ দেখা যায়। গোড়া থেকে ধীরে ধীরে শিকড়ে যায় এবং শিকড় পঁচে যায়। এ রোগ হলে মাঝে মধ্যে পাতায়ও তার লক্ষণ প্রকাশ পায়। পাতায় অসম আকারের জলবসা দাগের সৃষ্টি হয় যা পরে হালকা বাদামী রং ধারণ করে। ফলেও অনেক সময় একই রকম লক্ষণ দেখা যায়। পচাঁ শিকড় ও মাটিতে এ রোগের জীবাণু বাস করে এবং সেচ ও নিড়ানোর সময় তা অন্যান্য গাছে বিস্তৃত হয়।
অনুকূল পরিবেশ
উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এ রোগ বেশি হয়। মাটি খুব শক্ত হয়ে গেলে এ রোগ বেশি হয়।
দমন ব্যবস্থাপনা
১.    চাষের সময় মাটি ভাল করে উল্টে পাল্টে কয়েক দিন রোদে শুকানো।
২.    পূর্ববর্তী ফসলের সমস- অবশিষ্টাংশ, আগাছা জমি থেকে সরিয়ে ফেলা।
৩.    জমিতে প্রচুর পরিমাণে জৈব সার  দেয়া।
৪.    পর পর তিন বছর শস্য পর্যায় মানা।
৫.    নিকাশ ব্যবস্থা ভাল রাখা।
৬.    আক্রান্ত- বা ঢলে পড়া গাছ জমি থেকে দ্রুত তুলে ধ্বংস করা।
৭.    ট্রাইকোডার্মা জীবাণু এ রোগ প্রতিরোধে কার্যকর।
পাতা কোঁকড়ানো (Leaf curl)
রোগের কারণ- Leaf curl virus
যেসব সবজি আক্রান্ত- হয়
টমেটো, মরিচ, পেঁপে ইত্যাদি।
রোগের লক্ষণ
এ রোগের আক্রমণে গাছের পাতা কুঁকড়ে যায় ও আকারে ছোট হয়। কান্ড বা ডালের গিঁট কাছাকাছি চলে আসে, ফলে গাছ খাটো হয়ে যায়। আক্রমণ খুব বেশি হলে গাছ অনেক সময় খাড়া ঝাঁটার মত দেখায়। কচি ও আগার পাতা বেশী আক্রান্ত- ও নষ্ট হয়। এজন্য ফুল ও ফল উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পাতার রং আর সবুজ থাকেনা, হলদেটে ভাব ধারণ করে। কচি পাতা বেশি হলদে হয়। বয়স্ক পাতাগুলো একটু শক্ত ও মচমচে হয়ে যায়। রোগাক্রান্ত- গাছে বেশি ডালপালা গজায় বলে গাছ ঝোপালো হয়ে যায়। গাছের অংশবিশেষ বা পুরো গাছেই এ লক্ষণ দেখা যেতে পারে। গাছে যেসব ফল থাকে সেগুলো ছোট ও বিকৃত হয়ে যায়। ধীরে ধীরে এ রোগ ক্ষেতের সব গাছেই ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষেত নষ্ট করে। এই ভাইরাস জীবাণু গাছের রস বা বীজ দ্বারা বাহিত হয় না। তাই এক গাছ থেকে আর এক গাছে রোগ ছড়াতে হলে বাহকের দরকার হয়। সাদা মাছি বা হোয়াইট ফ্লাই নামক এক ধরণের পোকা এ রোগ ছড়ায়। এ পোকা যখন সুস্থ্য কোন গাছে বসে রস খেয়ে  অন্য গাছে পুনরায় রস চোষা শুরু করে তখন সেই গাছে ভাইরাস জীবাণু সংক্রমিত হয়।

দমন ব্যবস্থাপনা
নিয়মিতভাবে ক্ষেত পরিদর্শন করে যদি উপরোক্ত লক্ষণের কোন গাছ দেখা যায় তবে তখনই তা উপড়ে নষ্ট করে ফেলা।
মরিচ ক্ষেতের আশে পাশে বা ভিতরে টমেটো, তামাক, পেঁপে ইত্যাদি গাছ রাখা যাবে না। কারণ এসব গাছ এ রোগের পোষক হিসেবে কাজ করে।
প্রাথমিকভাবে অল্প কয়েকটি গাছে যদি এ রোগ দেখা যায় তাহলে তা তুলে ধ্বংস করা।
ক্ষেতে বাহক পোকার উপস্তিতি থাকলে অন্যান্য সুস্থ্য গাছে অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করে এ রোগের বাহক পোকা দমন করা।
শিকড়ে গিঁট রোগ (Root knot)
রোগের কারণ- Meloidogyne incognita, M. javonica, M. arenaria
যেসব সবজি আক্রান্ত- হয়
বেগুন, ঢেঁড়শ, টমেটো, কুমড়া জাতীয় সবজি ইত্যাদি।
রোগের লক্ষণ
চারা অবস্থায় থেকেই এ রোগ শুরু হয়। এ দেশের আবহাওয়ায় প্রায় সর্বত্রই সব মৌসুমে বেগুন গাছে কম বেশি এ রোগ দেখা যায়। কৃমিরা সাধারণত ভূপৃষ্ঠের ৬০ সেন্টিমিটার গভীরতার মধ্যেই থাকে। সেখান থেকে গাছের শিকড়ের মধ্য দিয়ে ঢুকে সেখান থেকে রস চুষে খেতে থাকে ও সে স্থান ফুলে শক্ত গিঁটের মত হয়ে যায় (চিত্র ৩০)। এসব গিঁটের মধ্যে অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখলে অনেক কৃমি দেখা যায়। এ রোগের অন্যতম লক্ষণ হল ঢলে যাওয়া গাছ টেনে তুললে তার শিকড়ে অসংখ্য গিঁট দেখা যায়। আক্রান- গাছ স্বাভাবিক গাছের তুলনায় কম বাড়ে, খাটো ও দুর্বল হয় এবং ধীরে ধীরে হলদেটে হয়ে যায়। চারা গাছ আক্রান- হলে তার অধিকাংশ শিকড় নষ্ট হয়ে যায়  ও গাছ ঢলে পড়ে। ফুল ও ফল ধারণ ক্ষমতা একেবারেই কমে যায়। বর্তমানে বাংলাদেশে অধিকাংশ সবজিতে এ রোগের ব্যাপক আক্রমণ দেখা যায়।
অনুকূল পরিবেশ
তবে উষ্ণ আবহাওয়া ও বেলে মাটিতে এ রোগ বেশি হয়।
দমন ব্যবস্থাপনা
শুষ্ক মৌসুমে জমি ভালভাবে চাষ দিয়ে রোদে শুকিয়ে  নেয়া। এতে কৃমি মরে যায়।
বেগুন চাষের পর ঐ জমিতে পুনরায় বেগুন চাষ না করে গম, ভুট্টা, সরিষা ইত্যাদি চাষ করা।
জমি প্লাবিত করে রাখলেও এ রোগের জীবাণু বা কৃমি মরে যায়। তাই বছরে একবার সুযোগ থাকলে ধান চাষ করে জমি থেকে এদের মেরে ফেলা যেতে পারে।
রোগমুক্ত চারা অর্থাৎ শিকড়ে কোন গিঁট নেই এমন চারা রোপণ করা।
ফসল সংগ্রহের পর সমস্ত- অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে ফেলা।
চীনা বাদাম ও গাঁদা ফুল ফসলের জমিতে চাষ করলে তা কৃমির জন্য ফাঁদ ফসল হিসেবে কাজ করতে পারে।
রোগের লক্ষণ দেখা দিলে হেক্টর প্রতি ৬০ কেজি হারে ফুরাডান ৫জি বা মিরাল ৩জি মাটিতে ছিটিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে সেচ দেয়া।
চারা রোপণের অনন্ত ২০ দিন পূর্বে মাদা প্রতি ভাল ভাবে পচানো নিম/সরিষার খৈল বা উত্তমরূপে পচানো মুরগির বিষ্ঠা ৭৫ গ্রাম হারে প্রয়োগ করলে কৃমির আক্রমণ কম হয়।
নিমজাত কীটনাশক আরডি-৯ রেপিলিনের ৫% দ্রবণে বীজ শোধন বা রোপণের পূর্বে চারার গোড়া কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে জমিতে লাগালে এ কৃমির আক্রমণ কমে।
জমি চাষের সময় নিশিন্দার কাঁচা পাতা মাটির সাথে মিশিয়ে দিলে কৃমির বংশ কমে যায়। মহুয়ার খৈল এভাবে মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে উপকার পাওয়া যায়।
পাতার দাগ পড়া রোগ (Leaf spot)
রোগের কারণ- Alternaria sp. & Cercospora sp.
যেসব সবজি আক্রান্ত- হয়
বেগুন, টমেটো, মরিচ, আলু, কপি ইত্যাদি।
রোগের লক্ষণ
সবজি গাছের পাতায় অনেক সময় নানা ধরণের দাগ দেখা যায়। প্রধানতঃ ফুল আসার আগেই এসব দাগ বেশি দেখা যায়। মূলত: দু’টি ছত্রাক জীবাণু দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে। অল্টাননেরিয়া দ্বারা যেসব পাতা আক্রান্ত- হয় সেসব পাতায় বাদামী রঙের চক্রাকার দাগ পড়ে। দাগগুলো অসম আকারের  হয়। দাগ দেখতে অনেকটা চাক চাক বা পর পর সাজানো কতগুলো বলয়ের মত দেখা যায়। অনেকগুলো দাগ একত্রিত হয়ে অনেক সময় পাতার অনেকটা জায়গা নষ্ট করে ফেলে। অধিক আক্রমণে পাতা শুকিয়ে ঝরে যায়। অনেক সময় এই দাগ ফলেও বিসতৃত হয় এবং এতে ফল পূর্ণগঠিত হওয়ার আগেই হলুদ হয়ে ঝড়ে পড়ে। কিন্তু সারকোস্পোরা জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট দাগ গোলাকার বা চাক হয়না, কোনাকৃতি ছোট বড় অসম অনেক দাগ পাতায় পড়ে। দাগের মধ্যস্থল সাদা ও চারদিকে হলুদ বা বাদামী রঙের আভা বা এলাকা থাকে। দাগের রং ধূসর থেকে বাদামী। অধিক আক্রমণে পাতা ঝরে যায়। পাতা ঝরে যাওয়ায় ফলনও কমে যায়। গাছের পরিত্যক্ত অংশ, বিকল্প পোষক বা আগাছা, বাতাস প্রভৃতির মাধ্যমে এ রোগের জীবাণু বিস্থার লাভ করে। জমিতে পানি ও সারের অভাব হলে এ রোগ বাড়ে।
দমন ব্যবস্থাপনা
সূষম সার  ও সেচের ব্যবস্থা করা।
উপযুক্ত শস্য পর্যায় অবলম্বন করা।
সময়মত সঠিক দূরত্ব বজায় রেখে চারা রোপণ করা।
রোগ সহনশীল জাত যেমন পুসা পার্পল ক্লাস্টার, হাইব্রীড ব্লাক রাউন্ড  ইত্যাদি চাষ করা যেতে পারে।
রোগের প্রাথমিক অবস্থায় অনুমোদিত ছত্রাকনাশক  গাছে ১০-১২ দিন অন-র সেপ্র করা।
দমন ব্যবস্থাপনা
আক্রান্ত- গাছ দেখলেই প্রাথমিকভাবে তা তুলে ধ্বংস করা।
ক্ষেতের আগাছা পরিস্কার রাখা।
ক্ষেতে বাহক পোকার উপস্থিতি দেখা দিলে অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করে তা দমন করা।
রোগাক্রান্ত- গাছ থেকে কোন বীজ সংগ্রহ ও ব্যবহার না করা।

ছবি

মনত্মব্য

moyin uddin ahmeed wrote...

মনত্মব্য

moyin uddin ahmeed wrote...

মনত্মব্য

md wahidul islam wrote...

টমেটো গাছের কচি পাতা হলুদ হচ্ছে এবং ফুল ঝরে যাচ্ছে।

md wahidul islam wrote...

টমেটো গাছের কচি পাতা হলুদ হচ্ছে এবং ফুল ঝরে যাচ্ছে।

md wahidul islam wrote...

টমেটো গাছের কচি পাতা হলুদ হচ্ছে এবং ফুল ঝরে যাচ্ছে।

md wahidul islam wrote...

টমেটো গাছের কচি পাতা হলুদ হচ্ছে এবং ফুল ঝরে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন